এসএসসি বাংলা ১ম পত্রের সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর পিডিএফ ডাউনলোড করুন। বিগত সালের বোর্ড প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করে এখানে সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো। এগুলো PDF Download করে অফলাইনেও পড়তে পারবে। তাহলে চলো,শুরু করি।
সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর PDF
০১। দুই পুত্রসন্তানের পর কন্যাসন্তান পলাশ বাবুর পরিবারে আনন্দের বন্যা নিয়ে এল। নাম রাখা হলো ‘কল্যাণী’। সকলের চোখের মণি কল্যাণী বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পলাশ বাবু বুঝতে পারলেন, বয়সের তুলনায় কল্যাণীর মানসিক বিকাশ ঘটেনি। কিছু বললে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে। কল্যাণীর বিয়ের কথাবার্তা চলছে। পলাশ বাবু কল্যাণীর সবই বরপক্ষকে খুলে বললেন। সব শুনে বরের বাবা সুবোধ বাবু বললেন, ‘পলাশ বাবু কল্যাণীর মতো আমার ছেলেও তো হতে পারত, কাজেই কল্যাণীমাকে ঘরে নিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’
ক. সুভার গ্রামের নাম কী?
খ. ‘পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার’- কথাটি দ্বারা লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার যে বিশেষ দিকটির সঙ্গতি দেখানো হয়েছে- তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন।’- বিশ্লেষণ কর।
১নং প্রশ্নের উত্তর
ক। সুভার গ্রামের নাম চণ্ডীপুর।
খ। ‘পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার’- কথাটির মধ্য দিয়ে লেখক বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার বিয়ের বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে দিতে না পারায় পিতা-মাতার হৃদয়ের নীরব কষ্টকে বোঝাতে চেয়েছেন।
সুভা বাণীকণ্ঠের ছোট মেয়ে। সে কথা বলতে পারে না। বাণীকণ্ঠ তার বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় ছোট মেয়ে সুভাকে বিয়ে দিতে পারেননি। তাই সুভার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাণীকণ্ঠ এবং তার স্ত্রী উভয়েই চিন্তিত। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাদের হৃদয়ে নীরব কষ্ট সৃষ্টি হয়। লেখক সেই কষ্টকেই বলেছেন- পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার।
গ। উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার দিকটির সংগতি দেখানো হয়েছে।
শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অনেকে সমাজে অবহেলার শিকার হয়। এতে সমাজের মানুষ হীনম্মন্যতার পরিচয় দেয়। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূশীল হলে তবেই তারা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সমাজে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।
‘সুভা’ গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। আনন্দের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এলেও কথা বলতে না পারার বিষয়টি কিছুটা সুভার বাবা-মায়ের মনে নীরব হৃদয়ভারের জন্ম দেয়। উদ্দীপকের কল্যাণীর জন্মও পরিবারে আনন্দ নিয়ে আসে। কিন্তু তার মানসিক প্রতিবন্ধিতার দিকটি সবাইকে চিন্তিত করে তোলে। তার মানসিক বিকাশ কিছুটা কম হয়েছে। ‘সুভা’ গল্পের সুভাও বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার পরিবারের সবার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার প্রতিবন্ধিতার দিকটি সংগতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঘ। কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন- মন্তব্যটি যথার্থ।
