SSC বাংলা ১ম পত্রের অভাগীর স্বর্গ গল্পের স্মার্ট নোট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ ও কার্যকর করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই নোটে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে অল্প সময়ে মূল বক্তব্য, চরিত্র, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও প্রয়োজনীয় তথ্য ভালোভাবে বুঝে প্রস্তুতি নেওয়া যায়। SSC পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে এই স্মার্ট নোটটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহায়ক রিভিশন গাইড হিসেবে কাজ করবে।
অভাগীর স্বর্গ গল্পের স্মার্ট নোট
📌 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬ – ১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮) — বাংলা সাহিত্যের অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। ফরাসি সাহিত্যিক এমিল জোলা ছিলেন তার আদর্শ। ‘অপরাজেয় কথাশিল্পী‘ নামে খ্যাত।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পঠিত ও অনূদিত লেখক — তার উপন্যাস ভারতের প্রায় সব প্রধান ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
🧬 জন্ম ও পরিবার
| বিষয় | বিবরণ |
| জন্মস্থান | দেবানন্দপুর গ্রাম, হুগলি জেলা, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ) |
| জন্ম তারিখ | ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬ (৩১ ভাদ্র ১২৮৩ বঙ্গাব্দ) |
| পিতা | মতিলাল চট্টোপাধ্যায় |
| মাতা | ভুবনমোহিনী দেবী |
| পৈতৃক নিবাস | কাঁচড়াপাড়ার নিকট মামুদপুর, উত্তর ২৪ পরগনা |
| ডাকনাম | ন্যাঁড়া |
| ভাইবোন | অনিলা (দিদি), প্রভাসচন্দ্র, প্রকাশচন্দ্র (ভাই), সুশীলা (বোন) |
শৈশব কেটেছে ভাগলপুরে (মাতামহের বাড়িতে) — দারিদ্র্যের কারণে পরিবার সেখানে থাকতেন।
📚 শিক্ষাজীবন (সংগ্রামময়)
| সময় | প্রতিষ্ঠান | ঘটনা |
| ৫ বছর | প্যারী পণ্ডিতের পাঠশালা, দেবানন্দপুর | প্রাথমিক শিক্ষা |
| – | দুর্গাচরণ বালক বিদ্যালয়, ভাগলপুর | ছাত্রবৃত্তিতে |
| ১৮৮৭ | ভাগলপুর জেলা স্কুল | ভর্তি |
| ১৮৮৯ | জেলা স্কুল ত্যাগ | পিতার চাকরিচ্যুতি |
| – | হুগলি ব্রাঞ্চ স্কুল | ফি দিতে না-পারায় ত্যাগ |
| ১৮৯৩ | তেজনারায়ণ জুবিলি কলেজিয়েট স্কুল | পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহায্যে ভর্তি |
| ১৮৯৪ | এন্ট্রান্স পাস (দ্বিতীয় বিভাগ) | |
| – | তেজনারায়ণ জুবিলি কলেজ | এফএ পরীক্ষার ফি জোগাড় না-হওয়ায় বসতে পারেননি |
💼 কর্মজীবন ও ভাগ্যান্বেষণ
| সময়কাল | কর্ম/ঘটনা |
| – | বনেলী রাজ-এস্টেটে চাকরি (স্বল্পকাল) |
| – | সন্ন্যাসী সেজে ঘর ছেড়ে |
| – | কলকাতা উচ্চ আদালতের উকিল লালমোহন গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে অনুবাদের কাজ (মাসে ৩০ টাকা) |
| ১৯০৩ | রেঙ্গুনে অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে |
| ১৯০৫ | বর্মা রেলওয়ের অডিট অফিসে অস্থায়ী চাকরি |
