HSC বাংলা প্রতিদান কবিতার স্মার্ট নোট

HSC প্রতিদান কবিতার স্মার্ট নোট পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য একটি সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর স্টাডি গাইড। এতে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা, সারাংশ, শব্দার্থ, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, সৃজনশীল ও MCQ একসঙ্গে রয়েছে। নিচে PDF ডাউনলোড করুন।


HSC প্রতিদান কবিতার স্মার্ট নোট

পরিচিতি

  • পূর্ণ নাম: মোহাম্মাদ জসীম উদ্দীন মোল্লা
  • জন্ম: ১ জানুয়ারি ১৯০৩, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রাম (মাতুলালয়ে)
  • মৃত্যু: ১৪ মার্চ ১৯৭৬, ঢাকা
  • উপাধি: “পল্লীকবি”
  • পরিচয়: কবি, গীতিকার, ঔপন্যাসিক, লোকসাহিত্য সংগ্রাহক

পারিবারিক তথ্য

  • বাবা: আনসার উদ্দিন মোল্লা (স্কুল শিক্ষক)
  • মা: আমিনা খাতুন (রাঙাছুট)
  • জামাতা: ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী

শিক্ষাজীবন

সালঘটনা
১৯২১প্রবেশিকা পাস (ফরিদপুর জেলা স্কুল)
১৯২৯বি.এ. (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা)
১৯৩১এম.এ. (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা)
১৯৬৯সম্মানসূচক ডি.লিট (রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়)

কর্মজীবন

  • ১৯৩১–৩৭: দীনেশচন্দ্র সেনের সাথে লোকসাহিত্য সংগ্রাহক (১০,০০০+ লোকসংগীত সংগ্রহ)
  • ১৯৩৩: রামতনু লাহিড়ী গবেষণা সহকারী
  • ১৯৩৮: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে প্রভাষক
  • ১৯৪৪: শিক্ষকতা ছেড়ে সরকারি প্রচার/তথ্য বিভাগে যোগদান
  • ১৯৬২: ডেপুটি ডিরেক্টর পদ থেকে অবসর

সাহিত্যকীর্তি ও বৈশিষ্ট্য

  • গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির চিত্রায়ণে বিশেষভাবে খ্যাত
  • শ্রেষ্ঠ কাব্য: নকশী কাঁথার মাঠ (১৯২৯) — বিশ্বের বহু ভাষায় অনূদিত (ইংরেজি: The Field of the Embroidered Quilt)
  • বিখ্যাত কবিতা: কবর (কলেজজীবনে রচিত, পাঠ্যবইয়ে স্থান পায়)
  • সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৩) — ইংরেজিতে Gypsy Wharf নামে অনূদিত
  • আব্বাসউদ্দীনের সাথে মিলে ভাটিয়ালি ধারার লোকগান রচনা

প্রধান গ্রন্থ (বিভাগ অনুযায়ী)

  • কাব্য: রাখালী, নকশী কাঁথার মাঠ, বালুচর, সোজন বাদিয়ার ঘাট, হাসু, সুচয়নী
  • নাটক: পদ্মাপার, বেদের মেয়ে, মধুমালা
  • আত্মকথা: যাদের দেখেছি, জীবন কথা, স্মৃতিপট
  • ভ্রমণকাহিনী: চলে মুসাফির, জার্মানীর শহরে বন্দরে

পুরস্কার ও সম্মাননা

  • প্রেসিডেন্টস প্রাইড অব পারফরম্যান্স, পাকিস্তান (১৯৫৮)
  • ডি.লিট, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৯)
  • একুশে পদক (১৯৭৬)
  • স্বাধীনতা পদক, মরণোত্তর (১৯৭৮)
  • প্রত্যাখ্যান করেন: বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৪)

স্মৃতি

  • দাফন: ফরিদপুরের অম্বিকাপুরে, দাদীর কবরের পাশে
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল তাঁর নামে
  • প্রতি জানুয়ারিতে গোবিন্দপুরে “জসীম মেলা” অনুষ্ঠিত হয়

প্রতিদান — লাইনে লাইনে ব্যাখ্যা

জসীমউদ্‌দীনের এই কবিতাটি এক অভিমানী প্রেমের কবিতা, যেখানে কবি যে তাকে কষ্ট দিয়েছে, তাকেই ভালোবাসা দিয়ে “প্রতিদান” দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করছেন — আঘাতের বদলে ভালোবাসা, নিষ্ঠুরতার বদলে সোহাগ। এটি “বদলা নয়, বদান্যতা” — এই ভাবেরই কাব্যরূপ।

