SSC বাংলা উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের স্মার্ট নোট

এসএসসি বাংলা ১ম পত্রের উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের স্মার্ট নোট শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবন্ধটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজ ও সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে। এই নোটে রয়েছে পাঠ পরিচিতি, লেখক পরিচিতি, মূলভাব, সহজ ব্যাখ্যা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রবন্ধের মূল বক্তব্য বুঝতে ও দ্রুত রিভিশন দিতে এই স্মার্ট নোটটি সহায়ক হবে।


উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের স্মার্ট নোট

📌 প্রাথমিক তথ্য: কাজী নজরুল ইসলাম

★ কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম — ২৪ মে ১৮৯৯ (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ)।

★ কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যু — ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ)।

★ কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান — ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রাম।

★ কাজী নজরুল ইসলাম — বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও সঙ্গীতজ্ঞ।

★ কাজী নজরুল ইসলাম — বাংলাদেশের জাতীয় কবি।

★ কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম — “দুখু মিয়া”।

★ কাজী নজরুল ইসলামের পিতা — কাজী ফকির আহমদ (স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম)।

★ কাজী নজরুল ইসলামের মাতা — জাহেদা খাতুন।

★ কাজী নজরুল ইসলামের পিতামহ — কাজী আমিন উল্লাহ।

★ কাজী নজরুল ইসলাম তার পিতার দ্বিতীয় স্ত্রীর — ষষ্ঠ সন্তান।

★ কাজী নজরুল ইসলামের তিন ভাই — (সবার কনিষ্ঠ কাজী আলী হোসেন)।

★ কাজী নজরুল ইসলামের দুই বোন — কাজী সাহেবজান (বড়) ও উম্মে কুলসুম (কনিষ্ঠ)।

★ কাজী নজরুল ইসলামের শ্বশুর — আলী আকবর খান (গ্রন্থ প্রকাশক)।

★ কাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী — প্রমীলা দেবী।

★ কাজী নজরুল ইসলামের চার সন্তান — কৃষ্ণ মুহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ (বুলবুল), কাজী সব্যসাচী ও কাজী অনিরুদ্ধ।

★ কাজী নজরুল ইসলামের ছোট ছেলে — কাজী অনিরুদ্ধ (বিখ্যাত গিটারবাদক, মৃত্যু ১৯৭৪)।

★ কাজী নজরুল ইসলাম তার সন্তানদের নাম রেখেছিলেন — বাংলা ও আরবি/ফারসি উভয় ভাষায়।

★ কাজী নজরুল ইসলামের সন্তানের নাম: কৃষ্ণ মুহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ (বুলবুল), কাজী সব্যসাচী ও কাজী অনিরুদ্ধ।

🎓 শিক্ষাজীবন ও প্রাথমিক কর্ম

★ কাজী নজরুল শিশুকালে মক্তবে পড়াশোনা করেন — কুরআন, ইসলাম ধর্ম, দর্শন ও ইসলামী ধর্মতত্ত্ব।

★ কাজী নজরুল ১৯০৮ সালে পিতৃহারা হন — বয়স ছিল মাত্র নয় বছর।

★ কাজী নজরুল মাত্র দশ বছর বয়সে — জীবিকা অর্জনের জন্য কাজে নামেন।

★ কাজী নজরুল মক্তব থেকে — নিম্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

★ কাজী নজরুল মক্তবে — শিক্ষকতা শুরু করেন।

★ কাজী নজরুল ছিলেন — হাজি পালোয়ানের কবরের সেবক ও মসজিদের মুয়াযযিন (আজানদাতা)।

★ কাজী নজরুল বাল্য বয়সে যোগ দেন — লেটো দলে (ভ্রাম্যমাণ নাট্যদল)।

★ কাজী নজরুলের চাচা — কাজী বজলে করিম (চুরুলিয়া অঞ্চলের লেটো দলের বিশিষ্ট উস্তাদ)।

★ কাজী নজরুল লেটো দলে — অভিনয় শিখতেন এবং নাটকের জন্য গান ও কবিতা লিখতেন।

★ কাজী নজরুল লেটো দলের জন্য রচনা করেন — চাষার সঙ, শকুনীবধ, রাজা যুধিষ্ঠিরের সঙ, দাতা কর্ণ, আকবর বাদশাহ, কবি কালিদাস, বিদ্যাভূতুম ও রাজপুত্রের গান।

★ কাজী নজরুল লেটো দল ছেড়ে — ১৯১০ সালে ছাত্র জীবনে ফিরে আসেন।

★ কাজী নজরুলের প্রথম স্কুল — রাণীগঞ্জের সিয়ারসোল রাজ স্কুল।

★ কাজী নজরুল মাথরুন উচ্চ ইংরেজি স্কুলে পড়েন — যা পরবর্তীতে নবীনচন্দ্র ইনস্টিটিউশন নামে পরিচিতি লাভ করে।

★ মাথরুন স্কুলের প্রধান শিক্ষক — কুমুদরঞ্জন মল্লিক (সেকালের বিখ্যাত কবি)।

★ কাজী নজরুল মাথরুন স্কুলে পড়েছিলেন — কুমুদরঞ্জন মল্লিকের সান্নিধ্যে।

★ অর্থনৈতিক কারণে কাজী নজরুল পড়াশোনা ছেড়ে দেন — ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর।

