SSC বাংলা নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের স্মার্ট নোট

SSC বাংলা ১ম পত্রের নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের স্মার্ট নোট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই নোটে প্রবন্ধের মূলভাব, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, লেখকের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা এবং পরীক্ষায় আসতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় সাজানো হয়েছে। অল্প সময়ে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝে দ্রুত রিভিশন দেওয়ার জন্য এই স্মার্ট নোটটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর সহায়িকা।


নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের স্মার্ট নোট

এক নজরে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

বিষয়তথ্য
জন্ম৯ ডিসেম্বর ১৮৮০, পায়রাবন্দ, মিঠাপুকুর, রংপুর
মৃত্যু৯ ডিসেম্বর ১৯৩২, কলকাতা (৫২ বছর বয়সে)
স্বামীসৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন (বিবাহ: ১৮৯৮–১৯০৯)
পরিচয়বাঙালি চিন্তাবিদ, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, সমাজ সংস্কারক
খ্যাতিবাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত ও প্রথম বাঙালি নারীবাদী

🏆 স্বীকৃতি ও সম্মাননা

  • বিবিসি বাংলার ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’ জরিপে ৬ষ্ঠ (২০০৪)
  • বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর ‘রোকেয়া দিবস’ উদ্যাপন করে
  • নারী উন্নয়নে অবদানের জন্য বেগম রোকেয়া পদক প্রদান
  • প্রথম নারী নামে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
  • গুগল ডুডল (২০১৭) তার ১৩৭তম জন্মবার্ষিকীতে
  • স্মারক ডাকটিকিট (১৯৮০) জন্মশতবার্ষিকীতে

📚 প্রধান সাহিত্যকর্ম

রচনাসালধরনমূল বিষয়বস্তু
মতিচূর (১ম ও ২য় খণ্ড)১৯০৪, ১৯২২প্রবন্ধগ্রন্থনারী-পুরুষ সমকক্ষতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
সুলতানার স্বপ্ন১৯০৫বিজ্ঞান কল্পকাহিনীনারীশাসিত ইউটোপিয়া, পিতৃতন্ত্রের সমালোচনা
পদ্মরাগ১৯২৪উপন্যাসনারী জাগরণ ও ক্ষমতায়ন
অবরোধবাসিনী১৯৩১ব্যঙ্গাত্মক প্রবন্ধঅবরোধপ্রথার তীব্র বিদ্রূপ

🌟 সুলতানার স্বপ্ন বিশ্বের নারীবাদী ইউটোপিয়ান সাহিত্যের একটি ক্লাসিক নিদর্শন

💡 মূল চিন্তাধারা ও দর্শন

১. নারীশিক্ষা ও স্বাবলম্বিতা

  • শিক্ষার অভাব = নারীপশ্চাৎপদতার মূল কারণ
  • নারীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের আহ্বান
  • পেশায় নারী: ডাক্তার, ম্যাজিস্ট্রেট, ব্যারিস্টার, জজ—সবই হতে হবে

২. ধর্ম ও পিতৃতন্ত্রের সমালোচনা

“আমাদিগকে অন্ধকারে রাখিবার জন্যে পুরুষগণ এই ধর্মগ্রন্থগুলি ইশ্বরের আদেশ বলিয়া প্রচার করিয়াছেন। … এই ধর্মগ্রন্থগুলি পুরুষরচিত বিধিব্যবস্থা ভিন্ন কিছুই নহে।” (১৯০৪)

  • ধর্মের নামে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ
  • পুরুষ-নির্মিত ধর্মীয় বিধানকে চ্যালেঞ্জ

৩. অলঙ্কার = দাসত্বের প্রতীক

“আমাদের অলঙ্কারগুলি– এগুলি দাসত্বের নিদর্শন। … কারাগারে বন্দিগণ লৌহনির্ম্মিত বেড়ী পরে, আমরা স্বর্ণ রৌপ্যের বেড়ী পরিয়া বলি ‘মল পরিয়াছি।'”

  • সোনার গহনাকে ‘স্বর্ণশৃঙ্খল’ আখ্যা
  • নারীদের অলঙ্কারমুক্ত হয়ে আত্মসম্মানবোধে জাগ্রত হওয়ার আহ্বান

