আমি কোনো আগন্তুক নই কবিতার স্মার্ট নোট

SSC পরীক্ষার্থীদের জন্য আমি কোনো আগন্তুক নই কবিতার স্মার্ট নোট সহজ, সুসংগঠিত ও পরীক্ষাভিত্তিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এই নোটে কবিতার পাঠ পরিচিতি, কবিতার ব্যাখ্যা, মূলভাব এবং লেখক পরিচিতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসহ তুলে ধরা হয়েছে।

কবিতার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা কবিতার বিষয়বস্তু ও মূলভাব দ্রুত বুঝতে এবং পরীক্ষায় সুন্দরভাবে উত্তর লিখতে পারে। SSCপরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই স্মার্ট নোটটি একটি কার্যকর সহায়িকা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।


আমি কোনো আগন্তুক নই কবিতার স্মার্ট নোট

আহসান হাবীব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

পরিচয়: আহসান হাবীব ছিলেন একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশি কবি ও সাহিত্যিক

জন্ম: ২ ফেব্রুয়ারি ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দ।

জন্মস্থান: শংকরপাশা গ্রাম, পিরোজপুর।

পিতার নাম: হামিজুদ্দীন হাওলাদার।

মাতার নাম: জমিলা খাতুন।

ভাই-বোন: পাঁচ ভাই ও চার বোনের মধ্যে আহসান হাবীব ছিলেন পিতামাতার প্রথম সন্তান

পারিবারিক পরিবেশ: ছোটবেলা থেকেই তাঁর পরিবারে সাহিত্য-সংস্কৃতির অনুকূল পরিবেশ ছিল।

শৈশবের সাহিত্যপাঠ: বাড়িতে আধুনিক সাহিত্যের বই ও পুঁথি ছিল। উল্লেখযোগ্য— আনোয়ারা, মনোয়ারা ও মিলন মন্দির

সাহিত্যে প্রবেশ: বাল্যকাল থেকেই লেখালেখির প্রতি তাঁর আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

প্রথম প্রবন্ধ: ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর ‘ধরম’ প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।

প্রথম কবিতা: ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ স্কুল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল।

প্রবেশিকা পাস: ১৯৩৫ সালে পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

কলেজ: বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে ভর্তি হন।

কলেজজীবন: বিএম কলেজে প্রায় দেড় বছর পড়াশোনা করেন।

শিক্ষাজীবন অসমাপ্ত হওয়ার কারণ: অর্থনৈতিক সংকট

কলকাতা গমন: ১৯৩৬ সালের শেষার্ধে কাজের সন্ধানে তৎকালীন রাজধানী কলকাতায় যান।

কর্মজীবনের শুরু: ১৯৩৭ সালে কলকাতার দৈনিক তকবির পত্রিকায় সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।

প্রথম চাকরির বেতন: মাত্র ১৭ টাকা

বুলবুল পত্রিকা: ১৯৩৭–১৯৩৮ সাল পর্যন্ত কলকাতার বুলবুল পত্রিকায় কাজ করেন।

সওগাত পত্রিকা: ১৯৩৯–১৯৪৩ সাল পর্যন্ত মাসিক সওগাত পত্রিকায় কাজ করেন।

আকাশবাণী: ১৯৪৩–১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কলকাতা কেন্দ্রের স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন।

অন্যান্য পত্রিকায় লেখা: তাঁর লেখা দেশ, মাসিক মোহাম্মদী ও সাপ্তাহিক বিচিত্রা প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

দৈনিক বাংলা: দীর্ঘদিন দৈনিক বাংলা পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সাহিত্যিক ভূমিকা: দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে তিনি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেন।

সাহিত্যিক পরিচয়: তিনি চল্লিশের দশকের অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি হিসেবে পরিগণিত।

বিবাহ: ২১ জুন ১৯৪৭ সালে বগুড়ার কাটনারপাড়ার মহসীন আলী মিয়ার কন্যা সুফিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন।

সন্তান: দুই কন্যা— কেয়া চৌধুরী ও জোহরা নাসরীন এবং দুই পুত্র— মঈনুল আহসান সাবের ও মনজুরুল আহসান জাবের

মঈনুল আহসান সাবের: তিনি একজন স্বনামখ্যাত বাংলা ঔপন্যাসিক এবং দিব্যপ্রকাশ প্রকাশনালয়ের কর্ণধার।

রচনাবলি

মোট গ্রন্থ: কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, শিশুতোষ ছড়া ও কবিতা—সব মিলিয়ে তাঁর বইয়ের সংখ্যা ২৫টি

