SSC বাংলা আম আঁটির ভেঁপু গল্পের স্মার্ট নোট

এসএসসি বাংলা ১ম পত্রের আম আঁটির ভেঁপু গল্পের স্মার্ট নোট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি সহজ ও গোছানো করতে তৈরি করা হয়েছে। এই নোটে রয়েছে গল্পটির সহজ ব্যাখ্যা, পাঠ পরিচিতি, লেখক পরিচয়, মূলভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। গল্পের বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য সহজভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর সংক্ষেপে দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ে গল্পটি বুঝে নিতে এবং SSC পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারবে। এই স্মার্ট নোটের PDF সংস্করণটি দ্রুত রিভিশনের জন্যও বেশ উপযোগী।


আম আঁটির ভেঁপু গল্পের স্মার্ট নোট

পরিচয়: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধায়

  • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন জনপ্রিয় ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক।
  • তিনি মূলত উপন্যাস ও ছোটগল্প রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন।
  • বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন, মানবিকতা ও সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের অসাধারণ চিত্রকর।
  • তাঁর সর্বাধিক পরিচিত উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’‘অপরাজিত’

জন্ম ও মৃত্যু

  • জন্ম: ১২ সেপ্টেম্বর ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দ
  • জন্মস্থান: মুরাতিপুর গ্রাম, কাঁচড়াপাড়ার নিকট, উত্তর ২৪ পরগণা।
  • জন্ম হয় নিজ মামার বাড়িতে
  • পৈতৃক নিবাস: বারাকপুর গ্রাম, বনগাঁর নিকট।
  • আদিবাস: পানিতর গ্রাম, বসিরহাট মহকুমা।
  • মৃত্যু: ১ নভেম্বর ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  • মৃত্যুর স্থান: ঘাটশিলা, তৎকালীন বিহার; বর্তমানে ঝাড়খণ্ড।
  • মৃত্যুর কারণ: হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে
  • মৃত্যুকালে তাঁর বয়স: ৫৬ বছর

পরিবার

  • পিতা: মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তিনি ছিলেন প্রখ্যাত সংস্কৃত পণ্ডিত
    • পাণ্ডিত্য ও কথকতার জন্য ‘শাস্ত্রী’ উপাধি লাভ করেন।
  • মাতা: মৃণালিনী দেবী
  • পিতামাতার পাঁচ সন্তানের মধ্যে বিভূতিভূষণ ছিলেন জ্যেষ্ঠ
  • তাঁর প্রপিতামহ ছিলেন কবিরাজ

শিক্ষাজীবন

  • পিতার কাছেই তাঁর শিক্ষার সূচনা।
  • পরে নিজ গ্রাম ও আশপাশের কয়েকটি পাঠশালায় পড়াশোনা করেন।
  • এরপর বনগ্রাম উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
  • সেখানে তিনি অবৈতনিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনার সুযোগ লাভ করেন।

বিবাহ ও পারিবারিক জীবন

  • প্রথম বিবাহ: ১৯১৯ সালে
  • প্রথম স্ত্রী: গৌরী দেবী
  • বিবাহের এক বছর পর গৌরী দেবীর মৃত্যু হয়।
  • স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি কিছুদিন সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন করেন।
  • দ্বিতীয় বিবাহ: ৩ ডিসেম্বর ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে
  • দ্বিতীয় স্ত্রী: রমা দেবী
  • দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা: ষোড়শীকান্ত চট্টোপাধ্যায়
  • একমাত্র সন্তান: তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
  • তারাদাসের ডাকনাম: বাবলু
  • ঘাটশিলার বাড়িটির নাম তিনি স্ত্রীর নামে রাখেন ‘গৌরীকুঞ্জ’
  • গৌরীকুঞ্জের সামনের রাস্তা পরিচিত ‘অপুর পথ’ নামে।

