SSC বাংলা মানুষ ও মুহম্মদ (স.) গল্পের স্মার্ট নোট

এসএসসি বাংলা ১ম পত্রের মানুষ ও মুহম্মদ (স.) গল্পের স্মার্ট নোট শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি একটি সহজ ও পরীক্ষাভিত্তিক নোট। এতে পাঠ পরিচিতি, লেখক পরিচয়, গল্পের মূলভাব, শব্দার্থ ও টীকা, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, প্রশ্নোত্তর এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। SSC পরীক্ষার প্রস্তুতি, দ্রুত রিভিশন এবং ভালো ফলাফলের জন্য এই স্মার্ট নোটটি অত্যন্ত সহায়ক।


মানুষ ও মুহম্মদ (স.) গল্পের স্মার্ট নোট

পরিচয়মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী

নাম: মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী

জন্ম: ১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দ / ২৯ ভাদ্র ১৩০৩ বঙ্গাব্দ

জন্মস্থান: বাঁশদহ গ্রাম, সাতক্ষীরা

মৃত্যু: ৮ নভেম্বর ১৯৫৪

পরিচয়: বাঙালি লেখক ও সাংবাদিক।

পেশাগত জীবনে মূলত সাংবাদিকতা করেছেন।

শিক্ষাজীবন ও অসহযোগ আন্দোলন

  • কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজে পড়াশোনা করেন।
  • ছাত্রজীবনেই অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন।
  • অসহযোগ আন্দোলনে যোগদানের কারণে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি ঘটে।
  • এরপর তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।

সাংবাদিকতা

তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পত্র-পত্রিকায় কাজ করেছেন, যেমন—

  • মাসিক মোহাম্মদী
  • দৈনিক মোহাম্মদী
  • দৈনিক সেবক
  • সাপ্তাহিক সওগাত
  • সাপ্তাহিক খাদেম
  • The Musalman (ইংরেজি পত্রিকা)

সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য

  • মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য—
  • যুক্তিবাদী চিন্তা + পরিচ্ছন্ন ভাবনা + সহজ ভাষা
  • খুব পরিচ্ছন্ন ও যুক্তিবাদী চিন্তাধারা নিয়ে বিষয় বিচার করতেন।
  • তাঁর ভাষা সহজ-সরল।
  • গদ্যশৈলী ঋজু।
  • রচনা সাবলীল ও প্রাঞ্জল।
  • জটিল বিষয়ও সহজভাবে উপস্থাপন করতে পারতেন।

উল্লেখযোগ্য রচনা

  1. মহামানুষ মহসীন
  2. মরুভাস্কর
  3. সৈয়দ আহমদ
  4. স্মার্নানন্দিনী
  5. ছোটদের হযরত মোহাম্মদ
  6. কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  7. ডন কিহোতোর গল্প
  8. মানুষ মুহাম্মদ (স.)

শেষ জীবন ও মৃত্যু

  • স্বাস্থ্যগত কারণে ১৯৩৫ সালে কলকাতা ত্যাগ করেন।
  • নিজ গ্রাম বাঁশদহে ফিরে আসেন।
  • সেখানেই ৮ নভেম্বর ১৯৫৪ মৃত্যুবরণ করেন।

পরীক্ষার জন্য একনজরে

বিষয়তথ্য
নামমোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
জন্ম১৮৯৬ / ২৯ ভাদ্র ১৩০৩
জন্মস্থানবাঁশদহ, সাতক্ষীরা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানবঙ্গবাসী কলেজ, কলকাতা
আন্দোলনঅসহযোগ আন্দোলন
পেশাসাংবাদিকতা
প্রধান বৈশিষ্ট্যযুক্তিবাদী ও পরিচ্ছন্ন চিন্তা
ভাষাশৈলীসহজ-সরল, ঋজু, সাবলীল
কলকাতা ত্যাগ১৯৩৫
মৃত্যু৮ নভেম্বর ১৯৫৪
মৃত্যুস্থানবাঁশদহ

