বাংলা ২য় পত্র সন্ধি MCQ

বাংলা ২য় পত্র: সন্ধি MCQ (PDF)

নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ২য় পত্রের সন্ধি MCQ (ব্যাখ্যাসহ) PDF ডাউনলোড করুন। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সমাহার, দ্রুত প্রস্তুতির জন্য এখনই অনুশীলন শুরু করুন।


বাংলা ২য় পত্র: সন্ধি MCQ

সন্ধি বাংলা ব্যাকরণের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মজাদার বিষয়। ‘সন্ধি’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো মিলন। ব্যাকরণের ভাষায়, পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ধ্বনির মিলন, পরিবর্তন বা বিলোপকে সন্ধি বলা হয়।

নিচে সন্ধি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. সন্ধির উদ্দেশ্য

সন্ধি কেন করা হয়? এর প্রধান দুটি কারণ হলো:

  • উচ্চারণের সহজসাধ্যতা: দ্রুত কথা বলার সময় ধ্বনিগুলো মিলে সহজ হয়ে যায়।
  • ধ্বনিগত মাধুর্য: সন্ধির ফলে শব্দটি শুনতে শ্রুতিমধুর লাগে।

২. সন্ধির প্রকারভেদ

বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী সন্ধিকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

  1. তৎসম সন্ধি: সংস্কৃত শব্দ থেকে আসা সন্ধি।
  2. বাংলা সন্ধি: খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি।

তবে সাধারণ আলোচনার সুবিধার্থে আমরা সন্ধিকে নিচের তিনটি মূল শ্রেণিতে ভাগ করি:

ক. স্বরসন্ধি

স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে স্বরসন্ধি বলে।

  • সূত্র: অ/আ + অ/আ = আ
  • উদাহরণ: হিম + অচল = হিমাচল, দেব + আলয় = দেবালয়।

খ. ব্যঞ্জনসন্ধি

স্বরধ্বনির সাথে ব্যঞ্জনধ্বনি, ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে ব্যঞ্জনধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

  • উদাহরণ: উৎ + চারণ = উচ্চারণ, দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।

গ. বিসর্গ সন্ধি

বিসর্গের (ঃ) সাথে স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে। এটি মূলত ব্যঞ্জনসন্ধিরই একটি অংশ।

  • উদাহরণ: নিঃ + চয় = নিশ্চয়, মনঃ + যোগ = মনোযোগ।

৩. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি (ব্যতিক্রম)

কিছু শব্দ আছে যেগুলো সন্ধির কোনো সাধারণ নিয়ম মানে না। এদেরকে ‘নিপাতনে সিদ্ধ’ সন্ধি বলা হয়। এগুলো পরীক্ষার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

  • নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি: কুল + অটা = কুলটা, গো + অক্ষ = গবাক্ষ।
  • নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি: এক + দশ = একাদশ, বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি।

৪. সন্ধি বিচ্ছেদের কিছু সাধারণ নিয়ম (সহজ টিপস)

  • য-ফলা থাকলে: শব্দের মাঝে য-ফলা থাকলে বিচ্ছেদের সময় সাধারণত ‘ই’ বা ‘ঈ’ কার হয়। (যেমন: ইত্যাদি = ইতি + আদি)
  • ব-ফলা থাকলে: শব্দের মাঝে ব-ফলা থাকলে সাধারণত ‘উ’ বা ‘ঊ’ কার হয়। (যেমন: অন্বেষণ = অনু + এষণা)
  • অনুস্বর (ং) থাকলে: শব্দের মাঝে ‘ং’ থাকলে বিচ্ছেদের সময় তা ‘ম’ হয়ে যায়। (যেমন: সংবাদ = সম্ + বাদ)
  • চ-ছ (চ্ছ) থাকলে: ‘চ্ছ’ থাকলে সন্ধি বিচ্ছেদে সাধারণত ‘ছ’ এর আগে স্বরধ্বনি থাকলে শুধু ‘ছ’ বসে। (যেমন: পরিচ্ছদ = পরি + ছদ)

সন্ধি মূলত ধ্বনির মিলন। এটি ভাষাকে সংক্ষিপ্ত ও সুন্দর করে। আপনি যদি নির্দিষ্ট কোনো নিয়মের (যেমন: বিসর্গ সন্ধির নিয়ম) গভীরে জানতে চান, তবে আমাকে বলতে পারেন!

বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

০১. নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি কোনটি?

(a) শুভেচ্ছা

(b) নায়ক

(c) নাবিক

(d) কুলটা (উত্তর)

ব্যাখ্যা: নিপাতনে সিদ্ধ মানে যা কোনো সাধারণ নিয়ম মানে না। ‘কুল + অটা = কুলটা’ এখানে নিয়মানুসারে ‘কুলাটা’ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি, তাই এটি নিপাতনে সিদ্ধ।

০২. নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ কোনটি?

(a) কুলটা

(b) গবাক্ষ

(c) ষষ্ঠ

(d) বৃহস্পতি (উত্তর)

ব্যাখ্যা: ‘বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি’—এটি ব্যঞ্জন সন্ধির কোনো সাধারণ নিয়ম না মেনেই গঠিত হয়েছে। তাই এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি।

০৩. নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ কোনটি?

(a) গোস্পদ

(b) একাদশ

(c) গবাক্ষ (উত্তর)

(d) সমান

ব্যাখ্যা: ‘গো + অক্ষ = গবাক্ষ’। নিয়ম অনুযায়ী এখানে ‘গবক্ষ’ বা অন্য কিছু হওয়ার কথা থাকলেও এটি বিশেষ নিয়মে (নিপাতনে) হয়েছে।

০৪. নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ?

(a) নিঃ + রোগ = নীরোগ

(b) পুরঃ + কার = পুরস্কার

(c) মনঃ + যোগ = মনোযোগ

(d) এক + দশ = একাদশ (উত্তর)

ব্যাখ্যা: ‘এক + দশ = একাদশ’ কোনো নির্দিষ্ট সন্ধির নিয়ম ছাড়াই গঠিত হয়েছে, তাই এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি।

০৫. সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ নিচের কোনটি?

(a) বন+ ওষধি = বনৌষধি

(b) শীত + আর্ত = শীতার্ত

(c) পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা (উত্তর)

(d) রবী + ইন্দ্র = রবীন্দ্র

ব্যাখ্যা: ‘পরীক্ষা’ বানানে দীর্ঘ-ঈ কার হয়, তাই ‘পরি’ (হ্রস্ব-ই) + ‘ঈক্ষা’ (দীর্ঘ-ঈ) মিলে ‘পরীক্ষা’ (দীর্ঘ-ঈ) সঠিক। বাকিগুলোতে বানানের ভুল আছে (যেমন: রবীন্দ্র বানানে রবী নয়, রবি হবে)।

০৬. ‘শীতার্ত’ সন্ধিটি কোন নিয়মে সাধিত হয়েছে?

(a) অ + ঋত = আর্ (উত্তর)

(b) অ + রীত = আর্

(c) আ + রীত = আর্

(d) আর + ঋত = আর্

ব্যাখ্যা: ঋত শব্দ পরে থাকলে অ/আ এর স্থলে ‘আর্’ হয়। যেমন: শীত + ঋত = শীতার্ত।

০৭. ‘জনৈক’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

(a) জন + ইক

(b) জনা + ইক

(c) জন + এক (উত্তর)

(d) জনা + এক

ব্যাখ্যা: অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঐ-কার হয়। এখানে জন (অ) + এক (এ) = জনৈক (ঐ)।

০৮. সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনের নাম কী?

