প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার স্মার্ট নোট পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য একটি সংক্ষিপ্ত ও নির্ভরযোগ্য স্টাডি গাইড। এতে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা, সারাংশ, শব্দার্থ, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও MCQ একসঙ্গে সাজানো হয়েছে। নিচে PDF ডাউনলোড করুন।
HSC প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার স্মার্ট নোট
পরিচয়
- পূর্ণ নাম: মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ
- জন্ম: ১১ জুলাই ১৯৩৬, মোড়াইল গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা
- মৃত্যু: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ (৮২ বছর বয়সে), ইবনে সিনা হাসপাতাল, ধানমণ্ডি, ঢাকা — নিউমোনিয়া ও বার্ধক্যজনিত জটিলতায়
- পরিচয়: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি; কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্পকার, শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক
- পিতা-মাতা: মীর আবদুর রব (পিতা), রওশন আরা মীর (মাতা)
- দাদা: আব্দুল ওহাব মোল্লা (হবিগঞ্জ জেলার জমিদার)
- স্ত্রী: সৈয়দা নাদিরা বেগম; সন্তান — ৫ ছেলে, ৩ মেয়ে
শিক্ষাজীবন
- সাধনা হাই স্কুল, দাউদকান্দি থানা, কুমিল্লা
- সীতাকুণ্ড হাই স্কুল, চট্টগ্রাম
- এই সময় থেকেই লেখালেখির সূচনা; ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেড়ে ওঠা; মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান, বৈষ্ণব পদাবলি, রবীন্দ্রনাথ-নজরুল পাঠের প্রভাব
কর্মজীবন ও সাংবাদিকতা
- ১৯৫৪: ঢাকা আগমন; সাপ্তাহিক কাফেলা পত্রিকায় লেখালেখি শুরু, দৈনিক মিল্লাতে প্রুফ রিডার হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু
- ১৯৫৫: কাফেলা পত্রিকার সম্পাদক
- ১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ (ভারতে গমন, প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালন)
- ১৯৭২–১৯৭৪: দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার প্রতিষ্ঠা-সম্পাদক (সরকারবিরোধী পত্রিকা); সরকারবিরোধী লেখার জন্য ১ বছর কারাদণ্ড
- ১৯৭৫: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক নিযুক্ত; পরে পরিচালক
- ১৯৯৩: পরিচালক পদ থেকে অবসর
সাহিত্যকর্ম ও বৈশিষ্ট্য
- প্রথম দিকে সমাজতন্ত্রে আস্থাশীল ছিলেন; ১৯৭০-এর দশকের শেষার্ধে কবিতায় বিশ্বস্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস প্রকাশ পায় — প্রগতিশীল মহলের সমালোচনার সম্মুখীন হন
- বিষয়বস্তু: ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবন, নর-নারীর প্রেম-বিরহ
- আঞ্চলিক শব্দের স্বতঃস্ফূর্ত প্রয়োগ তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্য
- সবচেয়ে আলোচিত গ্রন্থ: সোনালি কাবিন
উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ
- লোক লোকান্তর (১৯৬৩)
- কালের কলস (১৯৬৬)
- সোনালী কাবিন (১৯৭৩)
