SSC বাংলা প্রবাস বন্ধু গল্পের স্মার্ট নোট

এসএসসি বাংলা ১ম পত্রের প্রবাস বন্ধু গল্পের স্মার্ট নোট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি সহজ ও কার্যকর করতে তৈরি করা হয়েছে। এখানে রয়েছে প্রবাস বন্ধু গল্পের সহজ ব্যাখ্যা, পাঠ পরিচিতি, লেখক পরিচয়, মূলভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। গল্পের মূল বিষয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে অল্প সময়ে পাঠটি ভালোভাবে বুঝে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রশ্নোত্তর একসাথে থাকায় এই নোটটি SSC পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি সহায়ক PDF হিসেবে কাজে আসবে।


প্রবাস বন্ধু গল্পের স্মার্ট নোট

পরিচয়: সৈয়দ মুজতবা আলী

  • নাম: সৈয়দ মুজতবা আলী
  • জন্ম: ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪, করিমগঞ্জ, সিলেট
  • মৃত্যু: ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
  • পরিচয়: লেখক, সাংবাদিক, ভ্রামণিক, শিক্ষাবিদ, পণ্ডিত ও বহুভাষাবিদ।
  • আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, অনুবাদক ও রম্যরচয়িতা।
  • বিশেষভাবে বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনির জন্য।
  • তাঁর লেখায় পাণ্ডিত্য, রসবোধ ও গভীর জীবনবোধের সমন্বয় দেখা যায়।

জন্ম ও পরিবার

  • জন্ম: ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪, ব্রিটিশ ভারতের সিলেট জেলার করিমগঞ্জে।
  • পিতা: খান বাহাদুর সৈয়দ সিকান্দার আলী — সাব-রেজিস্ট্রার।
  • পৈতৃক ভিটা: মৌলভীবাজার।
  • পৈতৃক নিবাস: বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার উত্তরসূর গ্রাম।

শিক্ষাজীবন

  • সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা।
  • ১৯২১: শান্তিনিকেতনে ভর্তি।
  • তিনি বিশ্বভারতীর প্রথমদিকের ছাত্রদের অন্যতম।
  • ১৯২৬: বিশ্বভারতী থেকে B.A. ডিগ্রি লাভ।
  • প্রায় ১৫টি ভাষা শেখেন—সংস্কৃত, ইংরেজি, আরবি, উর্দু, ফার্সি, হিন্দি, গুজরাটি, ফরাসি, জার্মান, ইতালীয় প্রভৃতি।
  • পরে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন।
  • জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা।
  • ১৯৩২: তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে D.Phil. লাভ।
  • ১৯৩৪–৩৫: মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন।

কর্মজীবন

  • ১৯২৭–১৯২৯: কাবুলের শিক্ষা দপ্তরে ইংরেজি ও ফরাসির শিক্ষক।
  • ১৯৩৫: বরোদা কলেজে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক।
  • পরে দিল্লির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন।
  • ১৯৪৯: বগুড়ার আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ।
  • একই সময়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে খণ্ডকালীন প্রভাষক।
  • পঞ্চাশের দশকে আকাশবাণীর স্টেশন ডিরেক্টর হিসেবে পাটনা, কটক, কলকাতা ও দিল্লিতে কাজ করেন।
  • ১৯৬১: শান্তিনিকেতনে ফিরে বিশ্বভারতীর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে রিডার হিসেবে যোগদান।
  • ১৯৬৫: অবসর গ্রহণ।

সাহিত্যজীবন

শান্তিনিকেতনে ছাত্রাবস্থায় বিশ্বভারতী নামের হস্তলিখিত পত্রিকায় লিখতেন।

বিভিন্ন পত্রিকায় একাধিক ছদ্মনামে লিখেছেন:

  • সত্যপীর
  • ওমর খৈয়াম
  • টেকচাঁদ
  • প্রিয়দর্শী
  • দেশ, আনন্দবাজার, বসুমতী, সত্যযুগ, মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকায় লিখেছেন।

রচনা করেছেন:

  • ভ্রমণকাহিনি
  • ছোটগল্প
  • উপন্যাস
  • রম্যরচনা
  • প্রবন্ধ
  • অনুবাদ

তাঁর লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য: বহুভাষাজ্ঞান + পাণ্ডিত্য + হাস্যরস + গভীর জীবনদর্শন।

তাঁর মোট গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ৩০টি।

বিখ্যাত উক্তি

“বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না।”

উল্লেখযোগ্য উপন্যাস

  • অবিশ্বাস্য — ১৯৫৪
  • শবনম — ১৯৬০
  • শহর-ইয়ার — ১৯৬৯
  • তুলনাহীনা

ভ্রমণকাহিনি — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

  • দেশে বিদেশে — ১৯৪৯
  • জলে ডাঙ্গায় — ১৯৬০
  • ভবঘুরে ও অন্যান্য
  • মুসাফির
  • বিদেশে

মনে রাখুন: সৈয়দ মুজতবা আলী ভ্রমণকাহিনির জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

গল্পগ্রন্থ

  • চাচা কাহিনী — ১৯৫২
  • পঞ্চতন্ত্র — ১৯৫২
  • ময়ূরকণ্ঠী — ১৯৫৩
  • দ্বন্দ্বমধুর — ১৯৫৮
  • চতুরঙ্গ — ১৯৬০
  • টুনি মেম — ১৯৬৪
  • পঞ্চতন্ত্র — দ্বিতীয় পর্ব — ১৯৬৬
  • বড়বাবু
  • দু-হারা
  • যাত্রাপথে

প্রবন্ধ ও অন্যান্য রচনা

  • ধূপছায়া — ১৯৫৮
  • রাজা উজির — ১৯৬৯
  • কত না অশ্রুজল
  • পরিবর্তনে অপরিবর্তনীয় — ১৯৭৬
  • বাংলাদেশ
  • উভয় বাঙলা
  • পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা — ১৯৫৬
  • ভাষা সংস্কৃতি সাহিত্য

অনুবাদ ও ঐতিহাসিক রচনা

প্রেম — মূল লেখক নিকোলাস লেসকফ হিটলার

পুরস্কার ও সম্মাননা

সালপুরস্কার/সম্মাননা
১৯৪৯নরসিংহ দাস পুরস্কার
১৯৬১আনন্দ পুরস্কার
একুশে পদক (মরণোত্তর)

পরীক্ষার জন্য একনজরে

  • জন্ম: ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ → করিমগঞ্জ
  • মৃত্যু: ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
  • শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ স্থান: শান্তিনিকেতন → আলিগড় → বন বিশ্ববিদ্যালয় → আল-আজহার
  • D.Phil.: ১৯৩২, বন বিশ্ববিদ্যালয়
  • ভাষাজ্ঞান: প্রায় ১৫টি ভাষা
  • সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা: দেশে বিদেশে
  • বিশেষত্ব: পাণ্ডিত্য ও রম্যবোধের মিশ্রণ
  • পুরস্কার: নরসিংহ দাস, আনন্দ পুরস্কার, একুশে পদক (মরণোত্তর)
  • বিখ্যাত উক্তি: “বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না।”

প্রবাস বন্ধু গল্পের স্মার্ট নোট

★ সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম — সত্যপীর, ওমর খৈয়াম, টেকচাঁদ, প্রিয়দর্শী।

★ সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্ম — ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪।

★ জন্মস্থান — করিমগঞ্জ, সিলেট (ব্রিটিশ ভারত)।

★ মৃত্যু — ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪।

★ মৃত্যুস্থান — ইনস্টিটিউট অব পোস্টগ্রাজুয়েট মেডিকেল রিসার্চ, ১২৭ নং কক্ষ।

★ পিতার নাম — খান বাহাদুর সৈয়দ সিকান্দার আলী (সাব-রেজিস্ট্রার)।

★ পৈতৃক নিবাস — উত্তরসূর গ্রাম, বাহুবল, হবিগঞ্জ।

★ প্রাথমিক শিক্ষা — সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণি পর্যন্ত।

