জীববিজ্ঞান অণুজীব নোট: এইচএসসি জীববিজ্ঞান ১ম পত্রের ৪র্থ অধ্যায় অণুজীব অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই কঠিন মনে হয়। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ম্যালেরিয়া জীবাণুর জীবনচক্র, লাইটিক ও লাইসোজেনিক চক্র – এই অধ্যায়ের প্রতিটি অংশ ভালোভাবে না বুঝলে পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব নয়। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ, পরিষ্কার ও পরীক্ষাভিত্তিকভাবে সাজানো এই অণুজীব নোট প্রস্তুত করা হয়েছে, যা বইয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
এই অণুজীব নোটে ভাইরাসের প্রকারভেদ, উপকারিতা ও অপকারিতা, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার, ম্যালেরিয়া জীবাণুর জীবনচক্র, সংক্রমণ, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ – সব গুরুত্বপূর্ণ টপিক সংক্ষিপ্ত ও বোর্ড স্ট্যান্ডার্ড ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। যারা HSC 2026 পরীক্ষার জন্য নির্ভরযোগ্য একটি অণুজীব নোটPDFখুঁজছো, তাদের জন্য এই নোটটি হবে সবচেয়ে কার্যকর সহায়তা।
জীববিজ্ঞান অণুজীব নোট ২০২৬
অপর / বিশেষ নাম
| নাম | বিশেষ নাম |
| HCV | তুষের আগুন |
| ব্যাকটেরিয়ার ক্যাপসিউল | স্লাইম স্তর |
| লাইটিক চক্র | ভিরুলেন্ট/ ফাজ চক্র |
| লাইসোজেনিক চক্র | টেম্পারেট/ ফাজ চক্র |
এই অধ্যায়ের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানীদের অবদান:
| ক্রম | অবদান/বিষয় | বিজ্ঞানীর নাম |
| ১ | বসন্ত রোগের কথা উল্লেখ করেন | এডওয়ার্ড জেনার |
| ২ | ভাইরাসের আবিষ্কারক | দিমিত্রি আইভানোভস্কি |
| ৩ | পীতজ্বরের ভাইরাস সংক্রান্ত গবেষণা | Walter Reed |
| ৪ | TMV-প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড দিয়ে তৈরি বলেন | ব্যাডেন ও পিরি (Bawden and Pirie) |
| ৫ | ‘ভাইরাস ভাইরাসই’ বলেছেন | A.M Lwoff |
| ৬ | HIV আবিষ্কার | Gallow (1984) |
| ৭ | ভাইরোলজির জনক | Stanley |
| ৮ | ব্যাকটরিওলোজি ও প্রোটোজুওলজির জনক | অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েন হুক |
| ৯ | আধুনিক ব্যাকটরিওলোজির জনক | লুই পাস্তুর |
| ১০ | যক্ষ্মা রোগের আবিষ্কারক | রবার্ট কক (Robert Koch) |
| ১১ | কলেরা রোগের জীবাণু আবিষ্কারক | রবার্ট কচ (Robert Koch) |
| ১২ | Malaria শব্দ ব্যবহার | Torti (1753) |
| ১৩ | RBC থেকে Malaria আবিষ্কার | Carles Laveran |
| ১৪ | Anopheles মশকী ম্যালেরিয়া বাহক বলেন | Ronald Ross (রোনাল্ড রস) |
| ১৫ | জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কার | লুই পাস্তুর |
একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও লাইনসমূহ
১. ভাইরাস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- DNA ও RNA: ভাইরাসের DNA ও RNA একসাথে থাকে না।
- পরিব্যক্তি: ভাইরাস পরিব্যক্তি (mutation) এবং প্রকরণ (Variation) ঘটাতে সক্ষম।
- মাইকোফাজ: ছত্রাক আক্রমণকারী ভাইরাসকে মাইকোফাজ বলা হয়।