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো (১৯৭৬)
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না (১৯৮০)
- বখতিয়ারের ঘোড়া (১৯৮৫)
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস (১৯৮৭)
উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থ
- প্রথম উপন্যাস: কবি ও কোলাহল (১৯৯৩)
- প্রথম ছোটগল্প গ্রন্থ: পানকৌড়ির রক্ত (১৯৭৫)
- অন্যান্য: কাবিলের বোন, উপমহাদেশ, ত্রিশিরা, জলবৈশ্যা ও তাহারা, নদীর সতীন ইত্যাদি
অন্যান্য রচনা
- আত্মজীবনী: যেভাবে বেড়ে উঠি, বিচুর্ণ আয়নায় কবির মুখ
- শিশুতোষ: পাখির কাছে ফুলের কাছে, ফড়িং ধরার গল্প
- প্রবন্ধ: কবির আত্মবিশ্বাস, বাঙালি মুসলমানের শত্রুমিত্র
পুরস্কার ও সম্মাননা (গুরুত্বপূর্ণগুলো)
| বছর | পুরস্কার |
| ১৯৬৮ | বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (লোক লোকান্তর ও কালের কলস) |
| ১৯৮৬ | একুশে পদক |
| ১৯৮৬ | ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার |
| ২০১১ | লালন পুরস্কার |
| ২০২৫ | স্বাধীনতা পুরস্কার |
দ্রুত রেফারেন্স টাইমলাইন
- ১৯৩৬ — জন্ম
- ১৯৫৪ — ঢাকায় আগমন, সাংবাদিকতা শুরু
- ১৯৬৩ — প্রথম কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর
- ১৯৬৮ — বাংলা একাডেমি পুরস্কার
- ১৯৭১ — মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ
- ১৯৭২–৭৪ — দৈনিক গণকণ্ঠের সম্পাদক, কারাদণ্ড
- ১৯৭৩ — সোনালি কাবিন প্রকাশ
- ১৯৯৩ — প্রথম উপন্যাস কবি ও কোলাহল, চাকরি থেকে অবসর
- ২০১৯ — মৃত্যু
‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার লাইন ব্যাখ্যা
প্রথম অনুচ্ছেদ
শেষ ট্রেন ধরবো বলে এক রকম ছুটতে ছুটতে ষ্টেশনে পৌঁছে দেখি
ব্যাখ্যা: কবি শহরে ফেরার জন্য ধরা-বাঁধা নির্ধারিত শেষ ট্রেনটি পাওয়ার উদ্দেশ্যে তাড়াহুড়ো করে প্রায় দৌড়ে রেলস্টেশনে গিয়ে পৌঁছান।
নীলবর্ণ আলোর সংকেত । হতাশার মতোন হঠাৎ
দারুণ হুইসেল দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে ।
ব্যাখ্যা: স্টেশনে পৌঁছে তিনি দেখেন ট্রেন ছাড়ার নীল সিগন্যাল পড়ে গেছে। তাঁর পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র বিষাদ বা হতাশার মতো কর্কশ হুইসেল বাজিয়ে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে চলে যায়।
যাদের সাথে শহরে যাবার কথা ছিল তাদের উৎকণ্ঠিত মুখ
জানালায় উবুড় হয়ে আমাকে দেখছে । হাত নেড়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে ।
ব্যাখ্যা: কবিকে ছাড়া ট্রেন ছেড়ে দেওয়ায় তাঁর সঙ্গী-সাথীরা জানালার ধারে চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন মুখে উঁকি দিয়ে তাঁকে দেখছিল। ট্রেন মিস করায় কবির মন খারাপ দেখে তারা হাত নেড়ে তাঁকে সান্ত্বনা জানাচ্ছিল।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
আসার সময় আব্বা তাড়া দিয়েছিলেন, গোছাতে গোছাতেই
তোর সময় বয়ে যাবে, তুই আবার গাড়ি পাবি ।
ব্যাখ্যা: বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বাবা সতর্ক করে তাড়া দিয়েছিলেন—জিনিসপত্র গোছাতেই যদি সব সময় পার করে দিস, তবে ট্রেন ধরবি কীভাবে! (এখানে বাবার অভিজ্ঞতালব্ধ ও প্রচ্ছন্ন শ্লেষাত্মক মন্তব্য ফুটে উঠেছে)।