★ কাজী নজরুল প্রথমে যোগ দেন — বাসুদেবের কবিদলে।

★ কাজী নজরুল ছিলেন — একজন খ্রিস্টান রেলওয়ে গার্ডের খানসামা।

★ কাজী নজরুল আসানসোলের — চা-রুটির দোকানে রুটি বানানোর কাজ নেন।

★ আসানসোলের দারোগা রফিজউল্লাহ — কাজী নজরুলের প্রতিভার পরিচয় পান।

★ দারোগা রফিজউল্লাহ ১৯১৪ সালে নজরুলকে — ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে ভর্তি করে দেন।

★ কাজী নজরুল ১৯১৫ সালে ফিরে যান — সিয়ারসোল রাজ স্কুলে (অষ্টম শ্রেণি)।

★ কাজী নজরুল ১৯১৭ সাল পর্যন্ত — সিয়ারসোল রাজ স্কুলে পড়াশোনা করেন।

★ কাজী নজরুল সিয়ারসোল রাজ স্কুলে প্রভাবিত হন — সতীশচন্দ্র কাঞ্জিলাল, নিবারণচন্দ্র ঘটক, হাফিজ নুরুন্নবী ও নগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা।

★ ১৯১৭ সালের শেষদিকে কাজী নজরুল — মাধ্যমিকের প্রিটেস্ট পরীক্ষা না দিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

⚔️ সৈনিক জীবন

★ কাজী নজরুল ১৯১৭ সালের শেষদিকে — ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

★ কাজী নজরুল প্রথম প্রশিক্ষণ নেন — কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে।

★ কাজী নজরুলের প্রশিক্ষণ হয় — সীমান্ত প্রদেশের নওশেরায়।

★ কাজী নজরুল সৈনিক জীবন কাটান — করাচি সেনানিবাসে।

★ কাজী নজরুল সেনাবাহিনীতে ছিলেন — ১৯১৭ সালের শেষভাগ থেকে ১৯২০ সালের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত (প্রায় আড়াই বছর)।

★ কাজী নজরুল ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের পদোন্নতি পান — সাধারণ সৈনিক কর্পোরাল থেকে কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পর্যন্ত।

★ কাজী নজরুল পাঞ্জাবী মৌলবির কাছে শেখেন — ফার্সি ভাষা।

★ কাজী নজরুল সৈনিক থাকা অবস্থায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে — অংশ নেন।

★ কাজী নজরুলের বাহিনীর ইরাক যাবার কথা ছিল — কিন্তু যুদ্ধ থেমে যাওয়ায় যাননি।

★ ১৯২০ সালে ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্ট — ভেঙে দেয়া হয়।

★ কাজী নজরুল করাচি সেনানিবাসে রচনা করেন — বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী (প্রথম গদ্য রচনা)।

★ কাজী নজরুলের প্রথম প্রকাশিত কবিতা — মুক্তি।

★ কাজী নজরুল করাচি সেনানিবাসে গল্প লেখেন — হেনা, ব্যথার দান, মেহের নেগার, ঘুমের ঘোরে, কবিতা সমাধি।

★ করাচি সেনানিবাসে কাজী নজরুলের কাছে ছিল — রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র ও ফার্সি কবি হাফিজের বই।

★ কাজী নজরুলের সাহিত্য চর্চার হাতেখড়ি হয় — করাচি সেনানিবাসে।

📰 সাংবাদিক ও সাহিত্য জীবন

★ যুদ্ধ শেষে কাজী নজরুল কলকাতায় ফিরে — ৩২ নং কলেজ স্ট্রিটে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে বসবাস শুরু করেন।

★ কাজী নজরুলের সাথে থাকতেন — মুজফ্ফর আহমদ (সমিতির অন্যতম কর্মকর্তা)।

★ কাজী নজরুলের প্রথম দিকের লেখা প্রকাশিত হয় — মোসলেম ভারত, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, উপাসনা প্রভৃতি পত্রিকায়।

★ কাজী নজরুলের উপন্যাস — বাঁধন হারা।

★ কাজী নজরুলের কবিতা: বোধন, শাত-ইল-আরব, বাদল প্রাতের শরাব, আগমনী, খেয়া-পারের তরণী, কোরবানি, মোহররম, ফাতেহা-ই-দোয়াজদম।

★ কাজী নজরুলের “খেয়া-পারের তরণী” ও “বাদল প্রাতের শরাব” কবিতা দুটির প্রশংসা করেন — মোহিতলাল মজুমদার।

★ বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে কাজী নজরুলের পরিচয় হয় — কাজী মোতাহার হোসেন, মোজাম্মেল হক, কাজী আবদুল ওদুদ, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, আফজালুল হকের সাথে।

★ কাজী নজরুল তৎকালীন কলকাতার দুটি আড্ডায় অংশ নেন — গজেনদার আড্ডা ও ভারতীয় আড্ডা।

★ কাজী নজরুল ১৯২১ সালের অক্টোবরে — শান্তিনিকেতনে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

