এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের গন্তব্য কাবুল গল্পের নোট পিডিএফ ডাউনলোড করুন। এই লেকচার শীটে রয়েছে গন্তব্য কাবুল গল্পের মূলভাব, পাঠ পরিচিতি ও লেখক পরিচিতি যা অনলাইনে পড়ার পাশাপাশি PDF Download করে অফলাইনেও পড়তে পারবে। তাহলে চলো, শুরু করি।
গন্তব্য কাবুল গল্পের নোট ২০২৬
লেখক পরিচিতি
- নাম: সৈয়দ মুজতবা আলী
- জন্ম: ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪
- মৃত্যু: ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
- পরিচয়: বাঙালি লেখক, সাংবাদিক, ভ্রমণিক, একাডেমিক, পণ্ডিত ও বহুভাষী
- বিশেষ খ্যাতি: ভ্রমণকাহিনী ও রম্যরচনা
- সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য: পাণ্ডিত্য + রসবোধ + মানবিক জীবনবোধ
তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, অনুবাদক ও রম্যরচয়িতা।
জন্ম ও পরিবার
- জন্মস্থান: করিমগঞ্জ, সিলেট (তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত)
- পৈতৃক নিবাস: উত্তরসূর গ্রাম, বাহুবল, হবিগঞ্জ
- পিতা: খান বাহাদুর সৈয়দ সিকান্দার আলী (সাব-রেজিস্ট্রার)
শিক্ষাজীবন
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক
- সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা
- পিতার বদলির কারণে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা
উচ্চশিক্ষা
- ১৯২১: শান্তিনিকেতনে ভর্তি (বিশ্বভারতীর প্রথমদিকের ছাত্র)
- ১৯২৬: বি.এ. ডিগ্রি অর্জন
- ভাষাজ্ঞান: প্রায় ১৫টি ভাষা
- সংস্কৃত, ইংরেজি, আরবি, উর্দু, ফার্সি
- হিন্দি, গুজরাটি
- ফরাসি, জার্মান, ইতালীয় ইত্যাদি
উচ্চতর শিক্ষা
- আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়
- জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয় → দর্শন ও তুলনামূল ক ধর্মতত্ত্ব
- ১৯৩২: ডি.ফিল ডিগ্রি লাভ
- ১৯৩৪–৩৫: আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রোতে পড়াশোনা
কর্মজীবন
- ১৯২৭–১৯২৯: কাবুল শিক্ষা দপ্তরে শিক্ষক (ইংরেজি ও ফরাসি)
- ১৯৩৫: বরোদা কলেজে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক
- দিল্লি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কাজ
- ১৯৪৯: আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া → অধ্যক্ষ
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ প্রভাষক
- আকাশবাণীর স্টেশন ডিরেক্টর (পাটনা, কটক, কলকাতা, দিল্লি)
- ১৯৬১: শান্তিনিকেতনে প্রত্যাবর্তন
- বিশ্বভারতীতে ইসলামিক স্টাডিজ রিডার
- ১৯৬৫: অবসর
আরো পড়ুন: এইচএসসি বাংলা কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ গল্পের নোট
লেখালেখি ও সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য
ছদ্মনাম
- সত্যপীর
- ওমর খৈয়াম
- টেকচাঁদ
- প্রিয়দর্শী
লেখার বৈশিষ্ট্য
- ভ্রমণ অভিজ্ঞতার সমৃদ্ধ ব্যবহার