(a) প্রত্যয়

(b) প্রকৃতি

(c) বিভক্তি

(d) সন্ধি (উত্তর)

ব্যাখ্যা: ব্যাকরণের সংজ্ঞা অনুযায়ী, পাশাপাশি দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলা হয়।

০৯. সন্ধির নিয়মে অ-কারে, আ-কারে আ-কার হয়েছে কোনটিতে?

(a) রত্নাকর

(b) বিদ্যালয়

(c) মহার্ষ

(d) হিমাচল (উত্তর)

ব্যাখ্যা: হিম (অ) + অচল (অ) = হিমাচল (আ)। অর্থাৎ অ + অ মিলে আ হয়েছে। (নোট: রত্নাকর এবং বিদ্যালয়েও আ-কার হয়েছে, তবে হিমাচল একটি আদর্শ উদাহরণ)।

১০. ‘শুভেচ্ছা’ শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী?

(a) শুভ + ইচ্ছা (উত্তর)

(b) শুভে + ইচ্ছা

(c) শুভ + আচ্ছা

(d) শুভ + এচ্ছা

ব্যাখ্যা: অ-কারের পর ই-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়। শুভ (অ) + ইচ্ছা (ই) = শুভেচ্ছা (এ)।

১১. নায়ক কোন প্রকারের সন্ধি?

(a) স্বরসন্ধি (উত্তর)

(b) ব্যঞ্জনসন্ধি

(c) বিসর্গসন্ধি

(d) নিপাতনে সিদ্ধ

ব্যাখ্যা: নৈ + অক = নায়ক। এখানে ‘ঐ’ ধ্বনি ও ‘অ’ ধ্বনি (উভয়ই স্বরধ্বনি) মিলে সন্ধি হয়েছে, তাই এটি স্বরসন্ধি।

১২. অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে কোনটি হয়?

(a) ই-কার

(b) ঈ-কার

(c) এ-কার (উত্তর)

(d) ও-কার

ব্যাখ্যা: এটি স্বরসন্ধির নিয়ম। যেমন: দেব + ইন্দ্র = দেবেন্দ্র (এ-কার)।

১৩. ‘উ + ই = ব্ + ঈ’ এই সূত্রের উদাহরণ নিচের কোনটি?

(a) অনু + এষণ = অন্বেষণ

(b) তনু + ঈ = তন্বী (উত্তর)

(c) অনু + ইত = অন্বিত

(d) সু + আগত = স্বাগত

ব্যাখ্যা: তনু (উ) + ঈ = তন্বী (ব-ফলা + দীর্ঘ ঈ)। এখানে হ্রস্ব-উ এর পর দীর্ঘ-ঈ আসায় ব-ফলা ও দীর্ঘ-ঈ কার হয়েছে।

১৪. কোন সন্ধি মূলত বর্ণ সংযোগের নিয়ম?

(a) বিসর্গ সন্ধি

(b) স্বর সন্ধি

(c) তৎসম সন্ধি (উত্তর)

(d) ব্যঞ্জন সন্ধি

ব্যাখ্যা: তৎসম সন্ধি মূলত সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী বর্ণ সংযোগের মাধ্যমে ঘটে থাকে।

১৫. ‘শীতার্ত’ শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

(a) শীত + ঋত (উত্তর)

(b) শীত + আর্ত

(c) শিত + ঋত

(d) শিত + আর্ত

ব্যাখ্যা: নিয়ম অনুযায়ী, ‘ঋত’ শব্দ পরে থাকলে পূর্ব পদের অ/আ মিলে ‘আর্’ হয়। সুতরাং, শীত + ঋত = শীতার্ত।

১৬. ‘গবেষণা’-এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

(a) গৈ + এষণা

(b) গো + এষণা (উত্তর)

(c) গব + এষণা

(d) গবে + এষণা

ব্যাখ্যা: ও-কারের পর ও-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ও-কারের স্থানে ‘অব্’ হয়। এখানে গো (ও) + এষণা (এ) = গবেষণা।

১৭. ‘নাবিক’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

(a) নো + ইক

(b) নৌ + ইক (উত্তর)

(c) নে + ইক

(d) নৈ + ঈক

ব্যাখ্যা: ঔ-কারের পর ঔ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ঔ-কারের স্থানে ‘আব্’ হয়। নৌ (ঔ) + ইক (ই) = নাবিক।

১৮. কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধিজাত শব্দ?