কর্মজীবন

  • কর্মজীবনের শুরু শিক্ষকতা দিয়ে।
  • একসময় গোরক্ষিণী সভার প্রচারক হিসেবে বাংলা, ত্রিপুরা ও আরাকানের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করেন।
  • পরে খেলাৎচন্দ্র ঘোষের বাড়িতে—
    • সেক্রেটারি,
    • গৃহশিক্ষক,
    • এবং ভাগলপুর সার্কেলের সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন।
  • কিছুদিন ধর্মতলার খেলাৎচন্দ্র মেমোরিয়াল স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
  • পরে গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউশন স্কুলে যোগ দেন।
  • এই বিদ্যালয়েই তিনি আমৃত্যু কর্মরত ছিলেন।

সাহিত্যিক জীবনের সূচনা

  • সাহিত্যিক জীবনের সূচনা ঘটে ১৯২১ সালে
  • তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্প: ‘উপেক্ষিতা’
  • ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশিত হয় প্রবাসী পত্রিকার মাঘ সংখ্যায়
  • ‘পথের পাঁচালী’ রচনা শুরু করেন ১৯২৫ সালে
  • ‘পথের পাঁচালী’ রচনা শেষ হয় ১৯২৮ সালে
  • এটি তাঁর প্রথম এবং সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা
  • সাহিত্যিক-সম্পাদক উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ‘পথের পাঁচালী’ পছন্দ করেন।
  • পরে এটি বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
  • ‘পথের পাঁচালী’ প্রকাশের পর তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

‘পথের পাঁচালী’ — পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ

  • রচয়িতা: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  • প্রকাশকাল: ১৯২৯
  • এটি বিভূতিভূষণের প্রথম ও সর্বাধিক খ্যাতিমান উপন্যাস
  • উপন্যাসটি বিভূতিভূষণের ব্যক্তিগত জীবন ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন বহন করে।
  • ‘পথের পাঁচালী’ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন সত্যজিৎ রায়
  • চলচ্চিত্রের নামও ‘পথের পাঁচালী’
  • চলচ্চিত্রটি সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রজীবনের সূচনা করে।
  • চলচ্চিত্রটি দেশি-বিদেশি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করে।
  • উপন্যাসটি বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায়ও অনূদিত হয়েছে।

‘অপরাজিত’

  • ‘অপরাজিত’ হলো ‘পথের পাঁচালী’র পরবর্তী অংশ
  • প্রকাশকাল: ১৯৩২
  • প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডে প্রকাশিত।
  • ‘অপরাজিত’-তেও লেখকের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিফলন দেখা যায়।
  • সত্যজিৎ রায় এই উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
  • অপুর জীবনকে কেন্দ্র করে পরবর্তী চলচ্চিত্র ‘অপুর সংসার’-এর সঙ্গেও বিভূতিভূষণের সাহিত্যজগতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

‘আরণ্যক’

  • প্রকাশকাল: ১৯৩৯
  • এটি বিভূতিভূষণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
  • প্রকৃতি ও অরণ্যজীবনের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

‘চাঁদের পাহাড়’

  • প্রকাশকাল: ১৯৩৮
  • এটি একটি বিখ্যাত অভিযানমূলক কিশোর উপন্যাস
  • কাহিনির পটভূমি: আফ্রিকা
  • প্রধান চরিত্র: শংকর
  • ২০১৩ সালে কমলেশ্বর মুখার্জি ‘চাঁদের পাহাড়’ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
  • ‘আমাজন অভিযান’ চলচ্চিত্রটিও শংকর চরিত্রকে কেন্দ্র করে নির্মিত।

‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’

  • প্রকাশকাল: ১৯৪০
  • এটি বিভূতিভূষণের অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস।
  • সাধারণ মানুষের জীবন ও সংগ্রাম তাঁর কথাসাহিত্যের মতো এই রচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

‘ইছামতী’

  • প্রকাশকাল: ১৯৫০
  • এটি বিভূতিভূষণের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।
  • এই উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৫১ সালে মরণোত্তর রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন।
  • রবীন্দ্র পুরস্কার ছিল পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার

‘অশনি সংকেত’

  • এটি বিভূতিভূষণের গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস।
  • রচনাটি অসমাপ্ত ছিল।
  • সত্যজিৎ রায় ‘অশনি সংকেত’ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
  • চলচ্চিত্রটি ১৯৭৩ সালে মুক্তি পায়।

