HSC Islamic History 2nd Paper Top 100 MCQ

HSC Islamic History 2nd Paper Top 100 MCQ -এ বিগত বছরের বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় কলেজগুলোর পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনী (MCQ) প্রশ্ন সংকলন করা হয়েছে। এগুলো পরীক্ষার প্রস্তুতি ও দ্রুত পুনরাবৃত্তির জন্য অত্যন্ত সহায়ক।


Islamic History 2nd Paper Top 100 MCQ

০১.বিশ্বের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট শ্রীমতি সিরিমাভো বন্দরনায়কের সাথে নিচের কোন ব্যক্তিটির সাদৃশ্য রয়েছে যিনি ক্ষমতায় এসে দেশের সংস্কার প্রকল্পে হাত দেন এবং দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন? তিনি শ্রীলংকাকে একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করতে সক্ষম হন।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে উভয়কে মূল্যায়ন করা যায়—
i. সফল কূটনীতিক হিসেবে
ii. প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শিতা প্রদর্শনকারী হিসেবে
iii. সমর কুশলী হিসেবে
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (a) i ও ii
ব্যাখ্যা: শ্রীলংকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিরিমাভো বন্দরনায়েক ছিলেন বিশ্বের প্রথম নারী সরকার প্রধান। উদ্দীপকের এই সফল ও প্রজ্ঞাবান নারী শাসকের সাথে ইতিহাস পাঠের ক্ষেত্রে দিল্লি সালতানাতের একমাত্র নারী শাসক সুলতান রাজিয়া-র সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। সিরিমাভো বন্দরনায়েক এবং সুলতান রাজিয়া উভয়েই সফল কূটনীতিক, প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী শাসক ছিলেন। তবে তারা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের সেনাপতি বা সমর কুশলী হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পাওয়ার চেয়ে প্রশাসনিক প্রজ্ঞা ও কূটনীতির জন্যই বেশি সমাদৃত ছিলেন।

০২.খলজি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
(a) জালালউদ্দিন খলজি
(b) নাসির উদ্দিন খলজি
(c) আলাউদ্দিন খলজি
(d) গিয়াস উদ্দিন খলজি
সঠিক উত্তর: (a) জালালউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা: ১২৯০ সালে সুলতান কায়কোবাদকে সিংহাসনচ্যুত করে জালালউদ্দিন ফিরোজ খলজি দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং খলজি বংশের ভিত্তি স্থাপন করেন। খলজি রাজবংশের উল্লেখযোগ্য সুলতানগণ হলেন: জালালউদ্দিন খলজি (১২৯০-১২৯৬), আলাউদ্দিন খলজি (১২৯৬-১৩১৬) এবং কুতুবউদ্দিন মুবারক খলজি (১৩১৬-১৩২০)। এই রাজবংশের শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে বিখ্যাত সুলতান ছিলেন আলাউদ্দিন খলজি, যিনি তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তার এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের (মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতি) জন্য ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

০৩.রাজকার্যে উলামাদের প্রভাব খর্ব এবং রাজনীতি থেকে ধর্মকে আলাদা করেন কোন সুলতান?
(a) জালাল উদ্দিন খলজি
(b) আলাউদ্দিন খলজি
(c) ফিরোজ উদ্দিন খলজি
(d) রুকন উদ্দিন খলজি
সঠিক উত্তর: (b) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা: সুলতান আলাউদ্দিন খলজি ছিলেন দিল্লি সালতানাতের প্রথম শাসক যিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় উলামা বা ধর্মীয় নেতাদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ বন্ধ করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে রাষ্ট্রের কল্যাণ ও রাজনীতি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় এবং এতে ধর্মের অতি-হস্তক্ষেপ শাসনের ক্ষতি করে। তাই তিনি উলামাদের রাজকীয় ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে তাদের প্রভাব খর্ব করেন এবং নিজস্ব প্রজ্ঞায় রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।

০৪.সুলতান আলাউদ্দিন খলজি মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রবর্তন করেন—
i. সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য
ii. জনগণের সুবিধার জন্য
iii. সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (a) i ও ii
ব্যাখ্যা: সুলতান আলাউদ্দিন খলজি একটি বিশাল স্থায়ী সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। কম বেতনে সৈন্যদের জীবনযাত্রা সহজ করতে এবং তৎকালীন দিল্লির অর্থনৈতিক বাজারে কালোবাজারি রোধ করে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য তিনি ‘মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতি’ বা বাজার দর রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সাধারণ জনগণ ও সৈন্যদের সুবিধা দেওয়া। এই ব্যবস্থাটি সমাজতান্ত্রিক বা সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার আধুনিক উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়নি, বরং এটি ছিল একটি সামরিক ও প্রশাসনিক কৌশল।

০৫.মুহাম্মদ বিন তুঘলকের আসল নাম কী?
(a) গাজী মালিক
(b) জুনা খান
(c) ফখরুদ্দিন জুনা
(d) গাজী ফখর
সঠিক উত্তর: (b) জুনা খান
ব্যাখ্যা: তুঘলক বংশের দ্বিতীয় এবং অন্যতম আলোচিত শাসক সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের প্রকৃত বা আসল নাম ছিল ‘জুনা খান’। তিনি তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের পুত্র ছিলেন। ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে পিতার মৃত্যুর পর তিনি ‘মুহাম্মদ বিন তুঘলক’ উপাধি ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে বসেন। (উল্লেখ্য, গাজী মালিক ছিলেন তাঁর পিতা গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের পূর্বের নাম)।

০৬.নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:
শাসক ‘D’ সিংহাসনে আরোহণ করে তার রাজধানী স্থানান্তর করেন এবং পুরাতন রাজধানী শহরের লোকদের নতুন রাজধানী শহরে যেতে বাধ্য করেন। শাসক ‘D’-এর শাসনকালে বহু লোকের মৃত্যু হয়।
শাসক ‘D’-এর শাসনকালের সাথে নিচের কোন সুলতানের পরিকল্পনার মিল লক্ষ করা যায়?
(a) জালালউদ্দিন খলজি
(b) আলাউদ্দিন খলজি
(c) ফিরোজ শাহ তুঘলক
(d) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
সঠিক উত্তর: (d) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকের শাসক ‘D’-এর কর্মকাণ্ডের সাথে দিল্লি সালতানাতের সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজধানী পরিবর্তনের ঐতিহাসিক ঘটনার হুবহু মিল রয়েছে। সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক ১৩২৭ খ্রিস্টাব্দে সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থলে শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে রাজধানী দিল্লি থেকে দাক্ষিণাত্যের দেবগিরিতে (যার নামকরণ করেন দৌলতাবাদ) স্থানান্তর করেন। তিনি দিল্লির সমস্ত অধিবাসীকে জোরপূর্বক সেখানে যাওয়ার নির্দেশ দিলে দীর্ঘ ও কষ্টকর যাত্রাপথে অসংখ্য মানুষ মারা যায়। পরবর্তীতে এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে তিনি পুনরায় সবাইকে দিল্লিতে ফিরে আসার নির্দেশ দেন।

০৭.’ভারতের তোতাপাখি’ (তুতি-ই-হিন্দ) খ্যাত ছিলেন কে?
(a) আমির খসরু
(b) জালাল খসরু
(c) নাসির খসরু
(d) আলাউদ্দিন খসরু
সঠিক উত্তর: (a) আমির খসরু
ব্যাখ্যা: মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি, সংগীতজ্ঞ, সুফি সাধক এবং পণ্ডিত আমির খসরুকে ‘ভারতের তোতাপাখি’ বা ‘তুতি-ই-হিন্দ’ বলা হয়। তিনি দিল্লি সালতানাতের প্রায় ৭ জন সুলতানের শাসনকাল প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ফারসি ও হিন্দুস্তানি ভাষায় তাঁর অসামান্য সাহিত্য সৃষ্টি, গজল ও কাওয়ালির জনক হিসেবে এবং সেতার ও তবলা বাদ্যযন্ত্রের উদ্ভাবনে অনন্য অবদানের জন্য তাঁকে এই উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

০৮.দিল্লির কোন সুলতান ‘বিমারিস্তান’ (দার-উল-শিফা) নামে একটি দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেন?
(a) আলাউদ্দিন খলজি
(b) ফিরোজ শাহ তুঘলক
(c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
(d) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
সঠিক উত্তর: (b) ফিরোজ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা: সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক তাঁর জনকल्याणমূলক কাজের জন্য ইতিহাসে অত্যন্ত বিখ্যাত ছিলেন। তিনি দিল্লির জনগণের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য ‘দার-উল-শিফা’ বা ‘বিমারিস্তান’ নামে একটি বিশাল দাতব্য চিকিৎসালয় বা হাসপাতাল স্থাপন করেন। সেখানে রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ ও পথ্য সরবরাহ করা হতো এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

০৯.কুতুব মিনার কোথায় অবস্থিত?
(a) গৌড়
(b) আজমির
(c) দিল্লি
(d) গুজরাট
সঠিক উত্তর: (c) দিল্লি
ব্যাখ্যা: কুতুব মিনার ভারতের রাজধানী দিল্লির দক্ষিণ অংশে মেহরাউলি নামক স্থানে অবস্থিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ইটনির্মিত মিনার। ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে দাস বংশের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আইবক প্রখ্যাত সুফি সাধক খাজা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকী-র স্মৃতি রক্ষার্থে এই মিনারের নির্মাণকাজ শুরু করেন এবং পরবর্তী সুলতান শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ এর নির্মাণকাজ সমাপ্ত করেন।

১০.কুতুবউদ্দিন আইবককে ‘দাস বংশের প্রতিষ্ঠাতা’ বলার কারণ—
(a) তিনি দাসদের দ্বারা শাসন চালাতেন
(b) তার পূর্বপুরুষ দাস ছিলেন
(c) তিনি প্রথম জীবনে দাস ছিলেন
(d) রাজবংশের অধিকাংশ শাসক দাস ছিলেন
সঠিক উত্তর: (c) তিনি প্রথম জীবনে দাস ছিলেন
ব্যাখ্যা: কুতুবউদ্দিন আইবক বাল্যকালে দাস হিসেবে বিক্রি হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ঘোরের শাসক সুলতান মুহাম্মদ ঘুরি তাঁকে ক্রয় করেন। নিজের যোগ্যতা, সততা ও সাহসিকতার বলে তিনি মুহাম্মদ ঘুরির প্রধান সেনাপতি ও প্রতিনিধি নিযুক্ত হন। ১২০৬ সালে মুহাম্মদ ঘুরির মৃত্যুর পর কুতুবউদ্দিন আইবক নিজেকে দিল্লির স্বাধীন সুলতান হিসেবে ঘোষণা করে ‘দাস বংশ’ (বা মামলুক বংশ) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজে প্রথম জীবনে দাস বা গোলাম ছিলেন বলেই এই বংশের নাম দাস বংশ হয়।

১১.ভারতবর্ষে প্রথম কোন সুলতান রুপার ‘তঙ্কা’ ও তামার ‘জিতল’ মুদ্রা প্রবর্তন করেন?
(a) কুতুবউদ্দিন আইবক
(b) সুলতান ইলতুৎমিশ
(c) সুলতান নাসিরউদ্দিন
(d) সুলতান বলবন
সঠিক উত্তর: (b) সুলতান ইলতুৎমিশ
ব্যাখ্যা: সুলতান শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ ভারতবর্ষে প্রথম খাঁটি আরবি মুদ্রা ব্যবস্থার প্রচলন করেন। তিনি কেন্দ্রীয়ভাবে ১7৫ গ্রেন ওজনের রুপার মুদ্রার প্রচলন করেন, যার নাম ছিল ‘তঙ্কা’ (Tanka) এবং তামার তৈরি ক্ষুদ্র মুদ্রার নাম ছিল ‘জিতল’ (Jital)। এই মুদ্রা ব্যবস্থাই পরবর্তীকালে ভারতের আধুনিক মুদ্রা ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করে।

১২.ইলতুৎমিশকে দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলার কারণ—
(a) মোঙ্গোলদের আক্রমণ প্রতিহত করেন
(b) বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন করেন
(c) খলিফার কাছ থেকে স্বীকৃতি বা খেতাব প্রাপ্ত হন
(d) দিল্লিতে মুসলিম শাসনকে একটি সুদৃঢ় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন
সঠিক উত্তর: (d) দিল্লিতে মুসলিম শাসনকে একটি সুদৃঢ় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন
ব্যাখ্যা: কুতুবউদ্দিন আইবক দিল্লি সালতানাত প্রতিষ্ঠা করলেও মাত্র ৪ বছর শাসনের পর আকস্মিক মৃত্যুতে রাষ্ট্রটি ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। ১২১১ সালে ইলতুৎমিশ সিংহাসনে বসে সাম্রাজ্যের চারদিকের বিশৃঙ্খলা, অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ কঠোর হস্তে দমন করেন এবং চেঙ্গিস খানের মোঙ্গোল আক্রমণের হাত থেকে দিল্লিকে রক্ষা করেন। তিনি প্রশাসনিক কাঠামো (ইক্তা প্রথা), মুদ্রা ব্যবস্থা সংস্কার এবং ১২২৯ সালে বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফার কাছ থেকে ‘সুলতান-ই-আজম’ স্বীকৃতি লাভ করে দিল্লি সালতানাতকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। এই সামগ্রিক অবদানের কারণেই তাঁকে প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।

