সাহিত্যে খেলা অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর

এইচএসসি সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (PDF)

এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের সাহিত্যে খেলা অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর পিডিএফ ডাউনলোড করুন। বিগত সালের বোর্ড প্রশ্ন ও শীর্ষস্থানীয় কলেজের প্রশ্ন গুলো বিশ্লেষণ করে এখানে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যে খেলা অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হলো। তাহলে চলো, শুরু করি।


সাহিত্যে খেলা অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর ২০২৬

প্রশ্ন–১: ‘এই পুতুল গড়া হচ্ছে তাঁর খেলা’— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: উক্তিটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, শিল্পীর সৃষ্টিকর্ম মূলত তাঁর মনের আনন্দের প্রকাশ; তা এক ধরনের খেলা।

প্রমথ চৌধুরী ফরাসি ভাস্কর রোদ্যাঁর উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন যে, তিনি যেমন বিশাল ভাস্কর্য নির্মাণ করতেন, তেমনি অবসরে কাদামাটি দিয়ে পুতুল গড়তেন। এই পুতুল গড়া তাঁর কাছে নিছক খেলা। অর্থাৎ শিল্পসৃষ্টি কোনো কৃত্রিম বা কষ্টসাধ্য কাজ নয়; বরং শিল্পীর অন্তরের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দের প্রকাশ। এই খেলাচ্ছলেই বড়ো শিল্পের জন্ম হয়।

প্রশ্ন–২: ‘পৃথিবীর শিল্পী মাত্রেই এই শিল্পের খেলা খেলে থাকেন।’— ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: এখানে লেখক বোঝাতে চেয়েছেন যে, শিল্পসৃষ্টি সকল শিল্পীর কাছেই এক ধরনের আনন্দময় খেলা।

শিল্পী যখন সৃষ্টি করেন, তখন তা কেবল কর্তব্যবোধ থেকে নয়, অন্তরের আনন্দ থেকেই করেন। রোদ্যাঁ যেমন খেলাচ্ছলে পুতুল গড়তেন, তেমনি পৃথিবীর সকল শিল্পীই সৃষ্টির উপকরণ নিয়ে খেলায় মেতে থাকেন। এই খেলাই তাদের সৃজনশীলতার উৎস। তাই শিল্পসাধনা মূলত আনন্দময় সৃজনখেলা।

প্রশ্ন–৩: ‘যিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন, বাঁদরও গড়তে পারেন।’— উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: উক্তিটির দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, প্রকৃত শিল্পীর সৃষ্টিশক্তি সর্বব্যাপী ও স্বাধীন।

যিনি প্রকৃত অর্থে সৃষ্টি করতে জানেন, তাঁর কাছে বিষয়বস্তুর ভেদাভেদ নেই। তিনি যেমন মহৎ ও গম্ভীর বিষয়কে রূপ দিতে পারেন, তেমনি সাধারণ বা হালকা বিষয়কেও শিল্পে পরিণত করতে পারেন। তাই শিল্পীর স্বাধীন সৃষ্টিশক্তিই এখানে প্রধান বিষয়।

প্রশ্ন–৪: ‘মন উঁচুতেও উঠতে চায়, নীচুতেও নামতে চায়।’— কেন?

উত্তর: মানুষের মন স্বভাবতই চঞ্চল ও বহুমুখী বলে তা নানা স্তরে বিচরণ করতে চায়।

লেখকের মতে, মানুষের মন কেবল উচ্চমার্গে অবস্থান করতে চায় না; আবার একেবারে নিম্নস্তরেও স্থির থাকে না। বিশেষত শিল্পীমন কখনো গভীর ও গম্ভীর সৃষ্টিতে, কখনো হালকা বা খেলাচ্ছলে সৃষ্টিতে প্রবৃত্ত হয়। এটাই মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। (সাহিত্যে খেলা অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর)

প্রশ্ন–৫: অনেকের পক্ষে উচ্চস্থানে ওঠার চেষ্টা মহাপতনের কারণ হয় কেন?

