এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার নোট PDF Download। এই লেকচার শীটতে রয়েছে কবিতার ব্যাখ্যা, মূলভাব ও পাঠ পরিচিতি। তাই আর দেরি না করে আমাদের আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার নোটটি পড়ে ফেলুন ।।
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার নোট ২০২৬
লেখক পরিচয়
- পুরো নাম: আবু জাফর মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ খান
- জন্ম: ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৪
- মৃত্যু: ১৯ মার্চ ২০০১
- পরিচিতি: পঞ্চাশের দশকের অন্যতম মৌলিক আধুনিক বাংলা কবি
- বিশেষ খ্যাতি:
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা
- অন্য পরিচয়: উচ্চপদস্থ সরকারি আমলা ও মন্ত্রী
- রাষ্ট্রীয় সম্মান: একুশে পদকপ্রাপ্ত
জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়
- জন্মস্থান: ক্ষুদ্রকাঠি গ্রাম, বাহেরচর, বাবুগঞ্জ, বরিশাল
- পিতা: আব্দুল জব্বার খান
- পাকিস্তান আইন পরিষদের স্পিকার
শিক্ষা
| বছর | শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান | ডিগ্রি |
| ১৯৪৮ | ময়মনসিংহ জিলা স্কুল | মাধ্যমিক |
| ১৯৫০ | ঢাকা কলেজ | উচ্চ মাধ্যমিক |
| ১৯৫৪ | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ইংরেজি বিভাগ) | এম.এ. |
পেশাজীবন (সংক্ষেপে)
- ১৯৫৪: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক
- ১৯৫৭: পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগদান
- ১৯৮২: সচিব হিসেবে অবসর → কৃষি ও পানি সম্পদ মন্ত্রী
- ১৯৮৪: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত
- ১৯৯২: FAO (World Food & Agriculture Organization)
- এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক
- ১৯৯৭: FAO থেকে পরিচালক হিসেবে অবসর
- পরবর্তীকাল: ঢাকায় একটি বেসরকারি সংস্থার চেয়ারম্যান
সাহিত্যে অবদান (মূল পয়েন্ট)
- আধুনিক বাংলা কবিতায় নতুন আঙ্গিক ও শব্দযোজনার স্বাতন্ত্র্য
- লোকজ ঐতিহ্য ও ছড়ার ছন্দ ব্যবহারে দক্ষতা
- প্রকৃতির রূপ, রং ও অনুভবের কাব্যিক চিত্রায়ন
- ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সমষ্টিগত ইতিহাসের মেলবন্ধন
আরো পড়ুন: এইচএসসি বাংলা আঠারো বছর বয়স কবিতার নোট
উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ
- সাত নরী হার (১৯৫৫)
- কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০)
- কমলের চোখ (১৯৭৪)
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি (১৯৮১)
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২)
- প্রেমের কবিতা (১৯৮২)
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩)
- আমার সময় (১৯৮৭)
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১)
- আমার সকল কথা (১৯৯৩)
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ
পুরস্কার ও সম্মান
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার: ১৯৭৯
- একুশে পদক: ১৯৮৫
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার ব্যাখ্যা
পূর্বপুরুষের পরিচয় (১ম স্তবক)
| কবিতার লাইন | ব্যাখ্যা |
| আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি । | কবি তাঁর জাতিসত্তা ও চেতনার উৎস, অর্থাৎ ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পূর্বপুরুষদের সংগ্রাম ও গৌরবের কথা বলছেন। |
| তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল | পূর্বপুরুষেরা ছিলেন কৃষক ও শ্রমজীবী। ‘পলিমাটির সৌরভ’ তাদের মাটি ও কৃষিভিত্তিক জীবন, উর্বরতা ও সৃষ্টির প্রতীক। |
| তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল / | ‘রক্তজবার মতো ক্ষত’ তাদের সংগ্রামী জীবনে পাওয়া আঘাত, অত্যাচার ও প্রতিরোধের চিহ্ন। এটি শোষিত হওয়ার ইতিহাসকে নির্দেশ করে। |
| তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন | পূর্বপুরুষেরা জীবনে পার করে আসা কঠিন পথ, বাধা-বিপত্তি ও বিজয়ের কথা বলতেন। |
| অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন | জীবনের কঠিনতা, বিপদ এবং প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার সংগ্রামের কথা বলতেন। |
| পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন | অনাবাদি জমিকে ফলনশীল করার চেষ্টা, অর্থাৎ সমাজে বা জীবনে নতুন সৃষ্টি ও সম্ভাবনা তৈরির কথা বলতেন। |
| তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন । | পূর্বপুরুষেরা জীবন ও সৃষ্টিশীলতার কথা বলতেন, যেখানে ‘কবিতা’ জীবনের সত্য, সৌন্দর্য ও সংগ্রামের রূপক। |
কবিতার সংজ্ঞা ও গুরুত্ব (২য় স্তবক)
| কবিতার লাইন | ব্যাখ্যা |
| জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা | যে কোনো শব্দ যদি সত্য হয়, আন্তরিক হয় এবং প্রকাশ করে, সেটাই ‘কবিতা’ বা জীবনবোধ। এখানে সত্যই চূড়ান্ত সৌন্দর্য। |
| কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা । | শ্রম ও সৃষ্টির ফলই ‘কবিতা’। কৃষকের পরিশ্রমের ফসল, যা জীবন বাঁচায়, তা শিল্পের চেয়ে কম নয়। |
| যে কবিতা শুনতে জানে না | যে মানুষ জীবনবোধ, সত্য, সৃষ্টি এবং সংগ্রামের মর্ম উপলব্ধি করতে পারে না। |
| সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে। | যে জীবনের সত্য বোঝে না, সে কেবল সমাজে আসা বিপর্যয়, অশান্তি ও ধ্বংসের ডাকই শুনতে পাবে। |
| সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে । | সে জীবনের বিপুল সম্ভাবনা, স্বাধীনতা ও মুক্তির লক্ষ্য থেকে বঞ্চিত হবে। |
| সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে । | যে সত্য ও মুক্তির বাণী (কবিতা) বোঝে না, সে চিরকাল শোষণ ও বন্ধনের শিকার হয়ে থাকবে। |
আরো পড়ুন: এইচএসসি বাংলা সোনার তরী কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
স্বপ্ন ও মায়ের ভূমিকা (৩য় ও ৪র্থ স্তবক)
| কবিতার লাইন | ব্যাখ্যা |
| আমি উচ্চারিত সত্যের মতো / স্বপ্নের কথা বলছি । | কবি স্পষ্ট ও নির্ভুলভাবে জীবনের সুন্দর ভবিষ্যৎ এবং আকাঙক্ষার কথা বলছেন। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার নোট |
| উনোনের আগুনে আলোকিত / একটি উজ্জ্বল জানালার কথা বলছি । | উনোন = ঘরের শান্তি, জীবন ও ঐতিহ্য। জানালা = বাইরের জগতের আলো, আশা ও মুক্তির প্রতীক। কবি গৃহস্থালি জীবন ও আশার কথা বলছেন। |
| আমি আমার মায়ের কথা বলছি, | মা এখানে জননী এবং একই সঙ্গে মাতৃভূমি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। |
| তিনি বলতেন প্রবহমান নদী / যে সাঁতার জানে না তাকেও ভাসিয়ে রাখে | মাটির টান, মাতৃভূমির আশ্রয় বা ঐতিহ্য এতটা শক্তিশালী যে দুর্বলকেও রক্ষা করে। |
| যে কবিতা শুনতে জানে না / সে নদীতে ভাসতে পারে না | যে জীবনের গভীর সত্য ও প্রকৃতিকে বোঝে না, সে মাতৃভূমির (নদী) আশ্রয় বা আশীর্বাদ লাভ করতে পারে না। |
| যে কবিতা শুনতে জানে না / সে মাছের সঙ্গে খেলা করতে পারে না। | প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা সহজ আনন্দ ও সৌন্দর্য সে উপভোগ করতে পারে না। |
