SSC বাংলা ১ম পত্রের একুশের গল্পের স্মার্ট নোট শিক্ষার্থীদের জন্য গল্পটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজ ও সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করে। এই নোটে রয়েছে পাঠ পরিচিতি, লেখক পরিচিতি, মূলভাব, সহজ ব্যাখ্যা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি গল্পের মূল বক্তব্য বুঝতে ও দ্রুত রিভিশন দিতে এই স্মার্ট নোটটি সহায়ক হবে।
একুশের গল্পের স্মার্ট নোট
জহির রায়হান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
📌 প্রাথমিক তথ্য
★ জহির রায়হান — বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক ও গল্পকার।
★ জহির রায়হানের জন্ম — ১৯ আগস্ট ১৯৩৫।
★ জহির রায়হানের মৃত্যু — ৩০ জানুয়ারি ১৯৭২।
★ জহির রায়হানের জন্মস্থান — ফেনী জেলার সোনাগাজি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের মজুপুর গ্রাম।
★ জহির রায়হানের পিতা — মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ (কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ)।
★ জহির রায়হান কলকাতায় — কলকাতা মাদ্রাসার অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন।
★ জহির রায়হান ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর — কলকাতা থেকে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) স্থানান্তরিত হন।
★ জহির রায়হান ১৯৫৮ সালে — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
★ জহির রায়হান ১৯৬১ সালে বিয়ে করেন — সুমিতা দেবীকে (বিখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী)।
★ জহির রায়হান ১৯৬৬ সালে বিয়ে করেন — সুচন্দাকে (বিখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী)।
★ জহির রায়হানের দুই স্ত্রী — সুমিতা দেবী ও সুচন্দা।
★ জহির রায়হানের ভাই — শহীদুল্লাহ কায়সার (বুদ্ধিজীবী)।
★ জহির রায়হানের চাচাতো ভাই — শাহরিয়ার কবির।
★ জহির রায়হানের ভাইয়ের মেয়ে — শমী কায়সার।
★ জহির রায়হানের ছেলেরা — বিপুল রায়হান, অনল রায়হান, আরাফাত রায়হান অপু ও তপু রায়হান।
★ জহির রায়হানের ছোট ছেলে তপু রায়হান — অভিনেতা (‘সবুজ কোট কালো চশমা’ ছবিতে অভিনয়)।
📰 সাংবাদিক ও সাহিত্য জীবন
★ জহির রায়হান ১৯৫০ সালে — যুগের আলো পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
★ জহির রায়হান পরবর্তীতে কাজ করেন — খাপছাড়া, যান্ত্রিক, সিনেমা প্রভৃতি পত্রিকায়।
★ জহির রায়হান ১৯৫৬ সালে — সম্পাদক হিসেবে প্রবাহ পত্রিকায় যোগ দেন।
★ জহির রায়হানের প্রথম গল্পগ্রন্থ — সূর্যগ্রহণ (১৯৫৫)।
★ জহির রায়হানের প্রথম উপন্যাস — শেষ বিকেলের মেয়ে (১৯৬০)।
★ জহির রায়হানের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস — হাজার বছর ধরে ও আরেক ফাল্গুন।
★ জহির রায়হানের উপন্যাস: বরফ গলা নদী, আর কতদিন, কয়েকটি মৃত্যু, একুশে ফেব্রুয়ারি, তৃষ্ণা।
★ জহির রায়হানের গল্পগ্রন্থ — যখন যন্ত্রণা, কয়েকটি নদী ও একটি সমুদ্র।
★ জহির রায়হানের প্রবন্ধগ্রন্থ — পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ, অক্টোবর বিপ্লব ও সোভিয়েত চলচ্চিত্র।
★ জহির রায়হানের কাব্যগ্রন্থ — ওদের জানিয়ে দাও।
🎬 চলচ্চিত্র জীবন
★ জহির রায়হানের চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ — ১৯৫৭ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ ছবিতে সহকারী হিসেবে।