শারীরিক প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে অবহেলার সম্মুখীন হয়। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদের মতোই মানুষ। তাই তাদের কল্যাণে এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সহানুভূতি পেলে তারা জীবনের পূর্ণতা লাভ করবে।
উদ্দীপকে কল্যাণীর মানসিক বিকাশ ঠিকভাবে ঘটেনি। বিয়ের কথাবার্তায় তার বাবা পলাশ বাবু বরপক্ষের কাছে সে সব কথা খুলে বলেন। তারা সব শুনে উদারতার পরিচয় দেন। বরের বাবা সুবোধ বাবু মহত্ত্বের পরিচয় দিয়ে কল্যাণীকে ঘরে নিয়ে যেতে চান। অন্যদিকে ‘সুভা’ গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পারে না। সবার কাছ থেকে অবহেলা পেলেও সুভা তার বাবার ভালোবাসা পেয়েছে। সুভার সাথে কেউ মেশে না বলে সে পোষা প্রাণীদের মাঝে নিজের একটি বিশাল জগৎ তৈরি করেছে।
উদ্দীপকের কল্যাণী ও ‘সুভা’ গল্পের সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন। কল্যাণী সুবোধ বাবুর উদারতায় পেয়েছে সুন্দর ভবিষ্যতের সন্ধান। অথচ ‘সুভা’ গল্পের সুভার পরিণতি এতটা মানবিকতায় সিক্ত হয়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
আরো পড়ুন: এসএসসি প্রবাস বন্ধু গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
২। মেঘনার তীরবর্তী গ্রামে বেড়ে ওঠা দুরন্ত কিশোর জুনায়েদ দশম শ্রেণির ছাত্র। ক্লাসে সবচেয়ে প্রাণবন্ত ও অসম সাহসী এ. কিশোর। সবকিছুতে তার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। খেলাধুলা, বন্ধুদের সাথে দুষ্টুমি কোনো কিছুতে সে পিছিয়ে নেই। হঠাৎ একদিন সড়ক দুর্ঘটনায় সে তার একটি পা হারায়। এতে সে মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। পড়ালেখায় মন দিতে পারছে না। তার সর্বদা মনে হতে লাগল * এখন আর পড়ালেখা করে কী লাভ হবে? কিন্তু তার সহপাঠীরা তাকে উৎসাহ ও সাহস দিয়ে আবার প্রাণচঞ্চল করে তোলে। সে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়। সকলে তার সফলতায় খুশি হয়। সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ক. সুভা কার কাছে মুক্তির আনন্দ পায়?
খ. মা সুভাষিণীকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ দেখতেন কেন?
গ. উদ্দীপকের জুনায়েদের মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার দিকটি ‘সুভা’ গল্পের সুভার সঙ্গে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের সহপাঠীদের মতো মানসিকতা থাকলে ‘সুভা’ গল্পের সুভার পরিবারকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো-না-মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
২নং প্রশ্নের উত্তর
ক। সুভা বিপুল নির্বাক প্রকৃতির কাছে মুক্তির আনন্দ পায়।
খ। একজন মা ছেলে অপেক্ষা মেয়েকে নিজের অংশরূপে দেখেন বলে মা সুভাষিণীকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ দেখতেন।
‘সুভা’ গল্পে সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই সে কথা বলতে পারে না। এ জন্য তার মা তাকে নিজের একটি ত্রুটিস্বরূপ দেখতেন। কারণ সমাজে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী একজন মা ছেলে অপেক্ষা তার মেয়েকে নিজের অংশরূপে দেখেন। এ জন্য মেয়ের কোনো অসম্পূর্ণতা দেখলে মা সেটিকে নিজের লজ্জার কারণ বলে মনে করেন।
গ। উদ্দীপকের জুনায়েদের মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার দিকটি ‘সুভা’ গল্পের সুভার নিজেকে গোপন করার চেষ্টার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের সমাজ অবহেলার চোখে দেখে। এই কারণে তারা পরিজনদের মাঝে থেকেও অসহায়ের মতো জীবনযাপন করে। আমাদের উচিত তাদের দিকে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