১৩.সুলতান রাজিয়া আলতুনিয়াকে বিবাহ করেছিলেন কেন?
i. নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য
ii. ক্ষমতাকে সুসংহত ও পুনরুদ্ধার করার জন্য
iii. সংসারী হওয়ার জন্য
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (a) i ও ii
ব্যাখ্যা: ভাতিন্ডার চালক বা ইক্তাদার মালিক আলতুনিয়া যখন সুলতান রাজিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন, তখন রাজিয়া বিদ্রোহ দমনে গিয়ে পরাজিত ও বন্দী হন। বন্দী অবস্থায় রাজনৈতিক প্রজ্ঞা খাটিয়ে নিজের জীবন রক্ষা, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং দিল্লির হাতছাড়া হওয়া সিংহাসন পুনরায় উদ্ধার ও ক্ষমতা সুসংহত করার উদ্দেশ্যে রাজিয়া দূরদর্শী কৌশল হিসেবে আলতুনিয়াকে বিবাহ করেন। এর পেছনে কোনো পারিবারিক বা সংসারী হওয়ার ব্যক্তিগত ইচ্ছা প্রধান ছিল না, এটি ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কৌশল।

১৪.মুহাম্মদ বিন তুঘলকের পরিকল্পনাগুলো ব্যর্থ হওয়ার কারণ—
i. তিনি যুগের চেয়ে অনেক অগ্রবর্তী ছিলেন
ii. পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের সঠিক পদ্ধতি ছিল না
iii. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নিয়তি তাঁর প্রতিকূলে ছিল
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (d) i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক একজন অত্যন্ত মেধাবী ও পণ্ডিত শাসক ছিলেন। তাঁর পরিকল্পনাগুলো (যেমন: রাজধানী পরিবর্তন, প্রতীকী তামার মুদ্রা প্রচলন, দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধি) তাত্ত্বিকভাবে চমৎকার এবং যুগের চেয়ে অনেক উন্নত ও অগ্রবর্তী ছিল। কিন্তু দূরদর্শিতার অভাব এবং বাস্তবায়নের সঠিক পদ্ধতির অভাবে সেগুলো ব্যর্থতায় রূপ নেয়। পাশাপাশি প্রতীকী মুদ্রা জাল হওয়া, রাজধানী স্থানান্তরের সময় প্রচণ্ড গরম-মহামারী এবং কর বৃদ্ধির সময় দোয়াব অঞ্চলে ভয়াবহ খরা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়ায় প্রকৃতির কোনো সহযোগিতা তিনি পাননি। ফলে সব বড় বড় পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

১৫.’মাতামহীশুলভ’ (অভিজাতদের সন্তুষ্টির) ব্যবস্থার প্রবর্তক ছিলেন—
(a) সুলতান গিয়াসউদ্দিন খলজি
(b) সুলতান আলাউদ্দিন খলজি
(c) সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক
(d) সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক
সঠিক উত্তর: (d)
ব্যাখ্যা: সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক তাঁর শাসনব্যবস্থায় এক ধরনের নমনীয় ও উদার নীতি গ্রহণ করেছিলেন, যা ইতিহাসে ‘মাতামহীশুলভ’ নীতি হিসেবে পরিচিত। তিনি পূর্বসূরি মুহাম্মদ বিন তুঘলকের কঠোরতা পরিহার করে তুর্কি অভিজাত, উলেমা এবং সরকারি কর্মচারীদের সন্তুষ্ট করার ব্যবস্থা নেন। এই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তিনি সামরিক ও বেসামরিক পদগুলোকে বংশানুক্রমিক করেন এবং কর্মচারীদের অপরাধের শাস্তি অত্যন্ত নমনীয় বা মওকুফ করার নিয়ম চালু করেন।

১৬.লোদী বংশের সর্বশেষ শাসক কে ছিলেন?
(a) সিকান্দর লোদী
(b) বাহলুল লোদী
(c) ইব্রাহীম লোদী
(d) মাহমুদ লোদী
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা: দিল্লি সালতানাতের সর্বশেষ রাজবংশ ‘লোদী বংশ’-এর শেষ সুলতান ছিলেন ইব্রাহীম লোদী। ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের কাছে তিনি পরাজিত ও নিহত হন। এর মাধ্যমে দিল্লি সালতানাতের অবসান ঘটে এবং ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের সূচনা হয়। (উল্লেখ্য, বাহলুল লোদী ছিলেন এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিকান্দর লোদী ছিলেন বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক)।

১৭.কুতুবউদ্দিন আইবক ছিলেন—
i. রাজনীতিতে দূরদর্শী
ii. অসাধারণ সাংগঠনিক বুদ্ধিমত্তার অধিকারী
iii. ধর্মের ব্যাপারে উদাসীন
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (a) i ও ii
ব্যাখ্যা: কুতুবউদ্দিন আইবক অত্যন্ত দূরদর্শী রাজনীতিবিদ ও দক্ষ দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সংগঠক ছিলেন। তিনি ঘুরি সাম্রাজ্যের ভাঙন থেকে ভারতের অঞ্চলগুলোকে রক্ষা করে ১২০৬ সালে স্বাধীন ‘দিল্লি সালতানাত’ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ধর্মের ব্যাপারে মোটেও উদাসীন ছিলেন না; বরং একজন নিষ্ঠাবান মুসলিম হিসেবে তিনি দিল্লিতে ‘কুওয়াত-উল-ইসলাম’ এবং আজমিরে ‘আড়াই দিন কা ঝোপড়া’ মসজিদ নির্মাণ করেন। তাই বিবৃতি (iii) ভুল।

১৮.কোন আব্বাসীয় খলিফা সুলতান ইলতুৎমিশকে স্বাধীন সুলতান হিসেবে স্বীকৃতি ও উপাধি প্রদান করেন?
(a) আল-মুস্তানসির বিল্লাহ
(b) আল-মুস্তাসিম বিল্লাহ
(c) আল-কাদির বিল্লাহ
(d) আল-হাকিম বি আমরিল্লাহ
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: ১২২৯ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফা আল-মুস্তানসির বিল্লাহ (Al-Mustansir) সুলতান শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশের কাছে একটি স্বীকৃতিপত্র (মনসুর) ও খিলআত (সম্মানসূচক পোশাক) পাঠান। খলিফা তাঁকে ‘সুলতান-ই-আজম’ (প্রধান সুলতান) এবং ‘নাসির আমিরুল মুমিনীন’ (খলিফার সাহায্যকারী) উপাধিতে ভূষিত করেন। এর মাধ্যমে দিল্লি সালতানাত মুসলিম বিশ্বে একটি বৈধ ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

১৯.উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:
“আলাউদ্দিন খলজি যেমন কঠোর হস্তে তাঁর অভ্যন্তরীণ সমস্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ও আমীরদের দমন করেছিলেন, ঠিক তেমনি সুযোগ বুঝে আরেকটি রাজবংশের এক দূরদর্শী সুলতানও দিল্লির সিংহাসনে নিজের কর্তৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সমস্ত অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও প্রতিপক্ষকে কঠোরভাবে দমন করেন।”
উদ্দীপকে বর্ণিত শেষোক্ত সুলতানের সাথে কার তুলনা করা যায়?
(a) কুতুবউদ্দিন আইবক
(b) শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ
(c) ফিরোজ শাহ তুঘলক
(d) বাহলুল লোদী
সঠিক উত্তর: (b)
ব্যাখ্যা: সুলতান আলাউদ্দিন খলজির মতো দাস বংশের সুলতান শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশও সিংহাসনে আরোহণ করে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তাজউদ্দিন ইয়ালদুজ, নাসিরুদ্দিন কুবাচা এবং বাংলার গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজিকে কঠোর হস্তে দমন করেন। পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে ‘চল্লিশ চক্র’ বা ‘বান্দেগান-ই-চাহেলগান’ নামক শক্তিশালী তুর্কি অভিজাত দল গঠন করে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করেন। তাই উদ্দীপকের সাথে ইলতুৎমিশের মিল রয়েছে।

২০.কুতুব মিনার মূল গঠনগত দিক থেকে কোন ধরনের স্থাপত্য?
(a) মসজিদ
(b) দরগাহ
(c) মিনার
(d) প্রাসাদ
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা: কুতুব মিনার হলো একটি স্বতন্ত্র ও বিশাল আকৃতির ‘মিনার’। এটি কোনো মসজিদ বা প্রাসাদ নয়, বরং এটি ইসলামি স্থাপত্যের একটি বিজয় মিনার (Victory Tower)। কুতুবউদ্দিন আইবক এর নির্মাণকাজ শুরু করার পর এটি আজানের জন্য এবং ইসলামের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

২১.উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:
“সমাজের দরিদ্র ও সংকটাপন্ন জনগণের পাশাপাশি বিশাল সেনাবাহিনীর কল্যাণের কথা বিবেচনা করে দিল্লির এক সুলতান প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারণ করে দেন। এ কারণে তিনি ইতিহাসে এক অনন্য ও স্মরণীয় অর্থনৈতিক সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।”
উক্ত মূল্য নিয়ন্ত্রণ বা রেশনিং ব্যবস্থার ফলাফল কী ছিল?
i. ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফা লাভ বন্ধ হয়
ii. কম বেতনেও বিশাল সেনাবাহিনীর ভরণপোষণ নিশ্চিত হয়
iii. সাধারণ ক্রেতা ও জনগণ স্বস্তি পায়
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (d) i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকে সুলতান আলাউদ্দিন খলজির বিখ্যাত ‘মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতি’-র কথা বলা হয়েছে। তাঁর এই সংস্কারের ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নির্দিষ্ট থাকায় ব্যবসায়ীদের কালোবাজারি ও অতিরিক্ত মুনাফা লোটার সুযোগ বন্ধ হয়। এর ফলে দিল্লির সাধারণ মানুষ যেমন সুফল পায়, তেমনি কম বেতনেও সুলতানের বিশাল স্থায়ী সেনাবাহিনীর জীবনযাত্রা সহজ ও নিশ্চিত হয়।

২২.’বান্দেগান-ই-চাহেলগান’ (Bandagan-i-Chahalgan) কী ছিল?
(a) একটি সামরিক পদাতিক বাহিনী
(b) একটি রাজস্ব আদায়কারী বিভাগ
(c) একটি সাহিত্যিক পরিষদ
(d) চল্লিশজন বিশ্বস্ত তুর্কি দাসের একটি অভিজাত সংঘ
সঠিক উত্তর: (d)
ব্যাখ্যা: সুলতান শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ তাঁর শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও সুরক্ষিত করতে এবং নিজের প্রতি অনুগত একটি শক্তি গড়ে তুলতে ৪০ জন বিশ্বস্ত ও যোগ্য তুর্কি দাস নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করেন। ফারসি ভাষায় একে ‘বান্দেগান-ই-চাহেলগান’ বা ‘চল্লিশ চক্র’ বলা হতো। এই দলের সদস্যরা সালতানাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সামরিক উচ্চপদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

২৩.সুলতান রাজিয়ার পিতার নাম কী?
(a) মুহাম্মদ ঘুরি
(b) কুতুবউদ্দিন আইবক
(c) শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ
(d) গিয়াসউদ্দিন বলবন
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা: সুলতান রাজিয়া ছিলেন দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশের যোগ্য কন্যা। ইলতুৎমিশ তাঁর পুত্রদের অযোগ্যতা বিবেচনা করে রাজিয়াকে তাঁর উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যান। রাজিয়া ১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করে ভারতের ইতিহাসের প্রথম নারী মুসলিম শাসক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

২৪.সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও পারস্য রীতির রাজদরবার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মূলত কী কারণে?
i. রাজতন্ত্রের মর্যাদা ও রাজকীয় প্রভাব বৃদ্ধির জন্য
ii. বিদ্রোহী ও সাধারণ মানুষের মনে সুলতানের প্রতি সমীহ ও ভীতি সৃষ্টির জন্য
iii. খলিফার কাছ থেকে নতুন উপাধি পাওয়ার জন্য
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (a) i ও ii
ব্যাখ্যা: সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বিশ্বাস করতেন যে, সুলতানের মর্যাদা ঈশ্বরের প্রতিচ্ছবি (জিলুল্লাহ)। সালতানাতের মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং তুর্কি আমীর ও বিদ্রোহীদের মনে ভীতি ও সমীহ তৈরি করার জন্য তিনি পারস্যের দরবারের অনুকরণে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ রাজদরবার প্রথা, ‘সিজদা’ ও ‘পাবোস’ (সুলতানের পা চুম্বন) চালু করেন। খলিফার কাছ থেকে উপাধি পাওয়ার জন্য তিনি এটি করেননি, ফলে বিবৃতি (iii) সঠিক নয়।

২৫.আলাউদ্দিন খলজির অর্থনৈতিক বা শাসনব্যবস্থার সবচেয়ে যুগান্তকারী ও অনন্য বৈশিষ্ট্য কোনটি ছিল?
(a) রেশনিং বা মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রবর্তন
(b) জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ
(c) কাগজের মুদ্রা চালু করা
(d) দাক্ষিণাত্য সরাসরি শাসন করা
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: সুলতান আলাউদ্দিন খলজির অর্থনৈতিক সংস্কারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর বাজার দর বা ‘মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতি’ (Market Control System)। তিনি শস্য, কাপড়, দাস, ঘোড়া থেকে শুরু করে প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নির্ধারণ করে দেন এবং ‘শাহনা-ই-মান্ডি’ নামক কর্মকর্তার মাধ্যমে কঠোরভাবে বাজার তদারকি করতেন।

২৬.’লাখ বখশ’ (Lakh Baksh) কোন সুলতানের উপাধি ছিল?
(a) কুতুবউদ্দিন আইবক
(b) শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ
(c) গিয়াসউদ্দিন বলবন
(d) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আইবক অত্যন্ত দানশীল, দয়ালু ও উদার হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। তিনি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে অকাতরে লক্ষ লক্ষ মুদ্রা দান করতেন। তাঁর এই অসামান্য ও মুক্তহস্তে দানশীলতার কারণে সমসাময়িককালে তাঁকে ‘লাখ বখশ’ বা ‘লক্ষ দাতা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