- রিট্রোভাইরাস: HIV একটি রিট্রোভাইরাস; এখানে ভাইরাস RNA হতে DNA তৈরি হয়।
- HIV এর পোষক: HIV এর প্রকৃত পোষক ছিল বানর।
- ভিরয়েডস: কেবলমাত্র উদ্ভিদেই ভিরয়েডস দেখা যায়।
- ভিরয়েড নারিকেল গাছে ক্যাডাং সৃষ্টি করে।
- হেপাটাইটিস ডি (Hepatitis D) এর কারণ ভিরয়েড।
- প্রিয়ন (Prion): ভেড়া ও ছাগলের স্ক্র্যাপি, গরুর ম্যাড কাউ রোগ সৃষ্টি করে প্রিয়ন।
- ইমার্জিং ভাইরাস: HIV, SARS, Nile virus, ফু (Flu), ইনফ্লুয়েঞ্জা হলো ইমার্জিং ভাইরাস।
- পোলিও ভাইরাস: পোলিও ভাইরাস আক্রমণ করে উর্দ্ধতন শ্বাসনালী, অস্ত্রের আবরণ কোষ, এবং কখনো কখনো স্নায়ু কোষকে।
- নিউক্লিওক্যাপসিড: সংক্রমণ ক্ষমতা বিহীন ভাইরাসকে নিউক্লিওক্যাপসিড বলে।
- দ্বিসূত্রক RNA: যে ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক, তার উদাহরণ হলো Reo virus বা ধানের বামন রোগের ভাইরাস।
- প্যাপিলোমা ভাইরাস: এনোজেনিটাল ক্যান্সার হতে পারে প্যাপিলোমা ভাইরাস দিয়ে।
- জিকা ভাইরাস: জিকা ভাইরাস একটি ফ্লাভিভাইরাস।
২. বিশেষ পরিচিতি ও রোগ সম্পর্কিত তথ্য
- নীরব ঘাতক: হেপাটাইটিস সি ভাইরাস (HCV) হলো নীরব ঘাতক ভাইরাস।
- তুষের আগুন: HCV কে তুষের আগুন বলা হয়।
- প্রতিষেধক: হেপাটাইটিস প্রতিরোধের উপায় হলো প্যান্টাভ্যালেন্ট ভ্যাক্সিন।
- ডেঙ্গু:
- ডেঙ্গু ভাইরাসের সেরোটাইপ ৪ টি।
- ডেঙ্গুকে হাড়ভাঙ্গা জ্বর বলে।
- ডেঙ্গুতে যে অ্যান্টিবডি পাওয়া যায়, তা হলো IgM (Immunoglobulin M)।
- পাইরোজেন: পাইরোজেন নিঃসৃত হয় শ্বেত রক্তকণিকা (Leukocyte) থেকে।
- চিকুনগুনিয়া: ২০০৮ সালে বাংলাদেশে চিকুনগুনিয়া দেখতে পাওয়া যায়।
- STD (Sexually Transmitted Disease): STD হলো: গনোরিয়া, সিফিলিস, ক্ল্যামাইডিয়া।
৩. ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়া (Plasmodium) সম্পর্কিত তথ্য
- কোষ প্রাচীর: ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের প্রধান উপাদান হলো পেপটিডো গ্লাইকান (Peptidoglycan)।
- মেসোজোম: মেসোজোম কোষ বিভাজনে সাহায্য করে।
- ক্যাপসিউল: ক্যাপসিউল এর অপর নাম স্লাইম স্তর।
- বংশবৃদ্ধি: ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির প্রধান প্রক্রিয়া হলো দ্বিবিভাজন।
- এন্টারোক্সিন: কলেরাজেন একটি এন্টারোক্সিন (আন্ত্রিক বিষ)।
- রাইজোবিয়াম: Rhizobium শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিকিউল (Nodule) এ নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে থাকে।
Plasmodium এর জীবনচক্র:
- মানবদেহে প্রবেশ: Plasmodium-এর স্পোরোজয়েট দশা দংশনের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে।
- ট্রফোজয়েট: ট্রফোজয়েট দশা অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী।
- হিমোজয়েন: সাইজন্ট (Schizont) এর সাইটোপ্লাজমে হিমোজয়েন নামক বর্জ্য পদার্থ জমা হয়।
- গ্যামিটোগনি: মশকীর ভ্রূণের অভ্যন্তরে গ্যামিটোগনি ঘটে।
- স্পোরোগণি: মশকীর ভ্রূণের দুইস্তরের মাঝে স্পোরোগণি ঘটে।