উল্লেখযোগ্য উপন্যাস

  • পথের পাঁচালী — ১৯২৯
  • অপরাজিত — ১৯৩২
  • দৃষ্টিপ্রদীপ — ১৯৩৫
  • আরণ্যক — ১৯৩৯
  • আদর্শ হিন্দু হোটেল — ১৯৪০
  • বিপিনের সংসার — ১৯৪১
  • দুই বাড়ি — ১৯৪১
  • অনুবর্তন — ১৯৪২
  • দেবযান — ১৯৪৪
  • কেদার রাজা — ১৯৪৫
  • অথৈজল — ১৯৪৭
  • ইছামতী — ১৯৫০
  • অশনি সংকেত — অসমাপ্ত
  • দম্পতি — ১৯৫২
  • নিশিপদ্ম — ১৯৮০, মৃত্যুর পর প্রকাশিত

উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ

  • মেঘমল্লার — ১৯৩১
  • মৌরীফুল — ১৯৩২
  • যাত্রাবদল — ১৯৩৪
  • জন্ম ও মৃত্যু — ১৯৩৭
  • কিন্নর দল — ১৯৩৮
  • বেণীগীর ফুলবাড়ি — ১৯৪১
  • নবাগত — ১৯৪৪
  • তালনবমী — ১৯৪৪
  • উপলখণ্ড — ১৯৪৫
  • বিধুমাস্টার — ১৯৪৫
  • ক্ষণভঙ্গুর — ১৯৪৫
  • অসাধারণ — ১৯৪৬
  • মুখোশ ও মুখশ্রী — ১৯৪৭
  • আচার্য কৃপালিনী কলোনি — ১৯৪৮
  • জ্যোতিরিঙ্গণ — ১৯৪৯
  • কুশল-পাহাড়ী — ১৯৫০
  • রূপ হলুদ — ১৯৫৭, মৃত্যুর পর প্রকাশিত
  • অনুসন্ধান — ১৯৬০, মৃত্যুর পর প্রকাশিত
  • ছায়াছবি — ১৯৬০, মৃত্যুর পর প্রকাশিত
  • সুলোচনা — ১৯৬৩

কিশোরপাঠ্য রচনা

  • চাঁদের পাহাড় — ১৯৩৮
  • আইভ্যানহো — সংক্ষেপানুবাদ, ১৯৩৮
  • মরণের ডঙ্কা বাজে — ১৯৪০
  • মিসমিদের কবচ — ১৯৪২
  • হীরা মাণিক জ্বলে — ১৯৪৬
  • সুন্দরবনের সাত বৎসর — ১৯৫২

ভ্রমণকাহিনি ও দিনলিপি

  • অভিযাত্রিক — ১৯৪০
  • স্মৃতির রেখা — ১৯৪১
  • তৃণাঙ্কুর — ১৯৪৩
  • ঊর্মিমুখর — ১৯৪৪
  • বনে পাহাড়ে — ১৯৪৫
  • উৎকর্ণ — ১৯৪৬
  • হে অরণ্য কথা কও — ১৯৪৮

অন্যান্য রচনা

  • বিচিত্র জগত — ১৯৩৭
  • টমাস বাটার আত্মজীবনী — ১৯৪৩
  • আমার লেখা
  • প্রবন্ধাবলী
  • পত্রাবলী
  • দিনের পরে দিন

চলচ্চিত্রে বিভূতিভূষণের সাহিত্য

  • পথের পাঁচালী — ১৯৫৫
  • অপরাজিত — ১৯৫৬
  • আদর্শ হিন্দু হোটেল — ১৯৫৭
  • অপুর সংসার — ১৯৫৯
  • আহ্বান — ১৯৬১
  • বাক্স বদল — ১৯৭০
  • নিশি পদ্ম — ১৯৭০
  • নিমন্ত্রণ — ১৯৭১
  • অমর প্রেম — ১৯৭২, হিন্দি
  • অশনি সংকেত — ১৯৭৩
  • আলো — ২০০৩
  • দ্য ফেস্টিভ্যাল! তালনবমী — ২০০৩
  • ভালোবাসার অনেক নাম — ২০০৬
  • চাঁদের পাহাড় — ২০১৩
  • আমাজন অভিযান — ২০১৭
  • সহজ পাঠের গপ্পো (Colors of Innocence) — ২০১৭
  • অভিযাত্রিক — ২০২১