★ কাজী নজরুলের সাথে রবীন্দ্রনাথের — মৃত্যু পর্যন্ত সুসম্পর্ক বজায় ছিল।

★ কাজী নজরুলের বিশেষ বন্ধুত্ব ছিল — কাজী মোতাহার হোসেনের সাথে।

★ কাজী নজরুল ১৯২০ সালের ১২ জুলাই — নবযুগ পত্রিকার মাধ্যমে নিয়মিত সাংবাদিকতা শুরু করেন।

★ নবযুগ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন — শেরে-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক।

★ কাজী নজরুল “মুহাজিরীন হত্যার জন্য দায়ী কে” প্রবন্ধের জন্য — পত্রিকার জামানত বাজেয়াপ্ত হয় এবং তার উপর পুলিশের নজরদারী শুরু হয়।

★ কাজী নজরুলের প্রথম গান প্রকাশিত হয় — সওগাত পত্রিকার ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায়।

★ কাজী নজরুলের প্রথম গান — “বাজাও প্রভু বাজাও ঘন”।

★ কাজী নজরুলের গানের সংখ্যা — ৪,০০০-এর অধিক।

★ কাজী নজরুলের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টি — ৪,০০০ গান, তিনটি উপন্যাস, উনিশটি ছোটগল্প ও পাঁচটি প্রবন্ধের বই।

💒 পারিবারিক জীবন

★ কাজী নজরুল ১৯২১ সালে পরিচিত হন — গ্রন্থ প্রকাশক আলী আকবর খানের সাথে।

★ কাজী নজরুল প্রথম কুমিল্লায় আসেন — আলী আকবর খানের সাথে বিরজাসুন্দরী দেবীর বাড়িতে।

★ কাজী নজরুল কুমিল্লায় পরিচিত হন — প্রমীলা দেবীর সাথে।

★ কাজী নজরুলের প্রথম বিয়ে ঠিক হয় — আলী আকবর খানের ভগ্নী নার্গিস আসার খানমের সাথে।

★ কাজী নজরুল ঘর জামাই থাকতে অস্বীকার করেন — তাই নার্গিসকে রেখে চলে যান।

★ কাজী নজরুল বিয়ে করেন — প্রমীলা দেবীকে।

★ কাজী নজরুল অসুস্থ হলে প্রমীলা দেবী — তার পরিচর্যা করেন।

🔥 বিদ্রোহী নজরুল

★ কাজী নজরুল ১৯২১ সালে সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মীতে পরিণত হন — কুমিল্লায় অবস্থানকালে।

★ কাজী নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশিত হয় — ১৯২২ সালে।

★ বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের পর — সারা ভারতের সাহিত্য সমাজে খ্যাতিলাভ করেন।

★ বিদ্রোহী কবিতায় কাজী নজরুল নিজেকে বর্ণনা করেছেন — “মহা-বিদ্রোহী রণক্লান্ত” ও “চির বিদ্রোহী বীর” হিসেবে।

★ “বিদ্রোহী” কবিতায় নজরুলের বিখ্যাত লাইন — “আমি চির বিদ্রোহী বীর – বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির!”

★ কাজী নজরুল ১৯২২ সালের ১২ আগস্ট — ধূমকেতু পত্রিকা প্রকাশ করেন (সপ্তাহে দুবার)।

★ ধূমকেতু পত্রিকাকে আশীর্বাদ করেন — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

★ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আশীর্বাদ বাণী — “আয় চলে আয়রে ধূমকেতু। আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু…”

★ ধূমকেতু পত্রিকার ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের কবিতা — আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হয়।

★ আনন্দময়ীর আগমনে কবিতার জন্য — ৮ নভেম্বর ধূমকেতু পত্রিকার সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।

★ কাজী নজরুলের যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থ — ২৩ নভেম্বর ১৯২২ বাজেয়াপ্ত করা হয়।

★ কাজী নজরুলকে গ্রেফতার করা হয় — ২৩ নভেম্বর ১৯২২, কুমিল্লা থেকে।

★ কাজী নজরুল ১৯২৩ সালের ৭ জানুয়ারি — চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহোর আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন।

★ কাজী নজরুলের জবানবন্দি বাংলা সাহিত্যে পরিচিত — “রাজবন্দীর জবানবন্দী” নামে।

★ কাজী নজরুলের জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন — “আমি কবি, আমি অপ্রকাশ সত্যকে প্রকাশ করার জন্য ভগবান কর্তৃক প্রেরিত।”

★ কাজী নজরুলকে ১৬ জানুয়ারি — এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

★ কাজী নজরুলকে নিয়ে যাওয়া হয় — আলিপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে।

★ জেলে থাকা অবস্থায় কাজী নজরুলকে রবীন্দ্রনাথ উৎসর্গ করেন — বসন্ত গীতিনাট্য গ্রন্থটি (২২ জানুয়ারি ১৯২৩)।

★ রবীন্দ্রনাথের উৎসর্গে উল্লসিত হয়ে কাজী নজরুল লেখেন — আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কবিতাটি।

🎵 সঙ্গীত ও সাহিত্যকর্ম

★ কাজী নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ — অগ্নিবীণা (১৯২২)।

★ অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের সাড়া জাগানো কবিতা — প্রলয়োল্লাস, আগমনী, খেয়াপারের তরণী, শাত-ইল্-আরব, বিদ্রোহী, কামাল পাশা।

