এইচএসসি ২০২৬ সালের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ১ম পত্রের যৌবনের গান নোটস পিডিএফ ডাউনলোড করুন। এই স্মার্ট নোটসে রয়েছে যৌবনের গান প্রবন্ধের মূলভাব, লেখক পরিচিতি ও প্রবন্ধ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তাহলে আর দেরি না করে যৌবনের গান নোট pdfdownload করে ফেল।
যৌবনের গান নোট ২০২৬
লেখক পরিচিতি
জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়
- জন্ম: ২৪ মে ১৮৯৯ (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ)
- স্থান: চুরুলিয়া গ্রাম, আসানসোল মহকুমা, বর্ধমান জেলা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
- পিতা: কাজী ফকির আহমেদ
- মাতা: জাহেদা খাতুন
- স্ত্রী: প্রমীলা দেবী
- সন্তান: কাজী অনিরুদ্ধ, কাজী সব্যসাচী
জাতীয় মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি, এবং “বিদ্রোহী কবি” নামে পরিচিত
- রাষ্ট্রীয় সম্মাননা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান
- জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃতি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাধিস্থ
আদর্শ ও চেতনা
- বিদ্রোহী সত্তা: অন্যায়, শোষণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে নির্ভীক কণ্ঠস্বর
- মানবিকতা: হৃদয়বান মানুষ হিসেবে নির্যাতিত-বঞ্চিতদের পাশে ছিলেন
- সাহিত্যিক বিপ্লব: প্রচলিত ধারা ভেঙে নতুন ভাবনা ও শব্দে সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন
- শিল্পী রূপক: “এক হাতে বাঁশি, অন্য হাতে রণতূর্য”—এই দ্বৈত সত্তা তাঁর প্রতিভার প্রতীক
জীবনপথ ও পেশাজীবন
- দরিদ্র পরিবারে জন্ম; জীবন ছিল বহুমাত্রিক ও সংগ্রামী
- প্রধান বাঁকসমূহ:
- মসজিদের ইমামতি
- লেটো দলে গান ও অভিনয়
- ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ
- সাম্যবাদ ও বিপ্লবী রাজনৈতিক ভাবনার অনুসারী
- “ধূমকেতু”সহ একাধিক পত্রিকার সম্পাদনা
- চলচ্চিত্রে কাজ করেন কাহিনীকার, গীতিকার ও সুরকার হিসেবে
সাহিত্যকর্মের বৈচিত্র্য
উপন্যাস
- বাঁধনহারা (১৯২৭)
- মৃত্যুক্ষুধা (১৯৩০)
- কুহেলিকা (১৯৩১)
গল্পগ্রন্থ
- ব্যথার দান (১৯২২)
- রিক্তের বেদন (১৯২৫)
- শিউলি মালা (১৯৩১)
প্রবন্ধ ও নিবন্ধ
- যুগ-বাণী (১৯২৬)
- দুর্দিনের যাত্রী (১৯২৬)
- রুদ্র-মঙ্গল (১৯২৭)
- রাজবন্দির জবানবন্দি (১৯২৩)
- ঝিঙ্গে ফুল
- লাঙল
- ধূমকেতু (পত্রিকা)
আরো পড়ুন: এইচএসসি সোনার তরী কবিতার নোট
কবিতা ও সংগীত
কবিতার সংকলন
- অগ্নিবীণা (১৯২২)
- সঞ্চিতা (১৯২৫)
- ফণীমনসা (১৯২৭)
- চক্রবাক (১৯২৯)
- সাত ভাই চম্পা (১৯৩৩)
