SSC বাংলা অন্ধবধূ কবিতার স্মার্ট নোট

SSC পরীক্ষার্থীদের জন্য অন্ধবধূ কবিতার স্মার্ট নোট সহজ, সুসংগঠিত ও পরীক্ষাভিত্তিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এই নোটে কবিতার পাঠ পরিচিতি, কবিতার ব্যাখ্যা, মূলভাব এবং কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচীর লেখক পরিচিতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসহ তুলে ধরা হয়েছে।

কবিতার বিষয়বস্তু ও ভাব সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত বুঝতে, মনে রাখতে এবং পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় উত্তর সুন্দরভাবে লিখতে পারে। SSCপরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই স্মার্ট নোটটি কার্যকর সহায়িকা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।


অন্ধবধূ কবিতার স্মার্ট নোট

যতীন্দ্রমোহন বাগচী সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

পরিচয়

যতীন্দ্রমোহন বাগচী ছিলেন একজন বাঙালি কবি ও সম্পাদক। তাঁকে রবীন্দ্র-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জন্ম: ২৭ নভেম্বর ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দ।

জন্মস্থান: জমশেরপুর, নদিয়া জেলা।

জন্মপরিবার: জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

পৈতৃক নিবাস: বলাগড় গ্রাম, হুগলি।

শিক্ষা: কলকাতার ডাফ কলেজ (বর্তমান স্কটিশ চার্চ কলেজ) থেকে প্রথম ডিগ্রি লাভ করেন।

মৃত্যু: ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দ।

মৃত্যুকালীন পরিচয়: মৃত্যুর সময় তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ও সম্পাদক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।

কর্মজীবন

কর্মজীবনের সূচনা: সারদাচরণ মিত্রের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

★ পরবর্তীতে কলকাতা কর্পোরেশনে কাজ করেন।

নাটোর মহারাজার ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নাটোর মহারাজার জমিদারির সুপারিনটেন্ডেন্ট হিসেবেও কাজ করেন।

কর কোম্পানি এবং এফ. এন. গুপ্ত কোম্পানি-র ব্যবস্থাপক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

সাহিত্যজীবন

★ যতীন্দ্রমোহন বাগচী বিভিন্ন সাহিত্যিক পত্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক অবদান রাখেন।

মানসী পত্রিকা: ১৯০৯–১৯১৩ সাল পর্যন্ত সম্পাদক ছিলেন।

যমুনা পত্রিকা: ১৯২১ ও ১৯২২ সালে যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।

পূর্বাচল পত্রিকা: ১৯৪৭–১৯৪৮ সাল পর্যন্ত মালিক ও সম্পাদক ছিলেন।

★ তাঁর সাহিত্যকর্মে সমকালীন রবীন্দ্রসাহিত্যের প্রভাব লক্ষ করা যায়।

★ তিনি মূলত রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগের কবি হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।

কাব্যবৈশিষ্ট্য

★ যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কবিমানসের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো পল্লী-প্রীতি

★ তাঁর কবিতায় গ্রামবাংলার প্রকৃতি ও নিসর্গ-সৌন্দর্য বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।

★ গ্রামবাংলার শ্যামল, স্নিগ্ধ ও শান্ত রূপ তাঁর কাব্যের অন্যতম প্রধান বিষয়।

★ গ্রামীণ জীবনের সাধারণ ঘটনা, সুখ-দুঃখ ও মানুষের জীবনযাপন তিনি কবিতায় তুলে ধরেছেন।

★ তাঁর ভাষা ছিল সহজ, সরল ও হৃদয়গ্রাহী

★ সাধারণ গ্রামীণ বিষয়কে তিনি সহৃদয়তা ও তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছেন।

★ তাঁর কাব্যবস্তুর সঙ্গে প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

★ তাঁর প্রকৃতিচিত্রণ অনেক ক্ষেত্রে চিত্ররূপময়

★ তাঁর কাব্যে প্রকৃতি ও পল্লিজীবনের যে রূপ ফুটে ওঠে, তা বাংলা কবিতার একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ

লেখা — ১৯০৬

রেখা — ১৯১০

অপরাজিতা — ১৯১৫

বন্ধুর দান — ১৯১৮

জাগরণী — ১৯২২

নীহারিকা — ১৯২৭

মহাভারতী — ১৯৩৬

কাব্যমালঞ্চ

নাগকেশর

পাঞ্চজন্য

পথের সাথী

উল্লেখযোগ্য কবিতা

কাজলাদিদি

শ্রিকল

অন্ধ বধূ

হাট

উপন্যাস

পথের সাথী

পরীক্ষায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

যতীন্দ্রমোহন বাগচীর জন্ম: ২৭ নভেম্বর ১৮৭৮।

জন্মস্থান: জমশেরপুর, নদিয়া।

পৈতৃক নিবাস: বলাগড়, হুগলি।

পারিবারিক পরিচয়: জমিদার পরিবার।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: ডাফ কলেজ (বর্তমান স্কটিশ চার্চ কলেজ)।

প্রথম কর্মজীবন: সারদাচরণ মিত্রের ব্যক্তিগত সচিব।

মানসী পত্রিকার সম্পাদক: ১৯০৯–১৯১৩।

যমুনা পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক: ১৯২১ ও ১৯২২।

পূর্বাচল পত্রিকার মালিক ও সম্পাদক: ১৯৪৭–১৯৪৮।

কাব্যমানসের প্রধান বৈশিষ্ট্য: পল্লী-প্রীতি

কবিতার প্রধান বিষয়: গ্রামবাংলা, প্রকৃতি, নিসর্গ-সৌন্দর্য ও পল্লিজীবন।

সাহিত্যে প্রভাব: রবীন্দ্রসাহিত্যের প্রভাব লক্ষণীয়।

সাহিত্যিক পরিচয়: রবীন্দ্র-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক।

মৃত্যু: ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮।

মনে রাখার শর্টকাট

জন্ম ২৭ নভেম্বর ১৮৭৮

জন্মস্থান জমশেরপুর, নদিয়া

পৈতৃক নিবাস বলাগড়, হুগলি

কলেজ ডাফ কলেজ

প্রধান বৈশিষ্ট্য পল্লী-প্রীতি

মানসী সম্পাদক, ১৯০৯–১৯১৩

যমুনা যুগ্ম সম্পাদক, ১৯২১–১৯২২

পূর্বাচল মালিক ও সম্পাদক, ১৯৪৭–১৯৪৮

মৃত্যু ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮

বিখ্যাত কবিতা কাজলাদিদি, শ্রিকল, অন্ধ বধূ, হাট

উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ লেখা, রেখা, অপরাজিতা, বন্ধুর দান, জাগরণী, নীহারিকা, মহাভারতী

অন্ধবধূ কবিতার ব্যাখ্যা: অন্ধবধূ কবিতার স্মার্ট নোট


পায়ের তলায় নরম ঠেকল কী!

আস্তে একটু চল না ঠাকুরঝি –

ব্যাখ্যা: দৃষ্টিহীন বধূটি তার ননদের (ঠাকুরঝি) সঙ্গে হাঁটছে। পায়ের নিচে নরম কিছু স্পর্শ করতেই সে কৌতূহলী হয়ে ননদকে একটু আস্তে হাঁটতে বলছে।

ওমা, এ যে ঝরা-বকুল ! নয়?

তাইতো বলি, বসে দোরের পাশে,

রাত্তিরে কাল— মধুমদির বাসে

আকাশ-পাতাল— কতই মনে হয়।

ব্যাখ্যা: নরম বস্তুটি ছুঁয়ে সে বুঝতে পারে ওগুলো ঝরে পড়া বকুল ফুল। সে মনে করে, আগের রাতে দরজার পাশে বসে ফুলের মিষ্টি গন্ধে তার মনে কত রকম অমূল ভাবনা আসছিল।

জ্যৈষ্ঠ আসতে ক-দিন দেরি ভাই –

আমের গায়ে বরণ দেখা যায়?

ব্যাখ্যা: প্রকৃতি দেখে নয়, নিজের অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে অন্ধবধূ ননদের কাছে জানতে চাইছে জ্যৈষ্ঠ মাস আসতে আর কত দিন বাকি এবং আম পাকার রং (বরণ) এসেছে কিনা।

অনেক দেরি? কেমন করে হবে!