(a) পতঞ্জলি

(b) পরিষ্কার

(c) কুলটা

(d) গবাক্ষ

ব্যাখ্যা: পতঞ্জলি, কুলটা এবং গবাক্ষ—এই শব্দগুলো সন্ধির কোনো সাধারণ নিয়ম মানে না।

১৯. ‘মনীষা’-এর সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?

(a) মনস্ + ঈষা (উত্তর)

(b) মনঃ + ঈষা

(c) মনশ + ঈষা

(d) মনি + ঈষা

ব্যাখ্যা: এটি ব্যঞ্জন সন্ধির একটি বিশেষ নিয়ম। মনস্ + ঈষা = মনীষা।

২০. ‘অন্বেষণ’ এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কী?

(a) অন্ব + এষণ

(b) অনু + এষণ (উত্তর)

(c) অন্ব + যণ

(d) অনু + যণ

ব্যাখ্যা: উ-কারের পর উ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ-কারের স্থানে ব-ফলা হয়। অনু (উ) + এষণ (এ) = অন্বেষণ।

২১. ‘অহর্নিশ’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?

(a) অহঃ + নিশ

(b) অহঃ + নিশা (উত্তর)

(c) অহ + নিশা

(d) অহ + নিশ

ব্যাখ্যা: এটি বিসর্গ সন্ধির নিয়ম। বিসর্গের পর নাসিক্য ধ্বনি থাকলে বিসর্গের স্থানে ‘র’ হয় এবং পরের ‘আ’ লোপ পায়। অহঃ + নিশা = অহর্নিশ।

২২. ‘তত্ত্ব’ এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

(a) তৎ + ত

(b) তৎ + ত্ব

(c) তদ্ + ত

(d) তদ্ + ত্ব (উত্তর)

ব্যাখ্যা: তদ্ + ত্ব = তত্ত্ব। এখানে ‘দ্’ এবং ‘ত্ব’ মিলে ‘ত্ত্ব’ হয়েছে।

২৩. উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার ও ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে সন্ধিতে কী হয়?

(a) র

(b) য

(c) ম-ফলা

(d) ব-ফলা (উত্তর)

ব্যাখ্যা: এটি স্বরসন্ধির নিয়ম। উ/ঊ স্থানে ব-ফলা যুক্ত হয়। যেমন: সু + অল্প = স্বল্প।

২৪. নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ?

(a) তস্কর (উত্তর)

(b) সংস্কার

(c) পরিষ্কার

(d) সংস্কৃতি

ব্যাখ্যা: তৎ + কর = তস্কর। এটি সাধারণ ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম না মেনে গঠিত হওয়ায় নিপাতনে সিদ্ধ।

২৫. সন্ধিতে ‘দ’ কিংবা ‘ধ’-এর পরে ‘স’ থাকলে ‘দ’ ও ‘ধ’ এর স্থলে কোন ধ্বনি হয়?

(a) অঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি

(b) অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি (উত্তর)

(c) ঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি

(d) ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি

ব্যাখ্যা: নিয়ম অনুযায়ী দ/ধ এর পর স থাকলে দ/ধ এর স্থানে ‘ৎ’ (অঘোষ অল্পপ্রাণ) হয়। যেমন: তদ্ + সম = তৎসম।

২৬. কোনটি বাংলা ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ?

