SSC পরীক্ষার্থীদের জন্য উমর ফারুক কবিতার স্মার্ট নোট সহজ, সুসংগঠিত ও পরীক্ষাভিত্তিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এই নোটে কবিতার পাঠ পরিচিতি, কবিতার ব্যাখ্যা, মূলভাব এবং লেখক পরিচিতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসহ তুলে ধরা হয়েছে।
কবিতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত বুঝতে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখতে এবং পরীক্ষায় সুন্দরভাবে উত্তর লিখতে পারে। SSCপরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই স্মার্ট নোটটি একটি কার্যকর সহায়িকা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
উমর ফারুক কবিতার স্মার্ট নোট
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
★ পরিচয়: কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও সঙ্গীতজ্ঞ। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তাঁর প্রধান পরিচয় কবি।
★ জাতীয় পরিচয়: তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তাঁর সাহিত্যিক জীবনের সময়কাল ছিল মাত্র প্রায় ২৩ বছর, কিন্তু এই স্বল্প সময়ে তাঁর সৃষ্টির পরিমাণ ছিল অসাধারণ।
★ জন্ম: ২৪ মে ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দ; বাংলা তারিখ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ।
★ জন্মস্থান: চুরুলিয়া গ্রাম, আসানসোল মহকুমা, বর্ধমান জেলা, পশ্চিমবঙ্গ।
★ পারিবারিক পরিচয়: বাঙালি মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
★ পিতা: কাজী ফকির আহমদ — স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মাজারের খাদেম।
★ মাতা: জাহেদা খাতুন।
★ ডাকনাম: দুখু মিয়া।
★ ভাই-বোন: তিন ভাইয়ের মধ্যে কনিষ্ঠ ছিলেন কাজী আলী হোসেন; দুই বোনের মধ্যে ছিলেন কাজী সাহেবজান ও উম্মে কুলসুম।
★ শৈশবের শিক্ষা: মক্তবে কুরআন, ইসলাম ধর্ম, দর্শন ও ইসলামী ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন করেন।
★ শৈশবের পেশা: মক্তবে শিক্ষকতা, মসজিদে মুয়াজ্জিনের কাজ এবং হাজি পালোয়ানের কবরের সেবকের কাজ করেন।
★ পিতৃবিয়োগ: ১৯০৮ সালে পিতার মৃত্যু হলে মাত্র ৯ বছর বয়সে পারিবারিক অভাব-অনটনের মুখে পড়েন।
★ শিক্ষাজীবনের বাধা: অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে মাত্র ১০ বছর বয়সেই জীবিকা অর্জনের জন্য কাজে নামতে হয়।
★ ইসলামী চেতনার প্রভাব: মক্তব, মসজিদ ও মাজারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে শৈশবেই ইসলামের মৌলিক আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয় লাভ করেন। এই অভিজ্ঞতা পরবর্তীকালে তাঁর সাহিত্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
লেটো দলের জীবন
★ লেটো দলে যোগদান: বাল্যকালেই লোকশিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে লেটো দলে যোগ দেন।
★ লেটো কী: বাংলার রাঢ় অঞ্চলের কবিতা, গান ও নৃত্যের মিশ্র আঙ্গিকের ভ্রাম্যমাণ নাট্যদল।
★ চাচা: কাজী বজলে করিম ছিলেন চুরুলিয়া অঞ্চলের লেটো দলের বিশিষ্ট উস্তাদ।
★ ভাষাজ্ঞান: বজলে করিম আরবি, ফার্সি ও উর্দু ভাষায় পারদর্শী ছিলেন এবং মিশ্র ভাষায় গান রচনা করতেন।
★ লেটো দলের প্রভাব: লেটো দলের মাধ্যমে নজরুল অভিনয়, গান ও কবিতা রচনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
★ সাহিত্যচর্চার সূচনা: লেটো দলেই তাঁর সাহিত্যচর্চার প্রাথমিক বিকাশ ঘটে।
★ অধ্যয়ন: লেটো দলের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত সাহিত্য এবং হিন্দু ধর্মগ্রন্থ ও পুরাণ অধ্যয়ন করেন।
★ লেটো দলের জন্য রচনা: ‘চাষার সঙ’, ‘শকুনীবধ’, ‘রাজা যুধিষ্ঠিরের সঙ’, ‘দাতা কর্ণ’, ‘আকবর বাদশাহ’, ‘কবি কালিদাস’, ‘বিদ্যাভূতুম’, ‘রাজপুত্রের গান’ প্রভৃতি রচনা করেন।
★ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: ইসলামী পরিবেশ ও হিন্দু সংস্কৃতির পাশাপাশি অভিজ্ঞতা অর্জনের ফলে তাঁর সাহিত্যিক চেতনায় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ও মানবতাবাদী ভাবনা বিকশিত হয়।
শিক্ষাজীবন
★ ১৯১০: লেটো দল ছেড়ে পুনরায় ছাত্রজীবনে ফিরে আসেন।
★ প্রথম স্কুল: রাণীগঞ্জের সিয়ারসোল রাজ স্কুল।
★ পরবর্তী স্কুল: মাথরুন উচ্চ ইংরেজি স্কুল।
★ প্রধান শিক্ষক: কুমুদরঞ্জন মল্লিক।
★ কুমুদরঞ্জন মল্লিকের প্রভাব: তাঁর সান্নিধ্য নজরুলের সাহিত্যিক অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস ছিল।
★ অর্থনৈতিক সমস্যা: ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর অর্থাভাবে আবার কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
★ কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়: বাসুদেবের কবিদলে যোগদান, রেলওয়ে গার্ডের খানসামার কাজ এবং আসানসোলের চা-রুটির দোকানে রুটি তৈরির কাজ করেন।
★ রফিজউল্লাহ: আসানসোলের দারোগা রফিজউল্লাহ নজরুলের প্রতিভা চিনতে পারেন।
★ ১৯১৪: রফিজউল্লাহর সহায়তায় ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন।
★ ১৯১৫: পুনরায় সিয়ারসোল রাজ স্কুলে ফিরে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন।
★ ১৯১৭: মাধ্যমিকের প্রিটেস্ট পরীক্ষা না দিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
★ প্রভাবশালী শিক্ষক: সতীশচন্দ্র কাঞ্জিলাল, নিবারণচন্দ্র ঘটক, হাফিজ নুরুন্নবী ও নগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সৈনিক জীবন
★ সেনাবাহিনীতে যোগদান: ১৯১৭ সালের শেষদিকে।
★ প্রথম অবস্থান: কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম।
★ প্রশিক্ষণ: সীমান্ত প্রদেশের নওশেরায়।
★ সৈনিক জীবন: করাচি সেনানিবাসে অবস্থান করেন।