★ জহির রায়হান সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন — ‘এ দেশ তোমার আমার’ (১৯৫৯), ‘নবারুণ’ (১৯৬০), ‘যে নদী মরুপথে’ (১৯৬১) চলচ্চিত্রে।
★ জহির রায়হান এহতেশামের ‘এ দেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রের — নামসঙ্গীত রচনা করেন।
★ জহির রায়হান ১৯৬১ সালে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন — ‘কখনো আসেনি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।
★ জহির রায়হান ১৯৬৪ সালে নির্মাণ করেন — পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’ (উর্দু ভাষার)।
★ জহির রায়হান ১৯৬৫ সালে মুক্তি দেন — তার প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র ‘বাহানা’।
★ জহির রায়হান ১৯৬৪ সালে ‘কাঁচের দেয়াল’ চলচ্চিত্রের জন্য — নিগার পুরস্কার লাভ করেন।
★ জহির রায়হানের নির্মিত চলচ্চিত্র — বেহুলা, সঙ্গম, আনোয়ারা ও জীবন থেকে নেয়া।
★ ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রে ভাষা আন্দোলনের — প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
★ ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্র দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেন — সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, তপন সিংহ ও ঋত্বিক ঘটক।
★ ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র — জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়।
★ জহির রায়হান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে — কলকাতায় চলে যান এবং তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন।
★ জহির রায়হানের বিখ্যাত প্রামাণ্যচিত্র — ‘স্টপ জেনোসাইড’ (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ভয়াবহ চিত্র নিয়ে)।
★ কলকাতায় ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী হতে প্রাপ্ত অর্থ — জহির রায়হান মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে দান করে দেন।
ভাষা আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড
★ জহির রায়হান — ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
★ জহির রায়হান ২১শে ফেব্রুয়ারির — ঐতিহাসিক আমতলা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
★ ভাষা আন্দোলন জহির রায়হানের ওপর — গভীর প্রভাব ফেলে (ছাপ দেখা যায় ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রে)।
★ জহির রায়হান — ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানে অংশ নেন।
🔍 বুদ্ধীজীবী হত্যা তদন্ত কমিটি
★ জহির রায়হান — বুদ্ধীজীবী হত্যা তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
★ তদন্ত কমিটির অন্য সদস্য — এহতেশাম হায়দার চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মওদুদ, এনায়েতুল্লাহ খান, সৈয়দ হাসান ইমাম, ড. সিরাজুল ইসলাম।
★ তদন্ত কমিটির কাজ করতে গিয়ে জহির রায়হান — অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও তথ্য উদঘাটন করেন।
★ জহির রায়হান সংগ্রহ করেন — জামাতের আড্ডা কেন্দ্র, আল-বদর-রাজাকারদের গোপন ঠিকানা ও সহযোগীদের নাম।