আম্মা বলেছিলেন, আজ রাত না হয় বই নিয়েই বসে থাক
কত রাত তো অমনি থাকিস ।
ব্যাখ্যা: মা মমতাময় হৃদয়ে বলেছিলেন, রাতের গাড়ি ধরতে গিয়ে ঝক্কি না পোহাইয়ে আজ রাতটা না হয় বাড়িতেই বই পড়ে কাটিয়ে দে, যেমন অনেক রাত জাগিস।
আমার ঘুম পেলো । এক নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় আমি
নিহত হয়ে থাকলাম ।
ব্যাখ্যা: আলসেমি ও অনিচ্ছায় কবির ঘুম চলে আসে। তিনি কোনো স্বপ্নহীন গভীর ঘুমে এমনভাবে ঢলে পড়েন যে তাঁর শহরের ট্রেন ধরার সচেতনতাটুকু যেন মরে বা হারিয়ে যায় (নিহত হয়ে যান)।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ
অথচ জাহানারা কোনদিন ট্রেন ফেল করে না । ফরহাদ
আধ ঘণ্টা আগেই ষ্টেশনে পৌঁছে যায় । লাইলী
মালপত্র তুলে দিয়ে আগেই চাকরকে টিকিট কিনতে পাঠায় । নাহার
কোথাও যাওয়ার কথা থাকলে আনন্দে ভাত পর্যন্ত খেতে পারে না ।
ব্যাখ্যা: কবি নিজের অসচেতনতার সাথে সহযাত্রীদের (জাহানারা, ফরহাদ, লাইলী, নাহার) দায়িত্বশীলতার তুলনা করছেন। তারা প্রত্যেকেই অত্যন্ত নিয়মানুবর্তী—কেউ সময়ে পৌঁছায়, কেউ আগেই টিকিট কেটে রাখে, আবার কেউ ভ্রমণের আনন্দে খাওয়াদাওয়া পর্যন্ত ভুলে যায়।
আর আমি এদের ভাই
সাত মাইল হেঁটে এসে শেষ রাতের গাড়ি হারিয়ে
এক অখ্যাত ষ্টেশনে কুয়াশায় কাঁপছি ।
ব্যাখ্যা: অথচ কবি তাঁদের মতো সজাগ হতে পারেননি। সাত মাইল পথ হেঁটে স্টেশনে পৌঁছে শেষ গাড়িটি হারিয়ে তিনি নিঃসঙ্গভাবে এক পরিচিতিহীন ছোট স্টেশনে ভোরের কনকনে ঠাণ্ডা ও কুয়াশায় একা দাঁড়িয়ে কাঁপছেন।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ
কুয়াশার সাদা পর্দা দোলাতে দোলাতে আবার আমি ঘরে ফিরবো ।
শিশিরে আমার পাজামা ভিজে যাবে । চোখের পাতায়
শীতের বিন্দু জমতে জমতে নির্লজ্জের মতোন হঠাৎ
লাল সূর্য উঠে আসবে ।
ব্যাখ্যা: ট্রেন মিস করার পর কবিকে বাধ্য হয়ে কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরের পথ ধরে আবার বাড়িতে ফিরে যেতে হচ্ছে। পথে শিশিরে তাঁর পাজামা ভিজে যাচ্ছে এবং চোখে শীতে বিন্দু বিন্দু শিশির জমছে। ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁর এই ব্যর্থতাকে চাবুক মারার মতো নির্লজ্জ আলো ছড়িয়ে আকাশে সূর্য উঠে পড়ছে।
পরাজিতের মতো আমার মুখের ওপর রোদ
নামলে, সামনে দেখবো পরিচিত নদী । ছড়ানো ছিটানো
ঘরবাড়ি, গ্রাম । জলার দিকে বকের ঝাঁক উড়ে যাচ্ছে ।
ব্যাখ্যা: গাড়ি মিস করে এক পরাজিত মানুষের মতো তিনি যখন অনুশোচনায় ভেঙে পড়ছেন, তখন তাঁর মুখে সকালের রোদ এসে পড়ে। চোখের সামনে ফুটে ওঠে পরিচিত নদী, গ্রামের ঘরবাড়ি এবং জলাভূমির দিকে উড়ে যাওয়া বকের দল—যা প্রকৃতির এক নিবিড় সৌন্দর্যকে তুলে ধরে।
তারপর
দারুণ ভয়ের মতো ভেসে উঠবে আমাদের আটচালা ।
কলার ছোট বাগান ।
ব্যাখ্যা: প্রকৃতির সুন্দর দৃশ্যের মধ্য দিয়েই হঠাৎ এক অজানা ভয় বা সংকোচের রূপ নিয়ে নিজের চেনা আটচালা ঘর আর কলার বাগানটি ভেসে ওঠে। কারণ, মা-বাবার কথা না শুনে ট্রেন মিস করে বাড়ি ফেরার লজ্জাটুকু কবির ভেতরে ভয় সৃষ্টি করছে।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ
দীর্ঘ পাতাগুলো না না করে কাঁপছে । বৈঠকখানা থেকে আব্বা
একবার আমাকে দেখে নিয়ে মুখ নিচু করে পড়তে থাকবেন,
ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান …।
ব্যাখ্যা: বাতাসের দোলায় কলার পাতাগুলো যেন কবিকে দেখে না-না (ধিক্কার) সূচক মাথা নাড়ছে। বৈঠকখানা বা বাইরের ঘরে বসে থাকা বাবা কবিকে অকালে অসময়ে ফিরে আসতে দেখে একটু দেখে নেবেন, কিন্তু কিছু না বলে নীরব শাসন হিসেবে মুখ নিচু করে কুরআন শরীফ পাঠ চালিয়ে যাবেন (সুরা রহমানের আয়াত: “তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে…?”)।
বাসি বাসন হাতে আম্মা আমাকে দেখে হেসে ফেলবেন ।
ভালোই হলো তোর ফিরে আসা । তুই না থাকলে
ঘরবাড়ি একেবারে কেমন শূন্য হয়ে যায় । হাত মুখ
ধুয়ে আয় । নাস্তা পাঠাই।
ব্যাখ্যা: অন্যদিকে গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত মা কবিকে ফিরে আসতে দেখে কোনো রাগ বা মেজাজ না দেখিয়ে এক পরম মমতাময় হাসিতে তাঁকে গ্রহণ করবেন। সন্তানের ব্যর্থতাকে ভুলিয়ে দিতে বলবেন—তোর ফিরে আসাটা ভালোই হয়েছে, তুই না থাকলে ঘরটাই খালি খালি লাগত। এরপর স্নেহের ছলে বলবেন হাত-মুখ ধুয়ে আসতে, তিনি সকালের নাশতা পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
আর আমি মাকে জড়িয়ে ধরে আমার প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে
ঘষে ঘষে
তুলে ফেলবো ।
ব্যাখ্যা: মা-বাবার এই নিঃশর্ত ভালোবাসা, মমতা ও স্নেহের কাছে কবির ট্রেন মিস করা এবং অকালে বাড়ি ফেরার সমস্ত অপমান, পরাজয় আর লজ্জা ধুয়েমুছে যায়। মায়ের বুকে মাথা গুঁজে জড়িয়ে ধরে কবি তাঁর ফিরে আসার আত্মগ্লানি ও লজ্জাটুকুকে চিরতরে দূর করে স্বস্তি খুঁজে পান।
আল মাহমুদ ও “প্রত্যাবর্তনের লজ্জা” — স্মার্ট নোটস
★ কবিতার নাম — “প্রত্যাবর্তনের লজ্জা”।
★ কবিতার রচয়িতা — আল মাহমুদ।
★ কবিতাটি সংকলিত হয়েছে — “সোনালি কাবিন” কাব্যগ্রন্থ থেকে।
★ “সোনালি কাবিন” কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় — ১৯৭৩ সালে।
★ কবিতাটির রচনাশৈলী — সংলাপ ও গল্প বলার ঢঙে রচিত।
★ কবিতার ভাষা — বাংলা।
★ সাহিত্যিক ধরন — আধুনিক বাংলা কবিতা।
★ আল মাহমুদের জন্ম — ১১ জুলাই ১৯৩৬।
★ আল মাহমুদের জন্মস্থান — মোড়াইল গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।
★ আল মাহমুদের পিতৃপ্রদত্ত নাম — মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
★ আল মাহমুদের পিতার নাম — মীর আবদুর রব।
★ আল মাহমুদের মাতার নাম — রওশন আরা মীর।
★ আল মাহমুদের দাদার নাম — আব্দুল ওহাব মোল্লা।
★ আব্দুল ওহাব মোল্লা ছিলেন — হবিগঞ্জ জেলার জমিদার।
★ আল মাহমুদের স্ত্রীর নাম — সৈয়দা নাদিরা বেগম।
★ আল মাহমুদ দম্পতির সন্তান সংখ্যা — ৫ ছেলে ও ৩ মেয়ে।
★ আল মাহমুদের মৃত্যু — ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
★ আল মাহমুদের মৃত্যুস্থান — ইবনে সিনা হাসপাতাল, ধানমণ্ডি, ঢাকা।
