SSC বাংলা প্রত্যুপকার গল্পের স্মার্ট নোট

SSC বাংলা ১ম পত্রের প্রত্যুপকার গল্পের স্মার্ট নোটশিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ ও কার্যকর করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই নোটে গল্পের কাহিনি, মূলভাব, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, চরিত্র, শিক্ষণীয় দিক এবং পরীক্ষায় আসতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় সাজানো হয়েছে। অল্প সময়ে গল্পটি বুঝে দ্রুত রিভিশন ও পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই স্মার্ট নোটটি একটি কার্যকর সহায়িকা।


SSC প্রত্যুপকার গল্পের স্মার্ট নোট

পরিচয়

পূর্ণ নাম: ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় শর্মা
জন্ম: ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০ খ্রিস্টাব্দ
মৃত্যু: ২৯ জুলাই ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দ
জন্মস্থান: বীরসিংহ গ্রাম, বর্তমান পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ
পিতার নাম: ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
মাতার নাম: ভগবতী দেবী
পিতামহ: রামজয় তর্কভূষণ
বংশের আদি নিবাস: বনমালীপুর, হুগলি
যুগ: ঊনবিংশ শতক
পরিচয়: শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, বাংলা গদ্যকার, অনুবাদক ও মানবহিতৈষী
উপাধি: বিদ্যাসাগর
জনপ্রিয় নাম: দয়ার সাগর
ঐতিহাসিক পরিচয়: বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব।

‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি লাভ

★ জন্মের সময় তার নাম ছিল ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২২ এপ্রিল ১৮৩৯ — হিন্দু ল কমিটির পরীক্ষা দেন।
১৬ মে ১৮৩৯ — হিন্দু ল কমিটির প্রশংসাপত্রে প্রথম তার নামের সঙ্গে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি ব্যবহৃত হয়।
★ সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অসাধারণ পাণ্ডিত্যের জন্য তিনি এই উপাধি লাভ করেন।
১৮৪১ সালের ডিসেম্বর — সংস্কৃত কলেজের প্রশংসাপত্রেও অধ্যাপকরা তাকে ‘বিদ্যাসাগর’ নামে অভিহিত করেন।
★ সংস্কৃত কলেজে মোট ১২ বছর ৫ মাস অধ্যয়ন করেন।

বংশ পরিচয়

★ বিদ্যাসাগরের পূর্বপুরুষদের আদি বাসস্থান ছিল বনমালীপুর গ্রাম, হুগলি।
★ প্রপিতামহ ভুবনেশ্বর বিদ্যালঙ্কার ছিলেন বিখ্যাত পণ্ডিত।
★ পিতামহ রামজয় তর্কভূষণ ছিলেন সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে সুপণ্ডিত।
★ পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় স্বল্প বেতনের চাকরি করতেন।
★ মাতা ভগবতী দেবী ছিলেন তার জীবনের অন্যতম প্রধান প্রেরণাদাত্রী।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন

৪ বছর ৯ মাস বয়সে সনাতন বিশ্বাসের পাঠশালায় ভর্তি হন।
★ পরে ৮ বছর বয়সে কালীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের পাঠশালায় ভর্তি হন।
★ কালীকান্তকে তিনি আদর্শ শিক্ষক হিসেবে দেখতেন।
১৮২৮ সালের নভেম্বর — পাঠশালার শিক্ষা শেষ করে কলকাতায় আসেন।
১ জুন ১৮২৯ — কলকাতা গভর্নমেন্ট সংস্কৃত কলেজে ব্যাকরণের তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন।
★ তখন তার বয়স ছিল ৯ বছর
★ সহপাঠী ছিলেন মদনমোহন তর্কালঙ্কার

১৮৩০ — সংস্কৃত কলেজের ইংরেজি শ্রেণিতে ভর্তি।
১৮৩১ — কৃতিত্বের জন্য মাসিক ৫ টাকা বৃত্তি লাভ।
১৮৩৪ — দীনময়ী দেবীর সঙ্গে বিবাহ।
১৮৩৫ — অলংকার শ্রেণিতে প্রবেশ।
১৮৩৬ — অলংকার পাঠ সমাপ্ত; পরীক্ষায় প্রথম স্থান।
১৮৩৭ — স্মৃতি শ্রেণিতে ভর্তি।
১৮৩৮ — বেদান্ত পাঠ সমাপ্ত; পরীক্ষায় প্রথম স্থান।
১৮৪০–১৮৪১ — ন্যায় শ্রেণিতে অধ্যয়ন।
★ ন্যায়, পদ্য রচনা, দেবনাগরী হস্তাক্ষর ও কোম্পানির রেগুলেশন পরীক্ষায় পুরস্কার লাভ করেন।

কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

১৮৪১: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগের সেরেস্তাদার/প্রধান পণ্ডিত।
★ বেতন — মাসিক ৫০ টাকা
১৮৪৬: সংস্কৃত কলেজের সহকারী সম্পাদক।
১৮৪৭: সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরি বইয়ের দোকান প্রতিষ্ঠা।
★ একই বছর সংস্কৃত যন্ত্র ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন মদনমোহন তর্কালঙ্কারের সঙ্গে।
১৮৪৭: প্রথম গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি প্রকাশ।
১৮৪৭: সংস্কৃত কলেজের সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ।

