প্রিয় শিক্ষার্থীরা,
আজ তোমাদের জন্য নিয়ে এসেছি এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের নোট। এই প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী, যিনি বাংলা সাহিত্যে প্রবন্ধ সাহিত্যের নবযুগের সূচনা করেছিলেন। তাঁর এই প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২২ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ সংখ্যার ‘সবুজপত্র’ (১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দ)-এ। পরে তা সংকলিত হয় তাঁর ‘প্রবন্ধসংগ্রহ’ (১৯৫২) গ্রন্থে।
এই নোটে তোমরা পাবে—
- 📘 পাঠ পরিচিতি : প্রবন্ধ ও লেখকের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
- 📝 শব্দার্থ : পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় শব্দের অর্থ
- 📖 প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য : মূল বক্তব্য, প্রাসঙ্গিক আলোচনা ও পরীক্ষার উপযোগী অংশ
- 📂 স্মার্ট নোট (PDF) : অনলাইনে পড়ার পাশাপাশি অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়ার সুবিধা
তাহলে চল শুরু করা যাক—
লেখক পরিচিতি: প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮–১৯৪৬)
🔷 পরিচিতি:
- পূর্ণ নাম: প্রমথনাথ চৌধুরী
- জন্ম: ৭ আগস্ট ১৮৬৮
- মৃত্যু: ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬
- ছদ্মনাম: বীরবল
- পৈতৃক নিবাস: হরিপুর, চাটমোহর, পাবনা (বর্তমান বাংলাদেশ)
🔷 সাহিত্যিক অবদান:
- বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের জনক।
- বাংলা সাহিত্যে বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধ রচনার সূচনা করেন।
- চলিত ভাষার গদ্যরীতির প্রবর্তক — বিশেষ করে সবুজপত্র পত্রিকার মাধ্যমে।
- বাংলা সাহিত্যে ইতালীয় রীতির সনেট রচয়িতা।
- প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কাব্য — তিন ধারাতেই তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান।
🔷 সম্পাদনা ও প্রকাশনা:
- সম্পাদক: সবুজপত্র ও বিশ্বভারতী
- সাহিত্যপত্র ‘সবুজপত্র’-র মাধ্যমে বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তন ঘটান।
- তাঁর লেখা প্রথম প্রবন্ধ “জয়দেব” প্রকাশিত হয় সাধনা পত্রিকায় (১৮৯৩)।
🔷 শিক্ষাজীবন:
- স্কুল: হেয়ার স্কুল
- কলেজ: সেন্ট জেভিয়ার্স ও প্রেসিডেন্সি কলেজ
- ডিগ্রি:
- দর্শনে BA (১৮৮৯)
- ইংরেজিতে MA (১৮৯০), উভয়ই প্রথম শ্রেণিতে
- বিলাতে গিয়ে বার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি অর্জন
- ১৯৪১ সালে ‘জগত্তারিণী পদক লাভ
🔷 পারিবারিক সম্পর্ক:
- স্ত্রী: ইন্দিরা দেবী (রবীন্দ্রনাথের ভাই সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা)
- দুলাভাই: আশুতোষ চৌধুরী (ব্যারিস্টার)