★ কাজী নজরুলের গান — নজরুল সঙ্গীত নামে পরিচিত।

★ কাজী নজরুল ১৯৩৮ সালে কলকাতা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে — আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন।

★ কাজী নজরুল কলকাতা বেতারের অনুষ্ঠান — হারামণি, নবরাগমালিকা ও গীতিবিচিত্রা।

★ “হারামণি” অনুষ্ঠানে কাজী নজরুল — লুপ্তপ্রায় রাগের পরিচয় দিয়ে সেই রাগে নতুন গান পরিবেশন করতেন।

★ কাজী নজরুল হারানো রাগের ওপর — চল্লিশটিরও বেশি গান রচনা করেন।

★ কাজী নজরুলের প্রথম গদ্য রচনা — বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী (১৯১৯ সালের মে, সওগাত পত্রিকা)।

★ কাজী নজরুলের গল্প সংকলন — ব্যথার দান (১৯২২)।

★ কাজী নজরুলের প্রবন্ধ-সংকলন — যুগবাণী (১৯২২)।

★ কাজী নজরুল পরিচালিত চলচ্চিত্র — ধূপছায়া (এতে তিনি অভিনয়ও করেছিলেন)।

★ কাজী নজরুল ১৯৩১ সালে — প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্র ‘জামাই ষষ্ঠী’ ও ‘গৃহদাহ’-এর সুরকার ছিলেন।

★ কাজী নজরুল শিশুতোষ কবিতা লিখেছেন — খুকী ও কাঠবিড়ালি, লিচু-চোর, খাঁদু-দাদু।

★ কাজী নজরুলের বিখ্যাত উক্তি (মানুষ কবিতা) — “পূজিছে গ্রন্থ ভণ্ডের দল মূর্খরা সব শোন/ মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন।”

★ কাজী নজরুল কালীদেবীকে নিয়ে — প্রচুর শ্যামা সঙ্গীত রচনা করেন।

★ কাজী নজরুল বাংলা সাহিত্যে — ইসলামী চেতনার চর্চা শুরু করেন।

★ কাজী নজরুলের শেষ ভাষণে তিনি বলেন — “আমি শুধু হিন্দু মুসলিমকে এক জায়গায় ধরে নিয়ে হ্যান্ডশেক করানোর চেষ্টা করেছি।”

🏥 অসুস্থতা ও চিকিৎসা

★ কাজী নজরুল ১৯৪২ সালে — অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারান।

★ কাজী নজরুলের অসুস্থতা সম্বন্ধে স্পষ্ট জানা যায় — ১৯৪২ সালের জুলাই মাসে।

★ ১৯৪২ সালের শেষের দিকে কাজী নজরুল — মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন।

★ কাজী নজরুল ১৯৫২ সালে পাঠানো হয় — রাঁচির মানসিক হাসপাতালে।

★ কাজী নজরুলের আরোগ্যের জন্য গঠিত সংগঠন — নজরুল নিরাময় সমিতি।

★ কাজী নজরুলকে রাঁচিতে পাঠাতে সহযোগিতা করেন — শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

★ কাজী নজরুল ১৯৫৩ সালের মে মাসে — চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাঠানো হয়।

★ লন্ডনের চিকিৎসক রাসেল ব্রেইনের মতে — নজরুলের রোগ দুরারোগ্য ও আরোগ্য করা অসম্ভব।

★ লন্ডনের চিকিৎসকদের গ্রুপ নির্ণয় করে — নজরুল “ইনভল্যুশনাল সাইকোসিস” রোগে ভুগছেন।

★ লন্ডন ক্লিনিকে কাজী নজরুলের এয়ার এনসেফালোগ্রাফি এক্স-রে করা হয় — মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব সঙ্কুচিত হয়ে গেছে।

★ ভিয়েনার চিকিৎসক ড. হ্যান্স হফ নির্ণয় করেন — নজরুল “পিক্স ডিজিজ” (একটি নিউরনঘটিত সমস্যা) রোগে ভুগছেন।

★ ড. হ্যান্স হফের মতে — রোগের বর্তমান অবস্থা থেকে নজরুলকে আরোগ্য করা অসম্ভব।

★ ১৯৫৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর যুগান্তর পত্রিকায় ছাপা হয় — ড. অশোক বাগচির “ভিয়েনায় নজরুল” প্রবন্ধটি।

★ কাজী নজরুল ইউরোপ থেকে — ১৯৫৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন।

বাংলাদেশে আগমন ও প্রয়াণ

★ কাজী নজরুলকে ১৯৭২ সালের ২৪ মে — সপরিবারে কলকাতা থেকে ঢাকা স্থানান্তর করা হয়।

★ কাজী নজরুলকে বাংলাদেশে আনার বিশেষ উদ্যোগ নেন — প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান।

★ কাজী নজরুলকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয় — ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে।

★ কাজী নজরুলের ছোট ছেলে কাজী অনিরুদ্ধ — ১৯৭৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

★ কাজী নজরুলের মৃত্যু — ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট, ঢাকার পিজি হাসপাতালে।

★ কাজী নজরুলকে সমাহিত করা হয় — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে।

★ কাজী নজরুলের গানের লাইন — “মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিয়ো ভাই / যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই।”