★ জহির রায়হান প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন — “বুদ্ধিজীবী হত্যার অনেক রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। সময় বুঝে আমি এক এক করে সব প্রকাশ করব।”
★ পান্না কায়সারের মতে — জহির রায়হানের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কারণ ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের গোপন তথ্য উন্মোচনের ঘোষণা।
💀 মৃত্যু
★ জহির রায়হান ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর — ঢাকা ফিরে আসেন।
★ জহির রায়হান ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি সকালে — মিরপুরে রওয়ানা দেন (ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারসহ বিহারিদের আটকে থাকার খবরে)।
★ জহির রায়হানের সাথে মিরপুরে যান — ছোট ভাই জাকারিয়া হাবিব, চাচাতো ভাই শাহরিয়ার কবির, শ্যালক বাবুল, আব্দুল হক (পান্না কায়সারের ভাই), নিজাম ও পারভেজ।
★ মিরপুর ২ নম্বর সেকশনে — ভারতীয় সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী তাদের সামনে এগোতে বারণ করে।
★ অনেক অনুরোধের পর — জহির রায়হানকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে নেওয়া হয়।
★ জহির রায়হানকে থাকতে বলে — অন্যদের ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
★ জহির রায়হান — সেনাবাহিনী ও পুলিশের বহরের সঙ্গে মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনে যান।
★ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে — বিহারিরা কালাপানি পানির ট্যাংকের সামনে গুলিবর্ষণ শুরু করে।
★ এই অতর্কিত হামলায় — ৪২ জন নিহত হন।
★ পরদিন সকালে পুরো ব্যাটালিয়ন ১২ নম্বর সেকশনে প্রবেশ করলে — কোনো পুরুষ মানুষকে খুঁজে পাওয়া যায়নি (রাতেই সবাই পালিয়ে গিয়েছিল)।
★ ৩০ জানুয়ারি রাতেই — বিহারিরা লাশগুলো সরিয়ে ফেলে।
★ জহির রায়হানের লাশ — কোথাও পাওয়া যায়নি।
★ নির্মল সেনের দাবি — জহির রায়হান মুজিববাহিনীর হাতে নিহত হয়েছিলেন।
🏅 পুরস্কার ও সম্মাননা
★ ১৯৬৪: ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের জন্য — আদমজী সাহিত্য পুরস্কার।
★ ১৯৬৫: ‘কাঁচের দেয়াল’ চলচ্চিত্রের জন্য — শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্র বিভাগে নিগার পুরস্কার।
★ ১৯৭২: গল্প সাহিত্যে অবদানের জন্য — বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭১) (মরণোত্তর)।
★ ১৯৭৫: চলচ্চিত্রে সামগ্রিক অবদানের জন্য — ১ম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে মরণোত্তর বিশেষ পুরস্কার।
★ ১৯৭৭: চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য — একুশে পদক (মরণোত্তর) (বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা)।
★ ১৯৯২: সাহিত্যে অবদানের জন্য — স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (মরণোত্তর) (বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা)।
★ ২০০৫: ‘হাজার বছর ধরে’ চলচ্চিত্রের জন্য — শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (মরণোত্তর)।
📖 উল্লেখযোগ্য কাজের তালিকা
উপন্যাস:
★ শেষ বিকেলের মেয়ে (১৯৬০) — জহির রায়হানের প্রথম উপন্যাস।
★ হাজার বছর ধরে — আদমজী সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত উপন্যাস।
★ আরেক ফাল্গুন
★ বরফ গলা নদী
★ আর কতদিন
★ কয়েকটি মৃত্যু
★ একুশে ফেব্রুয়ারি
★ তৃষ্ণা
গল্পগ্রন্থ:
★ সূর্যগ্রহণ (১৯৫৫) — জহির রায়হানের প্রথম গল্পগ্রন্থ।
★ যখন যন্ত্রণা
★ কয়েকটি নদী ও একটি সমুদ্র
প্রবন্ধগ্রন্থ:
★ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ
★ অক্টোবর বিপ্লব ও সোভিয়েত চলচ্চিত্র
কাব্যগ্রন্থ:
★ ওদের জানিয়ে দাও
চলচ্চিত্র (পরিচালক):
★ কখনো আসেনি (১৯৬১) — জহির রায়হানের প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র।
★ কাঁচের দেয়াল (১৯৬৪) — নিগার পুরস্কারপ্রাপ্ত।
★ সঙ্গম (১৯৬৪) — পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র (উর্দু)।
★ বেহুলা
★ আনোয়ারা
★ জীবন থেকে নেয়া — ভাষা আন্দোলনভিত্তিক বিখ্যাত চলচ্চিত্র।
★ বাহানা (১৯৬৫) — প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র।
সহকারী পরিচালক হিসেবে:
★ জাগো হুয়া সাভেরা (১৯৫৯)
★ এ দেশ তোমার আমার (১৯৫৯)
★ নবারুণ (১৯৬০)
★ যে নদী মরুপথে (১৯৬১)
প্রামাণ্যচিত্র:
★ স্টপ জেনোসাইড — বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ভয়াবহ চিত্র নিয়ে।
🔑 মূল বৈশিষ্ট্য ও অবদান
★ জহির রায়হান — বাংলা সাহিত্যের গল্প শাখায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
★ জহির রায়হান — বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের প্রবাদ পুরুষ হিসেবে পরিচিত।
★ জহির রায়হান — ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
★ জহির রায়হানের ‘স্টপ জেনোসাইড’ প্রামাণ্যচিত্র — বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।
★ জহির রায়হান — বুদ্ধীজীবী হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
★ জহির রায়হানের মৃত্যু — রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ (লাশ পাওয়া যায়নি)।
★ জহির রায়হান — সাহিত্য ও চলচ্চিত্র উভয় ক্ষেত্রেই জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত।
★ জহির রায়হান একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার — উভয়ই মরণোত্তর লাভ করেন।
⏳ গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
★ ১৯ আগস্ট ১৯৩৫ — জন্ম।
★ ১৯৪৭ — দেশবিভাগের পর কলকাতা থেকে পূর্ব পাকিস্তানে স্থানান্তর।
★ ১৯৫০ — ‘যুগের আলো’ পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু।
★ ১৯৫৫ — প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘সূর্যগ্রহণ’ প্রকাশ।
★ ১৯৫৭ — চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ (সহকারী হিসেবে)।
★ ১৯৫৮ — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক।
★ ১৯৬০ — প্রথম উপন্যাস ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’ প্রকাশ।
★ ১৯৬১ — প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসেনি’ (পরিচালক)।
★ ১৯৬৪ — ‘হাজার বছর ধরে’ জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার ও ‘কাঁচের দেয়াল’ জন্য নিগার পুরস্কার।
★ ১৯৬৪ — পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’ নির্মাণ।
★ ১৯৭১ — মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে কলকাতায় যান ও ‘স্টপ জেনোসাইড’ নির্মাণ।
★ ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ — ঢাকা ফিরে আসেন।
★ ৩০ জানুয়ারি ১৯৭২ — মিরপুরে নিখোঁজ/নিহত।
★ ১৯৭২ — বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর)।
