আজ আমরা আলোচনা করব এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের অন্তর্ভুক্ত বিলাসী গল্পের নোট নিয়ে। শরৎচন্দ্রের “বিলাসী” গল্পটি প্রথমে প্রকাশিত হয় ‘ভারতী’ পত্রিকায় ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ) বৈশাখ সংখ্যায়। “ন্যাড়া” নামের এক যুবকের নিজের জবানিতে বিবৃত হয়েছে এ গল্প। এই গল্পের কাহিনিতে শরৎচন্দ্রের প্রথম জীবনের ছায়াপাত ঘটেছে। বিলাসী গল্পের নোট তোমরা pdf ডাউনলোড করে অফলাইনেও পড়তে পারবে। তাহলে চলো, শুরু করি।
বিলাসী গল্পের নোট PDF
বিলাসী
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
লেখক পরিচিতিঃ
✪ জন্মঃ পশ্চিমবঙোর হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রাম। ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই সেপ্টেম্বর।
✪ পিতাঃ মতিলাল চট্টোপাধ্যায়, মাতাঃ ডুবনমোহিনী দেবী।
✪ শরৎচন্দ্র বাংলা মাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক।
✪ সন্ন্যাসী হয়েছিলেন ২৪ বছর বয়সে,।
✪ জীবিকার সন্ধানে গিয়েছিলেন বার্মা মুল্লুকে (বর্তমান মিয়ানমার)
✪ শল্পী মানসের মৌল বৈশিষ্ট্য হলো মানবতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা।
✪ প্রথম মুদ্রিত রচনা মন্দির গল্প। (কুন্তলীন পুরষ্কারপ্রাপ্ত)
✪ বিখ্যাত উপন্যাসঃ দেবদাস, পল্লি সমাজ, চরিত্রহীন, শ্রীকান্ত: গৃহদাহ, দেনা পাওনা ইত্যাদি।
✪ ১৯২৩ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে, জগত্তারিণী স্বর্ণপদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৩৬ সালে ডিলিট ডিগ্রী প্রদান করে।
✪ মৃত্যু: কলকাতায়। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই জানুয়ারি।
মূল পাঠঃ বিলাসী গল্পের নোট
✪ পুরো দুই ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হয়।
✪ লেখক একা নন, দশ বারোজন এভাবে স্কুলে যায়।
✪ গ্রামাঞ্চলের শতকরা আশিজন ছেলেকে এভাবে বিদ্যার্জন করতে হয়।
✪ চার ক্রোশ অর্থাৎ আট মাইলের চেয়েও ঢের বেশি।
✪ স্কুলে যেতে দুক্রোশের মধ্যে দু’তিন খানা গ্রাম পার হতে হয়।
✪ লেখকের মতে এডেন হলো পারশিয়ার বন্দর এবং হুমায়ুনে বাপের নাম হলো তোগলক খাঁ।
✪ লেখকের স্কুলের পথে মাঝে মাঝেই দেখা হতো মৃত্যুঞ্জয়ের সাথে।
✪ মৃত্যুঞ্জয় থার্ড ক্লাসে পড়িত। (বর্তমান ৮ম শ্রেণি)
✪ মৃত্যুঞ্জয়ের বাপ, মা, ভাই, বোন কেউ ছিল না। ছিল শুধু একটা প্রকান্ত আম কাঠালের বাগান, একটা প্রকান্ত পোড়োবা এবং একজন জ্ঞাতি খুড়া।
