বাংলা উচ্চারণের নিয়ম HSC 2026: বাংলা দ্বিতীয় পত্রে উচ্চারণের নিয়ম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টপিক, যা প্রায় প্রতি বছর পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে। সঠিক উচ্চারণ কেবল ভাষার শুদ্ধতা নিশ্চিত করে না, বরং পরীক্ষায় ভালো নম্বর অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিক্ষায় ভালো ফল পেতে হলে বাংলা উচ্চারণের নিয়মগুলো এখনই শুরু করো প্রস্তুতি ও প্র্যাকটিস! বাংলা উচ্চারণের নিয়ম pdfdownload link পোস্টের শেষে দেওয়া আছে।
বাংলা উচ্চারণের নিয়ম HSC 2026
১। ‘য’-ফলা উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লিখ?
(১) ‘য’-ফলা সর্বদা অন্য বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকে। যদি শব্দের আদ্য বর্ণে ‘য’-ফলা যুক্ত হয়, তবে উচ্চারণে সামান্য শ্বাসাঘাত পড়ে এবং বর্ণটি ‘অ’ বা ‘আ’ কারান্ত হলে প্রায়শ ‘অ্যা’-কারান্ত হয়ে উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ: ব্যক্ত (ব্যাক্তো), ব্যর্থ (ব্যাথো), ব্যগ্র (ব্যাগ্রো), ব্যবস্থা (ব্যাবোস্থা), ব্যস্ত (ব্যাস্তো), ব্যথা (ব্যাথা) ইত্যাদি।
(২) পদের আদ্য ‘অ’-কারান্ত বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ‘য’-ফলার পরে যদি ‘ই’-কার (হ্রস্ব বা দীর্ঘ) থাকে, তবে তার উচ্চারণ সাধারণত ‘অ্যা’-কার না হয়ে ‘এ’-কারান্ত হয়।
উদাহরণ: ব্যথিত (বেথিতো), ব্যতীত (বেতিতো), ব্যক্তি (বেত্তি), ব্যতিক্রম (বেতিক্রম), ব্যতিব্যস্ত (বেতিব্যাতো) ইত্যাদি।
(৩) পদের মধ্য বা শেষে যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে ‘য’-ফলা যুক্ত হলে সাধারণত তার উচ্চারণ হয় না।
উদাহরণ: সন্ধ্যা (শোন্ধা), স্বাস্থ্য (শাস্থো), মর্ত্য (মোতো), হর্ম্য (হোমো), কণ্ঠ্য (কোন্ঠো) ইত্যাদি।
(৪) সংযুক্ত বর্ণে ‘য’-ফলা যুক্ত হলে এর নিজস্ব উচ্চারণ হয় না এবং পূর্ববর্তী ‘অ’-কারান্ত বর্ণকেও বিশেষভাবে প্রভাবিত করে না।
উদাহরণ: মর্ত্য, অর্ঘ্য, বন্ধ্যা, কণ্ঠ্য, অন্ত্য ইত্যাদি।
(৫) পদের মধ্য বা অন্ত্যে ‘য’-ফলা যুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট বর্ণটি দুইবার উচ্চারিত হয়—
প্রথমবার হসন্তরূপে, দ্বিতীয়বার ‘ও’-কারান্তরূপে।
উদাহরণ: অদ্য (ওদো), মধ্য (মোধো), ধন্য (ধোনো), শস্য (শোশো), সভ্য (শোভো), সত্য (শোতো), কন্যা (কোনা)।
২। আদ্য ‘অ’-ধ্বনির উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লিখ?
