HSC বাংলা লালসালু উপন্যাসের স্মার্ট নোট

HSC লালসালু উপন্যাসের স্মার্ট নোটপরীক্ষার প্রস্তুতিকে সহজ ও গুছিয়ে তুলতে তৈরি করা হয়েছে। এই নোটে উপন্যাসের কাহিনি, গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, মূলভাব, বিষয়বস্তু, সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর এবং পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। HSC পরীক্ষার্থীরা এই স্মার্ট নোটের মাধ্যমে অল্প সময়ে লালসালু উপন্যাস ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে। পাশাপাশি নোটটি PDF আকারে ডাউনলোড করে মোবাইল বা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে যেকোনো সময় পড়া যাবে।


HSC লালসালু উপন্যাসের স্মার্ট নোট

📌 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ (১৫ আগস্ট ১৯২২ – ১০ অক্টোবর ১৯৭১) — আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী। ইউরোপীয় আধুনিকতার প্রভাবে নতুন কথাসাহিত্যের ধারা প্রবর্তন করেন।

🧬 জন্ম ও পরিবার

বিষয়বিবরণ
জন্মস্থানচট্টগ্রাম শহর, ষোলশহর এলাকা
পিতাসৈয়দ আহমাদুল্লাহ (সরকারি কর্মকর্তা)
মাতানাসিম আরা খাতুন (উচ্চশিক্ষিত বনেদি পরিবার)
বৈবাহিক জীবন১৯৫৫ সালে ফরাসি নারী আন্-মারি-কে বিয়ে (নামান্তর: আজিজা মোসাম্মত নাসরিন)
সন্তানকন্যা সিমিন ও পুত্র ইরাজ

মায়ের মৃত্যু ৮ বছর বয়সে; পিতার দ্বিতীয় বিয়ে (টাঙ্গাইলের করটিয়ায়)।

📚 শিক্ষাজীবন

  • ১৯৩৯ — ম্যাট্রিক (কুড়িগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়)
  • ১৯৪১ — ইন্টারমিডিয়েট (ঢাকা কলেজ)
  • ১৯৪৩ — বিএ (অ্যানন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ) — ডিস্টিঙ্কশনসহ
  • এমএতে ভর্তি হলেও শেষ করেননি

💼 কর্মজীবন

সময়কালকর্মস্থল
১৯৪৫দ্য স্টেটসম্যান (কলকাতা)
১৯৪৭রেডিও পাকিস্তান, ঢাকা (সহকারী বার্তা-সম্পাদক)
১৯৫০রেডিও পাকিস্তান, করাচি
১৯৫১প্রেস-আতাশে, নয়াদিল্লি
১৯৫২-৫৪সিডনি (অস্ট্রেলিয়া)
১৯৫৪তথ্য অফিসার, ঢাকা
১৯৫৬-৫৮প্রেস-আতাশে, জাকার্তা
১৯৬১-৬৭প্রেস-আতাশে, প্যারিস (ফার্স্ট সেক্রেটারি)
১৯৬৭-৭০ইউনেস্কো, প্যারিস (প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট)

✍️ সাহিত্যকর্ম

উপন্যাস

শিরোনামপ্রকাশকালমন্তব্য
লালসালু১৯৪৮সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি; ফরাসি অনুবাদ L’arbre sans racines
চাঁদের অমাবস্যা১৯৬৪
কাঁদো নদী কাঁদো১৯৬৮
কদর্য এশীয়, ফাল্গুন২০০৬মরণোত্তর প্রকাশিত
How to Cook Beans২০১২মরণোত্তর প্রকাশিত (ইংরেজি)

ছোটগল্প সংকলন

  • নয়নচারা (১৯৪৬) — প্রথম গ্রন্থ
  • দুই তীর ও অন্যান্য গল্প (১৯৬৫)

উল্লেখযোগ্য গল্প

“একটি তুলসী গাছের কাহিনী”, “পাগড়ী”, “কেরায়া”, “স্তন”, “মতিনুদ্দির প্রেম”

নাটক

  • বহিপীর (১৯৬০)
  • উজানে মৃত্যু (১৯৬৩)
  • সুড়ঙ্গ (১৯৬৪)
  • তরঙ্গভঙ্গ (১৯৭১)

🏆 পুরস্কার

পুরস্কারবছরবিভাগ
পেন পুরস্কার (দ্বিতীয়)১৯৫৫নাটক (বহিপীর)
বাংলা একাডেমি পুরস্কার১৯৬১উপন্যাস (লালসালু)
আদমজী পুরস্কার১৯৬৫গল্প
একুশে পদক১৯৮৩সাহিত্য (মরণোত্তর)
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার২০০১শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার (লালসালু)

মুক্তিযুদ্ধে অবদান

  • রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত না থাকলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী ছিলেন
  • মুক্তিযুদ্ধ তহবিলে অর্থপ্রেরণ
  • তার সন্তানদের মতে, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা তার অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ
  • রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী বলেছেন: “এক মুক্ত বাংলাদেশ মি. ওয়ালীউল্লাহর মাপের প্রতিভার সেবা থেকে বঞ্চিত হলো”

⚰️ মৃত্যু

  • তারিখ: ১০ অক্টোবর ১৯৭১
  • স্থান: প্যারিস, ফ্রান্স
  • কারণ: গভীর রাতে অধ্যয়নরত অবস্থায় মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ
  • সমাধি: প্যারিসের উপকণ্ঠে

🔑 সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য

  • কল্লোল যুগের ধারাবাহিকতা + ইউরোপীয় আধুনিকতার সংমিশ্রণ
  • জগদীশ গুপ্ত ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরসূরি
  • বিষয়, কাঠামো ও ভাষাভঙ্গিতে নতুন ঘরানা

“তিনি যে স্বাধীন মাতৃভূমি দেখে যেতে পারেননি, সে বেদনা তার ঘনিষ্ঠ মহলের সকলেই বোধ করেছেন।”

লালসালু উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

★ “লালসালু” উপন্যাসের রচয়িতা — সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ।

★ নোতুন নোতুন স্থানে ছুটে চলা মানুষদের ঘরের নিরাশা — হা-শূন্য মুখথোবড়ানো।

★ গভীর রাতে যে গতিতে এসে রেলগাড়ি পৌঁছায় — সর্পিল গতিতে।

★ বিদেশ যেতে হলে যে জিনিসটা না হলে এক পা চলে না — বদনা।

★ ছোটাছুটি করার পর বয়সে ছোকরাদের দেহে শেষ পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকে — গলায় ঝোলানো তাবিজের থোকা।