১৮৪৯: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে হেডরাইটার ও কোষাধ্যক্ষ।
★ বেতন — ৮০ টাকা
১৮৪৯: ‘বাঙ্গালার ইতিহাস দ্বিতীয় ভাগ’ প্রকাশ।
১৮৪৯: ‘জীবনচরিত’ প্রকাশ।
১৮৫০: ‘সর্ব্বশুভকরী’ পত্রিকা প্রকাশে মদনমোহন তর্কালঙ্কারের সহযোগিতা।
★ প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত প্রবন্ধ — ‘বাল্যবিবাহের দোষ’
১৮৫০: সংস্কৃত কলেজে সাহিত্যের অধ্যাপক।
১৮৫১: সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ।
★ অধ্যক্ষ হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করেন।

সংস্কৃত কলেজে শিক্ষা সংস্কার

★ ব্রাহ্মণ ও বৈদ্যদের পাশাপাশি কায়স্থদেরও সংস্কৃত কলেজে পড়ার সুযোগ দেন।
★ কলেজের দরজা সকল বর্ণের সম্ভ্রান্ত হিন্দুদের জন্য উন্মুক্ত করেন।
রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি চালু করেন।
★ ছাত্রদের জন্য বিভিন্ন প্রশাসনিক ও শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার আনেন।
★ শিক্ষাব্যবস্থাকে অধিক যুক্তিনির্ভর ও আধুনিক করার চেষ্টা করেন।

শিক্ষাবিস্তার

১৮৫৩: জন্মভূমি বীরসিংহে অবৈতনিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
১৮৫৫: দক্ষিণবঙ্গের সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক নিযুক্ত।
★ নদীয়া, বর্ধমান, হুগলি ও মেদিনীপুরে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
★ দুই বছরের মধ্যে ২০টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
★ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য নর্ম্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
★ নিজ গ্রামে নিজের অর্থে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

১৮৫৫: ‘বর্ণপরিচয়’ প্রকাশ।
★ ‘বর্ণপরিচয়’ প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগে প্রকাশিত হয়।
★ বাংলা ভাষার প্রাথমিক শিক্ষায় এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে।
১৮৫৫: চার জেলার বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
১৮৫৬: মেদিনীপুরে পঞ্চম বঙ্গবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।

নারীশিক্ষায় অবদান

★ বিদ্যাসাগর ছিলেন বাংলায় নারীশিক্ষার বিস্তারের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ
★ তার বিশ্বাস ছিল—নারীর উন্নতি ছাড়া সমাজ ও সংস্কৃতির প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়।
ড্রিংকওয়াটার বিটন-এর সঙ্গে কলকাতায় হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন।
★ বিদ্যালয়টি বর্তমানে বেথুন স্কুল নামে পরিচিত।
★ তিনি বিদ্যালয়টির সম্পাদক ছিলেন।
★ গ্রামাঞ্চলে নারীশিক্ষা বিস্তারের জন্য স্ত্রীশিক্ষা বিধায়নী সম্মেলনী প্রতিষ্ঠা করেন।

১৮৫৭–১৮৫৮: দক্ষিণবঙ্গে ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
★ বিদ্যালয়গুলোর মোট ছাত্রী ছিল প্রায় ১৩০০ জন
★ মাসিক ব্যয় ছিল প্রায় ৮৪৫ টাকা
১৮৬৪: বাংলায় বালিকা বিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮৮টি
১৮৭২: মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা।
★ বীরসিংহে মায়ের স্মৃতিতে ভগবতী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

বিধবা বিবাহ আন্দোলন

★ বিদ্যাসাগর ছিলেন বিধবা বিবাহ আন্দোলনের প্রধান পুরোধা
★ হিন্দুশাস্ত্রের সাহায্যে তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে বিধবা বিবাহ ধর্মবিরোধী নয়।
১৮৫৫: বিধবা বিবাহ প্রচলনের পক্ষে প্রথম পুস্তক প্রকাশ।
১৮৫৫: দ্বিতীয় পুস্তক প্রকাশ করে শাস্ত্রীয় যুক্তি উপস্থাপন করেন।
★ ব্রিটিশ সরকারের কাছে বহুসাক্ষরযুক্ত আবেদনপত্র পাঠান।
১৬ জুলাই ১৮৫৬: বিধবা বিবাহ আইনসিদ্ধ হয়।
৭ ডিসেম্বর ১৮৫৬: কলকাতায় প্রথম বিধবা বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।

★ প্রথম বিধবা বিবাহের স্থান — ১২, সুকিয়া স্ট্রিট, কলকাতা
★ আয়োজক পরিবারের কর্তা — রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়
★ পাত্র — শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন
★ পাত্রী — কালীমতী
★ বিদ্যাসাগর রক্ষণশীল সমাজের তীব্র বিরোধিতা ও অপমান সহ্য করেও আন্দোলন চালিয়ে যান।

বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আন্দোলন

★ বিদ্যাসাগর বহুবিবাহ প্রথা বিলোপের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেন।
১৮৫৫: বহুবিবাহ নিবারণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন।
১৮৬৬: বহুবিবাহ রদের জন্য দ্বিতীয়বার আবেদন।
১৮৭১: বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা—বিষয়ক বিচার প্রকাশ।
১৮৭৩: গ্রন্থটির দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশ।
১৮৫০: ‘বাল্যবিবাহের দোষ’ প্রবন্ধ প্রকাশ।
★ বাল্যবিবাহ রোধের পক্ষেও তিনি জনমত গড়ে তোলেন।

মানবসেবা ও দানশীলতা

★ দরিদ্র, অসহায় ও পীড়িত মানুষকে কখনো খালি হাতে ফেরাতেন না।
★ নিজের অর্থসঙ্কটের সময়ও অন্যকে সাহায্য করতেন।
১৮৬৭: বীরসিংহে দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের জন্য নিজ ব্যয়ে অন্নসত্র স্থাপন।
★ প্রায় ৬ মাস প্রতিদিন ৪০০–৫০০ মানুষ অন্ন, বস্ত্র ও চিকিৎসা পেত।
★ যারা অন্নসত্রে আসতে লজ্জা পেত, তাদের বাড়িতে গোপনে অর্থ ও খাদ্য পাঠাতেন।
১৮৬৪: বিদেশে ঋণগ্রস্ত মাইকেল মধুসূদন দত্তকে ১৫০০ টাকা সাহায্য করেন।
★ নিজের কাছে অর্থ না থাকলেও ধার করে সাহায্য করেছিলেন।

★ এজন্য সাধারণ মানুষ তাকে ‘দয়ার সাগর’ নামে অভিহিত করত।
★ মাইকেল মধুসূদন দত্ত বিদ্যাসাগরের মধ্যে দেখেছিলেন—

প্রাচীন ঋষির প্রজ্ঞা
ইংরেজের কর্মোদ্যম
বাঙালি মায়ের হৃদয়বৃত্তি

চরিত্রের বৈশিষ্ট্য

★ কঠোর ও কোমলের অপূর্ব সমন্বয়।
★ প্রবল জেদী।
★ আত্মমর্যাদাসম্পন্ন।
★ নীতির ক্ষেত্রে আপসহীন।
★ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী।
★ দরিদ্রের প্রতি গভীর সহানুভূতিশীল।
★ পরোপকারী ও দানশীল।
★ পিতামাতার প্রতি গভীর ভক্তিশীল।
★ কর্তব্যনিষ্ঠ।
★ স্বাধীনচেতা।
★ সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে আপসহীন।

★ নিজের জামাই, পরিচিত ব্যক্তি বা এমনকি নিজের সন্তান—কেউ কর্তব্যে অবহেলা করলে তাকেও ছাড় দেননি।
★ পুত্র নারায়ণচন্দ্র বিধবা বিবাহ করলে তিনি সামাজিক বিরোধিতা উপেক্ষা করে তা সম্পন্ন করেন।
★ পরে পুত্রের চরিত্র সম্পর্কে অসন্তুষ্ট হয়ে তার সঙ্গে সম্পর্কও ছিন্ন করেন।

মাতৃভক্তি

★ বিদ্যাসাগরের চরিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য — মাতৃভক্তি
★ মাতা ভগবতী দেবী তার সংস্কারমূলক চিন্তার অন্যতম প্রেরণা ছিলেন।
★ মায়ের নির্দেশে বীরসিংহে বিদ্যালয় ও অবৈতনিক ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠা করেন।
★ বিধবাদের দুঃখ দূর করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও মা তাকে অনুপ্রাণিত করেন।
★ মায়ের আহ্বানে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ দামোদর নদ সাঁতরে পার হওয়ার কথাও পাঠ্যে উল্লেখ আছে।

বাংলা গদ্যে বিদ্যাসাগরের অবদান

★ বিদ্যাসাগরকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক গদ্যকার বলা হয়।
★ তিনি তাত্ত্বিক অর্থে বাংলা গদ্যের জনক নন।
★ তবে বাংলা গদ্যকে প্রথম সুসংহত, শিল্পসম্মত ও মানসম্মত রূপ দেন।
★ তিনি বাংলা গদ্যের নবজন্মদাতা
★ তাকে আধুনিক বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

তার গদ্যের বৈশিষ্ট্য—
★ সরস
★ সুমধুর
★ সুশ্রাব্য
★ ছন্দোময়
★ গতিশীল
★ সুসংবদ্ধ
★ যুক্তিনির্ভর
★ প্রয়োজনে অলংকারময়
★ প্রয়োজনে লৌকিক ও দ্রুতগামী।

★ সংস্কৃত ভাষার গাম্ভীর্য ও শ্রুতিমাধুর্য তিনি বাংলা গদ্যে গ্রহণ করেন।
★ কিন্তু দুর্বোধ্যতা ও দুরুহতা পরিহার করেন।
★ ইংরেজি সাহিত্যের আদর্শে যতিচিহ্নের ব্যবহার বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠা করেন।
★ বাংলা সাধু গদ্যকে মান্য ও শিল্পসম্মত রূপ দেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী হিসেবে অভিহিত করেছেন।
★ রবীন্দ্রনাথের মতে, বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যকে সুবিন্যস্ত, সুপরিচ্ছন্ন, সুসংহত ও গতিশীল করেছিলেন।