সত্যজিৎ রায় ও বিভূতিভূষণ

  • বিভূতিভূষণের সাহিত্যকে চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সত্যজিৎ রায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
  • ‘পথের পাঁচালী’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রজীবনের সূচনা।
  • ‘অপরাজিত’ অবলম্বনেও সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
  • বিভূতিভূষণের সাহিত্য অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র বাংলা ও ভারতীয় চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি দেয়।

পুরস্কার ও সম্মাননা

  • রবীন্দ্র পুরস্কার — ১৯৫১
  • পুরস্কারটি লাভ করেন মরণোত্তর
  • পুরস্কারপ্রাপ্ত গ্রন্থ: ‘ইছামতী’
  • তাঁর সম্মানে বনগাঁ মহকুমার পারমাদান বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নাম রাখা হয়েছে ‘বিভূতিভূষণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য’

মৃত্যু ও শেষকৃত্য

  • মৃত্যু: ১ নভেম্বর ১৯৫০
  • স্থান: ঘাটশিলা, বর্তমানে ঝাড়খণ্ড।
  • বাংলা তারিখ: ১৭ কার্তিক ১৩৫৭
  • মৃত্যুর পরদিন দুপুরে সুবর্ণরেখা নদীর ওপর পঞ্চপাণ্ডব ঘাটে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

বিভূতিভূষণ স্মৃতিঘাট

  • অবস্থান: ইছামতী নদীর তীরে, বনগাঁর নিকটে টালিখোলা মোড়ের কাছে
  • এখানে বিভূতিভূষণের চেয়ারে বসা প্রতিকৃতি রয়েছে।
  • এখানে একটি অতিথিশালা নির্মিত হয়েছে।
  • পাশেই রয়েছে একটি ঝুলন্ত সেতু

এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

★ জন্ম — ১২ সেপ্টেম্বর ১৮৯৪

★ মৃত্যু — ১ নভেম্বর ১৯৫০

★ জন্মস্থান — মুরাতিপুর, উত্তর ২৪ পরগণা

★ পৈতৃক নিবাস — বারাকপুর, বনগাঁর নিকট

★ পিতা — মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়

★ মাতা — মৃণালিনী দেবী

★ প্রথম প্রকাশিত গল্প — উপেক্ষিতা

★ সাহিত্যিক আত্মপ্রকাশ — ১৯২১

★ প্রথম উপন্যাস — পথের পাঁচালী

★ পথের পাঁচালী রচনা শুরু — ১৯২৫

★ পথের পাঁচালী রচনা সমাপ্ত — ১৯২৮

★ পথের পাঁচালী প্রকাশ — ১৯২৯

★ অপরাজিত — ১৯৩২

★ আরণ্যক — ১৯৩৯

★ চাঁদের পাহাড় — ১৯৩৮

★ ইছামতী — ১৯৫০

★ রবীন্দ্র পুরস্কার — ১৯৫১, মরণোত্তর

★ রবীন্দ্র পুরস্কারের গ্রন্থ — ইছামতী

★ ঘাটশিলার বাড়ির নাম — গৌরীকুঞ্জ

★ একমাত্র সন্তান — তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়

★ ‘পথের পাঁচালী’ চলচ্চিত্রের পরিচালক — সত্যজিৎ রায়

★ ‘চাঁদের পাহাড়’ চলচ্চিত্রের পরিচালক — কমলেশ্বর মুখার্জি

★ ‘চাঁদের পাহাড়’-এর পটভূমি — আফ্রিকা

★ ‘চাঁদের পাহাড়’-এর প্রধান চরিত্র — শংকর

★ মৃত্যুর কারণ — হৃদরোগ

★ শেষকৃত্যের স্থান — পঞ্চপাণ্ডব ঘাট, সুবর্ণরেখা নদী

পরীক্ষার জন্য বিশেষ মনে রাখুন

  • উপেক্ষিতা প্রথম প্রকাশিত গল্প ১৯২১
  • পথের পাঁচালী প্রথম ও বিখ্যাত উপন্যাস ১৯২৯
  • অপরাজিত পথের পাঁচালির পরবর্তী অংশ ১৯৩২
  • চাঁদের পাহাড় অভিযানমূলক কিশোর উপন্যাস আফ্রিকা শংকর
  • ইছামতী রবীন্দ্র পুরস্কার ১৯৫১ মরণোত্তর
  • গৌরীকুঞ্জ ঘাটশিলায় বিভূতিভূষণের বাড়ি
  • সত্যজিৎ রায় পথের পাঁচালী চলচ্চিত্র
  • কমলেশ্বর মুখার্জি চাঁদের পাহাড় চলচ্চিত্র
  • ১ নভেম্বর ১৯৫০ বিভূতিভূষণের মৃত্যু
  • পঞ্চপাণ্ডব ঘাট শেষকৃত্য

আম আঁটির ভেঁপু গল্পের স্মার্ট নোট

★ ‘আম-আঁটির ভেঁপু’ গল্পের রচয়িতা — বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

★ গল্পটি সংকলিত হয়েছে — ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে।

★ গল্পটি মূলত রচিত — গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুই ভাই-বোনের আনন্দিত জীবনের আখ্যান নিয়ে।

★ গল্পের প্রধান দুই শিশু চরিত্র — অপু ও দুর্গা।

★ অপু ও দুর্গার পরিবারের আর্থিক অবস্থা — হতদরিদ্র।

★ গল্পের সর্বজয়া চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলে — পল্লি-মায়ের শাশ্বত রূপ।

★ ‘আম-আঁটির ভেঁপু’ গল্পটি শিশু-কিশোরদের প্রেরণা জোগায় — প্রকৃতিমুখী হতে।

★ গল্পটি শুরু হওয়ার সময় — সকাল বেলা (আটটা বা নয়টা)।

★ অপু যেখানে বসিয়া খেলা করিতেছিল — রোয়াকে।

★ অপুর টিনের বাক্সটির অবস্থা — ডালা ভাঙা।

★ অপুর কাঠের ঘোড়াটির অবস্থা — রং-ওঠা।

★ অপুর টিনের ভেঁপু-বাঁশিটির দাম — চার পয়সা।

★ অপুর ভেঁপু-বাঁশিটির অবস্থা — টোল্-খাওয়া।

★ অপু কড়িগুলো সংগ্রহ করেছিল — মায়ের অজ্ঞাতসারে লক্ষ্মীপূজার কড়ির চুপড়ি থেকে।

★ অপুর বাক্সে থাকা পিস্তলটির দাম — দু’পয়সা।

★ শুকনো নাটা ফলগুলো কুড়িয়ে এনেছিল — অপুর দিদি দুর্গা।

★ নাটা ফলগুলোর কিছু দুর্গা রেখেছিল — নিজের পুতুলের বাক্সে।

★ অপু বাক্সে সযত্নে রেখে দিয়েছিল — খানকতক খাপরার কুচি।

★ গঙ্গা-যমুনা খেলতে অব্যর্থ লক্ষ্য হিসেবে বিশ্বাস করা হতো — খাপরার কুচিকে।

★ অপুর বাক্সে থাকা সর্বাপেক্ষা মহামূল্যবান সম্পত্তি — খাপরার কুচি।

★ অপুর পিজরাপোলের আসামির ন্যায় একপাশে পড়ে ছিল — কাঠের ঘোড়াটি।

★ অপু চোখ বুজিয়া খাপরা ছুঁয়ে পরীক্ষা করছিল — গঙ্গা-যমুনার ঘর আঁকা কল্পনার স্থান ঠিক হচ্ছে কিনা।

★ দুর্গা অপুকে ডেকেছিল — উঠানের কাঁঠালতলা থেকে।

★ দুর্গাকে দেখে অপু তাড়াতাড়ি কড়িগুলো লুকাল কারণ — সে মায়ের অজ্ঞাতসারে লক্ষ্মীর চুপড়ি থেকে এনেছিল।