★ বয়সে ছোকরাদের গলায় ঝোলানো থাকে — তাবিজের থোকা।

★ “অজগরের মতো দীর্ঘ” বলা হয়েছে — রেলগাড়িকে।

★ মানুষের মতোই পানি খায় — ইঞ্জিনের।

★ শস্যহীন জনবহুল অঞ্চলে শস্যের চেয়ে বেশি — টুপি ও ধর্মের আগাছা।

★ ভোরবেলায় আর্তনাদ উঠে — মক্তবে।

★ ন্যাংটা ছেলে গলা ফাটিয়ে পড়ে — আমসিপারা।

★ গোঁফ উঠতে না উঠতেই যে শাস্ত্র হেফ্‌জ করা সারা হয় — কোরান।

★ বেহেশতে স্থান নির্দিষ্ট বলে মনে করে — হাফেজরা।

★ কোরান হেফ্‌জ করার পর যাদের বেহেশতে স্থান নির্দিষ্ট — হাফেজদের।

★ শস্যহীন অঞ্চল থেকে আশা নিয়ে যে প্রতিষ্ঠানে পড়ে — আলিয়া মাদ্রাসা।

★ আলিয়া মাদ্রাসায় পড়ে বিদেশে গিয়ে যে কেতাব খতম করে — পোকায় খাওয়া মস্ত মস্ত কেতাব।

★ মসজিদের পাশে যার ওপর বসে শীতল পানিতে অজু বানায় — বাঁধানো পুকুরপাড়ে চৌকোণো পাথরের খণ্ডটার ওপর।

★ অজু বানানোর সময় টুপিটা খুলে তার গহ্বরে ফুঁ দিয়ে — ঠাণ্ডা করে আবার পরে।

★ নলি বানিয়ে জাহাজের খালাসি হয়ে ভেসে যায় — শস্যহীন অঞ্চলের লোক।

★ শস্যহীন অঞ্চলের লোক বিভিন্ন কাজের মধ্যে পেশা হিসেবে বেছে নেয় — জাহাজের খালাসি, কারখানার শ্রমিক, বাসাবাড়ির চাকর, দফতরির এটকিনি, ছাপাখানার মেশিনম্যান, টেনারিতে চামড়ার লোক, মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিন।

★ পীরের নাম — মোদাচ্ছের পীর।

★ মজিদ যে পাহাড়ে ছিল — গারো পাহাড়ে।

★ গারো পাহাড় মধুপুর গড় থেকে দূরত্ব — তিন দিনের পথ।

★ মধুপুর গড় থেকে তিন দিনের পথের দূরত্বে অবস্থিত — গারো পাহাড়।

★ শিকারি ব্যক্তি ছিলেন — সরকারী কর্মচারী ও নোতুন খোলসপরা নব্য শিক্ষিত মুসলমান।

★ শিকারির পায়ে ছিল — বুট।

★ শিকারি মিহি কণ্ঠের আজান শুনে চমকে ওঠে — দুর্গম অঞ্চলে।

★ শিকারির প্রশ্ন শুনে যার চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে — মৌলভীর।

★ মৌলভীর মতে সে আলো ছড়াতে এসেছে যাদের মধ্যে — অশিক্ষিত, কাফেরদের মধ্যে।

★ মৌলভীর হালকা ক-গাছি দাড়ি ওড়ে — বুনো ভারি হাওয়ায়।

★ নিরাক পড়েছিল — শ্রাবণের শেষাশেষি।

★ ধানক্ষেতে নৌকা নিয়ে লোকেরা বের হয় — কেঁচ-জুতি নিয়ে।

★ নৌকার গলুই-এ শিকারীর সূচাগ্র একাগ্রতায় দাঁড়িয়ে ছিল — তাহের।

★ তাহেরের পেছনে নৌকায় মূর্তির মতো বসে ছিল — কাদের।

★ তাহের ও কাদেরের সম্পর্কের ধরন — ভাই।

★ তাহের যে মাছ শিকার করেছিল — বৃহৎ রুই।

★ মতিগঞ্জের সড়কের ওপর আকাশের পানে হাত তুলে মোনাজাতের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিল — অপরিচিত লোকটি (মজিদ)।

★ মোনাজাত শেষ করে পাশে নামিয়ে রাখা পুটুলি তুলে মজিদ হাঁটতে থাকে — উত্তর দিকে।

★ মহব্বতনগর গ্রামটি অবস্থিত — মতিগঞ্জের সড়কের উত্তর দিকে।

★ তাহের ও কাদেরের বাড়ি যে গ্রামে — মহব্বতনগর গ্রামে।

★ অপরাহ্নে মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরে তাহের ও কাদের কার ঘরে জটিলতা দেখে — খালেক ব্যাপারীর ঘরে।

★ মহব্বতনগর গ্রামে মজিদের প্রবেশ ঘটে — নাটকীয়ভাবে।

★ গ্রামবাসীদের মহব্বতনগর গ্রামের প্রবেশপথ হিসেবে পছন্দ — বিলটার বড় অশ্বত্থ গাছ থেকে নেমে আসা।

★ গ্রামের মাতব্বর ছিলেন — রেহান আলী।

★ জোয়ান মদ্দ গ্রামবাসী ছিলেন — কালু ও মতি।

★ মহব্বতনগর গ্রামের লোকদের মজিদ গালাগাল করে — “জাহেল, বেএলেম, আনপাড়হ” বলে।

★ গ্রামের বাইরে মোদাচ্ছের পীরের মাজারটি ছিল — বৃহৎ বাঁশঝাড়ের পাশে পরিত্যক্ত পুকুর ও জঙ্গলের একাধারে।

★ মোদাচ্ছের পীরের প্রাচীন কবরটি ঢাকা ছিল — বিবর্ণ শ্যাওলায় সবুজ ও কালচে ছোট ইটে।

★ হাঁপানির রোগী ও অশীতিপর বৃদ্ধ ছিলেন — সলোমানের বাপি।

★ মধুপুর গড়ের তিন দিনের পথের মানুষের দিল — সাচ্চা, খাঁটি সোনার মতো।

★ বুক ঝোলানো তামার দাঁত-খিলাল দিয়ে দাঁতের গহবর খোঁচাত — মজিদ।

★ মজিদের মতে সে যে খেলা খেলতে যাচ্ছে তা — সাংঘাতিক।

★ প্রাচীন জঙ্গল সাফ হওয়ার পর কবরটিকে ঢেকে দেওয়া হয় — ঝালরওয়ালা সালু দিয়ে।

★ মজিদ জঙ্গল সাফ করে যে ঘরবাড়ি বানায় — বাহির ঘর, অন্দর ঘর, গোয়াল ঘর, আওলাঘর।

★ মজিদের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল — নিরাকপড়া শ্রাবণের এক হাওয়ামুক্ত স্তব্ধ দিনে।