🏫 সামাজিক ও শিক্ষামূলক কাজ

বছরকর্ম
১৯০৯ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ প্রতিষ্ঠা (৫ ছাত্রী)
১৯১১কলকাতায় স্কুল পুনঃপ্রতিষ্ঠা (৮ ছাত্রী)
১৯১৬ছাত্রীসংখ্যা শতাধিক
১৯১৬‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম’ (মুসলিম নারী সংগঠন) প্রতিষ্ঠা
১৯২৬বাংলার নারী শিক্ষা সম্মেলনে সভাপতিত্ব
১৯৩০বঙ্গীয় মুসলিম সম্মেলনে বাংলা ভাষার পক্ষে বক্তব্য (সাহসিক কর্ম)

📖 রচনাশৈলীর বৈশিষ্ট্য

  • ✔ উদ্ভাবনা ও যুক্তিবাদিতা
  • ✔ হাস্যরস ও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ
  • ✔ বিজ্ঞানমনস্কতা
  • ✔ স্বকীয় ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত স্টাইল

জীবনরেখা

১৮৮০ ─ রংপুরের পায়রাবন্দে জন্ম

১৮৯৮ ─ সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সাথে বিবাহ

১৯০২ ─ প্রথম প্রকাশনা: ‘পিপাসা’ (নবপ্রভা পত্রিকা)

১৯০৪ ─ ‘মতিচূর’ প্রকাশ

১৯০৫ ─ ‘সুলতানার স্বপ্ন’ প্রকাশ (ইংরেজি)

১৯০৯ ─ স্বামীর মৃত্যু (৩ মে); ভাগলপুরে স্কুল স্থাপন

১৯১১ ─ কলকাতায় স্কুল পুনঃপ্রতিষ্ঠা

১৯১৬ ─ আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠা

১৯২৪ ─ ‘পদ্মরাগ’ প্রকাশ

১৯৩১ ─ ‘অবরোধবাসিনী’ প্রকাশ

১৯৩২ ─ ৯ ডিসেম্বর মৃত্যু (জন্মদিনেই)

🏛️ স্মৃতি ও নামাঙ্কিত প্রতিষ্ঠান

প্রতিষ্ঠানস্থান
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়রংপুর
রোকেয়া হল (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)ঢাকা
রোকেয়া হল (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়)রাজশাহী
রোকেয়া হল (খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)খুলনা
রোকেয়া হল (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়)ময়মনসিংহ
বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রপায়রাবন্দ, মিঠাপুকুর, রংপুর
বেগম রোকেয়া উদ্যানকলকাতা
বেগম রোকেয়ার ভাস্কর্য ‘আলোকবর্তিকা’রংপুর শহর

💬 স্মরণীয় উক্তি

“যদি এখন স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জন করিলে স্বাধীনতা লাভ হয়, তবে তাহাই করিব। আবশ্যক হইলে আমরা লেডী ডাক্তার, লেডী ম্যাজিস্ট্রেট, লেডী ব্যারিস্টার, লেডী জজ — সবই হইব!”

“ধর্ম আমাদের দাসত্বের বন্ধন দৃঢ় হইতে দৃঢ়তর করিয়াছে; ধর্মের দোহাই দিয়া পুরুষ এখন রমণীর উপর প্রভুত্ব করিতেছেন।”

“আমরা বহুকাল হইতে দাসীপনা করিতে করিতে দাসীত্বে অভ্যস্ত হইয়া পড়িয়াছি। ক্রমে পুরুষরা আমাদের মনকে পর্য্যন্ত দাস করিয়া ফেলিয়াছে।”

নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের স্মার্ট নোট – গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

★ “নিরীহ বাঙালি” রচনাটির রচয়িতা — বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।

★ “নিরীহ বাঙালি” রচনাটির ধরণ — ব্যঙ্গাত্মক প্রবন্ধ/সামাজিক বিদ্রূপ।

★ রোকেয়া “নিরীহ বাঙালি” প্রবন্ধে ব্যঙ্গ করেছেন — বাঙালি নারী-পুরুষের জীবনাচরণকে।