★ সেনাবাহিনীতে অবস্থানের সময়: ১৯১৭ সালের শেষভাগ থেকে ১৯২০ সালের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত; প্রায় আড়াই বছর।
★ রেজিমেন্ট: ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্ট।
★ পদোন্নতি: সাধারণ সৈনিক → কর্পোরাল → কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার।
★ ফার্সি শিক্ষা: রেজিমেন্টের পাঞ্জাবি মৌলবির কাছে ফার্সি ভাষা শেখেন।
★ সাহিত্যচর্চা: করাচি সেনানিবাসে থেকেও গদ্য-পদ্য ও সংগীতচর্চা অব্যাহত রাখেন।
★ প্রথম গদ্য রচনা: বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী।
★ প্রথম প্রকাশিত কবিতা: মুক্তি।
★ করাচিতে রচিত গল্প: ‘হেনা’, ‘ব্যথার দান’, ‘মেহের নেগার’, ‘ঘুমের ঘোরে’, ‘কবিতা সমাধি’ প্রভৃতি।
★ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: সৈনিক থাকা অবস্থায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন; তাঁর বাহিনীর ইরাক যাওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ শেষ হওয়ায় তা আর হয়নি।
★ ১৯২০: যুদ্ধ শেষ হলে ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্ট ভেঙে দেওয়া হয় এবং নজরুল সৈনিক জীবন ত্যাগ করে কলকাতায় ফিরে আসেন।
সাংবাদিক জীবন
★ কলকাতায় প্রত্যাবর্তন: সৈনিক জীবন শেষে ৩২ নং কলেজ স্ট্রিটে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে বসবাস শুরু করেন।
★ সহবাসী: মুজফ্ফর আহমদ।
★ সাহিত্য-সাংবাদিকতা: এখান থেকেই তাঁর সাহিত্য ও সাংবাদিকতা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় শুরু হয়।
★ যেসব পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়: ‘মোসলেম ভারত’, ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’, ‘উপাসনা’ প্রভৃতি।
★ প্রথমদিকের উল্লেখযোগ্য রচনা: ‘বাঁধন হারা’, ‘বোধন’, ‘শাত-ইল-আরব’, ‘বাদল প্রাতের শরাব’, ‘আগমনী’, ‘খেয়া-পারের তরণী’, ‘কোরবানি’, ‘মোহররম’, ‘ফাতেহা-ই-দোয়াজদম’ প্রভৃতি।
★ ১৯২১: শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
★ রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সম্পর্ক: সাক্ষাতের পর থেকে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় ছিল।
★ বিশেষ বন্ধু: কাজী মোতাহার হোসেন।
★ নবযুগ: ১২ জুলাই ১৯২০ ‘নবযুগ’ সান্ধ্য দৈনিক প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদক ছিলেন এ. কে. ফজলুল হক।
★ নিয়মিত সাংবাদিকতার সূচনা: ‘নবযুগ’ পত্রিকার মাধ্যমে নজরুলের নিয়মিত সাংবাদিকতা শুরু হয়।
★ প্রবন্ধ: ‘মুহাজিরীন হত্যার জন্য দায়ী কে’ প্রবন্ধের কারণে পত্রিকার জামানত বাজেয়াপ্ত হয় এবং নজরুল পুলিশের নজরদারিতে আসেন।
বিদ্রোহী নজরুল
★ রাজনৈতিক সক্রিয়তা: অসহযোগ আন্দোলনের সময় নজরুল কুমিল্লায় সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে কাজ করেন।
★ কাজ: শোভাযাত্রা ও সভায় অংশগ্রহণ এবং গান পরিবেশন।
★ বিদ্রোহী চেতনার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ: বিদ্রোহী কবিতা।
★ বিদ্রোহী কবিতার প্রকাশ: ১৯২২ সালে।
★ প্রভাব: ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মাধ্যমে নজরুল সমগ্র ভারতের সাহিত্যসমাজে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন।
★ বিদ্রোহী কবিতার মূল চেতনা: শোষণ, অত্যাচার, অবমাননা ও উৎপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষা।
★ প্রসিদ্ধ পরিচয়: বিদ্রোহী কবিতার কারণে নজরুল ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।
ধূমকেতু ও কারাবরণ
★ ধূমকেতু পত্রিকা: ১২ আগস্ট ১৯২২ নজরুল ‘ধূমকেতু’ পত্রিকা প্রকাশ করেন।
★ প্রকাশের ধরন: সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হতো।
★ রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাদ: ‘ধূমকেতু’র জন্য রবীন্দ্রনাথ একটি আশীর্বাণী লিখেছিলেন।
★ আনন্দময়ীর আগমনে: ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২-এর ‘ধূমকেতু’ সংখ্যায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
★ পত্রিকা নিষিদ্ধ: রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশের কারণে ৮ নভেম্বর ১৯২২ সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।
★ যুগবাণী: ২৩ নভেম্বর ১৯২২ ‘যুগবাণী’ প্রবন্ধগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়।
★ গ্রেফতার: একই দিনে কুমিল্লা থেকে নজরুলকে গ্রেফতার করা হয়।
★ রাজবন্দীর জবানবন্দী: ৭ জানুয়ারি ১৯২৩ বিচারাধীন বন্দী হিসেবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে জবানবন্দি দেন। এটি বাংলা সাহিত্যে রাজবন্দীর জবানবন্দী নামে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে।
★ দণ্ড: ১৬ জানুয়ারির বিচারের পর তাঁকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
★ কারাগার: আলিপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন।
★ রবীন্দ্রনাথের উৎসর্গ: ২২ জানুয়ারি ১৯২৩ রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত গীতিনাট্য নজরুলকে উৎসর্গ করেন।
★ কারাগারে রচনা: ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ কবিতাটি কারাগারে রচনা করেন।
পারিবারিক জীবন
★ ১৯২১: আলী আকবর খানের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে কুমিল্লায় বিরজাসুন্দরী দেবীর বাড়িতে যান।
★ প্রমীলা দেবী: কুমিল্লায় তাঁর সঙ্গে প্রমীলা দেবীর পরিচয় হয়; পরে তাঁদের মধ্যে প্রণয় ও বিবাহ হয়।
★ নার্গিস আসার খানম: নজরুলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়েছিল; কিন্তু কাবিনের ঘরজামাই থাকার শর্ত নিয়ে বিরোধ হওয়ায় বিয়ে সম্পন্ন হয়নি।
★ সন্তান: নজরুল ও প্রমীলার চার সন্তানের নাম ছিল—
★ কৃষ্ণ মুহাম্মদ
★ অরিন্দম খালেদ (বুলবুল)
★ কাজী সব্যসাচী
★ কাজী অনিরুদ্ধ
★ সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি: সন্তানদের নামকরণেও বাংলা, আরবি ও ফারসি নামের সমন্বয় তাঁর সাম্যবাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার পরিচয় বহন করে।
অসুস্থতা ও মৃত্যু
★ অসুস্থতা: ১৯৪২ সালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
★ প্রধান প্রভাব: অসুস্থতার কারণে তাঁর বাকশক্তি হারিয়ে যায় এবং সক্রিয় সাহিত্যজীবনের অবসান ঘটে।
★ সাহিত্য থেকে বিচ্ছিন্নতা: ১৯৪২ থেকে ১৯৭৬ সালের মৃত্যু পর্যন্ত প্রায় ৩৪ বছর সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন।
★ ১৯৫২: নজরুল ও প্রমীলা দেবীকে রাঁচির একটি মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
★ নজরুল নিরাময় সমিতি: তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠিত সংগঠনটি তাঁকে চিকিৎসার উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
★ ১৯৫৩: চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাঠানো হয়।
★ ভিয়েনা: ড. হ্যান্স হফের অধীনে পরীক্ষা করা হয়।
★ রোগ নির্ণয়: ড. হ্যান্স হফ তাঁকে পিক্স ডিজিজ-এ আক্রান্ত বলে মত দেন।
★ ১৯৭২: বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে নজরুলকে সপরিবারে কলকাতা থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।
★ বাংলাদেশে জীবন: জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত বাংলাদেশেই অবস্থান করেন।
★ মৃত্যু: ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দ।
★ সমাধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।
★ জানাজা: তাঁর জানাজায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করে।
★ রাষ্ট্রীয় শোক: তাঁর মৃত্যুর পর বাংলাদেশে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হয়।
সাহিত্যকর্ম
কবিতা
★ বৈপ্লবিক সাহিত্যকর্ম: ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও ‘ভাঙ্গার গান’ সংগীত বাংলা কবিতা ও গানের ধারায় ব্যাপক পরিবর্তন আনে।
★ জনপ্রিয় কবিতা: ‘বিদ্রোহী’, ‘কামাল পাশা’ প্রভৃতি।
★ অগ্নিবীণা: ১৯২২ সালে প্রকাশিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
★ অগ্নিবীণার উল্লেখযোগ্য কবিতা:
★ প্রলয়োল্লাস
★ আগমনী
★ খেয়াপারের তরণী
★ শাত-ইল-আরব
★ বিদ্রোহী
★ কামাল পাশা
★ শিশুতোষ কবিতা: ‘খুকী ও কাঠবিড়ালি’, ‘লিচু-চোর’, ‘খাঁদু-দাদু’ প্রভৃতি।
★ ধর্মীয় বৈচিত্র্য: কালীদেবীকে নিয়ে শ্যামাসংগীত এবং ইসলামী গজল—উভয় ধারাতেই রচনা করেছেন।
★ মূল কবিতার বিষয়: শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মানবতা, সাম্য, স্বাধীনতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সামাজিক ন্যায়।
সংগীত
★ নজরুলের গান: নজরুলের গান নজরুলসংগীত নামে পরিচিত।
★ গানের সংখ্যা: আপলোড করা উৎসে চার হাজারের অধিক এবং অন্যত্র আট হাজারের অধিক গানের উল্লেখ রয়েছে; উৎস অনুযায়ী বহু গান সংরক্ষিত হয়নি।
★ বেতারে যোগদান: ১৯৩৮ সালে কলকাতা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন।
★ বেতারের অনুষ্ঠান:
★ হারামণি
★ নবরাগমালিকা
★ গীতিবিচিত্রা
★ হারামণি: বিলুপ্তপ্রায় ও কম প্রচলিত রাগরাগিণী নিয়ে গান পরিবেশন করতেন।
★ রাগ নিয়ে রচনা: হারিয়ে যাওয়া রাগের ওপর ৪০টিরও বেশি গান রচনা করেন।
★ সংগীতের বৈশিষ্ট্য: হিন্দু ও মুসলিম উভয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, দেশাত্মবোধ, প্রেম, আধ্যাত্মিকতা ও মানবতার বিভিন্ন বিষয় তাঁর গানে প্রকাশ পেয়েছে।
গদ্য, গল্প ও উপন্যাস
★ প্রথম গদ্য রচনা: বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী।
★ প্রকাশ: ১৯১৯ সালের মে মাসে ‘সওগাত’ পত্রিকায় প্রকাশিত।
★ রচনাস্থান: করাচি সেনানিবাসে রচনা করেন।
★ গল্প: ‘হেনা’, ‘ব্যথার দান’, ‘মেহের নেগার’, ‘ঘুমের ঘোরে’ প্রভৃতি।
★ গল্পগ্রন্থ: ব্যথার দান — ১৯২২ সালে প্রকাশিত।
★ প্রবন্ধগ্রন্থ: যুগবাণী — ১৯২২ সালে প্রকাশিত।
★ উপন্যাস: আপলোড করা উৎসে তাঁর তিনটি উপন্যাস রচনার কথা উল্লেখ আছে; প্রারম্ভিক উল্লেখযোগ্য উপন্যাস বাঁধন হারা।
চলচ্চিত্রে নজরুল
★ ধূপছায়া: নজরুল ‘ধূপছায়া’ চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন এবং এতে অভিনয়ও করেন।
★ জামাই ষষ্ঠী: ১৯৩১ সালের প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্র ‘জামাই ষষ্ঠী’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
★ গৃহদাহ: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত ‘গৃহদাহ’ চলচ্চিত্রের সুরকার ছিলেন।
★ ধ্রুব: ১৯৩৩ সালের চলচ্চিত্রে গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক।
★ গ্রহের ফের: ১৯৩৭ সালের চলচ্চিত্রে সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক।
★ পাতালপুরী: ১৯৩৫ সালের চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালক।
★ গোরা: ১৯৩৮ সালের চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালক।
★ সাপুড়ে: ১৯৩৯ সালের চলচ্চিত্রের কাহিনীকার ও সুরকার।
★ চৌরঙ্গী: গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক; হিন্দি চলচ্চিত্রটির জন্য ৭টি হিন্দি গান লেখেন।
রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শ
★ রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ: মুজফ্ফর আহমদের সঙ্গে থাকার সময় তাঁর রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে।
★ সমাজতান্ত্রিক প্রভাব: ১৯১৭ সালের রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব তাঁকে প্রভাবিত করে।
★ সাম্যবাদী রচনা: ‘সাম্যবাদী’ ও ‘সর্বহারা’ কবিতাগুচ্ছ প্রকাশ করেন।
★ পত্রিকা: ‘লাঙল’ ও ‘গণবাণী’-তে রাজনৈতিক ও সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার লেখা প্রকাশ করেন।
★ ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরোধিতা: গোড়ামি, রক্ষণশীলতা, ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন।
★ কামাল পাশার প্রভাব: তাঁর রাজনৈতিক চিন্তায় মোস্তফা কামাল পাশার প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
★ অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলন: তিনি এই আন্দোলনগুলোতে অংশ নিলেও তাদের আদর্শের সঙ্গে পুরোপুরি একমত ছিলেন না।
★ স্বাধীনতার ধারণা: তিনি স্বাধীনতা ও স্বরাজ অর্জনের জন্য বিপ্লবী সংগ্রামের পক্ষে ছিলেন।
★ সাম্যবাদ: শোষণমুক্ত সমাজ ও মানুষের সমতার প্রতি তাঁর গভীর সমর্থন ছিল।
সম্মাননা ও পুরস্কার
★ ১৯৪৫: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক জগত্তারিণী স্বর্ণপদক লাভ।
★ ১৯৬০: ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ লাভ।
★ ১৯৭৪: বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় কবি হিসেবে মর্যাদা লাভ।
★ ২০২৪: বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও গেজেট প্রকাশ করা হয়।
★ রণসঙ্গীত: তাঁর রচিত ‘চল্ চল্ চল্, ঊর্ধ্বগগনে বাজে মাদল’ বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে গৃহীত।
★ ১৯৭৪: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
★ ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫: বঙ্গভবনে বিশেষ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
★ জানুয়ারি ১৯৭৬: বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে।
★ ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬: তাঁকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
★ ১৯৭৭: মৃত্যুর পর তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
পরীক্ষায় অতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য — এক নজরে
★ জন্ম — ২৪ মে ১৮৯৯
★ জন্মস্থান — চুরুলিয়া, বর্ধমান
★ ডাকনাম — দুখু মিয়া
★ পিতার নাম — কাজী ফকির আহমদ
★ লেটো দলে যোগ — বাল্যকাল
★ লেটো দল ত্যাগ — ১৯১০
★ দরিরামপুর স্কুলে ভর্তি — ১৯১৪
★ সেনাবাহিনীতে যোগ — ১৯১৭
★ রেজিমেন্ট — ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্ট
★ সৈনিক জীবন — ১৯১৭–১৯২০
★ প্রথম গদ্য — বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী
★ প্রথম প্রকাশিত কবিতা — মুক্তি
★ সাংবাদিকতা শুরু — নবযুগ
★ ধূমকেতু প্রকাশ — ১২ আগস্ট ১৯২২
★ বিদ্রোহী প্রকাশ — ১৯২২
★ অগ্নিবীণা প্রকাশ — ১৯২২
★ কারাবরণ — ১৯২২
★ কারাদণ্ড — এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড
★ কারাগার — আলিপুর কেন্দ্রীয় কারাগার
★ বসন্ত গীতিনাট্য উৎসর্গ — রবীন্দ্রনাথ→ নজরুল
★ অসুস্থতা — ১৯৪২
★ কলকাতা বেতারে আনুষ্ঠানিক যোগ — ১৯৩৮
★ প্রথম গদ্যগ্রন্থের রচনা — করাচি সেনানিবাসে
★ গল্পগ্রন্থ — ব্যথার দান
★ প্রবন্ধগ্রন্থ — যুগবাণী
★ জাতীয় কবির মর্যাদা — ১৯৭৪
★ ডি.লিট — ১৯৭৫
★ বাংলাদেশের নাগরিকত্ব — ১৯৭৬
★ একুশে পদক — ১৯৭৬
★ মৃত্যু — ২৯ আগস্ট ১৯৭৬
★ সমাধিস্থল — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে
★ রণসঙ্গীত — চল্ চল্ চল্, ঊর্ধ্বগগনে বাজে মাদল
★ প্রধান সাহিত্যিক পরিচয় — কবি
★ প্রধান আদর্শ — বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও শোষণবিরোধিতা
★ বিশেষ পরিচিতি — বিদ্রোহী কবি ও বাংলাদেশের জাতীয় কবি
উমর ফারুক কবিতার ব্যাখ্যা
তিমির রাত্রি – ‘এশা’র আযান শুনি দূর মসজিদে
প্রিয়-হারা কার কান্নার মতো এ-বুকে আসিয়ে বিঁধে!
ব্যাখ্যা:রাতের অন্ধকারে দূরের মসজিদ থেকে আসা এশার আজানের ধ্বনি শুনে কবির মনে হচ্ছে, এটি যেন প্রিয়জনকে হারানোর কোনো হৃদয়বিদারক কান্না।
আমির-উল-মুমেনিন,
তোমার স্মৃতি যে আযানের ধ্বনি জানে না মুয়াজ্জিন।
ব্যাখ্যা:হে মুসলমানদের নেতা (হজরত উমর), আজানের শব্দ শুনে মনে পড়ে আপনাকে; অথচ যিনি আজান দিচ্ছেন, তিনি নিজেই জানেন না তাঁর ধ্বনি আপনার স্মৃতির আলোড়ন তুলছে।
তকবির শুনি, শয্যা ছাড়িয়া চকিতে উঠিয়া বসি,
বাতায়নে চাই-উঠিয়াছে কি-রে গগনে মরুর শশী?
ব্যাখ্যা:আজানের তাকবির শুনে কবি লাফিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে জানালায় তাকান—মরুভূমির উজ্জ্বল চাঁদের মতো মহিমাম্বিত উমর কি আবার এসেছেন?
ও-আযান, ও কি পাপিয়ার ডাক, ও কি চকোরীর গান?
মুয়াজ্জিনের কন্ঠে ও কি ও তোমারি সে আহ্ববান?
ব্যাখ্যা:আজানের এই মিষ্টি সুর কি কোনো পাখির গান, নাকি আজানদাতার কণ্ঠ দিয়ে উমর নিজেই আমাদের সত্যের পথে ডাকছেন?
আবার লুটায়ে পড়ি।
‘সেদিন গিয়াছে’ – শিয়রের কাছে কহিছে কালের ঘড়ি।
ব্যাখ্যা:আবার নিরাশ হয়ে কবি পড়ে যান। সময়ের ঘড়ি কবির মাথার কাছে যেন টিকটিক করে বলছে—উমরের সেই সোনালী দিন এখন অতীত।
উমর! ফারুক! আখেরি নবীর ওগো দক্ষিণ-বাহু!
আহ্বান নয় – রূপ ধরে এস – গ্রাসে অন্ধতা-রাহু!
ব্যাখ্যা:হজরত উমর ছিলেন শেষ নবী (সাঃ)-এর ডান হাতের মতো প্রধান শক্তি। কবি আকুল আবেদন জানাচ্ছেন—শুধু স্মৃতির আজান হয়ে নয়, বাস্তব রূপ নিয়ে এসে সমাজকে গ্রাস করা অজ্ঞতা আর পাপের অন্ধকার দূর করুন।
ইসলাম-রবি, জ্যোতি তার আজ দিনে দিনে বিমলিন!
সত্যের আলো নিভিয়া-জ্বলিছে জোনাকির আলো ক্ষীণ।
ব্যাখ্যা:ইসলাম রূপ সূর্যের আলো আজ বিশ্বজুড়ে মলিন হয়ে গেছে; সত্যের আলো এখন জোনাকি পোকার মিটমিটে আলোর মতো দুর্বল।
শুধু অঙ্গুলি-হেলনে শাসন করিতে এ জগতের
দিয়াজিলে ফেলি মুহম্মদের চরণে যে-শমশের
ব্যাখ্যা:যে তলোয়ার দিয়ে আপনি একসময় বিশ্ব শাসন করতে পারতেন, মহানবী (সাঃ)-এর কাছে এসে সেই তলোয়ার ও নিজের অহংকার সমর্পণ করেছিলেন।
ফিরদৌস ছাড়ি নেমে এস তুমি সেই শমশের ধরি
আর একবার লোহিত-সাগরে লালে-লাল হয়ে মরি!