| যে কবিতা শুনতে জানে না / সে মায়ের কোলে শুয়ে গল্প শুনতে পারে না । | যে ঐতিহ্য বা জীবনবোধ বোঝে না, সে শৈশবের আশ্রয়, নিরাপত্তা এবং সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারে না। |
ভালোবাসা ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপট (৫ম ও ৬ষ্ঠ স্তবক)
| কবিতার লাইন | ব্যাখ্যা |
| আমি কিংবদন্তির কথা বলছি / আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি । | পুনরায় বাঙালির গৌরবময় ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। |
| আমি বিচলিত স্নেহের কথা বলছি | সেই কোমলতা ও মমতার কথা, যা সমাজ ও পরিবেশের চাপে সর্বদা উদ্বিগ্ন ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। |
| গর্ভবতী বোনের মৃত্যুর কথা বলছি | স্বাধীনতা সংগ্রাম বা যুদ্ধের চরম নৃশংসতা ও ক্ষতির কথা, যেখানে নিষ্পাপ জীবনও রক্ষা পায় না। |
| আমি আমার ভালোবাসার কথা বলছি । | দেশের প্রতি, মানুষের প্রতি থাকা গভীর অনুরাগের কথা। |
| ভালোবাসা দিলে মা মরে যায় / | মাতৃভূমিকে (মা) ভালোবাসলে তার জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, যা জীবনের সমাপ্তি টানতে পারে (শহিদ হতে হয়)। |
| যুদ্ধ আসে ভালোবেসে | দেশপ্রেম থেকেই আসে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ। এই যুদ্ধ ভালোবাসার ফল। |
| মায়ের ছেলেরা চলে যায়, | দেশপ্রেমিক সন্তানেরা (মায়ের ছেলেরা) মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে যুদ্ধে প্রাণ দেয়। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার নোট |
| আমি আমার ভাইয়ের কথা বলছি । | সহযোদ্ধা, সংগ্রামী মানুষ বা দেশপ্রেমিক যুবকদের কথা বলছেন। |
আরো পড়ুন: এইচএসসি বাংলা সুচেতনা কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
সংগ্রাম ও বঞ্চিত হওয়ার ফল (৭ম স্তবক)
| কবিতার লাইন | ব্যাখ্যা |
| যে কবিতা শুনতে জানে না / সে সন্তানের জন্য মরতে পারে না । | যে জীবনের প্রকৃত মূল্য, দেশপ্রেম ও ত্যাগের মাহাত্ম্য (কবিতা) বোঝে না, সে চরম আত্মত্যাগ করতে পারে না। |
| যে কবিতা শুনতে জানে না / সে ভালোবেসে যুদ্ধে যেতে পারে না । | যে সত্য, সুন্দর ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রেরণা (কবিতা) বোঝে না, সে স্বেচ্ছায় দেশরক্ষার মহান ব্রতে যোগ দিতে পারে না। |
| যে কবিতা শুনতে জানে না / সে সূর্যকে হৃৎপিণ্ডে ধরে রাখতে পারে না । | সূর্য = স্বাধীনতা, তেজ, প্রেরণা। যে জীবনের সত্য বোঝে না, সে হৃদয়ে স্বাধীনতা ও মুক্তির তীব্র আকাঙ্ক্ষা ধরে রাখতে পারে না। |
কিংবদন্তি এবং পুরস্কারের শর্ত (৮ম ও ৯ম স্তবক)
| কবিতার লাইন | ব্যাখ্যা |
| আমি কিংবদন্তির কথা বলছি / আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি । | পুনরাবৃত্তি করে ঐতিহ্য ও সংগ্রামের গুরুত্বকে দৃঢ় করা হলো। |
| তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল / কারণ তিনি ক্রীতদাস ছিলেন । | স্পষ্ট করা হলো যে পূর্বপুরুষের সংগ্রাম ছিল শোষণ ও পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য। |
| যে কর্ষণ করে / শস্যের সম্ভার তাকে সমৃদ্ধ করবে। | যে কাজ করে বা সৃষ্টি করে (কর্ষণ), তার ফল (শস্য) সে অবশ্যই পাবে। শ্রমের মূল্য স্বীকৃতি পাবে। |
| যে মৎস্য লালন করে / প্রবহমান নদী তাকে পুরস্কৃত করবে। | যে প্রকৃতি ও জীবনকে যত্ন করে, প্রকৃতি (নদী) তাকে প্রতিদান দেবে। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার নোট |
| যে গাভীর পরিচর্যা করে / জননীর আশীর্বাদ তাকে দীর্ঘায়ু করবে । | যে জীবন ও সম্পদের যত্ন করে, সে পরম আশ্রয় (জননী) ও দীর্ঘ জীবনের আশীর্বাদ লাভ করে। |