২৭.উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:
“উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নবাব আবদুল লতিফ বাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে ইংরেজি ও আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৬৩ সালে ‘মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি’ গঠন করে সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর ও আধুনিক চেতনার জাগরণ ঘটান।”
উদ্দীপকের সমাজ সংস্কারকের কর্মকাণ্ডে নিচের কোন গুণটি প্রকাশ পেয়েছে?
(a) সহমর্মিতা ও দূরদর্শিতা
(b) উগ্র জাতীয়তাবাদ
(c) স্বজনপ্রীতি বা স্বজনগোষ্ঠীতা
(d) বিচ্ছিন্নতাবাদ
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকে বর্ণিত সংস্কারকের (নবাব আবদুল লতিফ) কর্মকাণ্ডে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতি গভীর সহমর্মিতা, প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতার প্রকাশ ঘটেছে। তিনি মুসলিম সমাজকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার পথ দেখান, যা কোনো সংকীর্ণ স্বজনপ্রীতি বা উগ্রতা ছিল না।

২৮.বাংলায় ভয়াবহ ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ ইংরেজি কত সালে হয়েছিল?
(a) ১৭৫৭ সালে
(b) ১৭৬৪ সালে
(c) ১৭৭০ সালে
(d) ১৭৭২ সালে
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা: বাংলা ১১৭৬ সনে (ইংরেজি ১৭৭০ সালে) বাংলায় যে ভয়াবহ ও মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল, তা ইতিহাসে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ নামে পরিচিত। ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভ এবং অতিরিক্ত মাত্রায় খাজনা আদায়ের নিষ্ঠুর শোষণ ও অনাবৃষ্টির ফলে এই দুর্ভিক্ষ হয়, যাতে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (১ কোটি) মানুষ অনাহারে মারা যায়।

২৯.বাংলায় ঐতিহাসিক ফরায়েজি আন্দোলনের মূল প্রবক্তা ও নেতৃত্বদানকারী কে ছিলেন?
(a) হাজী শরীয়তউল্লাহ
(b) দুদু মিয়া
(c) মীর নিসার আলী তিতুমীর
(d) স্যার সৈয়দ আহমদ খান
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: উনিশ শতকের শুরুতে (১৮১৮ সালে) হাজী শরীয়তউল্লাহ বাংলায় ‘ফরায়েজি আন্দোলন’ শুরু করেন। ইসলামের মূল ফরজ কাজগুলো যথাযথভাবে পালন করা এবং সমাজ থেকে পীরপূজা, কবরপূজাসহ নানাবিধ কুসংস্কার বা বিদ’আত দূর করার উদ্দেশ্যে এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র দুদু মিয়ার নেতৃত্বে এটি একটি সফল কৃষক ও অর্থনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়।

৩০.উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:
“জমিদার ও নীলকর সাহেবরা নদীয়া অঞ্চলের কৃষকদের জোরপূর্বক নীল চাষে বাধ্য করত এবং ধান চাষ করতে বাধা দিত। এর প্রতিবাদ করায় কৃষকদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। অবশেষে কৃষকদের রক্ষার্থে এক বীর নেতা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে নীলকরদের অত্যাচার রুখে দেন।”
কৃষকদের পক্ষে উক্ত বীরের (যেমন: তিতুমীর) এই প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রত্যক্ষ ফল কী ছিল?
i. কৃষকদের মনে আত্মবিশ্বাস ও প্রতিবাদী সত্তার বিকাশ ঘটে
ii. জমিদার ও নীলকরদের একচেটিয়া অত্যাচার সাময়িকভাবে থমকে দাঁড়ায়
iii. ব্রিটিশদের সম্পূর্ণ পতন নিশ্চিত হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (a) i ও ii
ব্যাখ্যা: শোষক জমিদার ও ইংরেজ নীলকরদের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করার ফলে কৃষকদের মাঝে রাজনৈতিক ও সংগ্রামী চেতনা জাগ্রত হয় এবং শোষকদের একচেটিয়া জুলুম বাধাগ্রস্ত হয়। তবে এর মাধ্যমে তখনই ব্রিটিশ শাসনের চূড়ান্ত বা সম্পূর্ণ পতন নিশ্চিত হয়নি (তিতুমীর ১৮৩১ সালে বাঁশের কেল্লার যুদ্ধে শহীদ হন এবং ব্রিটিশ শাসন আরও পরে অবসান ঘটে)। তাই বিবৃতি (iii) ভুল।

৩১.ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রাথমিক পর্যায়ে মূলত কেন গঠিত হয়েছিল?
(a) ভারতবর্ষ রাজনৈতিকভাবে শাসন করার জন্য
(b) প্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে একচেটিয়া বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে
(c) ফরাসি ও ওলন্দাজদের ভারত থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য
(d) খ্রিস্টধর্ম প্রচার করার জন্য
সঠিক উত্তর: (b)
ব্যাখ্যা: ১৬০০ সালের ৩১শে ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের রাণী প্রথম এলিজাবেথের কাছ থেকে রাজকীয় সনদ পেয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়েছিল মূলত প্রাচ্যের দেশগুলোর (বিশেষ করে ভারত উপমহাদেশের) সাথে মসলা ও অন্যান্য পণ্যের ‘একচেটিয়া বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে’। শুরুতে তাদের কোনো রাজনৈতিক শাসন বা সাম্রাজ্য বিস্তারের উদ্দেশ্য ছিল না; পরবর্তীতে ভারতের দুর্বল রাজনীতির সুযোগ নিয়ে তারা শাসক বনে যায়।

৩২.উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:
“একটু সুযোগ পেয়ে একটি অঞ্চলের ইজারাদার বা ব্যবসায়ীরা সাধারণ প্রজাদের ওপর ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দিত এবং শোষণ করত। কিন্তু প্রজাদের জানমালের নিরাপত্তা বা ওই অঞ্চলের কোনো নাগরিক উন্নয়নের দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে তারা ছিল সম্পূর্ণ উদাসীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।”
উদ্দীপকের ব্যবসায়ীদের এই শোষণের সাথে বাংলার কোন ঐতিহাসিক ব্যবস্থার মিল রয়েছে?
(a) পর্তুগিজদের জলদস্যুতা
(b) ফরাসিদের বাণিজ্যিক নীতি
(c) ডাচদের কুঠিয়াল ব্যবস্থা
(d) ইংরেজদের প্রবর্তিত দ্বৈতশাসন (Double Government)
সঠিক উত্তর: (d)
ব্যাখ্যা: ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর লর্ড ক্লাইভ বাংলায় ‘দ্বৈতশাসন’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এর ফলে নবাবের হাতে থাকে শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব (ক্ষমতাহীন দায়িত্ব) আর ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে চলে যায় রাজস্ব আদায়ের একচেটিয়া অধিকার (দায়িত্বহীন ক্ষমতা)। কোম্পানি ইচ্ছেমতো কর আদায় করে প্রজাদের ওপর জুলুম করলেও দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বা উন্নয়নের কোনো দায়িত্ব নেয়নি, যা উদ্দীপকের ঘটনার সাথে হুবহু মিলে যায়।

৩৩.ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে কত সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দেওয়ানি’ (রাজস্ব আদায়ের অধিকার) লাভ করে?
(a) ১৭৫৭ সালে
(b) ১৭৬৪ সালে
(c) १७৬৫ সালে
(d) ১৭৭২ সালে
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা: ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে জয়ের পর, ১৭৬৫ সালের ১২ই আগস্ট লর্ড ক্লাইভ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে এলাহাবাদের চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির মাধ্যমে বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার ‘দেওয়ানি’ বা রাজস্ব আদায়ের আইনি অধিকার লাভ করে।

৩৪.হাজী শরীয়তউল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলনের প্রাথমিক ও মূল লক্ষ্য কী ছিল?
(a) ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করে খাঁটি ইসলামি অনুশাসন বা ফরাজ কাজ পালনে ফিরিয়ে আনা
(b) জমিদারদের খাজনা দেওয়া বন্ধ করা
(c) ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা
(d) নীল চাষ পুরোপুরি বন্ধ করা
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: ফরায়েজি শব্দটি এসেছে আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য পালনীয় কর্তব্য) শব্দ থেকে। হাজী শরীয়তউল্লাহর এই আন্দোলনের প্রাথমিক ও প্রধান লক্ষ্য ছিল সম্পূর্ণ ধর্মীয় সংস্কার। তিনি বাংলার মুসলমানদের দীর্ঘদিনের পীরপূজা, মানত ও অনৈসলামিক কুসংস্কার (বিদ’আত) দূর করে ইসলামের মৌলিক ফরজ কাজগুলো পালনে উদ্বুদ্ধ করেন। পরবর্তীতে জমিদারদের শোষণের মুখে এটি কৃষকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের আন্দোলনে রূপ নেয়।

৩৫.ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে মীর নিসার আলী তিতুমীরের পরাজয়ের কারণ ছিল—
i. তিতুমীরের অনুসারীদের চেয়ে ইংরেজদের রণকৌশল ও শৃঙ্খলা উন্নত ছিল
ii. ইংরেজদের অত্যাধুনিক যুদ্ধ অস্ত্র ও রণকৌশল
iii. তিতুমীর কর্তৃক দেশীয় ও প্রচলিত বাঁশ-লাঠির অস্ত্রের ব্যবহার
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (c) ii ও iii
ব্যাখ্যা: ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের ১৯শে নভেম্বর নারকেলবেড়িয়ার বাঁশের কেল্লায় ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে তিতুমীরের পরাজয়ের মূল কারণ ছিল অস্ত্র ও প্রযুক্তির বিপুল ব্যবধান। তিতুমীরের অনুগামীরা দেশপ্রেম ও চরম সাহসিকতার সাথে লড়াই করলেও তাদের প্রধান অস্ত্র ছিল বাঁশের লাঠি, বর্শা, তির ও ধনুক। পক্ষান্তরে, ইংরেজ সেনাপতি মেজর স্কটের অধীনে ব্রিটিশ বাহিনী আধুনিক কামান, বন্দুক এবং উন্নত সামরিক কৌশলে সুসজ্জিত ছিল। তিতুমীরের সমর্থকরা বিশ্বাসঘাতক ছিলেন না, বরং তারা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করেছিলেন; তাই বিবৃতি (i) সঠিক নয়।

৩৬.উনিশ শতকের বাংলার ঐতিহাসিক সংস্কারকদের মধ্যে নিচের কোন ব্যক্তি একাধারে দক্ষ কুস্তিগীর ও শারীরিক কসরতে পারদর্শী ছিলেন?
(a) হাজী শরীয়তউল্লাহ
(b) দুদু মিয়া
(c) মীর নিসার আলী তিতুমীর
(d) গোলাম মাসুম
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা: মীর নিসার আলী তিতুমীর বাল্যকাল থেকেই শারীরিক কসরত ও লাঠিখেলা, তলোয়ারবাজি ও কুস্তির প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। যৌবনে তিনি একজন নামকরা দক্ষ কুস্তিগীর হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন এবং কলকাতায় কুস্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে তৎকালীন নব্য নদীয়ার জমিদারদের লাঠিয়ালদের প্রতিরোধ করার শক্তি অর্জন করেন। এই শারীরিক প্রজ্ঞা ও লাঠিখেলায় পারদর্শিতাই পরবর্তীতে তাঁকে ব্রিটিশ ও অত্যাচারী জমিদারদের বিরুদ্ধে লাঠিয়াল বাহিনী গঠনে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

৩৭.উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:
“মক্কায় দীর্ঘকাল অবস্থান শেষে দেশে ফিরে তিনি বাংলার মুসলমানদেরকে কুসংস্কার মুক্ত করতে এবং সঠিকভাবে কোরআন ও হাদিস মোতাবেক মৌলিক ধর্মীয় বিধান পালনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। ইসলামের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য পালনে উদ্বুদ্ধ করায় তাঁর আন্দোলন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়।”
উদ্দীপকের ব্যক্তিটিকে বাংলার কোন সমাজ সংস্কারকের সাথে তুলনা করা যায়?
(a) তিতুমীর
(b) বেগম রোকেয়া
(c) নবাব আবদুল লতিফ
(d) হাজী শরীয়তউল্লাহ
সঠিক উত্তর: (d)
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকে হাজী শরীয়তউল্লাহ এবং তাঁর বিখ্যাত ‘ফরায়েজি আন্দোলন’-এর মূল সুর ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। হাজী শরীয়তউল্লাহ মক্কায় দীর্ঘ ২০ বছর অবস্থান করে গভীর ইসলামিক জ্ঞান (ইলম) অর্জন শেষে ১৮১৮ সালে দেশে ফিরে এসে বাংলার মুসলমানদেরকে ইসলামের মূল ‘ফরজ’ বা অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় বিধানগুলো সঠিকভাবে পালনের নির্দেশ দেন এবং পীরপূজা, মনসা পূজা ও বিদ’আত দূর করার ডাক দেন।