ব্যাখ্যা:জান্নাত (ফিরদৌস) ছেড়ে সেই তলোয়ার হাতে নিয়ে আপনি আবার আসুন, আমরা প্রয়োজনে রক্তসাগরে সাঁতার কেটে আবার সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করি।
ইসলাম – সে তো পরশ-মানিক তাকে কে পেয়েছে খুঁজি?
পরশে তাহার সোনা হল যারা তাদেরেই মোরা বুঝি।
ব্যাখ্যা:ইসলাম এমন এক স্পর্শমণি, যা মানুষকে সোনায় (খাঁটি মানুষে) পরিণত করে। উমর (রাঃ)-কে দেখলেই বোঝা যায় সেই ইসলামের আসল ক্ষমতা।
আজ বুঝি – কেন বলিয়াছিলেন শেষ পয়গম্বর-
‘মোরপরে যদি নবী হত কেউ, হত সে এক উমর।’
ব্যাখ্যা:উমরের এমন মহান চরিত্র দেখেই বিশ্বনবী (সাঃ) বলেছিলেন, “আমার পরে যদি কেউ নবী হওয়ার যোগ্যতা রাখত, তবে সে হতো উমর।”
অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখতে বসি
খেজুরপাতার প্রাসাদ তোমার বারে বারে গেছে খসি
সাইমুম-ঝড়ে। পড়েছ কুটির, তুমি পড়নি ক’ নুয়ে,
ঊর্ধ্বের যারা – পড়ছে তাহারা, তুমি ছিলে খাড়া ভূঁয়ে।
ব্যাখ্যা:অর্ধ-পৃথিবীর শাসক হয়েও আপনি মাটিতে বসে রাজত্ব চালিয়েছেন। আপনার খেজুরপাতার সাধারণ ঘর ঝড়ে ভেঙে পড়েছে, কিন্তু আপনার আদর্শ কখনো নোয়ায়নি। অহংকারী বিশ্বশাসকরা পতন লাভ করলেও আপনি সাধারণ মাটি আঁকড়ে বিজয়ী ছিলেন।
শত প্রলোভন বিলাস বাসনা ঐশ্বর্যের মদ
করেছে সালাম দূর হতে সব ছুঁইতে পারেনি পদ।
ব্যাখ্যা:সম্পদ, ক্ষমতা ও বিলাসবাসনা আপনাকে বিন্দুমাত্র প্রলুব্ধ করতে পারেনি; তারা দূর থেকে আপনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
সবারে ঊর্ধ্বে তুলিয়া ধরিয়া তুমি ছিলে সব নিচে,
বুকে করে সবে বেড়া করি পার, আপনি রহিলে পিছে।
ব্যাখ্যা:প্রজাদের সবার উপরে মর্যাদা দিয়ে নিজে সবার নিচে থেকেছেন। সবাইকে বিপদমুক্ত করে নিজে সবার পেছনে অবস্থান নিয়েছেন।
হেরি পশ্চাতে চাহি-
তুমি চলিয়াছ রৌদ্রদগ্ধ দূর মরুপথ বাহি
জেরুজালেমের কিল্লা যথায় আছে অবরোধ করি
বীর মুসলিম সেনাদল তব বহু দিন মাস ধরি।
ব্যাখ্যা:পেছনে তাকালে দেখি, কড়া রোদের মরুভূমি পেরিয়ে আপনি চলছেন জেরুজালেম দুর্গের দিকে, যা মুসলিম বাহিনী অনেক দিন ধরে ঘিরে রেখেছে।
দুর্গের দ্বার খুলিবে তাহারা বলেছে শত্রু শেষে-
উমর যদি গো সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করে এসে!
ব্যাখ্যা:খ্রিস্টান শত্রুরা শর্ত দিয়েছিল—সম্রাট উমর নিজে এসে চুক্তিতে সই করলেই তারা দুর্গের চাবি হস্তান্তর করবে।
হায় রে, আধেক ধরার মালিক আমির-উল-মুমেনিন
শুনে সে খবর একাকী উষ্ট্রে চলেছে বিরামহীন
সাহারা পারায়ে! ঝুলিতে দু খানা শুকনো ‘খবুজ’ রুটি
একটি মশকে একটুকু পানি খোর্মা দু তিন মুঠি।
ব্যাখ্যা:অর্ধ-পৃথিবীর মালিক খবর শুনে একা একটি উটে চড়ে রওনা হলেন। সাথে রসদ বলতে কেবল দুটি শুকনো রুটি, একটুখানি পানি আর অল্প কিছু খেজুর!
প্রহরীবিহীন সম্রাট চলে একা পথে উটে চড়ি
চলেছে একটি মাত্র ভৃত্য উষ্ট্রের রশি ধরি!
ব্যাখ্যা:কোনো দেহরক্ষী ছাড়া বিশ্বসম্রাট মরুভূমিতে চলছেন, আর তাঁর একমাত্র ভৃত্য সামনে উটের লাগাম ধরে হেঁটে চলেছে।
মরুর সূর্য ঊর্ধ্ব আকাশে আগুন বৃষ্টি করে,
সে আগুন-তাতে খই সম ফোটে বালুকা মরুর পরে।
ব্যাখ্যা:আকাশ থেকে রোদের আগুন ঝরছে, আর মরুভূমির বালু এত গরম যে মনে হচ্ছে কড়াইয়ের খইয়ের মতো ফুটছে।
কিছুদূর যেতে উঠ হতে নামি কহিলে ভৃত্যে, ‘ভাই
পেরেশান বড় হয়েছ চলিয়া! এইবার আমি যাই
উষ্ট্রের রশি ধরিয়া অগ্রে, তুমি উঠে বস উটে,
তপ্ত বালুতে চলি যে চরণে রক্ত উঠেছে ফুটে।’
ব্যাখ্যা:কিছুদূর গিয়ে উমর উট থেকে নেমে ভৃত্যকে বললেন, “ভাই, হেঁটে হেঁটে তুমি ক্লান্ত! গরম বালুতে হেঁটে তোমার পা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। এবার তুমি উটে বসো, আমি লাগাম ধরে হাঁটি।”
…ভৃত্য দস্ত চুমি
কাঁদিয়া কহিল, ‘উমর! কেমনে এ আদেশ কর তুমি?
উষ্ট্রের পিঠে আরাম করিয়া গোলাম রহিবে বসি
আর হেঁটে যাবে খলিফা উমর ধরি সে উটের রশি?’
ব্যাখ্যা:ভৃত্য উমরের হাত চুমু খেয়ে কেঁদে বলল, “হে খলিফা, আমি গোলাম হয়ে উটে আরামে বসব আর আপনি পায়ে হেঁটে উট টানবেন? এটা কীভাবে সম্ভব?”
