SSC বাংলা ১ম পত্রের পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের স্মার্ট নোট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই নোটে প্রবন্ধের মূলভাব, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, লেখকের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা এবং পরীক্ষায় আসতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় সাজানো হয়েছে। অল্প সময়ে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝে দ্রুত রিভিশন দেওয়ার জন্য এই স্মার্ট নোটটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর সহায়িকা।
পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের স্মার্ট নোট
🧑🏫 পরিচয়
পূর্ণ নাম: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
জন্ম: ১০ জুলাই ১৮৮৫
জন্মস্থান: পেয়ারা গ্রাম, অবিভক্ত চব্বিশ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ
মৃত্যু: ১৩ জুলাই ১৯৬৯, ঢাকা
পরিচিতি: বাঙালি বহুভাষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক, দার্শনিক ও সাহিত্যিক
ভাষাজ্ঞান: প্রায় ২৪টি ভাষা, এর মধ্যে ১৮টি ভাষায় উল্লেখযোগ্য পাণ্ডিত্য
উপাধি: ‘চলন্ত শব্দকল্পদ্রুম’
🎓 শিক্ষাজীবন
| সাল | অর্জন |
| ১৯০৪ | হাওড়া জেলা স্কুল → এন্ট্রান্স |
| ১৯০৬ | কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ → এফ.এ |
| ১৯১০ | সিটি কলেজ → সংস্কৃতে সম্মানসহ বি.এ |
| ১৯১২ | কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় → তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ |
| ১৯২৮ | প্যারিসের সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয় → পিএইচডি |
🕌 আধ্যাত্মিক শিক্ষা
ফুরফুরা শরীফের আধ্যাত্মিক শিক্ষক মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকি-এর কাছে আধ্যাত্মিক শিক্ষা লাভ করেন।
তাঁর কাছ থেকেই খেলাফত লাভ করেন।
💼 কর্মজীবন
১৯০৮–০৯: যশোর জেলা স্কুলে শিক্ষকতা
১৯১৪–১৫: সীতাকুণ্ড হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক
১৯১৫–১৯: বসিরহাটে আইন ব্যবসা
১৯১৯–২১: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সহকর্মী হিসেবে গবেষণা
১৯২১: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগে প্রভাষক
১৯২২–২৪: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক
১৯৩৭: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও রিডার
১৯৪৪: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর
১৯৪৪-এর পর: বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ
১৯৫৩–৫৫: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ফরাসি ভাষার খণ্ডকালীন শিক্ষক
১৯৫৫–৫৮: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও পালি বিভাগে শিক্ষক
১৯৫৮: অবসর
🗣️ ভাষাজ্ঞান
তিনি প্রায় ২৪টি ভাষা জানতেন।
উল্লেখযোগ্য ভাষা
বাংলা, উর্দু, ফারসি, আরবি, ইংরেজি, অসমীয়া, ওড়িয়া, মৈথিলী, হিন্দি, পাঞ্জাবি, গুজরাতি, মারাঠি, কাশ্মীরি, নেপালি, সিংহলি, তিব্বতি, সিন্ধি, সংস্কৃত, পালি প্রভৃতি।
⭐ বিশেষ পরিচিতি:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ = বহুভাষাবিদ + ভাষাবিজ্ঞানী
✍️ সাহিত্য ও গবেষণা
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
দীওয়ানে হাফিজ — ১৯৩৮
অমিয় শতক — ১৯৪০
রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম — ১৯৪২
শিকওয়াহ ও সওয়াবে শিকওয়াহ — ১৯৪২
নবী করিম মুহাম্মাদ/মহানবী — ১৯৪৬
ইসলাম প্রসঙ্গ/বায়য়াত নামা — ১৯৪৮
বিদ্যাপতি শতক — ১৯৫৪
বাংলা সাহিত্যের কথা — ২ খণ্ড
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ
ব্যাকরণ পরিচয়
বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান
মহররম শরীফ
Tales from the Quran
Buddhist Mystic Songs — ১৯৬০
Hundred Sayings of the Holy Prophet — ১৯৪৫
🏛️ বাংলা একাডেমি ও ভাষা-গবেষণা
উর্দু ভাষার অভিধান প্রকল্পের সম্পাদক ছিলেন।
বাংলা একাডেমির পূর্ব পাকিস্তানি ভাষার আদর্শ অভিধান প্রকল্পের সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।
১৯৬১–৬৪: বাংলা একাডেমির ইসলামি বিশ্বকোষ প্রকল্পের অস্থায়ী সম্পাদক।
১৯৬৩: বাংলা একাডেমির পঞ্জিকার তারিখ বিন্যাস কমিটির সভাপতি।
তাঁর নেতৃত্বে বাংলা পঞ্জিকা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত রূপ লাভ করে।
⭐ বিখ্যাত উক্তি
“আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালী।”
এই উক্তির মূল বক্তব্য হলো—
ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
🏆 পুরস্কার ও সম্মাননা
গুরুত্বপূর্ণ সম্মান
১৯৫৮: Pride of Performance পদক
১৯৬৭: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমেরিটাস অধ্যাপক
১৯৬৭: ফ্রান্স সরকারের Knight of the Order of Arts and Letters
ঢাকা সংস্কৃত পরিষদ → ‘বিদ্যাবাচস্পতি’ উপাধি
মরণোত্তর হিলাল-ই-ইমতিয়াজ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় → মরণোত্তর ডি.লিট
১৯৮০: মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক
⚰️ মৃত্যু ও স্মৃতি
মৃত্যু: ১৩ জুলাই ১৯৬৯, ঢাকা
সমাধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের পাশে
তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা হলের নাম পরিবর্তন করে শহীদুল্লাহ হল রাখা হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নামে একটি কলা ভবন রয়েছে।
এক নজরে
জন্ম → ১০ জুলাই ১৮৮৫
মৃত্যু → ১৩ জুলাই ১৯৬৯
জন্মস্থান → পেয়ারা, চব্বিশ পরগনা
পিএইচডি → সোরবোন, ১৯২৮
ভাষাজ্ঞান → প্রায় ২৪টি
বিশেষ পরিচয় → বহুভাষাবিদ ও ভাষাবিজ্ঞানী
উপাধি → চলন্ত শব্দকল্পদ্রুম
প্রথম এমেরিটাস অধ্যাপক → ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৬৭
বিখ্যাত গ্রন্থ → বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
বিখ্যাত উক্তি → “…তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালী।”
সমাধি → শহীদুল্লাহ হলের পাশে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের স্মার্ট নোট – গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
★ “পল্লিসাহিত্য” প্রবন্ধের রচয়িতা — ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
★ “পল্লিসাহিত্য” রচনার মূল সাহিত্যিক রূপ — প্রবন্ধ।
★ “পল্লিসাহিত্য” প্রবন্ধটির মূল উৎস — ১৯৩৮ সালের ‘পূর্ব ময়মনসিংহ সাহিত্য সম্মিলনী’র অভিভাষণ।
★ ‘পূর্ব ময়মনসিংহ সাহিত্য সম্মিলনী’র একাদশ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় — কিশোরগঞ্জ জেলায় (১৯৩৮ সালে)।
