এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের আঠারো বছর বয়স কবিতার নোট, ব্যাখ্যা ও মূলভাব পিডিএফ ডাউনলোড করুন। এখানে আঠারো বছর বয়স কবিতার ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় করা হয়েছে, যাতে সকল শিক্ষার্থীরা সহজে বুঝতে পারে। আঠারো বছর বয়স কবিতার নোটটি অনলাইনে পড়ার পাশাপাশি PDF Download করে অফলাইনে পড়তে পারবে। তাহলে চলো শুরু, করা যাক।
আঠারো বছর বয়স কবিতার নোট ২০২৬
লেখক পরিচিতি
- জন্ম: ১৫ আগস্ট ১৯২৬
- মৃত্যু: ১৩ মে ১৯৪৭ (মাত্র ২১ বছর)
- পরিচয়: মার্কসবাদী চেতনায় বিশ্বাসী, প্রগতিশীল ও গণমানুষের কবি
- বৈশিষ্ট্য: স্বল্প জীবন, কিন্তু তীব্র প্রতিবাদী ও মানবিক কাব্যচেতনা
- সময়কাল: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এই পটভূমিই তাঁর কবিতার শক্ত ভিত
জন্ম ও পরিবার
- পিতা: নিবারণ ভট্টাচার্য
- মাতা: সুনীতি দেবী
- জন্মস্থান: ৪৩, মহিম হালদার স্ট্রিট, কালীঘাট, কলকাতা
- পৈতৃক বাড়ি: ঊনশিয়া গ্রাম, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ (বাংলাদেশ)
- পরিবারিক অবস্থা: নিম্নবিত্ত
- বসবাস: কলকাতার ৩৪, হরমোহন ঘোষ লেন, বেলেঘাটা
- আত্মীয়তা: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র
শিক্ষা ও শৈশব
- বিদ্যালয়: বেলেঘাটা দেশবন্ধু স্কুল
- ১৯৪৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অকৃতকার্য
- কারণ: ছাত্র আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ
- বাল্যবন্ধু: অরুণাচল বসু
- সুকান্ত সমগ্র-এ অন্তর্ভুক্ত চিঠির অধিকাংশই তাঁকে লেখা
- অরুণাচল বসুর মা সরলা বসু সুকান্তকে মাতৃস্নেহে আগলে রেখেছিলেন
প্রগতিশীল রাজনীতি ও আদর্শ
- কৈশোর থেকেই সাম্যবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত
- ১৯৪৪ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য
- কবিতার মূল প্রেরণা:
- শোষিত মানুষের দুঃখ
- শ্রেণি বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
- শোষণমুক্ত ভবিষ্যৎ সমাজের স্বপ্ন
- সম্পাদনা:
- আকাল (১৯৪৪) – ফ্যাসিবাদবিরোধী কবিতা সংকলন
- কাজ:
- দৈনিক স্বাধীনতা (১৯৪৫)-এর ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা
সাহিত্যজীবনের সূচনা
- লেখা শুরু: ৮–৯ বছর বয়সেই
- প্রথম প্রকাশ:
- হাতে লেখা পত্রিকা ‘সঞ্চয়’ – হাসির গল্প
- পত্রিকা ‘শিখা’ – বিবেকানন্দের জীবনী
- ১১ বছর বয়সে:
- গীতিনাট্য ‘রাখাল ছেলে’
- সপ্তম শ্রেণিতে:
- হাতে লেখা পত্রিকা ‘সপ্তমিকা’ (অরুণাচল বসুর সঙ্গে)
বহুমুখী সাহিত্য প্রতিভা
- শুধু কবি নন—গান, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ রচনাতেও দক্ষ
- গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ:
- ‘ছন্দ ও আবৃত্তি’ → বাংলা ছন্দে তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক দক্ষতার প্রমাণ
- রেডিও:
- কলকাতা রেডিও – ‘গল্প দাদুর আসর’
- রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি
- পরে নিজের কবিতা পাঠ
- তাঁর লেখা গানে সুর দেন পঙ্কজ মল্লিক
আরো পড়ুন: এইচএসসি বাংলা সোনার তরী কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
কাব্যচেতনা ও বিষয়বস্তু
- পরিচিতি: গণমানুষের কবি
- প্রধান বিষয়:
- শ্রমজীবী মানুষ
- ক্ষুধা, দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ
- শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
- বৈশিষ্ট্য:
- সাধারণ বস্তুকে কবিতার বিষয় (সিঁড়ি, দেশলাই, কলম)
- তারুণ্যের শক্তিতে বিদ্রোহ
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
- ছাড়পত্র (১৯৪৭)
- পূর্বাভাস (১৯৫০)
- মিঠেকড়া (১৯৫১)
- অভিযান (১৯৫৩)