(a) শতৈক

(b) কুড়িঁক

(c) তিনৈক (উত্তর)

(d) রূপালি

ব্যাখ্যা: তিন + এক = তিনৈক। এটি বাংলা শব্দের নিজস্ব সন্ধির নিয়ম।

২৭. ‘অ/আ + ঋত = আর্’ সূত্রের উদাহরণ কোনটি?

(a) শীতার্ত

(b) তৃষ্ণার্ত

(c) মহার্ষ

(d) a ও b উভয়ই (উত্তর)

ব্যাখ্যা: শীত + ঋত = শীতার্ত এবং তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত। উভয় ক্ষেত্রেই ‘আর্’ উচ্চারিত হচ্ছে।

২৮. ‘বনৌষধি’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

(a) বন + ওষধি

(b) বন + ঔষধি

(c) বন + ঔষধ

(d) বন + ওষধি (উত্তর)

ব্যাখ্যা: বন + ওষধি = বনৌষধি। অ-কারের পর ও-কার থাকলে উভয় মিলে ঔ-কার হয়।

২৯. ‘ই/ঈ + অন্য স্বর = য্ + স্বর’ সূত্রানুযায়ী কোনটি সঠিক?

(a) প্রতি + এক = প্রত্যেক (উত্তর)

(b) জন + এক = জনৈক

(c) সদা + এব = সদৈব

(d) সু + অল্প = স্বল্প

ব্যাখ্যা: প্রতি (ই) + এক (এ) = প্রত্যেক (য-ফলা)। এখানে ই-কারের জায়গায় য-ফলা হয়েছে।

৩০. সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

(a) সু + অল্প = স্বল্প (উত্তর)

(b) স্ব + অল্প = স্বল্প

(c) স্ব + ল্প = স্বল্প

(d) সূ + অল্প = স্বল্প

ব্যাখ্যা: উ-কারের পর অ-কার থাকায় উ-কারের স্থলে ব-ফলা হয়েছে।

৩১. ‘ঋ + অন্য স্বর = রূ + স্বর’ সূত্রের উদাহরণ কোনটি?

(a) শীতার্ত (উত্তর)

(b) মহার্ষ

(c) ক্ষুধার্ত

(d) পিত্রালয়

ব্যাখ্যা: উত্তরমালা অনুযায়ী (a) সঠিক। তবে পিত্রালয় (পিতৃ + আলয়) এই সূত্রের একটি আদর্শ উদাহরণ।

৩২. ‘নায়ক’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

(a) নায় + অক

(b) নো + অক

(c) নৈ + অক (উত্তর)

(d) নৌ + অক

ব্যাখ্যা: ঐ + অ = আয়। তাই নৈ + অক = নায়ক।

৩৩. ‘গবাদি’ শব্দটি গঠিত হয়েছে—

(a) সন্ধিসূত্রে (উত্তর)

(b) প্রত্যয়যোগে

(c) সমাসবদ্ধ হয়ে

(d) উপসর্গ যোগে

ব্যাখ্যা: গো + আদি = গবাদি। এটি সন্ধির নিয়মে গঠিত একটি শব্দ।

৩৪. ‘নাবিক’ শব্দটি গঠনে সন্ধির কোন সূত্র ব্যবহৃত হয়েছে?

(a) ‘এ + অন্য স্বর = অয় + স্বর’

(b) ‘ঐ + অন্য স্বর = আয় + স্বর’

(c) ‘ও + অন্য স্বর = অব্ + স্বর’

(d) ‘ঔ + অন্য স্বর = আব্ + স্বর’ (উত্তর)

ব্যাখ্যা: নৌ (ঔ) + ইক (ই) = নাবিক (আব্)।

৩৫. ব্যঞ্জনসন্ধি সাধিত হয়—

(a) স্বরে-ব্যঞ্জনে

(b) ব্যঞ্জনে-স্বরে

(c) ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে

(d) সবগুলো উপায়ে (উত্তর)

ব্যাখ্যা: ব্যঞ্জনসন্ধি স্বর+ব্যঞ্জন, ব্যঞ্জন+স্বর এবং ব্যঞ্জন+ব্যঞ্জন—এই তিনভাবেই হতে পারে।

৩৬. ‘কথাচ্ছলে’ শব্দটি কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?