★ ১৯২১ সালে — শান্তিনিকেতনে ভর্তি হন।

★ তিনি ছিলেন — বিশ্বভারতীর প্রথমদিকের ছাত্র।

★ বিশ্বভারতী থেকে জানতেন — ১৫টি ভাষা (সংস্কৃত, ইংরেজি, আরবি, উর্দু, ফার্সি, হিন্দি, গুজরাটি, ফরাসি, জার্মান, ইতালীয় প্রভৃতি)।

★ ১৯২৬ সালে — বি.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন।

★ আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে — অধ্যয়ন করেন।

★ জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ে — দর্শনশাস্ত্রে বৃত্তি নিয়ে যান।

★ ডি.ফিল লাভ করেন — ১৯৩২ সালে (তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে)।

★ ১৯৩৪-৩৫ সালে — কায়রোর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

★ ১৯২৭-২৯ সাল পর্যন্ত — কাবুলের শিক্ষা দপ্তরে অধ্যাপনা করেন।

★ কাবুলে তিনি — ইংরেজি ও ফরাসি ভাষার শিক্ষক ছিলেন।

★ ১৯৩৫ সালে — বরোদা কলেজে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক হন।

★ বরোদায় তিনি — আট বছর কাটান।

★ ১৯৪৯ সালে — বগুড়ার আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ হন।

★ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের খণ্ডকালীন প্রভাষক ছিলেন।

★ আকাশবাণীর স্টেশন ডিরেক্টর — পাটনা, কটক, কলকাতা ও দিল্লিতে।

★ ১৯৬১ সালে — শান্তিনিকেতনে প্রত্যাবর্তন করেন।

★ বিশ্বভারতীর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের — রিডার ছিলেন।

★ ১৯৬৫ সালে — অবসরগ্রহণ করেন।

★ তাঁর রচিত বইয়ের সংখ্যা — ৩০টি।

★ তিনি ছিলেন — বহুভাষী, পণ্ডিত, সাংবাদিক, ভ্রামণিক, একাডেমিক।

★ আধুনিক বাংলা সাহিত্যে — ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, অনুবাদক ও রম্যরচয়িতা হিসেবে খ্যাত।

★ জনপ্রিয়তা — ভ্রমণকাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

★ রচনার বৈশিষ্ট্য — পাণ্ডিত্য ও রম্যবোধে পরিপুষ্ট।

★ শান্তিনিকেতনে লেখালেখি শুরু — “বিশ্বভারতী” হস্তলিখিত ম্যাগাজিনে।

★ নিয়মিত লিখতেন — দেশ, আনন্দবাজার, বসুমতী, সত্যযুগ, মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকায়।

★ অনেকের মতে — ১৯৫০-৬০ দশকে বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক।

★ বিখ্যাত উক্তি — “বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না।”

★ ধর্মদর্শন — তাঁর সাহিত্যে বিন্দুমাত্র ধর্মীয় সংকীর্ণতা ছিল না।

★ গোঁড়া স্বধর্মীরা তাঁকে — ক্ষমা করেননি তাঁর উদারতার জন্য।

★ ভ্রমণকাহিনীগ্রন্থ — দেশে বিদেশে (১৯৪৯), জলে ডাঙ্গায় (১৯৬০), ভবঘুরে ও অন্যান্য, মুসাফির, বিদেশে।

★ উপন্যাসগ্রন্থ — অবিশ্বাস্য (১৯৫৪), শবনম (১৯৬০), শহর-ইয়ার (১৯৬৯), তুলনাহীনা।

★ গল্পগ্রন্থ — চাচা কাহিনী (১৯৫২), পঞ্চতন্ত্র (১৯৫২), পঞ্চতন্ত্র দ্বিতীয় পর্ব (১৯৬৬), ময়ূরকণ্ঠী (১৯৫৩), টুনি মেম (১৯৬৪), দ্বন্দ্বমধুর (১৯৫৮), চতুরঙ্গ (১৯৬০), বড়বাবু (১৯৩৬), দু-হারা, সত্যপীরের কলমে, বিচিত্রা, রায় পিথৌরার কলমে, যাত্রাপথে, কুতুব মিনারের কথা। (প্রবাস বন্ধু গল্পের স্মার্ট নোট)