প্রথম স্তবক

“আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যে বা আমি বাঁধি তার ঘর”

যে মানুষটি কবির জীবন-সংসার (হৃদয়ের ঘর) ভেঙে দিয়েছে, কবি প্রতিশোধ নেওয়ার বদলে তারই ঘর গড়ে দিতে চান — অর্থাৎ যে কষ্ট দিয়েছে, তাকেই সুখী করতে চান তিনি।

“আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর”

যে মানুষটি কবিকে পর করে দিয়েছে (দূরে ঠেলে দিয়েছে), সেই মানুষটিকেই আপন করে পাওয়ার জন্য কবি কেঁদে কেঁদে ফেরেন।

“যে মোরে করিল পথের বিবাগী”

যে তাকে গৃহহীন, উদাসীন পথিক করে তুলেছে (ভালোবাসা হারিয়ে ঘরছাড়া, উদাস করে দিয়েছে)।

“পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি”

সেই মানুষেরই খোঁজে কবি পথে পথে ঘুরে বেড়ান।

“দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর”

যে তার ঘুম কেড়ে নিয়েছে (মানসিক অস্থিরতা-বিরহ দিয়ে), সেই মানুষের জন্যই কবি দীর্ঘ রাত জেগে থাকেন।

“আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যে বা আমি বাঁধি তার ঘর”

প্রথম লাইনের পুনরাবৃত্তি — স্তবকের ভাবকে জোর দিয়ে মনে করিয়ে দেওয়া, যেন এটাই কবিতার মূল সুর।

দ্বিতীয় স্তবক

“আমার এ কূল ভাঙ্গিয়াছে যে বা আমি তার কূল বাঁধি”

যে কবির জীবন-নদীর কূল (আশ্রয়, স্থিতি) ভেঙে দিয়েছে, কবি তারই কূল বেঁধে দিতে চান — ধ্বংসের বদলে গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞা।

“যে গেছে বুকেতে আঘাত হানিয়া তার লাগি আমি কাঁদি”

যে কবির বুকে আঘাত করে চলে গেছে, কবি তারই জন্য কাঁদেন — আঘাতকারীর প্রতিও তার মমতা কমে না।

“যে মোরে দিয়েছে বিষে ভরা বাণ”

যে কবিকে বিষাক্ত তীর (নিষ্ঠুর কথা বা আচরণ) ছুড়ে দিয়েছে।

“আমি দেই তারে বুকভরা গান”

তার বদলে কবি তাকে দেন হৃদয়-উৎসারিত গান, অর্থাৎ ভালোবাসা ও সৌন্দর্য দিয়ে জবাব দেন।

“কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম ভর”

কাঁটা (কষ্ট) পেয়েও কবি সারা জীবন ধরে তাকে ফুল (ভালোবাসা) উপহার দিয়ে যান — এটাই কবিতার কেন্দ্রীয় রূপক।

“আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর”

ধুয়া-লাইন হিসেবে আবার ফিরে আসে, কবিতার মূল অনুভূতি দৃঢ় করতে।

তৃতীয় স্তবক

“মোর বুকে যে বা কবর বেঁধেছে আমি তার বুক ভরি”

যে কবির বুকে (হৃদয়ে) কবর গড়েছে — অর্থাৎ তার সব আশা-ভালোবাসাকে মেরে ফেলেছে — কবি তারই বুক ভরিয়ে দিতে চান।

“রঙিন ফুলের সোহাগ-জড়ানো ফুল-মালঞ্চ ধরি”

রঙিন ফুলের স্নেহমাখা বাগান নিয়ে (প্রতীকী অর্থে ভালোবাসা ও সৌন্দর্য নিয়ে) কবি তার কাছে যান।

“যে মুখে সে কহে নিঠুরিয়া বাণী”

যে মুখ দিয়ে সে (প্রিয়জন) নিষ্ঠুর কথা বলে।

“আমি লয়ে সখি, তারি মুখখানি”

কবি (সখির কাছে বলছেন) সেই মুখখানি নিয়েই থাকেন, অর্থাৎ নিষ্ঠুরতা সত্ত্বেও সেই মুখই তার কাছে প্রিয়।

“কত ঠাঁই হতে কত কী যে আনি, সাজাই নিরন্তর”