★ দুর্গার বয়স — দশ-এগারো বৎসর।

★ দুর্গার শরীরের গড়ন — পাতলা পাতলা।

★ দুর্গার গায়ের রং — অপুর মতো অতটা ফর্সা নয়, একটু চাপা।

★ দুর্গার হাতে ছিল — কাচের চুড়ি।

★ দুর্গার পরনে ছিল — ময়লা কাপড়।

★ দুর্গার চোখের গড়ন — অপুর মতো বেশ ডাগর ডাগর।

★ দুর্গার হাতের নারিকেলের মালায় ছিল — কচি আম কাটা।

★ ‘আমের কুশি জারানো’ অর্থ — কচি আম মাখা বা জীর্ণ করা।

★ কচি আমগুলো দুর্গা পেয়েছিল — পটলিদের বাগানে সিঁদুরকৌটোর তলায়।

★ আম মাখার জন্য দুর্গা অপুকে আনতে বলেছিল — তেল ও নুন।

★ অপুর তেলের ভাঁড় ছুঁতে ভয় পাওয়ার কারণ — কাপড় বাসি ছিল এবং মা মারবে।

★ অপুর মা গিয়েছিলেন — ক্ষার কাচতে (কাপড় ধুতে)।

★ লঙ্কা না পাড়ার কারণ — তক্তার ওপর রাখা ছিল এবং অপু নাগাল পাচ্ছিল না।

★ পটলিদের ডোবার ধারের আমগাছটিতে ধরেছে — প্রচুর গুটি আম।

★ অপুদের বাড়ির চারদিকের পরিবেশ — জঙ্গলাবৃত।

★ হরিহর রায়ের মৃত জ্ঞাতি-ভ্রাতার নাম — নীলমণি রায়।

★ নীলমণি রায়ের স্ত্রী-পুত্রকন্যা বাস করছেন — পিত্রালয়ে।

★ অপুদের বাড়ি থেকে ভুবন মুখুয্যের বাড়ির দূরত্ব — পাঁচ মিনিটের পথ।

★ হরিহরের বাড়ির বারান্দা বা রোয়াক — ভাঙা।

★ হরিহরের ঘরের ফাটলে গজিয়েছে — বন-বিছুটি ও কালমেঘ গাছ।

★ হরিহরের ঘরের দোর-জানালার কপাট বাঁধা ছিল — নারিকেলের দড়ি দিয়ে।

★ খিড়কি দোর খোলার শব্দ শুনে সর্বজয়া ডাকল — দুর্গাকে।

★ আম খেয়ে দুর্গার মুখ ভর্তি থাকায় সে গুঁড়ির আড়ালে দাঁড়াল — কাঁঠালগাছটার কাছে।

★ অপু আম না চিবিয়ে গিলছিল কারণ — চিবিয়ে খাওয়ার মতো সময় ছিল না।

★ আম খাওয়ার প্রমাণ লোপ করতে দুর্গা নারিকেলের মালা ছুড়ে ফেলল — ভেরেণ্ডাকচার বেড়া পার করে নীলমণি রায়ের ভিটার জঙ্গলে।

★ বাড়িতে ঢুকে দুর্গা সেজেছিল — নিরীহ।

★ ক্ষার কাচার পর সর্বজয়ার শরীরে অনুভূতি — গাতর ব্যথা।

★ খিদে পাওয়া অপু মা-কে বলল — আটা (চিনি/মিষ্টি) বের করে দিতে।

★ অপুর আম খাওয়ার কথা প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছিল — “আম খেয়ে দাঁত টকে” বলায়।