★ কাজী নজরুলের জানাজার নামাজে — ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেয়।

★ কাজী নজরুলের মৃত্যুতে বাংলাদেশে — দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালিত হয়।

★ কাজী নজরুলের মৃত্যুতে ভারতের আইনসভায় — এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

★ কাজী নজরুলের মরদেহ বহন করেন — রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, জিয়াউর রহমান, এম এইচ খান, এ জি মাহমুদ ও মেজর জেনারেল দস্তগীর।

🏅 সম্মাননা ও পুরস্কার

★ কাজী নজরুল ১৯৪৫ সালে পান — কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (বাংলা সাহিত্যের সর্বোচ্চ পুরস্কার)।

★ কাজী নজরুল ১৯৬০ সালে পান — ভারতের পদ্মভূষণ (তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা)।

★ কাজী নজরুলকে ১৯৭৪ সালে দেওয়া হয় — বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা (আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ২০২৪ সালে)।

★ কাজী নজরুলের রচিত — “চল্ চল্ চল্, ঊর্ধগগনে বাজে মাদল” বাংলাদেশের রণসঙ্গীত।

★ কাজী নজরুলকে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডি.লিট প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়।

★ কাজী নজরুলকে ডি.লিট উপাধি প্রদান করা হয় — ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বঙ্গভবনে।

★ কাজী নজরুলকে ডি.লিট উপাধি প্রদান করেন — রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদউল্লাহ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর)।

★ কাজী নজরুলকে ১৯৭৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি — একুশে পদক প্রদান করা হয়।

★ কাজী নজরুলকে ১৯৭৭ সালে — স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়।

★ কাজী নজরুল পরিচিত ছিলেন — “বিদ্রোহী কবি” নামে।

🏛️ নজরুলের নামে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান

★ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে — কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় (২০১২)।

★ দুর্গাপুরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর — কাজী নজরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

★ কলকাতার প্রধান সড়ক — কাজী নজরুল ইসলাম সরণি।

★ কলকাতা মেট্রোর স্টেশন — কবি নজরুল মেট্রো স্টেশন (গড়িয়া বাজার)।

★ বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ত্রিশালে — জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (২০০৫)।

★ ঢাকার সড়ক — কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ।

★ ঢাকায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান — নজরুল ইন্সটিটিউট।

★ ঢাকায় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান — নজরুল একাডেমি ও বুলবুল ললিতকলা একাডেমি।

★ শিশু সংগঠন — বাংলাদেশ নজরুল সেনা।

★ চুরুলিয়ায় — নজরুল অ্যাকাডেমি (বেসরকারি নজরুল-চর্চা কেন্দ্র)।

📖 উল্লেখযোগ্য রচনা

★ কাজী নজরুলের কাব্যগ্রন্থ — অগ্নিবীণা (১৯২২)।

★ কাজী নজরুলের উপন্যাস — বাঁধন হারা।

★ কাজী নজরুলের গল্প সংকলন — ব্যথার দান (১৯২২)।

★ কাজী নজরুলের প্রবন্ধ-সংকলন — যুগবাণী (১৯২২)।

★ কাজী নজরুলের গান — নজরুল সঙ্গীত নামে পরিচিত (৪,০০০-এর অধিক)।

★ কাজী নজরুলের প্রথম গদ্য — বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী (১৯১৯)।

★ কাজী নজরুলের বিখ্যাত কবিতা — বিদ্রোহী (১৯২২)।

★ কাজী নজরুলের বিখ্যাত কবিতা — কামাল পাশা।

★ কাজী নজরুলের বিখ্যাত কবিতা — প্রলয়োল্লাস, আগমনী, খেয়াপারের তরণী, শাত-ইল্-আরব।

★ কাজী নজরুলের শিশুতোষ কবিতা — খুকী ও কাঠবিড়ালি, লিচু-চোর, খাঁদু-দাদু।

★ কাজী নজরুল রচনা করেন — শ্যামা সঙ্গীত ও ইসলামী গজল।

★ কাজী নজরুলের গান “বাজাও প্রভু বাজাও ঘন” — সওগাত পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত (১৩২৭ বঙ্গাব্দ)।

🎬 চলচ্চিত্র কর্ম

★ কাজী নজরুল পরিচালিত চলচ্চিত্র — ধূপছায়া।

★ কাজী নজরুল সুরারোপিত চলচ্চিত্র — জামাই ষষ্ঠী (১৯৩১), গৃহদাহ (১৯৩১)।

★ কাজী নজরুলের সঙ্গীত পরিচালনায় চলচ্চিত্র — ধ্রুব (১৯৩৩), গ্রহের ফের (১৯৩৭)।

★ কাজী নজরুলের সঙ্গীত পরিচালনায় চলচ্চিত্র — পাতালপুরী (১৯৩৫), গোরা (১৯৩৮)।

★ কাজী নজরুলের কাহিনী ও সুরে চলচ্চিত্র — সাপুড়ে (১৯৩৯)।

★ কাজী নজরুল গীতিকার ছিলেন — রজত জয়ন্তী, নন্দিনী, অভিনয়, দিকশূল চলচ্চিত্রে।

★ কাজী নজরুল হিন্দি চলচ্চিত্র চৌরঙ্গীর জন্য — ৭টি হিন্দি গান লেখেন, সুর করেন ও সঙ্গীত পরিচালনা করেন।