| ১৯০৬ | রেঙ্গুনে পাবলিক ওয়ার্কস অ্যাকাউন্টস অফিসে চাকরি (১০ বছর) |
| ১৯১৬ | কর্তৃপক্ষের সাথে মনোমালিন্যে চাকরি ইস্তফা |
💑 বৈবাহিক জীবন
| স্ত্রী | বিবরণ |
| শান্তি দেবী | ব্রাহ্মণ মিস্ত্রির কন্যা; প্লেগে আক্রান্ত হয়ে পুত্রসহ মৃত্যুবরণ করেন |
| হিরন্ময়ী দেবী (মোক্ষদা) | কৃষ্ণদাস অধিকারীর ১৪ বছরের কন্যা; নিঃসন্তান ছিলেন |
✍️ সাহিত্যকর্ম
📖 উপন্যাস (উল্লেখযোগ্য)
| শিরোনাম | প্রকাশকাল | বিশেষত্ব |
| বড়দিদি | ১৯১৩ | প্রথম উল্লেখযোগ্য উপন্যাস |
| পরিণীতা | ১৯১৪ | বহুবার চলচ্চিত্রায়িত |
| পল্লীসমাজ | ১৯১৬ | গ্রামীণ সমাজের চিত্র |
| দেবদাস | ১৯১৭ | সর্বাধিক জনপ্রিয়; ৮ বার চলচ্চিত্রায়িত |
| চরিত্রহীন | ১৯১৭ | |
| শ্রীকান্ত | ১৯১৭-৩৩ | চার খণ্ডে — আত্মজৈবনিক ধর্মী |
| দত্তা | ১৯১৮ | |
| গৃহদাহ | ১৯২০ | |
| পথের দাবী | ১৯২৬ | |
| শেষ প্রশ্ন | ১৯৩১ | |
| শেষের পরিচয় | ১৯৩৯ | মরণোত্তর প্রকাশিত |
📝 অন্যান্য রচনা
| ধরন | শিরোনাম (উল্লেখযোগ্য) |
| নাটক | ষোড়শী (১৯২৮), রমা (১৯২৮), বিজয়া (১৯৩৫) |
| গল্প | রামের সুমতি, মন্দির (প্রথম প্রকাশিত), বিন্দুর ছেলে, মহেশ, অভাগীর স্বর্গ |
| প্রবন্ধ | নারীর মূল্য, তরুণের বিদ্রোহ, স্বদেশ ও সাহিত্য, স্বরাজ সাধনায় নারী |
🏆 পুরস্কার ও সম্মাননা
| পুরস্কার | বছর | মন্তব্য |
| জগত্তারিণী স্বর্ণপদক | ১৯২৩ | কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় |
| ‘ডি-লিট’ | ১৯৩৬ | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (সম্মানসূচক) |
🎬 চলচ্চিত্রায়ণ
তার সাহিত্যকর্ম অবলম্বনে প্রায় ৫০টি চলচ্চিত্র বিভিন্ন ভাষায় নির্মিত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র:
| উপন্যাস | ভাষা | উল্লেখযোগ্য অভিনয়শিল্পী |
| দেবদাস | বাংলা/হিন্দি/তেলুগু | ৮ বার; প্রমথেশ বড়ুয়া, উত্তমকুমার, দিলীপ কুমার, শাহরুখ খান |
| পরিণীতা | বাংলা/হিন্দি | সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, মৌসুমি চট্টোপাধ্যায় |
| বড়দিদি | বাংলা | সন্ধ্যারানি, উত্তমকুমার |
| বিরাজ বউ | বাংলা | উত্তমকুমার, মাধবী মুখার্জি |
| স্বামী | হিন্দি | ফিল্মফেয়ার সেরা লেখকের পুরস্কার (১৯৭৭) |
| পথের দাবী (সব্যসাচী) | বাংলা | উত্তমকুমার |
🏠 শেষ জীবন
| বিষয় | বিবরণ |
| স্থায়ী আবাস | সামতাবেড়, হাওড়া (রূপনারায়ণ নদের তীরে) |
| অসুস্থতা | যকৃতের ক্যান্সার (পাকস্থলী পর্যন্ত বিস্তৃত) |
| চিকিৎসা | দক্ষিণ কলকাতার নার্সিং হোম → পার্ক নার্সিং হোম |
| অস্ত্রোপচার | ১২ জানুয়ারি ১৯৩৮ (ডা. ললিতমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়) |
| মৃত্যু | ১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮ (২ মাঘ ১৩৪৪ বঙ্গাব্দ), সকাল ১০টা |
বয়স: ৬১ বছর
🔑 সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য ও অবদান
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| ভাষাশৈলী | সরল, প্রাঞ্জল, আবেগঘন, বোধগম্য |