★ মজিদের প্রথমা স্ত্রীর নাম — রহীমা।

★ রহীমার শারীরিক গঠন — চওড়া, লম্বা, হাড়-চওড়া মাংসল দেহ।

★ রহীমার স্বভাবের বৈশিষ্ট্য — ঠাণ্ডা, ভীতু, শান্ত, রক্তে রাগ নেই।

★ রহীমা উঠানে ভারী পায়ে হাঁটলে মজিদ বলে — “মাটিরে কষ্ট দেওন গুণাহ্‌” ও “কবরে আজাব হইবে”।

★ মজিদ বাইরে গিয়ে কোরান তেলাওয়াত করলে সুরটি ছড়ায় — হাস্নাহানার মিষ্টি মধুর গন্ধের মতো।

★ রহীমা খোদাকে ও স্বামীকে ভয় পায় — মজিদের কোরান তেলাওয়াত ও ব্যক্তিত্বের কারণে।

★ ধানক্ষেতে যে মাসে ফাটল ধরলে খোদাকে স্মরণ হয় — খরার দিনে (জ্যৈষ্ঠের জমি)।

★ কৃষকরা কার্তিকে পানি সরে গেলে জমি থেকে পরিষ্কার করে — কচুরিপানা।

★ পরিশ্রমের পর চৈত্রের শেষ বা বৈশাখে ধান ধ্বংস করে — ঝড় ও শিলাবৃষ্টি।

★ কোচবিদ্ধ হয়ে নিহত ব্যক্তি — ছমিরুদ্দিন।

★ কোচবিদ্ধ ছমিরুদিনের নিহত দেহের পানে উল্লাসিত হতে পারে — আবেদ-জাবেদ।

★ সারবন্দী হয়ে কৃষকরা ধান কাটে যে চাঁদের মতো কাস্তে নিয়ে — দ্বিতীয়ীর চাঁদের মতো।

★ জমায়েতকে মজিদ যার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় — “খোদাই রিজিক দেনেওয়ালা”।

★ মজিদের মতে, মাঠভরা ধান দেখে যাদের মনে মাটির প্রতি পূজার ভাব জাগে তারা — বুত-পূজারী ও গুণাগার।

★ সাত ছেলের বাপ গ্রামবাসী — দুদু মিঞা।

★ দুদু মিঞাকে মজিদ জিজ্ঞেস করেছিল — “কলমা জানো মিঞা?”

★ বাপকে গাধার মতো ঝুকে থাকতে দেখে খিলখিল করে হাসে — দুদু মিঞার সাত ছেলের এক ছেলে।

★ দুদু মিঞাকে কলমা শিখতে মজিদ নির্দেশ দেয় — ব্যাপারীর মক্তবে।

★ খৎনা না হওয়ায় মজিদ খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে — এক দাড়িগোঁফ ওঠা জোয়ান ছেলেকে।

★ ছেলেটি খুঁটিতে বাঁধার পর মজিদের সামনে যে সত্য প্রকাশ করে — তার বাপেরও খৎনা হয়নি।

★ মজিদ একসাথে আধ ঘণ্টার মধ্যে খৎনা করে — বাপ-বেটা দুজনের।

★ খৎনার দৃশ্য অন্দরের বেড়ার ফুটো দিয়ে দেখে — পাড়ার মেয়েরা ও রহীমা।

★ মহব্বতনগর গ্রামে মজিদের শক্তির মূল ভিত্তি — সালু কাপড়ে আবৃত মাজারটি।

★ গ্রামের মেয়েরা রহীমার কাছে আসে যে কারণে — সুপারিশের জন্য ও দুঃখ ব্যক্ত করতে।

★ মজিদের সাথে গ্রাম্য মেয়েদের যোগসূত্র — রহীমা।

★ রহীমার মাজারের কাছে গোপন আর্জি ছিল — একটি সন্তানের জন্য।

★ মরণরোগে যন্ত্রণা পাচ্ছে — ছুনুর বাপ।

★ পক্ষাঘাতে কষ্ট পাচ্ছে — খেতানির মা।

★ হাসুনির মায়ের পেশা — ধান ভাননি (ধান ভানা)।

★ হাসুনির মায়ের রহীমার কাছে অদ্ভুত আর্জি — তার যেন মওত (মৃত্যু) হয়।

★ হাসুনির মা আল্লার কাছে তার বাপা-মায়ের জন্য আর্জি জানায় — বুড়াবুড়ী দুইটাকে যেন দুনিয়া থেকে তুলে নেওয়া হয়।

★ হাসুনির মায়ের বাপের চেহারা — ঢেঙা দীর্ঘ মানুষ।

★ হাসুনির মায়ের মায়ের চেহারা — ছোটখাটো, কেঁকড়ানো।

★ হাসুনির মায়ের মা গালাগাল দিয়ে বুড়োকে শেষ অস্ত্র হিসেবে বলে — “পোলাগুলি তোর জন্মের না!”

★ তাহের-কাদেরের কনিষ্ঠ ভাই — রতন।

★ হাসুনির মা স্বামী মারা যাবার পর থেকে থাকে — বাপের বাড়িতে।

★ হাসুনির মায়ের মৃত স্বামীকে গিলে খাওয়ার কটূক্তি করে — তার মা।

★ হাসুনির মায়ের বাপের সাথে তার ভাইয়ের শত্রুতা ছিল — বৈমাত্রেয় ভাইয়ের সাথে (জায়গাজমি নিয়ে)।

★ মজিদ তাহেরের বাপকে ডেকে যার অপবাদের কথা শোনায় — তাঁর স্ত্রী (বুড়ী) কর্তৃক সন্তান নিয়ে কুৎসার কথা।

★ হাসুনির মাকে মারধর করে রক্তাক্ত করে — তার নিজের বুড়ো বাপ।

★ মার খাওয়ার পর হাসুনির মা সোজা চলে যায় — মজিদের বাড়ি।

★ মজিদ ও খালেক ব্যাপারীর বিচারে তাহেরের বাপের অন্যায় ঢাকা পড়ার জন্য উদাহরণ দেওয়া হয় — প্রিয় পয়গম্বর ও হজরত আয়েশা (রা.)-এর ঘটনার।

★ হজরত আয়েশা (রা.)-এর ঘটনার কুৎসা রটনার উল্লেখ পাওয়া যায় যে সুরটে — ছুরায়ে আন-নূর।

★ বিচারে মজিদ তাহেরের বাপকে নির্দেশ দেয় — মেয়ের কাছে মাফ চাইতে, তাকে ঘরে রাখতে এবং মাজারে পাঁচ পয়সার সিন্নি দিতে।

★ বিচারে অপমানিত হওয়ার দুদিন পর তাহেরের বাপ মেয়ে হাসুনির মায়ের কাছে চায় — চিঁড়া, গুড় ও পানি।

★ ক্ষমা চাওয়ার পর সে দিন সন্ধ্যায় তাহেরের বাপ — বাড়ি ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।

★ হাসুনির মাকে কাজের সময় মজিদ যে উপহার দেয় — বেগুনি রঙের কালো পাড়ের শাড়ি।

★ শীতের রাতে রহীমা ও হাসুনির মা উঠানে করে — ধান সিদ্ধ করার কাজ।

★ শেষ রাতে মজিদ রহীমাকে ঘরে ডেকে বলে — “পাটা একটু টিপা দিবা?”