- ঘুম নেই (১৯৫৪)
- হরতাল (১৯৬২)
- গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫)
- পরবর্তীতে: সুকান্ত সমগ্র (উভয় বাংলায় প্রকাশিত)
মৃত্যু
- রোগ:
- প্রথমে ম্যালেরিয়া
- পরে ক্ষয়রোগ (টিউবারকুলোসিস)
- মৃত্যুস্থান:
- রেড এড কিওর হোম, ১১৯ লাউডন স্ট্রিট, কলকাতা
- মৃত্যু: ১৩ মে ১৯৪৭
- জীবনকাল: ২১ বছর
- লেখালেখির সময়: মাত্র ৬–৭ বছর
- তবু প্রভাব: বাংলা সাহিত্যে দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর
গুরুত্ব ও মূল্যায়ন
- স্বল্প আয়ু, কিন্তু অপরিসীম সাহিত্যিক প্রভাব
- রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দের যুগেও নিজস্ব স্বাক্ষর
- বয়সের তুলনায় ভাবনায় অত্যন্ত পরিণত
- বাংলা কবিতায়:
- মানবিক বিদ্রোহ
- শ্রেণিসচেতনতা
- বাস্তব জীবনের নির্মম সত্য—সবকিছুর সাহসী উচ্চারণ
আঠার বছর বয়স কবিতার ব্যাখ্যা
প্রথম স্তবক
👉 “আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ / স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,”
ব্যাখ্যা: আঠারো বছর বয়স অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই বয়সে তরুণরা কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে চায় না। তারা বিপজ্জনক জেনেও সাহসের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর ঝুঁকি নেয়।
👉“আঠারো বছর বয়সেই অহরহ / বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।”
ব্যাখ্যা: এই বয়সে মনে প্রতিনিয়ত অসম্ভবকে সম্ভব করার বড় বড় সব স্বপ্ন ও দুঃসাহসী চিন্তা উঁকি দেয়। তারা প্রথা ভাঙার স্বপ্ন দেখে।
দ্বিতীয় স্তবক
👉“আঠারো বছর বয়সের নেই ভয় / পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা,”
ব্যাখ্যা: এই বয়সে ভয়ের লেশমাত্র নেই। পথের যেকোনো কঠিন বাধা বা পাথরসম প্রতিবন্ধকতাকে তারা সজোরে লাথি মেরে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে চায়।
আরো পড়ুন: এইচএসসি বাংলা সুচেতনা কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
👉“এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়− / আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা।”
ব্যাখ্যা: কোনো পরাশক্তির কাছে বা শৃঙ্খলের কাছে তারা নতি স্বীকার করে না। তারা ব্যক্তিগত শোকে ভেঙে পড়ে কাঁদে না, বরং সাহসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে।
তৃতীয় স্তবক
👉“এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য / বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে,”
ব্যাখ্যা: দেশের প্রয়োজনে বা মহৎ উদ্দেশ্যে রক্ত দেওয়ার ত্যাগকে এরা পবিত্র মনে করে। তাদের জীবনীশক্তি বাষ্পচালিত স্টিমারের মতোই অপ্রতিরোধ্য এবং গতিশীল।
👉“প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য / সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে।”
ব্যাখ্যা: দেশপ্রেম বা বিপ্লবের আহ্বানে তারা প্রাণ দিতে ও নিতে দ্বিধা করে না। বিভিন্ন শপথ আর আদর্শের টানে তারা নিজেদের উৎসর্গ করে দেয়।
চতুর্থ স্তবক
👉“আঠারো বছর বয়স ভয়ংকর / তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা,”
ব্যাখ্যা: এই বয়সটা বিপজ্জনকও বটে। চারপাশের অন্যায় আর শোষণ দেখে এই বয়সের তরুণদের তাজা প্রাণ যন্ত্রণায় ছটফট করে। আঠারো বছর বয়স কবিতার নোট
👉“এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর / এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা।”
ব্যাখ্যা: তাদের আবেগ খুব তীব্র ও প্রখর থাকে। একইসাথে এই বয়সে ভুল পথে পরিচালিত করার মতো অনেক নেতিবাচক প্ররোচনা বা মন্ত্রণাও কানে আসে।
পঞ্চম স্তবক
