HSC বাংলা মাসি-পিসি গল্পের স্মার্ট নোট

HSC মাসি পিসি গল্পের স্মার্ট নোটপরীক্ষার প্রস্তুতিকে সহজ ও গুছিয়ে তুলতে তৈরি করা হয়েছে। এই নোটে গল্পের কাহিনি, মূলভাব, গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, বিষয়বস্তু, সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর এবং পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। HSC পরীক্ষার্থীরা এই স্মার্ট নোটের মাধ্যমে অল্প সময়ে মাসি পিসি গল্প ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে। পাশাপাশি নোটটি PDF আকারে ডাউনলোড করে মোবাইল বা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে যেকোনো সময় পড়া যাবে।


HSC মাসি পিসি গল্পের স্মার্ট নোট

পরিচিতি

  • পূর্ণ নাম: প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  • ডাকনাম: মানিক
  • জন্ম: ১৯ মে ১৯০৮
  • জন্মস্থান: দুমকা, সাঁওতাল পরগনা, বর্তমান ঝাড়খণ্ড
  • মৃত্যু: ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৬
  • মৃত্যুকালে বয়স: ৪৮ বছর
  • পরিচয়: বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক ও আধুনিক বাস্তববাদী লেখক

🎯 এক নজরে

বিষয়তথ্য
প্রকৃত নামপ্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
ডাকনামমানিক
সাহিত্যধারাবাস্তববাদ (Realism)
প্রভাবফ্রয়েডীয় মনঃসমীক্ষণ ও মার্কসবাদ
মোট উপন্যাসপ্রায় ৪০টি
মোট ছোটগল্পপ্রায় ৩০০টি
প্রথম গল্পঅতসী মামী
শ্রেষ্ঠ উপন্যাসপদ্মা নদীর মাঝি, পুতুলনাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য

👨👩👦 পারিবারিক পরিচয়

  • পিতা: হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায়
  • মাতা: নীরদাসুন্দরী দেবী
  • ভাইবোন: ১৪ সন্তানের মধ্যে অষ্টম
  • পৈতৃক নিবাস: গাওদিয়া, লৌহজং, বিক্রমপুর (বর্তমান মুন্সিগঞ্জ)

📖 শিক্ষাজীবন

✅ ১৯২৬ সালে মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস।

✅ ১৯২৮ সালে বাঁকুড়া ওয়েসলিয় মিশন কলেজ থেকে আই.এস.সি. পাস।

✅ প্রেসিডেন্সি কলেজে গণিতে অনার্সে ভর্তি হন।

📌 সাহিত্যচর্চার কারণে পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে লেখালেখিকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।

সাহিত্যজীবনের সূচনা

এক বন্ধুর সঙ্গে বাজি ধরে তিনি “অতসী মামী” গল্পটি লেখেন এবং বিচিত্রা পত্রিকায় পাঠান।

✔ গল্পটি প্রকাশের পরপরই ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

✔ এরপর থেকেই “মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়” নামটি বাংলা সাহিত্যজগতে প্রতিষ্ঠিত হয়।

🎭 সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য

তার সাহিত্যের প্রধান বিষয়—

  • মধ্যবিত্ত সমাজের কৃত্রিমতা
  • শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রাম
  • দারিদ্র্য
  • সামাজিক বৈষম্য
  • মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
  • মানবতাবাদ
  • শ্রেণিসংগ্রাম

💡 সাহিত্যে প্রভাব

ফ্রয়েডীয় প্রভাব

  • মানুষের অবচেতন মন
  • মানসিক দ্বন্দ্ব
  • মনস্তত্ত্ব

মার্কসীয় প্রভাব

  • শ্রেণিসংগ্রাম
  • শোষণ
  • পুঁজিবাদ
  • শ্রমজীবী মানুষের জীবন

📚 প্রধান উপন্যাস

দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫)

জননী (১৯৩৫)

পুতুলনাচের ইতিকথা (১৯৩৬)

পদ্মা নদীর মাঝি (১৯৩৬)