- নির্ঝর (১৯৩৯)
- নতুন চাঁদ (১৯৩৯)
- মরুভাস্কর (১৯৫১)
- সঞ্চয়ন (১৯৫৫)
- নজরুল ইসলামী কবিতা (১৯৮২)
কবিতা-সংগীত সংকলন
- দোলনচাঁপা (১৯২৩)
- বিষের বাঁশি (১৯২৪)
- ভাঙ্গার গান (১৯২৪)
- ছায়ানট (১৯২৫)
- চিত্তনামা (১৯২৫)
- সাম্যবাদী (১৯২৬)
- পুবের হাওয়া (১৯২৬)
- সর্বহারা (১৯২৬)
- সিন্ধু হিন্দোল (১৯২৭)
- জিঞ্জীর (১৯২৮)
- প্রলয় শিখা (১৯৩০)
- শেষ সওগাত (১৯৫৮)
সংগীত ও সুরসৃষ্টি
- বুলবুল (১৯২৮)
- সন্ধ্যা (১৯২৯)
- চোখের চাতক (১৯২৯)
- নজরুল গীতিকা (১৯৩০)
- নজরুল স্বরলিপি (১৯৩১)
- চন্দ্রবিন্দু (১৯৩১)
- বনগীতি (১৯৩১)
- জুলফিকার (১৯৩১)
- সুরসাকী (১৯৩২)
- গুল বাগিচা (১৯৩৩)
- গীতি শতদল (১৯৩৪)
- সুর মুকুর (১৯৩৪)
- গানের মালা (১৯৩৪)
- স্বরলিপি (১৯৪৯)
- বুলবুল (দ্বিতীয় ভাগ) (১৯৫২)
- রাঙ্গা জবা (১৯৬৬)
নাটক
- ঝিলিমিলি (১৯৩০)
- আলেয়া (১৯৩১)
- পুতুলের বিয়ে (১৯৩৩)
- মধুমালা (১৯৬০)
- ঝড় (১৯৬০)
- পিলে পটকা পুতুলের বিয়ে (১৯৬৪)
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টতা
পরিচালিত চলচ্চিত্র
- ধূপছায়া
- বিদ্যাপতি (১৯৩৭) — কাহিনীকার
- সাপুড়ে (১৯৩৯) — কাহিনীকার
আরো পড়ুন: এইচএসসি অর্ধাঙ্গী প্রবন্ধের নোট
সঙ্গীত পরিচালক ও গীতিকার হিসেবে
- জামাই ষষ্ঠী (১৯৩১)
- পাতালপুরী (১৯৩৫)
- গৃহদাহ (১৯৩৬)
- গ্রহের ফের (১৯৩৭)
- বিদ্যাপতি (১৯৩৭)
- গোরা (১৯৩৮)
- হাল বাংলা (১৯৩৮)
- সাপুড়ে (১৯৩৯)
- রজতজয়ন্তী (১৯৩৯)
- নন্দিনী (১৯৪১)
- অভিনয় (১৯৪১)
- দিকশূল (১৯৪১)
- মদিনা (১৯৪১)
- চৌরঙ্গী (১৯৪২)
- দিলরুবা (১৯৪২)
অন্য চলচ্চিত্রে সম্পৃক্ততা
- জ্যোৎস্নার রাত (১৯৩১)
- প্রহ্লাদ (১৯৩১)
- ঋষির প্রেম (১৯৩১)
- বিষ্ণুমায়া (১৯৩২)
- চিরকুমারী (১৯৩২)
- কৃষ্ণকান্তের উইল (১৯৩২)
- কলঙ্ক ভঞ্জন (১৯৩২)
- ধ্রুব (১৯৩৩)
- রাধাকৃষ্ণ (১৯৩৩)
- জয়দেব (১৯৩৩)
অনুবাদ ও অন্যান্য রচনা
- দিওয়ানে হাফিজ (১৯৩০)
- কাব্যে আমপারা (১৯৩৩)
- মক্তব সাহিত্য (১৯৩৫)
- রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম (১৯৫৮)
- নজরুল রচনাবলী (১-৪ খণ্ড, ১৯৯৩)
জীবনের শেষ পর্ব
- ১৯৪২ সালে, মাত্র ৪৩ বছর বয়সে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারান
- মৃত্যু: ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ), ঢাকা
- সমাধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে, পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়
পাঠ-পরিচিতি
১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে সিরাজগঞ্জে মুসলিম যুব সমাজের অভিনন্দনের উত্তরে তাদের উদ্দেশ্যে কাজী নজরুল ইসলাম যে প্রাণোচ্ছল ভাষণ দিয়েছিলেন ‘যৌবনের গান’ রচনাটি তারই পরিমার্জিত লিখিত রূপ।