✪ খুড়ার কাজ ছিল ভাইপোর দুর্নাম রটনা করা। যে গাঁজা খায়, গুলি খায় ইত্যাদি। আর একটি কাজ ছিল এটি বলে বে-ডানো যে ওই বাগানের অর্ধেক অংশ তার। (বিলাসী গল্পের নোট)
✪ মৃত্যুঞ্জয় নিজে রান্না করে খেত।
✪ মৃত্যুঞ্জয় কখনো কারো সাথে যেচে কথা বলতো না।
✪ দোকানের খাবার কিনে অন্যকে খাওয়াতে মৃত্যুঞ্জয়ের আর জোড়া ছিল না।
✪ মৃত্যুঞ্জয়ের মর মর অবস্থায় মালোপাড়ার বুড়া ‘মালো চিকিৎসা এবং তার মেয়ে বিলাসী সেবা করে তাকে যমের মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছিল।
✪ ন্যাড়া অর্থাৎ লেখক সন্ধ্যার অন্ধকারে লুকিয়ে মৃত্যুঞ্জয়কে দেখতে গিয়েছিল। ‘তার পোড়োবাড়িতে কোনো প্রাচীর ছিল না।
✪ ন্যাড়া যখন মৃত্যুঞ্জয়কে দেখতে যায় বিলাসী তখন পাখা দিয়ে বাতাস করছিল।
✪ বিলাসীর বয়স আঠার কি আটাশ তা বোঝা যায়নি।
✪ মৃত্যুঞ্জয় প্রায়, দেড় মাস ধরে শয্যাগত এবং মাঝখানে ১০-১৫ দিন সম্পূর্ণ অজ্ঞান অবস্থায় ছিল।
✪ বিলামী ন্যাড়াকে ভাঙা প্রাচীরের শেষ পর্যন্ত রেখে এসেছিল।
✪ আম কাঠালের বাগানটি ছিল ২০-২৫ বিঘার।
✪ ন্যাড়া মৃত্যুঞ্জয়কে দেখে আমার পরে প্রায় দুই মাস তার খবর নেয়নি।
✪ মৃত্যুঞ্জয় মিত্তির বংশের ছিল। আর বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে ছিল।
অন্নপাপের বিচার করার জন্য খুড়া অভিভাবক হিসেবে এবং ন্যাড়াসহ দশ বারো জন সন্ধ্যার সময় মৃত্যুঞ্জয়ের পোড়োবাড়িতে যায়।
✪ বিলাসী তখন ভাঙা বারান্দায় রুটি তৈরি করছিল। তাদেরকে দেখে ভয়ে সে নীলবর্ণ হয়ে যায়।
✪ স্ত্রীলোক দুর্বল এবং নিরুপায় বলে তাদের গায়ে হাত তুলতে নেই। এই কুসংস্কারটি বিলেত প্রভৃতি ম্লেচ্ছদেশের (বর্বর দেশ) পুরুষদের মধ্যে প্রচলিত। (বিলাসী গল্পের নোট)
✪ স্বর্গীয় মুখোপাধ্যায়ের বিধবা পুত্রবধূ মনের বৈরাগে (অনাসক্তি) দুই বছর কাশিবাস করেছেন।
✪ ছোটবাবু বারোয়ারি পূজাবাবদ ২০০ টাকা দান করেন এবং পাঁচটি গ্রামের ব্রাহ্মণের প্রত্যেক মদব্রাহ্মণের হাতে ১টি করে কাঁসার গ্লাস দেন।
আরো পড়ুন:
এইচএসসি সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের নোট
বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন নোট
✪ ন্যাড়া সন্ন্যাসীগিরি থেকে ইস্তফা দিয়েছিল মশার কামড় সহ্য করতে না পেরে।
✪ পরবর্তীতে ন্যাড়ার মৃত্যুঞ্জয়ের সাথে দেখা হয় একদিন দুপুর বেলা মালোপাড়ায়। তখন মৃত্যুঞ্জয়ের মাথায় ছিল গেরুয়া পাগড়ি, বড় বড় দাড়ি চুল, গলায় রুদ্রাক্ষ ও পুঁতির মালা ছিল-
✪ দেশের ৯০ জন নরনারীই পল্লিগ্রামের মানুষ।
✪ ছোটবেলা থেকেই ন্যাড়ার দুটি জিনিসের প্রতি প্রবল শখ ছিল। প্রথমত, গোখরা সাপ ধরে পোষা, দ্বিতীয়ত মন্ত্র সিদ্ধ হওয়া।