(a) স্বর + স্বর

(b) স্বর + ব্যঞ্জন (উত্তর)

(c) ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন

(d) ব্যঞ্জন + স্বর

ব্যাখ্যা: কথা (আ – স্বর) + ছলে (ছ – ব্যঞ্জন) = কথাচ্ছলে।

৩৭. ঘোষবৎ স্বরধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘোষ ধ্বনি ঘোষধ্বনিতে পরিবর্তিত হয়েছে কোন উদাহরণে?

(a) চলচ্চিত্র

(b) সদুপায় (উত্তর)

(c) বাগদান

(d) শঙ্কা

ব্যাখ্যা: সৎ (ত – অঘোষ) + উপায় (উ – ঘোষ স্বর) = সদুপায় (দ – ঘোষ ব্যঞ্জন)।

৩৮. নিচের কোনটিতে ‘জ’-এর প্রভাবে ‘দ’ হয়েছে ‘জ’?

(a) উজ্জ্বল

(b) বিপজ্জনক (উত্তর)

(c) সজ্জন

(d) কুত্ঝটিকা

ব্যাখ্যা: বিপদ (দ) + জনক (জ) = বিপজ্জনক (জ্জ)।

৩৯. নিচের কোনটিতে ‘জ’-এর প্রভাবে ‘ত’ হয়েছে ‘জ’?

(a) বিপজ্জনক

(b) তজ্জন্য (উত্তর)

(c) বিপদজাল

(d) সবগুলো

ব্যাখ্যা: তৎ (ত) + জন্য (জ) = তজ্জন্য (জ্জ)। এখানে ‘ত’ ধ্বনি ‘জ’ এ রূপান্তরিত হয়েছে।

৪০. কোনটি সঠিক?

(a) শম্ + কা = শঙ্কা

(b) শম্ + কা = শঙ্কা (উত্তর)

(c) শঙ্ + কা = শঙ্কা

(d) শম্ + কা = শঙ্কা

ব্যাখ্যা: ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী, প-বর্গের নাসিক্য ধ্বনি ‘ম’-এর পর ক-বর্গের কোনো ধ্বনি থাকলে ‘ম’ স্থানে ওই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি ‘ঙ’ হয়। তাই শম্ + কা = শঙ্কা। (চিত্রে b এবং d একই মনে হলেও মুদ্রণভেদে সঠিক রূপটি বিচারে b নেওয়া হয়েছে)।

৪১. কোনটিতে নাসিক্য ধ্বনি ‘ম’-এর প্রভাবে ‘ত’ হয়েছে ‘ন’?

(a) শঙ্কা

(b) সঞ্চয়

(c) সন্তাপ

(d) তন্মধ্যে (উত্তর)

ব্যাখ্যা: তদ্ + মধ্যে = তন্মধ্যে। এখানে ‘দ্’ (ত-বর্গের ধ্বনি) পরবর্তী নাসিক্য ধ্বনি ‘ম’-এর প্রভাবে নাসিক্য ধ্বনি ‘ন’-এ পরিণত হয়েছে।

৪২. কোনটি সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ?

(a) সম্ + তাপ = সন্তাপ (উত্তর)

(b) সদ্ + তাপ = সন্তাপ

(c) সম্ + তাপ = সম্পতাপ

(d) সবগুলো

ব্যাখ্যা: ‘ম’-এর পর ত-বর্গের ধ্বনি ‘ত’ থাকায় ‘ম’ স্থানে ত-বর্গের নাসিক্য ধ্বনি ‘ন’ হয়েছে।

৪৩. কোনটি সঠিক?