| বিষয়বস্তু | নারীজীবন, সামাজিক বৈষম্য, প্রেম, করুণা, গ্রামীণ সমাজ, আত্মজৈবনিক |
| চরিত্রায়ণ | মনস্তাত্ত্বিক গভীরতায় সমৃদ্ধ বিশেষ করে নারী চরিত্র |
| প্রভাব | ফরাসি সাহিত্যিক এমিল জোলা-র আদর্শে অনুপ্রাণিত |
| জনপ্রিয়তা | বাংলা সাহিত্যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী; দক্ষিণ এশিয়ার সর্বাধিক পঠিত লেখক |
📖 উল্লেখযোগ্য তথ্য
- প্রথম গল্প “মন্দির” — কুন্তলীন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী
- ১৯১২-তে ‘যমুনা’ পত্রিকায় রামের সুমতি প্রকাশ — সাহিত্যিক আত্মপ্রকাশ
- এম. সি. সরকার অ্যান্ড সন্স ও গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় অ্যান্ড সন্স — তার প্রথম প্রকাশক
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি তার আত্মজৈবনিক রচনা হিসেবে বিবেচিত
- নারীর মূল্য প্রবন্ধে নারীমুক্তির পক্ষে সোচ্চার
“বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার জন্য তিনি ‘অপরাজেয় কথাশিল্পী’ নামে খ্যাত।”
অভাগীর স্বর্গ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
★ “অভাগীর স্বর্গ” গল্পের রচয়িতা — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
★ ঠাকুরদাস মুখুয্যের স্ত্রীর মৃত্যুর কারণ — সাতদিনের জ্বর।
★ বৃদ্ধ ঠাকুরদাস মুখোপাধ্যায়ের পেশা/ব্যবসায় — ধানের কারবার।
★ ঠাকুরদাস মুখোপাধ্যায়ের সন্তানের সংখ্যা — চার ছেলে, তিন মেয়ে।
★ মুখুয্যে বাড়ির গিন্নির মৃত্যুর সময়কাল — পঞ্চাশ বর্ষ পরে আর একবার নতুন করে স্বামীগৃহে যাত্রা করার মতো মনে হয়েছিল।
★ শ্মশানের অবস্থান — গরুড়-নদীর তীরে।
★ অভাগীর জাত/শ্রেণি — দুলের মেয়ে (ছোটজাত)।
★ সৎকারের সময় শ্মশানে পূর্বাহ্ণে সঞ্চিত উপকরণ — কাঠের ভার, চন্দনের টুকরা, ঘৃত, মধু, ধূপ, ধুনা।
★ অভাগী দূরে দাঁড়িয়ে শ্মশানের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া দেখছিল — একটি উঁচু ঢিপির মধ্যে দাঁড়িয়ে।
★ পুত্রহস্তের মন্ত্রপূত অগ্নি সংযোজিত হলে অভাগী মনে মনে প্রার্থনা করেছিল — কাঙালীর হাতের আগুন পাওয়ার জন্য।
★ চিতার ধোঁয়া দেখে অভাগীর মনে হয়েছিল — রথের চেহারা (ছোট একখানি রথ)।
★ রথের চূড়ায় জড়ানো ছিল — লতাপাতা।
★ কাঙালীর বয়স — বছর চোদ্দ-পনেরো।
★ শ্মশানে কাঙালী এসে মাকে জিজ্ঞাসা করেছিল — ভাত না রাঁধার কারণ।
★ শ্মশানে কাঁদার কারণ হিসেবে অভাগী ছেলেকে বলেছিল — চোখে ধোঁয়া লাগার কথা।
★ অভাগীর পিতার নাম/পেশা — পিতা নদীতে মাছ ধরে বেড়াত।
★ অভাগীর নাম ‘অভাগী’ রাখার কারণ — জন্ম দিয়েই মা মারা গিয়েছিল বলে পিতা রাগ করে নাম দিয়েছিল।
★ অভাগীর স্বামীর নাম — রসিক বাঘ।
★ রসিক বাঘের বর্তমান অবস্থান — অন্য বাঘিনীকে নিয়ে গ্রামান্তরে উঠে গেছে।
★ কাঙালীর বর্তমান বয়স — ১৫ বছর।
★ কাঙালী যে কাজ শিখতে আরম্ভ করেছিল — বেতের কাজ।
★ অভাগী কাঙালীকে ভাত না খাওয়ার যে ছলনা করেছিল — মাটির পাত্রে পাতের ভুক্তাবশেষ ঢেকে রাখা।