- বহু ভাষার শ্লোক ও রূপক ব্যবহার
- তীক্ষ্ণ রসবোধ
- গভীর জীবনবোধ
- ধর্মীয় সংকীর্ণতামুক্ত উদার দৃষ্টিভঙ্গি
গন্তব্য কাবুল গল্পের নোট
জনপ্রিয়তা:
১৯৫০–৬০ দশকে বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকদের একজন।
বিখ্যাত উক্তি
“বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না।”
গ্রন্থসংখ্যা
➡️ মোট রচিত বই: প্রায় ৩০টি
গ্রন্থতালিকা (বিভাগভিত্তিক)
উপন্যাস
- অবিশ্বাস্য (১৯৫৪)
- শবনম (১৯৬০)
- শহর-ইয়ার (১৯৬৯)
- তুলনাহীনা
ভ্রমণকাহিনী
- দেশে বিদেশে (১৯৪৯)
- জলে ডাঙ্গায় (১৯৬০)
- ভবঘুরে ও অন্যান্য
- মুসাফির
- বিদেশে
রম্যরচনা/ছোটগল্প
- চাচা কাহিনী (১৯৫২)
- পঞ্চতন্ত্র (১৯৫২)
- ময়ূরকণ্ঠী (১৯৫৭)
- টুনি মেম (১৯৬৪)
- দ্বন্দ্বমধুর
- বড়বাবু
- কুতুব মিনারের কথা
প্রবন্ধ
- ধূপছায়া
- রাজা উজির
- পরিবর্তনে অপরিবর্তনীয়
- উভয় বাঙলা
- ভাষা সংস্কৃতি সাহিত্য
আত্মজীবনী/স্মৃতিকথা
- দিনলিপি
- গুরুদেব ও শান্তিনিকেতন
অনুবাদ
- প্রেম (নিকোলাস লেসকফ)
ঐতিহাসিক গ্রন্থ
- হিটলার
পুরস্কার ও সম্মাননা
- নরসিংহ দাস পুরস্কার (১৯৪৯)
- আনন্দ পুরস্কার (১৯৬১)
- একুশে পদক (মরণোত্তর)
মৃত্যু
- তারিখ: ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
- স্থান: ইনস্টিটিউট অব পোস্টগ্রাজুয়েট মেডিকেল রিসার্চ
আরো পড়ুন: এইচএসসি বাংলা ঋতু বর্ণন কবিতার নোট
গন্তব্য কাবুল গল্পের নোট
✅ হাওড়া স্টেশন থেকে পেশোয়ার
- লেখক ইউরোপিয়ান থার্ডে করে পেশোয়ার যাচ্ছিলেন।
- প্রথম সিলেবলে অ্যাকসেন্ট দিয়ে ইংরেজি বলা—খারাপ রান্নায় লঙ্কা ঠেসে দেওয়ার মতো (সব দোষ ঢাকা পড়ে)। গন্তব্য কাবুল গল্পের নোট
- লেখক জাকারিয়া স্ট্রিট থেকে খাবার নিয়ে এসেছিলেন—শিককাবাব, ঢাকাই পরোটা, মুরগি মুসল্লম, আলু-গোস্ত।
- সর্দারজি আশ্বস্ত করেছিলেন—পেশোয়ার স্টেশনে বাঙালিকে চিনতে সমস্যা হয় না।
- পেশোয়ার স্টেশনে লেখক নিজের বাঙালিত্ব জাহির করার চেষ্টা করেছিলেন।
- শেখ আহমদ আলী তথা পাঠানের অভ্যর্থনা ছিল সম্পূর্ণ নির্জলা আন্তরিক।
✅ পেশোয়ার থেকে জমরুদ দুর্গ
- বাসের আফগান সরকারের কর্মচারী অনেক ভাষার পাণ্ডিত্য দাবি করে বেতারে চাকরি পেয়েছেন।
- বাসের পেটে ছিল একপাল কাবুলি ব্যবসায়ী।
- কিছু কিছু পণ্য হিন্দুস্থান থেকে, কিছু রুশ থেকে আমদানি হয়।
- জমরুদ দুর্গে পাসপোর্ট দেখাতে হয়েছিল।
✅ খাইবারপাস থেকে আফগানিস্তান
- দুদিকে হাজার ফুট উঁচু পাথরের নেড়া পাহাড়, মাঝখানে খাইবারপাস।
- দুটি রাস্তা এঁকেবেঁকে চলে—একটি মোটরের জন্য, অন্যটি ক্যারাভান/পণ্যবাহিনীর জন্য।
- সংকীর্ণতম স্থলে দুই রাস্তা মিলে ত্রিশ হাতও হয় না। গন্তব্য কাবুল গল্পের নোট
- লেখক দামেস্কের তরবারি ও মোগল ছবির মতো ‘জামধর’ অস্ত্র বাস্তবে দেখেছিলেন।
- কোমরবন্ধ/ইজেরের ভাঁজ/পুস্তিনের লাইনে লুকিয়ে আনা জিনিস (আফিং, হাসিস, ককেন ইত্যাদি) থাকার কথাও এসেছে। গন্তব্য কাবুল গল্পের নোট