★ রোকেয়া “নিরীহ বাঙালি” প্রবন্ধে বাঙালিদের বলেছেন — দুর্বল ও নিরীহ।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালি শব্দে প্রকাশ পায় — সুমধুর তরল কোমল ভাব।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালি গঠিত হয়েছে — বিশ্বজগতের সমুদয় সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতা নিয়ে।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালি হলো — মূর্তিমতী কবিতা।

★ রোকেয়ার মতে, ভারতবর্ষ যদি অট্টালিকা হয়, বঙ্গদেশ — তার বৈঠকখানা (ড্রইং রুম)।

★ রোকেয়ার মতে, ভারতবর্ষ যদি অট্টালিকা হয়, বাঙালি — তার সাজসজ্জা (ড্রইং রুম স্যুট)।

★ রোকেয়ার মতে, ভারতবর্ষ যদি সরোবর হয়, বাঙালি — পদ্মিনী।

★ রোকেয়ার মতে, ভারতবর্ষ যদি উপন্যাস হয়, বাঙালি — তার নায়িকা।

★ রোকেয়ার মতে, ভারতের পুরুষ সমাজে বাঙালি — পুরুষিকা।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালির খাদ্যদ্রব্য — পুঁইশাকের ডাঁটা, সজিনা ও পুঁটি মাছের ঝোল।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালির খাদ্যদ্রব্য — ঘৃত, দুগ্ধ, ছানা, নবনীত, ক্ষীর, সর, সন্দেশ ও রসগোল্লা।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালির প্রধান ফল — আম ও কাঁঠাল।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালির খাদ্য ত্রিগুণাত্মক — সরস, সুস্বাদু ও মধুর।

★ রোকেয়ার মতে, সজিনা যেমন বীজবহুল, বাঙালির তেমন — ভুঁড়িটি স্থূল।

★ রোকেয়ার মতে, নবনীতে কোমলতা বেশি, তাই বাঙালির স্বভাবের — ভীরুতা বেশি।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালি পুরুষের অঙ্গ — তৈলসিক্ত নবনিগঠিত সুকোমল।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালি পুরুষের পরিধেয় — অতি সূক্ষ্ম শিমলার ধুতি ও চাদর।

★ বাঙালি পুরুষের ধুতি-চাদরে বায়ুসঞ্চালনের — কোনো বাধা নেই।

★ বাঙালি পুরুষ সময় সময় ব্যবহার করেন — কোট ও শার্ট।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালি নারীরা ব্যবহার করেন না — ইংরেজ ললনাদের নির্লজ্জ পরিচ্ছদ (শেমিজ-জ্যাকেট)।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালি নারীরা পরেন — অতি মসৃণ ও সূক্ষ্ম ‘হাওয়ার শাড়ি’।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালির সকল বস্তুই — সুন্দর, স্বচ্ছ ও সহজলব্ধ।

★ রোকেয়ার মতে, ধনবৃদ্ধির দুই উপায় — বাণিজ্য ও কৃষি।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালিদের প্রধান ব্যবসায় — বাণিজ্য।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালিরা বাণিজ্যে কঠিন পরিশ্রম — বর্জন করেছেন।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালিদের দোকানে প্রয়োজনীয় জিনিস নেই, আছে — বিলাসদ্রব্য।

★ বাঙালিদের দোকানে বিক্রয়ের জন্য মজুদ আছে — নানাবিধ কেশতৈল ও রোগবর্ধক ঔষধ।

★ বাঙালিদের দোকানে বিক্রয় হয় — রাঙা পিত্তলের অলঙ্কার, নকল হীরার আংটি, বোতাম।

★ বাঙালিরা খাঁটি সোনা-রূপা রাখেন না — টাকার অভাবে।

★ “দীর্ঘকেশী” তেলের অনুকরণে বাঙালিরা তৈরি করে — “হ্রস্বকেশী” তেল।

★ “কুন্তলীনের” সঙ্গে বিক্রয় হয় — “কেশলীন”।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালিরা ধান্য-তণ্ডুলের ব্যবসায় করে না — কারণ therein পরিশ্রম আবশ্যক।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালিদের অন্যতম ব্যবসায় — পাস বিক্রয়।