- ম্যালেরিয়া টিকা: প্রথম ম্যালেরিয়া প্রতিষেধক টিকা হলো RTSS।
সকল প্রকারভেদ একত্রে
A. ভাইরাসের প্রকারভেদ
১. আকৃতির ভিত্তিতে ভাইরাস (৬ প্রকার)
| প্রকারভেদ | উদাহরণ |
| দন্ডাকার | TMV, আলফা মোজাইক ভাইরাস, মাম্পস |
| গোলাকার | পোলিও ভাইরাস, TIV, HIV, ডেঙ্গু ভাইরাস |
| ঘনক্ষেত্রাকার/ বহুভুজাকার | হার্পিস, ভ্যাকসিনিয়া |
| ব্যাঙ্গাচি আকার | T2, T4, T6 |
| সিলিন্ড্রিক্যাল/ সূত্রাকার | Ebola Virus ও মটরের স্ট্রিক ভাইরাস |
| ডিম্বাকার | ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস |
২. নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরণ অনুযায়ী ভাইরাস (২ প্রকার)
| প্রকারভেদ | উদাহরণ |
| DNA ভাইরাস | T2, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TLV, এডিনোহার্পিস, সিমপ্লেক্স |
| RNA ভাইরাস | পটেটো X ভাইরাস, শ্যগারকেন মোজাইক, টারনিপ মোজাইক, আলফা আলফা মোজাইক, TIV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, ইনফ্লুয়েঞ্জা-B, র্যাবিস, মাম্পস ইত্যাদি। |
৩. বহিঃস্থ আবরণ অনুযায়ী ভাইরাস (২ প্রকার)
| প্রকারভেদ | উদাহরণ |
| বহিঃস্থ আবরণহীন ভাইরাস | TMV, T2 |
| বহিঃস্থ আবরণী ভাইরাস | ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, হার্পিস, HIV |
৪. পোষকদেহ অনুসারে ভাইরাসের প্রকারভেদ (৪ প্রকার)
| প্রকারভেদ | উদাহরণ |
| উদ্ভিদ ভাইরাস | TMV, Bean, Yellow, Virus (BYV) |
| প্রাণী ভাইরাস | HIV, ভ্যাক্সিনিয়া |
| ব্যাকটেরিওফায/ফাজ ভাইরাস | T2, T4, T6 |
| সায়ানোফায | LPP1, LPP2 |
৫. ইমার্জিং ভাইরাস
- উদাহরণ: HIV, SARS, Nile virus, Ebola.
৬. কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণিবিভাগ (৭ প্রকার)
- কক্কাস
- ব্যাসিলাস
- কামাকৃতি/ ভিব্রিও
- স্পাইরিলাম/ সর্পিলাকার
- বহুরুপী/ পলিমর্ফিক
- স্টিলেট/ তারকাকার
- বর্গাকৃতির
- ফিলামেন্টাস (ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্তভাবে যুক্ত)
৭. কক্কাস ব্যাকটেরিয়ার উপবিভাগ (৬ প্রকার)
| প্রকারভেদ | উদাহরণ |
| মাইক্রোকক্কাস/ মনোকক্কাস | Micracoccus denitrificans |
| ডিপোকক্কাস | Diplococcus pneumoniae |
| টেট্টাকক্কাস | Giffkya tetragena |
| স্টাফাইলোকক্কাস | Staphylococcus aureus |
| সারসিনা | Sarcina lutea |
| স্ট্রেপটোকক্কাস | (এখানে উদাহরণ দেওয়া নেই, তবে এটি কক্কাসের একটি উপবিভাগ) |
৮. ব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়ার উপবিভাগ (৫ প্রকার)
| প্রকারভেদ | উদাহরণ |
| মনোব্যাসিলাস | Bacillus albus, E. coli |
| ডিপ্লোব্যাসিলাস | Moraxella lacunata |
| স্ট্রেপটোব্যাসিলাস | Streptobacillus moniliformis |
| কক্কোব্যাসিলাস | Salmonella, Mycobaterium |
| প্যালিসেড ব্যাসিলাস | Lampropedia SP |
৯. অন্যান্য আকৃতির ব্যাকটেরিয়া
- কমাকৃতি/ ভিব্রিও: Vibrio cholerae
- স্পাইরিলাম/ সর্পিলাকার: Spirillum minus
- বহুরুপী/ পলিমর্ফিক: Rhizobium SP.
- স্টিলেট/ তারকাকার: Stella SP.