৩৮.লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে ভারতের গভর্নর জেনারেল থাকাকালীন ব্রিটেনের কোন বিখ্যাত শিল্পনগরীর বস্ত্রশিল্পের স্বার্থ এবং পূর্ববঙ্গের কাঁচামালের সমন্বয় ঘটাতে ‘বঙ্গভঙ্গ’ (Partition of Bengal) পরিকল্পনা জোরদার করেছিলেন?
(a) ম্যানচেস্টার (Manchester)
(b) লিভারপুল
(c) লন্ডন
(d) বার্মিংহাম
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: (মূল প্রশ্নে ‘মিশন ম্যানচেস্টার’ মূলত টাইপিংয়ের ভুলে তৈরি হওয়া একটি অসংলগ্ন বাক্য, যার ঐতিহাসিক ভিত্তি হলো লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ এবং ব্রিটিশ ম্যানচেস্টারের সুতা ও কাপড়ের মিল মালিকদের বাণিজ্যিক স্বার্থ)। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করার পেছনে লর্ড কার্জনের অন্যতম গোপন অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল পূর্ববঙ্গের উৎপাদিত পাট ও তুলা সরাসরি ব্রিটিশ ম্যানচেস্টারের মিলগুলোতে সস্তায় সরবরাহ করা এবং কোলকাতার একচেটিয়া বাণিজ্যিক দাপট হ্রাস করা। লর্ড কার্জন ১৮৯৯ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় বা গভর্নর জেনারেল ছিলেন।

৩৯.বাংলায় ঐতিহাসিক ‘দ্বৈতশাসন’ (Dual Government) ব্যবস্থা কত সালে প্রবর্তিত হয়?
(a) ১৭৬০ সালে
(b) ১৭৬৪ সালে
(c) ১৭৬৫ সালে
(d) ১৭৭২ সালে
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা: ১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে দেওয়ানি বা রাজস্ব আদায়ের অধিকার লাভ করে বাংলায় ‘দ্বৈতশাসন’ ব্যবস্থা চালু করেন। এই প্রথার ফলে নবাবের হাতে থাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও শাসনের ক্ষমতাহীন দায়িত্ব, আর ব্রিটিশ কোম্পানির হাতে চলে যায় কোনো দায়িত্ব ছাড়াই একচেটিয়া রাজস্ব বা টাকা আদায়ের চরম ক্ষমতা। এই শোষণের ফলে দেশে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয় যা ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস কর্তৃক দ্বৈতশাসন বিলুপ্তির মাধ্যমে শেষ হয়।

৪০.উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:
“মক্কা ও কায়রো থেকে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করে এক ব্যক্তি স্বদেশে ফিরে এসে ধর্ম-সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীতে তাঁর সুযোগ্য পুত্র এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে একে শোষক জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিরোধ আন্দোলনে রূপ দেন।”
উদ্দীপকে নির্দেশিত আন্দোলনের (ফরায়েজি আন্দোলন) প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল?
i. মুসলমানদেরকে খাঁটি ইসলামি আদর্শে ফিরিয়ে আনা
ii. জমিদার ও নীলকরদের অর্থনৈতিক শোষণ থেকে কৃষকদের রক্ষা করা
iii. ইংরেজদের সরিয়ে মুঘল সাম্রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (a) i ও ii
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকে হাজী শরীয়তউল্লাহর ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন ও পরবর্তীতে তাঁর পুত্র দুদু মিয়ার (মোহসীন উদ্দীন আহমদ) অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক প্রতিরোধের কথা বলা হয়েছে। ফরায়েজি আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল মুসলমানদের ধর্মীয়ভাবে শুদ্ধ করা এবং তৎকালীন হিন্দু জমিদার ও ব্রিটিশ নীলকরদের খাজনা ও বেআইনি করের জুলুম থেকে অত্যাচারিত মুসলিম ও হিন্দু কৃষকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি দেওয়া। ব্রিটিশদের তাড়িয়ে মুঘল সাম্রাজ্য ফিরিয়ে আনা এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল না; তাই (iii) ভুল।

৪১.দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসিনের পৈত্রিক নিবাস বা পূর্বপুরুষের মূল দেশ কোথায় ছিল?
(a) পারস্য (ইরান)
(b) আরব
(c) ইরাক
(d) আফগানিস্তান
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: বাংলার কিংবদন্তি দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসিনের পৈত্রিক নিবাস ছিল পারস্যে (বর্তমান ইরান)। তাঁর পিতা হাজী ফয়জুল্লাহ পারস্যের একজন অত্যন্ত ধনী ও সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী ছিলেন, যিনি ভাগ্য অন্বেষণে বাংলায় এসে হুগলিতে বসতি স্থাপন করেন। ১৭৩২ সালে হুগলিতেই মহসিন জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে বোন মন্নুজান খানের বিশাল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়ে মানবকল্যাণে তা অকাতরে দান করে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকেন।

৪২.১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনের গুরুত্ব বাঙালি জাতির জন্য অপরিসীম ছিল, কারণ—
i. ইহা ছিল বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ‘বাঁচার দাবি’
ii. ইহা ছিল পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ
iii. এর মাধ্যমে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (a) i ও ii
ব্যাখ্যা: ১৯৬৬ সালের ৫-৬ই ফেব্রুয়ারি লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ‘৬ দফা’ দাবি পেশ করেন। এটিকে বাঙালির ‘ম্যাগনা কার্টা’ বা মুক্তির সনদ বলা হয়, কারণ এর মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের চরম অর্থনৈতিক শোষণ ও সামরিক বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি করা হয়েছিল। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল, তাই বিবরণ (iii) সম্পূর্ণ ভুল।

৪৩.১৯৬৮ সালের ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য) সর্বমোট কতজনের বিরুদ্ধে রাজদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়েছিল?
(a) ২৫ জন
(b) ৩০ জন
(c) ৩৫ জন
(d) ৪০ জন
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা: ১৯৬৮ সালের প্রথম দিকে পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তানকে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীন করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সামরিক ও বেসামরিক মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এই মামলায় ‘১ নম্বর’ (প্রধান) আসামি করা হয়েছিল (মূল প্রশ্নের ব্যাখ্যায় ৯ নম্বর ও অন্যান্য নেতাদের নাম ভুল ছিল)। ১৯৬৯ সালের তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার এই মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

৪৪.১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের (Mass Upsurge) প্রধান ও প্রত্যক্ষ ফলাফল কী ছিল?
i. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিঃশর্ত কারামুক্তি
ii. স্বৈরশাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের দীর্ঘ ১০ বছরের ক্ষমতার পতন
iii. তাৎক্ষণিকভাবে শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠন
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (a) i ও ii
ব্যাখ্যা: ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যক্ষ ফল ছিল ২২শে ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সকল আসামির নিঃশর্ত কারামুক্তি (পরদিন ২৩শে ফেব্রুয়ারি তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়)। এর চূড়ান্ত পরিণতিতে ২৫শে মার্চ পাকিস্তানের স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ১৯৭১ সালের আগে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়নি, তাই বিবরণ (iii) ভুল।

৪৫.ভাষা আন্দোলনের সূচনালগ্নে ১৯৪৭ সালের ২রা সেপ্টেম্বর গঠিত হওয়া ‘তমদ্দুন মজলিশ’ কোন ধরনের সংগঠন ছিল?
(a) রাজনৈতিক দল
(b) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন
(c) অর্থনৈতিক ফোরাম
(d) উগ্র ধর্মীয় সংঘ
সঠিক উত্তর: (b)
ব্যাখ্যা: ১৯৪৭ সালের ২রা সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের তরুণ অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে গঠিত ‘তমদ্দুন মজলিশ’ ছিল মূলত একটি পাকিস্তানি ইসলামিক ‘সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন’। তবে এই সংগঠনটিই সর্বপ্রথম ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?’ নামক পুস্তিকা প্রকাশ করে বাংলায় ভাষা আন্দোলনের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তির সূচনা করেছিল।

৪৬.বাঙালি জাতির ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার বৈশ্বিক স্বীকৃতি হিসেবে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ প্রতি বছর কত তারিখে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়?
(a) ২১শে ফেব্রুয়ারি
(b) ২৬শে মার্চ
(c) ১৬ই ডিসেম্বর
(d) ১লা মে
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকার রাজপথে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেক বীর সন্তানেরা জীবন উৎসর্গ করেন। এই মহান আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কো (UNESCO) ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে, যা বর্তমানে সারা বিশ্বে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে পালিত হয়।

৪৭.১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে গঠিত ‘যুক্তফ্রন্ট’-এর নির্বাচনী প্রতীক কী ছিল?
(a) নৌকা
(b) লাঙ্গল
(c) ধানের শীষ
(d) কুঁড়েঘর
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার ঐতিহাসিক আইনসভা নির্বাচনে মুসলিম লীগের চরম দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠন করে। সাধারণ জনগণের জীবনের সাথে মিশে থাকা ‘নৌকা’ প্রতীককে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই নির্বাচনে নৌকা প্রতীক ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসনে অভূতপূর্ব ও বিপুল বিজয় লাভ করে।

৪৮.বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের মাইলফলক তথা ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা’ (Six-point movement) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত সালে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন?
(a) ১৯৬৪ সালে
(b) ১৯৬৫ সালে
(c) ১৯৬৬ সালে
(d) ১৯৬৯ সালে
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা: ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ই ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর একটি জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে ঐতিহাসিক ‘৬ দফা দাবি’ পেশ করেন। পরবর্তীতে এটিই বাঙালির মুক্তির সনদে পরিণত হয়।

৪৯.১৯৬৮ সালের দায়েরকৃত ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ১ নম্বর তথা প্রধান আসামি কে ছিলেন?
(a) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
(b) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
(c) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
(d) মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা: পাকিস্তান সরকার কর্তৃক দায়েরকৃত ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য’ মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মামলার ‘১ নম্বর’ এবং প্রধান আসামি করা হয়েছিল। (উল্লেখ্য, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৯৬২ সালে এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৬৩ সালে ইন্তেকাল করেন, ফলে ১৯৬৮ সালের এই মামলায় তাদের থাকার কোনো প্রশ্নই আসে না)।

৫০.১৯৫৩ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে পূর্ব বাংলায় কয়টি রাজনৈতিক দল নিয়ে ‘যুক্তফ্রন্ট’ (United Front) জোট গঠিত হয়েছিল?
(a) ৩টি দল
(b) ৪টি দল
(c) ৫টি দল
(d) ৬টি দল
সঠিক উত্তর: (b)
ব্যাখ্যা: ১৯৫৪ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৯৫৩ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর প্রধান প্রধান ৪টি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে ঐতিহাসিক ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠন করা হয়েছিল। দল চারটি হলো: ১. অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী মুসলিম লীগ, ২. শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টি, ৩. নেজামে ইসলাম এবং ৪. গণতন্ত্রী দল। (কিছু ক্ষেত্রে খেলাফতে রব্বানীকে নিষ্ক্রিয় শরিক ধরা হলেও তাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মূল ভিত্তি ছিল ৪টি দল ও তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা ইশতেহার)।

৫১.উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:
“আসামের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন ‘আসামিয়া’ হবে আসামের একমাত্র রাজ্যভাষা। এ ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কাছাড় অঞ্চলের বাংলাভাষী জনগণ ‘কাছাড় সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় তীব্র আন্দোলন ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম গড়ে তোলে।”
উদ্দীপকের এই আসামের ভাষা সংগ্রামের সাথে ১৯৫২ সালের বাংলার মহান ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্বের সাদৃশ্য কোথায়?
i. জাতিগত বা ভাষাগত জাতীয়তাবাদী চেতনার চরম বিকাশ ঘটায়
ii. নিজের মায়ের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করে
iii. যেকোনো রাষ্ট্রীয় অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস যোগায়
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (d) i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: ভাষা মানুষের আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতির প্রধান হাতিয়ার। ১৯৫২ সালে বাংলার মানুষ যেভাবে উর্দুর চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল, উদ্দীপকের কাছাড়ের বাংলাভাষী জনগণও ঠিক একইভাবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় আন্দোলন করেছিল। এই ধরনের আন্দোলন কেবল ভাষাকেই রক্ষা করে না, বরং একটি জাতির মাঝে গভীর জাতীয়তাবোধের জন্ম দেয় এবং যেকোনো শোষণের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ানোর চিরন্তন শিক্ষা দেয়।

৫২.১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মহান আত্মত্যাগের পর, পাকিস্তান রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৯ বছর পর কত সালের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের অন্যতম ‘রাষ্ট্রভাষা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়?
(a) ১৯৫২ সালের বিশেষ অধ্যাদেশে
(b) ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নীতিতে
(c) ১৯৫৬ সালের প্রথম সংবিধানে
(d) ১৯৬২ সালের সামরিক ডিক্রিতে
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা: ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের তীব্র চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান গণপরিষদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবিধান (Constitution of 1956) গৃহীত ও কার্যকর হলে, এর ২১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে ‘উর্দু’ এবং ‘বাংলা’—উভয় ভাষাকেই সমমর্যাদায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে আইনি ও চূড়ান্ত সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

৫৩.১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে ভারতের বিহারের সন্নিকটে ঐতিহাসিক চৌসার যুদ্ধে (Battle of Chausa) মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে কোন আফগান বীর ‘শাহ’ উপাধি ধারণ করে দিল্লির সিংহাসন দখলের পথ সুগম করেন?
(a) শের খান (শেরশাহ সূরি)
(b) ইসলাম শাহ সূরি
(c) ইব্রাহীম লোদী
(d) জালাল খান সূরি
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: ঐতিহাসিক সত্য হলো, ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে জুন চৌসার যুদ্ধে আফগান নেতা ফরিদ খান (যিনি বাঘ মারার জন্য ‘শের খান’ উপাধি পেয়েছিলেন) মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে অত্যন্ত চতুর কৌশলে পরাজিত করেন। হুমায়ুন কোনোমতে গঙ্গা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। এই অভাবনীয় বিজয়ের পর শের খান নিজেকে স্বাধীন সুলতান হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ‘শেরশাহ সুলতান-ই-আদিল’ বা সংক্ষেপে ‘শেরশাহ’ উপাধি ধারণ করেন।