👉“আঠারো বছর বয়স যে দুর্বার / পথে প্রান্তরে ছোটায় বহু তুফান,”
ব্যাখ্যা: এই বয়সকে রোখা কঠিন। তারা সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে পরিবর্তনের ঝড় বা তুফান বয়ে নিয়ে আসে।
👉“দুর্যোগে হাল ঠিকমতো রাখা ভার / ক্ষত-বিক্ষত হয় সহস্র প্রাণ।”
ব্যাখ্যা: আবেগের আতিশয্যে অনেক সময় জীবনের নিয়ন্ত্রণ (হাল) রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ভুল পথে বা সংঘর্ষে জড়িয়ে অনেক প্রাণ অকালে ঝরে যায় বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
ষষ্ঠ স্তবক
👉“আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে / অবিশ্রান্ত; একে একে হয় জড়ো,”
ব্যাখ্যা: সমাজ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকে এই বয়সেই সবচেয়ে বেশি মানসিক ও সামাজিক আঘাত আসে। একের পর এক সমস্যা তাদের ঘিরে ধরে।
👉“এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে / এ বয়স কাঁপে বেদনায় থরোথরো।”
ব্যাখ্যা: পারিপার্শ্বিক অস্থিরতা আর ব্যর্থতায় মাঝেমধ্যে তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে এবং গভীর বেদনায় নীল হয়। তবুও তারা থেমে থাকে না।
সপ্তম স্তবক
👉“তবু আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি, / এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে,”
ব্যাখ্যা: সব নেতিবাচকতা সত্ত্বেও আঠারোর জয়গান গাওয়া হয় কারণ এই বয়সের ধর্মই হলো প্রতিকূলতার (দুর্যোগ ও ঝড়) মধ্যে টিকে থাকা এবং লড়াই করা।
👉“বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী / এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে।”
ব্যাখ্যা: যেকোনো জাতীয় সংকটে বা বিপদে এই তরুণরাই সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারাই সমাজকে নতুন কিছু উপহার দেয়।
অষ্টম স্তবক
👉“এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয় / পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে,”
ব্যাখ্যা: আঠারো কখনও ভীরুতা দেখায় না। হাজারো বাধা সত্ত্বেও তাদের চলার গতি কখনো থমকে যায় না।
👉“এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়− / এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।।”
ব্যাখ্যা: কবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, দেশের স্থবিরতা কাটাতে এবং জড়তা ভাঙতে এই আঠারোর প্রাণশক্তির কোনো বিকল্প নেই। তাই তিনি প্রার্থনা করেছেন যেন এ দেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যে আঠারোর এই তেজ ও সাহস সঞ্চারিত হয়।
আরো পড়ুন: এইচএসসি বাংলা সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর
পাঠ-পরিচিতি
সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত তাঁর ‘ছাড়পত্র’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। এ কবিতায় কবি নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছেন। কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের এ বয়সটি উত্তেজনার, প্রবল আবেগ ও উচ্ছ্বাসে জীবনের ঝুঁকি নেবার উপযোগী। এ বয়স অদম্য দুঃসাহসে সকল বাধা-বিপদকে পেরিয়ে যাওয়ার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার জন্য প্রস্তুত। এদের ধর্মই হলো আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়া, আঘাত-সংঘাতের মধ্যে রক্তশপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া। পাশাপাশি সমাজজীবনের নানা বিকার, অসুস্থতা ও সর্বনাশের অভিঘাতে হয়ে উঠতে পারে এরা ভয়ংকর।