★ কথা বলার মাঝপথে অপু থেমে গিয়েছিল — দুর্গার ভ্রুকুটিমিশ্রিত চোখটেপায়।

★ অপুদের বাড়িতে গাই দুহিতে এসেছিল — স্বর্ণ গোয়ালিনী।

★ অপুদের বাছুরটির নাম — কমলে বাছুর।

★ অপু ও দুর্গা দুধ দোয়া দেখতে গিয়েছিল — বাহির উঠানে।

★ দুধ দোয়া দেখতে যাওয়ার সময় দুর্গা অপুর পিঠে মারল — নির্ঘাত এক কিল।

★ দুর্গা অপুকে হাবে-ভাবে বলল — “লক্ষ্মীছাড়া বাঁদর”।

★ বিকেলে পটলিদের কাঁকুড়তলির আম কুড়িয়ে আম জারানোর পরিকল্পনা ছিল — দুর্গার।

★ হরিহর কাজ করে — গ্রামের অন্নদা রায়ের বাটীতে গোমস্তার কাজ।

★ হরিহর কাজ সেরে বাড়ি ফিরল — দুপুরের কিছু পরে।

★ বৈশাখ/চৈত্র মাসের রোদে দুর্গার ঘোরাঘুরি দেখে সর্বজয়ার ভয় — জ্বরে পড়ার।

★ হরিহর তাগাদার জন্য গিয়েছিল — দশঘরায়।

★ দশঘরা গ্রামের মাতবর লোকটির বাড়িতে ছিল — পাঁচ-ছয়টা গোলা।

★ দশঘরা গ্রামের মাতবর লোকটি যে জাতের — সদগোপ।

★ মাতবর লোকটি হরিহরের কাছে প্রার্থনা করেছিল — দীক্ষা/মন্তর নেওয়ার।

★ রায়বাড়ি থেকে হরিহরের প্রাপ্তি — আটটা টাকা (তাও দু-তিন মাস অন্তর)।

★ সর্বজয়া যার কাছ থেকে বন্ধক ছাড়া টাকা ধার পেয়েছিল — সেজ ঠারুন।

★ সেজ ঠারুনের কাছে ধার নেওয়া সময় — পাঁচ মাস।

★ সর্বজয়াকে দুবেলা তাগাদা দিচ্ছিল — রাধা বোষ্টমের বৌ।

★ অপুর কাপড়ের অবস্থা — ছেঁড়া ও দু-তিন জায়গায় সেলাই করা।

★ দশঘরা গ্রামের লোকেরা গ্রামে একঘর ব্রাহ্মণ বাস করানোর জন্য দিতে চেয়েছিল — জায়গা-জমি ও ধানের জমি। (আম আঁটির ভেঁপু গল্পের স্মার্ট নোট)

★ রাজি হলে ছোটলোকেরা ভাববে “ঠাকুরের হাঁড়ি দেখচি শিকেয় উঠেচে” — হরিহরের উক্তি।

★ পরামর্শ করার জন্য হরিহর বেছে নিয়েছিল — মজুমদার মহাশয়কে।

★ রৌদ্রে ঘোরার কারণে দুর্গার মুখ দেখাত — রাঙা।

★ দুর্গার আঁচলের খুঁটে যত্ন করে বাঁধা ছিল — শুকনো রড়া ফলের বিচি।

★ দুর্গার কুড়িয়ে পাওয়া রড়া ফলের বিচির সংখ্যা — ছাব্বিশটা।

★ দুর্গার সংগৃহীত রড়া ফলের বিচিগুলো গোরুর মুখ থেকে বেঁচেছিল কারণ — ভাগ্যিস দুর্গা আগে গিয়েছিল।