কোকিল-ডাকা শুনেছি সেই কবে,

দখিন হাওয়া – বন্ধ কবে ভাই;

ব্যাখ্যা: ননদ হয়তো জ্যৈষ্ঠের দেরি আছে বলেছে, যা শুনে বধূটির বিস্ময়। সে বসন্তের কোকিলের ডাক ও দক্ষিণ বাতাসের স্পর্শ সেই অনেক দিন আগেই অনুভব করেছে, তাই তার মনে হচ্ছে জ্যৈষ্ঠ তো আসার কথা!

দীঘির ঘাটে নতুন সিঁড়ি জাগে –

শ্যাওলা-পিছল – এমনি শঙ্কা লাগে,

পা-পিছলিয়ে তলিয়ে যদি যাই!

ব্যাখ্যা: দীঘির ঘাটের সিঁড়িগুলো শ্যাওলা জমে পিছল হয়ে থাকে। চোখে দেখতে না পাওয়ার কারণে বধূটি সব সময় ভয়ে থাকে, যেন পা পিছলে জলে তলিয়ে না যায়।

মন্দ নেহাত হয় না কিন্তু তায়-

অন্ধ চোখের দ্বন্দ্ব চুকে যায় !

ব্যাখ্যা: এর পর পরই বধূর বিষাদগ্রস্ত মনের একটি দুঃখজনক ভাবনা প্রকাশ পায়— যদি সে জলে ডুবে মরে যায়, তবে তার এই অন্ধ জীবনের যাবতীয় কষ্ট ও দ্বিধা-দ্বন্দ্বের শেষ হতো।

দুঃখ নাইকো সত্যি কথা শোন,

অন্ধ গেলে কী আর হবে বোন?

বাঁচবি তোরা – দাদা তো তোর আগে?

ব্যাখ্যা: সে এক বিষাদময় সত্য মেনে নিয়ে ননদকে বলছে, সে অন্ধ মানুষটি মরে গেলে কার কী আর ক্ষতি হবে? বরং সবাই তার এই বোঝা থেকে মুক্তি পাবে।

এই আষাঢ়েই আবার বিয়ে হবে,

বাড়ি আসার পথ খুঁজে না পাবে –

দেখবি তখন – প্রবাস কেমন লাগে?

ব্যাখ্যা: বধূটি তার স্বামীর প্রতি অভিমান ব্যক্ত করছে। সে ভাবে, সে মরে গেলে আষাঢ় মাসেই তার স্বামী আবার বিয়ে করবে এবং নতুন বউ পেয়ে তার পরবাস জীবনের কথা ভুলে যাবে।

‘চোখ গেল’ ওই চেঁচিয়ে হলো সারা ।

আচ্ছা দিদি, কী করবে ভাই তারা-

জন্ম লাগি গিয়েছে যার চোখ !

ব্যাখ্যা: ‘চোখ গেল’ নামের একটি পাখির ডাক শুনে বধূটির নিজের অন্ধত্বের কথা মনে পড়ে। সে ননদকে প্রশ্ন করে, যে জন্ম থেকেই অন্ধ, তার জীবন কতটাই না কষ্টের!

কাঁদার সুখ যে বারণ তাহার – ছাই!

কাঁদতে পেলে বাঁচত সে যে ভাই,

কতক তবু কমত যে তার শোক ।

ব্যাখ্যা: চোখ না থাকায় সে মন খুলে কাঁদতেও পারে না। অঝোরে কাঁদতে পারলে মনের ভেতরে চেপে রাখা দুঃখ অন্তত খানিকটা হালকা হতো।

‘চোখ গেল’— তার ভরসা তবু আছে—

চক্ষুহীনার কী কথা কার কাছে!

ব্যাখ্যা: ‘চোখ গেল’ পাখির হয়তো চোখ ফিরে পাওয়ার কোনো আশা বা সান্ত্বনা আছে, কিন্তু এক দৃষ্টিহীন নারীর দুঃখ বোঝার মতো কেউ নেই।

টানিস কেন? কিসের তাড়াতাড়ি-

সেই তো ফিরে যাব আবার বাড়ি,

একলা-থাকা- সেই তো গৃহকোণ—

ব্যাখ্যা: ননদ তাকে বাড়ি ফেরার জন্য তাড়া দিচ্ছে। বধূটি বিরক্তি প্রকাশ করে বলে, ঘরে গিয়ে লাভ কী, সেই তো আবার একাকী নিঃসঙ্গ কোণে বসে থাকা।

তার চেয়ে এই স্নিগ্ধ শীতল জলে

দুটো যেন প্রাণের কথা বলে—

দরদ-ভরা দুখের আলাপন;

পরশ তাহার মায়ের স্নেহের মতো

ভুলায় খানিক মনের ব্যথা যত!