গদ্যশৈলীর দুই রূপ

কাব্যিক ও অলংকারবহুল গদ্য:
★ ‘শকুন্তলা’
★ ‘সীতার বনবাস’

দ্রুতগামী, লৌকিক ও শ্লেষাত্মক গদ্য:
★ ‘ব্রজবিলাস’

★ ‘ব্রজবিলাস’-এর ভাষায় লৌকিকতার সঙ্গে রস ও ব্যঙ্গের সমন্বয় দেখা যায়।

গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ও প্রতিষ্ঠান

সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরি — ১৮৪৭
সংস্কৃত যন্ত্র ছাপাখানা — ১৮৪৭
সর্ব্বশুভকরী সভা — সমাজসংস্কারের উদ্দেশ্যে
সর্ব্বশুভকরী পত্রিকা — ১৮৫০
নর্ম্যাল স্কুল — শিক্ষক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে
হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় — নারীশিক্ষার প্রসার
মেট্রোপলিটান ইনস্টিটিউশন — পরে বিদ্যাসাগর কলেজ
ভগবতী বিদ্যালয় — মায়ের স্মৃতিতে বীরসিংহে
হিন্দু ফ্যামিলি অ্যানুয়িটি ফান্ড — ১৮৭২।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ — শিক্ষামূলক

ঋজুপাঠ — ১ম, ২য় ও ৩য় ভাগ — ১৮৫১–৫২
সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা — ১৮৫১
বোধোদয় — ১৮৫১
ব্যাকরণ কৌমুদী — ১৮৫৩
বর্ণপরিচয় — ১ম ও ২য় ভাগ — ১৮৫৫
শব্দমঞ্জুরী — ১৮৬৪।

অনুবাদ গ্রন্থ

হিন্দি বাংলা:
★ ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ — ১৮৪৭

সংস্কৃত বাংলা:
★ ‘শকুন্তলা’ — ১৮৫৪
★ ‘সীতার বনবাস’ — ১৮৬০
★ ‘মহাভারতের উপক্রমণিকা’ — ১৮৬০
★ ‘বামনাখ্যানম্’ — ১৮৭৩

ইংরেজি বাংলা:
★ ‘বাঙ্গালার ইতিহাস’ — ১৮৪৮
★ ‘জীবনচরিত’ — ১৮৪৯
★ ‘নীতিবোধ’ — ১৮৫১
★ ‘বোধোদয়’ — ১৮৫১
★ ‘কথামালা’ — ১৮৫৬
★ ‘চরিতাবলী’ — ১৮৫৭
★ ‘ভ্রান্তিবিলাস’ — ১৮৬৯।

মৌলিক গ্রন্থ

★ ‘সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব’ — ১৮৫৩
★ ‘বিধবা বিবাহ চলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব’ — ১৮৫৫
★ ‘বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক বিচার’ — ১৮৭১ ও ১৮৭৩
★ ‘অতি অল্প হইল’ — ১৮৭৩
★ ‘আবার অতি অল্প হইল’ — ১৮৭৩
★ ‘ব্রজবিলাস’ — ১৮৮৪
★ ‘রত্নপরীক্ষা’ — ১৮৮৬
★ ‘নিষ্কৃতি লাভের প্রয়াস’ — ১৮৮৮
★ ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’ — সম্ভবত ১৮৬৩
★ ‘বিদ্যাসাগর চরিত’ — ১৮৯১, মরণোত্তর প্রকাশিত
★ ‘ভূগোল খগোল বর্ণনম্’ — ১৮৯১, মরণোত্তর প্রকাশিত।

‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ — বিশেষ তথ্য

★ প্রকাশকাল — ১৮৪৭
★ উৎস — হিন্দি বেতাল পচ্চীসী
★ বাংলা ভাষার প্রথম দিককার গল্পধর্মী গ্রন্থ হিসেবে পাঠ্যে উল্লেখিত।
★ বাংলা গদ্যে যতি/ছেদচিহ্নের সার্থক ব্যবহার দেখা যায়।
★ বাংলা সাহিত্যের নতুন যুগের সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

‘শকুন্তলা’

★ প্রকাশকাল — ১৮৫৪
★ মূল উৎস — কালিদাসের অভিজ্ঞানশকুন্তলম্
★ প্রকৃতি — সংস্কৃত থেকে বাংলা অনুবাদ/রূপান্তর।
★ বিদ্যাসাগরের কাব্যিক, অলংকারময় গদ্যশৈলীর উৎকৃষ্ট নিদর্শন।

‘সীতার বনবাস’

★ প্রকাশকাল — ১৮৬০
★ মূল উৎস — ভবভূতির উত্তররামচরিতম্
★ বিদ্যাসাগরের চিত্ররূপময় ও কাব্যিক গদ্যশৈলীর অন্যতম প্রধান নিদর্শন।

‘ভ্রান্তিবিলাস’

