এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন MCQ প্রশ্নের উত্তর পিডিএফ ডাউনলোড করুন। উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক হলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর প্রবন্ধ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮৫ সালে ‘প্রচার’ পত্রিকায়; পরে এটি তাঁর ‘বিবিধ প্রবন্ধ’ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র নবীন লেখকদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো লেখা রচনার পর তা সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ না করে কিছুদিন অপেক্ষা করে পুনরায় পড়লে লেখাটি আরও পরিমার্জিত ও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। নবীন লেখকরা যদি এই পরামর্শ অনুসরণ করেন, তবে লেখক ও পাঠক সমাজ উভয়ই উপকৃত হবে এবং আমাদের মননশীল ও সৃজনশীল জগৎ আরও সমৃদ্ধ হবে। তাই আর দেরি না করে এখনই বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন MCQ পড়ে ফেল।
বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন MCQ
০১) ‘কাঁঠালপাড়া’ গ্রাম কোন সাহিত্যিকের জন্মস্থান?
(a) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(b) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(c) প্রমথ চৌধুরী
(d) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর: (b) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন অধুনা পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটি অঞ্চলের কাঁঠালপাড়া গ্রামে। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক।
০২) বাংলা ভাষায় প্রথম শিল্পসম্মত উপন্যাস রচনার কৃতিত্ব কার?
(a) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(b) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(c) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(d) মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর: (a) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৬৫) বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক ও শিল্পসম্মত উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃত। এতে সুসংহত কাহিনি, চরিত্রচিত্রণ, নাটকীয়তা ও রোমান্সের সার্থক সমন্বয় ঘটেছে।
০৩) বঙ্কিমচন্দ্র সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
(a) সমাচার দর্পণ
(b) বঙ্গদর্শন
(c) কল্লোল
(d) সংবাদ প্রভাকর
উত্তর: (b) বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭২ সালে ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই পত্রিকা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
০৪) বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্য যাত্রা শুরু হয় কী প্রকাশের মাধ্যমে?
(a) কবিতা
(b) উপন্যাস
(c) প্রবন্ধ
(d) গল্প
উত্তর: (a) কবিতা
ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্যজীবনের শুরু কবিতা দিয়ে। ছাত্রাবস্থায় তিনি ‘ললিতা’ নামক একটি কবিতা রচনা করেন। পরবর্তীতে তিনি উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনায় খ্যাতি অর্জন করেন।
০৫) বঙ্কিমচন্দ্রের রচিত গ্রন্থ সংখ্যা কত?
(a) ৩০
(b) ৩৪
(c) ৩৫
(d) ৩৬
উত্তর: (b) ৩৪
ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মোট ৩৪টি গ্রন্থ রচনা করেন। এর মধ্যে ১৪টি উপন্যাস, ৪টি প্রবন্ধগ্রন্থ, ৩টি ধর্মগ্রন্থ ও অন্যান্য রচনা রয়েছে।
০৬) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস কোনটি?
(a) বিষাদ সিন্ধু
(b) ফুলমণি
(c) দুর্গেশনন্দিনী
(d) কপালকুণ্ডলা
উত্তর: (c) দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্রের ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৬৫) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও শিল্পসম্মত উপন্যাস। এর আগে ‘আলালের ঘরের দুলাল’, ‘ফুলমণি ও করুণার বিবরণ’ ইত্যাদি রচিত হলেও সেগুলো শিল্পসম্মত উপন্যাসের মর্যাদা পায়নি।
০৭) নিচের কোনটি বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস?
(a) সীতারাম
(b) প্রদোষে প্রাকৃতজন
(c) কৃষ্ণকান্তের উইল
(d) গৃহদাহ
উত্তর: (a) সীতারাম
ব্যাখ্যা: ‘সীতারাম’ বঙ্কিমচন্দ্রের একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। এটি ১৮৮৭ সালে প্রকাশিত হয়। ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ও বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস হলেও বিকল্প (a)-তেই সঠিক উত্তর ধরা হয়েছে। ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ প্রমথ চৌধুরীর এবং ‘গৃহদাহ’ শরৎচন্দ্রের রচনা।
০৮) লেখকের ‘লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি’ প্রবল হয়ে ওঠে কী কারণে?