মানুষ ও মুহম্মদ (স.) গল্পের স্মার্ট নোট

★ মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী — বাঙালি লেখক।

★ জন্ম — ১৮৯৬ সালে (বাংলা ১৩০৩ সালের ২৯শে ভাদ্র)।

★ জন্মস্থান — সাতক্ষীরা জেলার বাঁশদহ গ্রাম।

★ মৃত্যু — ৮ নভেম্বর ১৯৫৪।

★ মৃত্যুস্থান — বাঁশদহ, সাতক্ষীরা।

★ কলকাতা বঙ্গবাসী কলেজে — ছাত্র থাকাকালীন অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন।

★ কলকাতা বঙ্গবাসী কলেজেই — তাঁর লেখাপড়ার সমাপ্তি ঘটে।

★ পেশা — সাংবাদিকতা।

★ কর্মরত পত্রিকা — মাসিক মোহাম্মদী, দৈনিক মোহাম্মদী, দৈনিক সেবক, সাপ্তাহিক সওগাত, সাপ্তাহিক খাদেম, ইংরেজি দি মুসলমান।

★ রচনার বৈশিষ্ট্য — পরিচ্ছন্ন চিন্তা, যুক্তিবাদী মন, সহজ সরল প্রকাশভঙ্গি।

★ গদ্যশৈলী — ঋজু ও সাবলীল।

★ ১৯৩৫ সালে — স্বাস্থ্যগত কারণে কলকাতা ছেড়ে বাঁশদহে ফিরে আসেন।

★ রচিত গ্রন্থ — “মহামানুষ মহসীন”।

★ রচিত গ্রন্থ — “মরুভাস্কর”।

★ রচিত গ্রন্থ — “সৈয়দ আহমদ”।

★ রচিত গ্রন্থ — “স্মার্নানন্দিনী”।

★ রচিত গ্রন্থ — “ছোটদের হযরত মোহাম্মদ”।

★ রচিত গ্রন্থ — “কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ”।

★ রচিত গ্রন্থ — “ডন কিহোতোর গল্প”।

★ রচিত গ্রন্থ — “মানুষ মুহাম্মদ (স.)”।

★ “মাসিক মোহাম্মদী” — একটি পত্রিকা যেখানে তিনি কর্মরত ছিলেন।

★ “দৈনিক সেবক” — আরেকটি পত্রিকা যেখানে তিনি কর্মরত ছিলেন।

★ “সাপ্তাহিক সওগাত” — পত্রিকাটিতেও তিনি কর্মরত ছিলেন।

★ ইংরেজি “দি মুসলমান” — পত্রিকায় তিনি কাজ করতেন।

★ মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর রচনা — সহজ-সরল ও যুক্তিনিষ্ঠ।

★ তিনি — অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

★ বঙ্গবাসী কলেজ — কলকাতায় অবস্থিত।

★ বাঁশদহ — সাতক্ষীরা জেলার একটি গ্রাম।

★ তাঁর মৃত্যু — ১৯৫৪ সালের ৮ নভেম্বর।

★ “মানুষ মুহম্মদ (স.)” প্রবন্ধের রচয়িতা — মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী।

★ হযরতের মৃত্যুর খবরে যেন আঁধার ঘনাইয়া আসিল — মদিনায়।

★ মহানবির (স.) মৃত্যুর সংবাদ শুনে উলঙ্গ তরবারি হাতে লাফাইয়া উঠেন — হযরত ওমর (রা.)।

★ “যে বলিবে হযরত মরিয়াছেন, তাহার মাথা যাইবে” — উক্তিটি হযরত ওমরের।

★ মহানবির (স.) মৃত্যুশয্যার পার্শ্বে শেষ পর্যন্ত গম্ভীরভাবে অবস্থান করছিলেন — হযরত আবুবকর (রা.)।

★ “যাহারা হযরতের পূজা করিত, তাহারা জানুক তিনি মারা গিয়াছেন; আর যাহারা আল্লাহর উপাসক, তাহাদের জানা উচিত আল্লাহ অমর, অবিনশ্বর” — উক্তিটি হযরত আবুবকরের (রা.)।