৫৪.ভারতের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ আফগান শাসক ও গ্র্যান্ড ট্রাংক রোডের নির্মাতা সুলতান শেরশাহের পিতার নাম কী ছিল?
(a) হাসান খান সূরি
(b) ইব্রাহিম খান সূরি
(c) ফরিদ খান সূরি
(d) জালাল খান সূরি
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: শেরশাহের পিতার নাম ছিল হাসান খান সূরি। তিনি বিহারের জৌনপুরের অধীনে সাসারাম ও খওয়াসপুরের একজন ছোট সুবাদার বা জায়গিরদার ছিলেন। শেরশাহের নিজের বাল্যকালের নাম ছিল ‘ফরিদ খান’ এবং শেরশাহের দাদার নাম ছিল ইব্রাহিম খান সূরি। হাসান খানের মৃত্যুর পর ফরিদ খান তাঁর প্রজ্ঞা ও বাহুবলে পিতার জায়গিরদারির নিয়ন্ত্রণ নেন এবং পরবর্তীতে দিল্লির সম্রাট হয়ে ‘শেরশাহ সূরি’ নামে বিশ্বখ্যাত হন।

৫৫.মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর মূলত কাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিলেন?
(a) আলম খান লোদী ও দৌলত খান লোদী
(b) আলম খান লোদী ও তাজ খান
(c) দৌলত খান লোদী ও দাউদ খান
(d) তাজ খান ও ঈসা খান
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: দিল্লির লোদী বংশের শেষ সুলতান ইব্রাহীম লোদির আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর আপন চাচা আলম খান লোদী এবং পাঞ্জাবের সুবাদার দৌলত খান লোদী সম্রাট বাবরকে ভারত আক্রমণের আমন্ত্রণ জানান। এর পাশাপাশি মেবারের রাজপুত রাজা রানা সংগ্রাম সিংহও বাবরকে ইব্রাহীম লোদির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর অনুরোধ করেছিলেন। বাবর এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ১৫২৬ সালে ভারত অভিযান করেন।

৫৬.১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ঐতিহাসিক পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহীম লোদির বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে বাবরের চূড়ান্ত জয়লাভের প্রধান কারণ কী ছিল?
i. বাবরের রণকৌশলে আধুনিক কামান ও গোলন্দাজ বাহিনীর সফল ব্যবহার
ii. বাবরের বিজ্ঞানসম্মত ও উন্নত ‘তুলুঘমা’ ও ‘আরাবা’ যুদ্ধপদ্ধতি
iii. বাবর ও তাঁর মধ্য এশীয় সেনাদের সুশৃঙ্খল বীরত্ব ও দক্ষ সেনানায়কের নেতৃত্ব
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (d) i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবরের জয়ের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল তাঁর রণকৌশল। তিনিই উত্তর ভারতে প্রথম গোলন্দাজ বা কামানের কার্যকর ব্যবহার করেন। ওস্তাদ আলী ও মুস্তফার পরিচালনায় বাবরের কামানের গোলার ভয়ে লোদির হাতির বাহিনী উল্টো নিজেদের সৈন্যদলকে পিষে ফেলে। এছাড়া বাবর তাঁর সেনাদের চতুর সামরিক বিন্যাস ‘তুলুঘমা’ (শত্রুকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা) এবং ‘আরাবা’ (গরুর গাড়ি সারিবদ্ধ করে তার আড়ালে কামান বসানো) পদ্ধতি প্রয়োগ করেন, যা লোদির ঐতিহ্যগত বাহিনীর কাছে সম্পূর্ণ অজানা ছিল।

৫৭.১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে কনৌজের (বিলগ্রাম) যুদ্ধে শেরশাহ সূরির কাছে পরাজিত হয়ে সম্রাট হুমায়ুন যখন দিল্লির সিংহাসন হারিয়ে যাযাবরের মতো পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, তখন তাঁকে গঙ্গা নদী পার হতে প্রাণ বাঁচিয়ে সাহায্য করার পুরস্কারস্বরূপ তিনি কোন সাধারণ ভিস্তিকে (পানি বাহক) একদিনের জন্য দিল্লির প্রতীকী সিংহাসনে বসিয়েছিলেন?
(a) নিজাম ভিস্তি (Nizam Water-carrier)
(b) আদিল খান
(c) হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্য
(d) সুজা খান
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: ঐতিহাসিক সত্য হলো, ১৫৩৯ সালে চৌসার যুদ্ধে শেরশাহের আকস্মিক আক্রমণে হুমায়ুনের জীবন বিপন্ন হলে তিনি ঘোড়াসহ গঙ্গা নদীতে ঝাঁপ দেন। সেখানে ডুবন্ত হুমায়ুনকে নিজের চামড়ার তৈরি মশক (পানি বহনের থলি) দিয়ে টেনে তুলে প্রাণ রক্ষা করেন ‘নিজাম’ নামের এক দরিদ্র ভিস্তি বা পানি বাহক। কৃতজ্ঞতাবশত হুমায়ুন প্রতিজ্ঞা করেন যে তিনি পুনরায় সিংহাসন পেলে তাকে দিল্লির রাজা বানাবেন। পরবর্তীতে ১৫৫৫-৫৬ সালে হুমায়ুন পুনরায় দিল্লি উদ্ধার করে তাঁর প্রতিজ্ঞা রক্ষার্থে নিজাম ভিস্তিকে মাত্র ‘আধ বেলা’ বা ‘একদিনের’ জন্য দিল্লির সিংহাসনে বসিয়েছিলেন। (আর হেমচন্দ্র বা হিমু ছিলেন আদিল শাহ সূরির হিন্দু সেনাপতি, যিনি হুমায়ুনের মৃত্যুর পর বৈরাম খানের সাথে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে লড়েছিলেন)।

৫৮.আফগান শাসক শেরশাহ সূরি তাঁর সমগ্র সাম্রাজ্যকে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের অধীনে কার্যকরভাবে তদারকি করার জন্য সর্বমোট কতটি ‘সরকার’-এ (Administrative Districts/Provinces) বিভক্ত করেছিলেন?
(a) ৪৭টি সরকারে
(b) ৪০টি সরকারে
(c) ৩৭টি সরকারে
(d) ৩০টি সরকারে
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: শেরশাহ সূরি মধ্যযুগীয় শাসনব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ করেছিলেন। তিনি তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যকে কোনো সুবা বা প্রদেশে ভাগ না করে সরাসরি ৪৭টি ‘সরকার’-এ (জেলা বা প্রশাসনিক অঞ্চল) বিভক্ত করেন। প্রতিটি সরকারের অধীনে আবার বেশ কয়েকটি ‘পরগনা’ ছিল। সরকারের প্রধান দুই কর্মকর্তা ছিলেন—’শিকদার-ই-শিকদারান’ (সামরিক ও আইন-শৃঙ্খলা প্রধান) এবং ‘মুন্সিফ-ই-মুন্সিফান’ (দেওয়ানি ও বিচারক)।

৫৯.উত্তর ভারতের যুদ্ধক্ষেত্রের ইতিহাসে সর্বপ্রথম সুসংগঠিতভাবে কামানের ব্যবহার বা গোলন্দাজ বাহিনীর প্রবর্তন করেন কে?
(a) জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর
(b) নাসিরুদ্দিন হুমায়ুন
(c) জালালুদ্দিন আকবর
(d) নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: ভারতবর্ষে প্রথম বারুদ ও আগ্নেয়াস্ত্রের বা কামানের সফল রণকৌশলগত ব্যবহার করেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর। ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে সুলতান ইব্রাহীম লোদির বিরুদ্ধে তিনি এই কামানের সাহায্যে ঐতিহাসিক বিজয় ছিনিয়ে আনেন। যদিও এর আগে বাহমনী সালতানাত বা চীনের ইতিহাসে আদিম আগ্নেয়াস্ত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়, তবে উত্তর ভারতের মূল যুদ্ধক্ষেত্রে এর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহার বাবরের হাত ধরেই শুরু হয়।

৬০.পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহীম লোদির ১ লক্ষ সৈন্যের বিপরীতে বাবরের মাত্র ১২,০০০ সৈন্য থাকা সত্ত্বেও বাবরের ঐতিহাসিক সাফল্যের মূল কারণ কী ছিল?
i. বাবরের সেনারা ছিল যুদ্ধবিদ্যায় অত্যন্ত দক্ষ, সুশিক্ষিত ও আধুনিক রণকৌশলে অভিজ্ঞ
ii. বাবর নিজে ছিলেন একজন অত্যন্ত দূরদর্শী, বিজ্ঞ ও সুনিপুণ সমরনায়ক
iii. ভারতবাসীর মাঝে বাবর অত্যন্ত জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ছিলেন
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (a) i ও ii
ব্যাখ্যা: বাবর ছিলেন মধ্য এশিয়ার একজন ঝানু সেনানায়ক, যাঁর সৈন্যরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যুদ্ধ করতে অভ্যস্ত ও সুশিক্ষিত ছিল। লোদির বিশাল কিন্তু বিশৃঙ্খল বাহিনীর বিরুদ্ধে বাবরের সমরকুশলতা ও নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়ই জয় নিশ্চিত করে। তবে বাবর তখন ভারতের মাটিতে সম্পূর্ণ বহিরাগত ও অপরিচিত আক্রমণকারী ছিলেন, ফলে ভারতবাসীর মাঝে তাঁর জনপ্রিয় থাকার প্রশ্নই আসে না; তাই বিবরণ (iii) ভুল।

৬১.শেরশাহ সূরির মৃত্যুর পর তাঁর অযোগ্য উত্তরসূরিদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নির্বাসিত মুঘল সম্রাট হুমায়ুন কত সালে পুনরায় দিল্লি ও আগ্রা দখল করে ভারতে মুঘল আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন?
(a) ১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দে
(b) ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে
(c) ১৫৫৭ খ্রিস্টাব্দে
(d) ১৫৫৮ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: ১৫৪০ সালে দেশত্যাগের পর দীর্ঘ ১৫ বছর হুমায়ুন পারস্যের সাফাভি সম্রাট শাহ তহমাস্পের আশ্রয়ে কাটান। পরে সূরি বংশের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিয়ে ১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি ‘মাছিওয়ারা’ ও ‘স্যারহিন্দের যুদ্ধে’ সিকান্দর শাহ সূরিকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে পুনরায় দিল্লির সিংহাসন উদ্ধার করেন। সিংহাসন পাওয়ার মাত্র কয়েক মাস পর ১৫৫৬ সালের জানুয়ারি মাসে দিল্লির দ্বীনপনাহ দুর্গের লাইব্রেরির সিঁড়ি থেকে পিছলে পড়ে হুমায়ুন মৃত্যুবরণ করেন।

৬২.উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:
“মধ্যযুগের একজন বিখ্যাত দূরদর্শী শাসক প্রজাসাধারণের কৃষি জমির ওপর অধিকার নিশ্চিত করতে জমি জরিপ করে চাষির নাম, জমির সীমানা ও স্বত্ব উল্লেখ করে একটি সরকারি দলিল বা ‘পাট্টা’ (Patta) প্রদান করেন। বিনিময়ে প্রজারাও নির্দিষ্ট পরিমাণ খাজনা দেওয়ার অঙ্গীকার করে সরকারকে ‘কবুলিয়ত’ (Kabuliyat) লিখে দিত।”
উদ্দীপকে বর্ণিত ভূমি সংস্কার প্রবর্তক শাসকটি মূলত কেমন ছিলেন?
i. অসাধারণ বীর ও সাম্রাজ্য বিজেতা
ii. দূরদর্শী সমরকুশলী সেনানায়ক
iii. মধ্যযুগীয় ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুদক্ষ বেসামরিক কোঁসলী ও শাসক
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (d) i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকে শেরশাহ সূরির অমর কীর্তি ‘পাট্টা ও কবুলিয়ত’ প্রথার কথা বলা হয়েছে। শেরশাহ কেবল তরবারির জোরে মুঘলদের তাড়ানো এক অসম সাহসী বীর ও সেনানায়কই ছিলেন না, বরং তিনি মাত্র ৫ বছরের শাসনামলে ভূমি রাজস্ব, মুদ্রা ব্যবস্থা (রুপিয়া) এবং গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড নির্মাণের মাধ্যমে একজন অত্যন্ত সুদক্ষ ও প্রজাহিতৈষী বেসামরিক শাসক হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন।

৬৩.১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কালজয়ী ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ প্রথম কোথায় যাত্রা শুরু করেছিল?
(a) মুজিবনগর (মেহেরপুর)
(b) আগ্রাবাদ (চট্টগ্রাম)
(c) কালুরঘাট (চট্টগ্রাম)
(d) বালিগঞ্জ (কলকাতা)
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা: ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ দুপুর বেলা চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার ট্রান্সমিটার ব্যবহার করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং সন্ধ্যায় ও পরদিন জিয়াউর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণাটি সম্প্রচার করা হয়, যা ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ নামে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে কালুরঘাট পাকিস্তানি বিমান হামলার শিকার হলে এপ্রিলের শুরুতে এটি রামগড়, ত্রিপুরা হয়ে অবশেষে ২৫শে মে কলকাতার বালিগঞ্জের একটি ৫৭/২ নম্বর বাড়িতে স্থায়ী স্টুডিও স্থাপন করে এবং মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত অবরুদ্ধ বাঙালির মূল মনস্তাত্ত্বিক শক্তি হিসেবে কাজ করে।