★ অপুদের রাঙি গাইটিকে দুর্গা তুলনা করেছে — ‘রাক্ষস’-এর সাথে।

★ “রোয়াক” শব্দের অর্থ — ঘরের সামনের খোলা জায়গা বা বারান্দা।

★ “চুপড়ি” শব্দের অর্থ — ছোটো ঝুড়ি, ক্ষুদ্র ধামা।

★ “নাটাফল” শব্দের অর্থ — করঞ্জা ফল।

★ “খাপরার কুচি” শব্দের অর্থ — কলসি-হাঁড়ি প্রভৃতির ভাঙা অংশ বা টুকরা।

★ “পিজরাপোলের আসামি” বাক্যাংশের অর্থ — খাঁচায় পড়ে থাকা অবহেলিত আসামির মতো।

★ “দাওয়া” শব্দের অর্থ — বারান্দা।

★ “আমের কুসি” শব্দের অর্থ — কচি আম।

★ “জারা” শব্দের অর্থ — জীর্ণ করা বা কুচি কুচি করা।

★ “বন-বিছুটি” শব্দের অর্থ — বুনো গাছ।

★ “কালমেঘ” শব্দের অর্থ — যকৃতের রোগে উপকারী একপ্রকার তিক্ত স্বাদের গাছ।

★ “গরাদ” শব্দের অর্থ — জানালার সিক।

★ “ভেরেণ্ডাকচার বেড়া” শব্দের অর্থ — এরন্ড বা রেড়ি গাছের বেড়া।

★ “kutogach” বা “কুটোগাছ” শব্দের অর্থ — তৃণ।

★ “রোসো রোসো” শব্দের অর্থ — থাম থাম বা দাঁড়াও।

★ “কড়ির চুপড়ি থেকে খুলিয়া লইয়াছিল” — কড়ি নেওয়ার স্থান।

★ “আমাদের গুরুতুল্য লোক, এবার আমরা বাড়িসুদ্ধ মন্তর নেবো ভাবচি” — উক্তিটি করেছিলেন দশঘরা গ্রামের মাতবর সদগোপ ব্যক্তি।

★ “তুই তো একটা হাবা ছেলে” — দুর্গার উক্তি অপুর উদ্দেশ্যে।

★ “আম খেয়ে দাঁত টকে” — অপুর অসাবধান উক্তি মায়ের সামনে।

★ “মুখটা মুছে ফ্যাল্ না বাঁদর, নুন লেগে রয়েছে যে” — দুর্গার উক্তি অপুর উদ্দেশ্যে।

শব্দার্থ ও টীকা

শব্দঅর্থ ও ব্যাখ্যা
রোয়াকঘরের সামনের খোলা জায়গা বা বারান্দা।
চুপড়িছোটো ঝুড়ি, ক্ষুদ্র ধামা।
নাটাফলকরঞ্জা ফল।
খাপরার কুচিকলসি-হাঁড়ি প্রভৃতির ভাঙা অংশ বা টুকরা।
পিজরাপোলের আসামিখাঁচায় পড়ে থাকা অবহেলিত আসামির মতো অর্থে।
দাওয়াবারান্দা।
আমের কুসিকচি আম।
জারাজীর্ণ করা, কুচি কুচি করা অর্থে।
বন-বিছুটিবুনো গাছ।
কালমেঘযকৃতের রোগে উপকারী একপ্রকার তিক্ত স্বাদের গাছ।
গরাদজানালার সিক।
ভেরেণ্ডাকচার বেড়াএরন্ড বা রেড়ি গাছের বেড়া।
কুটোগাছতৃণ।
রোসো রোসোথাম থাম।

পাঠ পরিচিতি

‘আম আঁটির ভেঁপু’ শীর্ষক গল্পটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথের পাঁচালী উপন্যাস থেকে সংকলন করা হয়েছে। গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুই ভাই-বোনের আনন্দিত জীবনের আখ্যান নিয়ে গল্পটি রচিত হয়েছে। অপু ও দুর্গা হতদরিদ্র পরিবারের শিশু। কিন্তু তাদের শৈশবে দারিদ্র্যের সেই কষ্ট প্রধান হয়ে ওঠেনি । গ্রামীণ ফলফলাদি খাওয়ার আনন্দ এবং বিচিত্র বিষয় নিয়ে তাদের বিস্ময় ও কৌতূহল গল্পটিকে মানুষের চিরায়ত শৈশবকেই যেন স্মরণ করিয়ে দেয়। এই গল্পের সর্বজয়া পল্লি-মায়ের শাশ্বত চরিত্র হয়ে উঠেছে। গল্পটিতে শিশুর আনন্দপূর্ণ শৈশব এবং প্রকৃতির সম্পর্ক দেখিয়েছেন বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়। এ গল্প শিশু-কিশোরকে প্রকৃতিমুখী হওয়ার প্রেরণা জোগায় ।


Read More: SSC বাংলা প্রবাস বন্ধু গল্পের স্মার্ট নোট


আম আঁটির ভেঁপু গল্পের স্মার্ট নোট PDF Download

সমাধানে যদি কোনো ভুল খুঁজে পান, তবে দয়া করে আমাদের জানিয়ে সাহায্য করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার রেটিং দিন:

Scroll to Top