চতুষ্কোণ

অহিংসা

স্বাধীনতার স্বাদ

📖 প্রধান গল্পগ্রন্থ

  • অতসী মামী
  • প্রাগৈতিহাসিক
  • সরীসৃপ
  • বৌ
  • সমুদ্রের স্বাদ
  • ছোটবকুলপুরের যাত্রী
  • লাজুকলতা

শ্রেষ্ঠ রচনা

১. পদ্মা নদীর মাঝি

পটভূমি

পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলে সমাজ।

মূল বিষয়

  • দারিদ্র্য
  • সংগ্রাম
  • মানবজীবন
  • স্বপ্ন ও বাস্তবতা

২. পুতুলনাচের ইতিকথা

পটভূমি

বিক্রমপুরের গাওদিয়া গ্রাম।

মূল বিষয়

  • গ্রামীণ সমাজ
  • মানুষের ভাগ্য
  • সামাজিক বাস্তবতা

৩. দিবারাত্রির কাব্য

মধ্যবিত্ত মানুষের মানসিক সংকট ও জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে রচিত।

💼 কর্মজীবন

  • পত্রিকার সহসম্পাদক ছিলেন।
  • ১৯৩৯ সালে প্রকাশনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
  • ১৯৪৩ সালে সরকারি চাকরি করেন।

❤️ ব্যক্তিগত জীবন

স্ত্রী: কমলা দেবী

বিবাহ: ১৯৩৮

🟥 রাজনৈতিক জীবন

  • ১৯৪৪ সালে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান।
  • ১৯৪৬ সালে প্রগতি লেখক সংঘের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন।
  • সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।
  • ১৯৫৩ সালে প্রগতি লেখক ও শিল্পী সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।

🎬 চলচ্চিত্রে রূপায়িত রচনা

  • পদ্মা নদীর মাঝি
  • পুতুলনাচের ইতিকথা
  • দিবা রাত্রির কাব্য

মৃত্যু

  • দীর্ঘদিন মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
  • জীবনের শেষদিকে তীব্র আর্থিক সংকটে ভুগেছেন।
  • ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

🌟 সাহিত্যিক গুরুত্ব

✅ বাংলা সাহিত্যে আধুনিক বাস্তববাদের অন্যতম প্রধান রূপকার।

✅ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনকে বাস্তবভাবে তুলে ধরেছেন।

✅ মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণধর্মী কথাসাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ।

✅ বাংলা উপন্যাস ও ছোটগল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

📝 পরীক্ষায় বারবার আসা তথ্য

✔ প্রকৃত নাম — প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

✔ ডাকনাম — মানিক

✔ জন্ম — ১৯ মে ১৯০৮

✔ জন্মস্থান — দুমকা, বর্তমান ঝাড়খণ্ড

✔ প্রথম গল্প — অতসী মামী

✔ প্রথম উপন্যাস — দিবারাত্রির কাব্য

✔ শ্রেষ্ঠ উপন্যাস — পদ্মা নদীর মাঝি

✔ গাওদিয়া গ্রামের পটভূমিতে রচিত — পুতুলনাচের ইতিকথা

✔ প্রভাবিত — ফ্রয়েড ও মার্কস

✔ মোট উপন্যাস — প্রায় ৪০টি

✔ মোট ছোটগল্প — প্রায় ৩০০টি

✔ মৃত্যু — ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৬

🎯 ১০ সেকেন্ডে রিভিশন

📌 প্রকৃত নাম — প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

📌 জন্ম — ১৯ মে ১৯০৮, দুমকা

📌 মৃত্যু — ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৬

📌 প্রথম গল্প — অতসী মামী

📌 প্রথম উপন্যাস — দিবারাত্রির কাব্য

📌 শ্রেষ্ঠ উপন্যাস — পদ্মা নদীর মাঝি, পুতুলনাচের ইতিকথা

📌 সাহিত্যধারা — বাস্তববাদ

📌 প্রভাব — ফ্রয়েডীয় মনঃসমীক্ষণ ও মার্কসবাদ

📌 মোট উপন্যাস — ৪০টি

📌 মোট ছোটগল্প — ৩০০টি

মাসি পিসি গল্পের স্মার্ট নোটস

★ “মাসি-পিসি” গল্পের রচয়িতা — মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

★ গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় — “পূর্বাশা” পত্রিকায় (১৩৫২ বঙ্গাব্দের চৈত্র সংখ্যায় / মার্চ-এপ্রিল ১৯৪৬)।

★ গল্পটি সংকলিত গল্পগ্রন্থ — “পরিস্থিতি” (অক্টোবর ১৯৪৬)।

★ গল্পের মূল পাঠ গ্রহণ করা হয়েছে — “ঐতিহ্য” প্রকাশিত “মানিক-রচনাবলি” পঞ্চম খণ্ড থেকে।

★ গল্পের মূল চরিত্র — আহ্লাদি (পিতৃমাতৃহীন, নির্যাতনের শিকার এক তরুণী)।

★ আহ্লাদির অভিভাবক — তার মাসি ও পিসি (দুজনই বিধবা ও নিঃস্ব)।

★ গল্পের খালের জল নেমে যাওয়ার কারণ — নদীতে পুরো ভাটা চলা।

★ পুলের কাছে খালের ধারে লাগানো নৌকা — সালতি।

★ সালতিতে বোঝাই ছিল — আঁটিবাঁধা খড়।

★ সালতি থেকে খড় তোলার কাজে যুক্ত মোট মানুষ — ৫ জন (মাথায় চড়ায় ৩ জন, সালতি থেকে তুলে দেয় ২ জন)।

★ খড় তুলে দেওয়া দুজনের পরিচয় — একজন আধপাকা চুল ও রোগা শরীরের বৃদ্ধ, অন্যজন কদমছাঁট রুক্ষ চুলের বেঁটে জোয়ান।

★ কদমছাঁট রুক্ষ চুলের জোয়ান লোকটির নাম — কৈলাশ।

★ বৃদ্ধ লোকটির নাম — রহমান।

★ মাসি-পিসির চালিত সালতিটি ছিল — সরু ও লম্বা (দু-হাত চওড়াও নয়)।

★ মাসি-পিসির পরনে ছিল — ময়লা মোটা থানের শাড়ি (আঁচল কোমরে বাঁধা)।

★ সালতির মাঝখানে গুটিসুটি হয়ে বসে থাকা চরিত্র — আহ্লাদি।

★ আহ্লাদির পরনে ছিল — গায়ে জামা এবং নকশা পাড়ের সস্তা সাদা শাড়ি।

★ আহ্লাদির শারীরিক গড়ন — আঁটসাঁট থমথমে গড়ন, গোলগাল মুখ।

★ মাসি-পিসির সালতির গতি ঠেকানোর উপায় — সামনের দিকে লগি পুঁতে।

★ কৈলাশকে দেখে আহ্লাদির প্রতিক্রিয়া — সিঁথির সিঁদুর পর্যন্ত ঘোমটা টেনে দেওয়া।

★ মাসি-পিসির গলার স্বরের বৈশিষ্ট্য — ঝরঝরে, একটু মোটা ও ঝংকারযুক্ত।

★ মাসি সালতি ধরে রাখে — বড় সালতির খড় ঠেকানো বাঁশ চেপে ধরে।

★ কৈলাশের চা খেতে যাওয়ার জায়গা — পুলের কাছের চায়ের দোকান।

★ চায়ের দোকানে কৈলাশের সাথে দেখা হয় — জগুর (আহ্লাদির স্বামী)।

★ মাসি-পিসির মতে কৈলাশের স্বভাব বিগড়ে যাওয়ার কারণ — হাতে দুটো পয়সা এলে।

★ কৈলাশের মতে জগু বদলে গিয়ে এখন চায় — তার বউকে নিজ ঘরে নিয়ে যেতে।

★ আহ্লাদির ওপর জগুর অত্যাচারের ধরন — পেট শুকিয়ে রাখা, লাথি-ঝাঁটা মারা, কলকেপোড়া ছ্যাঁকা দেওয়া, দিনভর-রাতভর খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা।