কিন্তু এ বয়সের আছে সমস্ত দুর্যোগ আর দুর্বিপাক মোকাবিলা করার অদম্য প্রাণশক্তি। ফলে তারুণ্য ও যৌবনশক্তি দুর্বার বেগে এগিয়ে যায় প্রগতির পথে। যৌবনের উদ্দীপনা, সাহসিকতা, দুর্বার গতি, নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন এবং কল্যাণব্রত- এসব বৈশিষ্ট্যের জন্য কবি প্রত্যাশা করেছেন নানা সমস্যাপীড়িত দেশে তারুণ্য ও যৌবনশক্তি যেন জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়। আঠারো বছর বয়স কবিতার নোট
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
শব্দার্থ ও টীকা
| কবিতার লাইন / অংশ | ব্যাখ্যা |
| আঠারো বছর বয়স কী দুঃস | আঠারো বছর বয়স মানবজীবনের উত্তরণকালীন পর্যায়। কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণ করে মানুষ এ বয়সে। অন্যদের ওপর নির্ভরশীলতা পরিহার করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হয়। এই সময় কঠিন ও দুঃসহ অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়। |
| স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি | অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা পরিহার করে মাথা উঁচু করে স্বাধীনভাবে চলার ঝুঁকি এ বয়সেই নেয় মানুষ। |
| বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি | নানা দুঃসাহসী স্বপ্ন, কল্পনা ও উদ্যোগ এ বয়সের তরুণদের মনকে ঘিরে ধরে। |
| আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা | যৌবনে পদার্পণ করে মানুষ আত্মপ্রত্যয়ী হয়। জীবনের মুখোমুখি দাঁড়ায় স্বাধীনভাবে। শৈশব-কৈশোরের পরনির্ভরতার দিনগুলোতে যে কান্না ছিল তা সচেতনভাবে মুছে দেয়। |
| এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য | দেশ, জাতি ও মানবতার জন্য এ বয়সের মানুষই এগিয়ে আসে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপদ মোকাবেলা করে। নিজের প্রাণ দিয়ে স্বপ্ন ও আদর্শের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে জানে। |
| সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে | তরুণ-প্রাণ নতুন স্বপ্ন দেখে, নব-নব অগ্রগতি সাধনের জন্য শপথ নিয়ে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যায়। |
| তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা | চারপাশের অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, সামাজিক বৈষম্য ইত্যাদি দেখে প্রাণবন্ত তরুণেরা ক্ষুব্ধ হয়। |
| এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর | অনুভূতির তীব্রতা ও সংবেদনশীলতা এ বয়সে সর্বাধিক। মনোজগতে তার প্রতিক্রিয়াও গভীর হয়। |
| এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা | নানা তত্ত্ব, মতবাদ, ভাবধারা, ইতিবাচক-নেতিবাচক বিষয় এ বয়সের তরুণদের জানা ও বোঝার যোগ্য হয়। |
| দুর্যোগে হাল ঠিক মতো রাখা ভার | শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক জটিলতা মোকাবিলা করতে সচেতন ও সচেষ্ট হতে হয়। না হলে পদস্খলন বা বিপর্যয় হতে পারে। |
| এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে | সচেতনভাবে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য না রাখলে ব্যর্থতার দীর্ঘশ্বাসে নেতিবাচক অধ্যায় হয়ে যেতে পারে। |
| পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে | দেহ ও মনের স্থবিরতা অতিক্রম করে, প্রগতি ও অগ্রগতির পথে নিরন্তর ধাবমান থাকে। |
| এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে | আঠারো বছরের সাহস, উদ্দীপনা, নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন, কল্যাণ, সেবাব্রত জাতীয় জীবনে চালিকাশক্তি হয়ে উঠুক—এটি কবির প্রার্থনা। |
এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের আঠারো বছর বয়স কবিতার নোট, ব্যাখ্যা ও মূলভাব পিডিএফ ডাউনলোড করুন।