★ ১৯৭৫ — জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে বিশেষ পুরস্কার (মরণোত্তর)।
★ ১৯৭৭ — একুশে পদক (মরণোত্তর)।
★ ১৯৯২ — স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর)।
★ ২০০৫ — ‘হাজার বছর ধরে’ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (মরণোত্তর)।
💬 উল্লেখযোগ্য উক্তি/বক্তব্য
★ জহির রায়হান প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন — “বুদ্ধিজীবী হত্যার অনেক রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। আমাদের কাছে এমন অনেক তথ্য ও প্রমাণ আছে যা প্রকাশ করলে অনেকের মুখোশ খুলে যাবে। সময় বুঝে আমি এক এক করে সব প্রকাশ করব।”
★ “আমি জহির রায়হান — ৩০ জানুয়ারি ১৯৭২, মিরপুর ১২-এ বুদ্ধিজীবী হত্যার রহস্য খুঁজতে গিয়ে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে গেলাম।” (অমর বাণী)
জহির রায়হান
| বিভাগ | উপ-বিভাগ | তালিকা |
| সাহিত্য | উপন্যাস | শেষ বিকেলের মেয়ে (১৯৬০), তৃষ্ণা (১৯৬২), হাজার বছর ধরে (১৯৬৪), আরেক ফাল্গুন (১৯৬৯), বরফ গলা নদী (১৯৭০), আর কত দিন (১৯৭০), একুশে ফেব্রুয়ারী (১৯৭০), কয়েকটি মৃত্যু |
| ছোটগল্প | সোনার হরিণ, সময়ের প্রয়োজনে, একটি জিজ্ঞাসা, হারানো বলয়, বাঁধ, সূর্যগ্রহণ, নয়া পত্তন, মহামৃত্যু, ভাঙ্গাচোরা, অপরাধ, স্বীকৃতি, অতি পরিচিত, ইচ্ছা অনিচ্ছা, জন্মান্তর, পোস্টার, ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি, কতগুলো কুকুরের আর্ন্তনান্দ, কয়েকটি সংলাপ, দেমাগ, ম্যাসাকার, একুশের গল্প | |
| চলচ্চিত্র | পরিচালিত চলচ্চিত্র | কখনো আসেনি (১৯৬১), সোনার কাজল (১৯৬২), কাঁচের দেয়াল (১৯৬৩), সংগম (১৯৬৪), বাহানা (১৯৬৫), বেহুলা (১৯৬৬), আনোয়ারা (১৯৬৭), জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০), স্টপ জেনোসাইড (১৯৭১) |
| প্রযোজিত চলচ্চিত্র | দুই ভাই (১৯৬৮), কুচবরণ কন্যা (১৯৬৮), জুলেখা (১৯৬৮), সুয়োরানী দুয়োরানী (১৯৬৮), মনের মত বউ (১৯৬৯), শেষ পর্যন্ত (১৯৬৯), প্রতিশোধ (১৯৭২) |
একুশের গল্পের স্মার্ট নোট
★ “একুশের গল্প” গল্পটির রচয়িতা — জাহির রায়হান।
★ গল্পটির মূল চরিত্র — তপু।
★ গল্পের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র — আমি (বর্ণনাকারী), রাহাত, রেণু, সানু ও নাজিম।
★ তপু ছিল বর্ণনাকারী ও রাহাতের — রুমমেট।
★ তারা ছিল মোট — তিনজন (আমি, তপু, রাহাত)।
★ তপু ছিল তাদের মধ্যে — বয়সে সবার ছোট।
★ তপু ছিল তাদের মধ্যে — একমাত্র বিবাহিত।
★ তপুর স্ত্রীর নাম — রেণু।
★ তপু কলেজে ভর্তি হওয়ার — বছরখানেক পরে রেণুকে বিয়ে করে।
★ রেণুর সাথে তপুর সম্পর্ক — আত্মীয়।
★ রেণুর গড়ন — দোহারা, ছিপছিপে কটি ও আপেল রঙের।
★ তপু ছিল — গল্প বলায় ওস্তাদ ও গালের রাজা।
★ তপুর হাসি ছিল — আঠার মতো লেগে থাকা।
★ তপু ডাক্তারি পাস করতে চাইত — গাঁয়ে গিয়ে ছোট ডিসপেনসারি খোলার স্বপ্ন দেখত।
★ তপুর এককালের শখ ছিল — মিলিটারিতে যাওয়া।
★ তপু ছিল — জন্মখোঁড়া।
★ তপুর ডান পা থেকে বাঁ পা — ইঞ্চি দুয়েক ছোট ছিল।
★ তপুর খোঁড়াভাব দূর থেকে চোখে পড়ত না — কারণ বাঁ জুতার হিল উঁচু করে তৈরি করায়।
★ তপু ঘুম থেকে উঠত — সবার আগে।
★ তপু নিজ হাতে — চা তৈরি করত।
★ তারা বিকেলে বেড়াতে যেত — ইস্কাটনে ও বুড়িগঙ্গার ওপারে।
★ রেণু মাঝে মাঝে বাসা থেকে আনত — ডালমুট।
★ রেণু তপুর হাত ধরে বাড়ি যেতে চায় — ভাষা আন্দোলনের মিছিলের দিন।