★ পিসি জামাই (জগু) এলে খাতির করার জন্য বিক্রি করেছিল — তাদের ছাগলটা।

★ বৃদ্ধ রহমানের মেয়ে মারা গিয়েছিল — অল্পদিন আগে শ্বশুরবাড়িতে।

★ রহমানের ছোট মেয়ে কীভাবে কাঁদে — যাওয়া ঠেকাতে দাপাদাপি করে কাঁদে।

★ আহ্লাদির ফ্যাকাশে মুখে রহমান দেখতে পায় — তার মৃত মেয়ের মুখের ছাপ।

★ কৈলাশের মতে জগু কেন মামলা করতে চায় — বউ আটকে রাখার অপরাধে।

★ মামলার খবর শুনে আহ্লাদির প্রতিক্রিয়া — অস্ফুট আর্তনাদ করে ওঠা।

★ কাদার মধ্যে লগি গুঁজে সালতি ঠেলে নিয়ে যায় — মাসি ও পিসি।

★ বিকেলে শকুন এসে বসে — পাতাশূন্য শুকনো গাছে।

★ আহ্লাদির বাপের ঘরের অবশিষ্ট স্বজন — কেবল তার মাসি ও পিসি।

★ আহ্লাদির বাবা কোনোমতে ঠেকিয়েছিল — মহামারী ও দুর্ভিক্ষ।

★ আহ্লাদির পরিবার ধ্বংস হওয়ার কারণ — কলেরার প্রাদুর্ভাব (বাবা, মা ও ভাই মারা যায়)।

★ মাসি-পিসি আহ্লাদির বাড়িতে যেভাবে থাকত — আশ্রিত ও নিরাশ্রয় বিধবা হিসেবে।

★ মাসি-পিসির উপার্জনের প্রাথমিক উপায় — ধান ভানা, কাঁথা সেলাই, ডালের বড়ি বিক্রি, হোগলা গাঁথা, শাকপাতা ও ফলমূল কুড়ানো।

★ মাসি-পিসির বছরজুড়ে পরিধেয় ছিল — দুজোড়া থান শাড়ি।

★ মাসি-পিসির জমানো পুঁজি ছিল — রুপোর টাকা, আধুলি ও সিকি।

★ দুর্ভিক্ষের সময় মাসি-পিসির বেঁচে থাকার প্রধান বাধা — আহ্লাদির বাপের পুরোপুরি খাওয়া ছাঁটাই করা।

★ মাসি-পিসির মূল নতুন ব্যবসা — গাঁ থেকে শাকসবজি ও ফলমূল কিনে শহরের বাজারে বিক্রি করা।

★ সালতি বেয়ে শাকসবজি বেচতে শহর ও বাজারে যায় — মাসি ও পিসি দুজনে মিলে।

★ পিসির পিতৃালয় ও অহংকারের কারণ — পিসি ওই বাড়ির মেয়ে (বাপের বাড়ি)।

★ মাসির অবস্থান — বাপের বাড়িতে পিসির আশ্রিত (উড়ে এসে জুড়ে বসা)।

★ মাসি ও পিসির মধ্যকার সব বিরোধ দূর হয় — শাকসবজি বিক্রি ও আহ্লাদির দায়িত্ব ঘাড়ে পড়ার পর।

★ আহ্লাদির বাবার সম্পত্তি গ্রাস করেছিল — গোকুল।

★ গোকুলের নজর থেকে আহ্লাদির সম্পত্তির যেটুকু অংশ অবশিষ্ট ছিল — সিকিমতো (চার ভাগের এক ভাগ)।

★ আহ্লাদিকে একা রেখে মাসি-পিসির না যাওয়ার কারণ — গোকুল ও গ্রামের বজ্জাতদের ভয়ে।

★ আহ্লাদির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ইঙ্গিত — সে চার মাসে পড়েছে।

★ পিসির স্বামী (পিসে) কেমন মানুষ ছিল — আগে অত্যাচারী (জগুর মতো) হলেও সন্তান কোল আসার পর নম্র হয়ে যায়।

★ মাসির শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারী চরিত্র — শাশুড়ি ও ননদ (বাঘের মতো ছিল)।

★ মাসি ও পিসির আড়ালে থেকে আহ্লাদির নিজের অনুভূতির ধরন — নিজেকে ছ্যাঁচড়া, নোংরা ও নর্দমার মতো লাগা।