কাব্যগ্রন্থ

রাত্রিশেষ — ১৯৪৭

ছায়াহরিণ — ১৯৬২

সারা দুপুর — ১৯৬৪

আশায় বসতি — ১৯৭৪

মেঘ বলে চৈত্রে যাবো — ১৯৭৬

দু’হাতে দুই আদিম পাথর — ১৯৮০

প্রেমের কবিতা — ১৯৮১

বিদীর্ণ দর্পণে মুখ — ১৯৮৫

সোনার বাংলা — ১৯৭১

উপন্যাস

অরণ্য নীলিমা — ১৯৬০

রাণী খালের সাঁকো — ১৯৬৫

জাফরানী রং পায়রা

শিশু সাহিত্য

জোছনা রাতের গল্প

ছুটির দিন দুপুরে

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর

রেলগাড়ি ঝমামমে

রাণীখালের সাঁকো

জ্যোৎস্না রাতের গল্প

ছোট মামা দি গ্রেট

পাখিরা ফিরে আসে

রত্নদ্বীপTreasure Island-এর সংক্ষিপ্ত অনুবাদ

হাজীবাবা

প্রবাল দ্বীপে অভিযানThe Coral Island-এর সংক্ষিপ্ত অনুবাদ

সম্পাদিত গ্রন্থ

কাব্যলোক

বিদেশের সেরা গল্প

পুরস্কার ও সম্মাননা

ইউনেসকো সাহিত্য পুরস্কার — ১৯৬১

বাংলা একাডেমি পুরস্কার — ১৯৬১

আদমজী সাহিত্য পুরস্কার — ১৯৬৪

নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক — ১৯৭৭

একুশে পদক — ১৯৭৮

আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার — ১৯৮০

আবুল কালাম স্মৃতি পুরস্কার — ১৯৮৪

স্বাধীনতা পুরস্কার — ১৯৯৪, মরণোত্তর

গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারভিত্তিক তথ্য

একুশে পদক: ১৯৭৮ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

স্বাধীনতা পুরস্কার: ১৯৯৪ সালে তাঁকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা: স্বাধীনতা পুরস্কার

বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা: একুশে পদক

মৃত্যু

মৃত্যু: ১০ জুলাই ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ।

মৃত্যুকালে বয়স: ৬৮ বছর।

পরীক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

★ আহসান হাবীবের জন্ম — ২ ফেব্রুয়ারি ১৯১৭

★ আহসান হাবীবের মৃত্যু — ১০ জুলাই ১৯৮৫

★ তাঁর জন্মস্থান — শংকরপাশা, পিরোজপুর

★ তাঁর পিতার নাম — হামিজুদ্দীন হাওলাদার

★ তাঁর মাতার নাম — জমিলা খাতুন

★ তাঁর প্রথম প্রবন্ধ — ‘ধরম’

★ তাঁর প্রথম কবিতা — ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’

★ প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় — ১৯৩৪ সালে

★ ১৯৩৭ সালে তিনি দৈনিক তকবির-এর সহ-সম্পাদক হন।

★ দৈনিক তকবিরে তাঁর বেতন ছিল — ১৭ টাকা

★ তিনি ১৯৩৯–১৯৪৩ পর্যন্ত সওগাত পত্রিকায় কাজ করেন।

★ তিনি ১৯৪৩–১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতা আকাশবাণীর স্টাফ আর্টিস্ট ছিলেন।

★ তিনি দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।

★ তিনি চল্লিশের দশকের অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি

রাত্রিশেষ তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ; প্রকাশকাল ১৯৪৭

ছায়াহরিণ প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে

সারা দুপুর প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে

আশায় বসতি প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে

মেঘ বলে চৈত্রে যাবো প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে

দু’হাতে দুই আদিম পাথর প্রকাশিত হয় ১৯৮০ সালে

প্রেমের কবিতা প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে

বিদীর্ণ দর্পণে মুখ প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে

★ বাংলা একাডেমি পুরস্কার — ১৯৬১

★ আদমজী সাহিত্য পুরস্কার — ১৯৬৪

★ একুশে পদক — ১৯৭৮

★ স্বাধীনতা পুরস্কার — ১৯৯৪, মরণোত্তর

★ আহসান হাবীব ছিলেন মূলত কবি ও সাহিত্যিক এবং আধুনিক বাংলা কবিতার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