★ উক্ত সম্মিলনীর অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন — ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ জন্মগ্রহণ করেন — ১০ জুলাই ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ জন্মগ্রহণ করেন — পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এন্ট্রান্স পাস করেন — ১৯০৪ সালে (হাওড়া জেলা স্কুল থেকে)।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এফ.এ (এইচএসসি সমমান) পাস করেন — ১৯০৬ সালে (কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে)।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সংস্কৃতে সম্মানসহ বি.এ পাস করেন — ১৯১০ সালে (সিটি কলেজ, কলকাতা থেকে)।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ তুলনামূলক ভাষাতাত্ত্বে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন — ১৯১২ সালে (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে)।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্যারিসের সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট লাভ করেন — ১৯২৮ সালে।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ শিক্ষকতা শুরু করেন — ১৯১০ সালে (যশোর জেলা স্কুলে)।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ফুরফুরা শরীফের যার নিকট খেলাফত লাভ করেন — মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকি।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সীতাকুণ্ড হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক ছিলেন — ১৯১৪-১৯১৫ সালে।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বসিরহাটে আইন ব্যবসা করেন — ১৯১৫ থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত।
★ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেদ পঠনের অনুমতি পাননি — ১৯১০ সালে (পণ্ডিত সত্যব্রত সামশ্রমীর কারণে)।
★ যার প্রচেষ্টায় শহীদুল্লাহ্ বেদপাঠের সুযোগ পান — স্যার আশুতোষ ও কলিকাতা উচ্চ আদালতের নির্দেশে।
★ ডক্টর দীনেশ চন্দ্র সেনের সহকর্মী হিসেবে গবেষণা করেন — ১৯১৯ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে)।
★ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন — ১৯২১ সালে।
★ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন — ১৯২২ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত।
★ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও রিডার নিযুক্ত হন — ১৯৩৭ সালে (অবসর ১৯৪৪ সালে)।
★ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরের পর অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন — বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে।
★ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও পালি বিভাগে যোগদান করেন — ১৯৫৫ সালে (অবসর ১৯৫৮ সালে)।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ আয়ত্ত করেছিলেন — প্রায় ২৪টি ভাষা (পাণ্ডিত্য ছিল ১৮টি ভাষায়)।
★ শহীদুল্লাহ্ পূর্ব পাকিস্তানি ভাষার আদর্শ অভিধানের সম্পাদক ছিলেন — বাংলা একাডেমিতে।
★ বাংলা একাডেমির ইসলামি বিশ্বকোষ প্রকল্পের সম্পাদক ছিলেন — ১৯৬১-১৯৬৪ সাল পর্যন্ত।
★ বাংলা একাডেমির পঞ্জিকার তারিখ বিন্যাস কমিটির সভাপতি নিযুক্ত হন — ১৯৬৩ সালে।
★ বিজ্ঞানসম্মত রূপ পায় — শহীদুল্লাহ্’র নেতৃত্বে গঠিত কমিটির মাধ্যমে বাংলা পঞ্জিকা।
★ এম.এ পাসের পর শহীদুল্লাহ্ সম্পাদক হন — বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির।
★ পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন — ১৯৪৮ সালে।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ লিখিত বিখ্যাত ভাষাবিজ্ঞান গ্রন্থ — ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ লিখিত সাহিত্য ইতিহাস গ্রন্থ — ‘বাংলা সাহিত্যের কথা’ (২ খণ্ড)।
★ শহীদুল্লাহ্ লিখিত শিশুতোষ/ধর্মীয় ইংরেজি গ্রন্থ — ‘Tales from the Quran’ ও ‘Hundred Sayings of the Holy Prophet’।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র বিখ্যাত উক্তি — “আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙ্গালী।”
★ আরবী হরফে বাংলা লেখার বিরোধিতার প্রেক্ষাপট — ১৯৪৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর নিখিল পাকিস্তান শিক্ষক সম্মেলন।
★ আরবী হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাব করেছিলেন — পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ফজলুর রহমান।
★ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমেরিটাস অধ্যাপক হন — ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৯৬৭ সালে)।
★ ফ্রান্স সরকার ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্কে দেয় — ‘নাইট অফ দি অর্ডারস অফ আর্টস অ্যান্ড লেটার্স’ (১৯৬৭)।
★ ঢাকা সংস্কৃত পরিষদ তাঁকে ভূষিত করে — ‘বিদ্যাবাচস্পতি’ উপাধিতে।
★ পাকিস্তান আমলে প্রাপ্ত পদক — প্রাইড অফ পারফরম্যান্স (১৯৫৮) ও মরণোত্তর ‘হিলাল ই ইমতিয়াজ’।
★ শহীদুল্লাহ্ গ্রহণ করেননি যে সম্মাননা — ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন্সের ফেলোশিপ (সরকারের অনুমতি না থাকায়)।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পান — ১৯৮০ সালে।
★ শহীদুল্লাহ্’র অপর এক পরিচিতিমূলক অভিধা — ‘চলন্ত শব্দ কল্পদ্রুম’।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মৃত্যুবরণ করেন — ১৩ জুলাই ১৯৬৯ সালে (ঢাকায়)।
★ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্কে সমাহিত করা হয় — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের পাশে।
★ শহীদুল্লাহ্’র স্মরণে ঢাকা হলের নামকরণ করা হয় — শহীদুল্লাহ হল।
★ “কলগান” শব্দের অর্থ — শ্রুতিমধুর ধ্বনি।
★ “পরতে পরতে” শব্দের অর্থ — স্তরে স্তরে।
★ ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ গ্রন্থের রচয়িতা — ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন (প্রকাশকাল ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)।
★ দীনেশচন্দ্র সেন জন্মগ্রহণ করেন — ১৮৬৬ সালে (মানিকগঞ্জের বগজুরী গ্রামে)।
★ ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন পরলোকগমন করেন — ১৯৩৯ সালে।
★ চন্দ্রকুমার দে কর্তৃক সংগৃহীত ও দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত গীতিকা — ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ ও ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’।
★ দীনেশচন্দ্র সেনের মৌলিক গ্রন্থসমূহ — রামায়ণী কথা, বৃহৎবঙ্গ, বেহুলা, ফুল্লরা, জড়ভরত।
★ রোমাঁ রোলাঁ (Roman Rolland) ছিলেন — ফরাসি দেশের কালজয়ী সাহিত্যিক ও দার্শনিক।
★ রোমাঁ রোলাঁর জন্ম ও মৃত্যু — জন্ম ২৯ জানুয়ারি ১৮৬৬, মৃত্যু ৩০ ডিসেম্বর ১৯৩৯।
★ রোমাঁ রোলাঁর অমূল্য কীর্তি ও নোবেল বিজয়ী উপন্যাস — ‘জাঁ ক্রিস্তফ’ (নোবেল পান ১৯১৫ সালে)।