★ আহ্লাদিকে পাওয়ার বা দখল করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল — গোকুল, জোতদার, দারোগা ও গ্রামের বজ্জাতরা।

★ রান্নাঘরে কাজ করার সময় মাসি-পিসির কাজের ছন্দ — অত্যন্ত সহজ ও বলাবলি ছাড়া নিখুঁত (একজনের মতো)।

★ পিসি ঠিক সময়ে মাসির কাছে এগিয়ে দেয় — নুনের পাত্র।

★ জামাই (জগু) এলে মাসি-পিসির কৌশল — জামাইকে সর্বেসর্বা ও কর্তার মর্যাদা দেওয়া, কোনো কড়া কথা না বলা।

★ গভীর রাতে মাসি-পিসিকে ডাকতে আসে — কানাই চৌকিদার।

★ সরকারবাবুর সাথে মাসি-পিসির ঝগড়ার কারণ — বাজারের তোলা (খাজনা) দেওয়া নিয়ে।

★ মাসি-পিসির আগের দিনের ব্রত/উপবাস — শুক্লপক্ষের একাদশীর উপোস।

★ ডাকতে আসার সময় রাতটির বৈশিষ্ট্য — দ্বাদশী তিথির উজ্জ্বল জ্যোৎস্না রাত।

★ কানাই চৌকিদারের সাথে আসা লোকেরা — গোকুলের তিনজন পেয়াদা এবং এক অচেনা লাল পাগড়ি-আঁটা কনস্টেবল।

★ ডোবার ধারে কাঁঠাল গাছের ছায়ায় লুকিয়ে ছিল — গ্রামের গুন্ডা সাধু, বৈদ্য ও ওসমান।

★ ফেটি-বাঁধা বাবরি চুলওয়ালা গুন্ডা — বৈদ্য।

★ কানাই চৌকিদারের মতে কাছারিবাড়িতে বসে আছেন — দারোগাবাবু ও বাবু (গোকুল)।

★ রাতে কাছারিবাড়িতে না যাওয়ার কারণ দেখিয়ে মাসি নিয়ে আসে — বঁটি।

★ রাতে কাছারিবাড়িতে না যাওয়ার জন্য পিসির হাতে ছিল — রামদার মতো মস্ত কাটারি।

★ কানাইদের ভয় দেখাতে মাসি হুমকি দেয় — বঁটির এক কোপে গলা ফাঁক করে দেওয়ার।

★ পিসির কাটারির কোপে কাটতে চায় — দুই-একটার গলা।

★ আত্মরক্ষার জন্য মাসি-পিসি চিৎকার করে ডাকে — বাবাঠাকুর, ঘোষ মশাই, জনার্দন, কানুর মা, বিপিন, বংশী প্রমুখ প্রতিবেশীদের।

★ চিৎকার শুনে পালিয়ে যায় — কানাই চৌকিদার ও তার দলবল।

★ প্রতিবেশীদের ছুটে আসার কারণ — গোকুল ও দারোগার ওপর দীর্ঘদিনের রাগের জ্বালা।

★ প্রতিবেশীদের সহায়তা পেয়ে মাসি-পিসির অনুভূতি — বুকে নতুন সাহস ও স্বস্তি লাভ।

★ গোকুলের লোক আগে মাঝরাতে আগুন দিয়েছিল — সোনাদের ঘরে।

★ শত্রুর আক্রমণ ও আগুন ঠেকাতে মাসি-পিসির পূর্বপ্রস্তুতি — কাঁথা-কম্বল জলে চুবিয়ে রাখা এবং ডোবা থেকে ঘড়া-কলসিতে জল এনে রাখা।