★ তপুর মা তপুর জন্য কেঁদেছিলেন — এখানে (হোস্টেলে) গড়াগড়ি দিয়ে।
★ রেণু তপুর মৃত্যুর পর — মুখ ভার করে কথা বলেনি।
★ তপুর মৃত্যুর পর রেণু নিয়ে গেল — দুটো স্যুটকেস, বইয়ের ট্রাংক ও একটি বেডিং।
★ রেণু তপুর — গরম কোটের খোঁজ করেছিল।
★ তপুর মৃত্যুর পর তার সিটে আসে — নতুন ছেলে।
★ নতুন ছেলেটি ছিল — তিন বছরেক।
★ তপুর মৃত্যুর সময় — ২১শে ফেব্রুয়ারি (ভাষা আন্দোলন)।
★ মিছিলের দিন সেখানে জমায়েত হয়েছিল — অগণতি লোক।
★ কারও হাতে ছিল — প্ল্যাকার্ড, স্লোগানের চুঙ্গো ও রক্তাক্ত জামা।
★ মিছিল মেডিকেলের গেট পেরিয়ে — কার্জন হলের কাছাকাছি পৌঁছায়।
★ তপুর হাতে ছিল — একটি মস্ত প্ল্যাকার্ড।
★ প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল — “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই”।
★ মিছিল হাইকোর্টের মোড়ে পৌঁছালে — তপু গুলিবিদ্ধ হয়।
★ তপুর কপালের ঠিক মাঝখানে — গোল গর্ত হয়।
★ গর্ত দিয়ে — নির্ঝরের মতো রক্ত ঝরছিল।
★ তপুর লাশ নিয়ে যায় — দুই মিলিটারি সদস্য।
★ বর্ণনাকারী ও রাহাত — ঊর্ধ্বশ্বাসে ইউনিভার্সিটির দিকে পালায়।
★ চার বছর পর তপুর কঙ্কাল ফিরে আসে — চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবস্তু হিসেবে।
★ নতুন ছেলেটির স্কালের কপালের মাঝখানে — একটি গর্ত ছিল।
★ স্কালের বাঁ পায়ের টিবিয়া ফেবুলা — দুই ইঞ্চি ছোট ছিল।
★ রাহাত কঙ্কাল চিনতে পেরে চিৎকার করে — “তপু”।
★ গল্পের ভাষা — প্রথম পুরুষে বর্ণিত (আমি বর্ণনাকারী)।
★ গল্পের পটভূমি — ঢাকা শহর ও ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট।
★ “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” — স্লোগানটি তপুর প্ল্যাকার্ডে ছিল।
★ তপু মারা গেলে রাহাত বলে — “তপু না মরে আমি মরলেই ভালো হতো”।
★ রেণু তপুর মৃত্যুর পর — অন্যত্র বিয়ে করে।
★ তপুর মা — মারা গেছেন। (একুশের গল্পের স্মার্ট নোট)
★ গল্পের মূল সুর — ভাষার জন্য আত্মত্যাগ ও বন্ধুত্বের বেদনা।
★ “অ্যানাটমি” — বইটির পাতা ওলটাচ্ছিল নতুন ছেলেটি।
★ স্কেলিটনের স্কাল — ঝুড়িতে রাখা ছিল।
★ রাহাত চিৎকার করে বলে — “বাঁ পায়ের টিবিয়া ফেবুলাটা দুই ইঞ্চি ছোট”।
★ তপু যখন গল্প করত — তখন আর কাউকে কথা বলার সুযোগ দিত না।
★ তপু গাঁয়ে গিয়ে — ছোট্ট ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখত।
★ তপুর স্বপ্ন ছিল — ডাক্তারি পাস করা।
★ তারা তিনজন পাশাপাশি হাঁটছিল — মিছিলে।
★ রাহাত মিছিলে — স্লোগান দিচ্ছিল।
★ তপুর মৃত্যুর পর রেণু — বর্ণনাকারীদের দিকে তাকায়নি।
★ রেণু শেষবার জিজ্ঞেস করেছিল — “ওর একটা গরম কোট ছিল না, কোটটা কোথায়?”।
★ গল্পে “তপু” নামের অর্থ — ক্ষুদ্র বা ছোট (প্রেমের ডাকনাম)।
★ তপুর কঙ্কাল চিহ্নিত করা সম্ভব হয় — কপালের গর্ত ও বাঁ পায়ের ছোট হাড় দেখে।
★ গল্পের আবহ — স্মৃতিকাতর, বেদনাময় ও নস্টালজিক।
★ গল্পটির মূল ঘটনা — ভাষা আন্দোলনের সময় তপুর শহীদ হওয়া।
★ তপুর শেষ ইচ্ছা — গাঁয়ে গিয়ে সাধারণ জীবনযাপন করা।
★ গল্পে উল্লিখিত স্থান — হাইকোর্টের মোড়, মেডিকেল গেট, কার্জন হল, বুড়িগঙ্গা, ইস্কাটন, আজিমপুরা।
★ নতুন রুমমেট — হাসিখুশিভরা মুখের ছেলে।
★ রাহাত তপুর কোট — নিজের স্যুটকেসে রেখেছিল।
★ তপু মৃত্যুর পর — তার সিট কিছুদিন ফাঁকা ছিল।
★ রাতে বর্ণনাকারীর ঘুম হয় না — তপুর দিকে তাকিয়ে ভয়ে।