★ মৃত্যুকালে আল মাহমুদের বয়স — ৮২ বছর।
★ মৃত্যুর কারণ — নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত জটিলতা।
★ আল মাহমুদের প্রথম স্কুল — সাধনা হাই স্কুল, দাউদকান্দি থানা, কুমিল্লা।
★ আল মাহমুদের দ্বিতীয় স্কুল — সীতাকুণ্ড হাই স্কুল, চট্টগ্রাম।
★ যে সময় থেকে লেখালেখি শুরু — স্কুলজীবন থেকেই।
★ আল মাহমুদ বেড়ে ওঠেন — ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।
★ তাঁর সাহিত্যপাঠের প্রভাব — মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান, বৈষ্ণব পদাবলি, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল।
★ আল মাহমুদ ঢাকায় আসেন — ১৯৫৪ সালে।
★ প্রথম যে পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন — সাপ্তাহিক কাফেলা।
★ কাফেলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন — কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী।
★ কাফেলা পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন — নাজমুল হক।
★ আল মাহমুদ প্রুফ রিডার হিসেবে কাজ করেন — দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায়।
★ আল মাহমুদ কাফেলা পত্রিকার সম্পাদক হন — ১৯৫৫ সালে।
★ আল মাহমুদ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন — ১৯৭১ সালে, ভারতে গমন করে।
★ মুক্তিযুদ্ধে আল মাহমুদের ভূমিকা — প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালন।
★ যুদ্ধের পর যে পত্রিকার প্রতিষ্ঠা-সম্পাদক হন — দৈনিক গণকণ্ঠ।
★ দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার সময়কাল — ১৯৭২-১৯৭৪।
★ দৈনিক গণকণ্ঠ ছিল — সরকারবিরোধী পত্রিকা।
★ সরকারবিরোধী লেখার জন্য আল মাহমুদের সাজা — এক বছরের কারাদণ্ড।
★ ১৯৭৫ সালে যিনি আল মাহমুদকে চাকরি দেন — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
★ ১৯৭৫ সালে আল মাহমুদের পদ — শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক।
★ পরবর্তীতে আল মাহমুদ যে পদে উন্নীত হন — পরিচালক।
★ আল মাহমুদ অবসর গ্রহণ করেন — ১৯৯৩ সালে।
★ আল মাহমুদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ — লোক লোকান্তর (১৯৬৩)।
★ আল মাহমুদের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ — কালের কলস (১৯৬৬)।
★ আল মাহমুদের সবচেয়ে আলোচিত কাব্যগ্রন্থ — সোনালি কাবিন (১৯৭৩)।
★ “মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো” কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় — ১৯৭৬ সালে।
★ আল মাহমুদের প্রথম উপন্যাস — কবি ও কোলাহল (১৯৯৩)।
★ আল মাহমুদের প্রথম ছোটগল্প গ্রন্থ — পানকৌড়ির রক্ত (১৯৭৫)।
★ আল মাহমুদের কবিতার প্রধান বিষয় — ভাটি বাংলার জনজীবন ও নরনারীর প্রেম-বিরহ।
★ আল মাহমুদের কবিতার বিশেষত্ব — আঞ্চলিক শব্দের স্বতঃস্ফূর্ত প্রয়োগ।
★ তাঁর প্রথম জীবনের রাজনৈতিক ঝোঁক — সমাজতন্ত্রের প্রতি আস্থা।
★ ১৯৭০-এর দশকের শেষার্ধে তাঁর কবিতায় যা প্রকাশ পায় — বিশ্বস্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস।
★ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান — ১৯৬৮ সালে।
★ বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়া দুটি গ্রন্থ — লোক লোকান্তর ও কালের কলস।
★ একুশে পদক পান — ১৯৮৬ সালে।
★ ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার পান — ১৯৮৬ সালে।
★ লালন পুরস্কার পান — ২০১১ সালে।
★ স্বাধীনতা পুরস্কার পান — ২০২৫ সালে।
★ জয় বাংলা পুরস্কার পান — ১৯৭২ সালে।
“প্রত্যাবর্তনের লজ্জা” কবিতা বিশ্লেষণ
★ কবিতার বক্তা (কথক) — কবি নিজে (প্রথম পুরুষে বর্ণিত)।
★ কবিতায় উল্লেখিত পিতা — আব্বা।
★ কবিতায় উল্লেখিত মাতা — আম্মা।
★ কবিতায় উল্লেখিত বোন — জাহানারা, লাইলী, নাহার।
★ কবিতায় উল্লেখিত ভাই — ফরহাদ।
★ জাহানারার বৈশিষ্ট্য — কখনো ট্রেন ফেল করেন না।
★ ফরহাদের বৈশিষ্ট্য — আধ ঘণ্টা আগেই স্টেশনে পৌঁছান।
★ লাইলীর বৈশিষ্ট্য — আগেভাগেই চাকরকে টিকিট কিনতে পাঠান।
★ নাহারের বৈশিষ্ট্য — ভ্রমণের কথা থাকলে আনন্দে ভাতও খেতে পারেন না।
★ কথকের নিজের বৈশিষ্ট্য — অগোছালো, শেষ মুহূর্তে ছোটাছুটি করেন।
★ কবিতার মূল ঘটনা — কথকের শেষ ট্রেন হারানো।
★ ট্রেন হারানোর স্থান — রেলস্টেশন।
★ ট্রেন হারানোর কারণ — দেরিতে পৌঁছানো, ঘুমিয়ে পড়া।
★ কথকের গন্তব্য ছিল — শহর।
★ যাত্রাসঙ্গীদের প্রতিক্রিয়া — জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে সান্ত্বনা জানানো।
★ কথক কত মাইল হেঁটে স্টেশনে পৌঁছান — সাত মাইল।
★ ট্রেন হারানোর পর কথকের অবস্থা — অখ্যাত স্টেশনে কুয়াশায় কাঁপা।
★ কবিতার পরিণতি — কথকের ঘরে ফেরা ও মায়ের কাছে আশ্রয় নেওয়া।
★ কবিতার শেষ ভাব — লজ্জা মুছে ফেলার প্রতীকী উপলব্ধি।
★ কবিতার মূল থিম — ব্যর্থতার লজ্জা ও মাতৃস্নেহে আশ্রয়।
★ কবিতার কেন্দ্রীয় দ্বন্দ্ব — নাগরিক জীবনের প্রতিযোগিতা বনাম গ্রামীণ জীবনের নিরাপত্তা।
★ “কুয়াশা” প্রতীক করে — অনিশ্চয়তা ও ব্যর্থতার অন্ধকার।
★ “সূর্যোদয়” প্রতীক করে — সত্য প্রকাশ ও লজ্জার প্রকাশ্যতা।
★ “নদী ও গ্রাম” প্রতীক করে — শিকড় ও পরিচিত আশ্রয়।
★ “আটচালা” (ঘর) প্রতীক করে — পারিবারিক নিরাপত্তা।
★ “মা” চরিত্রটি প্রতীক করে — নিঃশর্ত ক্ষমা ও প্রকৃতির মাতৃরূপ।
★ কবিতার সুর/টোন — আত্মজৈবনিক, স্বীকারোক্তিমূলক ও করুণ।
★ কবিতার ভাষারীতি — কথ্য ঢঙে বর্ণনামূলক ও সংলাপনির্ভর।
★ “নীলবর্ণ আলোর সংকেত” অর্থ — ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার সংকেত।
★ “উৎকণ্ঠিত” শব্দের অর্থ — উদ্বিগ্ন, ব্যাকুল।
★ “উবুড়” শব্দের অর্থ — উপুড়।
★ “নিঃস্বপ্ন নিদ্রা” অর্থ — স্বপ্নহীন গভীর ঘুম।
★ “শীতের বিন্দু” অর্থ — শীতের শিশির।
★ “বাসি বাসন” অর্থ — পূর্বরাতের অপরিষ্কার থালা।
★ “আটচালা” অর্থ — চারচালা/আটচালা ছনের ঘর।
★ কবিতায় উদ্ধৃত আরবি পঙক্তির অর্থ — আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকারের প্রশ্ন (কোরআনের আয়াত)।
★ কথকের ট্রেন হারানোর কারণ — দেরি ও ঘুমিয়ে পড়া।
★ আব্বার তাড়া দেওয়ার কারণ — সময়মতো স্টেশনে পৌঁছানোর জন্য সতর্কতা।