কবি নানা জায়গা থেকে নানা কিছু (ভালোবাসার উপকরণ) সংগ্রহ করে এনে অবিরাম সেই মুখ, সেই মানুষটিকে সাজিয়ে তোলেন।

“আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর”

কবিতার সমাপ্তি টানা হয় সেই একই আকুতি দিয়ে — যে তাকে পর করেছে, তাকেই আপন করে পাওয়ার আজীবন চেষ্টা।

প্রতিদান কবিতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

★ “জসীম উদ্‌দীন” রচনাটি একটি জীবনীমূলক তথ্যনিবন্ধ।

★ জসীম উদ্‌দীনের প্রকৃত পূর্ণ নাম — মোহাম্মাদ জসীম উদ্দীন মোল্লা।

★ জসীম উদ্‌দীনের পরিচয় — বাঙালি কবি, গীতিকার, ঔপন্যাসিক ও লেখক।

★ জসীম উদ্‌দীনকে যে উপাধিতে ভূষিত করা হয় — “পল্লীকবি”।

★ জসীম উদ্‌দীন আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কবি।

★ ঐতিহ্যবাহী বাংলা কবিতার মূল ধারাটিকে নগর সভায় আনার কৃতিত্ব জসীম উদ্‌দীনের।

★ জসীম উদ্‌দীনের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ — নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট।

★ জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লী সংগীতের সংগ্রাহক হিসেবে।

★ জসীম উদ্‌দীন শিক্ষালাভ করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

★ জসীম উদ্‌দীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন — ৫ বছর।

★ জসীম উদ্‌দীন ১৯৪৪ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে বঙ্গীয় প্রাদেশিক সরকারের প্রচার বিভাগে যোগ দেন।

★ জসীম উদ্‌দীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের প্রচার বিভাগ থেকে অবসর নেন — ১৯৬২ সালে।

★ জসীম উদ্‌দীন ছিলেন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী।

★ জসীম উদ্‌দীন সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার একজন দৃঢ় সমর্থক ছিলেন।

★ জসীম উদ্‌দীন পূর্ব পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ছিলেন।

★ জসীম উদ্‌দীন প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার পান — ১৯৫৮ সালে।

★ জসীম উদ্‌দীন বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক পান — ১৯৭৬ সালে।

★ জসীম উদ্‌দীন স্বাধীনতা পুরস্কার পান — মরণোত্তর, ১৯৭৮ সালে।

★ জসীম উদ্‌দীন ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন।

★ জসীম উদ্‌দীনের জন্মতারিখ — ১ জানুয়ারি ১৯০৩।

★ জসীম উদ্‌দীনের জন্মস্থান — ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রাম (মাতুলালয়ে)।

★ জসীম উদ্‌দীনের পৈত্রিক বাড়ি — ফরিদপুর জেলার গোবিন্দপুর গ্রাম।

★ জসীম উদ্‌দীনের পিতার নাম — আনসার উদ্দিন মোল্লা।

★ জসীম উদ্‌দীনের পিতা পেশায় ছিলেন — স্কুল শিক্ষক।

★ জসীম উদ্‌দীনের মায়ের নাম — আমিনা খাতুন, ডাকনাম রাঙাছুট।

★ জসীম উদ্‌দীনের এক জামাতা — ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ (রাজনীতিবিদ)।

★ জসীম উদ্‌দীনের অন্য জামাতা — তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম, মুক্তিযোদ্ধা)।

★ জসীম উদ্‌দীনের সহোদর ভাইয়ের নাম — পরিক্ষিত।

★ জসীম উদ্‌দীন ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার স্কুল ও ফরিদপুর জেলা স্কুলে পড়াশোনা করেন।

★ জসীম উদ্‌দীন প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন — ১৯২১ সালে।

★ জসীম উদ্‌দীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. পাস করেন — ১৯২৯ সালে।

★ জসীম উদ্‌দীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. পাস করেন — ১৯৩১ সালে।

★ জসীম উদ্‌দীন লোক সাহিত্য সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করেন — ১৯৩১ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত।