- সম্পর্ক: রবীন্দ্রনাথের আত্মীয় পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য
🔷 উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
📚 প্রবন্ধ:
- তেল-নুন-লাকড়ী (১৯০৬)
- বীরবলের হালখাতা (১৯১৬)
- ভাষার কথা, আমাদের শিক্ষা (১৯২০)
- নানাকথা, নানাচর্চা, প্রবন্ধ সংগ্রহ
📚 গল্প:
- চার-ইয়ারী কথা, আহুতি, নীললোহিত, অনুকথা সপ্তক
📚 কাব্য:
- সনেট পঞ্চাশৎ (১৯১৩)
- পদচারণ (১৯১৯)
✅ স্মরণযোগ্য দিক:
প্রমথ চৌধুরী বাংলা গদ্যভাষাকে সহজ, সরল ও জীবন্ত করে তোলেন, এবং প্রবন্ধকে সাহিত্যিক মর্যাদা দেন। তাঁর লেখা প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি — ভাষা, শিক্ষা, সাহিত্যচিন্তা নিয়ে তাঁর মতামত আজও মূল্যবান।
পাঠ-পরিচিতি: সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের নোট
প্রমথ চৌধুরীর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার শ্রাবণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দ) সংখ্যায়। পরে তা তাঁর ‘প্রবন্ধসংগ্রহ’ (১৯৫২) বইয়ে সংকলিত হয়। এই প্রবন্ধে সাহিত্যচর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখকের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্ট পরিচয় ফুটে উঠেছে। লেখাটি ঈষৎ সংক্ষেপিত আকারে এখানে মুদ্রিত হয়েছে।
প্রমথ চৌধুরীর মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে সকলকে আনন্দ দান করা, কারও মনো গুন করা নয়। সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য হয়ে পড়বে স্বধর্মচ্যুত। অন্যদিকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য শিক্ষা দান করাও নয়। কারণ পাঠ্যবিষয় মানুষ পড়ে অনিচ্ছায় এবং বাধ্য হয়ে। পক্ষান্তরে সাহিত্যের রসাস্বাদন করে মানুষ স্বেচ্ছায় ও আনন্দে। তাছাড়া শিক্ষার উদ্দেশ্য জ্ঞানের বিষয় জানানো; পক্ষান্তরে সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনে সাড়া জাগানো।
লেখকের মতে, সাহিত্যের সঙ্গে তুলনা চলে খেলাধুলার। খেলাধুলায় যেমন নিছক আনন্দই প্রধান, সাহিত্যেও তাই। খেলাধুলায় যেমন আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই, সাহিত্যের উদ্দেশ্যও তেমনি-একমাত্র আনন্দ দান করা।
শব্দার্থ ও টীকা : সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের নোট
◑ রোদ্যাঁ -ফ্যাঁসোয়া অগুস্ত রোদ্যাঁ (১৮৪০-১৯১৭) বিশ্ববিখ্যাত ফরাসি ভাস্কর। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ‘নরকের দুয়ার’ ও ‘বাঘার্স অব ক্যালে’। অন্যান্য অবিনশ্বর কীর্তি- ‘চিন্তাবিদ’, ‘আদম’, ‘ইভ’। তিনি ভিক্টর হুগো, বালজাক, বার্নার্ড শ প্রমুখ বিখ্যাত সাহিত্যিকের প্রতিকৃতি নির্মাণ করেন।
◑ শিব -মহাদেব, মঙ্গলকারী দেবতা।
◑ ইতর -নীচ, অধম। এখানে নগণ্য অর্থে ব্যবহৃত।
