এসএসসি বাংলা ১ম পত্রের মমতাদি গল্পের স্মার্ট নোট শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি একটি সহজ ও পরীক্ষাভিত্তিক নোট। এতে পাঠ পরিচিতি, লেখক পরিচয়, গল্পের মূলভাব, শব্দার্থ ও টীকা, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, প্রশ্নোত্তর এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। SSC পরীক্ষার প্রস্তুতি, দ্রুত রিভিশন এবং ভালো ফলাফলের জন্য এই স্মার্ট নোটটি অত্যন্ত সহায়ক।
SSC মমতাদি গল্পের স্মার্ট নোট
পরিচয়: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
- প্রকৃত নাম: প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
- ডাকনাম: মানিক
- জন্ম: ১৯ মে ১৯০৮, দুমকা, সাঁওতাল পরগনা, বর্তমান ঝাড়খণ্ড
- মৃত্যু: ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৬
- পরিচয়: ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক
- বাংলা কথাসাহিত্যে বাস্তববাদী ও বৈপ্লবিক ধারার অন্যতম প্রধান লেখক।
- মাত্র ৪৮ বছর বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
পরিবার ও শৈশব
- পিতা: হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় — সরকারি কর্মকর্তা, তৎকালীন ঢাকা জেলার সেটেলমেন্ট বিভাগের সাব-রেজিস্ট্রার।
- মাতা: নীরদাসুন্দরী দেবী।
- চৌদ্দ সন্তানের মধ্যে অষ্টম।
- জন্মপত্রিকায় নাম ছিল অধরচন্দ্র; পিতার দেওয়া নাম প্রবোধকুমার এবং ডাকনাম মানিক।
- পৈতৃক বাড়ি: বিক্রমপুরের লৌহজংয়ের গাওদিয়া গ্রাম।
- পিতার বদলির চাকরির কারণে বাংলা-বিহার-ওড়িশার বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর শৈশব ও কৈশোর কাটে।
- গাওদিয়া গ্রামের পটভূমি তাঁর বিখ্যাত পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাসে ব্যবহৃত হয়েছে।
শিক্ষাজীবন
- ১৯২৬: মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস।
- ১৯২৮: বাঁকুড়া ওয়েসলিয় মিশন কলেজ থেকে I.Sc. পাস।
- কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে গণিত বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হন।
- সাহিত্যচর্চায় গভীরভাবে যুক্ত হওয়ায় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে যায়।
- পরবর্তীতে সাহিত্যকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।
সাহিত্যজীবনের সূচনা⭐
- মানিকের সাহিত্যজীবনের সূচনা ঘটে এক অভিনব ঘটনায়।
- কলেজ ক্যান্টিনে বন্ধুর সঙ্গে বাজি ধরে তিনি প্রথম গল্প লেখেন।
- গল্পটির নাম অতসী মামী।
- বিখ্যাত পত্রিকা বিচিত্রা-র সম্পাদক উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় গল্পটি প্রকাশ করেন।
- ১৯৩৫ সালে গল্পটি প্রকাশের পর তিনি দ্রুত সাহিত্যজগতে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
- এরপর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লিখতে থাকেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবন
- ১৯৩৮: কমলা দেবীর সঙ্গে বিবাহ।
- ১৯৩৯: প্রেস ও প্রকাশনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন; পরে তা বন্ধ হয়ে যায়।
- ১৯৪৩: কয়েক মাস সরকারি পদে কাজ করেন।
- ১৯৪৪: ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান।
- ১৯৪৬: প্রগতি লেখক সংঘের যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত।
- একই বছর দাঙ্গাবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৫৩: প্রগতি লেখক ও শিল্পী সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।
প্রধান সাহিত্যকর্ম
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্মের পরিমাণ বিশাল:
- ৪০টি উপন্যাস
- প্রায় ৩০০টি ছোটগল্প
- নাটকসহ অন্যান্য রচনাও রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য উপন্যাস
| উপন্যাস | সাল |
| দিবারাত্রির কাব্য | ১৯৩৫ |
| জননী | ১৯৩৫ |
| পুতুলনাচের ইতিকথা | ১৯৩৬ |
| পদ্মানদীর মাঝি | ১৯৩৬ |
| জীবনের জটিলতা | ১৯৩৬ |
| অমৃতস্য পুত্রাঃ | ১৯৩৮ |
| শহরতলি | ১৯৪০–৪১ |
| চতুষ্কোণ | ১৯৪২ |
| দর্পণ | ১৯৪৫ |
| চিহ্ন | ১৯৪৭ |
| জীয়ন্ত | ১৯৫০ |
| পেশা | ১৯৫১ |
| স্বাধীনতার স্বাদ | ১৯৫১ |
| ইতিকথার পরের কথা | ১৯৫২ |
| পাশাপাশি | ১৯৫২ |
| সার্বজনীন | ১৯৫২ |
| নাগপাশ | ১৯৫৩ |
| আরোগ্য | ১৯৫৩ |
| হরফ | ১৯৫৪ |
| পরাধীন প্রেম | ১৯৫৫ |
| হলুদ নদী সবুজ বন | ১৯৫৬ |
শ্রেষ্ঠ উপন্যাস — কী মনে রাখবেন?
