বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন নোট

বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন নোট পিডিএফ ডাউনলোড

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজকের জন্য নিয়ে আসলাম এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের স্মার্ট নোট। এই নোটে রয়েছে লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু, পাঠ পরিচিতি ও শব্দার্থ। তোমরা এই নোট PDF আকারে ডাউনলোড করে অফলাইনেও পড়তে পারবে। তাহলে চলুন শুরু করি।


বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

লেখক-পরিচিতি — বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

📌 নাম: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
📌 জন্ম: ২৬ জুন ১৮৩৮, কাঁঠালপাড়া, চব্বিশ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ
📌 মৃত্যু: ৮ এপ্রিল ১৮৯৪, কলকাতা
📌 পিতা: যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (ডেপুটি কালেক্টর)

🎓 শিক্ষাজীবন:

  • ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (B.A.) ডিগ্রি লাভ করেন
  • ছিলেন বাংলা ভাষার প্রথম দিকের স্নাতকদের একজন

👨⚖️ পেশাগত জীবন:

  • পেশায় ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট
  • খুলনায় কর্মরত অবস্থায় নীলকরদের অত্যাচার দমন করেন
  • কর্মক্ষেত্রে ছিলেন নিষ্ঠাবান ও যোগ্য বিচারক হিসেবে খ্যাত

🖋️ সাহিত্যজীবন:

সাহিত্যচর্চার সূচনা:

  • ১৮৫২ সালে ‘সম্বাদ প্রভাকর’ পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে

উপন্যাস:

  • বাংলা ভাষার প্রথম শিল্পসম্মত উপন্যাস রচয়িতা
  • প্রথম উপন্যাস: দুর্গেশনন্দিনী
  • ইংরেজি উপন্যাস: Rajmohan’s Wife
  • উল্লেখযোগ্য উপন্যাসসমূহ:
    • কপালকুণ্ডলা
    • মৃণালিনী
    • বিষবৃক্ষ
    • কৃষ্ণকান্তের উইল
    • চন্দ্রশেখর
    • আনন্দমঠ
    • দেবী চৌধুরাণী
    • রাজসিংহ
    • সীতারাম

প্রবন্ধ ও গদ্যসাহিত্য:

  • প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থসমূহ:
    • লোকরহস্য
    • বিজ্ঞানরহস্য
    • কমলাকান্তের দপ্তর
    • সাম্য
    • কৃষ্ণচরিত্র
    • বিবিধ প্রবন্ধ

সম্পাদনা ও প্রকাশনা:

  • ১৮৭২ সালে বঙ্গদর্শন পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ শুরু করেন

📚 সাহিত্যকীর্তি:

  • রচনাসংখ্যা: ৩৪টি গ্রন্থ
  • বাংলা সাহিত্যে উপন্যাস ও প্রবন্ধ সাহিত্যের পথিকৃৎ
  • সাহিত্য, সমাজ, ধর্ম ও দর্শনে তাঁর লেখার প্রভাব সুদূরপ্রসারী

🏅 উপাধি: সাহিত্যসম্রাট
🌟 উপন্যাস ও প্রবন্ধে যুগান্তকারী অবদান রেখে বাংলা সাহিত্যের ভীত মজবুত করেছেন তিনি।

বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন নোট

  • লেখক যশের জন্য লিখতে নিষেধ করেছেন। কারণ তাতে লেখা ভালো হয় না।
  • অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে লিখলে লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে ওঠে।
  • তিনি মনে করেন লিখতে হবে দেশ ও মানবজাতির মঙ্গলের জন্য।
  • বঙ্কিমচন্দ্রের মতে সৌন্দর্য সৃষ্টি করতে পারলে লেখা অবশ্য ভালো হয়।
  • যারা ব্যক্তিস্বার্থ বা নিজ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য সাহিত্য রচনা করে তাদের নীচ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।
  • যা অসত্য, অধর্ম, পরপীড়াদায়ক তা লেখা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • লিখে তা হঠাৎ ছাপানো উচিত নয়। কিছুদিন রেখে দিয়ে পুনরায় সংশোধন করলে লেখার উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পায়।
  • সাহিত্যের মধ্যে মিথ্যা বা ভুল প্রকাশের চেষ্টা করলে সেই সাহিত্য পাঠকের কাছে বিরক্তির কারণ হবে।
  • অন্যান্য ভাষার কোটেশন সাহিত্যে যত কম দেওয়া যায়। তাই দেওয়া উচিত নয়।
  • জোর করে অলঙ্কার প্রয়োগ করা অনুচিত। এতে রচনা সৌন্দর্যের বদলে আরও কদর্য হয়ে উঠবে।
  • সাহিত্যের ভাষা হওয়া উচিত সহজ-সরল।
  • যা প্রমাণ দেওয়া যাবে না তা লেখা উচিত নয়।