- পথে রাহাজানি ঠেকাতে ইংরেজরা বসতির পাঠানদের বছরে দু-টাকা করে খাজনা দিত।
✅ লান্ডিকোটাল থেকে জালালাবাদ
- লেখকের কাছে দক্কা দুর্গ অবান্তর/অবাস্তব মনে হয়েছিল।
- মাটি ও খড় পিটিয়ে উঁচু দেয়াল—চারপাশের রঙের সাথে মেশানো ফ্যাকাশে, ময়লা, ঘিনঘিনে হলুদ রং।
- দুর্গের এক পাশে কাবুল নদী ছলছল করে বাঁক নিয়ে চলে গেছে।
- দুর্গের অফিসার লেখককে দেখে খুব খাতির-যত্ন করেছিলেন।
- আফগান সরাই—ভীষণ দুশমনের মতো দাঁড়ানো চৌকো দুর্গ।
- লেখক বলেছিলেন: “সূচিভেদ্য অন্ধকার” দেখেছি, কিন্তু “সূচিভেদ্য দুর্গন্ধ” এই প্রথম অনুভব করলাম।
- ভোরে আজান শুনে ঘুম ভাঙে; নামাজ পড়ান বুখারার পুস্তিন সদাগর। গন্তব্য কাবুল গল্পের নোট
- জালালাবাদ পৌঁছে লেখক চোখ বন্ধ অবস্থায় ঠাণ্ডা হাওয়ার প্রথম পরশ পান; চোখ খুলে দেখেন সবুজ উপত্যকা।
✅ জালালাবাদ থেকে কাবুল
- কাবুলিদের কাবুল পৌঁছানোর তাড়া নেই; বাস সময়মতো ছাড়ে না, সবাই জড়ো হলে পরে ছাড়ে।
- পেশোয়ার থেকে জালালাবাদ একশ মাইল, জালালাবাদ থেকে কাবুল আরও একশ মাইল।
- লেখকের সময় কাটত নালার ধারে, নারগিস বনের পাশে এবং চিনার গাছের ছায়ায়।
- তন্দ্রা-ঝিমুনি ও প্রভাতের সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করেছিল।
- প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য দেখে মনে হয়েছিল, তিনি যেন স্বর্গীয় পরিবেশে এসে পৌঁছেছেন; আজ সন্ধ্যার মধ্যেই কষ্ট করে কাবুল পৌঁছবেন।
আরো পড়ুন: এইচএসসি বাংলা আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার নোট
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- লেখক চাঁদনি থেকে নয়সিকে দিয়ে একটি শার্ট কিনেছিলেন।
- তখনকার দিনে বিচক্ষণ বাঙালির জন্য ইউরোপিয়ান থার্ড নামক একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান ভারতের সর্বত্র চালু ছিল। গন্তব্য কাবুল গল্পের নোট
- হাওড়ায় লেখকের সহযাত্রী ছিলেন ফিরিঙ্গি তালতলার নেটিভ।
- দিনের বেলা পেশোয়ার ইংরেজের, রাতে পাঠানের।
- লেখক রাত ন’টার সময় পেশোয়ারে পৌঁছেছিলেন।
- আরবি ভাষায় একটি প্রবাদ আছে— “ইয়োম উস সফর, নিসফ উস সফর”, অর্থাৎ যাত্রার দিনই অর্ধেক ভ্রমণ।
- পূর্ব বাংলায় একই প্রবাদ প্রচলিত— “উঠোন সমুদ্র পেরোলেই আধেক মুশকিল আসান।”
- পেশোয়ার থেকে জমরুদ দুর্গে দু’বার পাসপোর্ট দেখাতে হয়েছিল।
- খাইবার পাসের রাস্তায় কাবুলি ব্যবসায়ীরা চলাচল করত।
- দুই ইঞ্চি পুরু লোমওয়ালা চামড়ার ওভারকোট গায়ে দিয়ে রেশম ব্যবসায়ীরা ভারতবর্ষের দিকে চলেছে।
- পাঠান প্রবাদ অনুযায়ী— “হন্তদন্ত হওয়ার মানে শয়তানের পথ চলা।”
- পাঠান যাতে ঠিক রাস্তার বুকের ওপর রাহাজানি না করে, সে জন্য খাইবার পাসের দুদিকে বসবাসকারী পাঠানদের ইংরেজরা বছরে দু-টাকা করে ভাতা দিত।