★ ব্যঙ্গাত্মকভাবে পাস বিক্রেতার নাম — “বর”।

★ ব্যঙ্গাত্মকভাবে পাস ক্রেতার নাম — “শ্বশুর”।

★ ব্যঙ্গাত্মকভাবে এম.এ. পাসের মূল্য — অর্ধেক রাজত্ব ও এক রাজকুমারী।

★ রোকেয়ার মতে, সশরীরে পরিশ্রম করে মুদ্রালাভের চেয়ে সহজ — ‘ওল্ড ফুল’ শ্বশুরের যথাসর্বস্ব লুণ্ঠন করা।

★ রোকেয়ার মতে, কৃষিকাজ করার চেয়ে সহজ — মস্তিষ্ক উর্বর (ব্রেন কালচার) করা।

★ রোকেয়ার মতে, উর্বর ভূমি কর্ষণের চেয়ে সহজ — মুখস্থ বিদ্যার জোরে অর্থ উৎপাদন করা।

★ রোকেয়ার মতে, কৃষিকাজে পারদর্শী হওয়ার চেয়ে সহজ — কেবল M.R.A.C পাস করা।

★ রোকেয়ার মতে, কৃষি বিষয়ে জ্ঞানচর্চার চেয়ে সহজ — আরামকেদারায় বসে দুর্ভিক্ষ সমাচার পাঠ করা।

★ রোকেয়ার মতে, অন্নোৎপাদনের চেষ্টা না করে বাঙালিরা সচেষ্ট — অর্থ উৎপাদনে।

★ রোকেয়ার ব্যঙ্গ: রাজ্য স্থাপনের চেয়ে সহজ — “রাজা” উপাধি লাভ করা।

★ রোকেয়ার ব্যঙ্গ: শিল্পকার্যে পারদর্শী হওয়ার চেয়ে সহজ —  B.Sc ও D.Scপাস করা।

★ রোকেয়ার ব্যঙ্গ: মহৎ কাজে খ্যাতি লাভের চেয়ে সহজ — “খাঁ বাহাদুর” বা “রায় বাহাদুর” উপাধি কেনা।

★ রোকেয়ার ব্যঙ্গ: দেশের দুঃখে ব্যথিত হওয়ার চেয়ে সহজ — বিদেশি বড়লোকের মৃত্যুতে ‘শোক সভার’ সভ্য হওয়া।

★ রোকেয়ার ব্যঙ্গ: দেশের দুর্ভিক্ষ নিবারণের চেয়ে সহজ — আমেরিকার নিকট ভিক্ষা গ্রহণ করা।

★ রোকেয়ার ব্যঙ্গ: স্বাস্থ্যরক্ষার চেয়ে সহজ — স্বাস্থ্য নষ্ট করে ডাক্তারের হাতে জীবন সমর্পণ করা।

★ রোকেয়ার ব্যঙ্গ: সুস্থ ও প্রফুল্ল হওয়ার চেয়ে সহজ — কালিডোর, মিল্ক অভ রোজ ও ভিনোলিয়া পাউডার মাখা।

★ রোকেয়ার ব্যঙ্গ: বাহুবলে প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে সহজ — মানহানির মোকদ্দমা করা।

★ রোকেয়ার মতে, মূর্তিমান আলস্যে অগ্রণী — বাঙালি গৃহিণীগণ।

★ রোকেয়ার ব্যঙ্গ: নারীরা রৌদ্রতাপ সহ্য করতে পারে না, তাই — অগ্নির উত্তাপও সহ্য করতে পারেন না (রান্না নিয়ে ব্যঙ্গ)।

★ যে নারীদের রান্না করতে বলে, তার ত্রিবিধ দণ্ড — (১) তুষানলে দগ্ধ, (২) জবেহ, (৩) ফাঁসি।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালি সকলেই — কবি।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালিদের কবিতায় বীররসের চেয়ে বেশি — করুণরস।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালি লেখক অপেক্ষা লেখিকার সংখ্যা — বেশি।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালিদের কবিতার অশ্রুপ্রবাহ — বিনা কারণে বেশি বহে।