আমি কোনো আগন্তুক নই কবিতার ব্যাখ্যা

আসমানের তারা সাক্ষী

ব্যাখ্যা: আকাশের তারকারা সাক্ষী যে কবি এই মাটিরই সন্তান, তিনি অন্য কোথাও থেকে আসেননি।

সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই

ব্যাখ্যা: এ দেশের মাটিতে ফুটে থাকা ফুলগুলোও কবির এই স্থায়ী পরিচয়ের সাক্ষ্য দেয়।

নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী

ব্যাখ্যা: গভীর রাতে বাঁশবাগানে আলো জ্বালানো অসংখ্য জোনাকি পোকা কবির চিরচেনা উপস্থিতি জানে।

সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী

ব্যাখ্যা: বাংলার পরিচিত গাছপালা জারুল ও জামরুল কবিকে ভালোভাবে চেনে।

পুবের পুকুর, তার ঝাকড়া ডুমুরের ডালে স্থির দৃষ্টি

ব্যাখ্যা: পূর্ব দিকের পুকুরপাড়ের ডুমুরগাছের ডালে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা শিকারি পাখিও কবির পরিচিত।

মাছরাঙা আমাকে চেনে

ব্যাখ্যা: সেই ডুমুরগাছে বসে থাকা মাছরাঙা পাখিটি কবিকে চেনে; সে জানে কবি এই ভিটেমাটিরই লোক।

আমি কোনো অভ্যাগত নই

ব্যাখ্যা: কবি স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি সাময়িক সময়ের জন্য আসা কোনো নিমন্ত্রিত মেহমান বা অতিথি নন।

খোদার কসম আমি ভিনদেশি পথিক নই

ব্যাখ্যা: স্রষ্টার নামে কসম খেয়ে কবি জোর দিয়ে বলছেন, তিনি অন্য কোনো দেশের অচেনা মুসাফির নন।

আমি কোনো আগন্তুক নই ।

ব্যাখ্যা: কবি পুনরায় দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করছেন, তিনি হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসা কোনো অচেনা ব্যক্তি বা আগন্তুক নন।

আমি কোনো আগন্তুক নই, আমি

ব্যাখ্যা: কবির আত্মপরিচয়ের পুনরুল্লেখ—তিনি এই পরিবেশ ও প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

ছিলাম এখানে, আমি স্বাপ্নিক নিয়মে

ব্যাখ্যা: কবি অতীত থেকেই এই মাটিতে ছিলেন এবং স্বপ্নের মতো এক গভীর ভালোবাসার টানে এখনো বিরাজ করছেন।

এখানেই থাকি আর

ব্যাখ্যা: এই দেশেই কবির স্থায়ী বসবাস এবং তাঁর অস্তিত্বের শেকড় এই মাটিতেই প্রোথিত।

এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা

ব্যাখ্যা: নিজ জন্মভূমির একটি নির্দিষ্ট স্থানে থাকা মানেই পুরো বাংলাদেশের মানচিত্রে ও হৃদয়ে জড়িয়ে থাকা।

সারা দেশে।

ব্যাখ্যা: কবি পুরো দেশের আনাচে-কানাচে নিজের উপস্থিতি ও আত্মিক টান অনুভব করেন।

আমি কোনো আগন্তুক নই ৷

ব্যাখ্যা: এই স্বদেশে তিনি কোনো পরবাসী বা বহিরাগত নন।

এই খর রৌদ্র জলজ বাতাস মেঘ ক্লান্ত বিকেলের

ব্যাখ্যা: তীব্র প্রখর রোদ, আর্দ্র বাতাস আর মেঘলা ক্লান্ত বিকালের প্রাত্যহিক প্রকৃতির সঙ্গে কবি মিশে আছেন।

পাখিরা আমাকে চেনে

ব্যাখ্যা: এ দেশের মুক্ত আকাশে ডানা মেলে উড়ে চলা পাখিরাও কবিকে চেনে ও জানে।

তারা জানে আমি কোনো অনাত্মীয় নই ।

ব্যাখ্যা: প্রকৃতির পশুপাখিরাও জানে কবি তাদের পর বা অনাত্মীয় নন, বরং আত্নজন।

কার্তিকের ধানের মঞ্জরী সাক্ষী

ব্যাখ্যা: কার্তিক মাসে মাঠে আসা সোনালি ধানের শিষ বা মঞ্জরি কবির এই মাটিতে থাকার সাক্ষী।