★ “মুহম্মদ (স.) একজন রাসুল বৈ আর কিছু নন” — এটি আল্লাহর সুস্পষ্ট বাণী।

★ হযরত আবুবকরের গম্ভীর উক্তিতে সকলের — চৈতন্য হয়।

★ হযরত আবুবকরের কথা শুনে মাটিতে লুটাইয়া পড়ে — হযরত ওমরের শিথিল অঙ্গ।

★ “আমি তোমাদেরই মতো একজন মানুষ মাত্র” — হযরত ওমরের স্মরণ হওয়া হযরতের বাণী।

★ “মুহম্মদ, মৃত্যু তোমারও ভাগ্য, তাহাদেরও ভাগ্য” — কুরআনের আয়াত।

★ মুসলিমের গভীর প্রত্যয়ের অমর সাক্ষ্য — “মুহম্মদ (স.) আল্লাহর দাস (মানুষ) ও রাসুল।”

★ শোকের প্রথম প্রচণ্ড আঘাতে স্থিতধী ভূমিকা পালন করেন — হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রা.)।

★ হযরত আবুবকর (রা.) মূর্ছিত মুসলিমদের বুঝিয়ে দেন — রাসুল আমাদেরই মতো রক্ত-মাংসে গঠিত মানুষ।

★ মহানবি (স.) মানুষের মন আকর্ষণ করেছিলেন মূলত — তাঁহার মানবীয় গুণাবলি দ্বারা।

★ হযরত মুহাম্মদ (স.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন — মক্কার শ্রেষ্ঠ বংশে।

★ মহানবি (স.) সংসারে এসেছিলেন — জন্মদুঃখী হইয়া।

★ হযরত মুহাম্মদ (স.) আবাল্য উপাধি পেয়েছিলেন — আল-আমিন।

★ ‘আল-আমিন’ শব্দের অর্থ — বিশ্বস্ত, প্রিয়ভাষী, সত্যবাদী।

★ হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর গুণাবলি আকর্ষণ করেছিল — বিবি খাদিজাকে।

★ মক্কা হইতে মদিনায় হিযরতের পথে হযরত আশ্রয় নেন — এক পরহিতব্রতী দম্পতির কুটিরে।

★ পরহিতব্রতী দম্পতির ব্রত ছিল — রাহী-পথিকদের সেবা করা।

★ কুটিরস্বামীর নাম — আবু মা’বদ। (মানুষ ও মুহম্মদ (স.) গল্পের স্মার্ট নোট)

★ আবু মা’বদ গিয়েছিলেন — মেষপাল চরাইতে।

★ উম্মে মা’বদ হযরতকে পান করিয়ে তৃষ্ণা দূর করেন — ছাগীদুগ্ধ দিয়া।

★ উম্মে মা’বদের বর্ণনায় হযরতের কেশপাশ ছিল — সুদীর্ঘ ও কুঞ্চিত।

★ উম্মে মা’বদের মতে হযরতের চোখ ছিল — আয়তকৃষ্ণ এবং ঢলঢল চাহনিযুক্ত।

★ উম্মে মা’বদের মতে হযরতের ভূযুগল ছিল — কাজল-রেখার মতো যুক্ত।

★ উম্মে মা’বদের বর্ণনায় হযরতের গ্রীবা ছিল — সুউচ্চ।

★ উম্মে মা’বদের বর্ণনায় হযরতের নীরবতা ছিল — গুরুগম্ভীর।

★ উম্মে মা’বদের বর্ণনায় হযরতের মুখের ভাষণ ছিল — মধুবর্ষী।

★ উম্মে মা’বদের মতে হযরতের প্রকৃতি ছিল — বিনীত ও নম্র।

★ হযরতের শারীরিক গঠন সম্পর্কে উম্মে মা’বদ বলেন — তিনি দীর্ঘ নন, খর্ব নন, কৃশ নন।

★ সত্যের নিবিড় সাধনায় হযরতের চরিত্র হয়ে উঠেছিল — মধুময়।

★ শত্রুর নিষ্ঠুরতম নির্যাতন আঘাত পেয়ে ফিরে যেত — হযরতের অন্তরের লৌহকপাটে।

★ সত্যে হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন — বজ্রের মতো কঠিন ও পর্বতের মতো অটল।