★ বাঙালি কবিতার বিষয়: “ভগ্ন শূর্প”, “জীর্ণ কাঁথা”, “পুরাতন চটিজুতা”।

★ রোকেয়ার সৃষ্ট নতুন শব্দ: “অতি শুভ্রনীলাম্বর” — পরিষ্কার নীল আকাশ।

★ রোকেয়ার সৃষ্ট নতুন শব্দ: “সাশ্রুসজলনয়ন” — অশ্রুতে ভেজা চোখ।

★ রোকেয়ার মতে, শ্রীমতীদের করুণ বিলাপের “অশ্রুজলের” বন্যায় — বঙ্গদেশ ডুবে যাচ্ছে।

★ “কুসুমের সৌকুমার্য” — বাঙালির গুণ বর্ণনায় রোকেয়ার ব্যবহার।

★ “চন্দ্রের চন্দ্রিকা” — বাঙালির সৌন্দর্য বর্ণনায় রোকেয়ার উল্লেখ।

★ “যুথিকার সৌরভ” — বাঙালির স্নিগ্ধতা বর্ণনায় রোকেয়ার ব্যবহার।

★ “সুপ্তির নীরবতা” — বাঙালির কোমলতা বর্ণনায় রোকেয়ার উল্লেখ।

★ “ভূধরের অচলতা” — বাঙালির স্থিরতা বর্ণনায় রোকেয়ার ব্যঙ্গ।

★ “নবনীর কোমলতা” — বাঙালির স্বভাব বর্ণনায় রোকেয়ার ব্যঙ্গ।

★ “সলিলের তরলতা” — বাঙালির মনোভাব বর্ণনায় রোকেয়ার ব্যঙ্গ।

★ “বাঙালি পুরুষিকা” শব্দটি ব্যবহার করেছেন — রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।

★ “নিরীহ বাঙালি” প্রবন্ধে বাঙালির বাণিজ্যকে বলা হয়েছে — সহজ ও স্বল্পায়াসসাধ্য।

★ “সিন্দাবাদ” — আরব্য উপন্যাসের একজন বণিকের নাম, যাকে রোকেয়া তুলনা হিসেবে এনেছেন।

★ “মস্তিষ্ক স্নিগ্ধকারী” ও “মস্তিষ্ক উষ্ণকারী” — বাঙালি বাজারের ঔষধের নাম।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালি সমাজে “পাস” একটি — বাণিজ্যিক পণ্য।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালিরা “নিরীহ” — তাদের অলসতা ও শ্রমবিমুখতার কারণে।

★ “হাওয়ার শাড়ি” — অতি সূক্ষ্ম সুতোর তৈরি শাড়ি, যা বাতাসে উড়ে যায়।

★ “তণ্ডুল” শব্দের অর্থ — চাল।

★ “কালিডোর” — সৌন্দর্যবর্ধক প্রসাধনী বিশেষ।

★ “মিল্ক অভ রোজ” — গোলাপের দুধ নামক সৌন্দর্যবর্ধক লোশন।

★ “ভিনোলিয়া পাউডার” — সৌন্দর্যবর্ধক গুঁড়ো বিশেষ।

★ “দিব্যাঙ্গনা” শব্দের অর্থ — স্বর্গের রূপসী/হুরপরি।

★ “সৌকুমার্য” শব্দের অর্থ — সৌন্দর্য/কোমলতা/লাবণ্য।

★ “ঝঞ্ঝাবাতে” শব্দের অর্থ — ঝঞ্ঝার বাতাসে/ঘূর্ণিঝড়ের হাওয়ায়।

★ “কুন্তলীন” ও “কেশলীন” — রোকেয়ার আমলে জনপ্রিয় চুলের তেলের নাম।

★ “নিরীহ বাঙালি” প্রবন্ধে রোকেয়ার মূল লক্ষ্য — বাঙালি সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি।

★ রোকেয়া “নিরীহ বাঙালি” প্রবন্ধে শিক্ষা দিয়েছেন — ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগী হওয়ার।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালি পুরুষের প্রধান দুর্বলতা — অলসপ্রিয়তা ও শ্রমবিমুখতা।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালি নারীর প্রধান দুর্বলতা — অহেতুক রূপচর্চা, পরচর্চা ও অবলা সাজা।