★ আওয়ালপুর গ্রামে আগমন ঘটে — এক বিশাল প্রভাব ও ক্ষমতাশালী পীর সাহেবের।

★ আওয়ালপুরের পীর সাহেবের প্রধান মুরিদ — ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট মতলুব খাঁ (মতলুব মিঞা)।

★ পীর সাহেবের চেহারার বৈশিষ্ট্য — খড়গনাসা ও গৌরবর্ণ।

★ পীর সাহেবের প্রধান মুরিদের দাবি অনুযায়ী পীর সাহেবের ক্ষমতা ছিল — সূর্যকে আটকে রাখার।

★ পীর সাহেবের ফারসি বায়েত “সোহবতে সোয়ালে তুরা সোয়ালে কুনাদ” অর্থ — সুসঙ্গ মানুষকে ভালো করে।

★ “সোেহবতে তোয়ালে তুরা তোয়ালে কুন্নাদ” অর্থ — কুসঙ্গ মানুষকে খারাপ করে।

★ ভিড়ের লোক হাত-পা জড়িয়ে ধরলে পীর সাহেব উঠে যান — বটগাছের ডালে।

★ আসরের সময় জোহরের নামাজ পড়তে দেখে তীব্র প্রতিবাদ জানায় — মজিদ।

★ আওয়ালপুরের পীরের সভায় গিয়ে মারামারি করে করিমগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি হয় — মহব্বতনগরের কালু মিঞাসহ একদল যুবক।

★ মজিদ করিমগঞ্জে যে প্রতিষ্ঠানে আহতদের দেখতে যায় — হাসপাতালে।

★ হাসপাতালে মজিদের সাথে কথা হওয়া ব্যক্তিটি ছিলেন — ভাঙ-গাঁজা খাওয়া চেহারা সম্পন্ন কম্পাউন্ডার।

★ মজিদ মিছা কথা বলে দাবি করে — হাসপাতালের বড় ডাক্তার তার মুরিদ।

★ খালেক ব্যাপারীর প্রথম বিবির নাম — আমেনা বিবি।

★ খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় বিবির নাম — তনু বিবি।

★ আমেনা বিবির বিয়ের বয়স ছিল — ১৩ বছর (বর্তমানে বয়স ৩০ পেরিয়ে গেছে)।

★ আমেনা বিবি সন্তান লাভের আশায় পানিপড়া চাইতে চেয়েছিল — আওয়ালপুরের পীর সাহেবের কাছে।

★ তনু বিবির ভাই ও খালেক ব্যাপারীর অলস শ্যালক — ধলামিঞা।

★ ধলামিঞার মতে আওয়ালপুর ও মহব্বতনগরের মাঝপথে অবস্থিত ভয়াল গাছ — দেবংশি তেঁতুল গাছ।

★ ধলামিঞা চালাকি করে পীরের কাছে না গিয়ে পানিপড়া নিতে আসে — মজিদের কাছে।

★ মজিদের মতে পেটে প্যাঁচ বা বেড়ি থাকার কারণে সন্তান হয় না — নারীদের (সাত, চৌদ্দ বা একুশ প্যাঁচ)।

★ মজিদের নিজের বউ রহীমার পেটের প্যাঁচ — সাতের বেশি (চৌদ্দ বা একুশ)।

★ মজিদের পরামর্শে আমেনা বিবিকে পেটের প্যাঁচ পরীক্ষা করার উপায় — সেহরী না খেয়ে রোজা রাখা, কথা না বলা, মাজারের চারপাশে সাতবার ঘোরা।

★ হাসুনির মায়ের মা মারা যাওয়ার পর জানাজা পড়তে ডেকে আনা হয় — মোল্লা শেখকে।

★ আমেনা বিবির রোজা রাখার দিনে মজিদের বাড়ি থেকে পড়া-পানি নিয়ে যায় — রহীমা।

★ আমেনা বিবি মজিদের বাড়িতে যায় — পালকিতে চড়ে।

★ মজিদ বিশেষ দিনে আমেনা বিবির পরীক্ষা নেওয়ার সময় পরিধান করে — লম্বা কোর্তা ও মাথায় ছোট পাগড়ি।

★ আমেনা বিবি পালকি থেকে নামার সময় মজিদের দৃষ্টি পড়ে — তার ধবধবে সাদা ও মসৃণ পায়ের ওপর।