(a) পাঠকের রুচি বিবেচনায় আনলে
(b) অর্থোপার্জনের আশায় লিখলে
(c) সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্য থাকলে
(d) বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা থাকলে
উত্তর: (b) অর্থোপার্জনের আশায় লিখলে
ব্যাখ্যা: প্রবন্ধের দ্বিতীয় নিয়মে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, “এখন অর্থের উদ্দেশ্যে লিখিতে গেলে, লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হইয়া পড়ে।” অর্থাৎ টাকার জন্য লিখলে পাঠকের রুচি অনুযায়ী লেখার চেষ্টা আসে, যা সাহিত্যের জন্য ক্ষতিকর।
০৯) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘লেখা’ বিলম্বে ছাপাতে বলেছেন কেন?
(a) উপযুক্ত প্রমাণ সংযোজনের সুবিধার্থে
(b) পাঠকের মনে চাহিদা তৈরি করতে
(c) লেখার ভুল-ত্রুটি সংশোধন করতে
(d) মনুষ্যজাতির মঙ্গল সাধন করতে
উত্তর: (c) লেখার ভুল-ত্রুটি সংশোধন করতে
ব্যাখ্যা: পঞ্চম নিয়মে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, লেখা শেষ করেই ছাপানো উচিত নয়। কিছুকাল রেখে পরে সংশোধন করলে অনেক দোষ ধরা পড়ে। এতে রচনা উৎকর্ষ লাভ করে।
আরো পড়ুন: এইচএসসি নেকলেস গল্পের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ও উত্তর
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দেও।
“আপনারে যে ভেজেছে গলাতে চায় পরের ঠাঁট,
অলিক, ফাঁকি, মেকি সে জন, মাটির তার কঠিন বাঁট।”
১০) কবিতাংশটি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের লেখকের যে নির্দেশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ তা হলো—
উল্লেখিত নির্দেশসমূহ:
(i) সরলকথনে নিষ্ঠাসাধন
(ii) অন্য লেখকদের অনুকৃতি
(iii) স্বকীয়তার সঙ্গে থাকা
নিচের কোনটি সঠিক
(a) i, ii
(b) ii, iii
(c) i, iii
(d) i, ii, iii
উত্তর: (c) i, iii
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকের কবিতাংশে “আপনারে যে ভেজেছে গলাতে চায় পরের ঠাট” অর্থাৎ নিজের স্বকীয়তা বিসর্জন দিয়ে অপরের অনুকরণ করতে চায়—এটি অনুকৃতির বিরুদ্ধে বক্তব্য। প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র অনুকরণ নিষেধ করেছেন এবং সরলতা ও স্বকীয়তার কথা বলেছেন। তাই (i) সরলকথনে নিষ্ঠাসাধন ও (iii) স্বকীয়তার সঙ্গে থাকা—এই দুটি নির্দেশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
১১) উক্ত নির্দেশাবলি রক্ষিত হলে নিচের কোনটি ঘটবে বলে প্রাবন্ধিক মনে করেন?
(a) লেখক স্বাতন্ত্রিক বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল হবেন
(b) বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
(c) অলংকার প্রয়োগ সার্থক হবে
(d) রচনার পরিপাট্য বৃদ্ধি পাবে
উত্তর: (b) বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
ব্যাখ্যা: প্রবন্ধের শেষ বাক্যে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, “এই নিয়মগুলি বাঙ্গালার লেখকদিগের দ্বারা রক্ষিত হইলে, বাঙ্গালা সাহিত্যের উন্নতি বেগে হইতে থাকিবে।” অর্থাৎ বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে।
১২) বঙ্কিমচন্দ্র কাদের যাত্রাওয়ালা বলে উল্লেখ করেছেন?
(a) যারা মানব-কল্যাণে লেখেন
(b) যারা সৌন্দর্য সৃষ্টির জন্য লেখেন
(c) যারা লোকরঞ্জনের জন্য লেখেন
(d) উপরের সকলেই
উত্তর: (c) যারা লোকরঞ্জনের জন্য লেখেন
ব্যাখ্যা: তৃতীয় নিয়মে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, যারা যশ বা অর্থের জন্য লেখেন, তাঁদের “যাত্রাওয়ালা প্রভৃতি নীচ ব্যবসায়ীদিগের সঙ্গে গণ্য করা যাইতে পারে।” অর্থাৎ লোকরঞ্জনের জন্য যারা লেখে, তারাই যাত্রাওয়ালার সমান।
১৩) কোন ধরনের লেখা পরিহার্য?