- বর্গাকৃতির: Haloquandratum walsbyi
- ফিলামেন্টাস: Candidatus savagella
১০. রঞ্জনভিত্তিক ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণিবিভাগ (২ প্রকার)
| প্রকারভেদ | উদাহরণ |
| গ্রাম পজিটিভ | ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া, ক্লসট্রিজিয়াম, স্ট্রেপ্টোকক্কাস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি। |
| গ্রাম নেগেটিভ | এনটেরোব্যাকটেরিয়া, সকল সায়ানোব্যাকটেরিয়া, শিগেলা, সালমোনেলা, রাইজোবিয়াম, ভিব্রিও, E. coli ইত্যাদি। |
১১. ফ্লাজেলাভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ (৬ প্রকার)
| প্রকারভেদ | ফ্লাজেলার অবস্থান | উদাহরণ |
| অ্যাট্রিকাস | ফ্লাজেলাবিহীন | Corynebacterium diphtheriae |
| মনোট্রিকাস | এক প্রান্তে একটি ফ্লাজেলা | Vibrio cholerae |
| অ্যাম্ফিট্রিকাস | উভয় প্রান্তে একটি করে ফ্লাজেলা | Spirillum minus |
| সেফালোট্রিকাস | এক প্রান্তে একগুচ্ছ ফ্লাজেলা | Pseudomonas fluorescens |
| লফোট্রিকাস | উভয় প্রান্তে একগুচ্ছ ফ্লাজেলা | Spirillum volutans |
| পেরিট্রিকাস | সারা দেহে ফ্লাজেলা | Salmonella typhi |
ভাইরাস: বৈশিষ্ট্য, তাৎপর্য ও কাজসমূহ
ভাইরাসকে মূলত জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী সেতুবন্ধন বলা হয়। এদের বৈশিষ্ট্যকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যায়:
১. ভাইরাসের জড়-রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য (Non-living or Chemical Characteristics)
এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রমাণ করে যে ভাইরাস জীবকোষের বাইরে নিষ্ক্রিয় এবং রাসায়নিক কণার মতো আচরণ করে।
- অকোষীয় ও সরল গঠন: ভাইরাস অকোষীয় (acellular) এবং অতি আণুবীক্ষণিক। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লি, কোষপ্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া—এসব কোষীয় অঙ্গাণু নেই।
- বিপাক ক্রিয়ার অনুপস্থিতি: এদের নিজস্ব কোনো বিপাকীয় এনজাইম নেই এবং এরা খাদ্য গ্রহণ করে না। ফলে এদের পুষ্টি ক্রিয়াও অনুপস্থিত।
- স্বাধীন প্রজননক্ষমতা নেই: ভাইরাস জীবকোষের সাহায্য ছাড়া স্বাধীনভাবে প্রজননক্ষম নয়।
- রাসায়নিক পদার্থের ন্যায় নিষ্ক্রিয়: জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার মতো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে।
- রাসায়নিক উপাদান: ভাইরাস রাসায়নিকভাবে কেবল প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিডের সমাহার মাত্র।
- কেলাসন ও তলানিকরণ: ভাইরাসকে কেলাসিত (crystallized) করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিকরণ করা যায়।
- ফিল্টারযোগ্যতা: ব্যাকটেরিয়ারোধক ফিল্টারে ভাইরাস ফিল্টারযোগ্য নয়।
- শারীরিক বৃদ্ধিতে অক্ষমতা: ভাইরাসের দৈহিক বৃদ্ধি নেই এবং এরা পরিবেশের উদ্দীপনায় সাড়া দেয় না।
- প্রতিরোধ ক্ষমতা: ভাইরাস অ্যাসিড, ক্ষার ও লবণ প্রতিরোধে সক্ষম এবং অ্যান্টিবায়োটিক এদের দেহে কোনো রূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে না।
২. ভাইরাসের জীবীয় বৈশিষ্ট্য (Living Characteristics)
এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রমাণ করে যে পোষক কোষের অভ্যন্তরে ভাইরাস একটি জীবের মতো আচরণ করে।
- বাধ্যতামূলক পরজীবী: ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী (Obligate Parasite)।
- সংখ্যাবৃদ্ধি (Multiplication): পোষক কোষের অভ্যন্তরে ভাইরাস সংখ্যাবৃদ্ধি বা প্রতিলিপন (replication) ঘটাতে পারে।