উদ্দীপকে দুরন্ত কিশোর জুনায়েদ সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। লেখাপড়ায় মন দিতে পারে না। ফলে সে হতাশায় নিমজ্জিত হয়। তার এই ভেঙে পড়ার সঙ্গে ‘সুভা’ গল্পের সুভার মনের অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে। সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। সে যে বিধাতার অভিশাপরূপে তার বাবার ঘরে এসে জন্মগ্রহণ করেছিল তা শিশুকাল থেকেই বুঝেছিল। এ জন্য সে নিজেকে সাধারণের দৃষ্টিপথ থেকে সবসময় গোপন করে রাখার চেষ্টা করত। এভাবে সুভার এই মানসিকতার সঙ্গে উদ্দীপকের জুনায়েদের মানসিকতা সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ। উদ্দীপকের সহপাঠীদের মতো মানসিকতা থাকলে ‘সুভা’ গল্পের সুভার পরিবারকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না- মন্তব্যটি যথার্থ।
শারীরিক প্রতিবন্ধীরা আমাদের পরিবার ও সমাজেরই অংশ। অথচ তাদের প্রতি স্বাভাবিক আচরণ করি না। আমরা বৈষম্যপূর্ণ আচরণ করি। এতে করে তাদের জীবন হতাশা ও দুঃখময় হয়ে ওঠে। আমাদের উচিত তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া।
উদ্দীপকের জুনায়েদ দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তার সহপাঠীরা তাকে উৎসাহ ও সাহস দিয়ে আবার প্রাণচঞ্চল করে তোলে। সে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। তার কৃতিত্বে সবাই খুশি। ‘সুভা’ গল্পের সুভাও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক বালিকা। সে জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না। ফলে তাকে তার পরিবারের লোকজনের মনঃকষ্টের কারণ হয়ে বেঁচে থাকতে হয়। নিজেকে সে অসহায় ভাবে। কারণ উদ্দীপকের সহপাঠীদের মতো তাকে কেউ সাহস-সহানুভূতি জোগায়নি। সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
উদ্দীপকের জুনায়েদকে তার সহপাঠীরা সাহস দিয়ে, মানসিক সমর্থন দিয়ে তাকে সফল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করেছে। সেক্ষেত্রে সুভা কোনো সহায়তা বা সহমর্মিতা পায়নি। সুভা যদি জুনায়াদেরে মতো সহযোগিতা ও পরিবেশ পেত তাহলে’ তার পরিবারকে এমন বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না। এই বিবেচনায় তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
আরো পড়ুন: এসএসসি নিমগাছ গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
৩। “অন্ধত্বকে জয় করেছে কুসুমপুরের কলি।”শ্রীনিজস্ব প্রতিবেদক।। দৈনিক প্রতিভা- জন্মান্ধ হলেও কুসুমপুরের কলি আজ সঙ্গীত জগতে এক উজ্জ্বল তারকা। আর তা সম্ভব হয়েছে তার মার কারণে। অন্ধত্বের বিষয়টি জানার পরও তিনি হতাশ হননি বরং অন্য যেকোনো সন্তানের চেয়ে কলি আরো বড় হবে এই প্রত্যয়ে তাকে লেখাপড়া ও গান শেখাতে শুরু করেন; তাঁর চেষ্টা আজ সফল হয়েছে। তিনি কলির জন্য আজ গর্বিত মা।
ক. ‘সুভা’ গল্পে একমাত্র কে সুভার মর্যাদা বুঝত?
খ. ‘সুভা’ গল্পে ‘গ্রামলক্ষ্মী স্রোতম্বিনী’ কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের বক্তব্যে ‘সুভা’ গল্পের যে বৈপরীত্য লক্ষণীয় তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যা পেলে সুভাও কলির মতো হয়ে উঠত- বিশ্লেষণ কর।
৩ নং প্রশ্নের উত্তর
ক। ‘সুভা’ গল্পে একমাত্র সুভার মর্যাদা বুঝত প্রতাপ।
খ। ‘সুভা’ গল্পে ‘গ্রামলক্ষ্মী স্রোতস্বিনী’ কথাটি দ্বারা চন্ডীপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ছোট নদীকে বোঝানো হয়েছে।
সুভাদের গ্রামের নাম চণ্ডীপুর। এই গ্রামের পাশ দিয়ে ছোট নদীটি বয়ে গেছে গৃহস্থঘরের মেয়েটির মতো। নিরলসভাবে তার ছুটে চলা। দুই তীরে অবস্থিত দুই গ্রামের সবার সঙ্গেই যেন নদীটির ভাব বা সম্পর্ক রয়েছে। তার জল গ্রামের সবার জন্য প্রয়োজন। দুই ধারে লোকালয় এবং তরুচ্ছায়াঘন তীর, নিচ দিয়ে যেন গ্রামলক্ষ্মী স্রোতম্বিনী দ্রুত পায়ে নানা মঙ্গল কাজ করে চলেছে। সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