🗣️ উদ্ধৃতি ও বক্তব্য

★ “আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙ্গালী।” — ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (নজরুল নন, তবে প্রাসঙ্গিক)।

★ “আমি চির বিদ্রোহী বীর – বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির!” — কাজী নজরুল, বিদ্রোহী কবিতা।

★ “পূজিছে গ্রন্থ ভণ্ডের দল মূর্খরা সব শোন/ মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন।” — কাজী নজরুল, মানুষ কবিতা।

★ “আমি কবি, আমি অপ্রকাশ সত্যকে প্রকাশ করার জন্য ভগবান কর্তৃক প্রেরিত।” — কাজী নজরুল, রাজবন্দীর জবানবন্দী (১৯২৩)।

★ “মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিয়ো ভাই / যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই।” — কাজী নজরুল।

★ “আমি শুধু হিন্দু মুসলিমকে এক জায়গায় ধরে নিয়ে হ্যান্ডশেক করানোর চেষ্টা করেছি, গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছি।” — কাজী নজরুল, শেষ ভাষণে।

★ “আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির গৃহহারা যত পথিকের…” — কাজী নজরুল, বিদ্রোহী কবিতা।

★ “বিদ্রোহী রণক্লান্ত আমি সেই দিন হব শান্ত, যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না…” — কাজী নজরুল, বিদ্রোহী কবিতা।

🌐 রাজনৈতিক দর্শন

★ কাজী নজরুল রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে — মুজফ্ফর আহমদের সাথে অবস্থানকালে।

★ কাজী নজরুল ১৯১৭ সালের রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে — প্রভাবিত হন।

★ কাজী নজরুল লাঙ্গল ও গণবাণী পত্রিকায় প্রকাশ করেন — সাম্যবাদী ও সর্বহারা কবিতাগুচ্ছ।

★ কাজী নজরুল প্রকাশ করেছিলেন — কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের অনুবাদ “জাগ অনশন বন্দী ওঠ রে যত”।

★ কাজী নজরুল রচনা করেন — “রক্তপতাকার গান” (রেড ফ্ল্যাগ-এর অবলম্বনে)।

★ কাজী নজরুল সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে — স্বাধীনতা অর্জনে বিশ্বাস করতেন।

★ কাজী নজরুলের জীবনের নায়ক ছিলেন — মোস্তফা কামাল পাশা।

★ কাজী নজরুল খিলাফত আন্দোলনে — যোগ দিয়েছিলেন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম হিসেবে।

★ কাজী নজরুল গোড়ামী, রক্ষণশীলতা, ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে — কঠোর অবস্থান নেন।

★ কাজী নজরুল কখনো সমাজতান্ত্রিক দলের — সদস্য হননি।

★ কাজী নজরুল ১৯২০ সালের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে — অংশগ্রহণের চেষ্টা করেন (তেমন সাফল্য পাননি)।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও সময়সীমা

★ ২৪ মে ১৮৯৯ — কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম।

★ ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ — কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যু।

★ ১৯০৮ — পিতার মৃত্যু (বয়স ৯ বছর)।

★ ১৯১০ — লেটো দল ছেড়ে ছাত্র জীবনে ফিরে আসেন।

★ ১৯১৪ — দারোগা রফিজউল্লাহ তাকে ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে ভর্তি করেন।

★ ১৯১৭ — সেনাবাহিনীতে যোগদান।

★ ১৯১৯ — “বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী” প্রকাশ (প্রথম গদ্য)।

★ ১৯২০ — সেনাবাহিনী ত্যাগ ও সাংবাদিকতা শুরু।

★ ১২ জুলাই ১৯২০ — নবযুগ পত্রিকা প্রকাশ।

★ ১৯২১ — রবীন্দ্রনাথের সাথে সাক্ষাৎ (অক্টোবর)।

★ ১৯২২ — বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশ ও অগ্নিবীণা প্রকাশ।

★ ১২ আগস্ট ১৯২২ — ধূমকেতু পত্রিকা প্রকাশ।

★ ২৩ নভেম্বর ১৯২২ — যুগবাণী বাজেয়াপ্ত ও গ্রেফতার।

★ ৭ জানুয়ারি ১৯২৩ — রাজবন্দীর জবানবন্দি প্রদান।

★ ১৬ জানুয়ারি ১৯২৩ — এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।

★ ২২ জানুয়ারি ১৯২৩ — রবীন্দ্রনাথের বসন্ত গীতিনাট্য উৎসর্গ।

★ ১৯৪২ — অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারান।

★ ১৯৫২ — রাঁচির মানসিক হাসপাতালে প্রেরণ।

★ মে ১৯৫৩ — লন্ডনে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ।

★ ৯ ডিসেম্বর ১৯৫৩ — ভিয়েনায় পরীক্ষা।

★ ১৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ — ইউরোপ থেকে দেশে ফেরা।

★ ২৪ মে ১৯৭২ — সপরিবারে বাংলাদেশে আগমন।

★ ৯ ডিসেম্বর ১৯৭৪ — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডি.লিট প্রদানের সিদ্ধান্ত।

★ ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ — ডি.লিট উপাধি প্রদান।

★ ১৯৭৬ — বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান।

★ ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ — একুশে পদক প্রদান।

★ ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ — মৃত্যু ও সমাধি।

★ ১৯৭৭ — স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর)।

★ ২০২৪ — জাতীয় কবি হিসেবে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি (গেজেট প্রকাশ)।

🔑 মূল বৈশিষ্ট্য ও অবদান

★ কাজী নজরুল — বিদ্রোহী কবি ও সাম্যবাদী চেতনার কবি।

★ কাজী নজরুলের কবিতার মূল বিষয় — মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার, সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

★ কাজী নজরুল — ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনায় বিশ্বাসী।

★ কাজী নজরুল — নারী-পুরুষের সমতার বন্দনা করেছেন।

★ কাজী নজরুল বাংলা সাহিত্যে — ইসলামী চেতনার চর্চা শুরু করেন।

★ কাজী নজরুল — হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রচারক ছিলেন।

★ কাজী নজরুলের ২৩ বছরের সাহিত্যিক জীবনে — সৃষ্টির প্রাচুর্য তুলনারহিত।

★ কাজী নজরুল ১৯৪২ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত — ৩৪ বছর সাহিত্যকর্ম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিলেন।

★ কাজী নজরুল — ঔপনিবেশিক শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী কবি।

★ কাজী নজরুল — বাংলা গানের ইতিহাসে প্রায় সব বিষয়ে গান লিখেছেন।

★ কাজী নজরুল — বাংলা কবিতা ও গানের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন।

★ কাজী নজরুলের মানবিকতা ও বিদ্রোহী চেতনা — বাঙালির মানসপীঠ গঠনে ভূমিকা রেখেছে।

★ কাজী নজরুল ১৮টি ভাষায় — উল্লেখযোগ্য পাণ্ডিত্য অর্জন করেননি, তবে বহু ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন (এটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বৈশিষ্ট্য)।

★ কাজী নজরুল — বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।

★ কাজী নজরুলের রচনা — বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।

উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের স্মার্ট নোট

★ “উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন” প্রবন্ধের রচয়িতা — কাজী নজরুল ইসলাম।

★ ‘হে মোর দুর্ভাগা দেশ! যাদের করেছ অপমান / অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান’ — চরণদ্বয়ের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

★ প্রবন্ধের সূচনায় উদ্ধৃত চরণটি নেওয়া হয়েছে — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুর্ভাগা দেশ’ কবিতা থেকে।

★ “উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন” রচনার সাহিত্যরূপ — প্রবন্ধ।

★ দেশের মহাজাগরণের দিনে যে শক্তিকে ভুলা চলবে না — উপেক্ষিত জনশক্তি।

★ দেশের ওপর কত আনা শক্তি নির্ভর করছে — দশ আনা।

★ আভিজাত্য-গর্বিত সম্প্রদায় যাদের ‘ছোটোলোক’ নামকরণ করেছে — শ্রমজীবী ও সাধারণ মেহনতি মানুষদের।

★ তথাকথিত ‘ছোটোলোক’ সম্প্রদায়ের অন্তর যেমন — কাচের ন্যায় স্বচ্ছ।

★ তথাকথিত ‘ছোটোলোক’ সম্প্রদায় কোনো কাজ করতে পারছে না যার কারণে — ভদ্র সম্প্রদায়ের অত্যাচারের কারণে।

★ অবহেলিত মানুষগুলো জন্ম থেকে পাচ্ছে — ঘৃণা ও উপেক্ষা।

★ অবহেলিত মানুষগুলো নিজেদের ছোট মনে করার কারণ — সামাজিক ঘৃণা ও উপেক্ষা।

★ উৎপীড়নের বিরুদ্ধে বিদ্রোহাচরণ করলে ভদ্র সম্প্রদায় যা করে — তাদের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে অজ্ঞান করে ফেলে। (উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের স্মার্ট নোট)

★ সত্যি কারের মানুষদের অবহেলা করার ফল — দেশের চরম অধঃপতন।

★ দেশে গঠিত হতে পারছে না — জনশক্তি বা গণতন্ত্র।

★ ব্যক্তির সমষ্টিই হলো — জাতি।

★ দেশের অধিবাসী নিয়েই গঠিত হয় — দেশ।

★ অট্টালিকা নির্মাণের চেষ্টা করা যার সাথে তুলনা করা হয়েছে — সবাইকে না বুঝে দেশ ও জাতির উন্নতির আশা করা।

★ ভদ্র সম্প্রদায়ের স্বভাব — দেশের দুর্দশা বুঝতে পারা ও তা নিয়ে কান্নাকাটি করা।

★ ভদ্র সম্প্রদায়ের যার অভাব রয়েছে — কার্যক্ষেত্রে নেমে কাজ করার শক্তির।

★ “তোমাদের এই দেশকে, জাতিকে উন্নত করিবার আশা ঐ কথাতেই শেষ হইয়া যায়” — এখানে ‘তোমাদের’ বলতে বোঝানো হয়েছে ভদ্র সম্প্রদায়কে।

★ শত বছরের চেষ্টায় যে কাজ সম্ভব নয়, তা একদিনে সম্পন্ন হতে পারে — জনশক্তিকে উদ্বুদ্ধ ও ভালোবাসতে পারলে।