★ প্রকাশকাল — পাঠ্যের গ্রন্থতালিকায় ১৮৬৯
★ মূল উৎস — শেক্সপিয়রের Comedy of Errors
★ এটি বাংলা ভাবানুবাদধর্মী রচনা।
★ পাঠ্যে বলা হয়েছে, তিনি এটি মাত্র ১৫ দিনে রচনা করেছিলেন।
★ পরে তার এই রচনার ভিত্তিতে ‘ভ্রান্তিবিলাস’ চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ

★ ‘অন্নদামঙ্গল’ — ১৮৪৭
★ ‘রঘুবংশম্’ — ১৮৫৩
★ ‘কিরাতার্জ্জুনীয়ম্’ — ১৮৫৩
★ ‘সর্বদর্শনসংগ্রহ’ — ১৮৫৩–৫৮
★ ‘শিশুপালবধ’ — ১৮৫৩
★ ‘কুমারসম্ভবম্’ — ১৮৬২
★ ‘কাদম্বরী’ — ১৮৬২
★ ‘বাল্মীকি রামায়ণ’ — ১৮৬২
★ ‘মেঘদূতম্’ — ১৮৬৯
★ ‘উত্তরচরিতম্’ — ১৮৭২
★ ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’ — ১৮৭১
★ ‘হর্ষচরিতম্’ — ১৮৮৩
★ ‘পদ্যসংগ্রহ’ — ১৮৮৮ ও ১৮৯০।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

১৮৫৭: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা সমিতির ফেলো নির্বাচিত হন।
১৮৫৮: শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদ ত্যাগ।
১৮৫৮: ‘সোমপ্রকাশ’ সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
★ দেশীয় ভাষায় প্রকাশিত রাজনৈতিক বিষয়সম্বলিত প্রথম পত্রিকা হিসেবে পাঠ্যে ‘সোমপ্রকাশ’-এর উল্লেখ আছে।
১৮৬১: হিন্দু প্যাট্রিয়টের পরিচালনার ভার গ্রহণ।
১৮৬৩: ওয়ার্ডস ইনস্টিটিউশনের পরিদর্শক।
১৮৬৪: রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির সাম্মানিক সদস্য।
১৮৭২: হিন্দু ফ্যামিলি অ্যানুয়িটি ফান্ড প্রতিষ্ঠা।
১৮৮০: সিআইই উপাধি লাভ।

শেষ জীবন ও মৃত্যু

১৮৭১–৭২: স্বাস্থ্যের অবনতি।
কার্মাটার: জলহাওয়া পরিবর্তনের জন্য বাগানবাড়ি কেনেন এবং সেখানে বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
১৮৭৫: উইল প্রস্তুত করেন।
১৮৭৬: পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু।
১৮৮০: সিআইই উপাধি।
১৮৮৩: পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত।
১৮৮৮: ‘নিষ্কৃতি লাভের প্রয়াস’।
১৮৯০: বীরসিংহে মায়ের নামে ভগবতী বিদ্যালয়।
২৯ জুলাই ১৮৯১: কলকাতার বাদুড়বাগানের বাসভবনে মৃত্যু।
★ মৃত্যুকালে বয়স — ৭০ বছর ১০ মাস ৪ দিন
★ মৃত্যুর কারণ — পাঠ্য অনুযায়ী লিভারের ক্যানসার

মৃত্যুর পর

১৮৯১ সালের সেপ্টেম্বর: পুত্র নারায়ণচন্দ্র বিদ্যারত্ন অসমাপ্ত আত্মজীবনী ‘বিদ্যাসাগর চরিত’ প্রকাশ করেন।
১৮৯২: ‘ভূগোল খগোল বর্ণনম্’ প্রকাশিত হয়।
২০০৪: বিবিসি বাংলার জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০ জন বাঙালির মধ্যে অষ্টম স্থান লাভ করেন।

বিদ্যাসাগরের উত্তরাধিকার

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় — মেদিনীপুরে তার নামে প্রতিষ্ঠিত।
বিদ্যাসাগর সেতু — কলকাতা ও হাওড়ার সংযোগকারী দ্বিতীয় হুগলি সেতুর নাম।
১৯৮১: মেদিনীপুর শহরে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
১৯৯২: দ্বিতীয় হুগলি সেতু ‘বিদ্যাসাগর সেতু’ নামে উৎসর্গিত।
★ মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাকে নিয়ে চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন।
★ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘চারিত্রপূজা’ গ্রন্থে বিদ্যাসাগরের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন।

এক নজরে সাল ও ঘটনা

১৮২০ → জন্ম
১৮২৯ → সংস্কৃত কলেজে ভর্তি
১৮৩৯ → ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি
১৮৪১ → ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে কর্মজীবন শুরু
১৮৪৭ → বেতাল পঞ্চবিংশতি; সংস্কৃত প্রেস/সংস্কৃত যন্ত্র
১৮৪৯ → বাঙ্গালার ইতিহাস দ্বিতীয় ভাগ; জীবনচরিত
১৮৫১ → সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ
১৮৫৩ → ব্যাকরণ কৌমুদী; অবৈতনিক বিদ্যালয়
১৮৫৪ → শকুন্তলা
১৮৫৫ → বর্ণপরিচয়; বিধবা বিবাহ আন্দোলন জোরদার
১৮৫৬ → বিধবা বিবাহ আইনসিদ্ধ
১৮৫৭–৫৮ → ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয়
১৮৫৮ → সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদত্যাগ
১৮৬০ → সীতার বনবাস
১৮৬৪ → রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির সাম্মানিক সদস্য
১৮৬৭ → বীরসিংহে অন্নসত্র
১৮৭২ → হিন্দু ফ্যামিলি অ্যানুয়িটি ফান্ড
১৮৮০ → সিআইই উপাধি
১৮৯১ → মৃত্যু।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়

বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার → ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী → বিদ্যাসাগর
দয়ার সাগর → ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
বিদ্যাসাগর উপাধি → ১৮৩৯
বর্ণপরিচয় → ১৮৫৫
বিধবা বিবাহ আইনসিদ্ধ → ১৮৫৬
প্রথম বিধবা বিবাহ → ৭ ডিসেম্বর ১৮৫৬
নারীশিক্ষার পথিকৃৎ → বিদ্যাসাগর
বেতাল পঞ্চবিংশতি → ১৮৪৭
শকুন্তলা → ১৮৫৪
সীতার বনবাস → ১৮৬০
ভ্রান্তিবিলাস → শেক্সপিয়রের Comedy of Errors অবলম্বনে
প্রভাবতী সম্ভাষণ → বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক ও শোকগাথা গদ্যগ্রন্থ—পাঠ্যসূত্রের দাবি
মেট্রোপলিটান কলেজ → বর্তমানে বিদ্যাসাগর কলেজ
মায়ের নামে বিদ্যালয় → ভগবতী বিদ্যালয়
জনপ্রিয় উপাধি → দয়ার সাগর।

দ্রুত রিভিশন — ১০টি Golden Point

১. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর = শিক্ষাবিদ + সমাজসংস্কারক + গদ্যকার + মানবহিতৈষী
২. ১৮৩৯ সালে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি।
৩. ১৮৫৫ সালে ‘বর্ণপরিচয়’।
৪. ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইনসিদ্ধ।
৫. নারীশিক্ষা বিস্তারে ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
৬. সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘দয়ার সাগর’
৭. বাংলা গদ্যকে শিল্পসম্মত ও সুসংহত রূপ দেন।
৮. বেতাল পঞ্চবিংশতি বাংলা গদ্যের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
৯. শকুন্তলা, সীতার বনবাস, ব্রজবিলাস তার গদ্যশৈলীর গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
১০. ২৯ জুলাই ১৮৯১ বাংলার নবজাগরণের এই পুরোধা ব্যক্তিত্বের মৃত্যু।

প্রত্যুপকার গল্পের স্মার্ট নোট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

★ “প্রত্যুপকার” রচনার রচয়িতা — ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

★ রচনাটি সংকলিত হয়েছে — “আখ্যানমঞ্জরী” (দ্বিতীয় ভাগ) থেকে।

★ “আখ্যানমঞ্জরী” গ্রন্থটি রচিত হয় — ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে।

★ “আখ্যানমঞ্জরী” রচনার উপজীব্য — বিশ্বের ইতিহাসপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিগণের জীবনের গৌরবদীপ্ত ঘটনা।

★ “প্রত্যুপকার” শব্দের অর্থ — উপকারীর প্রতি উপকার।

★ রচনার প্রধান চরিত্রসমূহ — আলী ইবনে আব্বাস, ডেমাস্কাসের সম্ভ্রান্ত আশ্রয়দাতা এবং খলিফা মামুন।

★ খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন — আলী ইবনে আব্বাস।

★ আলী ইবনে আব্বাস খলিফার নিকটে বসে ছিলেন — একদিন অপরাহ্ণে।

★ খলিফার সম্মুখে আনা ব্যক্তির অবস্থা — হস্তপদবদ্ধ (হাত-পা বাঁধা)।

★ খলিফা আলীকে যে নির্দেশ দেন — ব্যক্তিকে আপন আলয়ে রুদ্ধ করে রাখতে এবং পরদিন উপস্থিত করতে।

★ বন্দী ব্যক্তিকে আলয়ে এনে অতি সাবধানে রাখার কারণ — পলাইলে খলিফার কোপে পড়ার ভয়।

★ বন্দী ব্যক্তির জন্মস্থান ও বাসস্থান — ডেমাস্কাস (দামেস্ক) নগরের বৃহৎ মসজিদ সংলগ্ন অংশ।

★ “ডেমাস্কাস” বর্তমানে — সিরিয়ার রাজধানী।

★ ডেমাস্কাস এশিয়ার একটি — প্রাচীন শহর।

★ আলী ইবনে আব্বাসের ডেমাস্কাস যাওয়ার কারণ — নবনিযুক্ত শাসনকর্তার সমভিব্যাহারে।

★ আলী ইবনে আব্বাস কেন ডেমাস্কাসে পলায়নের চেষ্টা করেন — পদচ্যুত শাসনকর্তা সৈন্য নিয়ে আক্রমণ করায়।

★ প্রাণভয়ে পলাইয়া আলী যার বাড়িতে প্রবেশ করেন — ডেমাস্কাসের এক সম্ভ্রান্ত লোকের বাড়িতে।