ব্যাখ্যা: ঘরের নিঃসঙ্গতার চেয়ে দীঘির শান্ত-শীতল জল তার কাছে অনেক প্রিয়। এই জল যেন তার সঙ্গে দরদ দিয়ে মনের কথা বলে। জলের সেই স্নিগ্ধ স্পর্শ বধূর কাছে মায়ের স্নেহের মতো মনে হয়, যা তার ভেতরের সব কষ্ট ও ব্যথা ক্ষণিকের জন্য ভুলিয়ে দেয়।

অন্ধবধূ কবিতার স্মার্ট নোট

★ “অন্ধবধূ” কবিতার রচয়িতা — যতীন্দ্রমোহন বাগচী।

★ উৎস বই — জিনিয়াস।

★ “ঠাকুরঝি” শব্দের অর্থ — ননদ, স্বামীর বোন, শ্বশুরকন্যা।

★ “মধুমদির বাসে” শব্দের অর্থ — মধুর গন্ধে মোহময় বা সুগন্ধে আচ্ছন্ন।

★ “আকাশ-পাতাল” বাক্যাংশের অর্থ — নানা বিষয়, নানান ভাবনা-অনুভাবনা।

★ “চোখ গেল” — এক বিশেষ ধরনের পাখি, যার ডাকের শব্দ ‘চোখ গেল’-র মতো শোনায়।

★ “কাঁদার সুখ” বলতে বোঝায় — কান্নার মাধ্যমে দুঃখ-শোকের লাঘব ঘটা।

★ অন্ধবধূর পায়ের তলায় নরম স্পর্শ অনুভূতির কারণ — ঝরা-বকুল।

★ অন্ধবধূ দরজার পাশে বসে গভীর রাতে কী অনুভব করেছিল — বকুল ফুলের তীব্র ও মধুর গন্ধ।

★ অন্ধবধূর প্রকৃতির বিচিত্র রঙ ও পরিবর্তনের অনুভবের পরিচয় পাওয়া যায় — “জ্যৈষ্ঠ আসতে ক-দিন দেরি ভাই” এই উক্তি থেকে।

★ অন্ধবধূ জ্যৈষ্ঠ মাসের আগমন অনুমান করেছিল — কোকিলের ডাক ও দক্ষিণ বাতাসের স্পর্শ থেকে।

★ আম পাকার সময় ও ঋতু পরিবর্তনের ধারণা — অন্ধবধূর প্রখর অনুভূতি শক্তির বহিঃপ্রকাশ।

★ দীঘির ঘাটের সিঁড়ির বৈশিষ্ট্য — নতুন জেগে ওঠা ও শ্যাওলা পড়ে পিছল হওয়া।

★ অন্ধবধূর দীঘির ঘাটে চলাচলের ভয় — পা পিছলে জলে তলিয়ে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা।

★ “অন্ধ চোখের দ্বন্দ্ব চুকে যায়” — পা পিছলে জলে ডুবে মরলে অন্ধত্বের অভিশাপের ইতি ঘটত।

★ অন্ধবধূর ব্যক্তিত্বের পরিচয় — প্রখর অনুভূতি সম্পন্ন, আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন এবং জীবনের প্রতি মমত্ববোধ সম্পন্ন।

★ অন্ধবধূর নৈরাশ্যবাদী না হওয়ার প্রমাণ — অন্ধত্বের অপমান ও কষ্ট থাকা সত্ত্বেও জীবনের প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকা।

★ অন্ধবধূর স্বামীর সম্ভাব্য আচরণ — স্ত্রীর মৃত্যুর পর আষাঢ় মাসেই আবার বিয়ে করার আশঙ্কা।

★ অন্ধবধূর চোখের সীমাবদ্ধতা — চোখ না থাকায় সে মন খুলে কাঁদতে বা মনের কষ্ট লাঘব করতে পারে না।