★ আম্মার পরামর্শের কারণ — কথককে রাত জেগে বই পড়ার অভ্যাসের সঙ্গে তুলনা।
★ কথকের লজ্জার কারণ — ভাইবোনদের তুলনায় নিজের ব্যর্থতা।
★ লজ্জা দূর হওয়ার কারণ — মায়ের স্নেহময় গ্রহণ।
★ কবিতায় উল্লেখিত বাহন — ট্রেন।
★ কবিতায় উল্লেখিত পাখি — বক।
★ কবিতায় উল্লেখিত উদ্ভিদ — কলাগাছ।
★ কবিতায় উল্লেখিত পোশাক — পাজামা।
★ কবিতায় উল্লেখিত প্রাকৃতিক উপাদান — কুয়াশা, শিশির, সূর্য।
★ কবিতায় উল্লেখিত গৃহ কাঠামো — আটচালা, বৈঠকখানা।
★ “প্রত্যাবর্তনের লজ্জা” শব্দবন্ধের অর্থ — ফিরে আসার গ্লানি বা ব্যর্থতাজনিত লজ্জা।
★ কবিতাটি কোন কাব্যরীতির উদাহরণ — বর্ণনাত্মক ও সংলাপধর্মী কবিতা।
★ কবিতায় প্রকৃতির ভূমিকা — মানসিক অবস্থার প্রতিফলক (কুয়াশা=হতাশা, সূর্য=উন্মোচন)।
★ কবিতার নৈতিক শিক্ষা/বার্তা — ব্যর্থতা মাতৃস্নেহে ক্ষমাযোগ্য, গ্রামীণ শিকড়ই চূড়ান্ত আশ্রয়।
শব্দার্থ ও টীকা
| শব্দ / বাক্যাংশ | অর্থ / ব্যাখ্যা |
| নীলবর্ণ আলোর সংকেত | ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার সংকেত। |
| হতাশার মতোন….ছেড়ে দিয়েছে | গাড়ি ধরতে না পারায় হতাশাগোস্ত মনের অভিব্যক্তি। |
| উৎকণ্ঠিত | উদ্বিগ্ন, ব্যাকুল। |
| উবুড় | উপুড়। |
| নিঃস্বপ্ন নিদ্রায়….থাকলাম | স্বপ্নহীন নিদ্রায় আচ্ছন্ন থাকা। |
| শীতের বিন্দু | শীতের শিশির। |
| দারুণ ভয়ের….আটচালা | ট্রেন ধরতে না পারার ব্যর্থতা ও ফিরে আসার লজ্জায় এমন অনুভূতির জন্ম। |
| ফাবি আইয়ে……তুকাজ্জিবান | অতএব, তোমরা উভয় তথা জিন ও ইনসান তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে? |
| বাসি বাসন | পূর্বরাতে বা পূর্বদিনে ব্যবহৃত, অপরিষ্কার থালা। |
| আমি মাকে……তুলে ফেলব | শহরে যেতে না পেরে ফিরে আসার ব্যর্থতা ও লজ্জা মায়ের আশ্রয়ে মুছে ফেলা। |
পাঠ-পরিচিতি
“প্রত্যাবর্তনের লজ্জা” কবিতাটি আল মাহমুদের ‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। সংলাপ এবং গল্প বলার ঢঙে কবিতাটি রচিত।
শহরে যাওয়ার শেষ ট্রেনটি ধরার জন্য রেলস্টেশনে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই ট্রেন ছেড়ে দিল। কবি দেখতে পেলেন, যাদের সঙ্গে একত্রে শহরে যাওয়ার কথা ছিল তারা ট্রেনের জানালা দিয়ে তাকে সান্ত্বনা জানাচ্ছেন। ট্রেন ধরতে না পারার হতাশায় কবির মনে পড়ল বাবা-মায়ের কথাগুলো। নিজের ভাইবোনদের সতর্ক ও সচেতন প্রস্তুতির স্মৃতিও কবির মনে জাগ্রত হলো। এক রকম পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে কবি সেই ভোররাতে বাড়ির পথে ফিরতে শুরু করলেন। রাতের অন্ধকার সরিয়ে সূর্যের আলো চোখে পড়তেই তিনি দেখতে পেলেন পরিচিত নদী, গ্রাম, নিজেদের আটচালা ঘর। কবির এই ফিরে আসা তার মাকে আনন্দিত করে তুলল। কবিও মাকে জড়িয়ে ধরে তার প্রত্যাবর্তনের লজ্জা মন থেকে মুছে ফেললেন। শহর বা নাগরিক জীবনের চেয়ে মাতৃতুল্য গ্রামীণ সহজ জীবনই কবির জন্য পরম স্বস্তির। তিনি শহরমুখী জীবনযাত্রায় খাপ খাওয়াতে না পারার ব্যর্থতাকে মুছে ফেলছেন মায়ের আশ্রয়ে। এই মা একই সঙ্গে প্রকৃতিরও প্রতিমূর্তি।