★ ‘দেওয়ানা-মদিনা’ লোকগাথার নায়িকা — মদিনা বিবি।
★ ‘দেওয়ানা-মদিনা’ লোকগাথার রচয়িতা/কবি — মনসুর বয়াতি।
★ ‘আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ’ গল্পটির মূল উৎস — আরব্য উপন্যাস (ঘটনাস্তল: চীন দেশ)।
★ ‘আলিবাবা ও চল্লিশ দস্যু’ গল্পের প্রখ্যাত চরিত্র — আলিবাবা ও বুদ্ধিমতী বাঁদি মর্জিনা।
★ ‘Tales from Shakespeare’ গ্রন্থের রূপান্তরকার — চার্লস ল্যাম্ব (উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নাটক থেকে)।
★ “প্রত্নতাত্ত্বিক” শব্দের অর্থ — পুরাতত্ত্ববিদ (যিনি প্রাচীন লিপি, মুদ্রা বা ভগ্নাবশেষ থেকে তথ্য নির্ণয় করেন)।
★ ‘Folklore Society’ গঠিত হয় — ১৮৪৮ সালে (লন্ডনে)।
★ ‘Folklore’ শব্দটির উদ্ভাবক — উইলিয়াম থমস।
★ “নৃতত্ত্ব” (Anthropology) শব্দের অর্থ — মানুষের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত বিজ্ঞান।
★ দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ছিলেন — শিশু সাহিত্যিক ও লোকগাথা সংগ্রাহক (১২৮৪-১৩৬৩ বঙ্গাব্দ)।
★ দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের বিখ্যাত রূপকথা গ্রন্থ — ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ ও ‘ঠাকুরদার থলে’।
★ প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত নারী জ্যোতিষী — খনা (নিবাস: চব্বিশ পরগনা জেলার দেউলি গ্রাম)।
★ খনার ছড়া রচিত হওয়ার আনুমানিক সময়কাল — অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী।
★ “বালাম” শব্দের অর্থ — বইয়ের খণ্ড (ইংরেজি Volume)।
★ “ভূয়োদর্শন” শব্দের অর্থ — প্রচুর দেখা ও শোনার মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা।
★ “বালাখানা” শব্দের অর্থ — প্রাসাদ।
★ “Proletariat সাহিত্য” শব্দের অর্থ — অত্যাচারিত ও শোষিত শ্রমজীবী মানুষের সাহিত্য।
★ “ফক্কিকার” শব্দের অর্থ — ফাঁকিবাজি।
★ পল্লিগ্রামে শহরের গায়ক, বাদক, নর্তকের অভাব পূরণ করে — পাখির কলগান, নদীর কুলকুল ধ্বনি, পাতার মর্মর শব্দ।
★ আমরা বাতাসের মধ্যে বাস করে ভুলে যাই — বায়ু-সাগরে ডুবে থাকার কথা।
★ ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করে দেখিয়েছেন — পল্লিজননীর বুকের কোণে লুকানো অমূল্য খনি।
★ সুদূর পশ্চিমের যে সাহিত্যরসিক মদিনা বিবির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন — রোমাঁ রোলাঁ।
★ পল্লির অজানা কবিদের গাথা সংগ্রহ করলে প্রমাণিত হতো — বাংলার মুসলমানও সাহিত্য সম্পদে কত ধনী।
★ ছেলেবেলায় বুড়োবুড়ির মুখে কথা শোনার সময়টি ছিল — ঝিল্লিমুখর সন্ধ্যা।
★ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত জননী সন্তানকে শোনান না — রাখালের পিঠা গাছ, ঘুমন্ত রাজকন্যা বা পঙ্খিরাজ ঘোড়ার গল্প।
★ আধুনিক শিক্ষিত জননী সন্তানকে শোনান — আরব্য উপন্যাসের গল্প বা Lamb’s Tales from Shakespeare।
★ রূপকথাগুলো সংগৃহীত হলে প্রকাশ পেত — ভারতীয় উপমহাদেশ ও বাইরের দেশের উপকথার সাথে সাদৃশ্য।
★ যেসব দূরবর্তী স্থানে বাংলার উপকথার সাদৃশ্য পাওয়া যায় — সিংহল, সুমাত্রা, যাভা, কম্বোডিয়া, লিথোনিয়া, ওয়েলস।
★ বাংলার সমস্ত উপকথা সংগ্রহ করলে আকার হতো — বিশ্বকোষের মতো কয়েক বালাম।
★ শেক্সপিয়ারের নাটকে রাক্ষসদের বাঁধা বুলি — “Fi, Fie, foh, fum! I smell the blood of a British man”।