★ করুণায় হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন — কুসুমকোমল।

★ পৌত্তলিকদের প্রস্তরঘায়ে হযরত আহত হয়েছিলেন — মক্কার পথে প্রান্তরে।

★ শত্রুর আঘাতে হযরতের অন্তর ভেদিয়া প্রার্থনার বাণী জেগেছিল — “এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা কর।”

★ সত্য প্রচার করতে গিয়ে হযরত ভীষণ পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন — তায়েফে।

★ তায়েফে শত্রুর পাথরের আঘাতে হযরতের রক্ত জমাট বেঁধেছিল — পাদুকায় (জুতোয়)।

★ তায়েফে মৃত্যুর আবছায়া চৈতন্যকে সমাচ্ছন্ন করলেও হযরতের ছিল না — বিন্দুমাত্র অভিযোগ।

★ হযরত জীবনে শ্রেষ্ঠতম সম্বল জ্ঞানে আশ্রয় করেছিলেন — সত্যকে।

★ অভিসম্পাত করতে অনুরোধ করা হলে হযরত বলেন — “না না, তাহা কখনই সম্ভব নয়। এই পৃথিবীতে আমি ইসলামের বাহন, সত্যের প্রচারক।”

★ তায়েফে আঘাত পেয়ে হযরত ঊর্ধ্বদিকে বাহু প্রসারণ করে বলেছিলেন — “তোমার পতাকা যদি দিয়াছ প্রভু… তাহা বহন করিবার শক্তি আমায় দাও।”

★ নির্যাতন সহনাতীত হওয়ায় হযরত মদিনায় চলে যান — মক্কাবাসীদের নির্মম অত্যাচারের কারণে।

★ মক্কাবাসীরা হযরত ও আবুবকরের ছিন্ন মুণ্ড আনার জন্য লোভ দেখিয়েছিল — বিপুল পুরস্কারের।

★ মক্কার বাসিন্দারা ইসলামের চিহ্ন মুছে ফেলতে চেয়েছিল — বদর, ওহোদ ও আহযাব (খন্দক) যুদ্ধে।

★ খয়বরের যুদ্ধে হযরতের পরাজয়ের মিথ্যা সংবাদ শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়েছিল — শত্রুরা।

★ হুদায়বিয়া সন্ধিতে মুসলিমদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল — ঘোর অপমানের শর্ত।

★ বিজয়ী বেশে হযরত মক্কায় প্রবেশ করার দিন যুদ্ধকামনা করে হাঙ্গামা বাঁধায় — খালিদের সহিত।

★ মক্কা বিজয়ের পর জয়ীর আসনে বসে মহানবি (স.) শত্রুদের বলেন — “আজ তোমরা সবাই স্বাধীন, সবাই মুক্ত।”

★ মক্কাবাসীদের নিঃশর্ত ক্ষমা করা সম্ভব হয়েছিল — হযরতের বিরাট মনুষ্যত্বের কারণে।

★ মক্কা বিজয়ের পর হযরত সত্যান্বেষী মানুষকে দীক্ষা দিচ্ছিলেন — সাফা পর্বতের পার্শ্বে বসে।

★ সাফা পর্বতের কাছে এসে ভয়ে কাঁপতে থাকা লোককে হযরত বলেন — “কেন তুমি ভয় পাইতেছ? আমি রাজা নই, সম্রাট নই, মানুষের প্রভু নই।”

★ হযরত নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন তিনি সন্তান এমন এক নারীর, যাঁর নিত্যকার আহার্য ছিল — সাধারণ শুষ্ক মাংস।

★ হযরত মুহাম্মদ (স.) অনাবিল সততার সাথে আত্মদোষ উদ্ঘাটন করেছেন — লোকচক্ষে হেয়তার ভয় অবহেলা করে।