★ সম্ভ্রান্ত গৃহস্বামী আলীকে কতদিন নির্ভয়ে আশ্রয় দিয়েছিলেন — এক মাসকাল।

★ আলীর স্বদেশে (বাগদাদ) প্রতিগমনের সময় গৃহস্বামী কী উপহার দেন — একটি সুসজ্জিত উৎকৃষ্ট অশ্ব, খাদ্যসামগ্রীসহ একটি অশ্ব, একজন ভৃত্য এবং একটি স্বর্ণমুদ্রার থলি।

★ আলীর আশ্রয়দাতার বাসস্থানে অর্জিত উপকার — প্রাণরক্ষা ও স্বদেশে ফেরার ব্যবস্থা।

★ আলীর জীবনের ক্ষোভ ছিল — দয়াময় আশ্রয়দাতার কোনো উদ্দেশ্য বা সন্ধান না পাওয়া।

★ বন্দী ব্যক্তিটি ছিলেন — ডেমাস্কাসের সেই দয়াময় আশ্রয়দাতা।

★ সত্য জানার পর আলীর প্রতিক্রিয়া — চমকিয়া ওঠা, অশ্রুপূর্ণ নয়নে আলিঙ্গন এবং লৌহশৃঙ্খল খুলে দেওয়া।

★ ডেমাস্কাসের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি খলিফার কোপে পড়ার কারণ — কতিপয় নীচ প্রকৃতির লোকের ঈর্ষাবশত মিথ্যা দোষারোপ।

★ বন্দী অবস্থায় আশ্রয়দাতার বিনীত প্রার্থনা — পরিবারবর্গের নিকট সংবাদ পৌঁছে দেওয়া।

★ আশ্রয়দাতাকে চিনে আলী যা দিয়েছিলেন — স্বাধীনতা এবং পাথেয়স্বরূপ সহস্র (১০০০) স্বর্ণমুদ্রার থলি।

★ আলী ইবনে আব্বাসের প্রস্তাবিত মুক্তি নিতে আশ্রয়দাতার অস্বীকৃতির কারণ — নিজের প্রাণরক্ষার জন্য আলীর প্রাণবিনাশের কারণ হতে না চাওয়া।

★ আশ্রয়দাতার পরামর্শ — খলিফা যাতে অক্রোধ হন তার যথোপযুক্ত চেষ্টা করা।

★ পরদিন সকালে খলিফা ঘাতককে ডাকিয়া আদেশ দেন — প্রস্তুত হইতে।

★ খলিফার শপথ — বন্দীকে ছেড়ে দিলে আলীর এই দণ্ডে প্রাণদণ্ড হবে।

★ খলিফা আলীর মুখে আশ্রয়দাতার সত্য ও মহানুভবতার কথা শুনে — কিয়ৎক্ষণ মৌনাবলম্বন করে থাকেন।

★ খবর শুনে খলিফা মামুনের প্রতিক্রিয়া — প্রসন্ন বদনে প্রাণদণ্ড থেকে অব্যাহতি দান।

★ খলিফা কর্তৃক মুক্ত আশ্রয়দাতাকে দেওয়া উপহার — মহামূল্য পরিচ্ছদ, সুসজ্জিত ১০টি অশ্ব, ১০টি খচ্চর, ১০টি উষ্ট্র, রাজপ্রতিনিধির নামে অনুরোধপত্র ও বহু পাথেয় অর্থ।

★ মামুনের পরিচয় — সপ্তম আব্বাসীয় খলিফা এবং খলিফা হারুনর রশীদের দ্বিতীয় পুত্র।

★ খলিফা মামুনের রাজত্বকাল/জীবনকাল — ৭৮৬–৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দ।

★ বাগদাদ নগরীর প্রতিষ্ঠাতা — আব্বাসীয় খলিফা মনসুর (৭৬৩ খ্রিষ্টাব্দে)।

★ বাগদাদ অবস্থিত — টাইগ্রিস নদীর উভয় তীরে এবং ফুরাত (ইউফ্রেটিস) নদীর ২৫ মাইল উত্তরে।