- অনুরূপ সৃষ্টি: নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মাতৃ ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে, অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে।
- জিনগত উপাদান: ভাইরাসের দেহ জেনেটিক বস্তু (DNA বা RNA) এবং প্রোটিন দিয়ে গঠিত।
- পরিব্যক্তি ও প্রকরণ: ভাইরাস পরিব্যক্তি (mutation) ঘটাতে এবং প্রকরণ (Variation) তৈরি করতে সক্ষম।
- অভিযোজন: এদের অভিযোজন ক্ষমতা রয়েছে।
- জিনগত পুনর্বিন্যাস: এদের জিনগত পুনর্বিন্যাস (genetic recombination) ঘটতে দেখা যায়।
৩. ভাইরাসের তাৎপর্য ও কাজসমূহ
| তাৎপর্য/কাজ | বিবরণ |
| রোগ সৃষ্টি | জীবীয় বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে ভাইরাস প্রাণী (যেমন: HIV, ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা), উদ্ভিদ (যেমন: TMV) এবং ব্যাকটেরিয়াতেও রোগ সৃষ্টি করে। |
| জিনগত গবেষণা | DNA বা RNA-এর উপস্থিতি ও জিনগত পুনর্বিন্যাসের ক্ষমতার কারণে ভাইরাস জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আণবিক জীববিজ্ঞান গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। |
| জড় ও জীবের সংযোগ | জড়-রাসায়নিক ও জীবীয় উভয় বৈশিষ্ট্য ধারণ করার মাধ্যমে এটি জীব ও জড় জগতের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। |
DNA ভাইরাস ও RNA ভাইরাসের মধ্যে পার্থক্য
| পার্থক্যের বিষয় | DNA ভাইরাস | RNA ভাইরাস |
| ১. নিউক্লিক অ্যাসিড | এদের নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে। | এদের নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে। |
| ২. ডিএনএ-এর প্রকৃতি | DNA সাধারণত দ্বিসূত্রক (dsDNA) হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে একসূত্রক (ssDNA) হতে পারে। | RNA সাধারণত একসূত্রক (ssRNA) হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে দ্বিসূত্রক (dsRNA) হতে পারে (যেমন: Reovirus)। |
| ৩. প্রতিলিপন স্থান | সাধারণত পোষক কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রতিলিপন ঘটে। | সাধারণত পোষক কোষের সাইটোপ্লাজমে প্রতিলিপন ঘটে। |
| ৪. প্রতিলিপন প্রক্রিয়া | এটি প্রতিলিপন ও ট্রান্সক্রিপশনের জন্য পোষক কোষের এনজাইম ব্যবহার করে। | এটি প্রতিলিপন ও ট্রান্সক্রিপশনের জন্য সাধারণত নিজস্ব RNA পলিমারেজ/রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ এনজাইম ব্যবহার করে। |
| ৫. পরিব্যক্তি (Mutation) | এদের পরিব্যক্তির হার কম। | এদের পরিব্যক্তির হার অনেক বেশি, কারণ RNA পলিমারেজ DNA পলিমারেজের মতো ত্রুটি সংশোধনে (proofreading) সক্ষম নয়। |
| ৬. আকারের স্থায়িত্ব | সাধারণত RNA ভাইরাসের চেয়ে বেশি স্থিতিশীল। | DNA ভাইরাসের চেয়ে কম স্থিতিশীল এবং দ্রুত অভিযোজন ক্ষমতাসম্পন্ন। |
| ৭. উদাহরণ | T-ফায, হার্পিস ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস, ভ্যারিওলা ভাইরাস ইত্যাদি। | HIV, পোলিও ভাইরাস, ডেঙ্গু ভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, TMV, রেবিস ভাইরাস ইত্যাদি। |
লাইটিক চক্র ও লাইসোজেনিক চক্রের মধ্যে পার্থক্য
লাইটিক চক্র ও লাইসোজেনিক চক্র হলো ব্যাকটেরিওফায ভাইরাসের জীবনচক্রের দুটি ভিন্ন পদ্ধতি।
| পার্থক্যের বিষয় | লাইটিক চক্র (Lytic Cycle) | লাইসোজেনিক চক্র (Lysogenic Cycle) |