(১) শব্দের শুরুতে ‘অ’ থেকে পরবর্তী বর্ণে যদি ‘ই’-কার বা ‘উ’-কার থাকে, তবে ‘অ’ সাধারণত ‘ও’-কারের মতো উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ: অভিধান (ওভিধান), অভিযান (ওভিজান), অতি (ওতি), অতীত (ওতিত), অধীন (ওধিন)।
(২) আদ্য ‘অ’-এর পর ‘য’-ফলাযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকলে ‘অ’ প্রায়শ ‘ও’-কারের মতো হয়।
উদাহরণ: অদ্য (ওদো), অন্য (ওনো), অত্যাচার (ওত্তাচার), কন্যা (কোনা), বন্যা (বোন্না)।
(৩) আদ্য ‘অ’-এর পরে যদি ‘ক্ষ’ বা ‘জ্ঞ’ থাকে, তবে উচ্চারণ ‘ও’-কারান্ত হয়।
উদাহরণ: অক্ষ (ওক্খো), দক্ষ (দোখো), যক্ষ (জোক্খো), লক্ষণ (লোকখোন), যজ্ঞ (জোগ্গো), লক্ষ (লোক্খো), রক্ষা (রোখা)। (বাংলা উচ্চারণের নিয়ম HSC)
(৪) আদ্য ‘অ’-এর পরে ‘ঋ’-কারযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকলে ‘অ’ সাধারণত ‘ও’-কারান্ত হয়।
উদাহরণ: মসৃণ (মোসৃণ), বক্তৃতা (বোক্তৃতা)।
(৫) শব্দের প্রথমে ‘অ’-এর সঙ্গে ‘র’-ফলা যুক্ত থাকলেও ‘অ’ সাধারণত ‘ও’-কারান্ত হয়।
উদাহরণ: ক্রম (ক্রোম), গ্রহ (গ্রোহো), গ্রন্থ (গ্রোথো), ব্রত (ব্রোতো)।
৩। ‘এ’-ধ্বনির উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লিখ? (বাংলা উচ্চারণের নিয়ম HSC)
(১) শব্দের প্রথমে ‘এ’-কারের পরে যদি ‘ই’, ‘ঈ’, ‘উ’, ‘ঊ’, ‘এ’, ‘ও’, ‘য়’, ‘র’, ‘ল’, ‘শ’, বা ‘হ’ থাকে, তবে ‘এ’ অবিকৃত থাকে।
উদাহরণ: এ কি, দেখি, মেকি, ঢেঁকি, বেশি।
(২) তৎসম শব্দের আদ্য ‘এ’-কার সাধারণত অবিকৃত থাকে।
উদাহরণ: বেদ, সেতু, প্রেম, দেবকী, প্রেরক।
(৩) শব্দের শুরুতে ‘এ’-কারের পর ‘অ’ বা ‘আ’ থাকলে ‘এ’ প্রায়শ ‘অ্যা’-কারান্ত হয়।
উদাহরণ: এমন (অ্যামোন), যেমন (জ্যামোন), কেন (ক্যানো), বেটা (ব্যাটা)।
(৪) ‘ই’-কার বা ‘ঋ’-কারযুক্ত ধাতুতে ‘আ’-কার যুক্ত হলে, ‘ই’ পরিবর্তিত হয়ে ‘এ’-কার হয়, কিন্তু ‘অ্যা’-কার হয় না।
উদাহরণ: কেনা (< কিন), মেলা (< মিল), লেখা (< লিখ), গেলা (< গিল), মেশা (< মিশ)।
(৫) একাক্ষর সর্বনাম পদের ‘এ’ অবিকৃতভাবে উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ: কে, সে (শে), এ, যে (জে)।
৪। ‘ব’-ফলা উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লিখ?
(১) আদ্য ব্যঞ্জনে ‘ব’-ফলা যুক্ত হলে সাধারণত ‘ব’-এর উচ্চারণ হয় না।
উদাহরণ: স্বাধিকার (শাধিকার), স্বদেশ (শদেশ), জ্বালা (জালা), ত্বক (তক্), শ্বাপদ (শাপদ)।
(২) শব্দের মধ্য বা শেষে ‘ব’-ফলা থাকলে দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়।
উদাহরণ: দ্বিত্ব (দিত্তো), বিশ্ব (বিশো), বিশ্বাস (বিশ্শাশ), বিদ্বান (বিদ্দান), পক্ব (পক্কো)।
(৩) ‘উদ্’ উপসর্গযুক্ত শব্দে ‘ব’-ফলা অবিকৃত থাকে।
উদাহরণ: উদ্বেগ, উদ্বোধন, উদ্বেলিত, উদ্বিগ্ন।
(৪) ‘ক্’ ধ্বনি থেকে উৎপন্ন ‘গ’-এর সঙ্গে যুক্ত ‘ব’-ফলা অবিকৃত থাকে।
উদাহরণ: দিগ্বিদিক, দিগ্বলয়, দিগ্বিজয়, ঋগ্বেদ।
(৫) ‘ব’ বা ‘ম’-এর সঙ্গে যুক্ত ‘ব’-ফলা অবিকৃত থাকে।
উদাহরণ: আব্বা, জোব্বা, নব্বই, তিব্বত, অম্বর, খাম্বা।
৫। ‘ম’-ফলা উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লিখ? (বাংলা উচ্চারণের নিয়ম HSC)
(১) আদ্য বর্ণে ‘ম’-ফলা যুক্ত হলে সাধারণত তার আলাদা উচ্চারণ হয় না, তবে সামান্য নাসিক্য ধ্বনি শোনা যায়।
উদাহরণ: স্মরণ (শঁরোন), শ্মশান (শঁশান), স্মৃতি (স্মৃতি), স্মারক (শাঁরক)।
(২) পদের মধ্য বা শেষে ‘ম’-ফলা যুক্ত হলে দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়।
উদাহরণ: পদ্ম (পদ্দোঁ), আত্ম (আতোঁ), ভস্ম (ভশোঁ), রশ্মি (রোশি), মহাত্মা (মহাত্তাঁ)।
(৩) গ, ঙ, ট, ণ, ম, ল-এর সঙ্গে যুক্ত ‘ম’-ফলা সাধারণত অবিকৃত থাকে।
উদাহরণ: বাগ্মী, যুগ্ম, উন্মাদ, জন্ম, সম্মান, গুল্ম।
(৪) যুক্ত ব্যঞ্জনের সঙ্গে থাকা ‘ম’-ফলার কোনো উচ্চারণ হয় না।
উদাহরণ: সূক্ষ্ম (শুক্খোঁ), লক্ষ্মী (লোক্খি), লক্ষ্মণ (লক্খোন)।
(৫) সংস্কৃত রীতি অনুযায়ী কৃতঋণ শব্দে ‘ম’-ফলা নিজস্ব রূপে উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ: কুষ্মাণ্ড (কুশ্শাঁডো), স্মিত (মিতো), সুস্মিতা (শুস্মিতা)।
আরো পড়ুন:
এইচএসসি অর্ধাঙ্গী প্রবন্ধের নোট
এইচএসসি সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের নোট
৬। বাংলা উচ্চারণের কিছু সাধারণ নিয়ম উদাহরণসহ লিখ?