- কাবুলি বেতার কর্মচারীর মতে, দুনিয়ার সব পরীক্ষার চেয়ে খাইবার পাস পার হওয়া বড় পরীক্ষা।
- খাইবার পাস পার হওয়ার পরও কাবুল পৌঁছানো সহজ ছিল না।
- দক্কা থেকে কাবুল যাওয়ার পথে জালালাবাদ পৌঁছানোর আগেই তিন-তিনবার চাকা ফেটেছিল এবং ইঞ্জিন সারাতে দেরি হয়েছিল।
- আফগান সরাইখানায় অগণিত বছরের আবর্জনা জমে সূচিভেদ্য দুর্গন্ধ তৈরি হয়েছিল।
- বাস যখন ছিল না, তখন লোকে পনেরো দিনে পেশোয়ার থেকে কাবুল পৌঁছত।
- পেশোয়ার থেকে জালালাবাদ একশ মাইল, জালালাবাদ থেকে কাবুল আরও একশ মাইল।
- লেখকের যাত্রাপথে নালার ধারে, নারগিস বনের পাশে ও চিনার গাছের তলায় বিশ্রাম নেওয়ার কথা উল্লেখ আছে।
- ভোরের নামাজ শেষ হওয়ার পর সর্দারজি কাবুলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার জন্য ভেঁপু বাজাতে আরম্ভ করেন।
পাঠ-পরিচিতি
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত “গন্তব্য কাবুল” শীর্ষক ভ্রমণকাহিনিটি তাঁর ‘দেশে বিদেশে’ (১৯৪৮) গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। এই রচনাটির মধ্য দিয়ে আমরা সৈয়দ মুজতবা আলীর অসাধারণ ভ্রমণ-সাহিত্যের সঙ্গেই শুধু পরিচিত হই না, অধিকন্তু তাঁর জীবনবোধ, সাহিত্যরুচি ও নিজস্ব শিল্প-বৈশিষ্ট্যের সঙ্গেও পরিচিত হতে পারি । সৈয়দ মুজতবা আলী বিচিত্র এক জীবন যাপন করেছেন। কত জনপদ, কত মানুষ আর কত ঘটনার সঙ্গে যে তিনি এক জীবনে পরিচিত হয়েছেন তার ইয়ত্তা নেই। আর সেই জনপদ, সেই মানুষ আর সেই সব ঘটনাকেও তিনি দেখেছেন কখনো রসিকের চোখে, কখনো ভাবুকের চোখে এবং কখনোবা বিদগ্ধ পাণ্ডিত্যের মনন ও নিষ্ঠার চোখে। ফলে অনিবার্যভাবেই তাঁর সব সৃষ্টির মতো ভ্রমণ-সাহিত্যও হয়ে উঠেছে তুখোড় এক জীবনচাঞ্চল্যে ভরপুর কথামালা। “গন্তব্য কাবুল” তার ব্যতিক্রম নয়। হাওড়া স্টেশন থেকে কাবুলের উদ্দেশে যে যাত্রাটি তিনি শুরু করেছিলেন তাতে শেষ পর্যন্ত অসাধারণ রসঘন এক অভিজ্ঞতার সঙ্গে আমাদের পরিচয় ঘটে। এই পরিচয়ের প্রতিটি পর্বে কত যে কৌতুক, কৌতূহল, হাসি-ঠাট্টা, রম্য-রসিকতা আর প্রজ্ঞা ও মনন পাঠকের জন্য অপেক্ষা করে তার কোনো তুলনা চলে না। যাত্রার শুরুতেই গাড়িতে উঠতে গেলে একজন ইংরেজ হাঁক দিয়ে বলেছিলেন “ওটা ইয়োরোপিয়ানদের জন্য”। এই একটি মাত্র উক্তির মধ্যে ব্রিটিশশাসিত দুইশ বছরের ইতিহাসের একটি মাত্রা অনুভব করা যায়। আবার সেই ফিরিঙ্গির সঙ্গেই যখন শান্তিপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ যাত্রা শুরু হয় আর ভাগ-বাঁটোয়ারা করে খাওয়া হয় নিজেদের সঙ্গে করে আনা বিচিত্র খাবার তখন অন্য এক ইতিহাসের সঙ্গে আমাদের পরিচয় ঘটে। সেই ইতিহাস মানবিকতার, সাম্যের, সৌন্দর্যের। এই বিচিত্র মানুষ-জনের সঙ্গে মিলেমিশে আছে নানা ধরনের প্রকৃতি, ভূগোল, ইতিহাস ও নানা সংস্কৃতি। এই রচনায় সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর বিপুল অভিজ্ঞতার একটি অতি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের পরিচয় তুলে ধরেছেন।