খলিফা হাসিয়া বলে,
‘তুমি জিতে গিয়ে বড় হতে চাও, ভাই রে, এমনি ছলে।
রোজ-কিয়ামতে আল্লাহ যে দিন কহিবে, ‘উমর! ওরে
করেনি খলিফা, মুসলিম-জাঁহা তোর সুখ তরে তোরে।’
ব্যাখ্যা:খলিফা হেসে বললেন, “তুমি চতুরতা করে হাসর মাঠে আমার চেয়ে বেশি সওয়াব নিতে চাও! হাশরের দিন আল্লাহ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন—তোকে তো নিজের ভোগের জন্য সম্রাট বানাইনি, তখন আমি কী জবাব দেব?” (উমর ফারুক কবিতার স্মার্ট নোট)
কি দিব জওয়াব, কি করিয়া মুখ দেখাব রসুলে ভাই।
আমি তোমাদের প্রতিনিধি শুধু, মোর অধিকার নাই।
আরাম সুখের, -মানুষ হইয়া নিতে মানুষের সেবা।
ইসলাম বলে, সকলে সমান, কে বড় ক্ষুদ্র কেবা।
ব্যাখ্যা:নবীজী (সাঃ)-কে আমি কীভাবে মুখ দেখাব? আমি তো কেবল প্রজাদের সেবক। একজন মানুষ হয়ে অন্য মানুষের কাছ থেকে সেবা নেওয়ার অধিকার আমার নেই। ইসলামে সবাই সমান, কেউ বড় বা ছোট নয়।
ভৃত্য চড়িল উটের পৃষ্ঠে উমর ধরিল রশি,
মানুষে স্বর্গের তুলিয়া ধরিয়া ধুলায় নামিল শশী।
ব্যাখ্যা:অবশেষে ভৃত্য উটে চড়ল এবং উমর হাঁটা শুরু করলেন। যেন এক সাধারণ মানুষকে স্বর্গের মর্যাদায় তুলে দিয়ে খলিফা রূপ চাঁদ নিজে ধুলায় নেমে এলেন।
জানি না, সেদিন আকাশে পুষ্প বৃষ্টি হইল কিনা,
কি গান গাহিল মানুষে সেদিন বন্দী’ বিশ্ববীণা।
জানি না, সেদিন ফেরেশতা তব করেছে কি না স্তব-
অনাগত কাল গেয়েছিল শুধু, ‘জয় জয় হে মানব।’
ব্যাখ্যা:জানি না সেদিন আকাশ থেকে ফুল ঝরেছিল কি না, কিন্তু মানবতা ও সমতার এই অভূতপূর্ব দৃশ্যে মহাবিশ্ব ও ভবিষ্যৎ পৃথিবী যেন মানুষের বিজয়ের গান গেয়ে উঠেছিল।
তুমি নির্ভীক, এক খোদা ছাড়া করনি ক’ কারে ভয়,
সত্যব্রত তোমায় তাইতে সবে উদ্ধত কয়।
ব্যাখ্যা:আল্লাহ ছাড়া আপনি কাউকেই ভয় পেতেন না। আপনার কঠোর সত্যবাদিতার কারণে অনেকেই আপনাকে চরমপন্থী মনে করত।
মানুষ হইয়া মানুষের পূজা মানুষেরি অপমান,
তাই মহাবীর খালদেরে তুমি পাঠাইলে ফরমান,
সিপাহ-সালারে ইঙ্গিতে তব করিলে মামুলি সেনা,
বিশ্ব-বিজয়ী বীরেরে শাসিতে এতটুকু টলিলে না।
ব্যাখ্যা:মানুষ হয়ে অন্য মানুষের অন্ধপূজা করা মানবতার অপমান। বীর খালেদ বিন ওয়ালিদের প্রতি যেন প্রজা সাধারণের অতি-ভক্তি তৈরি না হয়, তাই এক নির্দেশে প্রধান সেনাপতি খালেদকে সাধারণ সৈনিকে পরিণত করতে আপনি দ্বিধা করেননি।
মানব-প্রেমিক! আজিকে তোমারে স্মরি,
মনে পড়ে তব মহত্ত্ব-কথা – সেদিন সে বিভাবরী
নগর-ভ্রমণে বাহিরিয়া তুমি দেখিতে পাইলে দূরে
মায়েরে ঘিরিয়া ক্ষুদাতুর দুটি শিশু সকরুণ সুরে
কাঁদিতেছে আর দুখিনী মাতা ছেলেরে ভুলাতে হায়,
উনানে শূন্য হাঁড়ি চড়াইয়া কাঁদিয়া অকুলে চায়।
ব্যাখ্যা:হে প্রজা-প্রেমিক! আজ আপনার কথা মনে পড়ছে। এক রাতে ছদ্মবেশে ঘুরে দেখার সময় আপনি দেখলেন, ক্ষুধার্ত দুটি শিশু কান্নাকাটি করছে আর মা শিশুদের ভোলাতে চুলায় খালি হাঁড়িতে পানি ফুটিয়ে কান্নাকাটি করছেন।
শুনিয়া সকল – কাঁদিতে কাঁদিতে ছুটে গেলে মদিনাতে
বায়তুল-মাল হইতে লইয়া ঘৃত আটা নিজ হাতে,
বলিলে, ‘এসব চাপাইয়া দাও আমার পিঠের ‘পরে,
আমি লয়ে যাব বহিয়া এ-সব দুখিনী মায়ের ঘরে’।
ব্যাখ্যা:এ দৃশ্য দেখে আপনি কেঁদে ফেললেন। সরকারি বায়তুলমাল (কোষাগার) থেকে আটা ও ঘি নিজের পিঠে চাপাতে বললেন সেই অসহায় পরিবারকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
কত লোক আসি আপনি চাহিল বহিতে তোমার বোঝা,
বলিলে, ‘বন্ধু, আমার এ ভার আমিই বহিব সোজা!
রোজ-কিয়ামতে কে বহিবে বল আমার পাপের ভার?
মম অপরাধে ক্ষুধায় শিশুরা কাঁদিয়াছে, আজি তার
প্রায়শ্চিত্ত করিব আপনি’ – চলিলে নিশীথ রাতে
পৃষ্ঠে বহিয়া খাদ্যের বোঝা দুখিনীর আঙিনাতে!
ব্যাখ্যা:অন্যরা আপনার বোঝা বহিতে চাইলে আপনি বললেন, “হাশরের দিন আমার অপরাধের বোঝা কে বইবে? আমার অবহেলায় শিশু দুটি কেঁদেছে, এর অনুশোচনা হিসেবে আমি নিজেই এই খাবারের বোঝা বয়ে নিয়ে যাব।”
এত যে কোমল প্রাণ,
করুণার বশে তবু গো ন্যায়ের করনি ক’ অপমান!
মদ্যপানের অপরাধে প্রিয় পুত্রেরে নিজ করে
মেরেছ দোররা, মরেছে পুত্রে তোমার চোখের পরে!