★ মক্কার সম্ভ্রান্ত লোকদের কাছে সত্য প্রচারের সময় মজলিসের প্রান্তে বসে ছিলেন — একজন অন্ধ ব্যক্তি।

★ অন্ধ ব্যক্তির প্রশ্ন শুনে হযরতের মুখে সামান্য ফুটে উঠেছিল — বিরক্তির আভাস ও ললাট কুঞ্চন।

★ মহানবির (স.) বিরক্তি প্রকাশের তুচ্ছতম ত্রুটির প্রতি ইঙ্গিত এসেছিল — কুরআনের বাণীতে।

★ কুরআনের আয়াত নাজিল হওয়ার পর মহানবি (স.) নিজের ত্রুটি সবার কাছে প্রচার করেন — বিনা দ্বিধায়, বিনা সঙ্কোচে।

★ মহানবি (স.) স্বেচ্ছায় পরিধান করেছিলেন — দারিদ্র্যের কণ্টক মুকুট।

★ মহানবির (স.) গৃহে সব সময় জুটিত না — অন্ন।

★ মহানবির (স.) ঘরে নিশার অন্ধকারে জ্বালানোর মতো সময় সময় ছিল না — তৈলটুকুও।

★ মহানবি (স.) মহাপ্রয়াণ করেছিলেন — নিঃস্ব কাঙালের বেশে।

★ মহানবির (স.) প্রয়াণে বিয়োগবিধুরা হয়ে বিলাপ করেছিলেন — হযরত আয়েশা (রা.)।

★ মানুষের মঙ্গল বহিয়া আনার অপরাধে প্রস্তরঘায়ে মহানবির (স.) ভেঙেছিল — দাঁত।

★ শত্রুর পাথরের আঘাতে রুধিরাক্ত হয়েছিল — মহানবির (স.) প্রশস্ত ললাট।

★ দুই বেলা পূর্ণোদর আহারও ভাগ্যে হয়নি — মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর।

★ ত্যাগ ও তিতিক্ষার মূর্ত প্রকাশ ছিলেন — মহানবি (স.)।

★ মানুষের সঙ্গে মানুষের ব্যবহারে হযরত মোস্তফা (স.) ইতিহাসের — অত্যন্ত অসাধারণ চরিত্র।