(i) যা অসত্য
(ii) যার উদ্দেশ্য পরপীড়ন
(iii) যা ধর্মবিরুদ্ধ
নিচের কোনটি সঠিক
(a) i
(b) i, ii
(c) ii, iii
(d) i, ii, iii
উত্তর: (d) i, ii, iii
ব্যাখ্যা: চতুর্থ নিয়মে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, “যাহা অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ; পরনিন্দা বা পরপীড়ন বা স্বার্থসাধন যাহার উদ্দেশ্য, সে সকল প্রবন্ধ কখনও হিতকর হইতে পারে না, সুতরাং তাহা একেবারে পরিহার্য।” তাই তিনটিই পরিহার্য।
১৪) বঙ্কিমচন্দ্র সাহিত্যে পরিহার করতে বলেছেন—
(a) মানবকল্যাণ
(b) সত্য সাধনা
(c) সৌন্দর্য সৃষ্টি
(d) পরনিন্দা
উত্তর: (d) পরনিন্দা
ব্যাখ্যা: পরনিন্দা, পরপীড়ন, অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধতা—এগুলো বঙ্কিমচন্দ্র সাহিত্যে পরিহার করতে বলেছেন। মানবকল্যাণ, সত্য সাধনা, সৌন্দর্য সৃষ্টি—এগুলো তিনি কাম্য বলেছেন।
১৫) বঙ্কিমচন্দ্র মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য কোনটি?
(a) সত্য ও ধর্ম
(b) সত্য ও সৌন্দর্য
(c) ধর্ম ও স্বাধীনতা
(d) সত্য ও ব্যক্তি প্রকাশ
উত্তর: (a) সত্য ও ধর্ম
ব্যাখ্যা: চতুর্থ নিয়মে বঙ্কিমচন্দ্র স্পষ্ট বলেছেন, “সত্য ও ধর্মই সাহিত্যের উদ্দেশ্য।” অর্থাৎ সাহিত্য হবে সত্য ও ধর্মের অন্বেষণ।
১৬) কোন উদ্দেশ্যে লেখনী ধারণ করাকে বঙ্কিমচন্দ্র মহাপাপ বলেছেন?
(a) সত্য ও ধর্ম বিরোধী লেখনী
(b) সত্য ও ধর্মের লেখনী
(c) লোকরঞ্জন বিষয়ক লেখনী
(d) স্বাধীনতার উদ্দেশ্যে লেখনী
উত্তর: (a) সত্য ও ধর্ম বিরোধী লেখনী
ব্যাখ্যা: চতুর্থ নিয়মে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, “অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী-ধারণ মহাপাপ।” পূর্ববর্তী বাক্যে তিনি সত্য ও ধর্মকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য বলেছেন। তাই সত্য ও ধর্ম বিরোধী লেখনী ধারণই মহাপাপ।
১৭) বঙ্কিমচন্দ্র কোন সাহিত্যকে লেখকের পক্ষে অবনতিজনক বলে উল্লেখ করেছেন?
(a) উপন্যাস
(b) ছোটগল্প
(c) সাময়িক সাহিত্য
(d) তৎসম শব্দবহুল শব্দ
উত্তর: (c) সাময়িক সাহিত্য
ব্যাখ্যা: পঞ্চম নিয়মে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, সাময়িক সাহিত্যে লেখা কিছুকাল রেখে পরে সংশোধন করার সুযোগ থাকে না। তাই সাময়িক সাহিত্য “লেখকের পক্ষে অবনতিকর।”
১৮) লেখকের কোন বিষয়ে হস্তক্ষেপ অকর্তব্য?