শব্দার্থ ও টীকা

শব্দ/শব্দগুচ্ছঅর্থ ও টীকা
শস্যহীন জনবহুল এ অঞ্চলঔপন্যাসিক বাংলাদেশের এমন একটি বিশেষ অঞ্চলের বর্ণনা দিয়েছেন যেখানে ফসল এবং খাদ্যশস্যের প্রচন্ড অভাব অথচ, জনসংখ্যার আধিক্য বর্তমান।
বেরিয়ে পড়বার ….. করে রাখেঅভাবের তাড়নায় দেশের একটি বিশেষ অঞ্চলের মানুষ জীবিকার সন্ধানে বেরিয়ে পড়ছে অজানার উদ্দেশ্য। এই অজানা, অচেনা স্থান সম্পর্কে তার মধ্যে অনিশ্চয়তার শঙ্কা কাজ করে সেটিই এখানে বোঝানো হয়েছে।
নলিজাহাজে চড়ার অনুমতি পত্র।
জ্বালাময় আশাতীব্র ক্ষুধা ও যন্ত্রণাময় জীবন থেকে মুক্তির প্রত্যাশা।
হা শূন্যঅভাবগ্রস্ত। দারিদ্র্য।
দিনমান ক্ষণের সবুরমুহুর্তের অপেক্ষা। সামান্য সময়ের প্রতীক্ষা।
ফাঁসির শামিলমৃত্যুর অনুরূপ।
ঝিমধরাঅবসন্ন। স্থির।
সর্পিল গতিতেসাপের আঁকাবাঁকা চলনের মতো।
সজারু কাঁটা হয়ে ওঠেহঠাৎ জেগে ওঠে। সচল হয়।
বহির্মুখী উন্মত্ততাকাজের সন্ধানে বাইরে যাওয়ার ব্যাকুলতা।
জানপছানের লোকআত্মীয়স্বজন। প্রিয়জন।
দেহচ্যুত হয়েইঞ্জিন যখন ট্রেনের বগি থেকে পৃথক হয়।
সরভাঙা পাড়প্রবল স্রোতের ভেঙে যাওয়া নদীর পাড়।
শস্যের চেয়ে চুপি বেশিঔপন্যাসিক যে এলাকার বর্ণনা দিয়েছেন, সেখানে প্রচন্ড অভাবে পাশাপাশি মানুষগুলো ধর্মভীরু। খাদ্য না থাকলেও মানুষের মধ্যে ধর্মচর্চার কার্পণ্য নেই-এটাই বোঝানো হয়েছে।
হেফজমুখস্থ। কণ্ঠস্থ।
সরগলা কেরাতচিকন সুরে কোরান পাঠ।
ফিকে দাড়িপাতলা বা হালকা দাড়ি।
কিতাবে যে বিদ্যে … লোক আবার নেইপূর্বের লিখিত বিষয় পুস্তকে যেন স্থির ও স্থবির হয়ে আছে। তাকে গতিশীল এবং আধুনিক ও যুগোপযোগী করার মতো কেউ নেই।
খোদার এলেমে বুক ….. পেট শূন্য বলেধর্মীয় বিদ্যা এবং ধর্মচর্চা দ্বারা ক্ষুধার্ত মানুষের চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়।
বাহে মূলুকেউত্তরবঙ্গ এলাকায়।
নিরাক পড়াবাতাসহীন নিস্তব্ধ গুমেটি আবহাওয়া। ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি সময়েএ অবস্থার সৃষ্টি হয়।
আকাশটা বুঝি চটের মতো চিরে গেলটানিয়ে রাখা চটে কাঁচি চালানোর সাথে সাথে যেমন এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত একেবারে চিরে যায় তেমন অবস্থা বোঝাতে উপমাটি ব্যবহৃত হয়েছে।
গলুইনৌকার সামনের বা পেছনের শক্ত ও সরু অংশ।
চোখে ধারালো দৃষ্টিচোখের সূক্ষ্ম, কৌতুহলী ও অন্তর্ভেদী দৃষ্টি। পানি নিচের মাছের অবস্থার অনুমান করার মতো দৃষ্টি।
ধানের ফাঁকে ফাঁকে …. এঁকেবেঁকে চলেপানিতে নিমজ্জিত ধানক্ষেতে নৌকার এক প্রান্তে চালক খুব সাবধানী। নৌকা চালানোর সময় যেন কোনোভাবে ঢেউ বা শব্দ তৈরি না হয়। তেমনি অপর প্রান্তে জুতি-কোঁচ হাতে দাঁড়িয়ে শিকারি। তার দৃষ্টিকে সাপের এঁকেবেঁকে ছুটে চলার সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে ঔপন্যাসিক উদ্বৃত উপমাটি প্রয়োগ করেছেন।
চোখে তার তেমনি শিকারির সূচাগ্র একাগ্রতাতাহের কাদের মাছে ধরছে। কাদের সন্তর্পণে নৌকা চালাচ্ছে। তাহের নৌকার সম্মুখভাবে তার দৃষ্টি যেন সূচের অগ্রভাগের মতো তীক্ষ্মতাসম্পন্ন। যেখানেই মাছ থাকুক না কেন-দৃষ্টির সূক্ষ্মতায় তা চোখে ধরা পড়বেই।
দাঁড় বাইছে, …. পান নয়, তুলোকাদের পেছনে বসে নৌকা চালাচ্ছে। সামনে তাহের। তার ইশিারা মতো এতটা সাবধান, সতর্ক ও নিঃশব্দে নৌকা চালাচ্ছে সে। লেখক এখানে পানিকে তুলোর সাথে তুলনা করেছেন। পানিতে বা নৌকায় শব্দ হলে মাছ পালিয়ে যাবে। এ কারণে শিকারিদের অবস্থান এবং বিচরণ নিঃশব্দে এবং শন্তর্পণে হওয়াই উচিত। তাহের কাদেরের নৌকা যেন পানিতে নয় তুলার উপর দিয়ে চলছে।
ক-টা শিষ নড়ছেখাদ্য গ্রহণের জন্য মাছ ধানগাছের পানির মধ্যকার অংশের গায়ে জমে থাকা শেওলায় ঠোকর দেয়। আবার কখনো বা পানির উপরকার শেওলা বা পানায় ঠোকর দিতে থাকে। ধানগাছের ডগা, শেওলা বা পানা নড়তে থাকলে শিকারি মাছের অবস্থান বুঝতে পারে।
আলগোছেখুব সাবধানে, আলতোভাবে।
কোঁচমাছ ধরার জন্য নিক্ষেপণযোগ্য অস্ত্র। মাথায় তীক্ষ্ম শলাকাগুচ্ছ যুক্ত বর্শা বিশেষ।
নিঃশ্বাসরুদ্ধ করা মুহুর্তদম বন্ধ হওয়া সময় চরম উত্তেজনাকর মুহুর্ত।
লোকেরা স্থির দৃষ্টিতে … সা-ঝাক্ধানক্ষেতে পানির মধ্যে মাছের অবস্থান দেখে তাহেরের পরবর্তী বিভিন্ন অ্যাকশানের বিবরণ এখানে দেওয়া হয়েছে। বিলের ভিতর অন্য নৌকার শিকারিরা দেখছে- তাহের কীভাবে নিঃশব্দে ডান হাতে কোঁচ তুলে বাম হাতের আঙুল দিয়ে ইশারা করে নৌকার অবস্থান, সামনে-পেছনে-ডাইনে-বায়ে নির্দেশ করছে। অবশেষে শরীরটাকে ধনুকের মতো বাঁকিয়ে অতি দ্রুত এবং জোরালোভাবে, সা-ঝাক্ শব্দে কোঁচ নিক্ষেপ করেছে।