★ বাংলায় রাক্ষসদের বাঁধা বুলি — “হাঁউ, মাউ, খাঁউ, মানুষের গন্ধ পাঁউ”।
★ ইংরেজি ও বাংলা রাক্ষসের বুলির সাদৃশ্য ইঙ্গিত করে — সাদা ইংরেজ ও কালো বাঙালির পূর্বপুরুষের প্রাচীন একতা।
★ প্রবাদবাক্য “দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই” বা “ধরি মাছ না ছুঁই পানি” ধারণ করে — যুগের ভূয়োদর্শনের পরিপক্ব ফল।
★ “কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত” — খনার বচন।
★ “পিঁড়েয় বসে পেঁড়োর খবর” প্রবাদটি মনে করিয়ে দেয় — পাণ্ডুয়া বঙ্গদেশের রাজধানী থাকার কথা।
★ “রোদ হচ্ছে, পানি হচ্ছে, খেঁকশিয়ালীর বিয়ে হচ্ছে” — রোদ-বৃষ্টির সময় কাটানো শিশুদের ছড়া।
★ প্রাচীনকালে ফুটবল, ব্যাটবলের বদলে জনপ্রিয় খেলা ছিল — কপাটি (হা-ডু-ডু)।
★ “এক হাত বোল্লা বার হাত শিং, উড়ে যায় বোল্লা ধা তিং তিং” — কপাটি খেলার বাঁধা বুলি।
★ পল্লির অমূল্য গীতসম্পদ — জারি গান, ভাটিয়ালি গান, রাখালি গান, মারফতি গান।
★ “মনমাঝি তোর বৈঠা নে রে, আমি আর বাইতে পারলাম না” — বিখ্যাত অমূল্য পল্লিগান।
★ বর্তমানে প্রচলিত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের পরিমাণ — পনেরো আনা (নাগরিক সাহিত্য)।
★ নাগরিক সাহিত্যের বিষয়বস্তু — রাজ-রাজড়া, বাবু-বিবি, মোটরগাড়ি, বিজলি বাতি, সিনেমা, চায়ের বাটি।
★ নাগরিক সাহিত্যে যাদের কথা স্থান পায় না — পল্লির কৃষক, জেলে-মাঝি, মুটে-মজুর।
★ “এবার ফিরাও মোরে” কবিতার রচয়িতা — কবিসম্রাট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
★ লেখক শহুরে সাহিত্যের বালাখানার পাশে তুলতে চেয়েছেন — গেঁয়ো সাহিত্যের জোড়াবাংলা ঘর।
★ রূপকথা, পল্লিগাথা ও ছড়ায় সমান অধিকার — হিন্দু ও মুসলমান উভয় সন্তানের।
★ পল্লিসাহিত্যের প্রতি সন্তানের মনোযোগ না দিলে সভা আয়োজন হবে — কেবলি ভুয়া, কেবলি ফক্কিকার।
শব্দার্থ ও টীকা
| শব্দ / টীকা | অর্থ / বিবরণ |
| কলগান | শ্রুতিমধুর ধ্বনি। |
| পরতে পরতে | স্তরে স্তরে। |
| ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন | বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রখ্যাত গবেষক ও সাধক। ১৮৬৬ সালে মানিকগঞ্জের বগজুরী গ্রামে জন্ম এবং ১৯৩৯ সালে মৃত্যু। ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি লোকসাহিত্যের মর্যাদা তুলে ধরেন। তাঁর সম্পাদনায় ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ ও ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ প্রকাশিত হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: রামায়ণী কথা, বৃহৎবঙ্গ, বেহুলা, ফুল্লরা, জড়ভরত ইত্যাদি। |
| রোমাঁ রোলাঁ (Roman Rolland) | ফরাসি কালজয়ী সাহিত্যিক ও দার্শনিক (জন্ম: ২৯ জানুয়ারি ১৮৬৬, মৃত্যু: ৩০ ডিসেম্বর ১৯৩৯)। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘জাঁ ক্রিস্তফ’-এর জন্য তিনি ১৯১৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। |
| মদিনা বিবি | মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত লোকগাথা ‘দেওয়ানা-মদিনা’র নায়িকা। |
| মনসুর বয়াতি | ‘দেওয়ানা-মদিনা’ লোকগাথার প্রখ্যাত কবি। |
| আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ | আরব্য উপন্যাসের প্রখ্যাত গল্প, যার ঘটনাস্থল চীন দেশ। দরিদ্র ছেলে আলাউদ্দিন জাদুকরের প্রদীপ পেয়ে তাতে ঘষা দিয়ে দৈত্যের মাধ্যমে অলৌকিক কাজ করিয়ে প্রচুর ধনসম্পদের মালিক হয়। |