(১) আদ্য ‘অ’-এর পরে ‘য’-ফলা থাকলে ‘অ’–এর উচ্চারণ সাধারণত ‘ও’-কারান্ত হয়।
উদাহরণ: অদ্য (ওদো), অন্য (ওনো), কন্যা (কোনা), বন্যা (বোন্না)।
(২) শব্দের শুরুতে ‘আ’-কার এবং তারপর ‘অ’-কারান্ত বর্ণ থাকলে, ‘অ’ সাধারণত ‘ও’-কারান্ত উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ: ভাষণ (ভাশোন), আসল (আশোল), নকল (নকোল)।
(৩) শব্দের মধ্যে বা শেষে ‘ব’, ‘ম’ বা ‘য’-ফলা যুক্ত বর্ণের উচ্চারণ দ্বিত্ব ঘটে।
উদাহরণ: দ্বিত্ব (দিত্তো), পদ্ম (পদ্দো), বিশ্বাস (বিশ্শাশ), সভ্য (শোভো)।
(৪) যুক্ত ব্যঞ্জনের সঙ্গে থাকা ‘ম’-ফলা বা ‘য’-ফলার কোনো উচ্চারণ থাকে না।
উদাহরণ: সূক্ষ্ম (শুক্খো), লক্ষ্মী (লোক্খি), সন্ধ্যা (শোন্ধা), স্বাস্থ্য (শাস্থো)।
৭। অন্ত্য ‘অ’-ধ্বনির উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লিখ? (বাংলা উচ্চারণের নিয়ম HSC)
(১) ‘হ্রস্ব ই’-কার বা ‘অ’-কারের পরিবর্তে যদি ‘অ’ বা ‘আ’-ধ্বনি থাকে, তবে অন্তঃস্থ ‘য়’-এর পর ‘অ’ বিলুপ্ত হয়ে হসন্তরূপে উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ: জয় (জয়), ভয় (ভয়), নয় (নয়), বিষয় (বিশয়), খায় (খায়)।
(২) বিশেষ্য শব্দে শেষের ‘হ’ ও বিশেষণ শব্দে শেষের ‘ঢ়’-এর পর ‘অ’ সাধারণত বিলুপ্ত হয় না; বরং ‘ও’-কারান্ত হয়।
উদাহরণ: স্নেহ (স্নেহো), বিরহ (বিরহো), কলহ (কলোহো), আগ্রহ (আগ্রোহো)।
(৩) ১১–১৮ পর্যন্ত সংখ্যাবাচক শব্দে অন্ত্য ‘অ’ রক্ষিত থেকে ‘ও’-কারান্ত হয়।
উদাহরণ: এগারো, বারো, তেরো, চোদ্দো ইত্যাদি।
(৪) ‘তর’ ও ‘তম’ প্রত্যয়যুক্ত বিশেষণ শব্দে অন্ত্য ‘অ’ ‘ও’-কারান্ত উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ: অধিকতম (ওধিকোতমো), উচ্চতম (উচ্চোতমো), অন্যতর (ওনোতরো), নিম্নতম (নিম্নোতমো)।
(৫) ‘ত’ ও ‘ইত’ প্রত্যয়যুক্ত বিশেষণ শব্দে অন্ত্য ‘অ’ ‘ও’-কারান্ত উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ: হত (হতো), গত (গতো), নত (নতো), রত (রতো)।
এইচএসসি বাংলা উচ্চারণের নিয়ম PDF Download | বাংলা উচ্চারণের নিয়ম HSC 2026 Suggestion PDF Download