গ। উদ্দীপকের বক্তব্যে ‘সুভা’ গল্পের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বৈপরীত্য লক্ষ করা যায়।
সমাজে বিভিন্ন ধরনের মানুষ বাস করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হয়ে থাকে। তারা শারীরিক অক্ষমতার জন্য অনেক সময় অবহেলার শিকার হয়। কিন্তু আমাদের উচিত তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।
উদ্দীপকের কলি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তথা অন্ধ হলেও সে শারীরিক প্রতিবন্ধিতা কাটিয়ে আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত। সংগীত জগতের উজ্জ্বল তারকা। তার এই সফলতার পেছনে কাজ করেছে তার মায়ের মানসিক দৃঢ়তা এবং মেয়েকে দিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়। এই দিকটি ‘সুভা’ গল্পে অনুপস্থিত। জন্মের পর সুভা কথা বলতে পারে না, এ কথা জেনে মা সুভাকে তার নিজের গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করে। সংসারে যেন সে বিধাতার অভিশাপরূপে জন্মগ্রহণ করেছে। তাই সব সময় সে মনে করত- ‘আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি।’ পিতা-মাতার মনে সবসময় সে বেদনা হিসেবে জেগে থাকে। এখানে উদ্দীপকের সঙ্গে গল্পের দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্যই পরিলক্ষিত হয়।
ঘ। উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যা পেলে সুড়াও কলির মতো হয়ে উঠত- মন্তব্যটি যথার্থ।
শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষগুলো কোনোভাবেই অবহেলার পাত্র নয়। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ। তাদের যদি সঠিকভাবে পরিচর্যা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া হয় তবে তারাও সফলতার শীর্ষে পৌছাতে পারে।
উদ্দীপকের কলি অন্ধ হলেও নিজের চেষ্টা এবং পরিবারের সবার, বিশেষ করে তার মায়ের ইচ্ছা ও আত্মবিশ্বাসের কারণে সে জীবনে সফল হতে পেরেছে। সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। ‘সুভা’ গল্পের সুভাও শারীরিকভাবে অক্ষম একটি মেয়ে। সে কথা বলতে পারে না। এজন্য তার মা তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক ভাবে। যার জন্য সে মনে করত সবাই যদি তাকে ভুলে যেত তবে সে বেঁচে যেত। সুভা যদি উদ্দীপকের কলির মতো পরিবেশ পেত তবে সেও জীবনে সফল হতে পারত।
‘সুভা’ গল্পের মাধ্যমে বাষ্প্রতিবন্ধী এক কিশোরীর প্রতি লেখকের ভালোবাসা ও মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে। সুভা উদ্দীপকের কলির মতো পরিবেশ পায়নি, কারও সহানুভূতি পায়নি। তাকে কেউ পরিচর্যা করেনি, তাই তো সে কলির মতো জীবনকে জয় করতে পারেনি। সে যদি এসব সুযোগ পেত তাহলে সেও কলির মতো হতে পারত। এসব বিচারে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
আরো পড়ুন: এসএসসি কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
৪। বাবা-মা হারা রেজা তার চাচা আমজাদ সাহেবের কাছে থাকে। রেজার একটি হাত ও একটি পা নেই। তবু সে থেমে থাকে না। ক্লাসে ভালো ফলাফল করায় শিক্ষকগণ তাকে স্নেহ করেন। সহপাঠীরা তাকে সহযোগিতা করে। তবে কেউ কেউ তাকে নিয়ে তামাশা করে। ফলে অনেক সময় মন খারাপ হয়। চাচা তাকে বলে, “মন খারাপ করো না, এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে তুমি সবাইকে দেখিয়ে দাও যে তুমিও পার।” সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ক. সুভার মা সুভার প্রতি বিরক্ত ছিলেন কেন?