★ প্রবন্ধগ্রন্থ — ধূপছায়া (১৯৫৮), রাজা উজির (১৯৬৯), কত না অশ্রুজল (১৯৩৫), পরিবর্তনে অপরিবর্তনীয় (১৯৭৬), বাংলাদেশ, উভয় বাঙলা, পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা (১৯৫৬), ভাষা সংস্কৃতি সাহিত্য।

★ আত্মজীবনীগ্রন্থ — দিনলিপি (২০১৫), গুরুদেব ও শান্তিনিকেতন (২০১৫)।

★ অনুবাদগ্রন্থ — প্রেম (মূল: নিকোলাস লেসকফ)।

★ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বগ্রন্থ — হিটলার।

★ পুরস্কার — নরসিংহ দাস পুরস্কার (১৯৪৯), আনন্দ পুরস্কার (১৯৬১), একুশে পদক (মরণোত্তর)।

★ মৌলভীবাজারে তাঁর নামে — “সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী সড়ক”।

★ তাঁর পিতার নামে — “খান বাহাদুর সৈয়দ সিকন্দর আলী সড়ক”।

★ তাঁর লেখা বইয়ের নামে গ্রন্থাগার — “দেশে বিদেশে”।

★ সৈয়দ মুজতবা আলী — তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক ছিলেন।

★ তাঁর বড় ভাই — সৈয়দ মুর্তাজা আলী।

★ “প্রবাস বন্ধু” ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা — সৈয়দ মুজতবা আলী।

★ লেখক কাবুল থেকে যে স্থানে বাসা পেয়েছিলেন — খাজামোল্লা গ্রামে।

★ কাবুল শহর থেকে খাজামোল্লা গ্রামের দূরত্ব — আড়াই মাইল।

★ লেখকের বাসার ফরাসি অধ্যক্ষের নাম — মসিয়ে জিরার।

★ লেখককে চাকরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন — অধ্যক্ষ জিরার।

★ লেখকের ভৃত্যের নাম — আবদুর রহমান।

★ অধ্যক্ষ জিরার আবদুর রহমানকে অভিহিত করেছিলেন — ‘হরফন-মৌলা’ বা ‘সকল কাজের কাজি’ হিসেবে।

★ অধ্যক্ষ জিরার সমস্ত দিন কাটাতেন — মন্ত্রীদের দপ্তরে ঝগড়া-বচসা করে।

★ কাবুলে মন্ত্রীদের দপ্তরে ঝগড়া-বচসা করাকে বলা হতো — কাজ।

★ চলে যাওয়ার সময় জিরার সায়েব ফরাসিতে বলেছিলেন — ‘ওরভোয়া’ (যার অর্থ আবার দেখা হবে)।

★ লেখক কাবুল শহরে নরদানব দেখেছেন — দুই জন।

★ দুই নরদানবের মধ্যে একজন হলেন — আবদুর রহমান।

★ ফিতে দিয়ে মেপে আবদুর রহমানের উচ্চতা পাওয়া গিয়েছিল — ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি।

★ আবদুর রহমানের আঙ্গুলগুলোর তুলনা দেওয়া হয়েছে — দুই কাঁদি মর্তমান কলার সাথে।

★ আবদুর রহমানের পা দুখানার আকার — ডিঙি নৌকার সাইজ।

★ আফগানিস্তানের ভার বইতে পারত — আমীর আবদুর রহমান।

★ আবদুর রহমানের মুখগহ্বরের আকার কেমন ছিল — এ কান ও কান জোড়া, চওড়াচওড়ি কলা গিলে ফেলার মতো।

★ আবদুর রহমানের মাথার আকার বোঝা যায়নি — মাথায় পাগড়ি থাকার কারণে।

★ আবদুর রহমানের চেহারার শীতে-গ্রীষ্মে ফেটে যাওয়া চামড়ার তুলনা দেওয়া হয়েছে — আফগানিস্তানের রিলিফ ম্যাপের সাথে।