★ দিনের বেলা তপুর কঙ্কালকে ঘিরে — জটলা পাকায় তারা।
★ তপুর মৃত্যুর পরের দিন — রেণু এসেছিল পলকহীন চোখে অশ্রু ফেলে।
★ বর্ণনাকারী তপুর মাকে — চিনতে পারবেন না বলে মন্তব্য করে।
★ রাহাত বিজ্ঞের মতো বলে — “এ অবস্থায় কেউ কাউকে চিনতে পারে না”।
★ গল্পের শেষে রাহাতের গলা — ধরে আসে আবেগে।
★ তপুর কঙ্কাল শনাক্তকরণ — গল্পের সবচেয়ে আবেগঘন ও নাটকীয় মুহূর্ত।
★ “একুশের গল্প” — ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত একটি মর্মস্পর্শী স্মৃতিকথা।
শব্দার্থ ও টীকা
| শব্দ | অর্থ / বিবরণ |
| উদ্বিগ্ন | দুশ্চিন্তাগ্রস্ত; উৎকণ্ঠিত; ব্যাকুল। |
| তন্দ্রা | ঝিমর নিদ্রার আবেশ বা ঘোর; ঘুমের ঝোঁক; ঝুমঘুম ভাব। |
| বিস্ময় | আশ্চর্য; চমৎকৃত ভাব। |
| ওস্তাদ | গুরু; শিষ্য শিক্ষক। ভাব। |
| এনাটমি | জীববিজ্ঞানের একটি ক্ষেত্র যা জীবদেহের গঠন শনাক্তকরণ এবং বর্ণনার সাথে সম্পর্কিত। [ইংরেজি – Anatomy] |
| স্কেলিটন | কঙ্কাল [ইংরেজি skeleton] |
| স্কাল | মাথার খুলি [ইংরেজি skull ]। |
| বার্নার্ডশ | [ইংরেজি- George Bernard shaw একজন একজন আইরিশ নাট্যকার ও সমালোচক] |
পাঠ-পরিচিতি
‘একুশের গল্প’-শীর্ষক ছোটগল্পটি জহির রায়হানের *গল্প-সমগ্র* (১৯৭৯) থেকে সংকলন করা হয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত এ গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে প্রাণোচ্ছল ও স্বপ্নবান এক তরুণের আত্মত্যাগ। গল্পটিতে কথক নিজেও একটি চরিত্র; অর্থাৎ এ গল্পের ঘটনামালা উপস্থাপিত হয়েছে প্রথম পুরুষের বয়ানে। কথকের সমান্তরালে রাহাত ও তপু নামক আরও দুটি চরিত্রকে আমরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে দেখি। মূলত এই তিন বন্ধুর আন্তরিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিবরণের ভেতর দিয়ে উঠে এসেছে ভাষা আন্দোলনকালীন বাংলাদেশের বাস্তবতা।
তপু ‘একুশের গল্প’র প্রধান চরিত্র। সে বিবাহিত; রেণু তার স্ত্রী। বাড়িতে আছেন বৃদ্ধ মা। কিন্তু পারিবারিক সব পিছুটান উপেক্ষা করে প্ল্যাকার্ড হাতে তপু ছুটে যায় মিছিলে। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার অধিকার চাইতে গিয়ে ভাষা আন্দোলনে শহীদ হয় সে। তপুর কপালের মাঝ বরাবর লেগেছিল গুলি। ছত্রভঙ্গ মিছিলের সামনে থেকে মিলিটারিরা তুলে নিয়ে যায় তার মৃতদেহ। ঘটনার ধারাবাহিকতায় চার বছর পর কলেজের হোস্টেলে একদিন আবিষ্কৃত হয় একটি কঙ্কাল। মাথার খুলির ফুটো আর বাম পায়ের টিবিয়া ফেবুলা দেখে বন্ধুরা বুঝতে পারে কঙ্কালটি প্রকৃতপক্ষে শহীদ তপুর। কেননা তার বাম পা ছিল ডান পায়ের চেয়ে দুই ইঞ্চি ছোট। তপুর মতো অনেক প্রাণের বিসর্জন এবং নিরন্তর সংগ্রামের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে বাংলা ভাষার অধিকার। শুধু তা-ই নয়, পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলন হয়ে উঠেছিল বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের প্রধান প্রেরণা। ‘একুশের গল্পে’ তপুর কঙ্কাল হিসেবে ফিরে আসা যেন প্রতীকী অর্থ বহন করে। আমরা বুঝতে পারি, জাতীয় ইতিহাসে বীরদের কোনো মৃত্যু নেই; বারবার তাঁরা ফিরে আসে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রেরণা জোগায়।
Read More: SSC বাংলা উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের স্মার্ট নোট
একুশের গল্পের স্মার্ট নোট PDF Download