৬৪.উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদের আমলে সিন্ধু প্রদেশের অত্যাচারী রাজা দাহিরকে পরাজিত করে আরবরা কত সালে সিন্ধু ও মুলতান বিজয় সম্পন্ন করে?
(a) ৭১০ খ্রিস্টাব্দে
(b) ৭১১ খ্রিস্টাব্দে
(c) ৭১২ খ্রিস্টাব্দে
(d) ৭১৩ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা: ইরাকের উমাইয়া গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের নির্দেশে তাঁর ১৭ বছর বয়সী তরুণ জামাতা ও সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১১ সালে সিন্ধুর উদ্দেশ্যে রওনা হন। ৭১২ খ্রিস্টাব্দে রাওয়ারের যুদ্ধে সিন্ধুর ব্রাহ্মণ রাজা দাহিরকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত ও নিহত করে আরবরা সিন্ধু অঞ্চলে মুসলিম শাসনের সূচনা করে।

৬৫.সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের সবচেয়ে আলোচিত ও ঐতিহাসিক ঘটনা হলো গুজরাটের বিখ্যাত সোমনাথ মন্দির বিজয়। এই সোমনাথ মন্দিরটি ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত?
(a) গুজরাট
(b) রাজস্থান
(c) উত্তর প্রদেশ
(d) পাঞ্জাব
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: সোমনাথ মন্দির ভারতের গুজরাটের সৌরাষ্ট্র অঞ্চলের বেরাবল উপকূলে অবস্থিত একটি অতি প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক শিব মন্দির। ধন-সম্পদের প্রাচুর্য এবং ভারতের হিন্দু রাজাদের শক্তির অহংকার চূর্ণ করতে গজনির সুলতান মাহমুদ ১০২৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর ১৬তম অভিযানে এই মন্দিরটি জয় ও এর সঞ্চিত ধনরত্ন গজনিতে নিয়ে যান।

৬৬.পাকিস্তানের দীর্ঘ ৯ মাসের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত তারিখে তাঁর প্রিয় স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন?
(a) ১০ই জানুয়ারি, ১৯৭২
(b) ১২ই জানুয়ারি, ১৯৭২
(c) ২৬শে মার্চ, ১৯৭২
(d) ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালী কারাগারে বন্দি ছিলেন। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তান সরকার তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হলে তিনি ১৯৭২ সালের ৮ই জানুয়ারি প্রথমে লন্ডনে যান। সেখান থেকে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের বিমানে নয়াদিল্লি হয়ে ১০ই জানুয়ারি দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এই ঐতিহাসিক দিনটি বাংলাদেশে ‘বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

৬৭.গজনির কোন বিখ্যাত তুর্কি সুলতানকে আব্বাসীয় খলিফা আল-কাদির বিল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইয়ামিন-উদ-দৌলা’ (সাম্রাজ্যের ডান হাত) ও ‘আমিন-উল-মিল্লাত’ (ধর্মবিশ্বাসের রক্ষক) উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন?
(a) সুলতান মাহমুদ
(b) মুহাম্মদ বিন কাসিম
(c) শিহাবউদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরি
(d) কুতুবউদ্দিন আইবক
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: গজনির সুলতান সবুক্তগিনের পুত্র সুলতান মাহমুদ ৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে গজনির পূর্ণ ক্ষমতা লাভ করেন। তিনি বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফা আল-কাদির বিল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করলে খলিফা তাঁকে স্বাধীন সুলতান হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং ‘ইয়ামিন-উদ-দৌলা’ ও ‘ can-উল-মিল্লাত’ উপাধি প্রদান করেন। এই উপাধির কারণেই সুলতান মাহমুদের বংশকে ‘ইয়ামিনি রাজবংশ’ বলা হয়।

৬৮.উত্তর ভারতে স্থায়ী মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপনকারী ঐতিহাসিক ‘তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ’ (Battle of Tarain) কত সালে সংঘটিত হয়েছিল?
(a) ১১৯১ খ্রিস্টাব্দে
(b) ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে
(c) ১১৯৪ খ্রিস্টাব্দে
(d) ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর: (b)
ব্যাখ্যা: ১১৯১ সালে তরাইনের প্রথম যুদ্ধে আজমিরের রাজপুত রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহানের কাছে শিহাবউদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরি মারাত্মকভাবে পরাজিত হন। ঠিক এক বছর পর, ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে ঘুরি আরও শক্তিশালী প্রস্তুতি নিয়ে পুনরায় তরাইনের প্রান্তরে পৃথ্বীরাজকে মুখোমুখি করেন। তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ চৌহান চূড়ান্তভাবে পরাজিত ও বন্দি হন, যার ফলে ভারতে তুর্কি-মুসলিম সালতানাত প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত হয়।

৬৯.১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত জাতীয় পরিষদের (National Assembly) মোট ১৬৯টি আসনের মধ্যে কয়টি আসনে ঐতিহাসিক জয় লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল?
(a) ১৬০টি আসনে
(b) ১৬২টি আসনে
(c) ১৬৭টি আসনে
(d) ১৬৯টি আসনে
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা: ১৯৭০ সালের ৭ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত ১৬৯টি আসনের (১৬২টি সাধারণ ও ৭টি সংরক্ষিত নারী আসন) মধ্যে আওয়ামী লীগ অবিশ্বাস্যভাবে ১৬৭টি আসনে জয়লাভ করে। বাকি ২টি আসনের মধ্যে একটি পান পিডিপি নেতা নূরুল আমিন এবং অন্যটি পান পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজা ত্রিদিব রায়। এই বিশাল ম্যান্ডেটই প্রমাণ করে যে বাঙালি জাতি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ একতাবদ্ধ ছিল।

৭০.আরবদের সিন্ধু বিজয় রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী বা ভারতের মূল ভূখণ্ডে সাথে সাথেই সাম্রাজ্য বিস্তারে সক্ষম না হওয়ায় কোন ব্রিটিশ ঐতিহাসিক তাঁর গ্রন্থে একে ‘আরবদের সিন্ধু বিজয় একটি নিষ্ফল উপাখ্যান বা ঘটনা’ (A triumph without results) বলে অভিহিত করেছেন?
(a) ড. ঈশ্বরী প্রসাদ
(b) স্ট্যানলি লেনপুল (Stanley Lane-Poole)
(c) পি. কে. হিট্টি
(d) স্যার উইলিয়াম হান্টার
সঠিক উত্তর: (b)
ব্যাখ্যা: বিখ্যাত প্রাচ্যবিদ ও ব্রিটিশ ঐতিহাসিক স্ট্যানলি লেনপুল তাঁর ‘Medieval India’ গ্রন্থে মন্তব্য করেন যে, মুহাম্মদ বিন কাসিম কর্তৃক সিন্ধু বিজয় ছিল ইসলামের ইতিহাসের একটি “ফলহীন বা নিষ্ফল উপাখ্যান” (A triumph without results)। কারণ আরবরা সিন্ধু ও মুলতানের বাইরে ভারতের মূল অংশে ইসলামি শাসন ছড়াতে পারেনি। তবে রাজনৈতিকভাবে এটি সীমিত হলেও সাংস্কৃতিকভাবে এর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী, যার মাধ্যমে ভারতীয় গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যা আরব হয়ে ইউরোপে পৌঁছেছিল।

৭১.মধ্যযুগীয় হিন্দু সমাজ ও জাতিভেদের কঠোর শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ভারতের তৎকালীন নিম্নবর্ণের সাধারণ মানুষ দলে দলে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার প্রধান কারণ কী ছিল?
i. ইসলামের সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও বর্ণভেদহীন সহজ-সরল জীবনদর্শন
ii. সুফি-সাধক ও আউলিয়াদের উদার নৈতিক আচরণ ও মানবপ্রেম
iii. তৎকালীন উচ্চবর্ণের হিন্দু শাসক ও ব্রাহ্মণদের চরম সামাজিক নিপীড়ন থেকে মুক্তি লাভের আকাঙ্ক্ষা
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (d) i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: তৎকালীন সনাতন ভারতীয় সমাজে জাতিভেদ প্রথা ও অস্পৃশ্যতা চরম আকার ধারণ করেছিল। নিম্নবর্ণের শুদ্র ও অন্ত্যজ শ্রেণীর মানুষ সামাজিক মর্যাদা ও মৌলিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। ইসলামের একেশ্বরবাদ এবং রাজা-প্রজা, ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার জাতপাতহীন অভিন্ন সমতার বাণী শোষিত মানুষকে তীব্রভাবে আকর্ষণ করে। পাশাপাশি খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রঃ) বা নিজামুদ্দিন আউলিয়ার মতো সুফিদের প্রেমময় মানবিক আচরণ জাতপাতের দেয়াল ভেঙে দলে দলে মানুষকে ইসলাম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে।

৭২.আরবরা বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল। ইসলামের আবির্ভাবের বহু পূর্বে (জাহেলিয়াত আমল থেকেই) ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে কাদের নিবিড় যোগাযোগ বা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল?
(a) আরব জলদস্যুদের
(b) আরব বণিকদের (Arab Traders)
(c) পারস্যের কবিদের
(d) গ্রিক সেনাদের
সঠিক উত্তর: (b)
ব্যাখ্যা: আরবরা প্রাকৃতিকভাবেই সমুদ্রযাত্রায় পারদর্শী ব্যবসায়ী ছিল। ইসলামের জন্মের বহু শত বছর আগে থেকেই আরব বণিকরা মৌসুমী বায়ুর ওপর নির্ভর করে আরব সাগর পাড়ি দিয়ে ভারতের পশ্চিম উপকূল, মালাবার, লঙ্কা ও চট্টগ্রামের বন্দরে মসলা, হাতির দাঁত, সুতি কাপড় ও রত্ন বাণিজ্যের জন্য আসতেন। এই বাণিজ্যিক সুত্রেই আরবরা ভারতের ভৌগোলিক অবস্থা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখত, যা পরবর্তীতে সিন্ধু অভিযানের পথ সুগম করেছিল।

৭৩.উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:
“লঙ্কার (শ্রীলঙ্কা) রাজা কর্তৃক আরবের খলিফার উদ্দেশ্যে পাঠানো এতিম মুসলিম নারী ও মূল্যবান উপহার সামগ্রী বোঝাই আটটি জাহাজ সিন্ধুর দেবল বন্দরের কাছাকাছি পৌঁছালে একদল জলদস্যু তা লুণ্ঠন করে এবং নারীদের বন্দি করে। খলিফার আঞ্চলিক গভর্নর এই অন্যায়ের বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাইলে সিন্ধুর রাজা তা অহংকারের সাথে প্রত্যাখ্যান করেন, যা পরবর্তীতে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের রূপ নেয়।”
উদ্দীপকের এই অহংকারী রাজার সাথে ভারতের কোন ঐতিহাসিক শাসকের চরিত্রের হুবহু মিল পাওয়া যায়?
(a) রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান
(b) রাজা দাহির (Raja Dahir)
(c) রাজা জয়পাল
(d) রাজা লক্ষণ সেন
সঠিক উত্তর: (b)
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকের ঘটনাটি আরবদের সিন্ধু অভিযানের প্রত্যক্ষ বা তাৎক্ষণিক কারণের সাথে সম্পর্কিত। রাজা দাহির দেবল বন্দরের সিন্ধু জলদস্যুদের দমন করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে উমাইয়া গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফকে বার্তা পাঠান যে, জলদস্যুদের ওপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এই ঔদ্ধত্যের কারণে হাজ্জাজ ক্ষুব্ধ হয়ে ১৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানে পাঠান এবং রাজা দাহির যুদ্ধে নিহত হন।

৭৪.১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ২৫শে মার্চের অন্ধকার রাতটি বাঙালি জাতির কাছে কী নামে সুপরিচিত?
(a) কালরাত (The Black Night)
(b) বিজয় রাত
(c) ঐতিহাসিক রাত
(d) প্রতিরোধ রাত
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঘুমন্ত, নিরস্ত্র ও নিরীহ বাঙালির ওপর আকস্মিকভাবে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানাসহ সারা ঢাকা শহরকে রক্তের বন্যায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ইতিহাসে এই নির্মম ও নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের রাতটিকে বাঙালি জাতির ট্র্যাজেডি বা ‘কালরাত’ বলা হয়।

৭৫.১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি জান্তা সরকার কর্তৃক পরিচালিত বাঙালির ইতিহাসের বর্বরোচিত ও নৃশংসতম গণহত্যার প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
i. সশস্ত্র ও সামরিক কায়দায় বাঙালি জাতিকে চিরতরে স্তব্ধ ও নিশ্চিহ্ন করা
ii. বাঙালি বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, ছাত্র ও যুব সমাজকে হত্যা করে জাতিকে চিরতরে নেতৃত্বহীন করা
iii. বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার ন্যায্য গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বুলেটের জোরে দমন করা
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (d) i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: পাকিস্তানি সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান ও টিক্কা খানের মূল পরিকল্পনা ছিল ‘Kill three million of them and the rest will eat from our hands’। তারা সামরিক শক্তির দম্ভে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনকে চিরতরে গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। এই উদ্দেশ্যে তারা বেছে বেছে বাঙালি সেনা, পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র, লেখক ও চিন্তাশীল বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে যাতে এই জাতি আর কোনোদিন মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে।