◑ কলারাজ্য -শিল্পকলার পরিমণ্ডল।
◑ অবতীর্ণ -অবতার হিসেবে মানুষের মূর্তিতে নেমেছে এমন বা নেমে আসা।
◑ মর্তবাসী – মাটির পৃথিবীর অধিবাসী।
◑ রসাতল – পুরাণে বর্ণিত ষষ্ঠ পাতাল, অধঃপাত, ধ্বংস।
◑ গতায়াত -যাতায়াত।
◑ প্রবৃত্তি -অভিরুচি, ইচ্ছা, ঝোঁক, আসক্তি।
◑ অগত্যা -অন্য উপায় না থাকায়, নিরুপায় বা বাধ্য হয়ে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও।
◑ সুর তারায় চড়িয়ে রাখতে হবে – সুর উচ্চ সপ্তকে ধরে রাখতে হবে।
◑ গীতিকবিতা – আত্মভাবপ্রধান কবিতা বিশেষ (Lyric)।
◑ রঙ্গভূমি – আমোদ-প্রমোদের জায়গা। অভিনয় প্রদর্শনের স্থান।
◑ স্বগতোক্তি – আপন মনে নিজে নিজে কথা বলা, অন্যের উদ্দেশ্যে বলা হয়নি এমন উক্তি।
◑ স্বার্থ – নিজের উদ্দেশ্য সিদ্ধি।
◑ পরার্থ – অন্যের হিত, পরোপকার।
◑ নিষ্কাম কর্ম – ফললাভের কামনা করা হয়নি এমন কাজ।
◑ মোক্ষলাভ – ভববন্ধন থেকে মুক্তি লাভ, আত্মার মুক্তি অর্জন।
◑ জীবাত্মা – প্রাণীর দেহে অবস্থানকারী আত্মা।
◑ পরমাত্মা – পরম ব্রহ্ম, ঈশ্বর, সৃষ্টিকর্তা।
◑ মনোরঞ্জন – মনের সন্তোষ সাধন।
◑ স্বধর্মচ্যুত – নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত।
◑ খেলো করা – গুরুত্বহীন বা অসার করা।
◑ বৈশ্য প্রাচীন আর্যসমাজের চতুর্বর্ণের তৃতীয় স্তর-যারা কৃষিকাজ বা ব্যবসা-বাণিজ্য করত।
আরো পড়ুন
বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন নোট
◑ শূদ্র – প্রাচীন আর্যসমাজের চতুর্বর্ণের নিম্নতম শ্রেণি বা বর্ণ।
◑ মতিগতি – ইচ্ছা ও প্রবণতা।
◑ গলাধঃকরণ – ভক্ষণ, পান।
◑ বাল্মীকি – ‘রামায়ণ’ প্রণেতা বিখ্যাত ঋষি ও কবি। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যের আদি কবি হিসেবে সম্মানিত। যৌবনে তার নাম ছিল রত্নাকর এবং পেশা ছিল দস্যুতা। জনশ্রুতি অনুসারে তিনি ব্রহ্মার উপদেশে দস্যুবৃত্তি ছেড়ে তপস্যামগ্ন হন এবং নারদের উপদেশে ‘রামায়ণ’ রচনা করেন।
◑ কুশীলব – নট, অভিনেতা।
◑ যথাসর্বস্ব – সমস্ত কিছু।
◑ কৌপীন – ল্যাঙট।
◑ পেলা – পাঁচালী কীর্তন ইত্যাদির আসরে গায়ক-গায়িকাকে দেওয়া শ্রোতাদের পারিতোষিক।
◑ যোগবশিষ্ঠ রামায়ণ – রামচন্দ্রের প্রতি বশিষ্ঠ মুনির উপদেশ সংবলিত সংস্কৃত রামায়ণ। এতে যোগ ও আত্মজ্ঞান সম্পর্কিত
◑ বিভিন্ন বিষয় উপাখ্যানসহ উপদেশ আকারে আলোচিত হয়েছে।
◑ কস্মিনকালেও – কোনো সময়েই, কখনও।
◑ টীকাভাষ্য – ব্যাখ্যা ও মন্তব্য।
◑ নিগূঢ় – দুর্জেয়, গভীর ও প্রচ্ছন্ন।
◑ তত্ত্ব – কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান বা বিদ্যা, মতবাদ।
◑ সবর্ণ – সম রং বিশিষ্ট। একই রঙের।
◑ সগোত্র – একই গোত্রভুক্ত।
◑ শবচ্ছেদ – শবদেহ কেটে পরীক্ষা করা, মড়া কাটা।
◑ অনুভূতিসাপেক্ষ – অনুভূতির সাহায্যে উপলব্ধি করতে হয় এমন।