★ বাগদাদ বর্তমানে — ইরাকের রাজধানী।

★ “কোপানল” সমাসবদ্ধ শব্দটির গঠন — কোপ ও অনল (ক্রোধের আগুন)।

★ “প্রীতিপ্রফুল্ললোচনে” পদটিতে যুক্ত শব্দসমূহ — প্রীতি, প্রফুল্ল ও লোচন।

★ “প্রত্যাগমন” শব্দটির সন্ধিবিচ্ছেদ/গঠন — প্রতি + আগমন।

★ “মৌনাবলম্বন” শব্দটির গঠন — মৌন + অবলম্বন।

★ “খলিফা” শব্দের অর্থ — প্রতিনিধি (রাষ্ট্রের সর্বপ্রধান শাসনকর্তা ও ধর্মনেতা)।

★ “অভিরুচি” শব্দের অর্থ — ইচ্ছা।

★ “সমভিব্যাহারে” শব্দের অর্থ — সঙ্গে নিয়ে।

★ “নিষ্কৃতি” ও “অব্যাহতি” শব্দের অর্থ — মুক্তি।

★ “প্রতীতি” শব্দের অর্থ — বিশ্বাস।

★ “পরিচ্ছদ” শব্দের অর্থ — পোশাক।

★ “অবলোকনমাত্র” শব্দের অর্থ — দেখামাত্র।

★ “সংভাষণ” শব্দের অর্থ — সম্বোধন।

★ “উৎকট” শব্দের অর্থ — অত্যন্ত প্রবল বা তীব্র।

★ “অবরুদ্ধ” শব্দের অর্থ — বন্দি।

★ “নিরীক্ষণ” শব্দের অর্থ — মনোযোগ দিয়ে দেখা।

★ “রোষারক্ত নয়নে” শব্দের অর্থ — ক্রোধে লাল চোখে।

শব্দার্থ ও টীকা

শব্দ/শব্দগুচ্ছশব্দার্থ / টীকা
প্রত্যুপকারউপকারীর প্রতি উপকার
অভিরুচিইচ্ছা
সমভিব্যাহারেসঙ্গে নিয়ে
নিষ্কৃতিমুক্তি
কোপানলকোপ + অনল = কোপানল; ক্রোধ বা রাগের আগুন। এখানে যাওয়া অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতীতিবিশ্বাস
পরিচ্ছদপোশাক
প্রীতিপ্রফুল্ললোচনেপ্রীতি + প্রফুল্ল + লোচন; বন্ধুত্বের অনুভূতিতে আনন্দিত চোখে। লোচন = চোখ
মৌনাবলম্বনমৌন + অবলম্বন; অর্থাৎ নীরবতা পালন
অব্যাহতিমুক্তি, ছাড়া পাওয়া
অবধারিতনিশ্চিত
প্রত্যাগমনফিরে আসা; প্রতি + আগমন
রোষারক্ত নয়নেক্রোধে লাল চোখে
অবলোকনমাত্রদেখামাত্র
সম্ভাষণসম্বোধন
উৎকটঅত্যন্ত প্রবল, তীব্র
অবরুদ্ধবন্দি
নিরীক্ষণমনোযোগ দিয়ে দেখা
খলিফাহযরত মুহম্মদ (স.)-এর পরে মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বপ্রধান শাসনকর্তা। তিনি রাজ্যের প্রধান শাসক ও ধর্মনেতা ছিলেন।
ডেমাস্কাসদামেস্ক; এশিয়ার একটি প্রাচীন শহর। বর্তমানে সিরিয়ার রাজধানী।
মামুনআল মামুন নামে পরিচিত। পূর্ণ নাম আবুল আব্বাস আবদুল্লাহ আল মামুন (৭৮৬–৮৩৩ খ্রি.)। তিনি সপ্তম আব্বাসীয় খলিফা এবং খলিফা হারুনর রশীদের দ্বিতীয় পুত্র।
বাগদাদবর্তমান ইরাকের রাজধানী। খলিফা মনসুর ৭৬৩ খ্রিষ্টাব্দে নগরটি প্রতিষ্ঠা করেন। খলিফা হারুনর রশীদের সময় বাগদাদ মুসলিম সভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নগরীতে পরিণত হয়।

পাঠ পরিচিতি

‘প্রত্যুপকার’ রচনাটি আখ্যানমঞ্জরী দ্বিতীয় ভাগ থেকে সংকলন করা হয়েছে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আখ্যানমঞ্জরী রচিত হয় ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে । বিশ্বের নানা দেশের ইতিহাস প্রসিদ্ধ ব্যক্তিগণের জীবনের গৌরবদীপ্ত ঘটনাই এ গ্রন্থের বিভিন্ন রচনার উপজীব্য। ‘প্রত্যুপকার’ আলী আব্বাস নামক এক ব্যক্তির প্রতি-উপকারের কাহিনি। খলিফা মামুনের সময়কালে দামেস্কের জনৈক শাসনকর্তা পদচ্যুত হন । নতুন শাসনকর্তা মামুনের একজন প্রিয়পাত্র ছিলেন আলী ইবনে আব্বাস । তিনি স্থানীয় একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছে আশ্রয়লাভ করে জীবন রক্ষা করেন। পরবর্তীকালে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা ঐ সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিটি খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন এবং খলিফার নির্দেশে আলী ইবনে আব্বাসের গৃহে তাকে অন্তরীণ করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তির সঠিক পরিচয় জানতে পেরে উপকারীর উপকারের জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি গ্রহণ করেন এবং খলিফার কাছে তার মুক্তির জন্য সুপারিশ করেন। বস্তুত এ রচনায় দুজন মহৎ ব্যক্তির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, তাদের একজন নিঃস্বার্থ উপকারী, অন্যজন সকৃতজ্ঞ প্রত্যুপকারী। খলিফার মহত্ত্বও এ রচনায় প্রকাশিত হয়েছে।


Read More: SSC বাংলা পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের স্মার্ট নোট


প্রত্যুপকার গল্পের স্মার্ট নোট PDF Download

সমাধানে যদি কোনো ভুল খুঁজে পান, তবে দয়া করে আমাদের জানিয়ে সাহায্য করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার রেটিং দিন:

Scroll to Top