ব্যাখ্যা:আপনার হৃদয় এত দয়ালু হওয়া সত্ত্বেও ন্যায়ের বিচারে বিন্দুমাত্র ছাড় দেননি। মদ খাওয়ার অপরাধে নিজের সন্তানকে নিজ হাতে চাবুক মেরেছেন এবং সেই আঘাতেই সে মারা যায়।
ক্ষমা চাহিয়াছে পুত্র, বলেছ পাষাণে বক্ষ বাঁধি-
‘অপরাধ করে তোরি মতো স্বরে কাঁদিয়াছে অপরাধী।’
ব্যাখ্যা:ছেলে দয়া ভিক্ষা চাইলে বুক পাথর করে বলেছেন, “অপরাধ করার পর সব অপরাধীই তোর মতো এভাবে কান্নাকাটি করে, বিচারে কোনো মাফ নেই।”
আবু শাহমার গোরে
কাঁদিতে যাইয়া ফিরিয়া আসি গো তোমারে সালাম করে।
ব্যাখ্যা:আপনার সন্তান আবু শাহমার কবরে গিয়ে কেঁদে আসি এবং আপনার কঠোর ন্যায়বিচারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সালাম জানাই।
খাস দরবার ভরিয়া গিয়াছে হাজার দেশের লোকে,
‘কোথায় খলিফা’ কেবলি প্রশ্ন ভাসে উৎসুক চোখে,
একটি মাত্র পিরান কাচিয়া শুকায়নি তাহা বলে,
রৌদ্রে ধরিয়া বসিয়া আছে গো খলিফা আঙিনা-তলে।
ব্যাখ্যা:বিভিন্ন দেশের রাজদূত ও বিদেশি অতিথিতে দরবার ভর্তি। সবাই উৎসুক হয়ে খুঁজছে—কোথায় অর্ধ-জগতের খলিফা? আর খলিফা তখন একমাত্র পরিহিত জামাটি ধুয়ে শুকায়নি বলে উঠানে বসে সেটি রোদে শুকাচ্ছেন! (উমর ফারুক কবিতার স্মার্ট নোট)
হে খলিফাতুল-মুসলেমিন! হে চীরধারী সম্রাট!
অপমান তব করিব না আজ করিয়া নান্দী পাঠ,
মানুষেরে তুমি বলেছ বন্ধু, বলিয়াছ ভাই, তাই
তোমারে এমন চোখের পানিতে স্মরি গো সর্বদাই।
হে তালি দেওয়া পোশাক পরা মহান সম্রাট! মিথ্যা স্তুতি গেয়ে আপনাকে ছোট করব না। আপনি মানুষকে ভাই ও বন্ধু হিসেবে সমান মর্যাদা দিয়েছেন, তাই আপনাকে সবসময় ভালোবাসার অশ্রু দিয়ে স্মরণ করি।
উমর ফারুক কবিতার স্মার্ট নোট
★ “উমর ফারুক” কবিতার রচয়িতা — কাজী নজরুল ইসলাম।
★ কবিতার মূল চরিত্র — হজরত উমর (রাঃ)।
★ ‘এশা’র আজানের ধ্বনি শুনে কবির মনে হয় — প্রিয়-হারা কার কান্নার কথা।
★ আজানের তাকবির শুনে কবি শয্যা ছেড়ে — বাতায়নে (জানালায়) গিয়ে তাকান।
★ কবিতায় উমর (রাঃ)-কে তুলনা করা হয়েছে — মরুর শশীর সাথে।
★ ‘আখেরি নবী’ বলতে বোঝানো হয়েছে — হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে।
★ আখেরি নবীর ‘দক্ষিণ-বাহু’ বলা হয়েছে — উমর ফারুক (রাঃ)-কে।
★ ‘গ্রাসে অন্ধতা-রাহু’ চরণটিতে প্রকাশ পেয়েছে — অজ্ঞতা ও পাপাচার দূর করার আকুলতা।
★ “সত্যের আলো নিভিয়া-জ্বলিছে জোনাকির আলো ক্ষীণ” — বর্তমান সমাজে সত্যের দুর্বল অবস্থাকে নির্দেশ করে।
★ বিশ্ব শাসন করার ক্ষমতা থাকলেও উমর (রাঃ) তলোয়ার সমর্পণ করেছিলেন — হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর চরণে।
★ ‘শমশের’ শব্দের অর্থ — তলোয়ার।
★ রক্তে লালে-লাল হওয়ার কথা বলা হয়েছে — লোহিত-সাগরে।
★ কবি উমর (রাঃ)-কে নেমে আসতে অনুরোধ করেছেন — ফিরদৌস (জান্নাত) ছেড়ে।
★ ‘পরশ-মানিক’ বলা হয়েছে — ইসলামকে।
★ “মোরপরে যদি নবী হত কেউ, হত সে এক উমর” — উক্তিটি করেছেন শেষ পয়গম্বর (হজরত মুহাম্মদ সাঃ)।
★ উমর (রাঃ) কতটুকু পৃথিবী শাসন করেছিলেন — অর্ধ পৃথিবী।
★ উমর (রাঃ)-এর প্রাসাদ কিসের তৈরি ছিল — খেজুরপাতার।
★ উমর (রাঃ)-এর কুটির বারে বারে খসে পড়েছে — সাইমুম-ঝড়ে।
★ বীর মুসলিম সেনাদল দীর্ঘ দিন অবরুদ্ধ করে রেখেছিল — জেরুজালেমের কিল্লা (দুর্গ)।
★ জেরুজালেম দুর্গের দ্বার খুলতে শত্রুদের শর্ত ছিল — উমর (রাঃ) নিজে এসে সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করবেন।
★ জেরুজালেম যাত্রাকালে উমর (রাঃ)-এর সাথে রসদ ছিল — দু খানা শুকনো ‘খবুজ’ (রুটি), একটু পানি ও দু-তিন মুঠি খোর্মা।
★ ‘খবুজ’ শব্দের অর্থ — রুটি।
★ মরুপথে উমর (রাঃ)-এর সাথে ছিলেন — একটি মাত্র ভৃত্য।
★ মরুভূমির তপ্ত বালুতে হেঁটে পা ফেটে রক্ত বের হয়েছিল — ভৃত্য বা গোলামের।
★ ভৃত্যকে উটে চড়িয়ে উমর (রাঃ) নিজে — উটের রশি ধরে হেঁটেছিলেন।
★ “উমর! কেমনে এ আদেশ কর তুমি?” — উক্তিটি করেছিলেন ভৃত্য।
★ “ইসলাম বলে, সকলে সমান, কে বড় ক্ষুদ্র কেবা” — উক্তিটি করেছেন খলিফা উমর (রাঃ)।
★ ভৃত্য উটে চড়লে এবং উমর (রাঃ) রশি ধরলে কবি রূপক অর্থে বলেছেন — মানুষ স্বর্গে উঠল, আর ধুলায় নামল শশী।
★ অনাগত কাল মানুষের জয়গান গেয়েছিল — উমর (রাঃ) ও ভৃত্যের সমতার দৃষ্টান্ত দেখে।
★ উমর (রাঃ) এক খোদা ছাড়া আর কাউকেই ভয় করতেন না বলে তাঁকে অনেকে বলত — উদ্ধত।
★ উমর (রাঃ) সেনাপতির পদ থেকে সাধারণ সেনায় অবনত করেছিলেন — মহাবীর খালদ (খালেদ বিন ওয়ালিদ)-কে।
★ খালদ (রাঃ)-কে পদচ্যুত করার কারণ — মানুষ যাতে মানুষের অন্ধপূজা না করে।
★ ছদ্মবেশে নগর-ভ্রমণে বেরিয়ে উমর (রাঃ) দেখতে পান — ক্ষুধার্ত দুটি শিশু ও এক দুখিনী মা।