◑ তর্কসাপেক্ষ – তর্কের মাধ্যমে বিচার বিবেচনা করতে হয় এমন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য : সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের নোট
◑ রোদ্যাঁ জড় প্রস্তর থেকে জীবন্ত ভাস্কর্য তৈরি করেন→ শিল্পীর সৃষ্টিশীলতা ও প্রাণবন্ত কল্পনাশক্তির পরিচয়।
◑ তিনি খেলাচ্ছলে মাটির পুতুল তৈরি করতেন→ শিল্পচর্চার মধ্যে খেলার স্বতঃস্ফূর্ততা যুক্ত থাকে।
◑ সব শিল্পীই এই খেলা খেলেন→ শিল্পচর্চা এক ধরনের মনের আনন্দ ও খেলাও।
◑ যিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন, বাঁদরও → প্রকৃত শিল্পীর দক্ষতা বহুমুখী।
◑ বড় শিল্পীরা একবারেই সফল হন, আমাদের হয় না → সাধারণ মানুষের ও বড় শিল্পীর মাঝে মানের পার্থক্য।
◑ বড় শিল্পীরা যা খুশি করতে পারেন, সাধারণ শিল্পীরা পারেন না → খ্যাতিমানদের কাজ মেনে নেওয়া হয়, সাধারণদের সমালোচিত হতে হয়।
◑ দেবতারা অবতীর্ণ হলে কেউ নিন্দা করে না, কিন্তু মানুষ করলে সমালোচিত হয় → খ্যাতিমানদের ভুলও গ্রহণযোগ্য, সাধারণদের নয়।
◑ মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা সব দিকে যাতায়াত করতে চায় → মন নিচু-উঁচু ভাবনায় স্বাভাবিকভাবে বিচরণ করে।
◑ সাধারণ মানুষ সাধারণ পরিসরে থাকতে চায় → অতিরিক্ত উচ্চতা বা গভীরতা তাদের প্রাকৃতিক নয়।
◑ উচ্চমঞ্চে না উঠলে কেউ আমাদের শুনবে না, দেখবে না → সমাজে স্বীকৃতি পেতে উচ্চতায় অবস্থান জরুরি।
◑ আমরা খ্যাতির লোভে সবসময় টঙে থাকতে চাই, কিন্তু পারি না → জনপ্রিয়তার টানে আমরা চেষ্টা করি, কিন্তু ধরে রাখতে পারি না।
◑ ক্ষমতার বাইরে উচ্চতায় ওঠার চেষ্টায় মহাপতন ঘটে → সীমাবদ্ধ প্রতিভা নিয়ে উচ্চাশা ধ্বংস ডেকে আনে।
◑ তবুও মহাজনদের পথ অনুসরণ করাই কর্তব্য → সাফল্যের জন্য কঠোর পরিশ্রম অপরিহার্য।
◑ বড়রা খেলাচ্ছলে যেসব কাজ করতে পারেন, আমরাও সে অধিকার চাই → সাহিত্যিকদেরও খেলার অধিকার থাকা উচিত।
◑ গানেই সুর তারায় চড়ানো বাধ্যতামূলক নয়, কবিতায় গভীর ভাবও জরুরি নয় → কাব্যচর্চায় স্বাধীনতা থাকা উচিত, নিয়মবদ্ধতা নয়।
◑ শিল্পরাজ্যে খেলার অধিকার সবারই সমান → লেখক যে-কোনো শ্রেণির হোক, তার খেলার অধিকার আছে।
◑ খেলার মাঠে ব্রাহ্মণ-শূদ্রের ভেদ নেই → সাহিত্যেও শ্রেণিভেদ থাকা উচিত নয়।
◑ আমরা যদি সাহস করে খেলার জন্য লিখি, তাহলে মানোন্নয়ন সম্ভব → নিঃস্বার্থ লেখালেখিতে মানের উৎকর্ষ ঘটে।
◑ উচ্চ আশা নিয়ে সাহিত্যজগতে প্রবেশ করলে পতন হয় → অহংকার বা অতিরিক্ত প্রত্যাশা সাহিত্যিককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের স্মার্ট নোট পিডিএফ ডাউনলোড কর







2 thoughts on “এইচএসসি সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের নোট পিডিএফ ডাউনলোড”
Wonderful❤️❤️♥️📝🗒️
Thank you..