চোখ নিমীলিতচোখ বোজা। মোনাজাত বা প্রার্থনার সময় একাগ্রতার জন্য চোখ বন্ধ রাখা হয়।
কোটরাগত নিমীলিত সে চোখে একটুও কম্পন নেইদেবে যাওয়া বন্ধ চোখ দুটির মধ্যে কোনো দ্বিধা, ভয় বা কম্পন নেই। নেই মিথ্যে বলার অপরাধবোধ। মানসিকভাবে সে খুব সাহসী।
এভাবেই মজিদের প্রবেশ …. নাটকেরই পক্ষপাতীচেনা নেই, জানা নেই; একটা গ্রামে হঠাৎ করে ঢুকে একটি অসাধারণ অভিনয়ে অর্ধশিক্ষিতও অশিক্ষিত মানুষকে আকৃষ্ট করে ফেলে আগন্তুক মজিদ। অপরিচিত মানুষ দেখে ছেলে বৃদ্ধ সবাই কৌতুহলী হয়ে ওঠে। আর এই কৌতুহলকে কাজে লাগায় মজিদ। তার আদব-কায়দা অভিনয়, গ্রামের সাধারণ মানুষের আগ্রহ সবকিছুকে কিছুটা ব্যাঙ্গাত্মকভাবেই উপস্থাপন করছেন লেখক।
নবাগত লোকটির কোটরাগত চোখে আগুনশীর্ণকায় মজিদের দেবে যাওয়া চোখে আগুন। অসাধারণ অভিনয়। সে যখন বুঝে ফেলে গ্রামের মানুষগুলো মূর্খ কিন্তু কৌতুহলী-তখনই সেযে বিশাল মিথ্যাটিকে প্রতিষ্ঠিত করবে তার পূর্ব মুহুর্তে অভিনয়টি সে করে নেয়। তার চোখেমুখে ক্রোধের আগুন সবার অন্তরে ছড়িয়ে দিয়ে এক ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে।
জাহেলঅজ্ঞ। মূর্খ। নির্বোধ।
বেএলেমবিদ্যাহীন। লেখাপড়া জানে না এমন লোক।
আনপাড়হ্যাদের পড়াশোনা জ্ঞান নেই এমন লোক।
বেচাইনঅস্থির। উতলা।
চড়াই-উতরাই ভাবঅস্থিরতাজনিত শুষ্কতা, ক্লান্তির ভাব।
চিকনাইউজ্জ্বল। লাবণ্যময় চেহারা।
এখানে ধানক্ষেতে …… আকাশে ভাসে নাযে স্থানের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে সেখানকার মানুষ জমি-জমার আবাদ করে-ফসল ফলিয়ে ভালোই আছে কিন্তু তাদের অন্তরে খোদার প্রতি আগ্রহ বা অনুরাগের অভাব আছে।
দুনিয়ায় সচ্ছলভাবে …… সে খেলা সাংঘাতিকবস্তুত মজিদ অভাবগ্রস্ত এলাকার অধিবাসী। বেঁচে থাকার প্রয়োজনে এলাকা ছেড়েছে সে। মহব্বতনগরে এসে সেখানকার মানুষকে বোকা বানিয়ে যে মিথ্যে বাজার ব্যবসার পথে অগ্রসর হয়েছে লেখক তাকে সাংঘাতিক বা ভয়কর ‘খেলার’ সাথে তুলনা করেছেন। যদি কখনো এই মিথ্যার রহস্য উন্মোচিত হয়ে যায় তখন সামাল দেওয়া মজিদের পক্ষে কতটা সম্ভব সে কথা ভেবেই লেখক এ মন্তব্য করছেন।
জমায়েতের অধোবদন চেহারামজিদ যখন মিথ্যা মোদাচ্ছের পিরের মাজারের কথা বলে উপস্থিত গ্রামবাসীকে গালাগালি করছিল তখন তাদের ভেতরে একটা অপরাধবোধ কাজ করছিল। সত্যিই তারা পিরের মাজারকে এরকম অযত্নে অবহেলায় ফেলে রেখেছে? এ কারণে তাদের অপরাধী মুখ নিচু হয়ে আছে- চেহারায় প্রকাশ পেয়েছে লজ্জা মিশ্রিত অপরাধবোধ।
সালুএক রকম লাল সুতি কাপড়।
মাছের পিঠের মতোএটি একটি উপমা। মাছের পিঠের মাঝখানটা যেমন উঁচু, মাজারের মাঝখানটাও তেমনি উঁচু।
বতোর দিনেজমিতে বীজ বপন বা ফসল বোনার এবং ফসল কাটার উপযুক্ত সময়।
মগরা মগরা ধানপ্রচুর ধান। গোলা বা মোড়া ভর্তি ধান।
হাড় বের করা দিনের কথাপ্রচন্ড অভাবের দিনের কথা। না খেতে পেয়ে অপুষ্টি অনাহারে ক্লিষ্ট মানুষের বুকের পাঁজরের হাড় জেগে ওঠে। এ রকম অবস্থার কথা এখানে বর্ণিত হয়েছে।
বেওয়াবিধবা।
রা নেইকথা বা আওয়াজ নেই।
মাটি-এ গোস্বা করেমাটি রাগ করে।
কবরে আজাব হইবকবরে শাস্তি হবে।
বেগানাঅনাত্মীয়।
গলা সীসার মতো অবশেষে লজ্জা আসে রহিমার সারা দেহেসীসা একটি কঠিন ধাতব পদার্থ। আগুনে পোড়ালে তা গলে যায় এবং যে পাত্রে রাখা যায় তাতে ছড়িয়ে পড়ে সমান্তরালভাবে। মজিদের উপদেশ বাণী শোনার পর লজ্জা রহিমার সমস্ত শরীরে ওই রূপ ছড়িয়ে পড়ে। একটি একটি উপমা।
গ্রামের লোকেরা যেন রহিমারই অন্য সংস্করণরহিমা মজিদের স্ত্রী। তার অনুগত ও বাধ্য। মজিদের ভয়ে সে ভীতও। মজিদের চোখের ভাষা বোঝ সে। তাছাড়া সে ধর্মভীরু। গ্রামের মানুষগুলোও তারই মতো একই রকম ধর্মভীরু ও মজিদের প্রতি অনুগত।
আত্মমর্যাদার ভুয়ো ঝান্ডা উঁচিয়ে রাখবারজমির মালিকানা সংক্রান্ত ধারণা। গ্রামে যে যত বেশি জমির মালিক, সে তত বেশি মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি। এই মালিকানার মর্যাদাকে লেখক ঝান্ডা উঁচিয়ে রাখার সঙ্গে তুলনা করছেন। কিন্তু এর মধ্যে রয়েছে যে বৈষয়িক অহমিকা তাকে লেখক ধর্মীয দৃষ্টিকোণ থেকে ভুয়ো বা আমার বলে অভিহিত করেছেন।