★ আবদুর রহমানের পরা পোশাক ছিল — শিলওয়ার, কুর্তা ও ওয়াসকিট।

★ গুরুজনদের দিকে না তাকানোর সংস্কার রয়েছে — আফগানিস্তানে।

★ আবদুর রহমান প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত তাকিয়ে ছিল — কার্পেটের দিকে।

★ আবদুর রহমানের চোখের ভাব বোঝাতে ব্যবহৃত তুলনা — দুটো চিনেমাটির ডাবরে যেন দুটো পান্তুয়া ভেসে উঠেছে।

★ লেখক আবদুর রহমানকে বলের দিক থেকে তুলনা করেছেন — ভীমসেনের সাথে।

★ পল্টনে থাকতে আবদুর রহমান যার দায়িত্বে ছিল — মেসের চার্জে।

★ আবদুর রহমান পল্টন থেকে খালাস পেয়েছিল — এক মাস আগে।

★ আবদুর রহমানের রান্নার তালিকার খাবারগুলো ছিল — পোলাও, কোরমা, কাবাব ও ফালুদা।

★ ফালুদা বানাতে প্রয়োজন হয় — বরফ।

★ আবদুর রহমানের মতে গ্রীষ্মকালে বরফ আনা হয় — পাগমানের পাহাড় থেকে।

★ শীতকালে বরফ জমা করে রাখা হয় — বড় বড় গর্তে।

★ পাহাড়ি গর্তের বরফ নামিয়ে আনা হয় — গাধা বোঝাই করে।

★ বাজার করার পর লেখকের হেঁটে কাবুল যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল — মৃদুমধুর ঠান্ডায় গড়িয়ে গড়িয়ে।

★ আবদুর রহমান বাজার করে আনছিল — প্রকাণ্ড জালের থলেতে করে।

★ আবদুর রহমানের থলেতে ছিল — তেল, নুন ও লকড়ি (জ্বালানি কাঠ)।

★ লব-ই-দরিয়া শব্দটির অর্থ — কাবুল নদীর পার।

★ কাবুল নদীর পারে লেখকের সঙ্গে দেখা হয়েছিল — মসিয়ে জিরারের।

★ মসিয়ে জিরার যা চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন — টাঙা।

★ “কাবুল শহরে নিশাচর হতে হলে যে তাগদ ও হাতিয়ারের প্রয়োজন, সে দুটোর একটাও তোমার নেই” — উক্তিটি করেছিলেন মসিয়ে জিরার।

★ মসিয়ে জিরারের স্ত্রী স্বামীর কথায় সায় দিতেন — ‘উই, সার্তেনমা, এভিদামা’ বলে।

★ ‘উই, সার্তেনমা, এভিদামা’ ফরাসি শব্দগুলোর অর্থ — অতি অবশ্যই, সার্টেনলি, এভিডেন্টলি।

★ ফ্রান্সে ভিক্টোরিয়া-আলবার্ট আঁতাতের মতো ঐক্য ঘটে — নিত্যি-নিত্যি, ঘরে ঘরে।

★ সেহরি খাওয়ার সময় — রাত দুটোয়।

★ হাত ও মুখ ধোয়ার জন্য আফগানদের ব্যবহৃত ঐতিহাসিক জলের পাত্র — আফতাবে বা ধারাযন্ত্র (মোগল তসবিরের গাড়ু-বদনার সমন্বয়)।

★ কাবুল নদীর জল কেমন ছিল — বরফ-গলা অত্যন্ত ঠান্ডা।

★ লেখকের জন্য পরিবেশন করা মাংস ছিল — সেরখানেক দুম্বার মাংস।

★ মাংসের কোরমার সঙ্গে মিশ্রিত উপকরণ ছিল — পেঁয়াজ-ঘিয়ের ঘন ক্বাথ, বাদাম, কিসমিস ও আলু।