শব্দার্থ ও টীকা
| শব্দ | অর্থ/টীকা |
| হাওড়া স্টেশন | পশ্চিমবঙ্গের একটি বৃহৎ রেলস্টেশন; আয়তনের দিক থেকে ভারতের অন্যতম বড়। বর্তমানে এখানে ২৬টি প্ল্যাটফর্ম আছে। |
| প্রাগদেশ | কোনো কিছুর শুরুতে; পূর্বদেশ বা পূর্বস্থান। |
| ফিরিঙ্গি | ফার্সি শব্দ; অর্থ ফরাসি/ইউরোপীয়। ব্রিটিশ ভারতে সাদা চামড়ার বিদেশিদের ফিরিঙ্গি বলা হতো। গন্তব্য কাবুল গল্পের নোট |
| নেটিভ | স্বদেশি; ব্রিটিশরা ভারতীয়দের নেটিভ বলত। যে ব্যক্তি যে দেশে জন্মায় সে সেই দেশের নেটিভ। |
| ফিয়াসে | ভালোবাসার নারী/বাগদত্তা; প্রাচীন ফরাসি শব্দ, অর্থ প্রতিজ্ঞা। |
| আলাকার্ত (Ala carte) | ফরাসি শব্দ; অর্থ খাদ্যতালিকা অনুযায়ী খাবার নির্বাচন। |
| জাকারিয়া স্ট্রিট | কলকাতার বিখ্যাত স্থান; হোটেল ও বিভিন্ন খাবারের জন্য পরিচিত। |
| গৌরচন্দ্রিকা | ভূমিকা বা প্রাক্কথন। |
| কালোয়াত | ধ্রুপদ/খেয়াল ইত্যাদিতে পারদর্শী সংগীতশিল্পী; উচ্চাঙ্গ সংগীতের মতো দ্রুত লয় বোঝাতে ব্যবহৃত। গন্তব্য কাবুল গল্পের নোট |
| পেশোয়ার স্টেশন | পাকিস্তানের পেশোয়ারে অবস্থিত রেলস্টেশন। |
| দিল্লি | ভারতের রাজধানী; প্রাচীন ও বৃহৎ জনবহুল শহর। |
| জলন্ধর | ভারতের পাঞ্জাবের প্রাচীন ও পরিচ্ছন্ন শহর। |
| রাওয়ালপিন্ডি | পাকিস্তানের ঘনবসতিপূর্ণ শহর; ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ৯ মাইল দূরে। |
| পেশোয়ার | পাকিস্তানের খাইবার পাখতুন প্রদেশের বৃহত্তম শহর; খাইবার পাসের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। |
| টাঙা | টাট্টু ঘোড়ায় টানা দুই চাকার গাড়ি। |
| খাইবার পাস | পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংযোগকারী প্রাচীন গিরিপথ; ঐতিহাসিকভাবে বহু বিজেতা এ পথ ব্যবহার করেছেন। |
| বুখারা | উজবেকিস্তানের প্রাচীন শহর; ব্যবসা-বাণিজ্য ও ধর্মীয় শিক্ষার জন্য বিখ্যাত। |
| জর্মন মাউজার | জার্মান অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Mauser; রাইফেল ও পিস্তলের জন্য বিখ্যাত। |
| সামোভার | গরম পানি রাখার পাত্রবিশেষ। |
| দামেস্ক | সিরিয়ার রাজধানী; প্রাচীন সংস্কৃতি ও ধর্মীয় কেন্দ্র। |
| কানজোখা | কাঁধ পরিমাণ বা কাঁধ পর্যন্ত মাপ। |
| আফ্রিদি | পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের সাহসী উপজাতি। |
| লান্ডিকোটাল | পাকিস্তানের উপজাতি শাসিত অঞ্চলের শহর; খাইবার পাসের পশ্চিমাংশে অবস্থিত। |
| পুস্তিন | চামড়ার তৈরি জামা বা কোট। |
| জালালাবাদ | আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহর; কাবুল ও কুনার নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত শিল্পনগরী। |
এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের গন্তব্য কাবুল গল্পের নোট পিডিএফ ডাউনলোড করুন।