এই অভিভাষণে কবি দুরন্ত-দুর্বার যৌবনের প্রশস্তি উচ্চারণ করেছেন। কারণ যৌবন হচ্ছে অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার। যৌবন মানুষের জীবনকে করে গতিশীল ও প্রত্যাশাময়। দুর্বার উদ্দীপনা, ক্লান্তিহীন উদ্যম, অপরিসীম ঔদার্য, অফুরন্ত প্রাণচঞ্চলতা ও অটল সাধনার প্রতীক যৌবন মৃত্যুকে তুচ্ছ করে সংস্কারের বেড়াজাল ছিন্নভিন্ন করে সকল বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যায় সমাজ-প্রগতি ও নতুন স্বপ্নময় মুক্তজীবনের পথে। আর বিপন্ন মানবতার পাশে সে দাঁড়ায় সেবাব্রতী ভূমিকা নিয়ে।
পক্ষান্তরে রক্ষণশীলতা, জড়তা, সংস্কারাচ্ছন্নতা ও পশ্চাৎপদতাময় বার্ধক্য বাধা হয়ে দাঁড়ায় জীবনের প্রাণবন্ত অগ্রগতির পথে। তাই স্বভাব-বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে যে যৌবন দেশ-জাতি-কাল ও ধর্মের বাঁধন মানে না সেই যৌবন-শক্তিকে কবি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন সমন্ত জীর্ণ পুরানো সংস্কারকে ধ্বংস করে মনের মতো নতুন জগৎ রচনার সাধনায় অগ্রসর হতে।
আরো পড়ুন: এইচএসসি বিলাসী গল্পের নোট
শব্দার্থ ও টীকা
| শব্দ / পদ | অর্থ |
| দ্বিধা | সংকোচ, সংশয়, কুণ্ঠা |
| রুধির ধারা | রক্তপ্রবাহ |
| অলক্ষ্যে | দৃষ্টির অগোচরে |
| বায়স | কাক |
| বেচারা গানের পাখিকে | কোকিলকে |
| চঞ্চু | ঠোঁট |
| অলসতন্দ্রা | আলস্য থেকে সৃষ্ট ঘুমের ভাব |
| মোহনিন্দ্রা | আসক্তি বা মোহরূপ নিদ্রা; অচেতনতা |
| দৈব | আকস্মিক |
| পরিক্রমণ | পরিভ্রমণ, প্রদক্ষিণ |
| ভরা-ভাদরে | পূর্ণ ভাদ্রে; কানায় কানায় ভরা অবস্থা |
| অগোচরে | দৃষ্টির বাইরে; অলক্ষে |
| না-ওয়াকিফ | অনভিজ্ঞ, অজ্ঞাত |
| কমবক্তা | অল্পভাষী ব্যক্তি |
| বখতিয়ার খিলজি | আফগান সেনানায়ক; ১২০৩/০৪ সালে নদীয়া দখল; মুসলিম শাসনের সূচনা |
| লক্ষ্মণ সেন | বাংলার সেন বংশের শেষ রাজা; বখতিয়ারের আক্রমণে পলায়ন |
| অভিভূত | ভাবাবেগে বিহ্বল, ভাবাবিষ্ট |
| ছন্দের দুকুল | ভাব ও ভাষার দুই দিক |
| জবাকুসুমসঙ্কাশ | জবাফুলের মতো |
| প্রথম জাগরণ-প্রভাতে | সচেতনতার সূচনালগ্নে |
| তিমিরবিদারী | অন্ধকার বিদীর্ণকারী; সূর্য |
| আলোর দেবতা | সূর্য |
| তিমিরকুন্তলা | অন্ধকার যার চুল; রাত্রি |
| লীলাভূমি | বিচরণক্ষেত্র, ক্রীড়াভূমি |
| জীর্ণ পুঁথি চাপা পড়িয়া | প্রথা/সংস্কারের চাপে পিষ্ট হয়ে |
| নাভিশ্বাস | মৃত্যুকালীন শ্বাসকষ্ট; মরণাপন্ন অবস্থা |
| অগ্নিমান্দ্য | হজমের গোলযোগ; অজীর্ণতা |