★ অসুস্থ অভাগী কাঙালীর কাছে রূপকথা বলার কথা বলে যে উপকথা শুরু করেছিল — নিজের সৃষ্টি করা উপকথা।
★ অভাগীর মতে ছেলের হাতের আগুন — অগ্নিরূপী হরি।
★ অভাগীর মতে স্বর্গের রথ — আকাশজোড়া ধোঁয়া।
★ মৃত্যুর পূর্বে অভাগী স্বামীর কাছে চেয়েছিল — পায়ের ধুলো।
★ অভাগীর মৃত্যুর পূর্বে আলতা চেয়েছিল যার কাছ থেকে — নাপতে-বৌদির কাছ থেকে।
★ চিকিৎসকের কাছে গিয়ে কাঙালী যে জিনিসটি বাঁধা দিয়েছিল — একটা ঘটি।
★ কবিরাজের ফি/প্রণামী — এক টাকা।
★ কবিরাজের দেওয়া ওষুধ — ৪টি বড়ি।
★ কবিরাজের দেওয়া বড়ি অভাগী কী করেছিল — উনুনে ফেলে দিয়েছিল।
★ বাগদি-দুলের ঘরের চিকিৎসা সম্পর্কে অভাগীর বিশ্বাস — ওষুধ খেয়ে কেউ বাঁচে না।
★ কবিরাজের বড়িতে কাজ না হওয়ায় প্রতিবেশীরা যেসব মুষ্টিযোগের পরামর্শ দিয়েছিল — হরিণের শিঙ-ঘষা জল, গেঁটে-কড়ি পুড়িয়ে মধুতে মাড়া।
★ কাঙালীদের ঘরে নাড়ী পরীক্ষা করতে এসেছিল — ঈশ্বর নাপিত।
★ অভাগীর মৃত্যুর সময় তার বয়স — প্রায় ৩০ বছর।
★ অভাগীকে মরণকালে একটু পায়ের ধুলা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেছিল — রসিক বাঘ।
★ অভাগীর সৎকার করার জন্য রসিক কুড়ুল দিয়ে কোপ দিয়েছিল — কুটির-প্রাঙ্গণের বেলগাছে।
★ রসিকের গালে চড় কষিয়েছিল — জমিদারের হিন্দুস্থানী দারোয়ান।
★ বেলগাছটি যার হাতে পোঁতা ছিল — অভাগীর।
★ দারোয়ান কাঙালীর গায়ে হাত দেয়নি যার ভয়ে — মড়া স্পর্শ করার কারণে অশৌচের ভয়ে।
★ জমিদারের কাছারির কর্তা/গোমস্তা — অধর রায়।
★ কাঙালীকে দেখে গোমস্তা অধর রায় স্থানটিতে ছেটাতে বলেছিল — গোবরজল।
★ মায়ের সৎকারের জন্য কাঠের দাম হিসেবে গোমস্তা কত টাকা চেয়েছিল — ৫ টাকা।
★ উত্তরীয় কেনার জন্য কাঙালীর ভাত খাওয়ার পিতলের কাঁসিটি বাঁধা দেওয়া হয়েছিল — ১ টাকায়।
★ পিতলের কাঁসিটি বাঁধা দিতে গিয়েছিল — বিন্দির পিসি।
★ কাঠের ব্যবস্থা না হওয়ায় গোমস্তা অভাগীকে কী করতে বলেছিল — নদীর চড়ায় পুঁতে ফেলতে।
★ কাঙালীকে কাছারি থেকে গলাধাক্কা দিয়ে বার করে দিয়েছিল — পাঁড়ে।
★ মুখুয্যে-বাড়িতে শ্রাদ্ধের কয়দিন বাকি থাকতে কাঙালী কাঠ চাইতে গিয়েছিল — এক দিন।
★ কাঙালীকে মুখে নুড়ো জ্বেলে নদীর চড়ায় মাটি দিতে পরামর্শ দিয়েছিল — ভট্টাচার্য মহাশয়।
★ “সব ব্যাটারাই এখন বামুন-কায়েত হতে চায়” — উক্তিটি মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের বড় ছেলের।
★ অভাগীর সৎকার যেভাবে সম্পন্ন হয় — নদীর চরে গর্ত খুঁড়ে মাটি চাপা দিয়ে।
★ অভাগীর মুখে খড়ের আঁটি জ্বালিয়ে স্পর্শ করিয়েছিল — রাখালের মা (কাঙালীর হাত ধরে)।
★ অভাগীর মৃত্যুর পর আকাশমুখী পোড়া খড়ের আঁটির ধোঁয়ার দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়েছিল — কাঙালী।
শব্দার্থ ও টীকা
| শব্দ | অর্থ ও টীকা |
| মুখুয্যে | মুখোপাধ্যায় পদবি, লোকমুখে উচ্চারণের পার্থক্য ঘটেছে এখানে। |
| বর্ষীয়সী | অতি বৃদ্ধ, সকলের মধ্যে বয়সে বড় (স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত)। |