★ দুখিনী মাতা উনানে চাপিয়েছিলেন — শূন্য হাঁড়ি।
★ শিশুদের খাবারের জন্য উমর (রাঃ) আটা ও ঘি এনেছিলেন — বায়তুল-মাল (সরকারি কোষাগার) থেকে।
★ “আমার এ ভার আমিই বহিব সোজা” — অনুশোচনা ও দায়িত্ববোধ থেকে উক্তিটি করেছিলেন উমর (রাঃ)।
★ মদ্যপানের অপরাধে দোররা মেরে উমর (রাঃ) শাস্তি দিয়েছিলেন — নিজ প্রিয় পুত্রকে (আবু শাহমা)।
★ উমর (রাঃ)-এর দোররা খেয়ে তাঁর পুত্র — চোখের সামনে মারা যান।
★ বিচার কার্যক্রমে নিজের পুত্রকে ক্ষমা না করে উমর (রাঃ) রক্ষা করেছেন — ন্যায়বিচার।
★ উমর (রাঃ)-এর শাস্তিপ্রাপ্ত পুত্রের সমাধি — আবু শাহমার গোরে।
★ রাজদরবারে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা খলিফাকে দেখতে এসে দেখেন — খলিফা উঠানে বসে ভেজা জামা রোদে শুকাচ্ছেন।
★ খলিফা উমর (রাঃ)-এর পোশাকের বৈশিষ্ট্য ছিল — চিড়ধরা বা তালি দেওয়া (চীরধারী)।
★ উমর (রাঃ) মানুষকে সম্বোধন করতেন — বন্ধু ও ভাই বলে।
★ কবি নজরুল উমর (রাঃ)-কে স্মরণ করেন — চোখের পানিতে।
শব্দার্থ ও টিকা
| শব্দ / শব্দগুচ্ছ | অর্থ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা |
| তাপ | উত্তাপ। |
| হস্ত | হাত। |
| পেরেসান / পেরেশান | বিপর্যস্ত, ক্লান্ত। |
| আমির-উল-মুমেনিন | বিশ্বাসীদের নেতা; এখানে বিশেষভাবে বোঝানো হয়েছে মুসলমানদের ধর্মীয় প্রধান ও রাষ্ট্রীয় নেতা হযরত উমর (রা.)-কে। |
| মুয়াজ্জিন | যিনি আজান দেন। |
| তকবির | ‘আল্লাহু আকবার’ (আল্লাহ পরম মহান) ধ্বনি বা রব। |
| আখেরি | শেষ। |
| পরশমণি | স্পর্শমণি; যার ছোঁয়ায় লোহাও সোনায় পরিণত হয়। |
| তখত | সিংহাসন। |
| সাইমুম | শুকনো, উত্তপ্ত ও শ্বাসরোধকারী প্রবল হাওয়া; বিশেষত মরুভূমির হাওয়া। |
| মশক | পানি বহনের জন্য ব্যবহৃত চামড়ার থলে। |
| দোর্রা | চাবুক। |
| চীর | ছিঁড়ে যাওয়া বা ছেঁড়া বস্ত্র (ছিন্ন বস্ত্র)। |
| পিরান | জামা বা পোশাক। |
| নান্দী | স্তুতি; কাব্যপাঠ বা নাটকের শুরুতে মঙ্গলসূচক সংক্ষিপ্ত প্রশস্তি পাঠ। |
| শমসের | তরবারি বা তলোয়ার। |
| দস্ত | হাত। |
| উমর ফারুক | ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা (খেলাফতকাল: ৬৩৪-৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ)। তাঁর শাসনামলে ইসলামি রাষ্ট্রের সীমা আরব থেকে মিশর ও তুর্কিস্থান পর্যন্ত প্রসারিত হয়। তিনি একজন ন্যায়নিষ্ঠ, নির্ভীক ও গণতন্ত্রমনা রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। ‘ফারুক’ তাঁর উপাধি, যার অর্থ—যিনি সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণ করতে পারেন। |
| ‘তোমার স্মৃতি যে আযানের ধ্বনি জানে না মুয়াজ্জিন’ | হযরত উমর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কুরাইশদের ভয়ে প্রকাশ্যে আজান দেওয়া যেত না। তিনি ইসলাম গ্রহণ করার পর প্রকাশ্যে আজান দেওয়ার বাধা দূর হয়। তাই আজানের সাথে তাঁর স্মৃতি গভীরভাবে বিজড়িত। |
| জেরুজালেম | ফিলিস্তিনের একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক শহর। |
| আবু শাহামা | হযরত উমর (রা.)-এর পুত্র। মদ্যপানের অপরাধে খলিফা উমর (রা.) তাঁকে ৮০টি বেত্রাঘাতের নির্দেশ দেন এবং নিজ হাতে শাস্তি প্রয়োগ করেন, যার ফলে আবু শাহমার মৃত্যু হয়। |
পাঠ পরিচিতি
উমর ফারুক কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের জিঞ্জীর কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে। কবিতাটিতে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা)-এর জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানবিকতা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। খলিফা উমর (রা) ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তিত্ব। তাঁর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা এবং সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হয়েও তিনি অতি সহজ, সরল, অনাড়ম্বর জীবন যাপন করেছেন। নিজ ভৃত্যকেও তিনি তাঁর সঙ্গে সমান মর্যাদা দিতে কুণ্ঠিত হননি। ন্যায়ের আদর্শ সমুন্নত রাখতে তিনি আপন সন্তানকে কঠোরতম শাস্তি দিতেও দ্বিধাবোধ করেননি । তিনি ছিলেন আমির-উল-মুমেনিন। রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁকে আদর্শবান ব্যক্তিত্ব বলে বিশ্বাস করেই বলেছিলেন, তাঁর পরে যদি কেউ নবি হতেন, তাহলে তিনি হতেন উমর । মহৎপ্রাণ ও আদর্শ মানব চরিত্র অর্জনের জন্য উমর ফারুককে কবি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে কবিতায় উপস্থাপন করেছেন।
Read More: SSC বাংলা বই পড়া প্রবন্ধের স্মার্ট নোট
উমর ফারুক কবিতার স্মার্ট নোট PDF Download