উত্তর: নিজের ক্ষমতার সীমা না জেনে উচ্চস্থানে ওঠার চেষ্টা করলে তা ব্যর্থতার কারণ হয়।

লেখক বলেছেন, নিজের আয়ত্তের বাইরে উচ্চ আসনে উঠতে গেলে অনেকে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। যোগ্যতার সীমা অতিক্রম করে উচ্চমঞ্চে উঠতে চাওয়াই তাদের পতনের কারণ হয়। তাই অযথা উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিপজ্জনক।

প্রশ্ন–৬: ‘এ পৃথিবীতে একমাত্র খেলার ময়দানে ব্রাহ্মণশূদ্রের প্রভেদ নেই।’— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: খেলার ক্ষেত্রে সকল মানুষের অধিকার সমান—এই কথাই বোঝানো হয়েছে।

খেলার ময়দানে জাতি, বর্ণ, ধনী-গরিবের ভেদাভেদ নেই। যেমন রাজার ছেলে ও দরিদ্রের ছেলে একসঙ্গে খেলতে পারে, তেমনি সাহিত্যজগতেও সবার সমান অধিকার থাকা উচিত। সাহিত্যও এক আনন্দের খেলা।

প্রশ্ন–৭: শিল্পরাজ্যে বড়ো-ছোটো সকলের কী রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: শিল্পরাজ্যে বড়ো-ছোটো সকলেরই খেলা করার সমান অধিকার রয়েছে।

লেখকের মতে, সাহিত্যসৃষ্টি কেবল বড়ো কবি-লেখকদের একচেটিয়া অধিকার নয়। নবীন বা সাধারণ মানুষও খেলাচ্ছলে সাহিত্যচর্চা করতে পারে। শিল্পের ক্ষেত্রে কোনো শ্রেণিভেদ থাকা উচিত নয়।

প্রশ্ন–৮: সাহিত্য জগতে আমাদের কী উদ্দেশ্য নিয়ে প্রবেশ করা উচিত?

উত্তর: সাহিত্যজগতে খেলার মনোভাব নিয়ে, অর্থাৎ আনন্দলাভের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করা উচিত।

লেখক বলেন, উচ্চ আশা বা লাভের প্রত্যাশা নিয়ে সাহিত্যচর্চা করলে তা নিম্নমানের হয়ে পড়ে। বরং নিছক আনন্দের জন্য সাহিত্যচর্চা করলে সত্যিকার সৃজনশীলতা প্রকাশ পায়।

প্রশ্ন–৯: লেখকদের কেন যথার্থ সামাজিক জীব বলা হয়েছে?

উত্তর: লেখকরা সমাজের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রেখে সাহিত্য রচনা করেন বলেই তাঁদের যথার্থ সামাজিক জীব বলা হয়েছে।

লেখকের কাজ হলো মানুষের মনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা এবং সমাজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করা। তাই তারা কেবল পারিবারিক জীবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন; বরং বৃহত্তর সমাজের প্রতিনিধি।

প্রশ্ন-১০। ‘কবির সৃষ্টিও এই বিশ্বসৃষ্টির অনুরূপ।’- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বিশ্ব সৃষ্টিতে ঈশ্বরের যেমন কার্যোদ্ধারের উদ্দেশ্য নেই সাহিত্য সৃষ্টিও তেমনই অভিপ্রায়হীন।

বিশ্ববিধাতার কোনোকিছুরই অভাব নেই। তারপরও তিনি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছেন শুধু নিজের আনন্দের জন্য। কবির রচনার ক্ষেত্রেও একইরকম স্ফূর্তি ও উদ্দীপনা থাকলে তবেই সেই রচনা সার্থক হয়ে ওঠে। অর্থাৎ কবির কাজ কারো মনোরঞ্জন করা নয় বা অভাব দূর করা নয় বরং নিজে আনন্দ পাওয়া ও সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষকে এক আনন্দময় জগতের সন্ধান দেওয়া।

প্রশ্ন-১১। কবির সৃষ্টিকে বিশ্বসৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে কেন?

উত্তর: ঈশ্বর কর্তৃক বিশ্বসৃষ্টির মতোই কবির সৃষ্টিও অভাব দূর করার অভিপ্রায়যুক্ত, তাই এমন তুলনা করা হয়েছে।

কোনো অভাববোধ থেকে নয় বরং লীলা প্রকাশের উদ্দেশ্যেই ঈশ্বর এই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। কবির কাব্য সৃষ্টিও ঈশ্বরের বিশ্বজগৎ সৃষ্টির সঙ্গে তুলনীয়। কারণ, কবি কাব্যকলার চর্চা করেন কোনো অভাববোধ কিংবা দায়বোধ থেকে নয়। অন্তরাত্মার স্ফূর্তি ও তার ফল লাভের অভিপ্রায়েই কবির সৃষ্টিকর্ম এগিয়ে চলে। সৃজনের আনন্দই কবির একমাত্র প্রাপ্তি। তাই কবির কাব্য সৃষ্টি ঈশ্বরের বিশ্বসৃষ্টির মতোই আনন্দমুখী, অভাব দূর করার অভিপ্রায়মুক্তি এবং সাদৃশ্যপূর্ণ। (সাহিত্যে খেলা অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর)

প্রশ্ন-১২। ‘সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দদান করা, কারো মনোরঞ্জন করা নয়।’- কেন?