★ থালায় পরিবেশন করা শামী-কাবাবের সংখ্যা ছিল — গোটা আষ্টেক।

★ কোফতা-পোলাও পরিবেশন করা হয়েছিল — বারকোশ থালায়।

★ কোফতা-পোলাওয়ের ওপর বসানো ছিল — একটি আস্ত মুর্গি-রোস্ট।

★ “রান্নাঘরে আরো আছে” — উক্তিটি করেছিলেন আবদুর রহমান।

★ আবদুর রহমান খাবার খাওয়ার ধরন পর্যবেক্ষণ করছিল — ডাক্তারি কলেজের ছাত্র যেভাবে তন্ময় হয়ে মড়া কাটা দেখে।

★ নোনতা খাওয়ার পর আবদুর রহমান মিষ্টি হিসেবে প্রথমে এনেছিল — এক থালা ফালুদা।

★ লেখক আবদুর রহমানকে জানিয়েছিলেন — তিনি মিষ্টি পছন্দ করেন না।

★ আফগানিস্তানে অত্যন্ত মশহুর আঙুরের জাত — বাগেবালার বরফি আঙুর।

★ বরফ-ঢাকা আঙুর অতি সন্তর্পণে বরফে ঘষার কায়দা তুলনা করা হয়েছে — মেয়েদের পাথরের শিলে আচারের জন্য কাগজি লেবু ঘষার সাথে। (প্রবাস বন্ধু গল্পের স্মার্ট নোট)

★ খাইবারপাসের হিম্মৎ বুকে সঞ্চয় করে লেখক আঙুর গিলেছিলেন — গোটা আষ্টেক।

★ কাবুলি সবুজ চায়ের বৈশিষ্ট্য — ফিকে হলদে রঙ, দুধ দেওয়া হয় না।

★ কাবুলি সবুজ চা পানের নিয়ম — প্রথম পেয়ালায় চিনি দেওয়া হয়, দ্বিতীয় ও পরবর্তী পেয়ালায় চিনি থাকে না।

★ কাবুলিরা সাধারণত চা খায় — পেয়ালা ছয়েক (কফির পাত্রের মতো ছোট পেয়ালা)।

★ খাওয়ার পর আবদুর রহমান প্রস্তুত করেছিল — বাদাম ও আখরোট ছাড়ানোর হাতুড়ি।

★ “আমার রান্না হুজুরের পছন্দ হয়নি” — উক্তিটি আবদুর রহমানের।

★ “তোমার বপুটার সঙ্গে আমার তনুটা মিলিয়ে দেখো দিকিনি” — উক্তিটি লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর।

★ ‘বপু’ শব্দের অর্থ — শরীর বা দেহ।

★ ‘তনু’ শব্দের অর্থ — কৃশ বা ক্ষীণ শরীর।

★ “কাবুলের আবহাওয়া বড়ই খারাপ। পানি তো পানি নয়, সে যেন গালানো পাথর” — উক্তিটি আবদুর রহমানের।

★ “কাবুলের হাওয়া তো হাওয়া নয়- আতসবাজির হল্কা” — উক্তিটি আবদুর রহমানের।

★ আবদুর রহমানের নিজের দেশ বা জন্মভূমি — পানশির (উত্তর-আফগানিস্তান)।

★ “একটা আস্ত দুম্বা খেয়ে এক ঢোক পানি খান, আবার ক্ষিদে পাবে” — উক্তিটি পানশির সম্পর্কে আবদুর রহমানের।

★ “পানশিরের মানুষ তো পায়ে হেঁটে চলে না, বাতাসের ওপর ভর করে যেন উড়ে চলে যায়” — উক্তিটি আবদুর রহমানের।

★ পানশিরে শীতকালে জানালার ধারে বসে দেখার মতো দৃশ্য — চে তৌর বর্ষ ববারদ (কি রকম বরফ পড়ে)।

★ ‘চে তৌর বর্ষ ববারদ’ বাক্যটির অর্থ — কি রকম বরফ পড়ে।

★ “একবার আসুন, জানালার পাশে বসুন, দেখুন। পছন্দ না হয়, আবদুর রহমানের গর্দান তো রয়েছে” — উক্তিটি আবদুর রহমানের।

★ বরফ পড়ার নানা রূপ — পেঁজা তুলোর মতো, চাদরের মতো ঘন পর্দা এবং বাতাসের চর্কির মতো ঘূর্ণি।