এইচএসসি অপরিচিতা গল্পের নোট


পাঠ-পরিচিতি

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উনিশ শতকীয় বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে পরিচিত। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন” রচনাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ‘প্রচার’ পত্রিকায়, ১৮৮৫ সালে; পরে এটি তাঁর ‘বিবিধ প্রবন্ধ’ নামক গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়। সাধু রীতিতে লেখা এই প্রবন্ধটি আকারে ছোট হলেও চিন্তার মৌলিকত্বে অসাধারণ। বক্তব্যের তাৎপর্য বিচার করলে প্রবন্ধটির রয়েছে সর্বকালীন বৈশ্বিক আবেদন। নতুন লেখকদের প্রতি তিনি যে পরামর্শ এখানে উপস্থাপন করেছেন তার প্রতিটি বক্তব্যই পালনযোগ্য। খ্যাতি বা অর্থের উদ্দেশ্যে লেখা নয়; লিখতে হবে মানুষের কল্যাণ সাধন কিংবা সৌন্দর্য সৃষ্টির অভিপ্রায়ে। বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, অসত্য, নীতি-নৈতিকতা বিরোধী কিংবা পরনিন্দার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা স্বার্থতাড়িত লেখা পরিহার করা বাঞ্ছনীয়। তিনি বলতে চান, নতুন লেখকরা কিছু লিখে তাৎক্ষণিকভাবে না ছাপিয়ে কিছুদিন অপেক্ষা করে পুনরায় পাঠ করলে লেখাটি সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। যার যে বিষয়ে অধিকার নেই সে বিষয়ে লেখার চেষ্টা করা যেমন অনুচিত তেমনি লেখায় বিদ্যা জাহির করার প্রবণতাকেও তিনি নিন্দনীয় বলে মনে করেছেন। অনুকরণবৃত্তিকেও দূষণীয় বলেছেন। অনাবশ্যকভাবে লেখার সৌষ্ঠব বৃদ্ধি বা পরিহাস করার চেষ্টাও তাঁর কাছে কাম্য নয়। সারল্যকেই তিনি সকল অলংকারের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অলংকার বলে মনে করেছেন। সর্বোপরি বস্তুনিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এভাবে এই ছোট লেখাটিতে তিনি লেখকের আদর্শ কী হওয়া উচিত তা অত্যাবশ্যকীয় শব্দ প্রয়োগে উপস্থাপন করেছেন। নবীন লেখকরা বঙ্কিমচন্দ্রের পরামর্শ মান্য করলে লেখক ও পাঠক সমাজ নিশ্চিতভাবে উপকৃত হবেন; আমাদের মননশীল ও সৃজনশীল জগৎ সমৃদ্ধ থেকে সমৃদ্ধতর হবে ।

শব্দার্থ ও টীকা

যশ – সুখ্যাতি, সুনাম, কীর্তি ।
লোকরঞ্জন –  জনসাধারণের মনোরঞ্জন বা সন্তোষবিধান । 
ধর্মবিরুদ্ধ – নীতি-নৈতিকতার বিরোধী।
কোটেশন – উদ্ধৃতি। অন্যের লেখা থেকে বক্তব্য উদ্ধার করে অপর লেখায় ব্যবহার।
অলংকার – ভূষণ, প্রসাধন, শোভা। ভাষার মাধুর্য ও উৎকর্ষ বৃদ্ধি করে এমন গুণ ।
ব্যঙ্গ – পরিহাস, বিদ্রুপ।
কদাপি – কখনও, কোনোকালে ।
বাঙ্গালা – বাংলা। উনিশ শতকে বঙ্কিমচন্দ্রের কালে ‘বাংলা’কে ‘বাঙ্গালা’ বলে লেখা হতো । শব্দটির পরিবর্তন হয়েছে এভাবে: বাঙ্গালা-বাঙলা-বাংলা ।


এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন প্রবন্ধের স্মার্ট নোট পিডিএফ ডাউনলোড করুন।

সমাধানে যদি কোনো ভুল খুঁজে পান, তবে দয়া করে আমাদের জানিয়ে সাহায্য করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top