সাক্ষী তার চিরোল পাতার

ব্যাখ্যা: ধানের চিকন ও চেরা (চিরোল) পাতাগুলোও কবিকে চেনে।

টলমল শিশির – সাক্ষী জ্যোৎস্নার চাদরে ঢাকা

ব্যাখ্যা: ধানের পাতায় টলমল করা ভোরের শিশির এবং চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় ঢাকা প্রকৃতিও কবির সাক্ষী।

নিশিন্দার ছায়া

ব্যাখ্যা: গ্রামের নিশিন্দা গাছের শান্ত ও শীতল ছায়াও জানে কবি এই ভিটেরই একজন।

অকাল বার্ধক্যে নত কদম আলী

ব্যাখ্যা: বয়সের ভারে এবং অভাব-অনটনে সময়ের আগেই বুড়িয়ে যাওয়া গ্রামের সাধারণ মানুষ কদম আলী।

তার ক্লান্ত চোখের আঁধার –

ব্যাখ্যা: জীবনের কঠিন সংগ্রামে ক্লান্ত কদম আলীর চোখের কোণে জমাট বাঁধা দুঃখ-কষ্টের অন্ধকার।

আমি চিনি, আমি তার চিরচেনা স্বজন একজন । আমি

ব্যাখ্যা: কবি কদম আলীর দুঃখকে চেনেন; কবি নিজেকে সেই খেটে খাওয়া মানুষেরই একজন পরম স্বজন মনে করেন।

জমিলার মা’র

ব্যাখ্যা: গ্রামের দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত আরেক প্রতিনিধি জমিলার মা।

শূন্য খা খা রান্নাঘর শুকনো থালা সব চিনি

ব্যাখ্যা: জমিলার মার অনাহার, হাঁড়িতে চাল না থাকা খালি রান্নাঘর ও শুকিয়ে থাকা ভাতের থালার খবর কবি ভালো করেই জানেন।

সে আমাকে চেনে।

ব্যাখ্যা: জমিলার মা-ও জানে কবি তাঁর দুঃখ-কষ্টের সমব্যথী এক আপনজন।

হাত রাখো বৈঠায় লাঙলে, দেখো

ব্যাখ্যা: বাংলার মাঝির নৌকা চালানোর বৈঠা কিংবা কৃষকের জমি চাষের লাঙল ধরে পরীক্ষা করে দেখার আহ্বান।

আমার হাতের স্পর্শ লেগে আছে কেমন গভীর । দেখো

ব্যাখ্যা: কবি প্রমাণের জন্য দেখাচ্ছেন, শ্রমজীবী মানুষের সেই হাতিয়ারগুলোতে তাঁর নিজের হাতের পরিচিত ছোঁয়া লেগে আছে।

মাটিতে আমার গন্ধ, আমার শরীরে

ব্যাখ্যা: এই বাংলার মাটি ও কবির দেহ আলাদা কিছু নয়; মাটির ঘ্রাণ তাঁর অস্তিত্বেই মিশে আছে।

লেগে আছে এই স্নিগ্ধ মাটির সুবাস।

ব্যাখ্যা: কবি তাঁর সমস্ত দেহে অনুভব করেন জন্মভূমির পবিত্র ও স্নিগ্ধ মাটির মিষ্টি গন্ধ।

আমাকে বিশ্বাস করো, আমি কোনো আগন্তুক নই ।

ব্যাখ্যা: কবি সবাইকে বিশ্বাস রাখতে বলছেন যে তিনি কোনো পরবাসী বা অচেনা আগন্তুক নন, তিনি এই মাটিরই সন্তান।

দু’পাশে ধানের খেত

ব্যাখ্যা: গ্রামের দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ও সোনালি ধানের মাঠ।

সরু পথ

ব্যাখ্যা: মাঠের মাঝখান দিয়ে একেঁবেকে চলে যাওয়া মেঠো পথ।

সামনে ধু ধু নদীর কিনার

ব্যাখ্যা: মেঠো পথ ধরে হেঁটে গেলে চোখের সামনে ভেসে ওঠা বিস্তীর্ণ নদীর তীর।

আমার অস্তিত্বে গাঁথা । আমি এই উধাও নদীর

ব্যাখ্যা: এই মেঠো পথ, নদীর কিনার ও প্রকৃতি কবির অস্তিত্ব বা সত্তার সঙ্গে স্থায়ীভাবে গাঁথা রয়েছে।

মুগ্ধ এক অবোধ বালক ৷

ব্যাখ্যা: কবি রূপসী বাংলার এই অসীম সৌন্দর্যের প্রেমে ব্যাকুল এক বিমোহিত নি নিষ্পাপ বালকের মতো নিজেকে সঁপে দিয়েছেন।