(a) যে বিষয়ে লেখক বেশি জানেন
(b) যে বিষয়ে লেখকের দক্ষতা নেই
(c) বিদেশি বিষয়
(d) স্বজাতির বিষয়
উত্তর: (b) যে বিষয়ে লেখকের দক্ষতা নেই
ব্যাখ্যা: ষষ্ঠ নিয়মে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, “যে বিষয়ে যাহার অধিকার নাই, সে বিষয়ে তাহার হস্তক্ষেপ অকর্তব্য।” অর্থাৎ যে বিষয়ে জ্ঞান বা দক্ষতা নেই, সে বিষয়ে লেখা উচিত নয়।
আরো পড়ুন: এইচএসসি জীবন ও বৃক্ষ প্রবন্ধের বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর
১৯) সাময়িক সাহিত্যে কোন নিয়মটি রক্ষিত হয় না?
(a) অনধিকার চর্চা
(b) সাহিত্যতত্ত্বের নিয়ম
(c) অলংকার প্রয়োগ
(d) সংস্কৃতির শব্দের ব্যবহার
উত্তর: (a) অনধিকার চর্চা
ব্যাখ্যা: ষষ্ঠ নিয়মের শেষে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, “এটি সোজা কথা কিন্তু সাময়িক সাহিত্যতে এ নিয়মটি রক্ষিত হয় না।” অর্থাৎ অনধিকার চর্চার নিয়মটি সাময়িক সাহিত্যে রক্ষিত হয় না।
২০) বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, লেখার পর কিছুকাল ফেলে রাখার উদ্দেশ্য কী?
(a) পাঠকের আগ্রহ বৃদ্ধি করা
(b) প্রকাশকের সময় দেওয়া
(c) লেখার ভুল-ত্রুটি সংশোধন করা
(d) সমালোচকদের মতামত নেওয়া
উত্তর: (c) লেখার ভুল-ত্রুটি সংশোধন করা
ব্যাখ্যা: পঞ্চম নিয়মে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, লেখা শেষ করেই ছাপানো উচিত নয়। কিছুকাল রেখে পরে সংশোধন করলে লেখার অনেক দোষ ধরা পড়ে এবং রচনা উৎকর্ষ লাভ করে।
২১) ‘যে ভাষা আপনি জানেন না, পরের গ্রন্থের সাহায্যে সে ভাষা হইতে কদাচ উদ্ধৃত করিবেন না।’—এই নির্দেশটি কোন নিয়মের অন্তর্গত?
(a) পঞ্চম নিয়ম
(b) সপ্তম নিয়ম
(c) অষ্টম নিয়ম
(d) নবম নিয়ম
উত্তর: (b) সপ্তম নিয়ম
ব্যাখ্যা: সপ্তম নিয়মে বঙ্কিমচন্দ্র বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা না করার কথা বলেছেন। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, যে ভাষা জানেন না, পরের গ্রন্থের সাহায্যে সেই ভাষা থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া উচিত নয়।
২২) বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, অলংকার বা ব্যঙ্গের প্রয়োগ কেমন হওয়া উচিত?
(a) যেখানে খুশি সেখানে প্রয়োগ করা
(b) প্রয়োজন মাত্রেই প্রয়োগ করা
(c) প্রয়োজনে এবং ভাণ্ডারে থাকলে আপনিই আসে
(d) একেবারেই না করা
উত্তর: (c) প্রয়োজনে এবং ভাণ্ডারে থাকলে আপনিই আসে
ব্যাখ্যা: অষ্টম নিয়মে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, লেখকের ভাণ্ডারে অলংকার বা ব্যঙ্গের সামগ্রী থাকলে প্রয়োজন মতে আপনিই আসিয়া পৌঁছিবে। ভাণ্ডারে না থাকিলে মাথা কুটিলেও আসিবে না।
২৩) ‘যে স্থানে অলংকার বা ব্যঙ্গ বড় সুন্দর বলিয়া বোধ হইবে, সেই স্থানটি কাটিয়া দিবে’—এই উপদেশটি কে দিয়েছেন?
(a) বঙ্কিমচন্দ্র স্বয়ং
(b) প্রাচীন বিধি
(c) রবীন্দ্রনাথ
(d) পাশ্চাত্য সমালোচক
উত্তর: (b) প্রাচীন বিধি
ব্যাখ্যা: নবম নিয়মের শুরুতে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, “যে স্থানে অলংকার বা ব্যঙ্গ বড় সুন্দর বলিয়া বোধ হইবে, সেই স্থানটি কাটিয়া দিবে, এটি প্রাচীন বিধি।”
২৪) বঙ্কিমচন্দ্র নবম নিয়মে লেখককে কী পরামর্শ দিয়েছেন?