| যে লৌহখণ্ডকে প্রজ্বলিত করে ইস্পাতের তরবারি তাকে সশস্ত্র করবে । | যে সংগ্রাম ও শক্তির জন্য প্রস্তুত হয় (লৌহকে ইস্পাত বানানো), সে প্রতিরোধের হাতিয়ার লাভ করে। |
সমাপ্তি ও আহ্বান (১০ম ও ১১শ স্তবক)
| কবিতার লাইন | ব্যাখ্যা |
| দীর্ঘদেহ পুত্রগণ / আমি তোমাদের বলছি । | তরুণ প্রজন্ম ও ভবিষ্যতের যোদ্ধাদের প্রতি কবির আহ্বান। |
| আমি আমার মায়ের কথা বলছি / বোনের মৃত্যুর কথা বলছি / যুদ্ধের কথা বলছি / আমি আমার ভালোবাসার কথা বলছি । | কবি বাঙালির সংগ্রামের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছেন—যেখানে মাতৃস্নেহ, আত্মত্যাগ ও প্রেম মিশে আছে। |
| আমি কবি এবং কবিতার কথা বলছি । | আবার সেই জীবনবোধ ও সৃষ্টির কথা বলছেন, যা এই সংগ্রামের মূল অনুপ্রেরণা। |
| সশস্ত্র সুন্দরের অনিবার্য অভ্যুত্থান কবিতা | অস্ত্র হাতে ন্যায়ের জন্য যে সৌন্দর্য ও মুক্তির উত্থান (মুক্তিযুদ্ধ), সেটাই জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতা। |
| সুপুরুষ ভালোবাসার সুকণ্ঠ সংগীত কবিতা | প্রেম, সাহস ও ন্যায়ের যে সুন্দর প্রকাশ, সেটাই কবিতা। |
| জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি মুক্ত শব্দ কবিতা | যে কোনো শব্দ যদি স্বাধীনভাবে ও নির্ভয়ে উচ্চারিত হয়, সেটাই কবিতা। |
| রক্তজবার মতো প্রতিরোধের উচ্চারণ কবিতা । | সংগ্রামী জীবনের আঘাতের (রক্তজবা) মধ্য দিয়ে যে প্রতিরোধ বা বিদ্রোহ ধ্বনিত হয়, সেটাই চূড়ান্ত কবিতা। |
| আমরা কি তাঁর মতো কবিতার কথা বলতে পারবো / আমরা কি তাঁর মতো স্বাধীনতার কথা বলতে পারবো । | শেষ দুটি লাইন নতুন প্রজন্মের প্রতি প্রশ্ন—আমরা কি পূর্বপুরুষের মতো আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও সত্যের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে ও তার কথা বলতে পারবো? |
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার পাঠ-পরিচিতি
কবিতাটি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কাব্যের নাম কবিতা। রচনাটিতে বিষয় ও আঙ্গিকগত অভিনবত্ব রয়েছে। আলোচ্য কবিতাটিতে উচ্চারিত হয়েছে ঐতিহ্যসচেতন শিকড়সন্ধানী মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণা। প্রকৃতপক্ষে, রচনার প্রেক্ষাপটে আছে বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের ইতিহাস; এই জাতির সংগ্রাম, বিজয় ও মানবিক উদ্ভাসনের অনিন্দ্য অনুষঙ্গসমূহ। তিনি এই কবিতায় পৌনঃপুনিকভাবে মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষায় সোচ্চার হয়েছে। কবির একান্ত প্রত্যাশিত মুক্তির প্রতীক হয়ে উপস্থাপিত হয় একটি বিশেষ শব্দ ‘কবিতা’। কবি তাঁর পূর্বপুরুষের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে তাঁর বক্তব্যকে এগিয়ে নিয়ে চলেন। কবির বর্ণিত এই ইতিহাস মাটির কাছাকাছি মানুষের ইতিহাস; বাংলার ভূমিজীবী অনার্য ক্রীতদাসের লড়াই করে টিকে থাকার ইতিহাস। ‘কবিতা’ ও সত্যের অভেদকল্পনার মধ্য দিয়ে কবি নিয়ে আসেন মায়ের কথা, বোনের কথা, ভাইয়ের কথা, পরিবারের কথা। কবি এ-ও জানেন মুক্তির পূর্বশর্ত যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে পরিবার থেকে দূরে সরে যেতে হয়। ভালোবাসার জন্য, তাদেরকে মুক্ত করবার জন্যই তাদের ছেড়ে যেতে হয়। এই অমোঘ সত্য কবি জেনেছেন আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস থেকে। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার নোট