| উর্দি | কর্মচারীদের নির্দিষ্ট পোশাক |
| জীর্ণাবরণ | জরাজীর্ণ আচ্ছাদন |
| মার্তণ্ডপ্রায় | সূর্যের মতো |
| কালাপাহাড় | ধর্মান্তরিত মুসলিম যোদ্ধা; হিন্দুধর্ম-বিরোধী অভিযানের জন্য কুখ্যাত |
| কামাল (আতাতুর্ক) | আধুনিক তুরস্কের জনক; রাষ্ট্রপতি; বৈপ্লবিক সংস্কারের নেতা |
| মুসোলিনী | ইতালির ফ্যাসিবাদী একনায়ক; WWII-এ জার্মানির মিত্র |
| সানইয়াত (সান-ইয়াত-সেন) | নব্য চীনের জনক; বিপ্লবী নেতা; প্রজাতন্ত্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি |
| লেনিন | রুশ বিপ্লবের নেতা; প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাতা |
| নীল মঞ্জুষার মণি | সমুদ্রের এক ধরনের মূল্যবান রত্ন |
| যৌবনের মাতৃরূপ | যৌবনের কোমল, সেবাপরায়ণ দিক |
| মুরিদ | শিষ্য |
| সংস্কারাতীত | মেরামতযোগ্য নয়; পুনর্গঠন সম্ভব নয় |
| নিয়ামত | ধন-সম্পদ, অনুগ্রহ |

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
◑ যৌবনের গান প্রবন্ধটি একটি অভিভাষণমূলক রচনা।
◑ ১৯৩২ সালের সিরাজগঞ্জে মুসলিম যুব সমাজের অভিনন্দনের উত্তরে তিনি এই ভাষণ দেন।
◑ প্রবন্ধটি নেয়া হয়েছে: লেখকের ‘দুর্দিনের যাত্রী’ নামক প্রবন্ধ গ্রন্থ থেকে।
◑ প্রবন্ধটিকে যে সব ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের কথা বলা হয়েছে: ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী (বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন), লক্ষ্মণ সেন (বাংলার সর্বশেষ হিন্দু রাজা), কালাপাহাড় ওরফে রাজু, মুস্তফা কামাল আতার্তুক পাশা, সিনর বেনিতো মুসোলিনি, সান-ইয়াত-সেন, ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানোফ ওরফে লেনিন।
◑ প্রবন্ধে দুটি মাসের উল্লেখ আছে: আষাঢ়, ভাদ্র।
◑ প্রবন্ধে উল্লেখ আছে চন্দ্র ও মঙ্গল গ্রহের কথা।
◑ একটি ফুলের নাম আছে: জবা।
◑ প্রবন্ধে তিনটি পাখির কথা উল্লেখ আছে: বায়স (কাক), ফিঙে ও গানের পাখি (কোকিল)।
◑ দুটি নদীর কথা আছে: পদ্মা- ভাগীরথী।
◑ সাধারণত যৌবন বলতে বোঝায় বয়সের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা। কিন্তু নজরুল ইসলামের মতে যৌবন বলতে বোঝায় মনের সজীবতা।
◑ কবি নিজেকে এখানে তুলনা দিয়েছেন বনের পাখির সাথে।
◑ কবি নিজেকে পরিচয় করিয়েছেন কমবক্তার দলে।
◑ কবি তরুণদের সাথে থাকতে চান সহযাত্রী হয়ে, নেতা হয়ে নয়।
◑ বনের পাখির স্বভাব হলো গান করে যাওয়া। কারো ভাল লাগলেও গান গায়, না লাগলেও গান গায়।
এইচএসসি ২০২৬ সালের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ১ম পত্রের যৌবনের গান নোটস পিডিএফডাউনলোড করুন।