উত্তর: মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে।

বস্তুত সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য মানুষকে আনন্দ দেওয়া, খেলায় মানুষ যেরূপে আনন্দ পেয়ে থাকে। মনোরঞ্জন করার মধ্যে কোনো একটা কৃত্রিম প্রয়াস বা বিশেষ উদ্দেশ্য থাকে। কিন্তু আনন্দ দেওয়ার ব্যাপারটিতে কোনো উদ্দেশ্য বা স্বার্থচিন্তা থাকে না, তা স্বতঃস্ফূর্ত। সাহিত্য যদি কারো মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে রচিত হয়, তবে তা হয়ে পড়ে স্বধর্মচ্যুত। পক্ষান্তরে আনন্দের সন্ধান মেলে স্বতঃস্ফূর্ত খেলার ভিতর দিয়ে। তাই সাহিত্যের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে অনুরূপ উক্তি করা হয়েছে।

আরো পড়ুন: বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১৩। ‘কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।’- কারণ কী?

উত্তর: সাহিত্য হলো মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা ইত্যাদি আবেগ ও অনুভূতির শৈল্পিক প্রকাশ, যা থেকে আনন্দ নামক অভিন্ন রসের খোরাক মেটে।

সাহিত্যে অনেক সময় মানবজীবনের ট্র্যাজিক বেদনার রূপ প্রতিফলিত হয়। তা আস্বাদনে সবাই একধরনের আনন্দলাভ করে। যদিও তার মূলে রয়েছে বেদনাময় আখ্যান। পাঠক সমাজকে আনন্দ দিতে গেলে কবিরা অনেক সময় বেদনা বোধ করে থাকেন। তাই কাব্যজগতে যা আনন্দ রসের আধার, তার অন্য নাম বেদনা।

প্রশ্ন-১৪। কীভাবে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়?

উত্তর: সমাজের মনোরঞ্জন করা সাহিত্যের কাজ নয় আর তা করতে গেলেই সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে।

সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য মানুষকে আনন্দ দেওয়া। সাহিত্যরাজ্যে মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলা করার মতো সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সাহিত্যরাজ্যে খেলনা সৃষ্টি করা হলে তা ক্ষণস্থায়ীভাবে পাঠকের মনতুষ্টি করতে পারবে কিন্তু তা পুরোনো হলেই সময়ের গর্ভে হারিয়ে যাবে। অন্যদিকে, যে সাহিত্য থেকে মানুষ আনন্দ আহরণে সক্ষম হয় সেই সাহিত্যই হয় কালজয়ী। অর্থাৎ মানুষের মনোরঞ্জন করার উদ্দেশ্যে সাহিত্য রচনা করা হলেই সাহিত্য তার স্বধর্ম হারায়।

প্রশ্ন-১৫। ‘বিশ্বমানবের মনের সঙ্গে নিত্য নূতন সম্বন্ধ পাতানোই হচ্ছে কবিমনের নিত্যনৈমিত্তিক কর্ম।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: মানুষের মনের সাথে নিজের ভাবনার সংযোগ স্থাপন করে মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোই কবির কাজ।

সমাজের প্রচলিত গণ্ডিতে আবদ্ধ জীবন কবির জন্য নয়। সাহিত্য রচনা করতে গিয়ে তাঁর পরিচয় হয় বিশ্বের পরিচয়ে। সাহিত্য জগতে খেলা করার মাধ্যমে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বমানবের মনে পৌছে যান কবি। কবির আপন মনের কথা তাই কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মানুষের জন্য নয়- সে কথার মাধ্যমে কবি যোগাযোগ করেন পৃথিবীর সকল মানুষের সাথে। (সাহিত্যে খেলা অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর)

প্রশ্ন-১৬। মানুষের নয়ন মন আকর্ষণ করার সুযোগ কাদের কপালে কীভাবে ঘটে? বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: সাহিত্য জগতে যাদের খেলা করার ইচ্ছা, সাহস ও ক্ষমতা আছে তারাই মানুষের নয়ন মন আকর্ষণ করার সুযোগ পান।

প্রাবন্ধিকের মতে, সাধারণ মানুষের ধারণা মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য প্রয়োজন উঁচুমঞ্চে আরোহণ করা বা উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করা। প্রকৃতপক্ষে মানুষের মনোযোগ পাওয়ার জন্য ইচ্ছার পাশাপাশি সাহস ও ক্ষমতা থাকা বাঞ্ছনীয়। কেবল মানুষের মনোরঞ্জন করার জন্য সাহিত্য রচনা করলে তার আবেদন স্থায়ী হয় না। মানুষের মনের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারলেই সার্থক সাহিত্যিক হওয়া সম্ভব হয়।

প্রশ্ন-১৭। মানুষ বক্তৃতা শোনার চেয়ে খেলা দেখতে বেশি আগ্রহী কেন?