কবিতাটির রসোপলব্ধির অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো এর আঙ্গিক বিবেচনা। এক্ষেত্রে, প্রথমেই যে বিষয়টি পাঠককে নাড়া দেয় তা হলো, একই ধাঁচের বাক্যের বারংবার ব্যবহার। কবি একদিকে ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ পঙ্ক্তিটি বারংবার প্রয়োগ করেছেন, অপরদিকে ‘যে কবিতা শুনতে জানে না/ সে…’ কাঠামোর পঙ্ক্তিমালার ধারাবাহিক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে কবিতা আর মুক্তির আবেগকে একত্রে শিল্পরূপ প্রদান করেছেন। এখানে ‘কিংবদন্তি’ শব্দটি হয়ে উঠেছে ঐতিহ্যের প্রতীক। কবি এই নান্দনিক কৌশলের সঙ্গে সমন্বিত করেছেন গভীরতাসঞ্চারী চিত্রকল্প। একটি কবিতার শিল্পসার্থক হয়ে ওঠার পূর্বশর্ত হলো হৃদয়স্পর্শী চিত্রকল্পের যথোপযুক্ত ব্যবহার। চিত্রকল্প হলো এমন শব্দছবি যা কবি গড়ে তোলেন এক ইন্দ্রিয়ের কাজ অন্য ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে করিয়ে কিংবা একাধিক ইন্দ্রিয়ের সম্মিলিত আশ্রয়ে; আর তা পাঠক-হৃদয়ে সংবেদনা জাগায় ইন্দ্রিয়াতীত বোধের প্রকাশসূত্রে। চিত্রকল্প নির্মাণের আরেকটি শর্ত হলো অভিনবত্ব। এ সকল মৌল শর্ত পূরণ করেই আলোচ্য কবিতায় চিত্রকল্পসমূহ নির্মিত হয়েছে। কবি যখন বলেন- ‘কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা’; তখন এই ইন্দ্রিয় থেকে ইন্দ্রিয়াতীতের দ্যোতনাই সঞ্চারিত হয়। নিবিড় পরিশ্রমে কৃষকের ফলানো শস্য একান্তই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য একটি অনুষঙ্গ। কিন্তু এর সঙ্গে যখন কবিতাকে অভেদ কল্পনা করা হয় তখন কেবল ইন্দ্রিয় দিয়ে একে অনুধাবন করা সম্ভব হয় না। সার্বিক বিবেচনায় কবিতাটি বিষয় ও আঙ্গিকের সৌকর্যে বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য সংযোজন। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার নোট
কবিতাটি গদ্যছন্দে রচিত।
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার শব্দার্থ ও টীকা
| শব্দ / লাইন | ব্যাখ্যা |
| কিংবদন্তি | জনশ্রুতি। লোকপরম্পরায় শ্রুত ও কথিত বিষয় যা একটি জাতির ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার নোট |
| পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত | মানুষের ওপর অতীতের অত্যাচারের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। পিঠে আঘাত বোঝায়, শত্রুরা ভীরু বা কাপুরুষের মতো পিছন থেকে আক্রমণ করেছে। এটি বন্দি ক্রীতদাস বা স্বাধীন মানুষের সম্মুখ-লড়াইয়ে বীরত্বের অভাবের ইঙ্গিত দেয়। |
| শ্বাপদ | হিংস্র মাংসাশী শিকারি জন্তু। |
| উনোনের আগুনে আলোকিত একটি উজ্জ্বল জানালা | আগুনে সবকিছু শুচি হয়। তাই উত্তাপে পরিশুদ্ধ হয়ে সমস্ত গ্লানি মুছে ফেলে আলোয় ভরা মুক্তজীবনের প্রত্যাশা প্রকাশ করতে “উজ্জ্বল জানালা” ব্যবহৃত হয়েছে। |
| বিচলিত স্নেহ | আপনজনদের উৎকণ্ঠা বা উদ্বেগ। মুক্তিপ্রত্যাশী মানুষের বিপদ আশঙ্কায় স্বজনরা উদ্বিগ্ন থাকে; ভালোবাসা ও শঙ্কা একসাথে মিশে যায়। |
| ভালোবাসা দিলে মা মরে যায় | দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য কখনো আত্মত্যাগ অনিবার্য। ব্যক্তিগত ভালোবাসা বা পরিবারকে ছাপিয়ে দেশের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা বোঝানো হয়েছে। |
| সূর্যকে হৃৎপিণ্ডে ধরে রাখা | সূর্য শক্তির উৎস। হৃদয়ে তা ধারণ করতে পারলে মুক্তি অর্জন সম্ভব। কবি মনে করেন, কবিতা শোনা ও আত্মস্থ করাই এই সামর্থ্য অর্জনের একমাত্র উপায়। কারণ কবিতাই সত্য এবং সত্যই শক্তি। |
এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার নোট PDF Download।