★ ঝড়ো বরফের মধ্যে শিস দেওয়ার মতো শব্দ শোনা যায় — দারুল আমানের ইঞ্জিনের শিটির মতো।

★ বরফের পাঁজার নিচে মানুষ জ্যান্ত পাওয়া যেতে পারে — দুই দিন পরেও।

★ রোদের সময় বরফের উজ্জ্বলতা থেকে চোখ বাঁচাতে ব্যবহৃত হয় — কালো চশমা।

★ “তখন ফিরে এসে, হুজুর একটা আস্ত দুম্বা যদি না খেতে পারেন, তবে আমি আমার গোঁফ কামিয়ে ফেলব” — উক্তিটি আবদুর রহমানের।

★ “হ্যাঁ আবদুর রহমান তোমার কথাই সই। শীতকালটা আমি পানশিরেই কাটাব” — উক্তিটি সৈয়দ মুজতবা আলীর।

★ “তুমি যদি সমস্ত শীতকালটা জানালার পাশে বসে কাটাও তবে আমার রান্না করবে কে?” — উক্তিটি সৈয়দ মুজতবা আলীর।

শব্দার্থ ও টীকা

শব্দঅর্থ ও টীকা
ও রভোয়াফরাসি ভাষার বাক্যবন্ধ। অর্থ: আবার দেখা হবে।
নরদানবমানুষের মতো দেখতে ভয়ঙ্কর জন্তু। এখানে বিশালদেহী মানুষ বোঝানো হয়েছে। (আদরার্থে)
মর্তমান কলামায়ানমারের মার্তাবান দ্বীপে উৎপন্ন কলার জাত।
রুজগাল রাঙানোর প্রসাধনী।
পান্তুয়াচিনির রসে ভেজানো ঘিয়ে ভাজা রসগোল্লা জাতীয় মিষ্টি।
তাগদশক্তি।
তন্বীকৃশাঙ্গী/ক্ষীণকায়া নারী।
বারকোশকাঠের তৈরি কানা উঁচু বড় থালা।
পুনরপিপুনরায়।
ব্রহ্মরন্ধ্রতালুর কেন্দ্রবর্তী ছিদ্র।
বপুবড় দেহ।
তনুক্ষীণ দেহ।
উত্তমার্ধস্ত্রী, সহধর্মিণী।

পাঠ পরিচিতি

‘প্রবাস বন্ধু’ সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশে বিদেশে গ্রন্থের পঞ্চদশ অংশ। প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের ভূমি, পরিবেশ; সেখানকার মানুষ ও তাদের সহজ-সরল জীবনাচরণ, বিচিত্র খাদ্য ইত্যাদি হাস্যরসাত্মকভাবে এই রচনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। লেখকের আফগানিস্তান ভ্রমণের আংশিক অভিজ্ঞতার পরিচয় আছে এখানে। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের সন্নিকটে খাজামোল্লা নামক গ্রামে বাসের সময় আবদুর রহমান নামের একজন তাঁর দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন । আফগান আবদুর রহমান চরিত্রের মধ্যে সরলতা, স্বদেশপ্রেম, অতিথিপরায়ণতা ফুটে উঠেছে। আবদুর রহমানের রান্না ও পরিবেশন করা খাবারের মধ্যে আফগানিস্তানের বিচিত্র ও সুস্বাদু খাদ্যবস্তুর পরিচয় পাওয়া যায়। আফগানিস্তানের প্রস্তরভূমি এবং একই সঙ্গে নিকট-প্রতিবেশী এই জনপদের বরফ- শীতল জলবায়ু আকর্ষণীয়। ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পটি আমাদের দৃষ্টিকে প্রসারিত করে; একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জীবন ও জগৎ, সমাজ ও সংস্কৃতিকে ভাবতে শেখায়।


Read More: SSC বাংলা মমতাদি গল্পের স্মার্ট নোট


প্রবাস বন্ধু গল্পের স্মার্ট নোট PDF Download

সমাধানে যদি কোনো ভুল খুঁজে পান, তবে দয়া করে আমাদের জানিয়ে সাহায্য করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার রেটিং দিন:

Scroll to Top