★ অন্ধবধূ এবং ‘চোখ গেল’ পাখির পার্থক্য — পাখির সান্ত্বনা বা আশা থাকলেও দৃষ্টিহীন বধূর কথা শোনার কেউ নেই। (অন্ধবধূ কবিতার স্মার্ট নোট)

★ অন্ধবধূর কাছে নিজ গৃহকোণ — একাকী নিঃসঙ্গতার জায়গা।

★ অন্ধবধূর কাছে দীঘির জল — মায়ের স্নেহের মতো স্নিগ্ধ ও শীতল স্পর্শ।

★ দীঘির জল অন্ধবধূর সাথে কীভাবে যুক্ত — দুঃখ-কষ্টের সহমর্মী হয়ে প্রাণের কথা ও আলাপন ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে।

শব্দার্থ ও টীকা

শব্দ / বাক্যাংশঅর্থ ও ব্যাখ্যামূলক টিকা
ঠাকুরঝিননদ, স্বামীর বোন, শ্বশুরকন্যা।
মধুমদির বাসেমধুর গন্ধে মোহময় — সুগন্ধে আচ্ছন্ন।
আকাশ-পাতালনানা বিষয়, নানান ভাবনা-অনুভাবনা অর্থে ব্যবহৃত।
জ্যৈষ্ঠ আসতে ক-দিন দেরি ভাইএকজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের অনুভবের অসাধারণ এক জগৎ আলোচ্য অংশে ব্যক্ত হয়েছে। প্রকৃতির বিচিত্র রঙের ধারণা ও অনুভবে এই অন্ধবধূ সমৃদ্ধ। সেই জ্ঞান ও অনুভব থেকে সে জেনে নিতে চায় ঋতুর বিবর্তন।
অন্ধ চোখের দ্বন্দ্ব চুকে যাকঅন্ধবধূ অনুভবঋদ্ধ মানুষ অর্থাৎ তার অনুভূতি শক্তি প্রখর। আত্মমর্যাদা বোধেও সে সমৃদ্ধ। কিন্তু সে অন্ধ। এই অন্ধত্বের কষ্ট সে গভীরভাবে অনুভব করে। দীঘির ঘাটে যখন শেওলা পড়া পিছল সিঁড়ি জাগে, তখন সে পিছল খেয়ে জলে পড়ে ডুবে মরার আশঙ্কা প্রকাশ করে। সে এও অনুভব করে যে, ডুবে মরলে অন্ধত্বের অভিশাপ ঘুচত। কিন্তু কবিতাটির চেতনা থেকে মনে হয়, অন্ধবধূ নৈরাশ্যবাদী মানুষ নয়। জীবনের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধ আছে।
চোখ গেলপাখি বিশেষ। এই পাখির ডাক ‘চোখ গেল’ শব্দের মতো মনে হয়।
কাঁদার সুখমানুষ দুঃখে কাঁদে, শোকে কাঁদে। কিন্তু কান্নার মধ্য দিয়ে তার দুঃখ-শোকের লাঘব ঘটে।

পাঠ পরিচিতি

সমাজ দৃষ্টিহীনদের অবজ্ঞা করে। দৃষ্টিহীনেরা নিজেরাও নিজেদের অসহায় ভাবে। কিন্তু ইন্দ্ৰিয়সচেতনতা দিয়ে এই প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব। পায়ের নিচে নরম বস্তুর অস্তিত্ব, কোকিলের ডাক শুনে নতুন ঋতুর আগমন অনুমান করা, শ্যাওলায় পা রেখে নতুন সিঁড়ি জেগে ওঠার কথা বোঝা দৃষ্টিহীন হয়েও সম্ভবপর। তাই দৃষ্টিহীন হলেই নিজেকে অসহায় না ভেবে, শুধুই ঘরের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে আপন অন্তর্দৃষ্টিকে প্রসারিত করা প্রয়োজন। বধূটি চোখে দেখতে পায় না । কিন্তু অনুভবে সে জগতের রূপ-রস-গন্ধ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে। কবিতাটিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা সংবেদনশীল ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।


Read More: SSC বাংলা কপোতাক্ষ নদ কবিতার স্মার্ট নোট


অন্ধবধূ কবিতার স্মার্ট নোট PDF Download

সমাধানে যদি কোনো ভুল খুঁজে পান, তবে দয়া করে আমাদের জানিয়ে সাহায্য করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার রেটিং দিন:

Scroll to Top