| ১. গঠনগত/প্রক্রিয়া | এ চক্রে ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া কোষে প্রবেশ করে সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটায় এবং ব্যাকটেরিয়া কোষের বিদারণ (lysis) ঘটিয়ে থাকে। | এ চক্রে ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া কোষে প্রবেশ করার পর ভাইরাস DNA অণুটি ব্যাকটেরিয়াল DNA অণুর সাথে যুক্ত হয় এবং একত্রিত হয়ে অনুলিপি গঠন করে। |
| ২. পরিণতি (বিদারণ) | পূর্ণাঙ্গ ভাইরাসরূপে ব্যাকটেরিয়া থেকে বিদারিত হয় (কোষের মৃত্যু ঘটায়)। | পূর্ণাঙ্গ ভাইরাসরূপে ব্যাকটেরিয়া থেকে বিদারিত হয় না (কোষের মৃত্যু ঘটায় না)। |
| ৩. নিয়ন্ত্রণকারী উপাদান | এ চক্রে ভাইরাসের সংখ্যাবৃদ্ধি ভাইরাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। | এ চক্রে ভাইরাসের DNA-এর সংখ্যাবৃদ্ধি পোষক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। |
| ৪. আক্রমণের প্রকৃতি | আক্রমণের প্রকৃতি তীব্র বা ভিরুলেন্ট। | পোষক কোষের মৃত্যু ঘটে না, তাই আক্রমণ মৃদু বা টেম্পারেট। |
| ৫. প্রোফায গঠন | প্রোফায গঠিত হয় না। | প্রোফায (Prophage) গঠিত হয় (ভাইরাসের DNA ব্যাকটেরিয়াল DNA-এর সঙ্গে যুক্ত হয়)। |
| ৬. সৃষ্ট ভাইরাসের সংখ্যা | লাইটিক চক্র একবার সম্পন্ন হলে অনেকগুলো ভাইরাসের সৃষ্টি হয়। | লাইসোজেনিক চক্র একবার সম্পন্ন হলে মাত্র দুটি ভাইরাস জিনোমযুক্ত ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হয় (প্রতিবার ব্যাকটেরিয়া কোষ বিভাজনের সময়)। |
| ৭. উদাহরণ (ফায সিরিজ) | T-সিরিজ যুক্ত ফাযে (যেমন: $T_4$) লাইটিক চক্র দেখা যায়। | $\lambda$ (ল্যামডা)-সিরিজ যুক্ত ফাযে লাইসোজেনিক চক্র দেখা যায়। |
কয়েকটি প্রাণী ভাইরাস, পোষকদেহ ও সৃষ্ট রোগ
| সৃষ্ট রোগের নাম | পোষকদেহ | ভাইরাসের নাম |
| AIDS | মানুষ | HIV ভাইরাস |
| ডেঙ্গু/ ডেঙ্গু জ্বর | মানুষ | ফ্ল্যাভি ভাইরাস (Flavi Virus) |
| বার্ড ফ্লু | হাঁস-মুরগি, পাখি, মানুষ | ইনফ্লুয়েঞ্জা (H5N1) ভাইরাস |
| চিকুনগুনিয়া | মানুষ | চিকুনগুনিয়া ভাইরাস |
| Swine Flue | মানুষ, শূকর | ইনফ্লুয়েঞ্জা (H1N1) ভাইরাস |
| SARS | মানুষ | Nipah ভাইরাস |
| জলাতঙ্ক | মানুষ | র্যাবিস ভাইরাস (Rabies Virus) |
| গুটি বসন্ত (Small pox) | মানুষ | ভ্যারিওলা ভাইরাস (Variola Virus) |
| জলবসন্ত (Chicken pox) | মানুষ, পশুপাখি | ভ্যারিসেলা-জোস্টার ভাইরাস (Varicella-Zoster virus) |
| ভাইরাস নিউমোনিয়া | মানুষ | Adeno virus |
| কোষের লাইসিস (lysis) | মানুষ | Ebola virus |
| সাধারণ সর্দি | মানুষ | Rhino virus |
| হাম | মানুষ | রুবিওলা ভাইরাস (Rubeola virus) |
| পোলিওমাইলাইটিস | মানুষ | পোলিও ভাইরাস (Polio virus) |
| ইনফ্লুয়েঞ্জা | মানুষ | ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস (Influenza virus) |
| হার্পিস | মানুষ | হার্পিস ভাইরাস (Herpes Virus) |
| জন্ডিস/লিভার ক্যান্সার | মানুষ | হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস (Hepatitis B) |
| পীত জ্বর | মানুষ | ইয়েলো ফিভার ভাইরাস (Yellow Fever virus) |
| গো-বসন্ত | মানুষ | ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস (Vaccinia Virus) |
| পা ও মুখের ক্ষত (খুরারোগ/ফুট অ্যান্ড মাউথ) | গরু/ভেড়া/ছাগল/মহিষ | ‘ফুট অ্যান্ড মাউথ’ ভাইরাস (Foot and mouth virus) |
| ইঁদুরের টিউমার | ইঁদুর | পোলিওমা ভাইরাস (Polioma virus) |
| ক্যাপোসি সারকোমা | মানুষ | হার্পিস সিমপ্লেক্স (Herpes simplex) |
| অ্যানোজেনিটাল ক্যান্সার | মানুষ | প্যাপিলোমা ভাইরাস (Papiloma virus) |
এইচএসসি জীববিজ্ঞান ১ম পত্রের ৪র্থ অধ্যায় অণুজীব নোটপিডিএফ ডাউনলোড করুন।