★ রোকেয়া “নিরীহ বাঙালি” প্রবন্ধে ব্যবহার করেছেন — হাস্যরস ও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ।

★ “নিরীহ বাঙালি” প্রবন্ধটি আমাদের শেখায় — পরিশ্রম ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব।

★ রোকেয়ার মতে, বাঙালি জাতির উচিত — আত্মপরিশ্রমী ও কর্মঠ হওয়া।

শব্দার্থ ও টীকা

শব্দ/বাক্যাংশশব্দার্থ/টীকা
সৌকুমার্যসৌন্দর্য, কোমলতা, লাবণ্য
ঝঞ্ঝাবাতেঝঞ্ঝার বাতাসে, ঘূর্ণিঝড় বা প্রবল ঝড়ের হাওয়ায়
কুন্তলীনলেখকের আমলে (ঊনিশ-বিশ শতকের প্রথম দিকে) জনপ্রিয় চুলে লাগানোর তেলের ব্র্যান্ড বা নাম বিশেষ
কেশলীনএকই ধরনের চুলের তেল; কুন্তলীন ও কেশলীন সে সময়কার পরিচিত সৌন্দর্যবর্ধক পণ্য
হাওয়ার শাড়িঅত্যন্ত সূক্ষ্ম ও হালকা সুতোর তৈরি শাড়ি, যা বাতাসে উড়ে যায়; খুব পাতলা ও স্বচ্ছ প্রকৃতির শাড়ি
তণ্ডুলচাল, ধানের খোসা ছাড়ানো শস্য
কালিডোরসৌন্দর্যবর্ধক প্রসাধনী বিশেষ; মুখে উজ্জ্বলতা আনার জন্য ব্যবহৃত এক ধরনের ক্রিম বা পাউডার
মিল্ক অব রোজগোলাপের দুধ নামক একটি প্রসাধনী; ত্বকের কোমলতা ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে ব্যবহৃত লোশন বা ক্রিম
ভিনোলিয়া পাউডারসৌন্দর্যবর্ধক গুঁড়ো বিশেষ; মুখে ব্যবহারের জন্য এক ধরনের প্রসাধনী পাউডার
দিব্যাঙ্গনাস্বর্গের রূপসী, অপ্সরা, হুরপরি; অত্যন্ত সুন্দরী নারী
শুভ্রনীলাম্বরপরিষ্কার ও উজ্জ্বল নীল আকাশ; মেঘশূন্য নীল গগন
সাশ্রুসজলনয়নঅশ্রুতে ভেজা চোখ; জলভরা নয়ন; কান্নায় আর্দ্র চোখ
আত্মপ্রশংসানিজের প্রশংসা করা; আত্মগৌরব বর্ণনা; নিজেকে নিয়ে গর্ব করা

পাঠ-পরিচিতি

‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধটিতে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি নারী পুরুষের প্রাত্যহিক জীবনাচরণের বিভিন্ন দিক হাস্য-রসাত্মকভাবে বর্ণনা করেছেন। বাঙালি পুরুষগণের অলসপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা, বাগাড়ম্বর আচরণ সম্পর্কে আলোচনা যেমন রয়েছে, তেমনি নারীদের অহেতুক রূপচর্চা, পরচর্চা এবং নিজেদের অবলা প্রমাণ করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রতি আলোচনাও রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ব্যঙ্গাত্মক এ প্রবন্ধের মাধ্যমে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি পুরুষ ও নারীক সত্যি কার সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন। প্রবন্ধটি আমাদের ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রতি মনোযোগী হবার শিক্ষা দেয়।


Read More: SSC বাংলা অভাগীর স্বর্গ গল্পের স্মার্ট নোট


SSC বাংলা নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের স্মার্ট নোট PDF Download

সমাধানে যদি কোনো ভুল খুঁজে পান, তবে দয়া করে আমাদের জানিয়ে সাহায্য করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার রেটিং দিন:

Scroll to Top