★ জসীম উদ্‌দীন যাঁর সাথে লোক সাহিত্য সংগ্রহ করেন — দীনেশচন্দ্র সেন।

★ জসীম উদ্‌দীন পূর্ব বঙ্গ গীতিকার একজন সংগ্রাহক ছিলেন।

★ জসীম উদ্‌দীন সংগ্রহ করেন — ১০,০০০-এর বেশি লোক সংগীত।

★ জসীম উদ্‌দীনের সংগীত সংকলন দুটি — জারি গান ও মুর্শিদা গান।

★ জসীম উদ্‌দীন রামতনু লাহিড়ী গবেষণা সহকারী পদে যোগ দেন — ১৯৩৩ সালে।

★ জসীম উদ্‌দীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হন — ১৯৩৮ সালে।

★ জসীম উদ্‌দীন যাঁর কাছে গুণগ্রাহী ছিলেন — গুরু মৃত্যুঞ্জয় সিল।

★ জসীম উদ্‌দীন সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধি পান — ১৯৬৯ সালে।

★ জসীম উদ্‌দীনকে ডি.লিট উপাধি দেয় — রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।

★ “নকশী কাঁথার মাঠ” কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় — ১৯২৯ সালে।

★ “কবর” কবিতাটি জসীম উদ্‌দীন কলেজ জীবনে রচনা করেন।

★ “কবর” কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকার বাংলা পাঠ্যবইয়ে স্থান পায়।

★ “কবর” কবিতার বিষয়বস্তু — পরিবার ও বিয়োগান্ত দৃশ্য, দাদীর কবর নিয়ে।

★ জসীম উদ্‌দীন গ্রাম বাংলার লোকজীবন ও প্রকৃতি চিত্রণে বিশেষভাবে খ্যাত।

★ জসীম উদ্‌দীনের সাথে সহযোগিতায় লোকগীতি নির্মাণ করেন — আব্বাসউদ্দীন।

★ আব্বাসউদ্দীনের সাথে জসীম উদ্‌দীন যে ধারার গান রচনা করেন — ভাটিয়ালী।

★ জসীম উদ্‌দীন যাঁর দ্বারা ইসলামিক সংগীত রচনায় প্রভাবিত হন — কবি গোলাম মোস্তফা।

★ জসীম উদ্‌দীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বহু দেশাত্মবোধক গান রচনা করেন।

★ জসীম উদ্‌দীনের মৃত্যু হয় — ১৪ মার্চ ১৯৭৬ সালে, ঢাকায়।

★ জসীম উদ্‌দীনকে সমাধিস্থ করা হয় — ফরিদপুর জেলার অম্বিকাপুর গ্রামে।

★ জসীম উদ্‌দীনকে তাঁর দাদীর কবরের পাশে দাফন করা হয় — নিজের শেষ ইচ্ছা অনুসারে।

★ জসীম উদ্‌দীনের জন্মদিন স্মরণে গোবিন্দপুরে যে উৎসব হয় — জসীম মেলা।

★ জসীম মেলা অনুষ্ঠিত হয় — প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে।

★ জসীম উদ্‌দীনের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলের নামকরণ করা হয়েছে।

★ জসীম উদ্‌দীনের “নকশী কাঁথার মাঠ” ইংরেজিতে অনূদিত হয় — “দি ফিল্ড অব এমব্রয়ডার্ড কুইল্ট” নামে।

★ জসীম উদ্‌দীনের “বাঙালির হাসির গল্প” ইংরেজিতে অনূদিত হয় — “ফোক টেল্স অব ইস্ট পাকিস্তান” নামে।