★ সাধারণ মানুষকে আপন করে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রবন্ধে উদাহরণ দেওয়া হয়েছে — মহাত্মা গান্ধীর।

★ মহাত্মা গান্ধী ভারতে যা সাধন করতে পেরেছিলেন — অসাধ্য সাধন।

★ মহাত্মা গান্ধী সাধারণ মানুষের সাথে যেভাবে মিশেছিলেন — প্রাণ খুলে।

★ মহাত্মা গান্ধী সাধারণ মানুষের জন্য যে কষ্ট সহ্য করেছেন — উপবাস পালন।

★ মহাত্মা গান্ধীর অভাব ছিল না — আভিজাত্য-গৌরব ও পদ-গৌরবের অহংকার।

★ মহাত্মা গান্ধীর ডাকার বিশেষত্ব — সে আহ্বানে ছিল না জাতিভেদ, ধর্মভেদ বা সমাজ-ভেদ।

★ উপেক্ষিত হতভাগারা মহাত্মা গান্ধীর দিকে ছুটে এসেছে যার জন্য — বুকভরা স্নেহের আহ্বানের কারণে।

★ মানুষের ওপর মানুষের অধিকার নেই — মানুষকে মানুষ হয়ে ঘৃণা করার।

★ অবহেলিত মানুষের আত্মা ভদ্র সম্প্রদায়ের আত্মার মতোই — ভাস্বর ও একই মহা-আত্মার অংশ।

★ জন্মগত অধিকারের চেয়ে বড় নয় — মানবিক মূল্যবোধ ও আত্মা।

★ অবহেলিত মানুষকে আপন করে নেওয়ার উপায় — তাদের মতো দীন বসন পরা ও প্রাণে প্রাণ মেলানো।

★ বিশ্ব যাকে নমস্কার করবে — অবহেলিতদের বুকে টেনে নিয়ে উচ্চশিরে দাঁড়ানো মানুষকে।

★ অবহেলিত ভাইদের হাত ধরে যে বাঁশিতে সুর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে — বোধন-বাঁশি।

★ ‘কীসের দুঃখ, কিসের দৈন্য, / কীসের লজ্জা, কীসের ক্লেশ!’ — চরণটি উদ্ধৃত করা হয়েছে প্রবন্ধের সমাপ্তি লাইনে।

★ প্রবন্ধে উল্লিখিত ‘চণ্ডাল’ শব্দের অর্থ — চণ্ডাল বংশজাত বা নিম্নবর্ণের মানুষ।

★ ‘বোধন’ শব্দের অর্থ — জাগরণ বা প্রবোধ দেওয়া।

★ ‘দশ আনা’ শব্দটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে — সিংহভাগ বা প্রধান অংশ (শতকরা প্রায় ৬২.৫%)।

★ ‘ভাস্বর’ শব্দের অর্থ — দীপ্তিমান বা উজ্জ্বল।

★ ‘অট্টালিকা’ শব্দের অর্থ — পাকা বড় ঘর বা দালান।

★ ‘দৈন্য’ শব্দের অর্থ — দারিদ্র্য বা দীনতা।

★ ‘ক্লেশ’ শব্দের অর্থ — কষ্ট বা যন্ত্রণা।

শব্দার্থ ও টীকা

শব্দশব্দার্থ ও টীকা
চণ্ডালচাড়াল; হিন্দু বর্ণব্যবস্থায় নিম্নবর্গের লোক।
বোধন-বাঁশিবোধ জাগিয়ে তোলার বাঁশি।
দৈন্যদারিদ্র্য, দীনতা।

পাঠ পরিচিতি

‘উপেক্ষিত শক্তির উদবোধন’ শীর্ষক প্রবন্ধটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত নজরুল রচনাবলি (জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, প্রথম খণ্ড) থেকে সংকলন করা হয়েছে । অবিভক্ত ভারতবর্ষের পটভূমিতে লেখা প্রবন্ধটি সম্পাদনা করে পাঠ্যভুক্ত করা হয়েছে। এটি কাজী নজরুল ইসলামের যুগবাণী নামক প্রবন্ধ-গ্রন্থের একটি রচনা। আলোচ্য প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী মানসিকতার পরিচয় ফুটে উঠেছে। একটি দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ছোটো-বড়ো, উঁচু-নিচু, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ দূর করা আবশ্যক। বিশ্বের বুকে মর্যাদাবান জাতি ও রাষ্ট্র গঠন করতে প্রতিটি দেশের মনীষীগণ আমরণ সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁদের নির্দেশিত পথে যদি আমরা পরিভ্রমণ করতে পারি তবে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি বিরাজ করবে। প্রবন্ধটিতে জাতি, ধর্ম, সমাজভেদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম। এ প্রবন্ধ শ্রেণি, ধর্ম, জাতি ও সমাজভেদমুক্ত বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়।


Read More: SSC বাংলা আম আঁটির ভেঁপু গল্পের স্মার্ট নোট


উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের স্মার্ট নোট PDF Download

সমাধানে যদি কোনো ভুল খুঁজে পান, তবে দয়া করে আমাদের জানিয়ে সাহায্য করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার রেটিং দিন:

Scroll to Top