(a) সুন্দর অংশটি কেটে দিতে
(b) সুন্দর অংশটি বন্ধুকে পড়ে শোনাতে
(c) সুন্দর অংশটি বারবার সংশোধন করতে
(d) সুন্দর অংশটি প্রকাশ না করতে
উত্তর: (b) সুন্দর অংশটি বন্ধুকে পড়ে শোনাতে
ব্যাখ্যা: নবম নিয়মে বঙ্কিমচন্দ্র প্রাচীন বিধির কথা বলে নিজের পরামর্শ দিয়েছেন—সুন্দর মনে হওয়া অংশটি বন্ধুবর্গকে পুনঃপুনঃ পড়ে শোনাতে। যদি ভালো না হয়, তবে নিজেরই লজ্জা হবে এবং তখন তা কেটে দেবেন।
২৫) বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার কোনটি?
(a) উপমা
(b) রূপক
(c) সরলতা
(d) ব্যঙ্গ
উত্তর: (c) সরলতা
ব্যাখ্যা: দশম নিয়মের প্রথম বাক্য: “সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার সরলতা।” তিনি সোজা কথায় মনের ভাব প্রকাশকেই শ্রেষ্ঠ লেখকত্বের লক্ষণ বলেছেন।
২৬) ‘যিনি সোজা কথায় আপনার মনের ভাব সহজে পাঠককে বুঝাইতে পারেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ লেখক।’—এর কারণ কী?
(a) লেখার উদ্দেশ্য পাঠককে বুঝানো
(b) সরলতা সহজে বোধগম্য হয়
(c) জটিলতা পাঠককে বিরক্ত করে
(d) সরলতা সবাই পছন্দ করে
উত্তর: (a) লেখার উদ্দেশ্য পাঠককে বুঝানো
ব্যাখ্যা: দশম নিয়মের শেষে বঙ্কিমচন্দ্র কারণ ব্যাখ্যা করেছেন: “কেন না লেখার উদ্দেশ্য পাঠককে বুঝানো।” তাই যিনি সহজে বুঝাতে পারেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ।
২৭) বঙ্কিমচন্দ্র কেন অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন?
(a) অনুকরণে মৌলিকতা নষ্ট হয়
(b) অনুকরণে দোষগুলি অনুকৃত হয়, গুণগুলি হয় না
(c) অনুকরণ লেখককে অলস করে
(d) অনুকরণ নিন্দনীয়
উত্তর: (b) অনুকরণে দোষগুলি অনুকৃত হয়, গুণগুলি হয় না
ব্যাখ্যা: একাদশ নিয়মে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, “অনুকরণে দোষগুলি অনুকৃত হয়, গুণগুলি হয় না।” অর্থাৎ অনুকরণ করতে গিয়ে মূল লেখকের দোষগুলিই ধরা পড়ে, গুণগুলি আয়ত্ত করা যায় না।
আরো পড়ুন: এইচএসসি গন্তব্য কাবুল গল্পের বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর
২৮) ‘অমুক ইংরাজি বা সংস্কৃত বা বাঙ্গালা লেখক এইরূপ লিখিয়াছেন, আমিও এরূপ লিখিব’—এই ভাবনা সম্পর্কে বঙ্কিমচন্দ্রের মত কী?
(a) এটি অনুসরণীয়
(b) এটি প্রশংসনীয়
(c) এটি কদাপি মনে স্থান দেওয়া উচিত নয়
(d) এটি লেখকের অহংকার
উত্তর: (c) এটি কদাপি মনে স্থান দেওয়া উচিত নয়
ব্যাখ্যা: একাদশ নিয়মে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, অন্যের অনুকরণ করার এই ভাবনা “কদাপি মনে স্থান দিও না।”
২৯) বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, যে কথার প্রমাণ দিতে পারবেন না, তা—
(a) লিখতে হবে
(b) লিখলেও চলে
(c) লিখা যেতে পারে কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে
(d) লিখা উচিত নয়
উত্তর: (d) লিখা উচিত নয়
ব্যাখ্যা: দ্বাদশ নিয়ম: “যে কথার প্রমাণ দিতে পারিবে না, তাহা লিখিও না।” তবে তিনি এ-ও বলেছেন, প্রমাণ সংযুক্ত করা সব সময় প্রয়োজন না-ও হতে পারে, কিন্তু হাতে থাকা চাই।
৩০) বঙ্কিমচন্দ্র প্রমাণ সম্পর্কে আরও কী বলেছেন?