★ জসীম উদ্‌দীনের “সোজন বাদিয়ার ঘাট” ইংরেজিতে অনূদিত হয় — “জিপসি ওয়ার্ফ” নামে।

★ জসীম উদ্‌দীনের কাব্যগ্রন্থ “রাখালী” প্রকাশিত হয় — ১৯২৭ সালে।

★ জসীম উদ্‌দীনের কাব্যগ্রন্থ “বালুচর” প্রকাশিত হয় — ১৯৩০ সালে।

★ জসীম উদ্‌দীনের কাব্যগ্রন্থ “সোজন বাদিয়ার ঘাট” প্রকাশিত হয় — ১৯৩৩ সালে।

★ জসীম উদ্‌দীনের কাব্যগ্রন্থ “হাসু” প্রকাশিত হয় — ১৯৩৮ সালে।

★ জসীম উদ্‌দীনের কাব্যগ্রন্থ “সখিনা” প্রকাশিত হয় — ১৯৫৯ সালে।

★ জসীম উদ্‌দীনের নাটক “পদ্মাপার” প্রকাশিত হয় — ১৯৫০ সালে।

★ জসীম উদ্‌দীনের নাটক “বেদের মেয়ে” প্রকাশিত হয় — ১৯৫১ সালে।

★ জসীম উদ্‌দীনের আত্মকথামূলক গ্রন্থ — “যাদের দেখেছি”, “জীবন কথা”, “স্মৃতিপট”।

★ জসীম উদ্‌দীনের ভ্রমণকাহিনী — “চলে মুসাফির”, “জার্মানীর শহরে বন্দরে”।

★ জসীম উদ্‌দীনের একমাত্র উপন্যাস উল্লেখিত — “বোবা কাহিনী”।

★ জসীম উদ্‌দীনের বিখ্যাত পল্লিগীতি — “আমার হাড় কালা করলাম রে”, “আমায় ভাসাইলি রে”।

★ “প্রতিদান” কবিতাটির রচয়িতা — জসীম উদ্‌দীন।

★ “প্রতিদান” কবিতার মূলভাব — আঘাতের বদলে ভালোবাসা দেওয়ার প্রতিজ্ঞা।

★ “প্রতিদান” কবিতার ধরন — লোকজ সুরের ভাটিয়ালি-ঘেঁষা গীতিধর্মী কবিতা।

★ “প্রতিদান” কবিতায় ব্যবহৃত মুখ্য অলংকার — বৈপরীত্যমূলক চিত্রকল্প (কাঁটা-ফুল, বিষ-গান)।

★ কবিতার প্রতিটি স্তবকের শেষে ধুয়া/ফিরে আসা লাইন থাকে — লোকগীতির বৈশিষ্ট্য।

★ “আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যে বা আমি বাঁধি তার ঘর” — কবিতার প্রথম ও ধুয়া-লাইন।

★ “আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর” — কবিতার প্রধান আবেগ প্রকাশক লাইন।

★ “কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম ভর” — কবিতার কেন্দ্রীয় রূপক।

★ “মোর বুকে যে বা কবর বেঁধেছে” — প্রিয়জনের নিষ্ঠুরতাকে কবর রূপকে প্রকাশ করা হয়েছে।

★ “বিরাগী” শব্দের অর্থ — নিস্পৃহ, উদাসীন।

★ “দীঘল রজনী” শব্দের অর্থ — দীর্ঘ রাত।

★ “বিষে-ভরা বাণ” শব্দের অর্থ — কটু ও হিংসাত্মক কথা।

★ “সোহাগ” শব্দের অর্থ — আদর, ভালোবাসা।

★ “মালঞ্চ” শব্দের অর্থ — ফুলের বাগান।

★ “নিঠুরিয়া” শব্দের অর্থ — নিষ্ঠুর, নির্দয়।

★ “নিরন্তর” শব্দের অর্থ — নিয়ত, অবিরাম।

শব্দার্থ ও টীকা

শব্দঅর্থ ও টীকা
যেবাযে, যিনি
বিরাগীনিস্পৃহ, উদাসীন
দীঘল রজনীদীর্ঘ রাত
ঘুম যে হরেছেনির্ঘুম রাত কাটানোর কথা বলা হয়েছে
বিষে-ভরা বাণকটু কথা, হিংসাত্মক ভাষা
সোহাগআদর, ভালোবাসা
মালঞ্চফুলের বাগান
নিঠুরিয়ানিষ্ঠুর, নির্দয়
ঠাঁইস্থান, আশ্রয়
নিরন্তরনিয়ত, অবিরাম

পাঠ-পরিচিতি

‘প্রতিদান’ কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের ‘বালুচর’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত। এ কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই যে ব্যক্তির প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত সেই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। সমাজ-সংসারে বিদ্যমান বিভেদ-হিংসা-হানাহানি দ্বারা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কবির কণ্ঠে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে ব্যক্ত হয়েছে প্রীতিময় এক পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা। কেননা ভালোবাসাপূর্ণ মানুষই নির্মাণ করতে পারে সুন্দর, নিরাপদ পৃথিবী। কবি অনিষ্টকারীকে কেবল ক্ষমা করেই নয়, বরং প্রতিদান হিসেবে অনিষ্টকারীর উপকার করার মাধ্যমে পৃথিবীকে সুন্দর, বাসযোগ্য করতে চেয়েছেন।


HSC প্রতিদান কবিতার স্মার্ট নোট PDF Download

সমাধানে যদি কোনো ভুল খুঁজে পান, তবে দয়া করে আমাদের জানিয়ে সাহায্য করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার রেটিং দিন:

Scroll to Top