🪆 পুতুলনাচের ইতিকথা
- পটভূমি: বিক্রমপুরের গাওদিয়া গ্রাম।
- গ্রামীণ সমাজ ও মানুষের জটিল মনস্তত্ত্বের চিত্র।
- মানুষের জীবন, সম্পর্ক, আকাঙ্ক্ষা ও সামাজিক বাস্তবতা প্রধান বিষয়।
🚣 পদ্মানদীর মাঝি
- পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলে সম্প্রদায়ের জীবন এর পটভূমি।
- দরিদ্র মানুষের সংগ্রাম, বেঁচে থাকার লড়াই ও সামাজিক বাস্তবতা ফুটে উঠেছে।
- মানিকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও বহুলপঠিত উপন্যাস।
🌗 দিবারাত্রির কাব্য
- মধ্যবিত্ত জীবনের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন।
- তাঁর প্রাথমিক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস।
ছোটগল্প
উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- অতসীমামী — ১৯৩৫
- প্রাগৈতিহাসিক — ১৯৩৭
- মিহি ও মোটা কাহিনী — ১৯৩৮
- সরীসৃপ — ১৯৩৯
- বৌ — ১৯৪০
- সমুদ্রের স্বাদ — ১৯৪৩
- ভেজাল — ১৯৪৪
- হলুদপোড়া — ১৯৪৫
- আজ কাল পরশুর গল্প — ১৯৪৬
- পরিস্থিতি — ১৯৪৬
- খতিয়ান — ১৯৪৭
- মাটির মাশুল — ১৯৪৮
- ছোট বড় — ১৯৪৮
- ছোটবকুলপুরের যাত্রী — ১৯৪৯
- ফেরিওয়ালা — ১৯৫৩
- লাজুকলতা — ১৯৫৪
- উল্লেখযোগ্য গল্প: অতসী মামী, প্রাগৈতিহাসিক, ছোটবকুলপুরের যাত্রী, মাসি-পিসি।
নাটক
- ভিটেমাটি — ১৯৪৬
চলচ্চিত্রায়ণ
মানিকের সাহিত্য অবলম্বনে নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র:
- পুতুলনাচের ইতিকথা — ১৯৪৯
- দিবারাত্রির কাব্য — ১৯৭০
- পদ্মা নদীর মাঝি — ১৯৯৩
- পুতুলনাচের ইতিকথা — ২০২৫
- ১৩. অসুস্থতা ও মৃত্যু
- ১৯৩৫ সাল থেকে মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
- জীবনের শেষদিকে তীব্র আর্থিক সংকটে ভুগেছেন।
- দীর্ঘদিন রোগভোগের পর ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৬ মৃত্যুবরণ করেন।
- মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৪৮ বছর।
পরীক্ষার জন্য একনজরে
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় = প্রবোধকুমার + বাস্তববাদ + মনস্তত্ত্ব + মার্কসবাদ
- প্রকৃত নাম: প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
- ডাকনাম: মানিক
- জন্ম: ১৯ মে ১৯০৮ → দুমকা
- মৃত্যু: ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৬
- পৈতৃক নিবাস: লৌহজং, বিক্রমপুর
- প্রথম গল্প: অতসী মামী
- প্রকাশ: বিচিত্রা, ১৯৩৫
- প্রধান প্রভাব: ফ্রয়েড + মার্কস
- উপন্যাস: ৪০টি
- ছোটগল্প: প্রায় ৩০০টি
- শ্রেষ্ঠ উপন্যাস: পুতুলনাচের ইতিকথা, পদ্মানদীর মাঝি, দিবারাত্রির কাব্য
- কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ: ১৯৪৪
- প্রগতি লেখক সংঘ: ১৯৪৬
- মৃত্যুকালীন বয়স: ৪৮ বছর