৭৬.১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ—
i. প্রায় ১ কোটি রক্তাক্ত ও বিপন্ন বাঙালি শরণার্থীকে আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসা প্রদান করেছিল
ii. মুক্তিযোদ্ধাদের (মুক্তিবাহিনী) সামরিক প্রশিক্ষণ, ক্যাম্প ও অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করেছিল
iii. যুদ্ধের শেষভাগে ‘মিত্রবাহিনী’ হিসেবে সরাসরি অংশগ্রহণ করে পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (d) i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। পাকিস্তানি বাহিনীর ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়া প্রায় এক কোটি মানুষকে তারা নিজেদের দেশে আশ্রয় দেয়। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা যুদ্ধের কৌশল শেখানো এবং ৩রা ডিসেম্বর থেকে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমান্ড বা ‘মিত্রবাহিনী’ গঠন করে সরাসরি আকাশ ও স্থলপথে আক্রমণ চালিয়ে মাত্র ১৩ দিনে ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদারদের চূড়ান্ত পরাজয় নিশ্চিত করে।

৭৭.১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যে সুপরিকল্পিত ও নৃশংস সামরিক অপারেশন বা গণহত্যা শুরু করেছিল, তার কোড নাম (Code Name) কী ছিল?
(a) অপারেশন জ্যাকপট (Operation Jackpot)
(b) অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight)
(c) অপারেশন রেবেল হাট
(d) অপারেশন ব্লাইন্ডহাট
সঠিক উত্তর: (b)
ব্যাখ্যা: ২৫শে মার্চের কালরাতের গণহত্যার পাকিস্তানি সামরিক কোড নাম ছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’। (উল্লেখ্য, মূল প্রশ্নের ব্যাখ্যার তথ্যগুলো সম্পূর্ণ ভুল ছিল)। প্রকৃত সত্য হলো—’অপারেশন জ্যাকপট’ ছিল ১৯৭১ সালের ১৫ই আগস্ট বাঙালি নৌ-কমান্ডোদের দ্বারা পরিচালিত অত্যন্ত সফল ও বীরত্বপূর্ণ এক নৌ-গেরিলা অপারেশন, যার মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে একযোগে মাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এটি কোনো পাকিস্তান বাহিনীর অপারেশন ছিল না, এটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরবোজ্জ্বল কীর্তি।

৭৮.১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার তথা ‘মুজিবনগর সরকার’ কত তারিখে গঠিত হয়েছিল?
(a) ১০ই এপ্রিল, ১৯৭১
(b) ১৭ই এপ্রিল, ১৯৭১
(c) ২৬শে মার্চ, ১৯৭১
(d) ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার (পরবর্তীতে নাম রাখা হয় মুজিবনগর) আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গঠন’ করা হয় এবং একই দিনে বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ (Proclamation of Independence) অনুমোদন করা হয়। এরপর ১৭ই এপ্রিল এই সরকারের মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। তাই সরকার গঠনের তারিখ ১০ই এপ্রিল এবং শপথ গ্রহণের তারিখ ১৭ই এপ্রিল।

৭৯.১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যৌথ কমান্ড বা মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে কে স্বাক্ষর করেছিলেন?
(a) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ. এ. কে. নিয়াজী
(b) লে. জেনারেল টিক্কা খান
(c) রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শরীফ
(d) মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে ৯৩,০০০ সৈন্যসহ নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। যৌথ বাহিনীর পক্ষে এই দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

৮০.উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:
“১৯৭১ সালের এক বিভীষিকাময় রাতে বাংলার সাধারণ ও নিরীহ মানুষের ওপর হঠাৎ ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা, আর্তনাদ আর লাশের স্তূপ। শতাব্দীর নিকৃষ্টতম এই গণহত্যার শিকার হওয়া রাতের কথা বাঙালি জাতি কোনোদিন ভুলবে না।”
উদ্দীপকের এই বিবরণটি মূলত ১৯৭১ সালের কোন ঐতিহাসিক কালো রাতকে নির্দেশ করে?
(a) ৭ই মার্চের রাত
(b) ২৫শে মার্চের রাত (কালরাত)
(c) ১৪ই ডিসেম্বরের রাত
(d) ১৬ই ডিসেম্বরের রাত
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাতের বর্বরতম পাকিস্তানি সামরিক আগ্রাসন ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ও পুরান ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নির্বিচারে গণহত্যা চালানো হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির রাতটিকে বাঙালি ‘কালরাত’ বা ‘Black Night’ হিসেবে স্মরণ করে।

৮১.৭১২ খ্রিস্টাব্দে আরবরা যখন সিন্ধু বিজয় সম্পন্ন করে, তখন যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হওয়া সিন্ধুর শেষ হিন্দু রাজা দাহিরের দুই বীর ও রূপবতী কন্যার নাম কী ছিল?
(a) সূর্যাদেবী ও পরমলাদেবী (Surya Devi & Parmal Devi)
(b) পদ্মাবতী ও দুর্গাবতী
(c) সীতাদেবী ও লাডিদেবী
(d) রাজিয়া ও সানিয়া
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: সূর্যাদেবী ও পরমলাদেবী ছিলেন সিন্ধুর রাজা দাহিরের দুই রাজকুমারী। ৭১২ খ্রিস্টাব্দে রাওয়ারের যুদ্ধে রাজা দাহির নিহত হওয়ার পর আরবরা সিন্ধু অধিকার করে এবং এই দুই রাজকুমারীকে বন্দি করে বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফা আল-ওয়ালিদের দরবারে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়। (মূল প্রশ্নের ব্যাখ্যায় মুহাম্মদ বিন কাসিমের সাথে বিয়ের যে তথ্য দেওয়া ছিল তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভুল)। চতুর রাজকুমারীরা খলিফার কাছে গিয়ে মুহাম্মদ বিন কাসিমের বিরুদ্ধে মিথ্যা শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে প্রতিশোধ নিয়েছিলেন, যার ফলে খলিফা ক্ষুব্ধ হয়ে মুহাম্মদ বিন কাসিমকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে সত্য প্রকাশ পেলে খলিফা দুই রাজকন্যাকেও জীবন্ত দেয়াল চাপা দিয়ে হত্যা করেন।

৮২.প্রাচীন ভারতের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৌদ্ধ দর্শনের বিশ্বখ্যাত ও ঐতিহাসিক জ্ঞানপীঠ ‘নালন্দা মহাবিহার’ (Nalanda University) কোন রাজ্যে অবস্থিত ছিল?
(a) পশ্চিমবঙ্গ (কলকাতা)
(b) মধ্যপ্রদেশ (মালব)
(c) রাজস্থান (আজমির)
(d) বিহার
সঠিক উত্তর: (d)
ব্যাখ্যা: নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাচীন ভারতের মগধ (বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনা থেকে প্রায় ৯৫ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে) অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। ৫ম খ্রিস্টাব্দে গুপ্ত সম্রাট প্রথম কুমারগুপ্তের আমলে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি ছিল পৃথিবীর প্রাচীনতম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি, যেখানে চীন, তিব্বত, কোরিয়া ও মধ্য এশিয়া থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসত। ১২০৩-১২০৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে তুর্কি সেনাপতি বখতিয়ার খলজির আক্রমণে এই জ্ঞানপীঠটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ২০১৬ সালে এটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

৮৩.উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:
“৮ম শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপের ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ভিসিগথ শাসিত স্পেনে সামন্তবাদী শোষণ, জাতিভেদ ও ধর্মীয় নিপীড়ন চরম আকার ধারণ করে। অত্যাচারিত জনগণের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ৭১১ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ ‘গুয়াদালেতের যুদ্ধে’ রাজা রডারিককে পরাজিত করে স্পেনে মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপন করেন।”
উদ্দীপকের স্পেনের এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে ভারতবর্ষের কোন বিখ্যাত অভিযানের হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে?
(a) সুলতান মাহমুদের সোমনাথ অভিযান
(b) মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযান
(c) সুলতান ঘুরির উত্তর ভারত অভিযান
(d) বখতিয়ার খলজির বাংলা অভিযান
সঠিক উত্তর: (b)
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকের স্পেনের ঘটনার সাথে আরবে উমাইয়া আমলের সমসাময়িক ৭১২ খ্রিস্টাব্দের ‘সিন্ধু অভিযান’-এর গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। স্পেনে যেমন রাজা রডারিকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ মুসলমানদের স্বাগত জানিয়েছিল, তেমনি ভারতের সিন্ধু অঞ্চলেও রাজা দাহিরের কঠোর জাতিভেদ ও ব্রাহ্মণদের উৎপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় বৌদ্ধ ও নিম্নবর্ণের হিন্দুরা আরব সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমকে স্বাগত ও সাহায্য করেছিল। উভয় অভিযানের ফলেই দুটি ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে মুসলিম সংস্কৃতির প্রবেশ ঘটে।

৮৪.মধ্যযুগের ইতিহাসে আফগানিস্তানের বিখ্যাত ‘গজনি রাজবংশ’ বা ‘ইয়ামিনি সাম্রাজ্যের’ মূল প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
(a) আল্পতগীন (Alptigin)
(b) সবুক্তগীন
(c) সুলতান মাহমুদ
(d) সুলতান মাসুদ
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: গজনির স্বাধীন তুর্কি রাজবংশের মূল ভিত্তি বা সূত্রপাত করেছিলেন সামানি সাম্রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীতদাস ও সেনাপতি আল্পতগীন (৯৬২ খ্রিস্টাব্দে)। আল্পতগীনের মৃত্যুর পর তাঁর জামাতা সবুক্তগীন ৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে গজনির শাসনভার নেন এবং সাম্রাজ্য বিস্তার শুরু করেন। সবুক্তগীনের পুত্র ছিলেন বিশ্বখ্যাত বীর সুলতান মাহমুদ, যিনি রাজবংশটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। সুতরাং, আদি প্রতিষ্ঠাতা আল্পতগীন এবং প্রকৃত শক্তিশালী প্রতিষ্ঠাতা হলেন সবুক্তগীন।

৮৫.তুর্কি বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি কত খ্রিস্টাব্দে রাজা লক্ষণ সেনকে আকস্মিক পরাজিত করে বাংলায় প্রথম মুসলিম শাসনের সূচনা করেছিলেন?
(a) ১২০২ খ্রিস্টাব্দে
(b) ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে
(c) ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে
(d) ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা: ১২০৩ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে বিহার জয় করার পর, ১২০৪ খ্রিস্টাব্দের মার্চ-এপ্রিল (ঐতিহাসিক মতভেদে ১২০৫) মাসের দিকে বখতিয়ার খলজি মাত্র ১৭-১৮ জন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে ঘোড়া ব্যবসায়ী ছদ্মবেশে নদীয়ার নবদ্বীপে রাজা লক্ষণ সেনের রাজপ্রাসাদে আকস্মিক আক্রমণ করেন। অতর্কিত আক্রমণে বৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেন দুপুরের আহার ফেলে পেছনের দরজা দিয়ে পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে পালিয়ে যান। এর ফলে বাংলায় প্রথম মুসলিম অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

৮৬.সুলতান শিহাবউদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরির ভারত অভিযানের প্রধান ঐতিহাসিক কারণ বা উদ্দেশ্যসমূহ কী ছিল?
i. উত্তর ভারতে একটি স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্য বা সালতানাত প্রতিষ্ঠা করা
ii. গজনি রাজ্যের পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা সুদৃঢ় করা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী খিলজি ও গজনভিদের দমন করা
iii. ভারতের বিপুল ধন-সম্পদ অর্জন এবং ইসলাম সংস্কৃতির বিস্তার করা
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (d) i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: সুলতান মুহাম্মদ ঘুরি কেবল সুলতান মাহমুদের মতো ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করতে ভারতে আসেননি, তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ভারতে একটি স্থায়ী মুসলিম রাজনৈতিক শক্তি তৈরি করা। তাঁর এই দূরদর্শিতার কারণেই ১১৯২ সালে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধের মাধ্যমে দিল্লিতে স্থায়ী তুর্কি শাসনের ভিত্তি গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে তাঁর বিশ্বস্ত দাস কুতুবউদ্দিন আইবকের হাত ধরে ‘দিল্লি সালতানাত’-এ রূপ নেয়।

৮৭.আরবরা যখন ৭১২ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধু দেশ আক্রমণ করে, তখন সিন্ধুর ব্রাহ্মণ রাজবংশের প্রধান ও রাজা দাহিরের মূল রাজধানী কোথায় অবস্থিত ছিল?
(a) আলোর (Alor / Aror)
(b) ব্রাহ্মণাবাদ
(c) দেবল
(d) মূলতান
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: রাজা দাহিরের মূল প্রশাসনিক কেন্দ্র তথা সিন্ধুর প্রাচীন রাজধানী ছিল ‘আলোর’ (বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের সুক্কুর ও খায়েরপুর অঞ্চলের নিকটবর্তী আরোর)। সিন্ধু অভিযানের সময় মুহাম্মদ বিন কাসিম প্রথমে সমুদ্রোপকূলের ‘দেবল’ বন্দর জয় করেন, এরপর ‘ব্রাহ্মণাবাদ’ এবং সবশেষে রাজধানী ‘আলোর’ দুর্গ জয় করে রাজা দাহিরের পতন নিশ্চিত করেন।