শব্দার্থ ও টীকা: মানুষ ও মুহম্মদ (স.) গল্পের স্মার্ট নোট

শব্দ / পদঅর্থ / পরিচিতি ও টীকা
বীরবাহুশক্তিধারী।
স্থিতধীস্থিরবুদ্ধিসম্পন্ন।
ধীবুদ্ধি।
রাসুলআল্লাহর প্রেরিত পুরুষ।
পরহিতব্রতীপরের উপকারে নিয়োজিত।
বয়ানমুখনিঃসৃত বাণী।
গ্রীবাঘাড়।
অকুতোভয়নির্ভয়।
নির্যাতনঅত্যাচার, জুলুম।
কুসুমকোমলফুলের মতো নরম।
লোট্ৰাঘাতঢিলের আঘাত।
বৈরীশত্রু।
অরাতিশত্রু।
পৌত্তলিকমূর্তিপূজক।
তিতিয়াভিজে।
সমাচ্ছন্নঅভিভূত।
পূর্ণোদরভরপেট।
বীরবাহু ওমরইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.) ছিলেন একজন তেজস্বী বীরযোদ্ধা। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কোরেশ বংশোদ্ভূত তরুণ বীর ওমর মহানবিকে হত্যা করার সংকল্প নিয়ে যখন যাচ্ছিলেন তখন তাঁর ভগ্নীর কণ্ঠে পবিত্র কুরআনের বাণী শুনে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। হযরত ওমর (রা.) ছিলেন একজন বীরযোদ্ধা, ন্যায়পরায়ণ শাসক ও মহানবির বিশ্বাসভাজন সাহাবা।
রুধিরাক্তরক্তাক্ত, রক্তরঞ্জিত।
রাহীপথিক, মুসাফির।
পুলকদীপ্তিআনন্দের উদ্ভাস।
অনুরুদ্ধঅনুরোধ করা হয়েছে এমন।
মহামতি আবুবকরইসলামের প্রথম খলিফা এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রথম পুরুষ ব্যক্তি। তিনি ছিলেন মহানবির হিজরতকালীন সঙ্গী এবং সারাজীবনের বিশ্বস্ত সহচর। তিনি ছিলেন সত্যনিষ্ঠ, আদর্শবাদী ও ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ।
মক্কাসৌদি আরবের অন্যতম প্রধান নগরী। এখানে আল্লাহর ঘর কাবা শরিফ অবস্থিত। এই নগরীতে রাসুলুল্লাহ (স.) জন্মগ্রহণ করেন।
মদিনাসৌদি আরবে অবস্থিত মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় সম্মানিত নগরী। এখানে হযরত মুহম্মদ (স.) এবং হযরত আবু বকর (রা.) এর মাজার রয়েছে।
হিজরতশাব্দিক অর্থ পরিত্যাগ। এখানে মক্কা ত্যাগ করে মদিনা যাত্রা বোঝানো হয়েছে। এই সময় থেকে হিজরি সাল গণনার শুরু।
তায়েফসৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি উর্বর প্রদেশ।
বদর, ওহোদ, আহযাব, খয়বরহযরতের জীবনকালে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে এ সব স্থানে মুসলমানদের যুদ্ধ হয়েছিল।
হুদায়বিয়াএকটি যুদ্ধক্ষেত্র, এই স্থানে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (স.) এর একটি সন্ধিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। এ সন্ধি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং রাসুলুল্লাহর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচায়ক।
খালিদহযরতের জীবিতকালে ইসলামের প্রখ্যাত বীরযোদ্ধা এবং সেনাপতি।
সাফাসাফা ও মারওয়া দুটি ছোটো পাহাড় কাবার নিকটে অবস্থিত। হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর স্ত্রী বিবি হাজেরা শিশুপুত্র ইসমাইলের পিপাসা নিবারণের জন্য পানির সন্ধানে এই দুই পাহাড়ের মধ্যে ছোটাছুটি করেছিলেন। সেই স্মৃতি রক্ষার্থে আজও হজব্রতীরা সাফা-মারওয়ায় দৌড়ে থাকেন।
আয়েশা (রা.)হযরত আবুবকরের কন্যা, রাসুলুল্লাহ (স.)-এর অন্যতম সহধর্মিণী, বিদুষী রমণী ছিলেন। হযরতের ইন্তেকালের পর তিনি বহু হাদিস উদ্ধৃত করেন।

পাঠ পরিচিতি

‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধটি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত মরু ভাস্কর গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলি এ প্রবন্ধে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। হযরত ছিলেন মানুষের নবি । তাই মানুষের পক্ষে যা আচরণীয় তিনি তারই আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা ও মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেই একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। ক্ষমতা ও মহত্ত্ব, প্রেম ও দয়া তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তাঁর সারা জীবন মানব জাতির কল্যাণের জন্য নিয়োজিত ছিল। মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ হিসেবে তিনি তাঁর জীবন রূপায়িত করে তুলেছিলেন। তাঁর সাধনা, ত্যাগ, কল্যাণচিন্তা ছিল বিশ্বের সমগ্র মানুষের জন্য অনুকরণীয়। হযরত মুহম্মদ (স.) এর মৃত্যুর পর তাঁর অনুসারীগণের মধ্যে যে বেদনা ও হতাশা দেখা দিয়েছিল তা প্রশমন করার জন্য হযরত আবুবকর (রা) মহানবি (স.)-এর জীবনের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে প্রচণ্ড শোককে শান্ত করেন। হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলি উপস্থাপনের মাধ্যমে এ প্রবন্ধ আমাদের নৈতিক, সৎ ও মানবিক হবার শিক্ষা দেয় ।


মানুষ ও মুহম্মদ (স.) গল্পের স্মার্ট নোট PDF Download

সমাধানে যদি কোনো ভুল খুঁজে পান, তবে দয়া করে আমাদের জানিয়ে সাহায্য করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার রেটিং দিন:

Scroll to Top