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩টি নাম:
👉 দিবারাত্রির কাব্য — পুতুলনাচের ইতিকথা — পদ্মানদীর মাঝি
মমতাদি গল্পের স্মার্ট নোট
★ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম — প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
★ ডাকনাম — মানিক।
★ জন্ম — ১৯ মে ১৯০৮।
★ জন্মস্থান — দুমকা, সাঁওতাল পরগনা (বর্তমান ঝাড়খণ্ড)।
★ মৃত্যু — ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৬।
★ মৃত্যুকালে বয়স — ৪৮ বছর।
★ পিতার নাম — হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় (সরকারি কর্মকর্তা, সাব-রেজিস্ট্রার)।
★ মাতার নাম — নীরদাসুন্দরী দেবী।
★ তিনি ছিলেন — চৌদ্দ সন্তানের অষ্টম।
★ জন্মপত্রিকায় নাম — অধরচন্দ্র।
★ পৈতৃক বাড়ি — লৌহজং, বিক্রমপুরের গাওদিয়া গ্রাম।
★ পিতার বদলির চাকরির কারণে — বাংলা-বিহার-ওড়িশায় শৈশব কাটে।
★ গাওদিয়া গ্রামের পটভূমি ব্যবহার করেছেন — “পুতুলনাচের ইতিকথা” উপন্যাসে।
★ ১৯২৬ সালে — মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস।
★ ১৯২৮ সালে — বাঁকুড়া ওয়েসলিয় মিশন কলেজ থেকে I.Sc. পাস।
★ কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে — গণিত বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হন।
★ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হয় — সাহিত্যচর্চায় গভীরভাবে যুক্ত হওয়ায়।
★ সাহিত্যজীবনের সূচনা — কলেজ ক্যান্টিনে বন্ধুর সাথে বাজি ধরে।
★ প্রথম গল্প — “অতসী মামী”।
★ “অতসী মামী” প্রকাশিত হয় — বিচিত্রা পত্রিকায় (১৯৩৫)।
★ “বিচিত্রা”র সম্পাদক — উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।
★ ১৯৩৮ সালে — কমলা দেবীর সঙ্গে বিবাহ।
★ ১৯৩৯ সালে — প্রেস ও প্রকাশনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন (পরে বন্ধ)।
★ ১৯৪৩ সালে — কয়েক মাস সরকারি পদে কাজ করেন।
★ ১৯৪৪ সালে — ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান।
★ ১৯৪৬ সালে — প্রগতি লেখক সংঘের যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত।
★ ১৯৪৬ সালে — দাঙ্গাবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন।
★ ১৯৫৩ সালে — প্রগতি লেখক ও শিল্পী সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।
★ সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য — বাস্তববাদ + মনস্তত্ত্ব + মার্কসবাদ + মানবজীবন।
★ ফ্রয়েডীয় প্রভাব — মানুষের মন, অবচেতন ও যৌনমনস্তত্ত্বের বিশ্লেষণ।
★ মার্কসবাদী প্রভাব — শ্রেণিসংগ্রাম, শোষণ, অর্থনৈতিক বৈষম্য।
★ তাঁর লেখার বিষয় — মধ্যবিত্তের কৃত্রিমতা, শ্রমজীবীর সংগ্রাম, দারিদ্র্য, শোষণ, শ্রেণিবৈষম্য।