৮৮.উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:
“তিনি ছিলেন মধ্য এশিয়ার এক অপ্রতিরোধ্য সামরিক প্রতিভার অধিকারী, যিনি বিদ্যুৎগতিতে একের পর এক দেশ জয় করে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। খাইবার পাস পেরিয়ে তিনি উত্তর-পশ্চিম ভারতের প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত করেন এবং তাঁর অপরাজেয় সামরিক কৌশলের কারণে বিশ্ব ইতিহাসের বহু ঐতিহাসিক তাঁকে গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের সাথে তুলনা করেছেন।”
উদ্দীপকের এই অনন্য সমরকুশলী বৈশিষ্ট্যের সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের পাঠ্যবইয়ের কোন বিখ্যাত বীরের তুলনা করা চলে?
(a) সুলতান মাহমুদ (Sultan Mahmud)
(b) সবুক্তগীন
(c) আল্পতগীন
(d) বখতিয়ার খলজি
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: গজনির সুলতান মাহমুদকে তাঁর অসাধারণ সামরিক প্রজ্ঞা, রণকৌশল এবং টানা ১৭ বার ভারত অভিযানে অপরাজিত থাকার কারণে অনেক ইতিহাসবিদ ও সমসাময়িক লেখকেরা ‘ইসলামের আলেকজান্ডার’ বা মধ্যযুগের আলেকজান্ডার হিসেবে অভিহিত করেছেন। আলেকজান্ডারের মতোই তাঁর সেনাবাহিনীতে কঠোর শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা ছিল। (তবে মনে রাখতে হবে, আলেকজান্ডার কোনো ধর্মীয় প্রচার করেননি, যা মূল প্রশ্নের ভুল ব্যাখ্যায় লেখা ছিল)।

৮৯.ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামি রাজনৈতিক ক্ষমতার স্থায়ী বিস্তার এবং ‘দিল্লি সালতানাত’-এর মূল ভিত্তি বা স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কে?
(a) মুহাম্মদ বিন কাসিম
(b) সুলতান মাহমুদ গজনি
(c) মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরি (Mu’izz al-Din Muhammad Ghori)
(d) কুতুবউদ্দিন আইবক
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা: ভারতবর্ষে প্রথম মুসলিম পা পড়েছিল মুহাম্মদ বিন কাসিমের (৭১২ খ্রি.) হাত ধরে কিন্তু তা সিন্ধু ও মূলতানের বাইরে ছড়ায়নি। সুলতান মাহমুদ (১০০০-১০২৭ খ্রি.) ১৭ বার আক্রমণ করলেও তা ছিল লুণ্ঠন ও প্রভাব বিস্তারের কেন্দ্রিক। কিন্তু ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ চৌহানকে পরাজিত করে মুহাম্মদ ঘুরি ভারতে স্থায়ীভাবে মুসলিম সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপন করেন। এই জন্য তাঁকে ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।

৯০.প্রাচীন ভারতের সনাতন হিন্দু সমাজব্যবস্থায় বর্ণপ্রথার চরম আধিপত্য ও কঠোর অনুশাসনের ইঙ্গিত বহন করে নিচের কোন বৈশিষ্ট্যটি?
(a) উচ্চবর্ণের পুরুষদের মাঝে বহুবিবাহের ব্যাপক প্রচলন থাকলেও সমাজ কর্তৃক বিধবা বিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকা
(b) নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায় অংশ নেওয়ার অধিকার থাকা
(c) সকল জাতির জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ থাকা
(d) প্রজাদের ইচ্ছানুযায়ী কর প্রদানের ব্যবস্থা থাকা
সঠিক উত্তর: (a)
ব্যাখ্যা: প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় হিন্দু সমাজে মনুস্মৃতি ও সামাজিক প্রথার কারণে বর্ণপ্রথা অত্যন্ত কঠোর ছিল। সমাজে কুলীন প্রথার কারণে পুরুষদের বহুবিবাহকে আভিজাত্যের প্রতীক মনে করা হলেও, নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে উচ্চবর্ণের (ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়) বিধবাদের পুনর্বিবাহ সম্পূর্ণ অস্পৃশ্য ও নিষিদ্ধ ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের ‘সতীদাহ প্রথা’ বা স্বামীর চিতায় আত্মাহুতি দিতে বাধ্য করা হতো। এটি প্রাচীন ভারতের রক্ষণশীল সামাজিক ব্যবস্থার চরম ইঙ্গিত দেয়। পরবর্তীতে ১৯ শতকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদানে ১৮৫৬ সালে লর্ড ক্যানিংয়ের আমলে ‘বিধবা বিবাহ আইন’ পাস হয়।

৯১.সুলতান মাহমুদ ভারত অভিযানের বিপুল ধন-রত্ন ব্যবহার করে তাঁর রাজধানী গজনিকে স্থাপত্যের নগরীতে পরিণত করতে যে বিশ্ববিখ্যাত ও অনিন্দ্যসুন্দর জামে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন, প্রাচ্যের ইতিহাসে তার উপাধি বা ডাকনাম কী ছিল?
(a) কুওয়াত-উল-ইসলাম
(b) আড়াই দিন কা ঝোপড়া
(c) স্বর্গীয় বধূ বা আকাশের কনে (Celestial Bride / Uros-ul-Falak)
(d) বিবি মসজিদ
সঠিক উত্তর: (c)
ব্যাখ্যা: (মূল প্রশ্নের ব্যাখ্যায় ‘বিবি মসজিদ’ তথ্যটি ভুল ছিল)। সুলতান মাহমুদ ১০১৮-১০২০ খ্রিস্টাব্দের দিকে ভারতের কনৌজ ও মথুরা অভিযানের পর অর্জিত অর্থ ও শ্বেতপাথর দিয়ে গজনিতে একটি মহিমান্বিত ও জমকালো কেন্দ্রীয় রাজকীয় মসজিদ নির্মাণ করেন। এর অবিশ্বাস্য পারস্য-ইসলামি কারুকার্য, মার্বেল পাথরের কাজ ও সৌন্দর্যের কারণে সমসাময়িক ঐতিহাসিকগণ এবং আরবরা এই মসজিদটিকে ‘আরুস-উল-ফালাক’ (Uros-ul-Falak) বা বাংলায় ‘স্বর্গীয় বধূ’ (Celestial Bride) নামে অভিহিত করেছিলেন।

৯২.উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও:
“একটি অঞ্চলের একজন অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও রণকুশলী শাসক পার্শ্ববর্তী অবিন্যস্ত ও বিভক্ত রাজ্যগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিয়ে পর পর বহুবার আক্রমণ চালান এবং প্রতিটি আক্রমণেই তিনি সেখানকার রাজনৈতিক ক্ষমতার চেয়ে কেবল বিপুল ধন-সম্পদ ও যুদ্ধলব্ধ ঐশ্বর্য জয় করে নিজের মূল রাজধানী ও রাজ্যের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটান।”
উদ্দীপকের এই বর্ণনার সাথে ভারতের মধ্যযুগীয় ইতিহাসের কোন শাসকের চরিত্রের মিল পাওয়া যায়?
(a) মুহাম্মদ বিন কাসিম
(b) সুলতান মাহমুদ গজনি
(c) সুলতান মুহাম্মদ ঘুরি
(d) কুতুবউদ্দিন আইবক
সঠিক উত্তর: (b)
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকের এই বিবরণটি শতভাগ গজনির সুলতান মাহমুদের সাথে মিলে যায়। সুলতান মাহমুদ ১০০০ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ভারতবর্ষে মোট ১৭ বার সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের আলগা হয়ে যাওয়া রাজপুত রাজ্যগুলোর সঞ্চিত ধন-সম্পদ (যেমন মথুরা, কনৌজ ও সোমনাথ মন্দিরের ধনরত্ন) গজনিতে নিয়ে যাওয়া এবং তা দিয়ে গজনিকে মধ্য এশিয়ার শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্রে রূপ দেওয়া, ভারতে স্থায়ী রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা তাঁর লক্ষ্য ছিল না।

৯৩.ভারতের ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনকারী বীর সুলতান মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরি ব্যক্তিগত ও শাসক হিসেবে কেমন চরিত্রের অধিকারী ছিলেন?
i. অসাধারণ কূটনৈতিক প্রজ্ঞা এবং পরাজয়ের পর দমে না যাওয়ার মতো অদম্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী
ii. মধ্যযুগীয় সমরবিদ্যার একজন অত্যন্ত দক্ষ দূরদর্শী সংগঠক ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সেনানায়ক
iii. নিজের কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় বিশ্বস্ত ও যোগ্য ক্রীতদাসদের (মামলুক) সন্তানবৎ স্নেহ ও শাসনভারের যোগ্য করে গড়ে তোলার মতো অনন্য মানসিকতাসম্পন্ন
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (d) i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ ঘুরি কেবল একজন সাহসী যোদ্ধাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন চরম বাস্তববাদী সুসংগঠিত নেতা। ১১৯১ সালে তরাইনের প্রথম যুদ্ধে পৃথ্বীরাজের কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পরও তিনি ভেঙে পড়েননি, বরং পরের বছরই নিখুঁত পরিকল্পনা নিয়ে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে জয়ী হন। তাঁর কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় তিনি তাঁর তুর্কি দাসদের (যেমন কুতুবউদ্দিন আইবক, বখতিয়ার খলজি) নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন এবং সামরিক দিক থেকে যোগ্য করে তুলেছিলেন, যার ফলেই ভারতে দাস বংশ বা সালতানাতের জন্ম হয়।

৯৪.১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে স্কটিশ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টোডিয়ান হিউমের (A. O. Hume) উদ্যোগে বোম্বেতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ‘উদারপন্থী রাজনৈতিক দল’ ব্রিটিশ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের (Indian National Congress) প্রাথমিক বা মূল লক্ষ্য কী ছিল?
i. ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষিত জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটানো
ii. ব্রিটিশ সরকারের কাছে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ভারতীয়দের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের দাবি তুলে ধরে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা
iii. ব্রিটিশদের তাড়িয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের স্বরাজ বা পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করা
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (a) i ও ii
ব্যাখ্যা: ১৮৮৫ সালে যখন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তাদের লক্ষ্য চরমপন্থী বা বৈপ্লবিক ছিল না। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষিত ও পেশাজীবী সমাজকে এক ছাতার নিচে এনে একটি অসাম্প্রদায়িক ‘জাতীয় ঐক্য’ তৈরি করা এবং আলোচনার মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে দেশীয় জনগণের প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা ও স্বায়ত্তশাসন আদায় করা। পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি অনেক পরে (১৯২৯ সালের লাহোর অধিবেশনে ‘পূর্ণ স্বরাজ’) উত্থাপিত হয়েছিল।

৯৫.১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন কর্তৃক ভারতের সর্ববৃহৎ ‘বাংলা প্রেসিডেন্সি’ প্রদেশকে বিভক্ত করার বা ঐতিহাসিক ‘বঙ্গভঙ্গ’ (Partition of Bengal) ঘোষণার মূল নেপথ্য কারণ কী ছিল?
i. প্রশাসনিক কারণ: বিশাল বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত একক প্রদেশটি একজন মাত্র গভর্নরের পক্ষে সুশাসন নিশ্চিত করা অসম্ভব ছিল
ii. রাজনৈতিক কারণ: কলকাতার হিন্দু শিক্ষিত মধ্যবিত্তের নেতৃত্বাধীন উদীয়মান জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করা এবং ‘ভাগ কর শাসন কর’ (Divide and Rule) নীতির প্রয়োগ ঘটানো
iii. অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণ: অবহেলিত পূর্ববঙ্গ ও আসামের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের দীর্ঘদিনের সামাজিক উন্নয়ন ও রাজধানী ঢাকার পুনর্জাগরণ নিশ্চিত করা
নিচের কোনটি সঠিক?
(a) i ও ii
(b) i ও iii
(c) ii ও iii
(d) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (d) i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর কার্যকর হওয়া বঙ্গভঙ্গের পেছনে একাধিক দ্বিমুখী কারণ ছিল। ব্রিটিশদের প্রকাশ্য ও দাপ্তরিক অজুহাত ছিল ‘প্রশাসনিক সুবিধার অভাব’, যা আংশিক সত্য। তবে তাদের মূল রাজনৈতিক চাল ছিল কলকাতার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া এবং হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দূরত্ব তৈরি করা। অপরদিকে পূর্ববঙ্গের (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী) শোষিত মুসলিম ও সাধারণ কৃষকদের কাছে এটি ছিল অর্থনৈতিক ও শিক্ষা ক্ষেত্রে মুক্তির এক নতুন আশার আলো।

৯৬.ব্রিটিশ নীলকর এবং অত্যাচারী জমিদারদের সশস্ত্র প্রতিরোধ করতে বাংলার বীর সন্তান মীর নিসার আলী তিতুমীর ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে কোথায় তাঁর ঐতিহাসিক এবং কিংবদন্তি ‘বাঁশের কেল্লা’ (Bamboo Castle) নির্মাণ করেছিলেন?
(a) নদীয়া
(b) বারাসতের নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়া (Narikelbaria)
(c) ২৪ পরগনা
(d) যশোর
সঠিক উত্তর: (b)
ব্যাখ্যা: তিতুমীর অত্যাচারী হিন্দু জমিদার (যেমন কৃষ্ণদেব রায়) এবং ব্রিটিশদের নীলকুঠির অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাধারণ কৃষকদের সংগঠিত করে ২৪ পরগনা জেলার বারাসত মহকুমার অন্তর্গত নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে একটি শক্তিশালী দ্বী-স্তরবিশিষ্ট ‘বাঁশের কেল্লা’ নির্মাণ করেন। এটি ছিল তাঁর বাঁশের তৈরি এক দুর্ভেদ্য সদর দপ্তর ও কেল্লা। ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের ১৯শে নভেম্বর ব্রিটিশ সেনাপতি মেজর স্কটের আধুনিক কামান ও গোলন্দাজ বাহিনীর গোলার আঘাতে এই বিখ্যাত বাঁশের কেল্লা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং তিতুমীর বীরের মতো লড়াই করে শাহাদাত বরণ করেন।


HSC Islamic History 2nd Paper Top 100 MCQ PDF Download

সমাধানে যদি কোনো ভুল খুঁজে পান, তবে দয়া করে আমাদের জানিয়ে সাহায্য করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার রেটিং দিন:

Scroll to Top