★ বিপদের রাতে আহ্লাদির বাপের আমলের অবশিষ্ট বস্তুটি ছিল — গামলা (গরু ছিল না)।

★ রাতের বেলা আত্মরক্ষার জন্য মাসি-পিসির হাতের কাছে রাখা অস্ত্র — বঁটি ও দা।

শব্দার্থ ও টীকা

শব্দঅর্থ ও টীকা
সালতিশালকাঠ নির্মিত বা তালকাঠের সরু ডোঙা বা নৌকা।
লগিহাত ছয়েক লম্বা সরু বাঁশ। নৌকা চালানোর জন্য ব্যবহৃত বাঁশের দণ্ড।
কদমছাঁটমাথার চুল এমনভাবে ছাঁটা যে তা কদমফুলের আকার ধারণ করে।
খপর‘খবর’ শব্দের আঞ্চলিক উচ্চারণ।
মেয়া‘মেয়ে’ শব্দের আঞ্চলিক উচ্চারণ।
সোমত্তসমর্থ (সংসারধর্ম পালনে), যৌবনপ্রাপ্ত।
খুনসুটিহাসি-তামাশাযুক্ত বিবাদ-বিসম্বাদ বা ঝগড়া।
বেমক্কাস্থান-বহির্ভূত, অসংগত।
পেটে শুকিয়ে লাথি ঝাঁটাপর্যাপ্ত খাবার না-জুগিয়ে কষ্ট দেওয়ার পাশাপাশি লাথি ঝাঁটার মাধ্যমে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা।
কলকেপোড়া ছ্যাকাতামাকসেবনে ব্যবহৃত হুকার উপরে কলকেতে যে আগুন থাকে তা দিয়ে দগ্ধ করা।
ডালের বড়িচালকুমড়া ও ডাল পিষে ছোট ছোট আকারে তৈরি করা খাদ্যবস্তু যা রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয় এবং সবজি-মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করে খাওয়া হয়।
পাঁশুটেছাইবর্ণবিশিষ্ট, পাংশুবর্ণ, পাণ্ডুর, ফ্যাকাশে।
ব্যঞ্জনরান্না-করা তরকারি।
বাজারের তোলাবাজারে বিক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করা খাজনা।
রসুই চালাযে চালার নিচে রান্না করা হয়, রান্নাঘর।
কাটারিকাটবার অস্ত্র।
এর্কি‘ইয়ার্কি’ শব্দের আঞ্চলিক উচ্চারণ; হাস্য-পরিহাস বা রসিকতা।

পাঠ-পরিচিতি

“মাসি-পিসি” গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় কলকাতার ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় ১৩৫২ বঙ্গাব্দের চৈত্র সংখ্যায় (মার্চ-এপ্রিল ১৯৪৬)। পরে এটি সংকলিত হয় ‘পরিস্থিতি’ (অক্টোবর ১৯৪৬) নামক গল্পগ্রন্থে। বর্তমান পাঠ গ্রহণ করা হয়েছে ‘ঐতিহ্য’ প্রকাশিত মানিক-রচনাবলি পঞ্চম খণ্ড থেকে । স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার পিতৃমাতৃহীন এক তরুণীর করুণ জীবনকাহিনি নিয়ে রচিত হয়েছে “মাসি-পিসি” গল্প। আহ্লাদি নামক ওই তরুণীর মাসি ও পিসি দুজনই বিধবা ও নিঃস্ব। তারা তাদের অস্তিত্বরক্ষার পাশাপাশি বিরূপ বিশ্ব থেকে আহ্লাদিকে রক্ষার জন্য যে বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী সংগ্রাম পরিচালনা করে সেটাই গল্পটিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। অত্যাচারী স্বামী এবং লালসা-উন্মত্ত জোতদার, দারোগা ও গুন্ডা-বদমাশদের আক্রমণ থেকে আহ্লাদিকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে অসহায় দুই বিধবার দায়িত্বশীল ও মানবিক জীবনযুদ্ধ খুবই প্রশংসনীয়। দুর্ভিক্ষের মর্মস্পর্শী স্মৃতি, জীবিকা নির্বাহের কঠিন সংগ্রাম, নারী হয়ে নৌকাচালনা ও সবজির ব্যবসায় পরিচালনা প্রভৃতি এ গল্পের বৈচিত্র্যময় দিক।   


Read More: HSC বাংলা রেইনকোট গল্পের স্মার্ট নোট

Read More: লালসালু উপন্যাসের স্মার্ট নোট


HSC বাংলা মাসি পিসি গল্পের স্মার্ট নোট PDF Download

সমাধানে যদি কোনো ভুল খুঁজে পান, তবে দয়া করে আমাদের জানিয়ে সাহায্য করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার রেটিং দিন:

Scroll to Top