আমি কোনো আগন্তুক নই কবিতার স্মার্ট নোট

★ “আমি কোনো আগন্তুক নই” কবিতার রচয়িতা — আহসান হাবীব।

★ “আমি কোনো আগন্তুক নই” রচনার সাহিত্যরূপ — কবিতা।

★ কবিতার মূল ভাব — নিজ জন্মভূমির প্রতি কবির আত্মিক সম্পর্ক, গভীর নাড়ীর টান ও স্থায়ী অধিকারের ঘোষণা।

★ “আমি কোনো আগন্তুক নই” কবিতায় মূল সুর — স্বদেশের প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য পরিচয়ের আত্মবিশ্বাস।

★ কবি নিজেকে যে পরিচয় দেননি — আগন্তুক, অভ্যাগত বা ভিনদেশি পথিক।

★ কবি কার কসম খেয়ে নিজেকে ভিনদেশি পথিক নন বলেছেন — খোদার কসম।

★ কবির স্বদেশে থাকার প্রথম সাক্ষী — আসমানের তারা।

★ জমিনের যে জিনিসটি কবির উপস্থিতির সাক্ষী — জমিনের ফুল।

★ বাঁশবাগানে রাতে বিচরণকারী কবির সাক্ষী — বিস্তর জোনাকি।

★ কবি যে নির্দিষ্ট গাছগুলোর নাম উল্লেখ করেছেন — জারুল, জামরুল, ডুমুর ও নিশিন্দা।

★ পুকুরের অবস্থান — পুবের পুকুর।

★ ডুমুর গাছের ডালের বৈশিষ্ট্য — ঝাঁকড়া ডুমুরের ডাল।

★ ঝাঁকড়া ডুমুরের ডালে স্থির দৃষ্টিতে বসে থাকে — মাছরাঙা।

★ মাছরাঙা পাখি কবিকে — চেনে।

★ কবি এখানে যেভাবে থাকেন — স্বাপ্নিক নিয়মে।

★ “এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা” — সারা দেশে।

★ প্রকৃতির যে বিকেলের কথা বলা হয়েছে — প্রখর রৌদ্র, জলজ বাতাস ও মেঘে ক্লান্ত বিকেল।