(a) যষ্ + থ = ষষ্ঠ (উত্তর)

(b) যশ্ + থ = ষষ্ঠ

(c) যষ্ + ঠ = ষষ্ঠ

(d) যস্ + ঠ = ষষ্ঠ

ব্যাখ্যা: মূর্ধন্য-ষ (ষ)-এর পর ‘ত’ বা ‘থ’ থাকলে যথাক্রমে ‘ট’ ও ‘ঠ’ হয়। এখানে যষ্ + থ = ষষ্ঠ।

৪৪. নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ কোনটি?

(a) প্রৌঢ়

(b) কুলটা

(c) গবাক্ষ

(d) বৃহস্পতি (উত্তর)

ব্যাখ্যা: বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি। এটি ব্যঞ্জন সন্ধির সাধারণ নিয়ম না মেনে গঠিত হওয়ায় নিপাতনে সিদ্ধ।

৪৫. কোনটি সঠিক?

(a) মনোকষ্ট

(b) মনঃকষ্ট (উত্তর)

(c) মনকষ্ট

(d) a ও b উভয়ই

ব্যাখ্যা: বিসর্গ সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী, অ-কারের পর বিসর্গ থাকলে এবং তার পরে ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গ বজায় থাকে। তাই মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট।

৪৬. কোন শব্দে বিসর্গ ‘ও’ হয়েছে?

(a) সূর্যোদয়

(b) যথোচিত

(c) মনোযোগ (উত্তর)

(d) গঙ্গোর্মি

ব্যাখ্যা: মনঃ + যোগ = মনোযোগ। এখানে বিসর্গের প্রভাবে ‘ও-কার’ হয়েছে। অন্যগুলোতে (সূর্যোদয়, যথোচিত) স্বরসন্ধির কারণে ও-কার হয়েছে।

৪৭. কোনটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ?

(a) পুনর্মিলন (উত্তর)

(b) ষড়ানন

(c) সচ্চিন্তা

(d) সজ্জন

ব্যাখ্যা: পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন। এখানে বিসর্গের স্থানে ‘র’ হয়েছে। বাকিগুলো ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ।

৪৮. ‘নিশ্চয়’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

(a) নি + চয়

(b) নিঃ + চয় (উত্তর)

(c) নির্ + চয়

(d) নিশ্ + অয়

ব্যাখ্যা: বিসর্গের পর ‘চ’ থাকলে বিসর্গ স্থানে ‘শ’ হয়। তাই নিঃ + চয় = নিশ্চয়।

৪৯. ‘পুরঃ + কার’ =

(a) পুরস্কার (উত্তর)

(b) পুরষ্কার

(c) পুরোকার

(d) পুরঃকার

ব্যাখ্যা: অ-কারের পর বিসর্গ এবং তারপর ‘ক’ থাকলে বিসর্গ স্থানে ‘স’ হয়। তাই পুরঃ + কার = পুরস্কার। (মনে রাখবেন, পুরস্কারে ‘স’ হয়, ‘ষ’ নয়)।

৫০. ‘নিঃ + রস’ =

(a) নিরস

(b) নীরস (উত্তর)

(c) নিঃরস

(d) নীঃরস

ব্যাখ্যা: বিসর্গের পর ‘র’ থাকলে বিসর্গ লোপ পায় এবং তার পূর্বের হ্রস্ব স্বরটি (ই) দীর্ঘ স্বর (ঈ) হয়। তাই নিঃ + রস = নীরস।


Read More: বাংলা ২য় পত্র: সমাস দিয়ে শব্দ গঠন MCQ

Read More: বাংলা ২য় পত্র: প্রত্যয় দিয়ে শব্দ গঠন MCQ


বাংলা ২য় পত্র: সন্ধি MCQ PDF Download

সমাধানে যদি কোনো ভুল খুঁজে পান, তবে দয়া করে আমাদের জানিয়ে সাহায্য করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top