মাটির এলো খাবড়া দলাগুলোমাটির ঢেলা, কোদাল দিয়ে কোপানো বা লাঙল দিয়ে চাষ করার পর মাটির যে ছোট ছোট খন্ড তৈরি হয়।
সিপাইর খন্ডিত ছিন্ন দেহের একতাল অর্থহীন মাংসের মতো জমিজমি নিয়ে মানুষে মানুষে বিবাদ হয়, হানাহানি, ঝগড়া, বিবাদ, মারামরি এমন কি রক্তারক্তিও হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো সৈনিকের অর্থহন খন্ডিত দেহের মাংসপিন্ডের সঙ্গে জমি নিয়ে এই বিবাদ বিসংবাদের অর্থহীনতাকে তুলনা করা হয়েছে। এটি একটি উপমা।
রুঠাজমিঅনুর্বর ভূমি নিস্ফলা জমি।
শূন্য আকাশ বিশাল নগ্নতায় নীল হয়ে জ্বলেপুড়ে মরেমেঘ বৃষ্টিবিহীন নীল আকাশকে কেমন উন্মুক্ত-ন্যাংটো মনে হয়। রেনাদের তাপদাহে মাঠ প্রান্তরের মাটি ফেটে চৌচির। বৃষ্টি আর মেঘ শূন্যতায় আকাশকেই মনে হয় শূন্য। তার নীলের ভেতর মৃত্যু যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছু নেই যেন।
নধর নধরকমনীয়, সরস ও নবীন।
কোঁদে কোঁদে পানি তোলেবিশেষ এক ধরণের পাত্রে এবং গ্রাম্য পদ্ধতিতে জমিতে সেচ দেওয়া।
মাটির তৃষ্ণায় তাদেরও অন্তর খাঁ খাঁ করেকৃষক শ্রম দিয়ে মেধা-মনন দিয়ে, স্বপ্ন নিয়ে মাঠে ফসল ফলায়। ফসল ফলানোর এক পর্যায়ে মাঠে পানি দিতে হয়। পানির অভাবে চারাগাছ শুকিয়ে যায়- হলুদ হয়ে মারা যঅয়, মাটি শুষ্ক হয়ে মাঠ ফেটে যায়। এ অবস্থা দেখে কৃষকের বুক ফেটে যায় অজানা শঙ্কায়।
দ্বিতীয়ার চাঁদের মতো কাস্তেঅমাবস্যার দুইদিন পরের চাঁদ-দ্বিতীয়ার চাঁদ। নতুন ওঠা এই চাঁদের আকৃতি বাঁকা কাস্তের মতো। যে কাস্তে হাতে কৃষক মাঠের ধান কাটে আর মনের আনন্দে গান ধরে।
তাগড়াবলিষ্ঠ লম্বা চওড়া।
গাঁট্টাগোট্টাখর্ব ও স্থুল অথচ বলিষ্ঠ দৃঢ় অস্থি গ্রন্থিযুক্ত ; আঁটসাঁট দেহবিশিষ্ট।
শ্যেন দৃষ্টিবাজপাখি বা শিকারি পাখির মতো দৃষ্টি।
ঝালরওয়ালা সালু কাপড়ে ….. অবজ্ঞা করে যেনমহব্বতনগরের মানুষের অকৃত্রিম হাসি, অনাবিল আনন্দ মজিদকে করে তোলে ভীতসন্ত্রস্ত। গ্রামের মানুষ যদি ফসলের মাধ্যমে সচ্ছলতা অর্জন করে ফেলে তাহলে তাদের মনে খোদার প্রতি আনুগত্য কমে যাবে-কমে যাবে মজিদের প্রতি নির্ভরশীরতা। মজিদ তো চায় গ্রামের মানুষ অভাব অনটনে থাকুক, ঝগড়া-বিবাদ, হানাহানি-রাহাজানিসহ বিভিন্ন ফ্যাসাদে জড়িয়ে থেকে মজিদের শরণাপন্ন হয়। মজিদ তাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করে তাদের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠবে। কিন্তু তারা নির্ভেজাল জীবন যাপন করলে মজিদ সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে এই মনোক্ষাবই এখানে ব্যক্ত হয়েছে।
রিজিক দেনেওয়ালাজীবনোপকরণ বা অন্ন-বস্ত্র দাতা, খাদ্য যোগানদার।
বুত পূজারীযারা মূর্তি পূজা করে।
নছিহতউপদেশ। পরমার্শ।
খতম পড়াবারঅনাবৃষ্টি বা অন্য কোনো বিপদ আপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা পবিত্র কোরান শরিফ পড়ানোর ব্যবস্থা কল্ কোরান শরিফের ৩০ পারা পড়ে শেষ করাকে কোরান খতম বলে। এর মাধ্যমে মঙ্গল ও কর‌্যাণ সাধন হবে বলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা মনে করেন।
কলমাকলেমা। ইসলাম ধর্মে পাঁচটি কলেমা আছে।এর প্রথমটি কলেমা তাইয়েব- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নাই; মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রসুল- অর্থাৎ মুহাম্মদ (স) আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ।
মুরুক্ষুমূর্খ। বোকা।
আমসিপাড়াআরবি বর্ণমালার উচ্চারণসহ সুরা সংকলন। পবিত্র কোরান শিক্ষার প্রাথমিক পাঠ।
মক্তবমুসলমান বালক-বালিকাদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রাথমিক বিদ্যালয় বা শিক্ষালয়।
জুম্মাবারশুক্রবার দিন জোহরের সময়ে মুসলমানদের জামাতে অংশগ্রহণ করে আদায়কৃত নামাজ।
রা নেইরব। সাড়া। শব্দ। ধ্বনি। মুখের কথা নেই।
তারস্বরঅতি উচ্চ শব্দের চিৎকার।
ধামড়াবয়স্ক। পাকা।
মারুফমহান পুরুষ। মহাপুরুষ।
রুহআত্মা। অন্তরাত্মা।
মহা তমিস্রাগভীর অন্ধকার। ঘোর অমানিমা।
রহমতকরুণা। দয়া। কৃপা। অনুগ্রহ।
মওতমৃত্যু। মরণ।
ঢেঙালম্বা। পাতলা শরীর।