★ বিকেলের পাখিরা কবিকে অনাত্মীয় মনে করে না, কারণ — তারা কবিকে চেনে।

★ ধানের মঞ্জরী বা শিষ যে মাসের — কার্তিক মাসের।

★ ধানের পাতার রূপ — চিরোল পাতা (চিকন চেরা পাতা)।

★ চিরোল পাতায় যা টলমল করে — শিশির।

★ নিশিন্দার ছায়া যার চাদরে ঢাকা — জ্যোৎস্নার চাদরে।

★ অকাল বার্ধক্যে নত চরিত্রের নাম — কদম আলী।

★ কদম আলীর চোখের বৈশিষ্ট্য — ক্লান্ত চোখের আঁধার।

★ কদম আলীর সাথে কবির সম্পর্ক — চিরচেনা স্বজন।

★ যে চরিত্রের রান্নাঘর ও শুকনো থালা কবি চেনেন — জমিলার মা।

★ জমিলার মার রান্নাঘরের অবস্থা — শূন্য খা খা রান্নাঘর।

★ জমিলার মা কবিকে — চেনে।

★ মাঝির যে হাতিয়ারে কবির হাতের স্পর্শ লেগে আছে — বৈঠা।

★ কৃষকের যে হাতিয়ারে কবির গভীর স্পর্শ লেগে আছে — লাঙল।

★ কবির শরীরে লেগে থাকা সুবাস — স্নিগ্ধ মাটির সুবাস।

★ গ্রামের যে পথের কথা বলা হয়েছে — দুই পাশে ধানের খেতঘেরা সরু পথ।

★ সরু পথের সামনে প্রসারিত দৃশ্য — ধু ধু নদীর কিনার।

★ নদীর কিনারের দৃশ্য কবির কোথায় গাঁথা — অস্তিত্বে।

★ উধাও নদীর সামনে কবি নিজের যে রূপ কল্পনা করেছেন — মুগ্ধ এক অবোধ বালক।

★ “আগন্তুক” শব্দের অর্থ — যে আগে কখনো আসেনি বা অচেনা ব্যক্তি।

★ “অভ্যাগত” শব্দের অর্থ — আমন্ত্রিত অতিথি বা মেহমান।

★ “মঞ্জরী” শব্দের অর্থ — মুকুল বা ধানের শিষ।

★ “চিরোল” শব্দের অর্থ — সরু ও চেরা পাতা।

★ “নিশিন্দা” — এক প্রকার বিষলতা বা ঔষধি গাছ।

★ “খর” শব্দের অর্থ — প্রখর বা তীব্র।

★ “জলজ” শব্দের অর্থ — জলে উৎপন্ন বা জলসম্পর্কিত।

শব্দার্থ ও টীকা

শব্দ/শব্দগুচ্ছঅর্থ ও ব্যাখ্যা
আসমানআকাশ।
সাক্ষীকোনো কিছু নিজচোখে দেখেছেন এমন কেউ।
জমিনভূমি।
নিশিরাইত‘নিশীথ রাত্রি’র গ্রামীণ কথ্যরূপ (গভীর রাত বোঝাতে)।
অভ্যাগতগৃহে এসেছে এমন ব্যক্তি, আগন্তুক, নিমন্ত্রিত অতিথি।
ধানের মঞ্জরীমঞ্জরী হলো মুকুল বা শিষ; ধানের মঞ্জরী হলো ধানের শিষ বা মুকুল।
নিশিন্দাগ্রামীণ এক ধরনের গাছ।
জমিলার মা’র…সব চিনিগরিব, অভাবী শ্রেণির প্রতিনিধি জমিলার মা। তাদের রান্নাঘর সাধারণত শূন্যই থাকে, কারণ রান্না করার মতো খাদ্য উপাদান তাদের থাকে না। রান্না হয় না বলে খাওয়াও হয় না, তাই থালা-বাসন শুকনো থাকে। কবিও সেই বাস্তবতার কথা ভালো করেই জানেন।
স্নিগ্ধ মাটির সুবাসমাটির মিষ্টি গন্ধ। অর্থাৎ মায়াবী ও আকর্ষণীয় গ্রামবাংলা।
দু’পাশে ধানের ক্ষেত…আমার অস্তিত্বে গাঁথাকবি গ্রামীণ পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন। গ্রামের মাঠ-ঘাট, প্রান্তর, ক্ষেতের সরু পথ, তার পাশে ধানের সমারোহ এবং নদীর কিনার কবির মনের ভেতর ও অস্থিমজ্জায় গেঁথে আছে। এরা সবাই কবির চিরচেনা।

পাঠ পরিচিতি

জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের আজীবনের সম্পর্ক। এর সবকিছুই তার মনে হয় কত চেনা, কত জানা। জন্মভূমির মধ্যে শিকড় গেড়ে থেকেই মানুষ তাই সমগ্র দেশকে আপন করে পায়। এই অনুভূতি তুলনাহীন। দেশ মানে তো শুধু চারপাশের প্রকৃতি নয়, একে আপন সত্তায় অনুভব করা। আর দেশকে অনুভব করলেই দেশের মানুষকেও আপন মনে হবে আমাদের। এই কবিতায় বাংলা সাহিত্য

সেই অনুভবই আন্তরিক মমতায় সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন কবি। তিনি উচ্চারণ করছেন, তিনি কোনো আগন্তুক নন । তিনি যেমন ওই আসমান, জমিনের ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙাকে চেনেন, তেমনি তারাও তাকে চেনে । পাখি, কার্তিকের ধান কিংবা শুধু শিশির নয়, তিনি এই জনপদের মানুষকেও ভালোভাবে চেনেন। তিনি কদম আলী, জমিলার মা’র মতো মানুষের চিরচেনা স্বজন। কবি অনুভব করেন, যে-লাঙল জমিতে ফসল ফলায়, সেই লাঙল আর মাটির গন্ধ লেগে আছে তার হাতে, শরীরে। ধানক্ষেত আর ধু ধু নদীর কিনার, অর্থাৎ এই গ্রামীণ জনপদের সঙ্গেই তার জীবন বাঁধা । এই হচ্ছে তাঁর অস্তিত্ব। এই হচ্ছে মানবজীবন, জন্মভূমির সঙ্গে যে-মানুষ গভীরভাবে সম্পর্কিত ।


Read More: SSC বাংলা অন্ধবধূ কবিতার স্মার্ট নোট


আমি কোনো আগন্তুক নই কবিতার স্মার্ট নোট PDF Download

সমাধানে যদি কোনো ভুল খুঁজে পান, তবে দয়া করে আমাদের জানিয়ে সাহায্য করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার রেটিং দিন:

Scroll to Top