খ. সুভা মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের রেজার সাথে ‘সুভা’ গল্পের সুভার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
ঘ. সুভার বাবা-মায়ের মানসিকতা যদি রেজার চাচার মতো হতো তবে সুভার পরিণতি অন্য রকম হতে পারত- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
৪ নং প্রশ্নের উত্তর
ক। জন্ম থেকে সুভা কথা বলতে পারত না বলে সুভার মা তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করে তার প্রতি বিরক্ত ছিলেন।
খ। সুভা মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত তার নিজের প্রয়োজনীয়তা প্রতাপকে বোঝানোর জন্য।
প্রতাপ যখন ছিপ ফেলে জলের দিকে চেয়ে থাকত তখন সুভা তার কাজে সাহায্য করতে চাইত। সে কাজের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে চাইত যে এই পৃথিবীতে সেও একজন প্রয়োজনীয় লোক। অথচ সুভা সেসব কিছুই করতে পারত না। আর এই কারণেই সে বিধাতার কাছে প্রার্থনা করত- যাতে অলৌকিক ক্ষমতাবলে কোনো একটি কাজ করে সে প্রতাপের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।
গ। উদ্দীপকের রেজার সাথে ‘সুভা’ গল্পের সুভার সাদৃশ্য হলো শারীরিক প্রতিবন্ধিতার।
আমাদের সমাজে শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে মানুষ নানাভাবে অবহেলা ও অবজ্ঞার শিকার হয়। অথচ তারাও আমাদের মতো মানুষ। আমাদের একটু সহানুভূতিই তাদের জীবন আরও সুন্দর হতে পারে।
উদ্দীপকের রেজা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধকতার শিকার। তার একটি হাত ও একটি পা নেই। এ কারণে অনেকে তাকে নিয়ে তামাশা করে। ফলে তার মন খারাপ হয়। ‘সুভা’ গল্পের সুভাও জন্মগতভাবে বোবা। সে কথা বলতে পারে না। বাষ্প্রতিবন্ধী সুভা পরিবার ও স্বজনদের অবহেলা ও অবজ্ঞার মধ্য দিয়েই বড় হয়েছে। তার নিজের মাও তার ওপর বিরক্ত হয়েছেন, তাকে তার গর্ভের কলঙ্ক মনে ‘করেছেন। উদ্দীপকের রেজা ও ‘সুভা’ গল্পের সুভা উভয়েই শারীরিক প্রতিবন্ধী। এভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধিতার দিক থেকে উদ্দীপকের রেজার সঙ্গে ‘সুভা’ গল্পের সুভার সাদৃশ্য রয়েছে। সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ঘ। সুভার বাবা-মায়ের মানসিকতা যদি রেজার চাচার মতো হতো তবে সুভার পরিণতি অন্য রকম হতে পারত- উক্তিটি যথার্থ।
সমাজে যেকোনো মানুষ শারীরিক প্রতিবন্ধী হতে পারে। তাই বলে তাদের অবজ্ঞা করা উচিত নয়। তারা এই সমাজেরই অংশ। সুযোগ পেলে তারাও সাধারণের মতো অসাধ্য সাধন করতে পারে।
উদ্দীপকের রেজা বাবা-মা হারা। সে চাচার আশ্রয়ে থাকে। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধিতার শিকার। রেজার একটি হাত ও একটি পা নেই। তার এই দুরবস্থা দেখে অনেকেই তামাশা করে। তার চাচা তাকে সাহস দেয়, অনুপ্রাণিত করেন। তিনি রেজাকে পড়ালেখা শেখান এবং তাকে এসএসসিতে ভালো ফল করে সবাইকে দেখিয়ে দিতে বলেন। প্রমাণ করতে বলেন যে সেও সবার মতোই একজন মানুষ। অন্যদিকে ‘সুভা’ গল্পের সুভাও শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার। কেবল বাবা ছাড়া বাকি সবার কাছ থেকে সে শুধু অবহেলা পেয়েছে। এমনকি তার নিজের মাও তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করেন। লোকনিন্দার ভয়ে তার বাবা তাকে বিয়ে দিতে শহরে নিয়ে যান।
উদ্দীপকের রেজা এবং ‘সুভা’ গল্পের সুভা উভয়েই প্রতিবন্ধিতার শিকার। রেজাকে তার চাচা পড়াশোনা করান। শক্তি ও সাহস জোগান জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে, যা আলোচ্য গল্পের সুভা তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে পায় না। যদি তার বাবা-মায়ের মানসিকতা রেজার চাচার মতো হতো তাহলে সুভাকে তার গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় যেতে হতো না। তার পরিণতি আরও সুন্দর হতে পারত। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
এসএসসি বাংলা ১ম পত্রের সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর পিডিএফ ডাউনলোড করুন।