(a) প্রমাণ সব সময় সংযুক্ত করতে হবে
(b) প্রমাণ হাতে থাকা চাই, সংযুক্ত করা সব সময় প্রয়োজন হয় না
(c) প্রমাণের প্রয়োজন নেই
(d) প্রমাণ লেখকের বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে
উত্তর: (b) প্রমাণ হাতে থাকা চাই, সংযুক্ত করা সব সময় প্রয়োজন হয় না
ব্যাখ্যা: দ্বাদশ নিয়ম: “প্রমাণগুলি সংযুক্ত করা সকল সময়ে প্রয়োজন হয় না, কিন্তু হাতে থাকা চাই।”
৩১) বঙ্কিমচন্দ্র বাংলা সাহিত্যকে কী বলে অভিহিত করেছেন?
(a) বাংলার সম্পদ
(b) বাংলার অহংকার
(c) বাংলার ভরসা
(d) বাংলার গর্ব
উত্তর: (c) বাংলার ভরসা
ব্যাখ্যা: ত্রয়োদশ নিয়ম: “বাঙ্গালা সাহিত্য, বাঙ্গালার ভরসা।” তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর দেওয়া নিয়মগুলি রক্ষিত হলে বাংলা সাহিত্যের উন্নতি দ্রুত হবে।
৩২) ‘এখনও সে দিন হয় নাই’—বঙ্কিমচন্দ্র কোন দিনের কথা বলেছেন?
(a) ইউরোপের মতো বাংলায়ও অর্থের জন্য লেখার দিন
(b) বাংলায় শিল্পসম্মত সাহিত্যের দিন
(c) বাংলায় মুদ্রণ ব্যবস্থার উন্নতির দিন
(d) বাংলায় শিক্ষার প্রসারের দিন
উত্তর: (a) ইউরোপের মতো বাংলায়ও অর্থের জন্য লেখার দিন
ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় নিয়মে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, ইউরোপে এখন অনেক লোক টাকার জন্য লেখে এবং টাকাও পায়; কিন্তু আমাদের এখনও সে দিন হয় নাই।
৩৩) বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, অর্থের উদ্দেশ্যে লিখতে গেলে কী ঘটে?
(a) লেখা ভালো হয়
(b) লেখা সহজ হয়
(c) লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয়
(d) লেখকের খ্যাতি বাড়ে
উত্তর: (c) লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয়
ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় নিয়মে তিনি বলেছেন, অর্থের উদ্দেশ্যে লিখিতে গেলে, “লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হইয়া পড়ে।”
৩৪) বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, সাধারণ পাঠকের রুচি ও শিক্ষা বিবেচনা করে লোকরঞ্জন করিতে গেলে কী হয়?
(a) রচনা জনপ্রিয় হয়
(b) রচনা বিকৃত ও অনিষ্টকর হয়
(c) রচনা সহজ হয়
(d) রচনা দীর্ঘ হয়
উত্তর: (b) রচনা বিকৃত ও অনিষ্টকর হয়
ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় নিয়ম: “এখন আমাদিগের দেশের সাধারণ পাঠকের রুচি ও শিক্ষা বিবেচনা করিয়া লোকরঞ্জন করিতে গেলে রচনা বিকৃত ও অনিষ্টকর হইয়া উঠে।”
৩৫) ‘যাঁহারা অন্য উদ্দেশ্যে লেখেন, তাঁহাদিগকে যাত্রাওয়ালা প্রভৃতি নীচ ব্যবসায়ীদিগের সঙ্গে গণ্য করা যাইতে পারে।’—এখানে ‘অন্য উদ্দেশ্যে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(a) দেশের মঙ্গলের উদ্দেশ্যে
(b) সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে
(c) যশ বা অর্থের উদ্দেশ্যে
(d) ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে
উত্তর: (c) যশ বা অর্থের উদ্দেশ্যে
ব্যাখ্যা: তৃতীয় নিয়মে তিনি বলেছেন, যারা মনে করেন দেশের বা মনুষ্যজাতির মঙ্গল বা সৌন্দর্য সৃষ্টি করতে পারেন, তারাই লিখবেন। আর যারা যশ বা অর্থের জন্য লেখেন, তারা যাত্রাওয়ালার সমান।
৩৬) বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা করলে কী হয়?