| আলিবাবা ও চল্লিশ দস্যু | আরব্য উপন্যাসের বিখ্যাত গল্প। দরিদ্র কাঠুরে আলিবাবা দস্যুদের গুপ্তধন লাভ করে এবং পরে বুদ্ধিমতী বাঁদি মর্জিনার সহায়তায় দস্যুদলকে পরাজিত করে। |
| Lamb’s Tales from Shakespeare | শেক্সপিয়ারের নাটকগুলোকে কিশোরদের উপযোগী করে চার্লস ল্যাম্বের লেখা সহজ রূপান্তর গ্রন্থ। |
| প্রত্নতাত্ত্বিক | পুরাতত্ত্ববিদ; যিনি প্রাচীন লিপি, মুদ্রা বা ভগ্নাবশেষ থেকে অতীতকালের তথ্য অনুসন্ধান ও নির্ণয় করেন। |
| Folklore Society | লোকশিল্প, গান, উৎসব ও খেলার উপাদান সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও গবেষণায় নিয়োজিত সমিতি। ১৮৪৮ সালে লন্ডনে গঠিত হয়। উইলিয়াম থমস ‘ফোকলোর’ শব্দটির উদ্ভাবক। |
| নৃতত্ত্ব (Anthropology) | মানুষের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সংক্রান্ত বিজ্ঞান। |
| দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার | প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ও লোকগাথা সংগ্রাহক (১২৮৪ – ১৩৬৩ বঙ্গাব্দ)। তাঁর সংগৃহীত ও রচিত বিখ্যাত শিশুতোষ বই ‘ঠাকুরমার ঝুলি’। |
| প্রবাদবাক্য | দীর্ঘদিন ধরে লোকমুখে প্রচলিত বিশ্বাসযোগ্য জনশ্রুতি বা নীতিবাক্য। যেমন: ‘নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা’। |
| খনা | প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত নারী জ্যোতিষী (বাসস্থান: পশ্চিমবঙ্গের দেউলি গ্রাম)। আবহাওয়া ও কৃষিতত্ত্ব বিষয়ক তাঁর উপদেশমূলক ‘খনার ছড়া’গুলো অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত বলে ধরা হয়। |
| বালাম | বইয়ের খণ্ড (ইংরেজি Volume)। |
| ভূয়োদর্শন | প্রচুর দেখা ও শোনার মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা। |
| বালাখানা | প্রাসাদ। |
| Proletariat সাহিত্য | অত্যাচারিত ও শোষিত শ্রমজীবী মানুষের জীবননির্ভর সাহিত্য। |
| ফক্কিকার | ফাঁকিবাজি। |
পাঠ পরিচিতি
১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে কিশোরগঞ্জ জেলায় ‘পূর্ব ময়মনসিংহ সাহিত্য সম্মিলনী’র একাদশ অধিবেশনে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সভাপতিত্ব করেন। এ সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে তিনি যে অভিভাষণ দেন, তারই পুনর্লিখিত রূপ এই ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধটি। আলোচ্য প্রবন্ধে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলার পল্লিসাহিত্যের বিশেষ কয়েকটি দিক সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। লেখক এই প্রসঙ্গে বলেছেন যে, একদিন এক বিরাট পল্লিসাহিত্য বাংলাদেশে ছিল, আজ উপযুক্ত গবেষক এবং আগ্রহী সাহিত্যিকদের উদ্যোগ ও চেষ্টায় সেই সম্পদগুলো সংগ্রহ করা নিতান্ত প্রয়োজন। বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং প্রসারের জন্য পল্লিসাহিত্যের বিচিত্র সম্পদ বিশেষ যত্নের সঙ্গে আহরণ করা একান্ত আবশ্যক। প্রবন্ধটি আবহমান কালের বাঙালি, বাংলাদেশ, লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি সকলকে সচেতন হতে উৎসাহিত করে।
Read More: SSC বাংলা নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের স্মার্ট নোট
SSC বাংলা পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের স্মার্ট নোট PDF Download