✪ মন্ত্রঅনুসারে, কেউটে হলো মনসার বাহন।
✪ সন্ন্যাসী অবস্থায় ন্যাড়া কামাখ্যায় গিয়ে সিদ্ধ হয়ে এসেছে
✪ বিলাসী ন্যাড়াকে ঠাকুর বলে সম্বোধন করত।
✪ কোনো সাপকে দুই চারদিন হাড়িতে পুরে রাখলে সে আর কাউকে কামড়াতে চায় না। এর জন্য একটি কাজ করতে হয় সেটি হচ্ছে লোহার শিক পুড়িয়ে কয়েকবার ছ্যাকা দিতে হয়।
✪ সাপ ধরাটা ন্যাড়ার কাছে একটা নেশার মতো হয়ে গিয়ে ছিল।
✪ মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু হয়েছিল এক গোয়ালার বাড়িতে। (ক্রোশ দেড়েক দূরে)
✪ মৃত্যুঞ্জয়ের মতে, গোয়ালার বাড়ির মেঝে খুড়ে তারা যে কাগজ পেয়েছিল তা ইদুরে এনেছে।
✪ ১০ মিনিটের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় প্রকান্ড একটি গোখরা সাপ ধরেছিল।
✪ সাপে কামড়ানোর ১৫-২০ মিনিট পরেই মৃত্যুঞ্জয় বমি করে দিল। এরও ৩০ মিনিট পর মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু ঘটল।
✪ স্বামীর মৃত্যুর পর বিলাসী সাতদিন বেঁচে ছিল।
✪ স্বামীর মৃত্যুশোক সইতে না পেরে বিলাসী বিষপানে আত্মহত্যা করে।
শব্দার্থ: বিলাসী গল্পের নোট
✪ ভূদেবচন্দ্র মুখোপাধ্যায় হলেন উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃত।
✪ মোঘল সম্রাট আকবরের পিতা হুমায়ুন।
✪ হিন্দু ধর্মমতে, মনসা যাপের দেবী।
✪ বিখ্যাত, সমুদ্র বন্দর এডেন লবন তৈরির জন্য প্রসিদ্ধ।
✪ কামচাটুকা হলো রাশিয়ার অন্তর্গত সাইবেরিয়ার উত্তর পূর্বে অবস্থিত উপদ্বীপ। এখানে ১৭ টি জীবন্ত গ্নেয়গিরি রয়েছে। এটি স্যামন মাছের দেশ নামেও পরিচিত। রাজধানী শহর- পেত্রোপাভলোভস্ক।
✪ সত্য যুগ হলো হিন্দু পুরাণে বর্ণিত চার যুগের প্রথম যুগ
✪ বিষকণ্ঠ শিব বা মহেশ্বরের অন্য নাম মৃত্যুঞ্জয়।
✪ হিন্দু পুরান অনুসারে বিদ্যা ও কলার দেবী- স্বরস্বতী বা বীণাপাণি।
পাঠ পরিচিতিঃ বিলাসী গল্পের নোট
✪ বিলাসী গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ভারতী পত্রিকায় ১৯১৮ সালে।
✪ গল্পটি বিবৃত হয়েছে ন্যাড়া নামের এক যুবকের জবানিতে গল্পে ছায়াপাত ঘটেছে শরৎচন্দ্রের প্রথম জীবনের।
✪ গল্পটি বিশ শতকের সামাজিক অসংগতিকে ইজ্জিত করে।
✪ গল্পটির নামকরণ করা হয়েছে নায়িকা চরিত্রের আলো
✪ বিলাসী গল্পে দুই ব্যতিক্রমধর্মী মানব মানবীর প্রেমের মহিমা ছাপিয়ে গেছে জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা।
✪ বিলাসী গল্পে লেখকের অবস্থান উত্তম পুরুষে।
✪ বিলাসী স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছে প্রেমের কারণে
এইচএসসি বিলাসী গল্পের নোট পিডিএফ ডাউনলোড করুন।