★ রচনা সংখ্যা — ৪০টি উপন্যাস ও প্রায় ৩০০টি ছোটগল্প।
★ প্রথম উপন্যাস — “দিবারাত্রির কাব্য” (১৯৩৫)।
★ “জননী” উপন্যাস প্রকাশিত হয় — ১৯৩৫ সালে।
★ “পুতুলনাচের ইতিকথা” প্রকাশিত হয় — ১৯৩৬ সালে।
★ “পদ্মানদীর মাঝি” প্রকাশিত হয় — ১৯৩৬ সালে।
★ “জীবনের জটিলতা” প্রকাশিত হয় — ১৯৩৬ সালে।
★ “অমৃতস্য পুত্রাঃ” প্রকাশিত হয় — ১৯৩৮ সালে।
★ “শহরতলি” প্রকাশিত হয় — ১৯৪০-৪১ সালে।
★ “চতুষ্কোণ” প্রকাশিত হয় — ১৯৪২ সালে।
★ “দর্পণ” প্রকাশিত হয় — ১৯৪৫ সালে।
★ “চিহ্ন” প্রকাশিত হয় — ১৯৪৭ সালে।
★ “জীয়ন্ত” প্রকাশিত হয় — ১৯৫০ সালে।
★ “পেশা” প্রকাশিত হয় — ১৯৫১ সালে।
★ “স্বাধীনতার স্বাদ” প্রকাশিত হয় — ১৯৫১ সালে।
★ “ইতিকথার পরের কথা” প্রকাশিত হয় — ১৯৫২ সালে।
★ “পাশাপাশি” প্রকাশিত হয় — ১৯৫২ সালে।
★ “সার্বজনীন” প্রকাশিত হয় — ১৯৫২ সালে।
★ “নাগপাশ” প্রকাশিত হয় — ১৯৫৩ সালে।
★ “আরোগ্য” প্রকাশিত হয় — ১৯৫৩ সালে।
★ “হরফ” প্রকাশিত হয় — ১৯৫৪ সালে।
★ “পরাধীন প্রেম” প্রকাশিত হয় — ১৯৫৫ সালে।
★ শেষ উপন্যাস — “হলুদ নদী সবুজ বন” (১৯৫৬)।
★ “পুতুলনাচের ইতিকথা”র পটভূমি — বিক্রমপুরের গাওদিয়া গ্রাম।
★ “পদ্মানদীর মাঝি”র পটভূমি — পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলে সম্প্রদায়।
★ “দিবারাত্রির কাব্য” — মধ্যবিত্ত জীবনের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা নিয়ে।
★ উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ — অতসীমামী (১৯৩৫), প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭), মিহি ও মোটা কাহিনী (১৯৩৮), সরীসৃপ (১৯৩৯), বৌ (১৯৪০), সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩), ভেজাল (১৯৪৪), হলুদপোড়া (১৯৪৫), আজ কাল পরশুর গল্প (১৯৪৬), পরিস্থিতি (১৯৪৬), খতিয়ান (১৯৪৭), মাটির মাশুল (১৯৪৮), ছোট বড় (১৯৪৮), ছোটবকুলপুরের যাত্রী (১৯৪৯), ফেরিওয়ালা (১৯৫৩), লাজুকলতা (১৯৫৪)। (মমতাদি গল্পের স্মার্ট নোট)
★ উল্লেখযোগ্য গল্প — অতসী মামী, প্রাগৈতিহাসিক, ছোটবকুলপুরের যাত্রী, মাসি-পিসি।
★ নাটক — “ভিটেমাটি” (১৯৪৬)।
★ চলচ্চিত্রায়িত রচনা — পুতুলনাচের ইতিকথা (১৯৪৯), দিবারাত্রির কাব্য (১৯৭০), পদ্মা নদীর মাঝি (১৯৯৩), পুতুলনাচের ইতিকথা (২০২৫)।
★ ১৯৩৫ সাল থেকে — মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
★ শেষ জীবনে — তীব্র আর্থিক সংকটে ভুগেছেন।
★ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় — ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক।
★ বাংলা কথাসাহিত্যে — বাস্তববাদী ও বৈপ্লবিক ধারার প্রধান লেখক।
★ তাঁর সাহিত্যের মূলমন্ত্র — “মানিক = মন + মার্কস + মানুষ”।
★ তিনটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস — দিবারাত্রির কাব্য, পুতুলনাচের ইতিকথা, পদ্মানদীর মাঝি।
★ “মমতাদি” গল্পের রচয়িতা — মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
★ গল্পের সাহিত্যিক রূপ — ছোটগল্প।
★ গল্পের সূচনা সময় — শীতের সকাল।
★ রোদে বসে স্কুলের পড়া করছিল — গল্পের কথক (খোকা)।
★ রোদে বসে মা যা করছিলেন — ফুলকপি কুটছিলেন।
★ মমতাদির বয়স — আনুমানিক ২৩ বছর।
★ মমতাদির পরনে ছিল — সেলাই করা ময়লা শাড়ি।
★ মমতাদির শাড়ির পাড়ের রঙ — বিবর্ণ লাল।
★ মমতাদির কপালে ছিল — টিপের মতো একটি ক্ষত-চিহ্ন।
★ মমতাদি যে কাজের জন্য এসেছিল — রাঁধুনির কাজ।
★ মমতাদির নাম — মমতা।
★ মমতাদির বসবাসের স্থান — জীবনময়ের গালির ২৭ নম্বর বাড়ির একতলা।
★ মমতাদির পরিবারে সদস্য সংখ্যা — স্বামী ও একটি ছেলে।
★ মমতাদির স্বামীর চাকরি ছিল না — চার মাস ধরে।
★ মমতাদির প্রথম চাকরি — কথকদের বাড়িতে রাঁধুনির কাজ।
★ মমতাদির মাইনে ঠিক হয়েছিল — ১৫ টাকা।
★ মমতাদি কাজ করার আগে আশা করেছিল — ১২ টাকা।
★ মমতাদির কাজের সময় — দুবেলা রেঁধে দিয়ে যাবে, কিন্তু খাবে না।
★ মমতাদিকে কাজের প্রথম দিন আসতে বলা হয়েছিল — পরদিন সকাল থেকে।
★ মমতাদির কাজের সময়সীমা — সকাল ৬টা থেকে বেলা ১০টা ৩০ মিনিট।
★ মমতাদিকে ভাব করতে গেটের কাছে ধরেছিল — খোকা (কথক)।
★ “কাল দেখবো” বলে এক সেকেন্ড না দাঁড়িয়ে চলে গিয়েছিল — মমতাদি।
★ বাড়িতে আসা কুটুমদের উপহার — এক গাদা রসগোল্লা আর সন্দেশ।
★ খোকা খাবার কোথায় লুকিয়ে খাচ্ছিল — ভাঁড়ার ঘরে।
★ “দরজার পাশ থেকে দেখছিলাম, আর কটা খাচ্ছ গুনছিলাম” — উক্তিটি মমতাদির।
★ মমতাদি খোকাকে ডাকতে নিষেধ করেছিল — “বামুনদি” বলে।
★ মমতাদি খোকাকে যা বলে ডাকতে বলেছিল — “দিদি”।
★ মমতাদির গালে কটি চড়ের দাগ ছিল — ৩টি।
★ চড়ের দাগের কারণ হিসেবে মমতাদি প্রথমে যা বলেছিল — মশা মারতে গিয়ে নিজে চড় মেরেছে।
★ মমতাদির স্বামীর চাকরি হয়েছিল — ইংরেজি মাসের ১ তারিখ থেকে।
★ মমতাদির স্বামীর চাকরি ছিল — সামান্য আয়ের।
★ “মিথ্যে বললে কি হয় খোকা?” — প্রশ্নটি মমতাদির।
★ মিথ্যা বললে যা হয় — পাপ হয়।
★ গুরুনিন্দা বাঁচাতে মিথ্যা বললে — পাপ হয় না (কথকের মতে)।
★ মমতাদির গলির নাম — জীবনময় লেন।
★ জীবনময় গলির নামকে কথক তুলনা করেছেন — যমালয়ের পথের সাথে।
★ মমতাদির বাড়িটির নম্বর — ২৭ নম্বর।
★ মমতাদির বাসাটি ছিল — দুই তলা ছোট বাড়ি।
★ মমতাদির শোবার ঘরের চৌকির নিচে ছিল — একটি চরকা ও ভাঙা বেতের বাস্কেট।
★ মমতাদির ঘরে ট্রাংক ছিল — ২টি (একটির রঙ চটা, একটির তালা ভাঙা)।
★ মমতাদির ঘরে টেবিলের ওপর ছিল — বই-খাতা, টাইমপিস, ওষুধের শিশি, আর্সি ও সংবাদপত্র।
★ মমতাদির ছেলের বয়স — প্রায় ৫ বছর।