উত্তর: বক্তৃতার মধ্যে কেবল নীতিকথাই থাকে, আর খেলার মধ্যে থাকে কেবল আনন্দ, তাই মানুষ খেলা দেখতে বেশি আগ্রহী।

গুণকীর্তন করাই সাধারণত বক্তৃতার মূল বিষয় থাকে। তাছাড়া বক্তৃতার মাধ্যমে নীতিকথা শোনানো হয়। ফলে এতে আনন্দলাভের কোনো উপকরণ থাকে না বলে মানুষ বক্তৃতা শুনতে তেমন আগ্রহ প্রকাশ করে না। অপরপক্ষে; খেলার মূল উদ্দেশ্যই হলো আনন্দ দেওয়া। তাই মানুষ বক্তৃতা শোনার চেয়ে খেলা দেখতে বেশি আগ্রহী।

আরো পড়ুন: এসএসসি হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা সাজেশন

প্রশ্ন–১৮। ‘সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো।’— প্রাবন্ধিক কথাটি কেন বলেছেন?

উত্তর: প্রাবন্ধিক এ কথা বলেছেন সাহিত্যের প্রকৃত স্বরূপ স্পষ্ট করার জন্য।

তাঁর মতে, শিক্ষার উদ্দেশ্য মানুষের মনকে বিশ্বের খবর জানানো; কিন্তু সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো। সাহিত্য আনন্দের মাধ্যমে মানুষের অন্তরকে উদ্দীপ্ত করে, মানবিকতা ও অনুভূতিকে জাগ্রত করে। এটি জোরপূর্বক শিক্ষা নয়, বরং স্বতঃস্ফূর্ত রসাস্বাদনের মাধ্যমে চেতনার জাগরণ। তাই তিনি বলেছেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো। (সাহিত্যে খেলা অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর)

প্রশ্ন–১৯। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে কাব্য এবং সংবাদপত্রের অবস্থান বিপরীতধর্মী কেন?

উত্তর: কারণ কাব্য ও সংবাদপত্রের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।

কাব্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো ও আনন্দ দেওয়া; এটি অন্তরের স্ফূর্তি থেকে সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে সংবাদপত্রের কাজ তথ্য ও সংবাদ পরিবেশন করা। প্রাবন্ধিক স্পষ্ট বলেছেন, কাব্য কোনো সংবাদপত্র নয়। তাই উদ্দেশ্য ও প্রকৃতিগত দিক থেকে কাব্য ও সংবাদপত্র পরস্পর বিপরীতধর্মী।

প্রশ্ন–২০। ‘সাহিত্যের উদ্দেশ্য শিক্ষাদান করা নয়’— বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর: লেখক বুঝিয়েছেন যে সাহিত্য আনন্দময় আত্মপ্রকাশ, পাঠ্যবইয়ের মতো শিক্ষাদান নয়।

শিক্ষা অনেক সময় বাধ্যতামূলক; কিন্তু সাহিত্য মানুষ স্বেচ্ছায় ও আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করে। শিক্ষার কাজ তথ্য দেওয়া, আর সাহিত্যের কাজ মানুষের অন্তরকে জাগ্রত করা। তাই সাহিত্য শিক্ষার ভার গ্রহণ করে না—এটাই লেখকের বক্তব্য।

প্রশ্ন–২১। বাল্মীকির রামায়ণ ও যোগবশিষ্ঠ রামায়ণের মৌলিক বিরোধ কোথায়?

উত্তর: দুটি রচনার উদ্দেশ্যেই মৌলিক বিরোধ রয়েছে।

বাল্মীকির রামায়ণ আনন্দদানের জন্য রচিত হয়েছিল; তাই তা সংক্রামক আনন্দে আজও সমাদৃত। কিন্তু যোগবশিষ্ঠ রামায়ণ শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে রচিত হওয়ায় তা সাধারণের কাছে আকর্ষণীয় হয়নি। অর্থাৎ একটির লক্ষ্য আনন্দ, অন্যটির লক্ষ্য শিক্ষা—এই পার্থক্যই তাদের মৌলিক বিরোধ।


এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের সাহিত্যে খেলা অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর পিডিএফ ডাউনলোড করুন।

সমাধানে যদি কোনো ভুল খুঁজে পান, তবে দয়া করে আমাদের জানিয়ে সাহায্য করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top