(a) পাঠক মুগ্ধ হয়
(b) লেখক সমাদৃত হন
(c) পাঠক বিরক্ত হন
(d) রচনা উৎকর্ষ লাভ করে
উত্তর: (c) পাঠক বিরক্ত হন
ব্যাখ্যা: সপ্তম নিয়ম: “বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা পাঠকের অতিশয় বিরক্তিকর এবং রচনার পরিপাট্যের বিশেষ হানিজনক।”
৩৭) এখনকার প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র কোনটি বেশি দেখতে পান বলে মন্তব্য করেছেন?
(a) ছবি ও অলংকার
(b) ইংরাজি, সংস্কৃত, ফরাসি, জার্মান কোটেশন
(c) দীর্ঘ বর্ণনা
(d) সরল ভাষা
উত্তর: (b) ইংরাজি, সংস্কৃত, ফরাসি, জার্মান কোটেশন
ব্যাখ্যা: সপ্তম নিয়মে তিনি বলেছেন, “এখনকার প্রবন্ধে ইংরাজি, সংস্কৃত, ফরাসি, জার্মান কোটেশন বড় বেশি দেখিতে পাই।”
৩৮) বঙ্কিমচন্দ্র কোন কাজকে ‘মহাপাপ’ বলে অভিহিত করেছেন?
(a) অসত্য লেখা
(b) অর্থের জন্য লেখা
(c) সত্য ও ধর্ম বিরোধী উদ্দেশ্যে লেখনী ধারণ
(d) অনুকরণ করা
উত্তর: (c) সত্য ও ধর্ম বিরোধী উদ্দেশ্যে লেখনী ধারণ
ব্যাখ্যা: চতুর্থ নিয়মের শেষে: “অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী-ধারণ মহাপাপ।” এখানে ‘অন্য উদ্দেশ্যে’ বলতে সত্য ও ধর্ম ছাড়া অন্য উদ্দেশ্য।
৩৯) ‘তাহা হইলে দেখিবেন, প্রবন্ধে অনেক দোষ আছে’—’তাহা হইলে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(a) কিছুকাল ফেলে রাখিলে
(b) অর্থের জন্য লিখিলে
(c) অলংকার প্রয়োগ করিলে
(d) বিদ্যা প্রকাশ করিলে
উত্তর: (a) কিছুকাল ফেলে রাখিলে
ব্যাখ্যা: পঞ্চম নিয়ম: “কিছু কাল ফেলিয়া রাখিবেন। কিছু কাল পরে উহা সংশোধন করিবেন। তাহা হইলে দেখিবেন, প্রবন্ধে অনেক দোষ আছে।”
৪০) বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, বন্ধুবর্গকে পুনঃপুনঃ পড়িয়া শুনাইলে কী বুঝা যায়?
(a) লেখা কতটা জনপ্রিয় হবে
(b) লেখাটি সত্যি সুন্দর কি না
(c) অলংকার বা ব্যঙ্গটি ভালো হয়েছে কি না
(d) প্রকাশকের মতামত
উত্তর: (c) অলংকার বা ব্যঙ্গটি ভালো হয়েছে কি না
ব্যাখ্যা: নবম নিয়মে তিনি বলেছেন, সুন্দর মনে হওয়া অংশটি বন্ধুকে পুনঃপুনঃ পড়ে শুনালে, যদি ভালো না হয়, তবে নিজেরই লজ্জা হবে এবং তখন তা কেটে দেবেন।
এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন MCQ প্রশ্নের উত্তর পিডিএফ ডাউনলোড করুন।