| সঙ্গতিপন্ন | অর্থ-সম্পদের অধিকারী। |
| অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া | মৃত ব্যক্তির সৎকার, মৃতের জন্য অন্তিম বা শেষ অনুষ্ঠান। |
| সগ্য | স্বর্গ (লোকমুখের উচ্চারণে পার্থক্য ঘটেছে)। |
| অন্তরীক্ষ | আকাশ, গগন। |
| ভুক্তাবশেষ | ভোজন বা খাওয়ার পরে পাতে যা পড়ে থাকে। |
| প্রসন্ন | সন্তুষ্ট, খুশি। |
| প্রসন্নমুখ | খুশি ভরা মুখ। |
| ক্রোড় | কোল। |
| শশব্যস্ত | খরগোশ বা শশকের মতো ব্যস্ত। |
| তেনার | তার, তাঁর। |
| দুলে | পালকি বহনকারী হিন্দু সম্প্রদায়বিশেষ (নিচু জাতের মানুষ বলে অভিহিত)। |
| ইন্দ্রজাল | জাদুবিদ্যা, এখানে গল্পের মাধ্যমে মুগ্ধ বা মোহিত করে রাখার ক্ষমতাকে বোঝানো হয়েছে। |
| রোমাঞ্চ | শিহরণ, অনুভূতির আধিক্যে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাওয়া। |
| ভগ্নকণ্ঠ | বিকৃত স্বর, এখানে অতি আবেগে কাঙালীর ভাঙা বা বিকৃত স্বরে কথা বলা বোঝানো হয়েছে। |
| প্রণামী | পুরোহিত বা দেব-দেবীকে দেওয়া সালামি, এখানে কবিরাজকে চিকিৎসা ফি হিসেবে দেওয়া টাকা বোঝানো হয়েছে। |
| মুষ্টিযোগ | টোটকা চিকিৎসা। |
| গেঁটে কড়ি | কাঁটাযুক্ত শামুক জাতীয় প্রাণি। |
| নিস্তব্ধ | নিশ্চল, নিঃসাড়, নির্বাক। |
| হরিধ্বনি | হরি নামের ধ্বনি, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মৃতদেহ বহন করার সময় সমবেতকণ্ঠে দেবতা হরির নাম উচ্চস্বরে বলে থাকে তাকে হরিধ্বনি বলে। |
| সংস্কার | বিশ্বাস, ঝোঁক, আজন্ম লালিত ধারণা। |
| অশন | খাদ্যদ্রব্য, আহারের বস্তু। |
| সন্ধ্যাহ্নিক | সন্ধ্যাবেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিত্যকরণীয় পূজা। |
পাঠ পরিচিতি
সুকুমার সেন সম্পাদিত ‘শরৎ সাহিত্যসমগ্র’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ড থেকে ‘অভাগীর স্বর্গ’ নামক গল্পটি সংকলন করা হয়েছে। গরিব-দুখী নীচু শ্রেণির ছেলে কাঙালী। তার মা অভাগী । প্রতিবেশী উঁচু জাতের বাড়ির গৃহকর্ত্রীর মৃত্যুর পর সৎকারের দৃশ্য দেখে অভাগীর ভেতরকার ভাবানুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে শুরু হয় এ গল্প। মৃতের শবযাত্রার আড়ম্বরতা ও সৎকারের ব্যাপকতা দেখে অভাগীও নিজের মৃত্যু মুহূর্তের স্বপ্ন দেখে। চন্দন, সিঁদুর, আলতা, মালা, ঘৃত, মধু, ধূপ, ধুনা, অগ্নির ধোঁয়ায় মুখুয্যে বাড়ির গিন্নি স্বর্গে গমন করেছেন। দুখিনী অভাগীও ভাবে তার মৃত্যুর সময় স্বামীর পায়ের ধূলি নিয়ে মৃত্যু শেষে পুত্র মুখাগ্নি করলে সেও স্বর্গে যাবে। মৃত্যুর সময় কাঙালী তার বাবাকে হাজির করতে পারলেও পারেনি কাঠের অভাবে মায়ের সৎকার করতে। ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অমানবিক জাতিভেদ প্রথা এবং জমিদারি ব্যবস্থার শোষণ-নির্যাতনের ছবি এঁকেছেন। এ গল্প জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে মানবিক হওয়ার শিক্ষা দেয়।
Read More: SSC বাংলা সুভা গল্পের স্মার্ট নোটস
SSC বাংলা অভাগীর স্বর্গ গল্পের স্মার্ট নোট PDF Download