শয়তানের খাম্বাখাম্বা অর্থ খুঁটি বা স্তম্ভ। এখানে হাসুনির মার বাপ তথা তাহের কাদেরের বাপকে মজিদের দৃষ্টিতে শয়তানের খুঁটি বলা হয়েছে। তাহেরের বাপ বুড়ো, তার সঙ্গে স্ত্রীর সর্বদা ঝগড়া লেগে থাকে। এ দিকে বুড়োর মেয়ে হাসুনির মা মজিদের কাছে এসে বাপের বিরুদ্ধে নালিশ জানায়। তাহেরের বাপ কিছুটা বোকা ও একরোখা। এটি মজিদের মোটেই পছন্দ নয়। মজিদ ভাবে এই বুড়োই শয়তানের খাম্বা।
বাজখাঁই গলায়গম্ভীর ও কর্কশ স্বরে।
ব্যাক্কইবেবাক। সবাই। সকলেই।
ঝুটমুটমিথ্যা। বানানো কথা।
ঢোল-সোহরতকোনো বিষয় ঢাক-ঢোল বাজিয়ে প্রচার করা, প্রচারের ব্যাপকতা অর্থে।
ছুরা ফাতেহাপবিত্র কোরানের প্রথম সুরা।
নেকবন্দপুণ্যবান। মহাপুরুষ।
ঋজুভঙ্গিতেসোজাসুজিভাবে।
রসনা প্রক্ষিপ্ত হয়েছেজিহ্বা বেরিয়ে এসেছে।
ছুরায়ে আল-নূরপবিত্র কোরান শরীফের একটি সুরা- যেখানে মানব জাতিকে আলোর পথ দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি মূলত নারীদের বিভিন্ন বিধান বর্ণিত হয়েছে।
কেরাতপবিত্র কোরান শরিফের বিশুদ্ধ পাঠ।
চোখ নাবায়চোখ নত করে। মাথা নত করে নিচের দিকে তাকায়।
হলফসত্য কথা বলার জন্য যে শপথ করা হয়। শপথ। প্রতিজ্ঞা।
রদ্দিপচা। বাসি।
রুদ্ধ নিঃশ্বাসের স্তব্ধতাদম বন্ধ করা বা নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো নীরবতা।
লেলিহান শিখাদাউ দাউ করা আগুনের শিখা।
ঢেঙা বদমেজাজি বৃদ্ধ লোকটিলম্বা বা দীর্ঘদেহী উগ্র মেজাজি বা রগচটা বুড়ো মানুষটি। এখানে তাহের কাদেরের বাপের কথা বলা হয়েছে।
আমসিপানা মুখশুকিয়ে যাওয়া মুখ।
তির্যক ভঙ্গিতেবাঁকা। অসরল। কুটিলভাবে।
বাজপাখিএক ধরণের শিকারি পাখি।
আথালি-পাথালিএলোমেলো।
লোটাঘটি। পাত্র বিশেষ।
বালাআপদ-বিপদ।
মগড়ার পর মগড়াধান সংরক্ষণের গোলার প্রাচুর্য বোঝাতে।
শোকর গুজারকৃতজ্ঞতা। প্রশংসা। তৃপ্তি বা তুষ্টি প্রকাশ।
তোয়াক্কলভরসা। নির্ভর।
নিতিবিতি করেসংকোচে ইতস্তত করা।
পিরমুসলিম দীক্ষাগুরু। পুণ্যাত্মা।
মুরিদমুসলমান ভক্ত বা শিষ্য। সাধক।
খড়গনাসা-গৌরবর্ণ চেহারাধারালো নাকবিশিষ্ট সুন্দর উজ্জ্বল চেহারা।
এস্তেমালব্যবহার করা। আয়ত্ত করা।
রুহানি তাকত ও কাশফআত্মিক শক্তি উন্মোচন করা।
কৃষ্ণপক্ষের চাঁদঅমাবস্যার পূর্বে চাঁদ ছোট হতে হতে হঠাৎ যেমন মিলিয়ে যায়। এটি একটি উযপমা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
বাতরস স্ফীত পদযুগলপির সাহেবের বাতরোগগ্রস্ত পায়ের কথা এখানে বলা হয়েছে।
কালো মাথার সমুদ্রঅনেক মানুষের মাথার চুল এক সঙ্গে একটি কালো সমুদ্রের মতো মনে হয়। এটি একটি উপমা।
বয়েতকবিতাংশ; আরবি, ফারসি বা উর্দু কবিতার শ্লোক।
বেদাতিইসলাম ধর্মের প্রচলিত রীতির বাইরের কিছু।
তকলিফকষ্ট।
জঈফঅতি বৃদ্ধ।
বেস্তায়সম্পর্কে। আত্মীয়তায়।
সটকাইছেপালিয়ে গেছে।
কেরায়া নায়ের মাঝিভাড়াখাটা নৌকার মাঝি।
রেহেলকোরান শরিফ রাখার জন্য কঠোর কাঠামো।
তাছিরপ্রভাব।
উচক্কাঅবাধ্য। ডানপিঠে। দুরন্ত।
বৃষ্টি পানিসিঞ্চিত জঙ্গলের মতোবৃষ্টির পানি পেয়ে জঙ্গল যেমন আরও ঘন হয়ে ওঠে-তেমন।
শিরালিশিলাবৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া রজন্য যারা মন্ত্র বা দোয়া পড়ে।
বরগাছাদের ভর ধরে রাখার কাঠ বা লোহা।
হুড়কাদরজার খিল।
বাািজা মেয়েবন্ধ্যা নারী। যে নারীর সন্তান হয় না।
মৃত মানুষের খোলা চোখের মতোএটিও একটি উপমা। মাজারের পিঠের ওপর থেকে কাপড়টি সুরে যাওয়ায় তাকে তাকিয়ে থাকা মরদেহের মতো মনে হয়।
বাইরে আকাশে শঙ্খচিল …. ডাকাডাকি করে অবিশ্রান্তএটি একটি রূপকার্থক বাক্য। শঙ্খচিল স্বাধীনভাবে আকাশে উড়ে, কাকও স্বাধীনভাবে ডাকাডাকি করে। এখানে বস্তুত জমিলার স্বাধীন সত্তার রূপকার্থক পরিচয় জ্ঞাপন করে।
দুলার বাপবরের বাবা। শ্বশুর।
ঠাটাপড়াঅকস্মাৎ বজ্রপাত হওয়া।
বালাবিপদ।
রগড়েডলে। ঘষে।
বর্তনবড় থালা।
এলেমদারজ্ঞানী। বিদ্বান।
দিনাদির অধিকারীআল্লাহ। স্রষ্টা।
খোদার ঢিলশয়তানকে তাড়ানোর জন্য বৃষ্টিরূপী শিলা।
নফরমানিঅবাধ্য।
তোয়াক্কলবিশ্বাস। আস্থা।
বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখচোখের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের দৃঢ়তা বোঝাতে উৎপ্রেক্ষা হিসেবে ব্যবহৃত।


Read More: সিরাজউদ্দৌলা নাটকের স্মার্ট নোট

Read More: HSC বাংলা সুচেতনা কবিতার স্মার্ট নোট


HSC বাংলা লালসালু উপন্যাসের স্মার্ট নোট PDF Download

সমাধানে যদি কোনো ভুল খুঁজে পান, তবে দয়া করে আমাদের জানিয়ে সাহায্য করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার রেটিং দিন:

Scroll to Top