★ মমতাদির ছেলে অসুস্থ ছিল — পেটের ব্যথায়।
★ মমতাদি কথককে খাওয়ার জন্য কিনেছিল — ২টি কমলালেবু।
★ মমতাদির ঘরে মুড়ি ছাড়া আর কিছু ছিল না — তাই লেবু খাইয়েছিল।
★ মমতাদি রোয়াকে বসে যে কাজ করেছিল — ঘর ঝাঁট, কড়াই মাজা, পানি তোলা ও মশলা বাটা।
শব্দার্থ ও টীকা: মমতাদি গল্পের স্মার্ট নোট
| শব্দ / বাক্যাংশ | অর্থ ও ব্যাখ্যা |
| বাছা | বৎস বা অল্পবয়সী সন্তান। |
| পর্দা ঠেলে উপার্জন | এখানে নারীদের অন্তঃপুরে থাকার প্রথাভঙ্গ করে বাইরে এসে আয়-রোজগার করা বোঝাচ্ছে। |
| অনাড়ম্বর | জাঁকজমকহীন। |
| বামুনদি | ব্রাহ্মণদিদির সংক্ষিপ্ত রূপ। আগে রান্না বা গৃহকর্মে যে ব্রাহ্মণকন্যাগণ নিয়োজিত হতেন তাদের কথ্যরীতিতে বামুনদি ডাকা হতো। |
| অপ্রতিভ | অপ্রস্তুত। |
| পরদিন থেকে সে আর আসত না | না আসার কারণ আত্মসম্মান। মমতাদি টাকার জন্য অন্যের বাড়িতে কাজ নিয়েছে সত্য কিন্তু তাকে অসম্মান করলে বা সন্দেহের চোখে দেখলে নিজে অপমান বোধ করে চাকরি ত্যাগের সাহস তার ছিল। |
| হরির লুট | ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দান করা। সংকীর্তনের পর হরির নামে যেভাবে বাতাসা ছড়ানো হয়। |
পাঠ পরিচিতি
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরীসৃপ (১৯৩৯) গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ‘মমতাদি’ গল্প। এই গল্পে গৃহকর্মে নিয়োজিত মানুষের প্রতি মানবিক আচরণের দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে। স্কুল পড়ুয়া একটি ছেলে যখন দেখে তাদের বাড়িতে মমতাদি নামে এক গৃহকর্মী আসে, তখন সে আনন্দিত হয়। তাকে নিজের বাড়ির একজন বলে ভাবতে শুরু করে ছেলেটি। মমতাদির সংসারে অভাব আছে বলেই মর্যাদাসম্পন্ন ঘরের নারী হয়েও তাকে অপরের বাড়িতে কাজ নিতে হয়। এই আত্মমর্যাদাবোধ তার সবসময়ই সমুন্নত ছিল। সে নিজে যেমন আদর ও সম্মানপ্রত্যাশী, তেমনি অন্যকেও স্নেহ ও ভালোবাসা দেবার ক্ষেত্রে তার মধ্যে দ্বিধা ছিল না। স্কুলপড়ুয়া ছেলেটি তাই মমতাদির কাছে ছোটো ভাইয়ের মর্যাদা লাভ করে। তাকে নিজ বাসায় নিয়ে গিয়ে যথাসামর্থ্য আপ্যায়ন করে মমতাদি । সম্মান ও সহমর্মিতা নিয়ে মমতাদির পাশেও দাঁড়ায় স্কুলপড়ুয়া ঐ ছেলে ও তার পরিবার। প্রকৃতপক্ষে, আমাদের গৃহকর্মে যাঁরা সহায়তা করে থাকেন তাঁদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করা জরুরি। আত্মসম্মানবোধ তাদেরও আছে। ‘মমতাদি’ গল্পটি আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে, সামাজিক শ্রেণি মানবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারে না; যে কোনো পেশার যে কোনো মানুষকে দেখতে হবে শ্রদ্ধা ও মর্যাদার দৃষ্টিতে ।
মমতাদি গল্পের স্মার্ট নোট PDF Download